কোরআন বিকৃতি ও সাত আহরুফের সাতকাহন

শৈশবকাল থেকে বাপ-দাদা, বন্ধু-বান্ধব, ওয়াজ-মাহফিলে শুনে আসছি কোরআন নাকি ১৪শ বছর ধরে অবিকৃত এবং কেয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত থাকবে৷ এর কোন একটি হরফ, কোন একটি নোকতা, কোন একটি শব্দ কেউ কোনদিন পরিবর্তন করতে পারবে না! এর প্রতিটি বাক্য নাকি আল্লাহ লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত রেখেছেন, [1] এবং কেয়ামতের আগ পর্যন্ত আল্লাহ নাকি তা হেফাজত করবেন! [2]

তারপর যখন একটু বড় হলাম জানতে পারলাম কোরআন (অন্যান্য দাবীকৃত আসমানি কিতাবের মত) গ্রন্থাকারে নাজিল হয়নি; বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে ছোট ছোট ভাষণ আকারে নাজিল হয়েছে ৷ খেজুরের ডাল, পাথরের খণ্ড, চামড়া, হাড়, কাপড়ের টুকরা, গাছের পাতা ইত্যাদিতে মুহাম্মদের অনুসারীরা মুহাম্মদের ভাষণ বা উপদেশগুলো লিখে রাখতো ৷

প্রথম দিকের কোরআনের সংকলন গুলোতে নোকতা এবং হরকত ছিল না পরবর্তীকে অনারবদের নিকট কোরআনকে সহজপাঠ্য করার জন্য কুরআনে নুকতা এবং হরকত সংযোজন করা হয় ৷ তখনই কোরআন সংকলন নিয়ে মনে প্রথম কৌতূহল জন্মাল , তারপরেই জানতে পারলাম আবুবকর এবং উসমানের কোরআন সংকলন সম্পর্কে এবং উসমান কর্তৃক আবু বকরের সময়কালে সংকলিত কোরআন এবং বিক্ষিপ্তভাবে সংরক্ষিত কোরআনগুলো পুরানোর ইতিহাস সম্পর্কে ৷

যা জেনেছি সবই আপনাদের সাথে আজকে শেয়ার করবো৷ কিছু হাদিস থেকে জানতে পারি কোরআন নাকি সাতটি হরুফে মুহাম্মদের উপর নাজিল হয়েছিল! মূলত এটাই এখন আমার আলোচনার মূল বিষয়৷

পাঠক একটু খিয়াল কৈরা!!

হাদিস (১)

উবাই ইবনে কাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে ছিলাম। এক ব্যক্তি প্রবেশ করে সালাত আদায় করতে লাগল। সে এমন এক ধরলের কিরা-আত করতে লাগল আমার কাছে অভিনব মনে হল। পরে আর একজন প্রবেশ করে তার পূর্ববর্তী ব্যক্তি হতে ভিন্ন ধরনের কিরা-আত করতে লাগল। সালাত শেষে আমরা সবাই রাসুলুল্লাহ (সা) এর কাছে গেলাম। আমি বললাম, এ ব্যক্তি এমন কিরা-আত করেছে যা আমার কাছে অভিনব ঠেকেছে এবং অন্যজন প্রবেশ করে তার পূর্ববর্তী জন হতে ভিন্ন কিরা-আত পাঠ করেছে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা) তাদের উভয়কে (কিরা-আত পাঠ করতে) নির্দেশ দিলেন। তারা উভয়েই কিরা-আত পাঠ করল। নবী (সা) তাদের দু’জনের (কিরা-আতের) ধরনকে সুন্দর বললেন। ফলে আমার মনে নবী (সা) এর কুরআনের প্রতি মিথ্যা অবিশ্বাস ও সন্দেহের উন্মেষ দেখা দিল। এমন কি জাহিলী যুগেও আমার এমন খটকা জাগেনি। আমার ভেতরে সৃষ্ট খটকা অবলোকন করে রাসুলুল্লাহ (সা) আমার বুকে সজোরে আঘাত করলেন। ফলে আমি ঘর্মাক্ত হয়ে গেলাম এবং যেন আমি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে মহা মহীয়ান আল্লাহর দিকে দেখছিলাম। নবী (সা) আমাকে বললেন: ওহে উবাই! আমার কাছে জিবরাঈল (আঃ)-কে প্রেরণ করা হয়েছে যে, আমি যেন কুরআন এক হরফে তিলাওয়াত করি। আমি তখন তাঁর কাছে পুনরায় অনুরোধ করলাম আমার উম্মাতের জন্য সহজ করুন। দ্বিতীয়বার আমাকে বলা হল যে, দুই হরফে তা তিলাওয়াত করবে। তখন তাঁর কাছে আবার অনুরোধ করলাম, আমার উম্মাতের জন্য সহজ করে দিতে। তৃতীয়বার আমাকে বলা হল যে সাত হরফে তা তিলাওয়াত করবে এবং যতবার আপনাকে জবাব দিয়েছি তার প্রতিটির বদলে আপনার জন্য একটি সাওয়াল! আমার উম্মাতকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আমার উম্মাতকে ক্ষমা করুন। আর তৃতীয় প্রার্থনাটি বিলম্বিত করে রেখেছি সে দিনের জন্য যে দিন সারা সৃষ্টি এমন কি ইবরাহীম (আঃ) ও আমার প্রতি আকৃষ্ট হবেন। [3]

সহিহ মুসলিম
সহিহ মুসলিম ইসলামিক ফাউন্ডেশন খণ্ড ২ পৃষ্ঠা ২৭২

হাদিস (২)

উমর ইবনে খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবনে হাকীম (রা)-কে রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর জীবদ্দশায় সূরা ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনেছি এবং গভীর মনোযোগ সহকারে আমি তার কিরাআত শুনেছি। তিনি বিভিন্নভাবে কিরাআত পাঠ করেছেন; অথচ রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে এভাবে শিক্ষা দেননি। এ কারণে সালাতের মাঝে আমি তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য উদ্যত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু বড় কষ্টে নিজেকে সামলে নিলাম। তারপর সে সালাম ফিরালে আমি চাদর দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, তোমাকে এ সূরা যেভাবে পাঠ করতে শুনলাম, এভাবে তোমাকে কে শিক্ষা দিয়েছে? সে বলল, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-ই আমাকে এভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। আমি বললাম, তুমি মিথ্যা বলছ। কারণ, তুমি যে পদ্ধতিতে পাঠ করেছ, এর থেকে ভিন্ন পদ্ধতিতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। এরপর আমি তাকে জোর করে টেনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে নিয়ে গেলাম এবং বললাম, আপনি আমাকে সূরা ফুরকান যে পদ্ধতিতে পাঠ করতে শিখিয়েছেন এ লোককে আমি এর থেকে ভিন্ন পদ্ধতিতে তা পাঠ করতে শুনেছি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। হিশাম, তুমি পাঠ করে শোনাও। তারপর সে সেভাবেই পাঠ করে শোনাল, যেভাবে আমি তাকে পাঠ করতে শুনেছি। তখন আল্লাহর রাসূল বললেন, এভাবেই নাযিল করা হয়েছে। এরপর বললেন, হে উমর! তুমিও পড়। সুতরাং আমাকে তিনি যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন, সেভাবেই আমি পাঠ করলাম। এবারও রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, এভাবেও কুরআন নাযিল করা হয়েছে। এ কুরআন সাত উপ (আঞ্চলিক) ভাষায় নাযিল করা হয়েছে। সুতরাং তোমাদের জন্য যা সহজতর, সে পদ্ধতিতেই তোমরা পাঠ কর। [4]

সহীহ বুখারী ইসলামিক ফাউন্ডেশন খণ্ড ৮ পৃষ্ঠা ৩৪১

হাদিস (৩)

ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, জিবরাঈল (আ) আমাকে একভাবে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। এরপর আমি তাকে অন্যভাবে পাঠ করার জন্য অনুরোধ করতে লাগলাম এবং পুনঃ পুনঃ অন্যভাবে পাঠ করার জন্য অব্যাহতভাবে অনুরোধ করতে থাকলে তিনি আমার জন্য পাঠ পদ্ধতি বাড়িয়ে যেতে লাগলেন। অবশেষে তিনি সাত উপ (আঞ্চলিক) ভাষায় তিলাওয়াত করে সমাপ্ত করলেন। [5]

ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সহীহ বুখারী ইসলামিক ফাউন্ডেশন খণ্ড ৮ পৃষ্ঠা ৩৪০

সাবআতুল আহরুফঃ

সাবআতুল আহরুফ বা কোরআনের সাত হারফ/হরুফ (7 dialects) কি অনেকের কাছে এখনো পরিষ্কার নয় ৷ সাত হারফ/হরুফ হচ্ছে আরবদের সুপরিচিত সাতটি বড় গোত্রের প্রাঞ্জল উপভাষা ৷ যা নাকি কোরআন নাযিল হবার সময়ে আরবি প্রাঞ্জলতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এসব কারণ বিভিন্ন গোত্রের উপভাষাতেই সেসব গোত্রের ব্যক্তিগণ কর্তৃক কোরআন মুতাওয়াতির ভাবে বর্ণিত হয়েছে। হারফের বহুবচন আহরুফ (ج. أحرف حرف) অর্থ কিনারা, তট, কূলভূমি ইত্যাদি। ইবনে জারির আল তাবারি (d. 310 A.H.) [6] সহ অনেক মুসলিম স্কলার এটাই মনে করতেন ৷

১) কুরাইশ
২) তামিম
৩)দাব্বাহ মতান্তরে কায়েস
৪) আসাদ
৫) হুযাইল
৬) কিনানাহ
৭) তা’ঈ

■ এক্ষেত্রে কোরআন যদি সাতটি হরুফেই ( উপভাষায় ) নাজিল হয়ে থাকে তাহলে কোরআনের সাত হরুফকে সাতটি গ্রন্থাকারে সংকলিত করলেই সেটা হতো বিশুদ্ধ কোরান ৷ সেটা না করে উসমান কোরআন বিকৃত হয়ে যাবে এই অযুহাত দেখিয়ে কোরআনকে কুরাইশদের উচ্চারনে কোরআন সংকলনের সিদ্ধান্ত নিলেন [24], যা ছিল স্পষ্ট মুহাম্মদের নির্দেশের [4] খেলাফ ৷

■ অনেকে বলার চেষ্টা করেন যে, প্রসিদ্ধ সাত ক্বারীর ( মুতাওয়াতির ) সাত পঠন রীতিই ( মুরাত্তিল ) সাত হরুফ৷ কিছু মুসলিম স্কলার বলেন মুহাম্মদ যেই ৭ হরুফে কোরআন নাযিল হওয়ার কথা বলেছিলেন সেগুলো এই প্রসিদ্ধ ৭ ক্বারীর কিরাআত নয়। প্রসিদ্ধ সাতজন ক্বারী [7] 1) Nafi` (from Medina; d. 169/785) 2) Ibn Kathir (from Mecca; d. 119/737)
3) Abu `Amr al-`Ala'(from Damascus; d. 153/770)
4) Ibn `Amir (from Basra; d. 118/736)
5) Hamzah (from Kufah; d. 156/772)
6) al-Qisa’i (from Kufah; d. 189/804)
7) Abu Bakr `Asim(from Kufah; d. 158/778)

■ এই পঠন রীতি শুধু সাতটিই নয় এরও অধিক এবং প্রত্যেকেই এক বা একাধিক পঠন রীতিতে কোরআনের বিভিন্ন ভার্সন ( মুসহাফ ) লিপিবদ্ধ করে গেছেন [8] ৷

১) Nafi` লিপিবদ্ধ করেছেন-
ক) Warsh — যা আলজেরিয়া, মরক্কো, তিউনিশিয়ার একাংশ , ওয়েস্ট আফ্রিকা এবং সুদানে প্রচলিত ৷
খ) Qalun — যা লিবিয়া, তিউনিশিয়া এবং কাতার এর একাংশে প্রচলিত ৷

২) Ibn Kathir লিপিবদ্ধ করেছেন
ক) al-Bazzi এবং
খ) Qunbul

৩) Abu `Amr al-‘Ala’ লিপিবদ্ধ করেছেন
ক) al-Duri — যা সুদান এবং ওয়েস্ট আফ্রিকার র কিছু অংশে প্রচলিত ৷
খ) al-Suri

৪) Ibn `Amir লিপিবদ্ধ করেছেন-
ক) Hisham এবং
খ) Ibn Dhakwan — Yemen এর একাংশে প্রচলিত ৷

৫) Hamzah লিপিবদ্ধ করেছেন
ক) Khalaf এবং
খ) Khallad

৬) al-Kisa’i লিপিবদ্ধ করেছেন
ক) al-Duri এবং
খ) Abu’l-Harith

৭) Abu Bakr `Asim লিপিবদ্ধ করেছেন
ক) Hafs —এভার্সনই সাধারনত মুসলিম বিশ্বে অধিক প্রচলিত ৷
খ) Ibn `Ayyash

8) Abu Ja`far লিপিবদ্ধ করেছেন-
ক) Ibn Wardan এবং খ) Ibn Jamaz

9) Ya`qub al-Hashimi লিপিবদ্ধ করেছেন-
ক) Ruways এবং
খ) Rawh

10) Khalaf al-Bazzar লিপিবদ্ধ করেছেন-
ক) Ishaq এবং
খ) Idris al-Haddad

■ দেখা যাচ্ছে কোরআনের ২০ টির মত ভার্সন ছিল একসময়ে ৷ উল্লেখিত সমস্ত মুসহাফ ( কোরআনের বিভিন্ন ভার্সন ) হয়তো এখন আর পাওয়া যাবে না , যা হয়তো এখন আর পঠিতও হয় না ( Hafs, warsh এবং আরো দুয়েকটা ছাড়া ) কে জানে হয়তো বিলুপ্ত হয়ে গেছে ?! কিন্তু… পাঠক !! স্রস্টার কথা কি বিলুপ্ত হতে পারে যেখানে তথাকথিত স্রস্টা একে একে হেফাজত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন [2]!?

একাধিক ভার্সন যেহেতু আছে ,একটির সাথে অন্যটির পার্থক্যও নিশ্চয় আছে ৷ ইসলাম ধর্ম প্রচারকগন কোরআনে সাত আহরুফে নিম্নোক্ত পার্থক্য থাকতে পারে বলে স্বীকার করছেন [11] ৷

(১) ভিন্ন শব্দে একই অর্থ প্রকাশ;
(২) শব্দ ও অর্থ উভয়তেই পার্থক্য হওয়া;
(৩) শব্দের যোজন-বিয়োজনে অর্থের অভিন্নতা;
(৪) শব্দে আগ-পিছ হওয়া ও অর্থের অভিন্নতা;
(৫) ইরাবের ভিন্নতা ও অর্থের অভিন্নতা; (৬) ওয়াক্বফে ভিন্নতা;
(৭) উচ্চারণে ভিন্নতা।

এবার আমরা হাফস (Hafs) কোরআন ও ওয়ারশ (Warsh) সংস্করন দুটির তুলনামূলক পার্থক্য দেখব ৷ ( যদিও মুসলিম স্কলারগণ এদুটোকে আলাদা সংস্করন স্বীকার করতে নারাজ) ৷

তার আগে হাফস (Hafs) ডাউনলোড করে নিন ৷
ওয়ারশ (Warsh) ডাউনলোড করে নিন ৷

হাফস ওবং ওয়ারশ কোরআনের মধ্যে পার্থক্য

শব্দের এবং অর্থের পার্থক্যঃ

*************************
১) Warsh (ওয়ারশ) কোরআন খুললেই প্রথমে সূরা ফাতেহায় চোখে পড়বে একটি পার্থক্য ৷ ওয়ারশ কোরআনে বিসমিল্লাকে একটি আয়াত গননা করা হয়েছে এবং সুরা ফাতেহাকে যেহেতু সাব’ মাছানী বলা হয় তাই আয়াত সংখ্যা ৭ ঠিক রাখার জন্য শেষের দুটি আয়াতকে একটি আয়াত ধরা হয়েছে ৷ অন্যদিকে হাফস কোরআনে বিসমিল্লাকে কোন আয়াত হিসেবে ধরা হয়নি ৷
— হযরত আলী (রাঃ) মনে করতে “বিসমিল্লাহ,,” কোরআনের আয়াত [16] ৷ আবার অনেকে মনে করতেন বিসমিল্লাহ সুরা ফাতেহার অংশ নয় ৷ আবার আব্দুল্লা ইবনে মাসউদ রাঃ মনে করতেন সূরা ফাতেহা এবং মাউযাতাইন (সূরা ফালাক এবং সুরা নাস) কোরআনের অংশই নয় ৷ এজন্য তিনি তার মাসহাফে শেষোক্ত দুটি সুরা লিখতেন না ৷ ইবন হাজর আশকালানি (রহঃ) ইমাম নববীর উধৃতি দিয়েছেনঃ “এটা মুসলমানদের ইজমা যে সুরাহ ফাতিহা এবং মাউযাতাইন কোরআনের অংশ, যে এটাকে মানবে না সে কাফের।” [17] “আবু হুরাইরা বর্ণনা করেছেন নবী (সাঃ) বলেছেনঃ কেউ সুরা ফাতিহা পাঠ করলে যেন ‘বিসমিল্লাহির রাহমাননির রাহিম’ পাঠ করে, কেননা এটা কোরআনের মাথা, কেতাব এবং ‘সবে-মাসানি’র মাথা এবং ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ এর আয়াতসামুহের অংশ।”[15]

■ প্রিয় পাঠক মাথা কি কাজ করছে ?! দেখতেই পাচ্ছেন বিসমিল্লা কোরআনের অংশ কিনা এ নিয়েই মুহাম্মদের সাহাবীরাও একমত হতে পারছে না ৷ তাহলে উসমানের সংকলিত পূর্ন কোরআনে তারা কিভাবে একমত ছিলো, এটা কি ভাবা যায় ?!

২) হাফস কোরআনে সুরা ২, আয়াত ১৩২ এ একটি শব্দ দেখতে পাবেন ওয়াওয়াচ্ছা (ووصَّـي ابراهيم) অর্থ “ইব্রাহীম ওসিয়ত করল…”
=) ওয়ারশ কোরআনে ২:১৩১ এ দেখতে পাবেন ওয়াআওসা (واَوصٰي ابراهيم)
— যদিও এতেও উচ্চারন এবং শব্দের পার্থক্য ছাড়া অনুবাদে তেমন পার্থক্য নেই৷

৩) হাফস কোরআনে ৩:১৩৩ এ দেখতে পাবেন ওয়াসা-রিউ (وَسَارِعُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ)
অনুবাদ:- “এবং তোমরা ছুটে যাও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা… ” =)ওয়ারশ কোরআনে ৩:১৩৩ এ পাবেন সা-রিউ (سَارِعُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ) অনুবাদ:- “তোমরা ছুটে যাও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা… ”
— ওয়াও (এবং) বিহীন তবে অর্থের তেমন পার্থক্য হবে না ৷ পাঠক ! আঞ্চলিক ভাষায় অথবা সহজ উচ্চারনে তো ওয়াও(و) উঠে যাওয়ার কথা নয় ৷

৪) হাফস কোরআনে ২১:৪ দেখতে পাবেন ক্ব-লা (قَال رب يعلم)
অনুবাদ: – “সে বলল : পালনকর্তা জানেন…”
=) ওয়ারশ কোরআনে ২১:৪ দেখতে পাবেন ক্বুল ( ْقُل رب يعلم ) “তুমি বল : পালনকর্তা জানেন…”৷
— পাঠক খিয়াল কৈরা !!

৫) হাফস কোরআনে ৯১:১৫ এ দেখতে পাবেন ওয়ালা-ইয়াখা-ফু (وَلَا يَخَافُ عُقْبَاهَا)
অনুবাদ:- “এবং তিনি ভীত নন…” =)ওয়ারশ কোরআনে ৯১:15 দেখতে পাবেন ফালা-ইয়াখা-ফু (فلَا يَخَافُ عُقْبَاهَا) অনুবাদ:- “অতপরঃ তিনি ভীত নন…”

নুকতার পার্থক্যঃ

***************
৬) হাফস ২:৫৮ নাগফির ( حِطَّةٌ نَغْفِرْ لَكُمْ )
অনুবাদ:- “আমরা (আল্লাহ) ক্ষমা করে দিলাম…”
=)ওয়ারশ ২:৫৭ ইউগফার ( حِطَّةٌ يُغْفَرْ لَكُمْ )
অনুবাদ:- “তিনি (আল্লাহ) ক্ষমা করে দিলেন .. ”

৭) হাফস ২:১৪০ তাকু-লু-না (أَمْ تَقُولُونَ ) অনুবাদ:- “অথবা তোমরা কি বলছ …” =)ওয়ারশ ২:১৩৯ ইয়াকু-লু-না (أَمْ يَقُولُونَ )
অনুবাদ:- ” অথবা তারা কি বলে…”

৮) হাফস ২:২৫৯ নুনশিঝুহা (كَيْفَ نُنْشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا)
অনুবাদ:- “(আমি কিভাবে) এগুলোকে জুড়ে দেই অতঃপর…”
=) ওয়ারশ ২:২৫৮ নুনশিরুহা ( كَيْفَ نُنْشِرُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا )
অনুবাদ:- “(আমি কিভাবে) এগুলোকে পুনঃ জীবিত করি অতঃপর…”
— হাফস কোরআনের নুখতা যুক্ত ঝা (ز) ওয়ারশ কোরআনে গিয়ে হয়ে গেল নুখতা বিহীন রা (ر) পাঠক খিয়াল কৈরা !!

৯) হাফস ৩:৮১ আতাইতুকুম (لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ)
অনুবাদ:- “আমি তোমাদের (কিতাব) দিয়েছি…”
=)ওয়ারশ ৩:৮০ আতাইনা-কুম ( لَمَا آتَيْنٰكُمْ مِنْ كِتَابٍ )
অনুবাদ:- “আমরা তোমাদের কিতাব দিয়েছি…”

১০) হাফস ৪:১৫২ ইয়উ’তি-হিম (سوف يُؤتيهم )
অনুবাদ:- “শিঘ্রই তিনি তাদের দিবেন…” =)ওয়ারশ ৪:১৫১ নু’তি-হিম (سوف نُؤتيهم )
অনুবাদ:- “শিঘ্রই আমরা (আমি) তাদের দিব…”

হরকতের পার্থক্যঃ

****************
11) হাফস ১:৪ মা-লিকি ইয়াওমিদ্দি-ন ( ِمٰلِكِ يَوْم الدين)
অর্থ:- “বিচার দিবসের মালিক…” =)ওয়ারশ ১:৩ মালিকি ইয়াওমিদ্দি-ন ( ِمَلِكِ يَوْم الدين)
অর্থ:- “বিচার দিবসের মলিক…”
— হাফসে মা- দীর্ঘ করে পড়তে হয় যেখানে ওয়ারশে পড়তে হয় দ্রুত ৷

12) হাফস ২:১০ ইয়াকযিবু-না (بما كانوا يَكْذِبُون )
অর্থ:- “… তাদের মিথ্যাচারের দরুন ” =)ওয়ারশ ২:৯ ইউকায্যিবু-না (بما كانوا يُكَذِّبُون )
অর্থ:- “… তাদের মিথ্যাচারের দরুন ”

13) হাফস ২:১৮৪ তআ-মু মিসকি-ন ( طعام ِِمِسْكِيْن)
অনুবাদ:- “গরীব মিসকিনের খাদ্য” =)ওয়ারশ ২:১৮৩ তআ-মু মাসা-কিনা (َطعام مَسٰكِيْن)
অনুবাদ:- “গরীব মিসকিনদের খাদ্য”

14) হাফস ৩:১৪৬ ক্বা-তালা (وَكَأَيِّنْ مِنْ نَبِيٍّ قَاتَلَ مَعَهُ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ)
অনুবাদ:- ” আর বহু নবী ছিলেন, যাঁদের সঙ্গী-সাথীরা তাঁদের অনুবর্তী হয়ে ক্বিতাল (জেহাদ) করেছে… ”
=)ওয়ারশ ৩:১৪৬ ক্বুতিলা (قُتِلَ)
অনুবাদ:- ” আর বহু নবী ছিলেন, যাঁদের সঙ্গী-সাথীদের হত্যা করা হয়েছে …”
— খেয়াল করুন পাঠক ! কোরানের কোন অনুবাদ থেকে মিলিয়ে নিন ৷ স্রষ্টা একি কথা দুভাবে নিশ্চয় বলতে পারেন না ৷

15) হাফস ২৮:৪৮ সিহরা-নি…(قَالُوا سِحْرَانِ تَظَاهَرَا وَقَالُوا إِنَّا بِكُلٍّ كَافِرُونِ) অনুবাদ:- ” তারা বলেছিল, উভয়ই (দুটি) জাদু, পরস্পরে একাত্ম ”
=)ওয়ারশ ২৮:৪৮ সা-হিরা-নি (قَالُوا سٰحِرٰانِ تَظَاهَرَا وَقَالُوا إِنَّا بِكُلٍّ كَافِرُونِ) অনুবাদ:- ” তারা বলেছিল, উভয়ই (দুজন) জাদুকর, পরস্পরে একাত্ম ”
— এখানেও ঘটেছে উল্লেখিত একি ঘটনা ৷ স্রষ্টা দুভাবে বলতে পারেন না ৷

■ পাঠক! আরো একটা বিষয় লক্ষ্য করেছেন কি ? সেটা হচ্ছে আয়াত সংখ্যার পার্থক্য ৷
— আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতি ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর থেকে বর্ণনা করেছেন। “কোরআন এ আয়াত এর সংখ্যা ৬৬১৬” [14] অন্যদিকে আয়েশা বলেছেন আয়াত ৬৬৬৬ টি ৷ আয়াত নিয়েও আরো অনেক মতভেদ রয়েছে ৷ অনেকে বলেছেন খলিফা উসমানের মাসহাফে অনেক অতিরিক্ত আয়াত সংযোজিতও হয়েছিল ৷

■ এখন আনেকেই হয়তো এই দুই কোরআনের মধ্যে মাত্র পনেরটা পার্থক্য দেখে এগুলোকে বিশুদ্ধ দেখানোর জন্য নানা অজুহাত ইতোমধ্যে বের করা শুরু করে দিয়েছেন ৷ আপনার প্রচেষ্টার বারা ভাতে ছাই ঢেলে দিবে একটি ইসলামী রেফারেন্স বই “مصحف القران والتجويد بالرسم العثماني” ‘মুসহাফুল কোরআন ওয়াত তাজবিদ বির রসমুল উসমানী’ ৷ বইটিতে কোরআনের হাফস ভার্সন ব্যবহার করা হয়েছে, এবং বিভিন্ন পঠন পদ্ধতির জন্য আন্ডারলাইন করা কালার কোড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে ৷ লাল রঙ টি ব্যবহার করা হয়েছে ওয়ারশ কোরআনের জন্য ৷ লাল আন্ডারলাইনকৃত ওয়ারশ কোরআনের পার্থ্যক্যগুলো গণনা করে 1300+ পার্থক্য পাওয়া গেছে [12] ৷

যদি প্রসিদ্ধ এই পঠন পদ্ধিতিটিরই হয় এই হাল, অপ্রসিদ্ধ অন্নান্য পঠন পদ্ধিতিগুলোতে কি পরিমান পার্থক্য থাকতে পারে ? পাঠক আন্দাজ করে নিন !!

এছাড়া ও প্রসিদ্ধ ক্বারীদের ভিন্ন ভিন্ন পঠন পদ্ধতির সংকলন একটি ছয়খন্ডের বিশাল বিশ্বকোষ রয়েছে যার নাম “Mu’jam al-qiraa’aat al-Quraaneeyah, ma’a maqaddimah fee qiraa’aat wa ashhar al-qurraa” (The Encyclopedia of the Quranic Readings with an Introduction to Readings and Famous Readers).

■ পাঠক আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন জেগেছে ? কেন উপরোল্লিখিত সাত আহরুফ বা উপভাষা মুহাম্মদ প্রচলন করেছিল ? তাতে কি লাভ হয়েছিল ? নাকি ক্ষতি ?! এতে করে কি কোরান আদৌ সহজপাঠ্য হয়েছিল ?!

উপরের তিনটা হাদিসের উপর আবারো একটু চোখ বুলিয়ে নিন (হাদিস ১), (হাদিস ২), (হাদিস ৩) ৷
উপরে উল্লেখিত হাদিসগুলো থেকে সাত আহরুফ বলুন বা সাত ক্বিরাত যাই বলুন না কেন প্রচলনের দুইটা কার্যকারণ বা উদ্দেশ্যজানা যায় ৷
(১) উম্মাতের জন্য সহজ পাঠ্য করা এবং (২) সাত উপআঞ্চলিক ভাষাভাষীদের নিকট সহজ বোধ্য করার জন্য ৷

■ কিন্তু এতে কি কোরআন আদৌ সহজ হয়েছিল ? তাতে নবীর মুহাম্মদের যুগেই কি পরিমান বিশৃংখলার সৃস্টি হয়েছিল তা উপরোল্লিখিত তিনটা হাদিস থেকে খানিকাটা আঁচ করা যায় ৷ সাত আরব্য আঞ্চলিক ভাষায় কোরআন শেখা লোকদের প্রথম লক্ষণীয় দ্বন্দ্ব ঘটে আরমেনিয়া-আজারবাইন যুদ্ধে। এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন ইরাকবাসী ও সিরিয়াবাসী মুসলিম। ইরাকবাসীরা কোরআন শিখতেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-র উচ্চারণরীতি অনুযায়ী আর সিরিয়াবাসীরা কোরআন শিখতেন উবাই ইবনে কাব-এর উচ্চারণরীতি অনুযায়ী। তারা একে অপরের কোরআন শুনে একে অপরকে কাফের বলে আখ্যায়িত করতে শুরু করলেন। [13]

মুহাম্মদ বলেছে তোমরা চার ব্যক্তি থেকে কোরান শিক্ষা কর ৷ চার ব্যক্তির মধ্যে আব্দুল্লা ইবনে মাসউদ এবং উবায় ইবনে কা’ব অন্যতম ৷ আর তাদের দুজনের পঠনেই কেন এত পার্থক্য ?! [ সহিহ বুখারী: খণ্ড: ৬ অধ্যায়: ৬১ হাদিস: ৫২১ ]

তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান তার শাসনামলে সব অঞ্চলে অভিন্ন কুরায়েশদের পঠনপাঠনরীতি অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে কুরায়েশদের পঠনরীতি ও লিখন রীতিতে কোরআন সংকলন ও লিপিবদ্ধ করেন ।

■ কিন্তু পাঠক ! তা কি ফলপ্রসু হয়েছিল , এতে কি উদ্ভুত সমস্যার স্থায়ী কোন সমাধান হয়েছিল ? যদি হতোই তাহলে হয়ত আজকে আপনাকে আর এ লেখাটি পড়তে হতো না !!

■ প্রিয় পাঠক ! উপরের পার্থক্য (4) (6) (7) (9) (10) (14) একটু চোখ বুলিয়ে নিন ৷ কি দেখতে পাচ্ছেন ? কখনো কোন আয়াত মুহাম্মদ থুক্কু আল্লাহ একই আয়াতে বলছেন ‘তিনি’ অন্য ক্বিরাতে বলছেন ‘আমি’ আবার কখনো বলছে ‘তুমি’ একই আয়াতে বলছে ‘তারা’… ৷
পাঠক ! নিজেই বিচার করে দেখুন আঞ্চলিক ভাষার ক্ষেত্রে এমনটা কি সম্ভব ? একটু মাথা খাটান ৷

■ লক্ষ্য করুন পার্থক্য (2)(3) (5)(6) (7)(8) (9)(10) হতে পারে এপার্থক্যগুলো হয়েছে কোরআন নিজ নিজ মাসহাফে লিপিবদ্ধ করার সময় ৷ দেখুন (2) ওয়ারশে দেখা যাচ্ছে একটি আলিফ অতিরিক্ত ৷ (3) ওয়ারশে দেখা যাচ্ছে ওয়াও (و) বিহীন ৷ (5) এ কখনো ফা (ف) আবার কখনো ওয়াও (و) যুক্ত ৷ (7) এ কখনো তা (ت) কখনো ইয়া (ي) ৷ (8) হাফসে ঝা (ز) ওয়ারশে গিয়ে হয়ে গেল নোকতা বিহীন রা (ر) ৷ (14) এবং (15) দেখুন অর্থই পাল্টে গেল , আঞ্চলিক উপভাষার খাতিরেই হোক বা সহজিকরনের হোক আল্লাহ তো দুরকম বলতে পারে না ৷

# সহহি আল বুখারি খণ্ড কিতাব ‘তাফসির এ কোরআন’ সুরা লাইল, বাব وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنْثَى “আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসুদ)-এর সাহাবীগণ আবু দারদার কাছে এসেছিলেন, (তাঁরা তাঁর বাড়িতে পৌঁছবার আগে) তিনি তাঁদের খুঁজে নিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন ‘তোমাদের মধ্যে কে আব্দুল্লাহর মতো পড়তে (কুরআন) পারো?’ তাঁরা বললেন ‘আমরা সবাই’, তিনি জিজ্ঞেস করলেন ‘তোমাদের মধ্যে কে মুখস্থ জানে?’ তাঁরা আলকামার দিকে ইঙ্গিত করল, তখন তিনি আলকামাকে জিজ্ঞেস করলেন ‘তুমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদকে সুরা আল লাইল পড়তে কেমন শুনেছ?’ আলকামা পড়লেন “والذكر والأنثى”, আবু দারদা বললেন ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি নবী সাঃ কে এই রকম পড়তে শুনেছি, কিন্তু লোকেরা চায় যে আমি এই রকম পড়ি وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنثَى ওয়াল্লাহি আমি ওদেরকে অনুসরণ করব না।”

# তাফসির দুররুল মনসুর খণ্ড ৪, পাতা ৬৫৪:- “ইবনে জারির ও আবি মুনযির, উবাই ইবনে কা’ব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (উবাই ইবনে কা’ব) এই আয়াতটি পড়তো ‘যদি তোমরা সালাত কসর করো, যে কাফেররা ক্ষতি করতে পারে’, যদি তোমরা ভয় করো, إن خفتم এই অংশটি বাদ দিয়ে। অথচ উসমানের মুসহাফ-এ আছে ‘তোমরা সালাত কসর করো, যদি তোমরা ভয় করো যে কাফেররা ক্ষতি করতে পারে’ মুহাম্মদ নিজে বলতেন যে, তোমরা চার ব্যক্তি থেকে কুরআন শিক্ষা কর – আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ, সালিম, মুআয এবং উবায় ইবনে কাব। (সহিহ বুখারী: খণ্ড: ৬ অধ্যায়: ৬১ হাদিস: ৫২১) [21]

■ পাঠক লক্ষ করেছেন কি ? মুহাম্মদ বলেছে [21] আব্দুল্লা ইবনে ইবনে মাসুদ এবং উবায় ইবনে ক্বাব এবং আরো অন্য দুজন সাহাবীদের থেকে কোরআন শিখতে ৷ কিন্তু উসমানের কোরআনে ছিল তাদের পঠন থেকে ভিন্ন কিছু, হয়তো এখানে ঘটেছে সংযোজন বিয়োজন অথবা ঘটেছে বিকৃতি ৷

# আছরারুত তান্জিল ওয়া আছরারুত্ তা’য়ীল’ গ্রন্থে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আল বাদাওয়ী এই ঘটনাটি বর্ননা করেছেন এভাবে, একদিন মুহম্মদ ওহী প্রাপ্ত হয়ে ২৩ নং সূরার ১২ থেকে ১৪ আয়াতের “এবং সত্যসত্যই আমি মানব মন্ডলীকে কর্দমাক্ত মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করিয়াছি…তৎপর তাহাকে আমি অন্যসৃষ্টিরূপে সৃষ্টি কারিয়াছি” এই অংশটি বলার পর লিখতে লিখতে সাদ বলে উঠেন, ‘আল্লাহ গৌরবান্বিত অত্যুত্তম সৃষ্টিকর্তা’। শুনে নবী বললেন, ‘লাগিয়ে দাও এই বাক্যটিও’, লাগানো হলো; চমকে উঠলেন সাদ। আরেকবার যখন এক আয়াতের শেষে মুহম্মদ বললেন, “এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী ও বিজ্ঞ”- এই বাক্যটি সংশোধন করে সাদ লিখতে বললেন, ‘এবং আল্লাহ সব জানেন ও বিজ্ঞ’। মুহম্মদ অমত করলেন না, লিখতে বললেন। এই ঘটনার পর সাদের আর কোনো সন্দেহ থাকে না যে কোরান আল্লার বাণী নয়, এটা মুহম্মদেরই বানানো ৷ একই ঘটনার বর্ণনা রয়েছে হিস্টোরি অব আল তাবারি [18] এবং “কিতাব আল তাবাকাত আল কাবিরে ” [19] ৷

অপর এক মারফু’ হাদিসে এসেছে যে, হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন: “কুরআন ৭ হারফে নাযিল করা হয়েছে, যদি “গফুরার রহীমা” বল অথবা “আযীযান হাকীমা” বল, তবে আল্লাহ তো এমনই। একইভাবে যতক্ষন রহমতের আয়াতকে আযাবের আয়াত দিয়ে কিংবা আযাবের আয়াতকে রহমতের আয়াত দিয়ে সমাপ্ত না করছো।” [0]

■ কি !! কিছু কি বুঝতে পারছেন ?? লক্ষ্য করুন: সহিহ বুখারী: খণ্ড ৬: অধ্যায় ৬১: হাদিস ৫৫৮ আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা) এক ব্যক্তিকে রাতে কুরআন পাঠ করতে শুনে বললেন, আল্লাহ তাকে রহমত করুন। কেননা, সে আমাকে অমুক অমুক সূরার অমুক অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যা আমি ভুলতে বসেছিলাম।”[20]

■ মুহাম্মদ ছিলেন একজন সাধান মানুষ ৷ স্বাভাবিক মস্তিস্কগত দুর্বলতার কারণে মানুষের ভূল হতেই পারে , মুহাম্মদেরও ভুল হতো ৷ তারই তৈরী গদ্যাকার আয়াত তিনিই ভুলে যেতেন ৷ এবং মনে করতেন আল্লাই তাকে ভূলিয়ে দিয়েছে, এবং তাকে এরথেকে ভাল আয়াত দিবেন ৷ দেখুন :-

“আমি তোমাকে পড়িয়ে দেব, যার ফলে তুমি ভুলে যাবে না। আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। নিশ্চয় তিনি জানেন প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়।” সূরা আল আ’লা (৮৭:৬-৭)

“আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?” সূরা বাকারা (২:১০৬)

আরও দেখুন:- সহিহ বুখারী: খণ্ড ৬: অধ্যায় ৬১: হাদিস ৫৫০ “আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, এটা খুবই খারাপ কথা যে, তোমাদের মধ্যে কেউ বলবে, আমি কুরআনের অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি; বরং তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং, তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক, কেননা তা মানুষের অন্তর থেকে উটের চেয়েও দ্রুতবেগে চলে যায়।”

■ মুহাম্মদ কোরআনের আয়াত স্মরনে রাখার জন্য খুব দ্রুত পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করতেন ৷ তাইতো কোরআনে দেখা যায় মুহাম্মদ ভুলে যাওয়ার কারনে একই কথা বিভিন্ন স্হানে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করছেন , এটা যারা কখনো কোরআন পড়েছেন তারা হয়তো খেয়াল করেছেন ৷ আবার হযরত মুহাম্মদ কখনো একই আয়াতে একই কথা ভিন্ন শব্দে বা নিকটবর্তী কোন শব্দে আবৃত্তি করেছেন , যেমনটা ঘটেছে পার্থক্য (14) (15) এর বেলায় ৷

■ হয়তো এজন্যই উল্লেখিত হাদিস [3],[4] এ উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃস্টি হয়েছিল ৷ এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের জন্যই মুহাম্মদ সাত উপআঞ্চলিক ভাষার অজুহাত উপস্হাপন করে ৷ হাদিসে [21] দেখুন মুহাম্মদ বলেছে উবায় ইবনে ক্বাব এবং আরো তিনজন সাহাবী থেকে কোরআন শিক্ষা করতে ৷ অথচ হাদিস [3] দেখুন উদ্ভুত পরিস্থিতির পূর্বে উবায় ইবনে ক্বাব জানতেনই না সাত আহরুফের কথা ৷ হাদিস [4] থেকেও এটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে ৷ তারও আগে উপরে আমরা দেখেছি যে, সাত আহরুফের (উপভাষার) কোন যৌক্তিক উপযোগীতাই নেই ৷

■ আমরা আবার কিছু হাদিস দেখি :—

# সহিহ বুখারী: খণ্ড ৮: অধ্যায় ৮২: হাদিস ৮১৬ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রা) বলেছেন, আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, দীর্ঘ যুগ অতিক্রান্ত হবার পর কোন ব্যক্তি এ কথা বলে ফেলতে পারে যে, আমরা আল্লাহর কিতাবে রজমের বিধান পাচ্ছি না। ফলে এমন একটি ফরয পরিত্যাগ করার দরুন তারা পথভ্রষ্ট হবে যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন। সাবধান! যখন প্রমাণ পাওয়া যাবে অথবা গর্ভ বা স্বীকারোক্তি বিদ্যমান থাকবে তখন ব্যভিচারীর জন্য রজমের বিধান নিঃসন্দেহ অবধারিত। সুফিয়ান (র) বলেন, অনুরূপই আমি স্মরণ রেখেছি: সাবধান! রাসূলুল্লাহ (সা) রজম করেছেন, আর আমরাও তারপরে রজম করেছি।

# সহিহ মুসলিম: খণ্ড ৮: হাদিস ৩৪২২ আমরাহ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি আয়িশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, যখন তিনি দুধপানের ঐ পরিমাণ সম্পর্কে আলোচনা করলেন যার দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয় । আমরাহ বললেন যে, আয়িশা (রাঃ) বলেছিলেন, আল কুরআনে নাযিল হয় নির্ধারিত দশবার দুধপানে, তারপর নাযিল হয় – নির্ধারিত পাঁচবার দুধপানে।”

# সুনানু ইবনে মাজাহ্: হাদিস ১৯৪৪ নিকাহ বা বিবাহ অধ্যায় আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রজম সম্পর্কিত আয়াত এবং বয়স্ক লোকেরও দশ ঢোক দুধপান সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হয়েছিল, যা একটি সহীফায় (লিখিত) আমার খাটের নিচে সংরক্ষিত ছিল। যখন রসূলুল্লাহ (সা) ইন্তিকাল করেন এবং আমরা তাঁর ইন্তিকালে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম, তখন একটি ছাগল এসে তা খেয়ে ফেলে।

# মুয়াত্তা মালিক: দুধপান সম্পর্কীত, অধ্যায় ৩০ হাদিস ১২৯২ আয়েশা (রা) বলিয়াছেন: কুরআনে যাহা অবতীর্ণ হইয়াছিল তা-হতে দশবার দুধ চোষার কথা নির্ধারিত ছিল – যাহা হারাম করিবে, তারপর উহা রহিত হইয়া যায়। নির্ধারিত পাঁচ বার দুগ্ধ চোষার (অবতীর্ণ হুকুমের) দ্বারা। অতপর রসুলুল্লাহ (সা)-এর ওফাত হয় তখনও সেই পাঁচবার দুধ চোষার (হুকুমের অংশ) সম্বলিত আয়াত তিলাওয়াত করা হইত।

■ অর্থাৎ প্রথমে দশঢোক বা দশবার দুধ (চোষার) পান করার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি মাহরাম ( দুজনের মধ্যে বিয়ের সম্পর্ক হারাম , দেখা করা যায়েজ ) হওয়ার বিষয়ে আয়াত নাজিল হয় ৷ পরে তা কমিয়ে পাঁচ ঢোক দুধ পান করার আয়াত নামে ৷

■ তারপর শুরু হয় নানা ধরনের জটিলতা ৷ কেউ উত্তেজনা বশতঃ তার স্ত্রীর দুধ পান করে স্ত্রীকে হারাম মনে করতে থাকে ৷ আবার কারো স্ত্রী তার স্বামীকে দাসী সঙ্গম থেকে বিরত রাখতে দাসীকে নিজের দুধ খাইয়ে দেয় , যাতে দাসীকে সন্তানের মত মনে করে অর্থাৎ সঙ্গম থেকে বিরত থাকে ৷ দেখুন নিচের দুটি হাদিস :-

# আবদুল্লাহ্ ইবন দীনার (র) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেছেন : বয়স্কদের দুধ পানের বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য “দারুল কাযা” বিচারালয় ইহা ছিল উমার ফারূক (রা)-এর ঘর, তাঁর শাহাদাতের পর তাঁর ঋণ পরিশোধ করার জন্য এই ঘর বিক্রি করা হয়, তাই একে দারুল কাযা বলা হয়)-এর নিকট এক ব্যক্তি আসল। আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রা)-এর কাছে তখন আমি উপস্থিত ছিলাম। আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমার (রা) বললেন : এক ব্যক্তি ‘উমার ইবন খাত্তাব (রা)-এর নিকট এসে বললেন, আমার এক দাসী ছিল। আমি তার সাথে সঙ্গম করতাম আমার স্ত্রী ইচ্ছাপূর্বক তাকে দুধ খাওয়াইয়া দেয়, তারপর আমি সেই দাসীর নিকট (সঙ্গমের উদ্দেশ্যে) প্রবেশ করলাম। আমার স্ত্রী বলল থাম। উহার সাথে সংগত হইও না আল্লাহ্‌র কসম, আমি উহাকে দুধ পান করাইয়াছি। উমার (রা) বললেন, তোমার স্ত্রীকে শাস্তি দাও, তারপর দাসীর নিকট গমন কর, দুধ পান করানো ছোটদের বেলায় গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে।[22]

# ইয়াহইয়া ইবন সা‘ঈদ (র) থেকে বর্ণিতঃ এক ব্যক্তি আবূ মূসা আশ’আরী (রা)-কে প্রশ্ন করলেন, আমি আমার স্ত্রীর স্তন চুষেছি, দুধ আমার ভিতরে প্রবেশ করেছে। আবূ মূসা আশ’আরী (রা) বললেন আমি মনে করি, তোমার স্ত্রী তোমার উপর হারাম হয়েছে। ‘আবদুল্লাহ্ ইবন মাস’ঊদ (রা) বললেন : ভেবে দেখুন এই ব্যক্তি কে, কি ফতোয়া দিচ্ছেন? আবূ মূসা বললেন : তবে আপনি কি বলেন? আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাসঊদ (রা) বললেন : দুধ খাওয়া দুই বৎসরের ভিতরেই হয়, অতঃপর আবূ মূসা (রা) বললেন : এই ‘বিজ্ঞজন’ যতদিন তোমাদের মধ্যে আছেন তোমরা (কোন বিষয়ে) আমার কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করো না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)[23]

(*_*)

প্রিয় পাঠক! নিজেই বিচার বিশ্লেষণ করুন কোরআন কি আদৌ অবিকৃত? কোরআনে সংযোজন বিয়োজন হয়েছিল কিনা? সাত আহরুফ বা একাধিক পঠন-পদ্ধতির কোন যৌক্তিক উপযোগিতা বা প্রয়োজনীয়তা ছিল কিনা?
বর্তমানেও কোরআনের একাধিক ভার্সন ( মুসহাফ বা ক্বীরাত যাই বলুন ) থাকা কি প্রমাণ করে ? কিছু সংখ্যক কোরআন ভার্শনের বিলুপ্তি আমাদের কি জানান দেয়? আপনাদের কাঁধেই রইল বিচারের ভার৷

এতবড় লেখা মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ, যৌক্তিক সমালোচনার জন্য আপনাকে স্বাগতম ৷

তথ্যসূত্রঃ

*********
[0] প্রাথমিক তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট ৷ নির্ভরযোগ্য রেফঃ প্রয়োজন ৷
[1] সূরা বুরূজ, আয়াত ২২ “লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ”
[2] সূরা হিজর, আয়াত ৯ ” আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক ।”
[3] সহিহ মুসলিম: খণ্ড ৪: হাদিস ১৭৮৭
[4] সহিহ বুখারী: খণ্ড ৬: অধ্যায় ৬১: হাদিস ৫১৪
[5] সহিহ বুখারী: খণ্ড ৬: অধ্যায় ৬১: হাদিস ৫১৩
[6] Ibn Jarir al-Tabari, Jami’ al-Bayan fi Ta’wil al-Qur’an, 1/46-47, Al-Resalah Publishers, Beirut, 2001
[7] (Cyril Glassé, The Concise Encyclopedia of Islam, p. 324, bold added)
[8] Abu Ammaar Yasir Qadhi, An Introduction to the Sciences of the Qur’aan, p. 199.
[9] হাফস্ (Hafs) সংস্করণ (ডাউনলোড ৭১ MB) https://www.mediafire.com/?dy3gwbh8lw9ewkh [10] ওয়ারস্ (Warsh) সংস্করণ (ডাউনলোড ১০৮ মেগাবাইট) https://www.mediafire.com/?ctewdcts99ggw2t
[11] Subhii al-Saalih, Muhaahith fii `Ulum al-Qur’aan, Beirut: Daar al-`Ilm li al-Malaayiin, 1967, pp. 109ff.
[12] https://answering-islam.org/Green/seven.htm
[13] ইবনে হাজার আল আসকালানী, ফাতহুল বারী, খণ্ড: ৯, পৃ: ১৮
[14] আল ইতকান ফি উলুম আল কুরাআন, খন্ড ১,পাতা ১৪৬
[15] কানযুল উম্মাহ খণ্ড ৭, পাতা ৪৩৭, হাদিস নং ১৯৬৬৫
[16] আল ইতকান ফি উলুম আল কুরাআন ,খণ্ড ১, পাতা ১৪৮
[17] শারাহ বুখারি আল ফাতহুল বারি’ খণ্ড ৮, পাতা ৭৪৩)
[18] The History of Al-Tabari, vol 8, translated by Michael Fishbein, Page 179| The Spirit of Islam, page 295
[19] ÔKitab Al-Tabaqat Al-KabirÕ (Vol 2, page 174)
[20] সহিহ বুখারী: খণ্ড ৬: অধ্যায় ৬১: হাদিস ৫৫৮
[21] সহিহ বুখারী: খণ্ড: ৬ অধ্যায়: ৬১ হাদিস: ৫২১
[22] মুয়াত্তা ইমাম মালেক
[23] মুয়াত্তা ইমাম মালেক
[24] লামহাত ফী উলুমিল কুরআন, ডঃ মুহাম্মাদ বিন লুতফী সাব্বাক, পৃষ্ঠা ১৭২

সূরা বুরূজ, আয়াত ২২
সূরা বুরূজ, আয়াত ২২ “লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ”
সূরা হিজর, আয়াত ৯
সূরা হিজর, আয়াত ৯ ” আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক ।”

লেখকঃ মুখোশধারী

Facebook Comments

3 thoughts on “কোরআন বিকৃতি ও সাত আহরুফের সাতকাহন

  • November 10, 2018 at 5:22 pm
    Permalink

    আল্লাহ মহম্মদ(মহাঊন্মাদ) এর হাতে তুলে দিতে পারত কম্পিউটার বা এন্ডরয়েড স্মার্ট ফোন জিহাদে কাজে লাগতো |
    কোরান ডিজিট্যাল ফরমেটে নাজিল করতে পারতো তাহলে আমরা অন্তত অমুস্লিমদের বা নাস্তিকদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে পারতাম দ্যাখ ব্যাটা পৃথিবীর প্রাথম কোন ধর্ম গ্রন্থ ডিজিট্যাল ফরমেটে নাজিল হয়েছে

    সবখেত্রে অমুস্লিমদের সাহায্য ছাড়া চলেনা | তারা এগুলো কোন ধর্ম গ্রন্থ পড়ে তৈরী করেনি বরং মুক্ত জ্ঞান থেকে করেছে |

    যদি আল্লাহ বলে কিছু থাকতো বা মহম্মদের কিছু ক্ষমাতা থাকতো তাহলে মহম্মদকে তিনি কাফের অমুস্লিমদের হত্যা করতে তিনি মিগ-30,এফ-১৬ বা জগুয়ার যুদ্ধবিমান বা একে ৪৭ বন্দুক বা অটোম্যাটিক আস্যাল্ট রাইফেল কিম্বা অ্যাটম বা হাইড্রোজেন বোমা তুলে দিতেন | কিন্তু এগুলা অমুস্লিমদের আবিষ্কার | লড়তে হয়েছে তরোয়াল আর প্রাচীন অস্ত্রে |
    মুমিনরা যুদ্ধ করতে গিয়ে বা দুর্ঘটনাতে রক্তের অভাবে মারা যাই | তখন দরকার রক্তের | কিন্তু রক্তের ABO সিস্টেম ও রক্ত সঞ্চাল পদ্ধতি অমুস্লিমদের আবিষ্কার
    অর্থাৎ আল্লাহ বা মহম্মদ(মহাঊন্মাদ) মুমেনদের জিহাদে তাদের কোনকিছু দিয়ে বা মৃত্যু হতে রক্ষা করতে নুন্যতমও সাহায়্য করেনি |

    তাহলে বুঝাই গেল কুরান হদীস এসব হল বানোয়াট মহাঊন্মাদ ‘The Fraud’ এর কল্পিত গালগল্প ছাড়া কিছুই না |

    মিথ্যা ধাপ্পাবাজির খপ্পরে কুপমুন্ডুক হয়ে চিরকাল মহাঊন্মাদ এর কল্পিত আল্লাহর গোলামী না করে মধ্যযুগিয় বর্বর বদ্ধ পশ্চাৎপদী চিন্তাধারায় পড়ে না থেকে মনকে প্রসারিত করা দরকার যাতে অন্তত সত্য উপলব্ধি করতে পারি |

    Reply
  • November 11, 2018 at 12:31 pm
    Permalink

    আল কুরআনকে আল্লাহ ৭টি আহরুফে (আরবি উপভাষা) নাজিল করেছেন। এর সবগুলোই নবী করিম(স) এর দ্বারা অনুমোদিত। এই ভিন্নতাগুলো মোটেও কুরআনের “বিকৃতি” নয়। অজ্ঞ মুসলিমদেরঅকে ভিন্ন আহরুফ বা কিরাত দেখিয়ে বোকা বানিয়ে “কুরআন বিকৃত” বলে বিশ্বাস করানো যাবে; কিন্তু জ্ঞানী মুসলিমরা কখনো এই ফাঁদে পা দেবে না।

    বিস্তারিত দেখুনঃ
    “The revelation of the Qur’aan in seven styles (ahruf, sing. harf)” [islamQA -Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid]
    https://islamqa.info/en/5142/

    Reply
  • November 11, 2018 at 12:37 pm
    Permalink

    আর হ্যাঁ, আল কুরআনের অনেকগুলো ভিন্ন কিরাআত বা পঠনপদ্ধতিও আছে। যেমনঃ ওয়ারশ, হাফস, ক্বালুন ইত্যাদি। এর সবগুলো সেই প্রাচীন যুগ ধরেই জায়েজ ও গ্রহণযোগ্য কিরাআত পদ্ধতি হিসাবে চলে আসছে। একমাত্র আরবি ভাষা ও উলুমুল কুরআন সম্পর্কে অজ্ঞরাই এটা দাবি করতে পারে যে- ভিন্ন কিরাআতগুলো কুরআনের ভিন্ন ভার্সন।

    “The seven modes of recitation are mutawaatir and it is not permissible to cast aspersions on them” [islamQA -Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid]
    https://islamqa.info/en/178120/

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: