ইসলামিক কসমস

সূচনা

এই আর্টিকেলটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে কুর’আন ও সুন্নাহ্‌’র আলোকে কসমোলজি বা মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব সংক্রান্ত আলোচনা। অর্থাৎ, কুর’আন অনুসারে মহাবিশ্বের প্রকৃতি ও গঠনের ব্যাখ্যা দেওয়া।

এটি মোটেও আশ্চর্যজনক না যে, ‘ইসলামিক কসমোলজি’ তৎকালীন অন্যান্য পুরানো ব্যাখ্যার চেয়ে আধুনিক না বরং গ্রিক ও রোমানদের শতকের পর শতক অগ্রগতির তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম বাস্তবধর্মী। যেখানে অন্যান্য সভ্যতা অনেক আগেই উপলব্ধি করেছে যে, পৃথিবী গোলাকার সেখানে কুর’আন ‘পৃথিবী সমতল’ এই ব্যাখ্যা দিয়ে বিশেষভাবে বৈজ্ঞানিক বইয়ের পরিচয় দেয় না।
যদিও বর্তমানে কুর’আনের আলোচিত বিভিন্ন উক্তি (কেবল কুর’আন নয়, অন্যান্য প্রায় সব প্রাচীন ধর্মগ্রন্থীয় উক্তি) রূপকঅর্থে বা সাংকেতিকরূপে আছে, আবার বিভিন্ন উক্তি সোজাসুজিভাবে গ্রহণ করা হয়। তবুও এই বিষয়টি কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া পাঠককে কোরঅানের কোনো ভুল বিবরণকে ভুল বলে অস্বীকার করার বৈধতা দেয়না। বস্তুত, কুর’আন ও সুন্নাহ্‌য় উল্লেখিত কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যে সৃষ্টিতত্ত্ব সংক্রান্ত বিষয় আলোচিত হলেও সেই ঘটনাকে অগ্রাহ্য করে সৃষ্টিতত্ত্বের বিষয় বিশেষভাবে দৃঢ়, নির্ভুল ও অপরিবর্তনীয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যার কারণ কুর’আন এবং সুন্নাহ্‌’র কোথাও মহাবিশ্বের গঠন আলোচনা করার উদ্দেশ্য পোষণ করা হয়নি। প্রায় সবক্ষেত্রেই কসমোলজিক্যাল ব্যাখ্যা দেয়া আছে কোনো না কোনো ধর্মীয় শিক্ষার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হিসেবে। যদি সৃষ্টিতত্ত্বের কোনো তথ্য রূপক হিসেবে উল্লেখ থাকে, যার রূপক হিসেবে উল্লেখ করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই, তাহলে তা অবশ্যই লেখকের সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কিত বোধ হিসেবে বিবেচ্য হওয়া বাঞ্চনীয়।

কুর’আন ও সুন্নাহ্‌’য় উল্লেখিত এসব তথ্য মুহম্মদের মহাবিশ্বের গঠন সম্পর্কে ধারণা নিয়ে একটা গোটা রিসোর্স এবং পরিষ্কার ধারণা দেয়।

ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

আসমান এবং জমিন বা পৃথিবী

সৃষ্টিতত্ত্বের দিক দিয়ে কুর’আন জানান দেয় যে ইসলামী মহাবিশ্ব খুবই ছোট এবং সরল। এটির মূল উপাদান মাত্র দু’টি – আসমান আর পৃথিবী। এছাড়াও মহাবিশ্বের অন্যান্য কোনো উপাদান, যেমন : সোলার সিস্টেম, গ্যালাক্সি, স্পেস ইত্যাদি নিয়ে কোনো তথ্য বা ধারণা নেই। পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান অন্যান্য গ্রহের মতো পৃথিবীও যে একটা গ্রহ এবং তারকারা যে এক একটি সূর্য – এসব বিষয়ে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। কুর’আনের সৃষ্টিতত্ত্ব প্রাথমিকভাবে খালি চোখে দৃশ্যমান বিষয়বস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং কুর’আনের লেখকের যা দৃশ্যমান নয় তার কোনো চিহ্ন নেই, থাকলেও বাস্তবতার সাপেক্ষে পুরোপুরি ভুল।

‘আসমান এবং জমিন’ এর মৌলিক পরিচিতি কুর’আন অনুসারে সৃষ্টির দু’টি মূল উপাদান, যা কুর’আনে একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে এবং এই দু’টি উপাদানের ‘পার্থক্যকারী অংশ’ হচ্ছে আল্লাহর প্রারম্ভিক সৃষ্টি।

সূরা আল-আম্বিয়া আয়াত ৩০

أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ

আওয়ালাম ইয়ারাল্লাযীনা কাফারূআন্নছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা কা-নাতা-রাতকান ফাফাতাকনা-হুমা- ওয়া জা‘আলনা-মিনাল মাই কুল্লা শাইয়িন হাইয়ি আফালাইউ’মিনূন।

কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?

এই দু’টি স্থানের কথাই বারবার কুর’আনে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে। এছাড়াও অন্য কোনো স্থানে কোনো কিছুর উপস্থিতি বা আলাপচারিতার ঘটনা ঘটেছে- এমন কোনো উল্লেখ নেই। যখনই কুর’আনে আল্লাহ’র অপার জ্ঞান সংক্রান্ত কোনোকিছুকে নির্দেশ করা হয়েছে, তখনই সবকিছুকে নির্দেশ করতে আসমান যমীনের কথা উল্লেখ্য করা হয়েছে।

সূরা ইবরাহীম আয়াত ৩৮

رَبَّنَا إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا نُخْفِي وَمَا نُعْلِنُ ۗ وَمَا يَخْفَىٰ عَلَى اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ

রাব্বানাইন্নাকা তা‘লামুমা-নুখফী ওয়ামা-নু‘লিনু ওয়ামা-ইয়াখফা-‘আলাল্লা-হি মিন শাইইন ফিল আরদিওয়ালা-ফিছছামাই।

হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি তো জানেন আমরা যা কিছু গোপনে করি এবং যা কিছু প্রকাশ্য করি। আল্লাহর কাছে পৃথিবীতে ও আকাশে কোন কিছুই গোপন নয়।

সূরা আল-আম্বিয়া আয়াত ৪

قَالَ رَبِّي يَعْلَمُ الْقَوْلَ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

কা-লা রাববী ইয়া‘লামুল কাওলা ফিছছামাই ওয়াল আরদি ওয়া হুওয়াছছামী‘উল ‘আলীম।

পয়গম্বর বললেনঃ নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের কথাই আমার পালনকর্তা জানেন। তিনি সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন।

সূরা আল-হাজ্ব আয়াত ৭০

أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ۗ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَابٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ

আলাম তা‘লাম আন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামুমা-ফিছছামাই ওয়াল আরদি ইন্না যা-লিকা ফী কিতা-বিন ইন্না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াছীর।

তুমি কি জান না যে, আল্লাহ জানেন যা কিছু আকাশে ও ভুমন্ডলে আছে এসব কিতাবে লিখিত আছে। এটা আল্লাহর কাছে সহজ।

সূরা লুকমান আয়াত ২৬

لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ

লিল্লা-হি মা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইন্নাল্লা-হা হুওয়াল গানিইয়ুল হামীদ।

নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই আল্লাহর। আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।

‘আসমান ও জমিন’ এক ধরণের ধারক হিসেবেও বর্ণিত আছে যার মধ্যে মানুষের বিচরণ করা বিশ্ব অবস্থান করে।

সূরা আল-আম্বিয়া আয়াত ১৬

وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَاعِبِينَ

ওয়ামা-খালাকনাছছামাআ ওয়াল আরদা ওয়ামা-বাইনাহুমা-লা-‘ইবীন।

আকাশ পৃথিবী এতদুভয়ের মধ্যে যা আছে, তা আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।

এটি মোটেও আশ্চর্যজনক নয় যে, ‘আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী সবকিছু’ সমতলে দাঁড়ানো কোনো মানুষের দৃশ্যমান জ্ঞান অনুসারে বর্ণিত। অর্থাৎ, সবদিক থেকে তাকিয়ে পৃথিবীকে সমতলই মনে হয় এবং বৃত্তাকার দিগন্তের জন্য মনে হয় অবজারভার সমতল ডিস্কের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে। উপরের দিকে তাকালে আকাশ দিগন্তের বাইরে সর্বোচ্চ উচ্চতায় শক্ত নীল গম্বুজ হিসেবে দৃশ্যমান হয়। কুর’আন থেকে ঠিক এই ধারণাই পাওয়া যায়।

কোরঅান থেকে আমরা আরও জানতে পারি, আল্লাহ যখন আসমানসমূহ এবং পৃথিবী তৈরি করেন তখন তিনি আগে পৃথিবী তৈরি করেন।

সূরা হামিম সাজদাহ/ফুসিলাত আয়াত ৯

قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَنْدَادًا ۚ ذَٰلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ

কুল আইন্নাকুম লাতাকফুরূনা বিল্লাযী খালাকাল আরদা ফী ইয়াওমাইনি ওয়া তাজ‘আলূনা লাহূআনদা-দান যা-লিকা রাব্বুল ‘আ-লামীন।

বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা।

সূরা হামিম সাজদাহ/ফুসিলাত আয়াত ১০

وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِنْ فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءً لِلسَّائِلِينَ

ওয়া জা‘আলা ফীহা-রাওয়া-ছিআ মিন ফাওকিহা- ওয়া বা-রাকাফীহা-ওয়াকাদ্দারাফীহা আকওয়া-তাহা- ফীআরবা‘আতি আইয়া-মিন ছাওয়াআললিছছাইলীন।

তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে।

সূরা হামিম সাজদাহ/ফুসিলাত আয়াত ১১

ثُمَّ اسْتَوَىٰ إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ ائْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ

ছু ম্মাছ তাওয়াইলাছ ছামাই ওয়াহিয়া দুখা-নুন ফাকা-লা লাহা-ওয়ালিল আরদি’তিয়া তাও‘আন আও কার হান কা-লাতাআতাইনা-তাই‘ঈন।

অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।

আবার,

সূরা আল-বাকারা আয়াত ২৯

هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ اسْتَوَىٰ إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ ۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

হুওয়াল্লাযী খালাকালাকুম মা-ফিল আরদিজামী‘আন ছু ম্মাছ তাওয়াইলাছছামাই ফাছাওওয়া-হুন্না ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তিওঁ ওয়া হুওয়া বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।

তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।

তো আসমান যমীন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর মৌলিক কাঠামো কোরঅান অনুযায়ী বললে বলতে হয়, জমিন তথা পৃথিবী সমতল এবং আসমান হচ্ছে সলিড গম্বুজ। আরও বিশদ বিশ্লেষণের জন্য এখন আসমান বিষয়ক আলোচনা করা যাক।

আসমান

পৃথিবী থেকে গম্বুজাকৃতি আসমান সর্বদিগ্ব্যাপী প্রসারিত, যদিও আরও সঠিক অর্থে তারা তাদের ভিত্তিতে পৃথিবীর ডিস্কের সাথে সাত সমকেন্দ্রিয় আসমান বলে বর্ণিত।

সূরা আল-বাকারা আয়াত ২৯

هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ اسْتَوَىٰ إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ ۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

হুওয়াল্লাযী খালাকালাকুম মা-ফিল আরদিজামী‘আন ছু ম্মাছ তাওয়াইলাছছামাই ফাছাওওয়া-হুন্না ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তিওঁ ওয়া হুওয়া বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।

তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।

সূরা হামিম সাজদাহ/ফুসিলাত আয়াত ১২

فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَىٰ فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا ۚ وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ

ফাকাদা-হুন্না ছাব ‘আ ছামা-ওয়া-তিন ফী ইয়াওমাইনি ওয়া আওহা-ফী কুল্লি ছামাইন আমরাহা- ওয়া ঝাইয়ান্নাছ ছামাআদ্দুনইয়া-বিমাসা-বীহা ওয়া হিফজান যালিকা তাকদীরুল ‘আঝীঝিল ‘আলীম।

অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।

কুরআনে এই সাতটা আসমানকে কঠিন বস্তু হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন- এরা শক্ত ছাদের মত পৃথিবীকে রক্ষা করে, এই ধরণের কথা বিভিন্ন অংশে দেখা যায়।

সূরা আল-আম্বিয়া আয়াত ৩২

وَجَعَلْنَا السَّمَاءَ سَقْفًا مَحْفُوظًا ۖ وَهُمْ عَنْ آيَاتِهَا مُعْرِضُونَ

ওয়া জা‘আলনাছছামাআ ছাকফাম মাহফূজাওঁ ওয়া হুম ‘আন আ-য়া-তিহা মু‘রিদূ ন।

আমি আকাশকে সুরক্ষিত ছাদ করেছি; অথচ তারা আমার আকাশস্থ নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।

কুরআন অনুযায়ী আসমান যে সলিড পদার্থ তার আরও অনেক প্রমাণ রয়েছে। যেমন : কুরআনে একটি আয়াত দেখা যায় যেই আয়াতে কুরআনের লেখক প্রশ্ন করেছেন, আমরা আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো অসংগতি বা অসামঞ্জস্যতা খুঁজে পাই কিনা। তিনি আসমানের দিকে তাকিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে তাতে কোনো ফাটল খুঁজে পাওয়া যায় কিনা প্রশ্ন করেছেন এবং উপলব্ধি করতে আহবান করেছেন যে, আল্লাহর সৃষ্টি কতোই না নিখুঁত। সেই আয়াত থেকে প্রমানিত হয় যে, আমরা উপরের দিকে তাকালে যেই নীল আকাশ দেখতে পাই তা ইসলাম অনুযায়ী সলিড। কেননা, ইসলাম অনুযায়ী আমাদের চিরচেনা নীল আকাশ নীল ছাদ নাহলে তাতে ফাটল খুঁজে দেখার প্রশ্ন আসতো না।

সূরা আল-মুলক আয়াত ৩

الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا ۖ مَا تَرَىٰ فِي خَلْقِ الرَّحْمَٰنِ مِنْ تَفَاوُتٍ ۖ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَىٰ مِنْ فُطُورٍ

আল্লাযী খালাকা ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তিন তিবা-কান মা- তারা- ফী খালকির রাহমা-নি মিন তাফা-উত ফারজি‘ইল বাসারা হাল তারা- মিন ফুতূর।

তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টিফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি?

এমনকি কিছু বর্ণনা থেকে এই সলিড আসমান আরোহন করা সম্ভব এরকম ইংগিতও পাওয়া যায়।

সূরা আল-আনাম আয়াত ৩৫

وَإِنْ كَانَ كَبُرَ عَلَيْكَ إِعْرَاضُهُمْ فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَبْتَغِيَ نَفَقًا فِي الْأَرْضِ أَوْ سُلَّمًا فِي السَّمَاءِ فَتَأْتِيَهُمْ بِآيَةٍ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَمَعَهُمْ عَلَى الْهُدَىٰ ۚ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْجَاهِلِينَ

ওয়া ইন কা-না কাবুরা ‘আলাইকা ই‘রা-দুহুম ফাইনিছতাতা‘তা আন তাবতাগিয়া নাফাকান ফিল আরদিআও ছুল্লামান ফিছছামাই ফাতা’তিয়াহুম বিআ-ইয়াতিওঁ ওয়া লাও শাআল্লা-হু লাজামা‘আহুম ‘আলাল হুদা-ফালা-তাকূনান্না মিনাল জা-হিলীন।

আর যদি তাদের বিমুখতা আপনার পক্ষে কষ্টকর হয়, তবে আপনি যদি ভূতলে কোন সুড়ঙ্গ অথবা আকাশে কোন সিড়ি অনুসন্ধান করতে সমর্থ হন, অতঃপর তাদের কাছে কোন একটি মোজেযা আনতে পারেন, তবে নিয়ে আসুন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে সবাইকে সরল পথে সমবেত করতে পারতেন। অতএব, আপনি নির্বোধদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

কুর’আনে এরকম ইংগিতও পাওয়া যায় যে আসমানসমূহ দৃশ্যত এতটাই ভারি যে এসব আসমানের ভার বহন করে স্থির করে রাখার জন্য কোনো বস্তুর সাহায্য প্রয়োজন।

সূরা আর-রাদ আয়াত ২

اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ۖ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۖ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى ۚ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ

আল্লা-হুল্লাযীরাফা‘আছছামা-ওয়া-তি বিগাইরি ‘আমাদিন তারাওনাহা- ছু ম্মাছ তাওয়া ‘আলাল ‘আরশি ওয়া ছাখখারাশশামছা ওয়াল কামারা কুল্লুইঁ ইয়াজরী লিআজালিম মুছাম্মা- ইউদাব্বিরুল আমরা ইউফাসসিলুল আ-য়া-তি লা‘আল্লাকুম বিলিকাই রাব্বিকুম তূকিনূন।

আল্লাহ, যিনি উর্ধ্বদেশে স্থাপন করেছেন আকাশমন্ডলীকে স্তম্ভ ব্যতীত। তোমরা সেগুলো দেখ। অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কর্মে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকে নির্দিষ্ট সময় মোতাবেক আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন, নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাত সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।

কুর’আনের লেখক এখানে স্পষ্টত বলেছেন যে, আসমানের ভার বহন করে স্থির করে রাখার জন্য অন্য কোনো বস্তুর প্রয়োজন। যা আরও ভালোভাবে প্রমাণ করে যে, ইসলাম অনুযায়ী আসমান কঠিন পদার্থ দ্বারা নির্মিত।

সাত আসমানের প্রতিটি সম্পর্কে আরো তথ্য পাওয়া যায় মুহাম্মদের ‘শবে মেরাজের’ বর্ণনা থেকে যা বিভিন্ন সহিহ হাদিসে বিস্তারিত আলোচিত রয়েছে।

মুহাম্মদ দেখতে পান প্রতিটি আসমানই অসংখ্য ফেরেশতা এবং অন্যান্য নবী রয়েছেন। প্রত্যেক আসমানের মধ্যে একটি বিশাল দূরত্ব রয়েছে, প্রতিটি আসমানেই পাহাড়ায় ফেরেশতাসহ দরজা রয়েছে, প্রতিটা আসমানের একজন করে নবী রয়েছেন।

আকাশস্থ বস্তুসমূহ

সবচেয়ে নিচের আসমানে তারা, সূর্য (দৃশ্যত) ও চাঁদ অবস্থান করে। কুর’আনে বলা হয়েছে, তারাসমূহ প্রথম আসমানে অবস্থান করে।

সূরা আস-সাফফাত আয়াত ৬

إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ

ইন্না-ঝাইয়ান্নাছছামাআদ্দুনইয়া-বিঝীনাতিনিল কাওয়া-কিব।

নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি।

সূরা হামিম সাজদাহ/ফুসিলাত আয়াত ১২

فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَىٰ فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا ۚ وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ

ফাকাদা-হুন্না ছাব ‘আ ছামা-ওয়া-তিন ফী ইয়াওমাইনি ওয়া আওহা-ফী কুল্লি ছামাইন আমরাহা- ওয়া ঝাইয়ান্নাছ ছামাআদ্দুনইয়া-বিমাসা-বীহা ওয়া হিফজান যালিকা তাকদীরুল ‘আঝীঝিল ‘আলীম।

অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।

তারাও যে সূর্যের মতো বস্তু এবং তারাও যে সূর্যের মতো গতিশীল তা কুরআনের কোথাও আসেনি। আপনি যদি বলেন, কুরআনে সূর্যকে গতিশীল বুঝিয়েই সকল তারকাদের গতিশীল বুঝানো হয়েছে তাহলে আপনাকে কুরআন অথবা হাদিস থেকে দেখাতে হবে যে ইসলামিক কসমোলজি অনুযায়ী সূর্যও একটি তারকা।

সূর্য এবং চাঁদ

সূর্য এবং চাঁদ সংক্রান্ত বিষয়বস্তু কুর’আনে অস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূরা নূহ আয়াত ১৬

وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا

ওয়া জা‘আলাল কামারা ফীহিন্না নূরাওঁ ওয়া জা‘আলাশশামছা ছিরা-জা- ।

এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে।

সূর্য ও চাঁদ- এই দু’টি আলোর উৎস সলিড ঊর্ধ্বস্থ গম্বুজের (আসমান) বাঁকা দেওয়াল বরাবর যথাবিহিত পথ অনুসরণ করে।

সূরা আল-আম্বিয়া আয়াত ৩৩

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ

ওয়াহুয়াল্লাযী খালাকাল লাইলা-ওয়ান্নাহা-রা ওয়াশ শামছা ওয়াল কামারা কুল্লুন ফী ফালাকিইঁ ইয়াছবাহূন।

তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।

সূরা ইয়া সিন আয়াত ৪০

لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ ۚ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ

লাশশামছুইয়ামবাগী লাহাআন তুদরিকাল কামারা ওয়ালাল্লাইলুছা-বিকুন্নাহা-রি ওয়া কুল্লুন ফী ফালাকিইঁ ইয়াছবাহূন।

সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে।

এবং যখনই সূর্য এবং চাঁদ মানুষের চোখের বাহিরে চলে যায়, এদের গতি বন্ধ হয়ে যায়। তারা তাদের বিশেষ বিশ্রামের স্থানে বিশ্রাম করে।

সূরা ইয়া সিন আয়াত ৩৮

وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ

ওয়াশশামছুতাজরী লিমুছতাকাররিল লাহা- যা-লিকা তাকদীরুল ‘আঝীঝিল ‘আলীম।

সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ।

রাতে কোনো এক সময় আল্লাহর কাছে আবেদন করার মাধ্যমে (এখানে বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমরা হাদিস তুলে ধরবো) সূর্যকে আসমানে আবার ফিরে আসার বন্দোবস্ত করতে হয়।

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ কিতাবুল ঈমান (كتاب الإيمان)
হাদিস নম্বরঃ ২৯৬

৭১. যে সময়ে ঈমান কবুল হবে না

২৯৬। ইয়াহইয়া ইবনু আইউব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জানো, এ সূর্য কোথায় যায়? সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এ সূর্য চলতে থাকে এবং (আল্লাহ তা’আলার) আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও! অনন্তর সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল দিয়েই উদিত হয়। তা আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়লে হয়েই উদিত হয়।

সে আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল হয়েই সে উদিত হয়। এমনিভাবে চলতে থাকবে; মানুষ তার থেকে অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখবে না। শেষে একদিন সূর্য যথার্রীতি আরশের নিচে তার নিদৃষ্টস্থলে যাবে। তাকে বলা হবে, ওঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও। অনন্তর সেদিন সূর্য পশ্চিম গগনে উদিত হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন দিন সে অবস্থা হবে তোমরা জানো? সে দিন ঐ ব্যাক্তির ঈমান কোন কাজে আসবে না, যে ব্যাক্তি পুর্বে ঈমান আনে নাই কিংবা যে ব্যাক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করে নাই।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এই হাদিসটি কোরঅানে উল্লেখিত আয়াত ৩৬:৩৮ কে ব্যাখ্যা করে।

পুনরায় উদিত হওয়ার অনুমতি পেয়ে সূর্য সমতল পৃথিবীর ভূমির পাশ দিয়ে পূর্ব দিকের কাছাকাছি অবস্থান দিয়ে পরবর্তী দিনে উদিত হয়। যদিও উদিত হওয়ার স্থানে কোনো ‘পানির উৎস’ এর মতো ভূমির কোনোকিছুর নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই, কিন্তু প্রান্তবিন্দুতে অবস্থানকারী মানুষের উল্লেখ আছে।

সূরা আল-কাহফ আয়াত ৯০

حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ مَطْلِعَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَطْلُعُ عَلَىٰ قَوْمٍ لَمْ نَجْعَلْ لَهُمْ مِنْ دُونِهَا سِتْرًا

হাত্তাইযা-বালাগা মাতলি‘আশশামছি ওয়াজাদাহা-তাতলু‘উ ‘আলা-কাওমিল লাম নাজ‘আল লাহুম মিন দূনিহা-ছিতরা-।

অবশেষে তিনি যখন সূর্যের উদয়াচলে পৌছলেন, তখন তিনি তাকে এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হতে দেখলেন, যাদের জন্যে সূর্যতাপ থেকে আত্নরক্ষার কোন আড়াল আমি সৃষ্টি করিনি।

দিন এবং রাত

কুর’আনের লেখক সূর্যের আলোর জন্যই যে দিন-রাত ঘটে তা বুঝতে সক্ষম হননি, কুর’আন অনুসারে দিনের অনুপস্থিতিই রাত নয়। বরং দিন-রাত এই দু’টিই আল্লাহর সৃষ্টি এবং তারা নির্দিষ্ট ভারসাম্য বজায় রাখে, কুরআন অনুযায়ী দিন রাত হওয়ার সাথে সূর্যের আলো বা আলোর অনুপস্থিতির কোনো যোগসূত্র নেই।

সূরা আল-ইমরান আয়াত ২৭

تُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَتُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ ۖ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ ۖ وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ

তূলিজুল লাল্লাইলা ফিন্নাহা-রি ওয়াতূলিজুন্নাহা-রা ফিল্লাইলি ওয়াতুখরিজুল হাইইয়া মিনাল মাইয়িতি ওয়াতুখরিজুল মাইয়িতা মিনাল হাইয়ি ওয়াতারঝুকুমান তাশাউ বিগাইরি হিছা-ব।

তুমি রাতকে দিনের ভেতরে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দাও। আর তুমিই জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করে আন এবং মৃতকে জীবিতের ভেতর থেকে বের কর। আর তুমিই যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান কর।

সূরা আল-ইমরান আয়াত ১৯০

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ

ইন্না ফী খালকিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়াখতিলা-ফিল্লাইলি ওয়ান্নাহা-রি লাআ-য়াতিল লিঊলিল আলবা-ব।

নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধ সম্পন্ন লোকদের জন্যে।

সূরা আর-রাদ আয়াত ৩

وَهُوَ الَّذِي مَدَّ الْأَرْضَ وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنْهَارًا ۖ وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ جَعَلَ فِيهَا زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ ۖ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ

ওয়া হুওয়াল্লাযী মাদ্দাল আরদা ওয়া জা‘আলা ফীহা-রাওয়া-ছিয়া ওয়াআনহা-রাওঁ ওয়া মিন কুল্লিছছামারা-তি জা‘আলা ফীহা- ঝাওজাইনিছনাইনি ইউগশিল লাইলান্নাহা-র ইন্না ফী যা-লিকা লা আ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন।

তিনিই ভুমন্ডলকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে পাহাড় পর্বত ও নদ-নদী স্থাপন করেছেন এবং প্রত্যেক ফলের মধ্যে দু’দু প্রকার সৃষ্টি করে রেখেছেন। তিনি দিনকে রাত্রি দ্বারা আবৃত করেন। এতে তাদের জন্যে নিদর্শণ রয়েছে, যারা চিন্তা করে।

অর্থাৎ, দিন-রাত এরা উভয়ই সূর্য, চাঁদ এবং অন্যান্য আকাশস্থ বস্তুসমূহের প্রভাব থেকে মুক্ত স্বাধীন ঘটনা। কুর’আনের কোথাও সূর্যের জন্য এই দু’টি ঘটে তা বলা হয়নি।

সূরা আল-আরাফ আয়াত ৫৪

إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ ۗ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ۗ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ

ইন্না-রাব্বাকুমুল্লা-হুল্লাযী খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ফী ছিত্তাতি আইইয়া-মিন ছু ম্মাছ তাওয়া-‘আলাল ‘আরশি ইউগশিল লাইলান নাহা-রা ইয়াতলুবুহূহাছীছাওঁ ওয়াশশামছা ওয়াল কামারা ওয়ান নুজূমা মুছাখখারা-তিম বিআমরিহী আলা-লাহুল খালকুওয়াল আমরু তাবা-রাকাল্লা-হু রাব্বুল ‘আ-লামীন।

নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

সূরা ইবরাহীম আয়াত ৩৩

وَسَخَّرَ لَكُمُ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ دَائِبَيْنِ ۖ وَسَخَّرَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ

ওয়া ছাখখারা লকুমুশশামছা ওয়াল কামারা দাইবাইনি ওয়া ছাখখারা লাকুমুল লাইলা ওয়ান নাহা-র।

এবং তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন সূর্যকে এবং চন্দ্রকে সর্বদা এক নিয়মে এবং রাত্রি ও দিবাকে তোমাদের কাজে লাগিয়েছেন।

সূরা আল-আম্বিয়া আয়াত ৩৩

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ

ওয়াহুয়াল্লাযী খালাকাল লাইলা-ওয়ান্নাহা-রা ওয়াশ শামছা ওয়াল কামারা কুল্লুন ফী ফালাকিইঁ ইয়াছবাহূন।

তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।

সূরা আয-যুমার আয়াত ৫

خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ ۖ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ ۖ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى ۗ أَلَا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ

খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা বিল হাক্কি ইউকাওবিরুল্লাইলা ‘আলান্নাহা-রি ওয়া ইউকাওবিরুন্নাহা-রা ‘আলাল্লাইলি ওয়া ছাখ খারাশশামছা ওয়াল কামারা কুল্লুইঁ ইয়াজরী লিআজালিম মুছাম্মান আলা-হুওয়াল ‘আঝীঝুল গাফফা-র।

তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সুর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।

যদি সূর্যের দিন-রাতের উপর কোনো প্রভাবই না থাকে তাহলে এই দু’টি বৃহৎ আলোক উৎসের উদ্দেশ্য কী?

দেখা যায়, এই উৎস দু’টির মূল উদ্দেশ্য কুর’আন অনুসারে প্রাথমিকভাবে সময় এবং তারিখ নির্ধারণ করা।

সূরা আল-আনাম আয়াত ৯৬

فَالِقُ الْإِصْبَاحِ وَجَعَلَ اللَّيْلَ سَكَنًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ حُسْبَانًا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ

ফা-লিকুল ইসবা-হি ওয়া জ‘আলাল লাইলা ছাকানাওঁ ওয়াশশামছা ওয়াল কামারা হুছবা-নান যা-লিকা তাকদীরুল ‘আঝীঝুল ‘আলীম।

তিনি প্রভাত রশ্মির উন্মেষক। তিনি রাত্রিকে আরামদায়ক করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসেবের জন্য রেখেছেন। এটি পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানীর নির্ধারণ।

সূরা ইউনুস আয়াত ৫

هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ ۚ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذَٰلِكَ إِلَّا بِالْحَقِّ ۚ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

হুওয়াল্লাযী জা‘আলাশশামছা দিয়াআওঁ ওয়ালকামারা নূরাওঁ ওয়াকাদ্দারাহূমানা-ঝিলা লিতা‘লামূ‘আদাদাছ ছিনীনা ওয়ালহিছা-বা মা-খালাকাল্লা-হু যা-লিকা ইল্লাবিলহাক্কি ইউফাসসিলুল আ-য়া-তি লিকাওমিইঁ ইয়া‘লামূন।

তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মনযিল সমূহ, যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ এই সমস্ত কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি, কিন্তু যথার্থতার সাথে। তিনি প্রকাশ করেন লক্ষণসমূহ সে সমস্ত লোকের জন্য যাদের জ্ঞান আছে।

তারা, গ্রহ এবং উল্কাপিন্ড

কুর’আনের অনুবাদ থেকে পুরাপুরিভাবে বলা যায় না যে কুর’আনে তারা ও গ্রহকে আলাদা আলাদা বস্তু হিসেবে উল্লেখ্য করা হয়েছে। একই শব্দ দিয়ে দু’টিকেই বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। একই শব্দের অনুবাদ দু’টির যেকোনো একটির অর্থ প্রকাশ করে। কিন্তু প্রাচীন মানুষরা সাধারণভাবে জানতেন যে গ্রহসমূহ আর তারাসমূহ পরস্পর থেকে আলাদা যা তুলনামূলক যৌক্তিক অনুমান।

অন্যান্য প্রাচীন মানুষদের মতো কুর’আনের লেখকও উল্কাপিন্ডকে ‘পড়ন্ত তারা’ মনে করতেন। কুর’আনের মতে, উল্কাপিন্ড কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া পড়েনা। কুর’আনের ৬৭:৫ আয়াত থেকে জানা যায়, এরা জ্বিন এবং শয়তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে কাজ করে।

সূরা আল-মুলক আয়াত ৫

وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَجَعَلْنَاهَا رُجُومًا لِلشَّيَاطِينِ ۖ وَأَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابَ السَّعِيرِ

ওয়া লাকাদ ঝাইয়ান্নাছ ছামাআদ্দুনইয়া- বিমাসা-বীহা ওয়াজা‘আলনা- হা- রুজূমাল লিশশায়া-তীনি ওয়া আ‘তাদনা- লাহুম ‘আযা- বাছছা‘ঈর।

আমি সর্বনিম্ন আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুসজ্জত করেছি; সেগুলোকে শয়তানদের জন্যে ক্ষেপণাস্ত্রবৎ করেছি এবং প্রস্তুত করে রেখেছি তাদের জন্যে জলন্ত অগ্নির শাস্তি।

পরের আয়াতটি আসমানসমূহের প্রক্ষেপণ ধর্মের কথা নির্দেশ করে।

সূরা আল-জ্বিন আয়াত ৮

وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاءَ فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا

ওয়া আন্না-লামাছনাছছামাআ ফাওয়াজাদনা-হা- মুলিইয়াত হারাছান শাদীদাওঁ ওয়া শুহুবা-।

আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ।

পৃথিবী এবং এরমধ্যে দৃশ্যমান বিষয়াদি

কুর’আনের লেখক পৃথিবীর বস্তুসমূহের বর্ণনা দেওয়াকে আসমানসমূহের বর্ণনা দেওয়ার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন যেখানে পৃথিবীর বিষয়বস্তু সম্পর্কে লেখা অধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিলো যেহেতু মানুষ সেখানে বসবাস করে। কিন্তু যেসব বর্ণনা দেওয়া আছে তা আমাদেরকে সন্দেহাতীত উপসংহারে পৌছিয়ে দেয়।

প্রথমত, পৃথিবী সমতল। কুর’আনে একাধিকবার পৃথিবীর জমিন বা ভূমির ‘ছড়িয়ে পড়া’র কথা বলা হয়েছে যেভাবে আরবরা সমতল কার্পেট ছড়িয়ে পড়ার কথা বলতেন, অনুবাদকরা প্রায়ই এই শব্দের ব্যবহার করেন।

সূরা আল-হিজর আয়াত ১৯

وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنْبَتْنَا فِيهَا مِنْ كُلِّ شَيْءٍ مَوْزُونٍ

ওয়াল আরদা মাদাদনা-হা-ওয়া আলকাইনা-ফীহা-রাওয়া-ছিয়া ওয়া আমবাতনা-ফীহামিন কুল্লি শাইয়িম মাওঝূন।

আমি ভু-পৃষ্ঠকে বিস্তৃত করেছি এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি।

সূরা ত্বা হা আয়াত ৫৩

الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ مَهْدًا وَسَلَكَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِنْ نَبَاتٍ شَتَّىٰ

আল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা মাহদাওঁ ওয়া ছালাকা লাকুম ফীহা ছুবুলাওঁ ওয়া আনঝালা মিনাছছামাই মাআন ফাআখরাজনা-বিহীআঝওয়া-জাম মিন নাবা-তিন শাত্তা-।

তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে শয্যা করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।

সূরা আয-যুখরুফ আয়াত ১০

الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ مَهْدًا وَجَعَلَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ

আল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা মাহদাওঁ ওয়া জা‘আলা লাকুম ফীহা-ছুবুলাল লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন।

যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে তোমাদের জন্যে করেছেন পথ, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।

সূরা ক্বাফ আয়াত ৭

وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنْبَتْنَا فِيهَا مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ

ওয়াল আরদা মাদাদনা-হা-ওয়া আলকাইনা-ফীহা-রাওয়া-ছিয়া ওয়া আমবাতনা-ফীহামিন কুল্লি ঝাওজিম বাহীজ।

আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি, তাতে পর্বতমালার ভার স্থাপন করেছি এবং তাতে সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ উদগত করেছি।

সূরা আয-যারিয়াত আয়াত ৪৮

وَالْأَرْضَ فَرَشْنَاهَا فَنِعْمَ الْمَاهِدُونَ

ওয়াল আর দা ফারাশ-হা-ফানি‘মাল মা-হিদূন।

আমি ভূমিকে বিছিয়েছি। আমি কত সুন্দরভাবেই না বিছাতে সক্ষম।

একইভাবে এটাও বলা হয়েছে, পাহাড় পর্বতকে পৃথিবীর ওপর বোঝা হিসেবে রাখা হয়েছে যেন পৃথিবী হেলে না যায়।

সূরা আন-নাহল আয়াত ১৫

وَأَلْقَىٰ فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِكُمْ وَأَنْهَارًا وَسُبُلًا لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ

ওয়া আলকা-ফিল আরদি রাওয়া-ছিয়া আন তামীদাবিকুমওয়াআনহা-রাওঁ ওয়া ছুবুলাল লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন।

এবং তিনি পৃথিবীর উপর বোঝা রেখেছেন যে, কখনো যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে-দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরী করেছেন, যাতে তোমরা পথ প্রদর্শিত হও।

কুরআনে কি আসলেই পৃথিবীকে সমতল বুঝানো হয়েছে নাকি নাস্তিকরা জোর করে কুরআনের পৃথিবীকে সমতল বুঝাতে চায়? সেই প্রশ্নের উত্তর হাদিস থেকে পাওয়া যায়। একটি হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি যে, মুহাম্মদ বলেছেন, সন্ধ্যার পর সূর্য যখন আমাদের চোখের বাইরে চলে যায় তখন তা আসলে তার বিশেষ অবস্থানে গিয়ে আল্লাহর সিজদায় পড়ে যায় এবং সিজদারত অবস্থায় সেইভাবেই পড়ে থাকে। আবার, পরবর্তী দিনে উদয় হওয়ার আগে তাকে যখন বলা হয় ওঠ! এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও, তখন সে আবার ফিরে আসে।

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ কিতাবুল ঈমান (كتاب الإيمان)
হাদিস নম্বরঃ ২৯৬

৭১. যে সময়ে ঈমান কবুল হবে না

২৯৬। ইয়াহইয়া ইবনু আইউব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জানো, এ সূর্য কোথায় যায়? সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এ সূর্য চলতে থাকে এবং (আল্লাহ তা’আলার) আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও! অনন্তর সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল দিয়েই উদিত হয়। তা আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়লে হয়েই উদিত হয়।

সে আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল হয়েই সে উদিত হয়। এমনিভাবে চলতে থাকবে; মানুষ তার থেকে অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখবে না। শেষে একদিন সূর্য যথার্রীতি আরশের নিচে তার নিদৃষ্টস্থলে যাবে। তাকে বলা হবে, ওঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও। অনন্তর সেদিন সূর্য পশ্চিম গগনে উদিত হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন দিন সে অবস্থা হবে তোমরা জানো? সে দিন ঐ ব্যাক্তির ঈমান কোন কাজে আসবে না, যে ব্যাক্তি পুর্বে ঈমান আনে নাই কিংবা যে ব্যাক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করে নাই।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

হাদিসটি থেকে আমরা জানতে পারছি, সূর্য সন্ধ্যার পর তার বিশেষ অবস্থানে পৌঁছে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে এবং আল্লাহ তাকে উঠতে বললে সে আবার তার সেই বিশেষ অবস্থান থেকে চলতে থাকে। যা স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশ করছে যে, সূর্য পৃথিবীর চারদিকে গতিশীল। কেননা সেই হাদিস অনুযায়ী, সূর্যের গতিশীলতা দিনের সাথে সাথে চলছে এবং দিনের সমাপ্তি ঘটলে সূর্যের চলার পথের সমাপ্তি ঘটছে। খেয়াল করুন, আলোচ্য হাদিসে সূর্যকে বিশেষভাবে আদেশ করা হয়েছে তার বিশেষ অবস্থান থেকে ওঠে পড়ার জন্য এবং পুনরায় চলতে থাকার জন্য – যাকে আমরা পৃথিবীর আহ্নিক গতি বলে দাবি করতে পারি না। আলোচ্য হাদিস থেকে আমরা আরও দেখতে পাচ্ছি, সূর্য নামক আলোর উৎসটি সন্ধ্যার পর বিশেষভাবে সিজদায় পড়ে যাচ্ছে – যাকে আমরা পৃথিবীর আহ্নিক গতি বলে দাবি করতে পারি না। সুতরাং, ইসলামের নবী জানতেন না যে, সন্ধ্যার পর যখন সূর্য দেখা যায়না তখন সূর্যের গতি বন্ধ হয়না বরং দিন থাকা অবস্থায় সূর্য যেমন দৃশ্যমান থাকে এবং মনে হয় চলতে চলতে কোথাও যায় তেমনি রাত থাকা অবস্থায়ও সূর্য একইভাবে পৃথিবীর অন্য ভূখন্ড থেকে দৃশ্যমান থাকে এবং সেই ভূখন্ডের ওপর দিয়ে চলতে চলতে যায় মনে হয়। কারণ ইসলামের নবীর ধারনা মতে পৃথিবী ছিল সমতল। উপরের আলোচনা থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে তিনি মনে করতেন, সমতল পৃথিবীর উপর পৃষ্ঠে মানুষ বাস করে এবং অপর পৃষ্ঠে কোনো মানুষ বাস করেনা আর যখন দিন হয় তখন পুরো পৃথিবীতে একই সাথে হয় এবং যখন সূর্য দেখা যায় তখন পুরো পৃথিবীতে একই সাথে দেখা যায়।

ইসলামিক কসমোলজির আরেকটা অস্পষ্ট বিষয় এটা যে, কুর’আন সাতটি আসমানের মতো সাতটি পৃথিবীর বা জমিনের ইংগিত দেয়।

সূরা আত-ত্বালাক আয়াত ১২

اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا

আল্লা-হুল্লাযী খালাকা ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তিওঁ ওয়া মিনাল আরদিমিছলাহুন্না ইয়াতানাঝঝালুল আমরু বাইনাহুন্না লিতা‘লামূআন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীরুওঁ ওয়া আন্নাল্লা-হা কাদ আহা-তা বিকুল্লি শাইয়িন ‘ইল মা-।

আল্লাহ সপ্তাকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও সেই পরিমাণে, এসবের মধ্যে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং সবকিছু তাঁর গোচরীভূত।

জান্নাত এবং জাহান্নাম কোথায় অবস্থিত?

ইসলামিক কসমোলজিতে জান্নাত ও জাহান্নামের অবস্থানের কথা দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, জান্নাত ও জাহান্নাম পৃথিবী ও আসমানের সাথে কসমসের মধ্যেই আছে। মুহম্মদের শবে মেরাজের বর্ণনা থেকে দেখা যায়, সাতটি আসমানে সাতজন মৃত নবী বা রাসুল অবস্থান করছেন। এটি বেহেশত নিয়ে কোরঅানের বর্ণনার সাথে সংগতিপূর্ণ।

সূরা আল-ইমরান আয়াত ১৩৩

وَسَارِعُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ

ওয়া ছা-রি‘ঊইলা-মাগফিরাতিম মির রাব্বিকুম ওয়া জান্নাতিন ‘আরদুহাছছামা-ওয়া-তু ওয়াল আরদুউ‘ইদ্দাত লিলমুত্তাকীন।

তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও যমীন, যা তৈরী করা হয়েছে পরহেযগারদের জন্য।

সূরা আল-হাদিদ আয়াত ২১

سَابِقُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ۚ ذَٰلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ

ছা-বিকূইলা-মাগফিরাতিম মির রাব্বিকুম ওয়া জান্নাতিন ‘আরদুহা-কা‘আরদিছ ছামাই ওয়াল আরদি উ‘ইদ্দাত লিল্লাযীনা আ-মানূবিল্লা-হি ওয়া রুছুলিহী যা-লিকা ফাদলুল্লা-হি ইউ’তীহি মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু যুল ফাদলিল ‘আজীম।

তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী।

যেহেতু জান্নাত প্রথম আসমানের অপর প্রান্তে অবস্থিত সেহেতু ইসলামিক কসমোলজি অনুযায়ী, জাহান্নাম অবশ্যই জমিনের নিচে অবস্থান করে। এই ধারণাও জাহান্নামের বদ্ধ জায়গা হওয়ার বিষয়কে নির্দেশ করে।

সূরা আল-আরাফ আয়াত ৪১

لَهُمْ مِنْ جَهَنَّمَ مِهَادٌ وَمِنْ فَوْقِهِمْ غَوَاشٍ ۚ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ

লাহুম মিন জাহান্নামা মিহা-দুওঁ ওয়া মিন ফাওকিহিম গাওয়া-শিওঁ ওয়া কাযা-লিকা নাজঝিজ্জা-লিমীন।

তাদের জন্যে নরকাগ্নির শয্যা রয়েছে এবং উপর থেকে চাদর। আমি এমনিভাবে জালেমদেরকে শাস্তি প্রদান করি।

সূরা আত-তাওবাহ আয়াত ৪৯

وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ ائْذَنْ لِي وَلَا تَفْتِنِّي ۚ أَلَا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا ۗ وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيطَةٌ بِالْكَافِرِينَ

ওয়া মিনহুম মাইঁ ইয়াকূলু’যাললী ওয়ালা-তাফতিন্নী আলা-ফিল ফিতনাতি ছাকাতূ ওয়া ইন্না জাহান্নামা লামুহীতাতুম বিলকা-ফিরীন।

আর তাদের কেউ বলে, আমাকে অব্যাহতি দিন এবং পথভ্রষ্ট করবেন না। শোনে রাখ, তারা তো পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট এবং নিঃসন্দেহে জাহান্নাম এই কাফেরদের পরিবেষ্টন করে রয়েছে।

তাছাড়াও, জাহান্নামের অবস্থান সম্পর্কে একটি ইংগিত পাওয়া যায় সেই দুটি আয়াত থেকে যেখানে একজনকে জাহান্নামের একজন অধিবাসীকে দেখতে নিচের দিকে তাকাতে বলা হয়েছে।

সূরা আস-সাফফাত আয়াত ৫৪

قَالَ هَلْ أَنْتُمْ مُطَّلِعُونَ

কা-লা হাল আনতুম মুত্তালি‘ঊন।

আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি তাকে উকি দিয়ে দেখতে চাও?

সূরা আস-সাফফাত আয়াত ৫৫

فَاطَّلَعَ فَرَآهُ فِي سَوَاءِ الْجَحِيمِ

ফাত্তালা‘আ ফারাআ-হু ফী ছাওয়াইল জাহীম।

অপর সে উকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে জাহান্নামের মাঝখানে দেখতে পাবে।

তো, ইসলামে আলোচিত সৃষ্টিতত্ত্ব সংক্রান্ত বিষয়বস্তুর আলোচনার ইতি এখানেই।

উপসংহার

কুর’আন কোনো বৈজ্ঞানিক বই নয়। কুরআনের কসমসের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

কুর’আনে কোথাও এভাবে বলা হয়নি ‘মহাবিশ্বে গঠন এরকম’ অথচ কসমোলজিতে বোধগম্য এবং দৃঢ় ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এটা আশ্চর্যের বিষয় না যে ,কুর’আনে আলোচিত কসমোলজি মহাবিশ্বের সঠিক ব্যাখ্যার বদলে সপ্তম শতাব্দির আরবীয় পৌরাণিক কসমসের ধারনা দেয়। কুর’আনের আলোচনা অনুসারে মহাবিশ্ব খুবই ছোট এবং শুধুই পৃথিবী এবং চারপাশের বিষয়বস্তু নিয়ে গঠিত। সেখানে কোনো গ্যালাক্সি, সৌরজগৎ,সৌরজগৎ বহির্ভূত খালি স্থান- এসব কোনোকিছুর কথাই নেই।

© Tasfia Tanjim Ahmed Proma

Facebook Comments

2 thoughts on “ইসলামিক কসমস

  • November 18, 2018 at 1:16 pm
    Permalink

    hahahaha valo lekha’khotka aro bariye dili

    Reply
  • November 18, 2018 at 2:48 pm
    Permalink

    😖এই গোঁজামিল ওয়ালা বই কোনো ধর্মের বই হতে পারে না😒এটা শুধু ধান্ধাবাজি করে সরল মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করার ভাওতাবাজির বই👿

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: