সতীর খোঁজে-হিন্দু শাস্ত্রে সতীদাহ-২য় পর্ব

প্রথম পর্বের পর… 

অন্য জাতিতে সতীদাহ

ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে ,হিন্দু ছাড়াও অনেক জাতির সতীদাহের অনুরূপ প্রথা ছিল।

হেরোডোটাস বলেন, Scythian রা রাজার কবরে রাজার রাঁধুনি প্রভৃতি সেবক সহ একজন রক্ষিতাকে কবর দিত। এডওয়ার্ড থম্পসন বলেন, সতীপ্রথার সাথে এর মিল যৎসামান্যই। সতীদাহ এবং থ্রাসিয়ানদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মধ্যে মিল দেখা যায়। হেরোডোটাস উল্লেখ করছেন-

“তাদের মধ্যে প্রত্যেক পুরুষের অনেক পত্নী আছে। একজন পুরুষের মৃত্যু হতে না হতেই কে সেই স্বামীকে সবচাইতে বেশি ভালোবাসে তা নিয়ে তার স্ত্রীদের মধ্যে প্রতিযোগীতা শুরু হয় । প্রত্যেকের স্ত্রীর বন্ধুরা তাদের পক্ষে সমর্থন জানায়, এবং যে  (স্বামীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার) সম্মান পায়, নারী-পুরুষদের কাছ থেকে সেই সম্মান পাওয়ার পরে তাকে তার স্বামীর কবরের উপর হত্যা করে , স্বামীর সাথে একসাথে কবর দেওয়া হয়।“

Grimm বলেন, স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের মধ্যেও সতীদাহের প্রথা ছিল। Balder এর উপকথায় Nanna তার চিতায় আরোহণ করেন। Volsunga র কাহিনীর Norse ভার্সানে Brunhild সতী হয়েছিলেন। স্লাভদের মধ্যেও এই রীতি ছিল এবং “স্বামীর লাশের সাথে বিধবাকে পুড়িয়ে মারা ইন্দো-জার্মানীয় রীতি ছিল। পরকালের জীবন ইহকালের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি- এই বিশ্বাস এর পিছনে কাজ করতো।“গ্রীক কিংবদন্তীতে Capaneus এর স্ত্রী Evadne কে তার স্বামীর সাথে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। মিশরের রাজা  Amen Hetep II এর চার স্ত্রীকে হত্যা করে তার সাথে রাখা হয়েছিল। Tongan, Fijian,Maori এবং অনেক আফ্রিকান গোষ্ঠীদের মধ্যে বিধবাকে বলি দেওয়ার রীতি ছিল। চিনে বিধবার পুনর্বিবাহকে অপবিত্র বলে মনে করা হত। অন্যদিকে, যে স্ত্রীরা স্বামীরা মৃত্যুতে আত্মহত্যা করতো তাদের সম্মানে প্রবেশপথ করা হত। [৩৮]

সাহিত্যে সতীদাহ

ধর্ম গ্রন্থ ছাড়াও অনেক সাহিত্যে সতীদাহের উদাহরণ দেখা যায়।

বালি দ্বীপে প্রচলিত মহাভারতে উত্তরাকে তার স্বামী অভিমন্যুর সাথে সহমৃতা হতে দেখানো হয়েছে। [৩৯] বাৎস্যায়ন, ভাষ (vasa), কালিদাস, শূদ্রক সহমরণ সম্বন্ধে জানতেন। বাৎস্যায়ন বলেন,মৃত্যুর পরে প্রেমিকের চিতায় আত্মাহুতি দেবে বলে, চালাক নৃত্যরত মেয়েরা তাদের প্রেমিকের মনে জায়গা করে নেয়। ভাষ এর দূতঘটোৎকচ এবং ঊরুভঙ্গ তে মহাভারতের কাহিনী থেকে ভিন্ন কাহিনী লক্ষ্য করা যায়। এতে উত্তরা অভিমন্যুর চিতায়, দুঃশলা জয়দ্রথের চিতায় এবং পুরবী দুর্যোধনের চিতায় আত্মাহুতি দেন। [৩৯] কুমারসম্ভব কাব্যে রতি তার স্বামীর মৃত্যুতে নিজেকে পুড়িয়ে মারতে উদ্যত হয়েছিলেন। মৃচ্ছকটিকে চারুদত্তের স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুদণ্ডের কথা শুনে নিজেকে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন। হর্ষচরিতে হর্ষের পিতা প্রভাকরবর্ধন যখন মারা যাচ্ছিলেন, হর্ষের মাতা যশোমতি আগুনে ঝাপ দিয়েছিলেন। হর্ষচরিতে আরেকজায়গায় রাতের বিবরণ দিতে গিয়ে বলা হচ্ছে, চাঁদ-পদ্মের সৌন্দর্য কানে দুল, গলায় মালা পরিহিত অনুমরণের আকাঙ্ক্ষাকারী নারীর হাসির মতন। [ ৪০]

ইতিহাসে সতীদাহ

৩১৬ খ্রি.পূ. এ হিন্দু জেনারেল keteus এর স্ত্রী সহমৃতা হয়েছিলেন। গ্রীক লেখকদের থেকে জানা যায়, তাকে তার ভাই চিতা অবধি পৌঁছে দিয়েছিল। কয়েকজন গ্রীক লেখকের মতে, পাঞ্জাবের kathian দের মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত ছিল। [৩৯] গ্রীক ঐতিহাসিক ডিওডোরাস লিখেছেন খ্রি.পূ. ৩০০ সালে ইউমেনিসের সেনাবাহিনীর মধ্যে সতীদাহ ঘটেছিল। আরিস্টোকিউলাস তক্ষশিলার বিধবাদের সহমরণের কথা বলে গিয়েছেন। সিসিরো তার ‘টাসকিউলিয়াস ডিসপিউটস’ গ্রন্থে এবং খ্রি. পূ. ৬৬ অব্দে প্লুটার্ক ভারতীয় রমণীদের সহমরণের কাহিনীর উল্লেখ করেছেন। [৩৭] ৫১০ খ্রিষ্টাব্দে গোপরাজার স্ত্রী সহমৃতা হয়েছিলেন। ৬০৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজা হর্ষের মাতা সহমৃতা হয়েছিলেন। ৭০০-১১০০ সালের মধ্যে উত্তরভারতে সতীপ্রথা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। জয়মতির (jayamati) মতো (তথাকথিত) অসতী রানীও রাজা উচ্ছলের চিতায় সহমৃতা হন দেখে কাশ্মীরের ইতিহাসবিদ কহ্লন অবাক হয়ে যান । কাশ্মীরে শুধুমাত্র রাজার স্ত্রীরা সহমৃতা হননি রাজার রক্ষিতারাও প্রায়ই সহমৃতা হতেন। রাজা কলস (kalasa) এবং উৎকর্ষ (utkarsha) এর স্ত্রী ও রক্ষিতারা তার সাথে সহমৃতা হয়েছিলেন। নেপালি রানী রাজ্যবতী সহমৃতা হয়েছিলেন। সঙ্গমের যুগে Bhuta Pandeya এর রানী সহমৃতা হয়েছিলেন। যদিও তার ঐতিহাসিকতা সম্বন্ধে আলতেকর সংশয় প্রকাশ করেন।  [৩৯]

শিবাজির একজন স্ত্রী ও শিবাজির পুত্রের একজন স্ত্রী সহমৃতা হয়েছিলেন। রাজা শাহুর রাণীকে রাজনৈতিক কারণে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। [৩৮]  ১৭২৪ সালে যখন মারোয়ারের রাজা অজিতেশ মারা যান, ৬৪ জন নারী তার চিতায় আরোহণ করেন। বুন্দির রাজা বুধসিং ডুবে মারা গেলে, ৮৪ জন মহিলা সতী হন। ১৬১১ এবং ১৬২০ সালে যখন মাদুরার নায়েক পরিবারের দুজন শাসক মারা যান তখন ক্রমান্বয়ে ৪০০ এবং ৭০০ জন মহিলা তাদের চিতায় আরোহণ করেন। মিশনারীরা এই সংখ্যাগুলো বাড়িয়ে বলে থাকতে পারে, তারপরেও এটা পরিষ্কার যে নায়েক পরিবারের কোনো পুরুষের মৃত্যু হলে অনেক সংখ্যায় মহিলারা সতী হতেন। মহারাজা রণজিৎ সিং মারা গেলে তার চারজন রাণী ও সাতজন রক্ষিতা তার চিতায় আরোহণ করেন। মহারাজা খড়গ সিং এর সাথে তিনজন নারী,বসন্ত সিং এর সাথে পাঁচ জন নারী, কিশোরী সিং এর সাথে এগারো জন নারী ,হিরা সিং এর সাথে চব্বিশ জন নারী এবং সুচেত সিং এর সাথে ৩১০ জন নারী সহমৃতা হয়েছিলেন। [৩৯] ৯৭৯ শকাব্দে রাজেন্দ্রচোলের সময়কালে স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে ডেকাব্বা নামে একজন শূদ্র মহিলা নিজেকে পুড়িয়ে মেরেছিলেন। অসংখ্য শিলালেখ থেকে সতীদাহের ঘটনার কথা জানা যায়। [৪০]

সতীদাহ ঐচ্ছিক নাকি বলপূর্বক?

সতীদাহ কি ঐচ্ছিক ছিল,নাকি বলপূর্বক হত? এই প্রশ্নের জবাবে আলতেকর বলেন, এর উত্তর সোজাসুজি দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলছেন,

“ইবনে বতুতা আমাদের বলেন, নির্ভীক বিধবার সুখী মনে অগ্নিপ্রবেশ দেখে তিনি বিব্রত হয়ে পড়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী Bernier বলেন-

নারীটির চেহারায় ফুটে ওঠা নিষ্ঠুর সাহস,হিংস্র উল্লাস বর্ণনার অতীত।  তার পদক্ষেপ ভয়হীন।তার কথায় কোনো ব্যাকুলতা নেই, তার সহজ বায়ু সকল বিষাদ মুক্ত ,তার দৃঢ় সাহস সকল বিহ্বলতা মুক্ত।সে নিজের হাতে মশাল নিয়ে চিতায় আগুন ধরিয়েছিল।

মুস্তাকি একটি ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন। এক প্রেমিক তার  বাগদত্তা প্রেমিকাকে সাপের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল। প্রেমিকাটি স্বেচ্ছায় তার প্রেমিকের চিতায় সহমৃতা হয়েছিল।“

বলপ্রয়োগে সহমরণ সম্বন্ধে আলতেকর বলেন,

“কাশ্মীরের দুজন রানী তাদের মন্ত্রীদের ঘুষ দিয়েছিল মৃত স্বামীর আপাত দৃশ্যমান   সহগমণ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য, কহ্লন এ কথা লিপিবদ্ধ করেন। এই পদ্ধতিতে রানী Didda মন্ত্রীদের দ্বারা রক্ষা পেয়েছিলেন সহমরণ থেকে। গর্গ নামের নিষ্ঠুর এক মন্ত্রী ঘুষ নিলেও শ্মশানে পৌঁছাতে দেরী করে। এর ফলে রানী তথাকথিত ঐচ্ছিক সহমরণের মাধ্যমে মারা যান। মধ্যযুগের অনেক ভ্রমণকারীরা বলপূর্বক সতীদাহের কথা লিপিবদ্ধ করেন, অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বিবরণ সত্য হয়ে থাকবে। Manucci আমাদের বলেন ক্ষত্রিয় নারীদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পোড়ানো হত, তিনি এরকম একজন নারীকে উদ্ধার  করেছিলেন এবং তার এক ইউরোপীয় বন্ধুর সাথে তার বিবাহ দিয়েছিলেন। Nicoli Conti আমাদের জানান ,বিধবাদের উপর প্রায়শই আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা  হত, তাদের বলা হত, বেঁচে থাকলে তারা তাদের স্ত্রীধন হারাবে। লাহোরে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ১২ বছরের এক শিশু বিধবাকে পুড়িয়ে মারার দুঃখজনক ঘটনা  Bernier বর্ণনা করেছেন। আকবরের কর্মচারী জয়মলের স্ত্রীকে তার ছেলে বলপূর্বক পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল।আকবরের হস্তক্ষেপে তাঁকে রক্ষা করা হয়েছিল। অনেক সময় অভাগা নারীদের সহমৃতা হতে বাধ্য করা হলে, তারা পালিয়ে যেত। তখন তাদের অচ্ছুত হিসাবে গণ্য করা হত। পরিবার ও জাতি তাদের আর গ্রহণ করতো না। কখনো নিম্নবর্ণের পুরুষদের দয়ায় তারা বেঁচে থাকতো। কখনোবা ইউরোপিয়ান বনিকেরা তাদের উদ্ধার করে বিয়ে করতো।“ [৩৯]

ম্যাসি নামক এক ইংরেজ সতীদাহের এক ঘটনা বর্ণনা করেন। ১৮৩৯ সালে এক ব্রাহ্মণী প্রথমে মৃত স্বামীর চিতায় আরোহণ করেন, কিন্তু যখন চিতার অগুন জ্বলে ওঠে তখন নেমে আসেন। পরে সেই বিধবাকে জোর করে চিতায় নিক্ষেপ করা হয়। আগুন ভয়ানক ভাবে জ্বলতে থাকায় কেউই বাঁশ দিয়ে তাকে চেপে ধরতে পারেনা। তখন বড় বড় কাঠের টুকরো নিক্ষেপ করে ওই নারীকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয় কিন্তু এইবারও সে চিতা থেকে নদীতে ঝাপ দেয়। তার আত্মীয়েরা তখন তাকে জলে ডুবিয়ে মারার চেষ্টা করে । একজন ইংরেজ তাকে তার আত্মীয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। কিন্তু বিধবাটি এমনভাবে পুড়ে গিয়েছিল যে তার মৃত্যু হয়। [৩৭]

রামমোহনের জীবনীকার অনিলচন্দ্র ঘোষ রামমোহনের সময়কালে বাংলায় সতীদাহের চিত্র বর্ণনা করেন-

“পতির সহিত সহমৃতা হওয়া এদেশে অতি প্রাচীনকাল হইতেই নাকি প্রচলিত ছিল । ধর্ম ও পুণ্যের নামে লোকে কতদূর নির্মম ও নিষ্ঠুর কাজ করিতে পারে তাহার একটি নিদর্শন সতীদাহ। রামমোহনের সমকালে ইহাতে নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতা চরমে পৌঁছিয়াছিল। ভাগীরথির দুই তীর আলোকিত করিয়া জ্বলন্ত চিতানলে নারীগণ ভস্মীভূত হইত, তাহাদের করুণ আর্তনাদে বাংলার আকাশ বাতাস কাঁদিয়া উঠিত, বাঙ্গালীর প্রাণে তাহা সাড়া জাগাইত না। সে বীভৎস দৃশ্যের কথা ভাবিতে পারি না। চিতা সজ্জিত হইয়াছে। মৃত স্বামীর সহিত হতভাগা বিধবাকে বাঁধিয়া দেওয়া হইয়াছে।  ইহার পূর্বক্ষণেই হয়ত হতভাগিনীকে ভাঙ, চরস, ধুতুরা খাওয়াইয়া অর্ধোন্মত্ত  করা হইয়াছে। এইরূপ জ্ঞানশূণ্য অবস্থায় উহাকে চিতায় বাঁধিয়া দিয়াছে। দাউ দাউ করিয়া আগুন জ্বলিয়া উঠিল। চারিদিকে ঢাকঢোল, কাঁসর , ঘন্টা তুমুল হট্টগোল সৃষ্টি করিল। যমদূতের মত জোয়ান দুই ব্যক্তি প্রকাণ্ড কাঁচা বাঁশ চিতার উপর চাপিয়া ধরিয়াছে- সতী যাহাতে ছুটিয়া পালাইতে না পারে। হঠাৎ তুমুল কোলাহল দেখা গেল, সতী চিতায় নাই। চিতার অসহ্য অগ্নি উত্তাপ সহিতে না পারিয়া হতভাগিনী অর্ধদগ্ধ শরীরে জঙ্গলে পলায়ন করিয়াছে বা গঙ্গায় ঝাপ দিয়াছে। অমনি চারদিকে লোক ছুটিল। হায় হায়! হিন্দু ধর্ম রসাতলে গেল, কুলে কলঙ্ক পড়িল, শাস্ত্র অশুচি হইল! গভীর জঙ্গল হইতে সেই ভীত ও মৃতকল্প রমণীকে আবার জোর করিয়া চিতায় তুলিয়া দিল। ঢাক-ঢোল জোরে বাজিয়া উঠিল। হতভাগিনীর শত অনুরোধ উপরোধ ব্যর্থ হইল- চোখের জলে বুক ভাসিয়া গেল- কাহারও পাষাণ হৃদয় টলিল না। তুমুল হরিধ্বনিতে নারীর আর্তনাদ ডুবিয়া গেল- সহস্রশীর্ষ হুতাশন লেলিহান জিহ্বা মেলিয়া সব শেষ করিয়া দিল। যে বা গঙ্গায় ঝাপ দিয়াছিল , লগুর ও বৈঠার আঘাতে তাহার গঙ্গা প্রাপ্তি ঘটিল। হিন্দু ধর্ম রক্ষা পাইল –হিন্দু সমাজ অটুট রহিল। হায় রে ধর্ম! হায়রে সমাজ!”[ ৪১]

রামমোহনের আগেও

রামমোহনের সময়কালের আগেও অনেকে সতীদাহের বিরোধিতা করেছিলেন। মেধাতিথি সহমরণের বিরোধীতা করেছিলেন। বিরাট সহমরণের নিষেধ করেন। দ্বাদশ শতাব্দীর একজন লেখক Devanabhatta বলেন, সতী প্রথা খুবই নিম্ন প্রকারের ধর্ম এবং তিনি এর অনুমোদন করেননি। কবি বাণ (৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ) বলেন,” প্রিয়জনের মৃত্যুতে মরে যাওয়া হল সবচাইতে অকার্যকর কর্ম। এটা বিভ্রমের মধ্যে করা একপ্রকারের ভুল। এটি ত্বরার মধ্যে করা বেপরোয়া কর্ম। এটা একটা মারাত্মক ভুল। এতে মৃত ব্যক্তির কোনো ভালোই হয় না। এটা মৃত স্বামীকে স্বর্গে পৌঁছাতে, নরক হতে পরিত্রাণ লাভ করতে সাহায্য করে না। মৃত্যুর পর দুজনের মিলনের নিশ্চয়তা এই কাজ দেয় না। মৃত ব্যক্তি তার কৃত কর্মের ফল অনুসারে নির্ধারিত লোকে যায়। যে মৃত ব্যক্তির চিতায় আত্মাহুতি দিয়ে সহমৃতা হয় সে আত্মহত্যার পাপে পাপী হয়ে নরকে যায়।…” তন্ত্রের রচয়িতারাও সতীদাহের বিরোধীতা করেছিলেন। তারা বললেন, নারী হলেন সর্বোচ্চ দেবীর রূপ। তারা দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা করলেন, মৃত ব্যক্তির সাথে যে সহমৃতা হয়, সে নরকে যায়।

মুসলমান শাসকেরা সতীদাহ প্রথাকে পছন্দ করেন নি। হুমায়ুন সন্তান জন্ম দেওয়ার বয়স পার করা বিধবা মহিলাদের ক্ষেত্রে সতীদাহে নিষেধাজ্ঞা জারী করতে চেয়েছিলেন। যাইহোক, তিনি এ বিষয়ে তেমন যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেন নি। আকবর সহমরণের ক্ষেত্রে যাতে জোর না করা হয় এই বিষয়ে  পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ আগ্রার সন্নিহিত অঞ্চলে সতীদাহ বিরল হয়ে পড়েছিল। [ ৩৯]

সতীদাহ রদ

সতীদাহের মত কুপ্রথার দিকে ইংরেজদের দৃষ্টি আকর্ষিত হলেও তারা দেশীয় লোকের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাইতো না, পাছে বিদ্রোহ হয়। ১৭৯০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণওয়ালিশ ভারতবর্ষের ইংরেজ কর্মচারীদের প্রতি আদেশ দেন- যখনই তাদের নিজ নিজ  অধীনস্ত স্থানে কোনো সতীদাহের উদ্যোগ হবে , তখনই তারা এ বিষয়ে তাদের অমত প্রকাশ করবে কিন্তু বিরুদ্ধ পদক্ষেপ নিয়ে তাদের কাজে বাধা জন্মাবে না। ১৭৯১ সালে ওয়েলেসলি গভর্নর হয়ে ভারতে আসেন। কোনো আইন না করেই সতীদাহ প্রথাকে সাধারণ নরহত্যার পর্যায়ভুক্ত করে সরাসরি বন্ধ করে দিতে চান। এজন্য সর্বোচ্চ নিজামত আদালতের জজদের মতামত জিজ্ঞাসা করেন। জজেরা তার সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলেন- যে নারীর সতীদাহ হবে সে নিজ ইচ্ছায় সহমরণে যাচ্ছে, নাকি তাঁকে কোনো মাদক সেবন করিয়ে সহমরণে তার সম্মতি আদায় করা হচ্ছে, এই বিষয়ে যেন কম্পানি সতর্ক দৃষ্টি রাখে, তাহলে এমনিতেই সতীদাহ বন্ধ হয়ে যাবে; সরাসরি এই প্রথা বন্ধ করলে ব্রিটিশ রাজের অনেক রাজনৈতিক অসুবিধা হবে। ১৮১৩ সালে লর্ড মিন্টো ভারত ত্যাগের পূর্বে নিজামত আদালতের বিচারকদের সম্মতি অনুসারে এক সার্কুলার বিধিবদ্ধ করেন। এই সার্কুলারে বলা হয়, যারা সতীদাহের আবেদন জানাবে তাদেরই যেন সতীদাহের অনুমতি দেওয়া হয়, অন্যদের যেন সতীদাহের অনুমতি প্রদান করা না হয়। পুলিশকে আদেশ দেওয়া হয় লক্ষ্য রাখতে, যে নারী সহমরণে যাচ্ছে সে কি স্বেচ্ছায় সহমরণে যাচ্ছে ,নাকি তাঁকে কোনো মাদক দ্রব্য খাইয়ে সম্মত করা হচ্ছে। এছাড়া লক্ষ্য রাখতে বলা হয় , মেয়েটি ১৬ বছর অতিক্রম করেছে কিনা বা গর্ভবতী কিনা। এই আইন প্রচলিত হলেও সেভাবে কার্যকরী হয়নি। এমনকি এর পরে সতীদাহের সংখ্যা আরো বেড়ে যায়। এরপর গভর্নর হেস্টিংস পদক্ষেপ নেন। যুগীজাতিয় বিধবাদের সতীদাহ হিন্দু শাস্ত্র সম্মত নয় দেখিয়ে আইন দ্বারা  তা বন্ধ করা হয়।যুগী বাদে বাকিদের মধ্যে সহমরণের প্রথা চলতে থাকে। ১৮১৯ সালে কিছু শিক্ষিত হিন্দু সহমরণের প্রথা বাতিল করার জন্য চিঠি পাঠান। বলাবাহুল্য, অল্পসংখ্যক শিক্ষিত লোকের কথায় তখন লাভ হয়নি।এদিকে গভর্নর হেস্টিংস ভারত ত্যাগ করার পরেও বিলেতে গিয়ে সতীদাহ প্রথার প্রতি ইংরেজ জাতির মনোযোগ আকর্ষণ করেন। ১৮২৩ সালে বেডফোরড শহরে এ বিষয়ে এক সভার আয়োজন হয়। পরে ১৮২৫ সালে এডিনবরার কাছে ক্রেল নামক স্থানে একটি

200px-Bentinck_william
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক

বড় সভা হয় এবং ১৮২৭ সালে ইংল্যাণ্ডের অনেক স্থানে এ বিষয়ে সভা হয়। এরপরে লর্ড আর্মহার্স্ট বিশেষ সার্কুলার জারি করে সহমরণে ইচ্ছুক বিধবার ছেলেদের ভরণপোষণের ভার নিকটাত্মীয়েরা নিতে আগ্রহী না হলে, সেক্ষেত্রে সহমরণ নিষিদ্ধ করে দেন। ১৮২৮ সালে বেন্টিংক গভর্নর জেনারেল হয়ে ভারতে আসেন। সহমরণ নিষিদ্ধ করার জন্য তিনি প্রস্তুতি নিতে থাকেন। এ সময় রামমোহন দ্বারকানাথের মত শিক্ষিত লোকেরা সতীদাহ বিরোধী তুমুল আন্দোলন শুরু করেন। রক্ষনশীল হিন্দু সম্প্রদায়ও সতীদাহের পক্ষ নিয়ে গর্জে ওঠে। এরপর ১৮২৯ সালে বেন্টিংক কর্তৃক সহমরণ প্রথা বেআইনি ও নিষিদ্ধ বলে ঘোষিত হয়। সর্ব প্রথম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায় এই আইন বলবত করা হয়। ১৮৩০ সালে এই আইনের কিছু পরিবর্তন করে মাদ্রাজ ও বম্বে প্রেসিডেন্সিতে চালু করা হয়। ১৮৪৬ সালের ২৩ শে আগস্ট জয়পুরে সতী বিরোধী আইন প্রণয়ন করা হয়। [৩৭]

যুগপুরুষ রামমোহন

ছোটবেলায় দেখা সহমরণের নৃশংসতা বালক রামমোহনকে প্রভাবিত করেছিল। স্থির করেছিলেন এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন।১৮১৮ সালে সতীদাহ নিবারণের জন্য রামমোহন এক বই প্রকাশ করেন। এই বিষয়ে তিনি পরপর তিনটি বই লেখেন। কথোপকথনের মাধ্যমে লেখেন ‘প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ’। দ্বিতীয় বই ১৮২০ সালে প্রকাশ করেন এবং তৃতীয় বই এর দশ বছর পরে প্রকাশ করেন। এই সকল পুস্তকে রামমোহন দেখিয়েছেন, কাম্য কর্ম শাস্ত্রে নিন্দিত হয়েছে; সহমরণ যেহেতু স্বামীর সাথে স্বর্গভোগের কামনামূলক, তাই তা অশাস্ত্রীয় ও অনুচিত।ইংরেজ সরকার হতে সহমরণের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছিল তার বিরুদ্ধে কলকাতার কিছু রক্ষণশীল লোক আবেদন করেছিল।এই আবেদনের বিরুদ্ধে রামমোহনের উদ্যোগে ১৮১৮ সালে আরেক আবেদন প্রেরিত হয়। রামমোহনের সতীদাহ বিরোধী প্রচারের ফলে ‘গোঁড়া হিন্দু সমাজ খড়্গহস্ত’ হয়ে উঠেছিল। রামমোহন তার নিজস্ব পত্রিকা সংবাদ কৌমুদীতে সহমরণের বিরুদ্ধে লিখতে থাকেন, এক তীব্র আন্দোলনের সূচনা করেন। রামমোহন তার বন্ধুদের নিয়ে একটি দল গঠন করেছিলেন। সেখানে সহমরণের খবর পেতেন সেখানে ছুটে গিয়ে সহমৃতার আত্মীয়দের বোঝাতে চেষ্টা করতেন। এর জন্য তাঁকে কম লাঞ্ছনা ভোগ করতে হয়নি! বেন্টিঙ্ক রামমোহনের কাছ থেকে সতীদাহ নিবারণে হিন্দু শাস্ত্রীয় সমর্থন লাভ করেন। রামমোহনের জীবনীকার অনিলচন্দ্র ঘোষ বলছেন, “১৮২৯ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর সতীদাহ নিষেধ করিয়া আইন জারী করা হইল। হিন্দু সমাজে যেন একটা বােমা পড়িল। বিষম চাঞ্চল্য সমগ্র দেশময় একটা তােলপাড় উপস্থিত করিল। গোঁড়া হিন্দুসমাজ ইহার তীব্র প্রতিবাদ করিল। কলিকাতার ৮০০ শত অধিবাসীর নাম স্বাক্ষরসহ এক আবেদন গভর্নর জেনারেলের নিকট উপস্থাপিত করিয়া সতীদাহ রদ আইন প্রত্যাহৃত করিবার জন্য প্রার্থনা জানাইল। উহার সঙ্গে ১২৮ জন পণ্ডিতের অভিমত প্রদত্ত হইয়াছিল। ইহা ছাড়া মফঃস্বল হইতে ৩৪৬ জন বিশিষ্ট লােকের স্বাক্ষরযুক্ত এবং ২৮ জন পণ্ডিতের অভিমত সহ আর এক আবেদনপত্র বড়লাটের নিকট প্রেরিত হইল।“

United Kingdom, England, Bristol, Bristol
রামমোহন রায়

অন্যদিকে সতীদাহ রদের আইনের সপক্ষে রামমোহন বেশ কিছু লোকের সাক্ষর পাঠান।

“ইহার পরদিনই গোঁড়া হিন্দুসমাজ উপলব্ধি করিলেন যে, হিন্দুসমাজকে সংঘবদ্ধ না করিলে সতীদাহ রদ-আইন রােধ করা যাইবে না। তখনই রাতারাতি ধর্মসভার প্রতিষ্ঠা হইল। প্রথম দিনের মিটিংয়েই ১১,২৬৭ টাকা চাদা উঠিল। সে কী উৎসাহ! তাহাদের মুখপত্র সমাচার-চন্দ্রিকা রামমােহনের বিরুদ্ধে তীব্র কটুক্তি বর্ষণ করিতে লাগিল। ইহারই প্রতিবাদস্বরূপ রামমােহনের সহমরণ বিষয়ক তৃতীয় প্রস্তাব প্রকাশিত হইল। ১২৮ জন পণ্ডিতের মত খণ্ডন করিয়া ইহা লিখিত হইয়াছিল। গোঁড়া হিন্দুসমাজ যখন দেখিলেন, ভারতবর্ষে ইহার রদ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই, অবশেষে উহারা বিলাতে পার্লামেন্টে আপিল করিলেন। রামমােহনের বিলাত যাত্রার অন্যতম কারণ ছিল এই সতীদাহ রদ আইন যাহাতে পার্লামেন্টে পাশ হয় তাহার জন্য চেষ্টা করা। ১৮৩৩ সালের নভেম্বর মাসের ১১ জুলাই পালমেণ্ট ইহা পাশ করিলেন। ধর্মসভার আপীল অগ্রাহ্য হইল।

বাংলার বুক হইতে এক মর্মভেদী করুণ আর্তনাদ অকস্মাৎ কালের অতল গর্ভে লীন হইয়া গেল।“ [ ৪১]

সতী কেন হত?

সতীদাহ কেন হত ? এর পেছনে অনেক বিষয় কাজ করতো। প্রথমত, এটা এক আদিম কুসংস্কার, যার বশবর্তী হয়ে নারীরা সতীদাহকে গৌরবজনক ভাবতো। অনেক ক্ষেত্রেই তারা স্বেচ্ছায় সহমৃতা হত। দ্বিতীয়ত, ধর্মগ্রন্থগুলোতে ভীষণভাবে সহমরণের গৌরব কীর্তিত হয়েছে। স্বর্গলাভের আশায় অনেক নারী সহমৃতা হত।শাস্ত্রগুলো বিধবাদের আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে। তৃতীয়ত, বিধবার জীবন ছিল মৃত্যুর চাইতেও করুণ। বিধবা পুনরায় বিবাহ করতে পারতো না। “অনেক অর্বাচীন শাস্ত্র গ্রন্থে বিধবার জন্য দিনে একবার আহারের বিধান দিয়েছে, এবং তাকে পালঙ্কে শোবার অনুমতিও দেওয়া হয়নি–অন্যথায় তার স্বামী পরলোকে দুৰ্গতি ভোগ করবে। স্কন্দপুরাণ  বলে,  বিধবা যদি কবরী রচনা করে তাহলে স্বামীর পক্ষে তা পাপ হয়ে দাঁড়ায়। উদাহরণ আরও দেওয়া যায়; কিন্তু শাস্ত্রীয় এই সব বিধিনিষেধের অন্তর্নিহিত চিন্তা খুবই স্পষ্ট। এই সব হীনবুদ্ধি শাস্ত্র গ্রন্থগুলির উদ্দেশ্য হল ন্যূনতম মানবিক সুখ সুবিধা থেকেও বিধবাদের বঞ্চিত করা। এই প্রসঙ্গে স্মরণীয় যে বিগতদার ব্যক্তির জন্য শোকপালনের সীমা মাত্র একদিন, যার পরে সে কেবল পুনর্বিবাহ করতেই পারে না, তার জন্য পুনর্বিবাহ করার বিধানই দেওয়া হয়েছে।“ [৪২] চতুর্থত, সম্পত্তির লোভে অনেক সময়ই বিধবার আত্মীয়েরা তাকে পুড়িয়ে মারতো। সুকুমারী ভট্টাচার্য তার প্রাচীন ভারতে নারী ও সমাজ গ্রন্থে বলেন, “কানে-র আট খণ্ডে রচিত ধর্মশাস্ত্ৰ বিষয়ক ইতিহাসে ‘সতী’ বিষয়ক কয়েকটি অধ্যায় আছে। তার দেওয়া পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, উনবিংশ শতকের বাংলায় (যা তখন বারাণসী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল) সতীর সংখ্যা সর্বনিম্ন ৩৭৮ (১৮১৫ খ্রি.) সর্বোচ্চ ৮৩৯ (১৮১৮ খ্রি.)। এবং, ১৮১৫ থেকে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কেবলমাত্র বাংলাতেই সংখ্যাটি ২৩৬৬, যার মধ্যে শুধু কলকাতাতেই সতীদাহের সংখ্যা ১৮৪৫। কনে-র মতে এর মুখ্য কারণ হল শুধু বাংলাতেই দায়ভাগ স্মৃতির অনুসরণ করা হয়, (বাকি ভারতবর্ষ মিতাক্ষরকে অনুসরণ করে), এবং এই স্মৃতি অনুযায়ী বিধবাই স্বামীর সম্পত্তির অধিকারিণী। জনৈক জিতেন্দ্ৰিয় পরবর্তীকালে সংযোজন করছেন, ‘নিঃসন্তানা বিধবা তার স্বামীর সমস্ত সম্পত্তির নিঃশর্ত অধিকার পাবেন।’ কানে যথার্থই অনুমান করেছেন যে, পাছে বিধবা তার স্বামীর সম্পত্তির অধিকার চেয়ে বসে সেই ভয়ে তাকে সক্রিয় প্রেরণা দিয়ে এবং প্রচ্ছন্ন ভাবে ভয় দেখিয়ে স্বামীর চিতায় মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য করা হয়। ব্যবসায়ী আর উদ্যোগপতিরা যেহেতু বেশির ভাগই ছিলেন কলকাতাবাসী, তাই এখানে সতীর সংখ্যা এত নির্মম ভাবে বেশি–যাতে আইনানুযায়ী বিধবারা বিশাল সম্পত্তির অধিকারিণী হয়ে বসতে না পারে।”পঞ্চমত, স্বামীর মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকলে নারীর সতীত্ব বিঘ্নিত হবে, নারী ব্যভিচারিণী হবে, এইধরণের মানসিকতা কাজ করতো তৎকালীন পিতৃতান্ত্রিক সমাজে।নারীর সনাতন সতীত্ব রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে তাই বলপূর্বক বিধবাকে পুড়িয়ে মারা হত।রামমোহন রায়ের রচিত প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদে রক্ষনশীল হিন্দুদের মানসিকতা ফুটে উঠেছে-

“এরূপ সহমরণে কিংবা অনুমরণে পাপই হউক কিংবা যাহা হউক আমরা এ ব্যবহারকে নিবর্ত করিতে দিব না ইহার নিবৃত্তি হইলে হঠাৎ লৌকিক এক আশঙ্কা আছে যে স্বামীর মৃত্যু হইলে স্ত্রী সহগমন না করিয়া বিধবা অবস্থায় রহিলে তাহার ব্যভিচার হইবার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু সহমরণ করিলে এ আশঙ্কা থাকে না জ্ঞাতি কুটুম্ব সকলেই নিঃশঙ্ক হইয়া থাকেন এবং পতিও যদি জীবৎকালে জানিতে পারে তবে তাহারো মনে স্ত্রীঘটিত কলঙ্কের কোনো চিন্তা হয় না ইতি।”

বলা হয় স্বামীর প্রতি প্রেম থেকে নারীরা মৃত স্বামীর চিতায় আত্মহত্যা করতো।”ষষ্ঠ শতকে বরাহমিহির, তার বৃহৎসংহিতা-য় বলেন, ‘অহো নারীর প্রেম কি সুদৃঢ়, তারা স্বামীর দেহ ক্ৰোড়ে নিয়ে অগ্নিতে প্ৰবেশ করে।’ (৭৪:২৩)” এর জবাবে সুকুমারী ভট্টাচার্য বলেন,বৃহৎসংহিতা-র যুগ থেকেই সমাজ এই অতিকথা ঘোষণা করে আসছে যে, নারী তার স্বামীর প্রতি ভালবাসার জন্যই সহমরণে যায়। এই মিথ্যার অবসান হওয়া উচিত। যদি স্বামীর প্রতি প্রেমে এত নারী আত্মহত্যা করে তবে কেন আজ পর্যন্ত কোনও স্বামী তার স্ত্রীর চিতায় আত্মহত্যা করেনি? এতো হতে পারে না যে, আজ পর্যন্ত কোনও স্বামী তার স্ত্রীকে ভালবাসেনি। যদি সতীদাহের ভিত্তি হত প্ৰেম, তবে আমরা অবশ্যই কিছু কিছু ঘটনা দেখতে পেতাম যেখানে মৃত স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীও সহমরণে গেছেন।” [৪২]

এছাড়া আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, সতী শব্দটির কোনো পুংলিঙ্গ নেই। সৎ শব্দের অর্থ ভালো, নীতিবান কিন্তু তা সতী শব্দের মত যৌননৈতিকতার দায় ও বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আনুগত্যের আদর্শ বহন করে না। পিতৃতান্ত্রিক হিন্দু সমাজে পুরুষ একের পর এক বিবাহ করেছে।শাস্ত্রে স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে বিবাহ করারই বিধান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখি। সে সতী হয়,তাকে পতির মৃত্যুর পর অগ্নিকেই বেছে নিতে শেখানো হয়, বাধ্যও করা হয়।

শেষের কথা

এই লেখাটি হয়তো অনেক হিন্দু বন্ধুরা পড়ছেন। আপনারা হয়তো সতীদাহের পরিবর্তে সহমরণ শব্দ ব্যবহারে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, রামমোহন, বিদ্যাসাগরদের নিজের দলের লোক বলেই মনে করেন এবং সহমরণকে গৌরবোজ্জ্বলও মনে করেন। ‘আত্মহত্যা’ যদি ‘মহাপাপ’ হয়, তবে নারীর ক্ষেত্রে স্বামীর চিতায় আত্মহত্যা পাপ কেন নয়? এটা গৌরবোজ্জ্বলও বা হবে কেন? নারীরা কি মানুষ হিসাবে গণ্য নয়?

তথ্যসূত্র এবং টিকা

[১] “…A girl shall be clean in body and spirit, frugal in her expenses and faithfully nurse the man she has been given to by her father in marriage The widow who practices self control and austerities after the death of her husband, goes to heaven. A widow shall never feel any inclination to dwell in the house of a stranger, nor should she querelous in her disposition. A widow as well as a wife of a man who is absant in a distant country, should never decorate their persons, and live in a temple and worship the gods of their husband’s good. A wife in the latter case shall wear a few ornaments for the good of her husband, while a widow burns herself on the same funeral pyre with her husband also goes to heaven.”

[২] “A person who inspite of his being free from all the sins meets with his end at a holy place, he is relieved of all the sins. In case the husband is the killer of a brahmana, ungrateful, besides being a grave sinner, but when a wife enters in the fire with him after his death, she infact redeems him. This is the supreme repentance for the women as per the opinion of the learned people.”

[৩] adyaiva= today itself; saa aham= I too; pativrataa = in devotion to my husband; gamishhyaami = will get; dishhTaantam = my appointed end; pravakshhyaami = I shall enter; hutaasham = the fire; aaliN^gya = duly embracing; idam = this; shariiram = body of my husband”

“Today itself, I too in devotion to my husband, will meet my appointed end. I shall enter the fire, duly embracing this body of my husband.” 2/66/12

[৪] “…Respecting the worlds of the brahmana, the curse of Durbasas the illustrious krishna sat engaged in meditation, placing his foot upon his knee. Then there came a hunter named Jara, whose arrow was tipped with a blade made of the iron club which had not been reduced to power ; and espying from a distance the foot of krishna he mistook it for a part of a deer, and shooting his arrow, lodged it in the sole….” [ Vishnu Puranam/part 5/ section XXXVII (37) | translation by MN DUTT, printed by H.C Das, Elysium Press, 65/2 Beadon Street, 1896]

[৫] ” Parasara said:- Having found the bodies of Krishna and rama, Arjuna performed for them and the rest of the slain obsequil rites. The eight queens of krishna , who had been named with rukmini at the head ,embraced hari and entered the funeral fire. O foremost of the pious , embracing the corpse of  Rama , Revati too entered fire which was cool to her happy heart in contract with her lord. Thereupon hearing all this Ugrasena and Vasudeva with devaki and rohini entered fire…”

[৬] “If the husband is untraceable,dead or has renounced the world or is impotent or degraded -in these cases of emergency a woman can remarry.

[৭] ”A Wife who dies in the company of her husband shall remain in heaven as many years as there are hairs on his person”

[৮]“…A woman who has been chaste and faithful to her husband should mount on the pyre after bowing to her (deceased) husband before the funeral rites start. One who gets away from the pyre due to fainting should observe the vow named prajapatya. One who ascends the pyre and follows up her husband stays in heaven for a period equal to the number of hair on the body, three and a half crore. Just as the snake-charmer takes out the snake from the hole so also she takes out her husband from hell and enjoys with him in paradise. She who ascends the pyre goes to heaven. She is praised by the celestial nymphs and enjoys with her husband so long as the fourteen Indras rule in heaven successively. Even if the man has killed a brahmana or a friend or any other person of noble conduct he is purified of sins by his wife who ascends his pyre. A woman who enters fire after the death of her husband prospers in the heaven like Arundhati. Until and unless the woman burns herself after her husband’s death she is never released from the bond of her sex. A woman who follows her husband purifies the three families on her mother’s side, the three families on her father’s side and the three families on her husband’s side.”

[৯] Renuka of steadfast holy rites, whose body was overwhelmed with sorrow for her husband , called all her sons togather and spoke these words: 35

[১০] O my sons , I wish to follow your father who has gone to heaven and who was by nature meritorious . It behoves you all to allow me to do so. 36

[১১] The misery of widowhood is unbearable. How can I endure it? I will be heated as I am bereft of my husband. How can I carry my activities thus? 37

[১২] Hence I shall follow my beloved husband so that I shall proceed along with him without interruption for ever in the other world. 38

[১৩] “By entering this burning pyre , I will be slightly after a long time, the dear guest of my husband in the world of the pitrs (manes).” 2/3/30/39

[১৪] “If you wish to do what is pleasing to me, dear sons nothing else should be expressed by you by taking a united stand against me, except your concurrence and support in this act of my self immolation to fire.” 2/3/30/40

[১৫] “After saying these word with firm decision, Renuka decided to follow her husband by entering the fire” 2/3/30/41

[১৬] ”Having raised her, Narada said to the pure one about her dead (husband): ”O innocent one of large eyes, please go to your husband. O you of large eyes, your husband, abandoned by his kinsmen, is dead. O auspicious one, you should not weep. Enter fire (i.e. funeral pyre of your husband). O innocent one of large eyes, please go to your husband. O you of large eyes, your husband abondoned by his kinsmen, is dead.O auspicious one, you should not weep. Enter fire (i.e. funeral pyre of your husband)

The brahmana woman said:

O age tell me whether i should or should not go, so that the time for entering the fire should not elapse.

Narada said    V.106.58-62

[১৭] That city is at a distance of hundred yojanas from here. The brahmana (i.e. the body of your husband) will be burnt tomorrow.

Avyaya said:

O sage i deserve to go to the lord of my body, who is away.

hearing her words, Narada said to her: “You sit upon the handle of my lute. I shall go there in a moment.” Saying so he made haste and went there- to the country and abode of the dead brahmana. The sage said to avyaya: “If you will go to (i.e. desire to enter fire there , then do not weep. O daughter , if you have committed  a sin like enjoying another man (than your husband) then make an expiation to purify that. On entering into the fire your minor sins will perish. Leaving (except) entering the fire i do not see any other (expiation) for women for the appeasement of all sins.  5/106/64-69A

[১৮] ”Rukmaputri with Pradyumna, Usa with Aniruddha and all Yadava ladies honoured the bodies of their husbands and entered fire.”

[১৯] “…Once Mâdrî, full of youth and beauty, was staying alone in a solitary place and Pându seeing her embraced her and due to the curse, died. When the funeral pyre was ablaze, the chaste Mâdrî entered into the fire and died a Satî. Kuntî was prevented from doing so, as she was to nurse and look after her young children….”

[২০] ” …Then those Munis, practising great vows, knew that Pandu was dead and performed duty, on the banks of the Ganges, the ceremony of burning the dead. At that time Madri gave over to Kunti the charge of her two sons and followed the Sati practice along with her husband to go to Satyaloka…”

[২১]   20.The young woman, on seeing her husband
seized by the demon, was much frightened and implored him with piteous cries. 21. In spite of repeated importunities the man-eating
ruthless wicked demon cut off the head of the brahmin sage and devoured it. 22. The distressed, grief-stricken chaste lady lamented
much. She gathered the bones of her husband and lighted a funeral pyre. 23. The brahmin lady desirous of entering the pyre
in order to follow her husband cursed the Rakshasa king. 24. The chaste lady entered fire after proclaiming
“From now onwards if you become united with any woman in sexual embrace you will die.”

[২২] She then prepared a blazing fire with firewood and placed the dead
body of her husband upon it. When this was finished, she lamented severely and prepared herself to perish in the fire with her husband.

[২৩] “It is the long-standing tradition of the Vedic system that a faithful wife
dies along with her husband. This is called saha-marana. In India this system was prevalent even to the date of British occupation. At that time, however, a wife who did not wish to die with her husband was sometimes forced to do so by her relatives. Formerly that was not the case. The wife used to enter the fire voluntarily. The British government stopped this practice, considering it inhuman. However, from the early history of India we find that when Maharaja Pandu died, he was survived by two wives-Madri and Kunti. The question was whether both should die or one should die. After the death of Maharaja Pandu, his wives settled that one should remain and the other should go. Madri would perish with her husband in the fire, and Kunti would remain to take charge of the five Pandava children. Even as late as 1936 we saw a devoted wife voluntarily enter the fire of her husband. This indicates that a devotee’s wife must be prepared to act in such a way. Similarly, a devoted disciple of the spiritual master would rather die with the spiritual master than fail to execute the spiritual master’s mission. As the Supreme Personality of Godhead comes down upon. this earth to reestablish the principles of religion, so his representative, the spiritual master, also comes to reestablish religious principles. It is the duty of the disciples to take charge of the mission of the spiritual master and execute it properly. Otherwise the disciple should decide to die along with the spiritual master. In other words, to execute the will of the spiritual master, the disciple should be prepared to lay down his life and abandon all personal considerations.

[২৪] ‘’In the Vedic culture there is a system known as satī or saha-maraṇa, in which a woman dies with her husband. According to this system, if the husband dies, the wife will voluntarily die by falling in the blazing funeral pyre of her husband. Here, in this verse, the feelings inherent in this culture are expressed by the wife of the brāhmaṇa. A woman without a husband is like a dead body. Therefore according to Vedic culture a girl must be married. This is the responsibility of her father. A girl may be given in charity, and a husband may have more than one wife, but a girl must be married. This is Vedic culture. A woman is supposed to be always dependent—in her childhood she is dependent on her father, in youth on her husband, and in old age on her elderly sons. According to Manu-saṁhitā, she is never independent. Independence for a woman means miserable life. In this age, so many girls are unmarried and falsely imagining themselves free, but their life is miserable. Here is an instance in which a woman felt that without her husband she was nothing but a dead body.’’Swami Prabhupada on Bhagwad Purana 9.9.32

[২৫] While outside observing her husband who will burn in the fire of
mystic power along with his thatched cottage, his chaste wife will enter the fire with rapt attention.

[২৬] Gandhari was an ideal chaste lady, a life companion of her husband, and therefore when she saw her husband burning in the fire of mystic yoga along with his cottage of leaves, she despaired. She left home after losing her one hundred sons, and in the forest she saw that her most beloved husband was also burning. Now she actually felt alone, and therefore entered the fire of her husband and followed her husband to death. This entering of a chaste lady into the fire of her dead husband is called the sati rite, and the action is considered to be most perfect for a woman. In a later age, this sati rite became an obnoxious criminal affair because the ceremony was forced upon even an unwilling woman. In this fallen age it is not possible for any lady to follow the sati rite as chastely as it was done by Gandhli and others in past ages. A chaste wife like Gandhari would feel the separation of her husband to be more burning than actual fire. Such a lady can observe the sati rite voluntarily, and there is no criminal force by anyone. When the rite became a formality only and force was applied upon a lady to follow the principle, actually it became criminal, and therefore the ceremony was to be stopped by state law. This prophecy of Narada Muni to Maharaja Yudhishthira forbade him to go to his widow aunt.

[২৮] ”Ere long thereafter, King Manojava abandoned his body and went to the world of Siva, due to the power of that Tirtha. O Brahmanas, his wife Sumitra embraced his body then and ascended his funeral pyre. She too attained the same world.”

[২৯] 53. A chaste woman who follows her husband from the house
to the cremation ground for self-immolation undoubtedly attains the merit of a horse-sacrifice at every step. 54. Just as a snake-catcher forcibly retrieves a snake from its
hole, so also a chaste woman retrieves her husband from the messengers of Yama and goes to heaven. 55-58. On seeing a chaste woman the messengers of Yama flee.
On seeing the splendour of a chaste woman even the sun feels burning sensation, even the fire gets burnt and all other luminaries begin to tremble. A chaste woman sportingly enjoys heavenly pleasures along with her husband for as many crores and ten thousand years as there are hairs on her body.

[৩০] 38-41.His wife was very beautiful with excellent features. She was chaste and of noble qualities. She used to smile pleasantly. She was of firm mental resolve. When her husband was killed, she became miserable. She was badly distressed due to the separation from her husband. She was left in the lurch in the terrible forest. The beautiful woman gathered fuel and twigs together and kindled the funeral pyre which she ascended along with her husband. She was mentally pleased in doing so.

[৩১]The Santiparva (chap. 148 ) describes how a kapoti (female pigeon ) entered fire on the death of her husband the bird. [Pv kane- History of dharmashastra vol 2 part 1/ sati] [৩২] বিদ্যাসাগরের রচনাবলী-১ম খণ্ড/বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব; লিখেছেন, ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর; এস.বি.এস. পাবলিকেশন

[৩৩]“Thus the wife of the brahmana cursed King Saudasa, known as Mitrasaha. Then, being inclined to go with her husband, she set fire to her husband’s bones, fell into the fire herself, and went with him to the same destination.”

[৩৪]“They have to bathe, sanctify themselves, have to put on ornaments and apply unguents , have to apply sandal (paste) , have to put on flowers, have to have incense, turmeric and sacred rice grains. They have to wear an auspicious thread and apply red lac to their feet. They should give gifts according to their capacity, they should speak agreeable words, and should have a pleasing face. They should listen to (the sound of ) many auspicious musical instruments and songs. When a sin of  (the nature of) infidelity is commited ,then with reference to that old sin (i.e. sin commited previously) , that is said to be an expiation for the appeasement of that sin. Then she should put on the ornaments and offer them to a brahmana. In the absence of such ornaments she should not make the brahmana perform the rite of expiation. In no other way and nowhere, can that sin perish.”  5/106/70b-75a

[৩৫]85-90. Then having burnt (i .e. consigned to :fire the body of)the briihmai}.a, Narada said to her : “0 Avyayii, go, and enter the :fire if you so desire.’ ‘ Then the chaste lady decorated (herself), and having saluted Niirada after going round him three times keeping him to her right, dedicated her mind to Gauri (i.e. Parvati) . Desiring to please Piirvati, she separately (i.e. one by one) touched her very :fine auspicious thread, turmeric, so also sacred grains and flowers, garments, musk, sandal, golden comb, various fruits, from presents to her garments-gave all (these) to elderly married women. The chaste woman went three times round the :fire which was, as it were, burning the sky with rows of flames, by keeping it to her right, and stood in front of it. Then with the palms of her hands folded and with a smiling face she said these words :

[৩৬]91-98. Oregents of the quarters like Indra, 0 mother Earth,

0 Sun, 0 all gods like Dharma (i .e. Yama), hear my words : “If, from (the day of) marriage till today I have, day and night, devoutly served my husband by words, thought, and by acts, and if in the three states (of youth, adulthood and old age) I have not transgressed (in my duties to him) , then truly grant me going with my husband.”

Saying so, she quickly dropped the flower from the tip of her hand (and) entered the blazing fire. Then she saw an aeroplane, which was excellent like the Sun and graced with the music of celestial nymphs. She got into the aeroplane and went to heaven with her husband. Then Yama, having honoured that chaste wife, said to her : “You will have (i.e. live in) heaven eternally; (now) no sin of you remains. In hell your sin was washed off (by staying there) for two crore years . There is no doubt about it. But (still) there is’a sin. One is committed by eating the ghee of the lamp (kept in honour) of Siva. There may not be a fall into hell, but will be hundred existences as a dog.”

[৩৭] সতীদাহ, লেখক- কুমুদনাথ মল্লিক

[৩৮]suttee- Edward Thompson

[৩৯]women in hindu civilization- altekar

[৪০] pv kane- history of dharmashastra, vol 2, part 1/sati

[৪১]রাজর্ষি রামমোহন জীবনী ও রচনা – শ্রী অনিলচন্দ্র ঘোষ

[৪২] প্রাচীন ভারতে নারী ও সমাজ/সতী , লেখিকা- সুকুমারী ভট্টাচার্য

সম্পূর্ণ লেখাটির পিডিএফ ডাউনলোড করুন

Facebook Comments

অজিত কেশকম্বলী II

সত্য যে কঠিন, সে কঠিনেরে ভালোবাসিলাম।

Leave a Reply

%d bloggers like this: