ইসলাম এবং ধর্মত্যাগ

ধরা যাক, আপনার পারিবারিক সূত্রে পাওয়া ধর্মটির নাম ইসলাম নয়, আপনার পারিবারিক সূত্রে পাওয়া ধর্মের নাম হচ্ছে ‘পিসলাম’। আপনি যেই রাষ্ট্রে বাস করেন সেই রাষ্ট্রে ধর্মনিরপেক্ষতার কোনো অস্তিত্ব নেই, সেই রাষ্ট্র চলে ‘পিসলাম’ ধর্মের পিসলামি আইনে। আপনাদের রাষ্ট্রে ভিন্ন ধর্মের মানুষ তেমন বাস করেনা বললেই চলে, যারাও বাস করে তাদেরকে আপনাদের হাত থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য বিশেষ অবমাননাকর কর দিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। ছোটবেলা থেকেই আপনি আপনার ধর্মকে খুব ভালবাসতেন। ছোটবেলায় আপনার আব্বু আপনাকে নিয়ে উপাসনালয়ে যেতেন, আপনার আব্বু খুব ভক্তি সহকারে ইবাদত করতেন আর আপনি আপনার ছোট ছোট চোখ দিয়ে আপনার আব্বুকে অনুসরণ করতেন। যতো বড় হলেন ততো ধার্মিক হয়ে উঠলেন, ধর্মের প্রতি ভালবাসা ততো বাড়তে লাগলো।

একটা বয়সে এসে হাতে মোবাইল ফোন পেলেন, ইন্টারনেট পেলেন, ইন্টারনেটে কিছু ধর্ম বিষয়ক ওয়েবসাইট পেলেন। একটি ওয়েবসাইটে দেখলেন সেখানে ইসলাম নামক একটি ধর্মের প্রচারণা করা হয় এবং অন্যান্য ধর্মের সমালোচনা করা হয়, অন্যান্য ধর্মের ভুল ত্রুটি নিয়ে লেখা হয়। সেই ওয়েবসাইটটিতে আপনি আপনার ‘পিসলাম’ ধর্মের সমালোচনা খুঁজে পেলেন। প্রথমে সমালোচনা দেখে অনেক রাগ হলো, তারপর আবার একটু কৌতূহল এলো মনে, ভাবলেন উনারা আসলে কি লেখে একটু পড়ে দেখি তো! তারপর আপনার ধর্মের সমালোচনায় লেখা সেইসব লেখা পড়তে পড়তে আপনি আপনার প্রচলিত বিশ্বাসকে সন্দেহ করতে লাগলেন এবং ভাবলেন, এযাবৎ যা বিশ্বাস করে এলাম তা কি মিথ্যেও হতে পারে। সন্দেহ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপনি আপনার ধর্মের ধর্মগ্রন্থ ভালো করে পড়ে দেখতে লাগলেন এবং যখন আপনি বুঝলেন যে উনারা ভুল কিছু লেখেন নি তখন আপনার বিশ্বাস একেবারে হারিয়ে গেলো। তারপর আপনার মনে ঐ ওয়েবসাইটের ইসলাম বিষয়ক লেখা সমূহ পড়ার আগ্রহ তৈরি হলো এবং আপনি ইসলাম বিষয়ক কিছু লেখা পড়ে ইসলামের প্রতি মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তারপর অনলাইন থেকে কোরআন হাদিস পড়ার পর আপনি ধীরে ধীরে বুঝতে পারলেন যে, ইসলাম ধর্মের আল্লাহ্‌ই একমাত্র সত্য ঈশ্বর এবং বাকি সব মিথ্যে। আপনি বুঝতে পারলেন যে, হযরত মুহাম্মদ তার রাসূল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মানব। আপনি বুঝতে পারলেন যে, ইসলামই হচ্ছে একমাত্র সত্য দ্বীন।

পারিবারিক সূত্রে পাওয়া ধর্ম ‘পিসলাম’ ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করার গল্প আপনি কাউকে বলতে পারছেন না। কারণ ‘পিসলাম’ ধর্মের আইন অনুযায়ী, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক লোক যদি ‘পিসলাম’ ধর্মের কালিমা পড়ার পর কাউকে হত্যা করা, বিবাহিত অবস্থায় ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া এবং ধর্ম ত্যাগ করা এই তিনটি কাজের যেকোনো একটি না করে তাহলে তাকে হত্যা করা বৈধ নয়, যদি এই তিনটি কাজের একটি কেউ করে তাহলে তাকে হত্যা করতে হবে। আপনি আপনার পারিবারিক ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন, এই কথাটি বললে আপনাকে মেরে ফেলা হবে। তাই নিজেকে বাঁচানোর জন্য আপনাকে চুপ থাকতে হয়, লুকিয়ে লুকিয়ে নামাজ কোরআন পড়তে হয়। আপনার মা আপনার মধ্যে আসা পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন, তিনি আপনাকে নামাজ পড়া অবস্থায় দেখে ফেলেন। তিনি আপনার বাবাকে সবকিছু জানান, তারপর আপনার বাবা মা দুজন মিলে জোর করলে আপনি মুখ খুলতে বাধ্য হন। আপনার বাবা আবার বড়সড় মাপের একজন ‘পিসলামিস্ট’ যার কাছে সবার আগে ধর্ম! সুতরাং, আপনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হলো। নিজের মন বদলে ইসলাম ছেড়ে পিসলামে ফিরে আসার জন্য আপনাকে তিনদিন সময় দেওয়া হলো। মরতে তো একদিন হবেই, মরবো যখন সত্যের জন্যই মরবো মিথ্যার আশ্রয়ে নয়!

সময় এলো আপনাকে হত্যা করার, আপনাদের রাষ্ট্রের শাসক বা তার একজন প্রতিনিধি অস্ত্র হাতে আপনার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন এক কোপে আপনার মাথা আপনার দেহ থেকে আলাদা করার জন্য। আপনি উপুড় হয়ে বসে মাটির দিকে তাকিয়ে আছেন, আপনার মনে যে কি চলছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। দশ সেকেন্ডের মধ্যে আপনার মাথা আপনার দেহ থেকে আলাদা হয়ে যাবে, সুন্দর এই পৃথিবীতে আপনার আর কোনো অস্তিত্ব থাকবেনা। এমন সময় ‘মফিজ আজাদ’ নামক একজন মানসিক প্রতিবন্ধী দৌড়ে আপনার কাছে এসে কানেকানে আপনাকে বললো, ‘পিসলামই সবচেয়ে শান্তির এবং শ্রেষ্ঠ ধর্ম’। একটু কল্পনা করে দেখুন, ঐ মুহূর্তে বাক্যটি আপনার কাছে কেমন লাগবে? আপনার পারিবারিক ধর্ম থেকে কেবল আপনার বিশ্বাস উঠে গেছে বলে আপনার আর বিশ্বাস কাজ করছে না বলে আপনার পারিবারিক ধর্ম আপনাকে হত্যা করতে বলে, আপনাকে আর বাঁচতে দিতে চায়না এমন জঘন্য বর্বর ধর্মকে কি কোনোভাবেই আপনি শান্তির ধর্ম বলে মনে করবেন? আপনি যদি একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে শান্তির ধর্মের দাবিটি আপনার কাছে অবশ্যই জঘন্য মিথ্যে এবং পাগলের প্রলাপ বলেই মনে হবে।

ঠিক সেই কারণেই মুসলমানদের দাবি “ইসলাম শান্তির ধর্ম” একটি জঘন্য মিথ্যা কথা। ঠিক সেই কারণেই “ইসলাম একটি বর্বর ধর্ম” কথাটাই বাস্তবতা। হ্যা ইসলাম এমনই একটি ধর্ম যেই ধর্ম অনুযায়ী, কোনো মুসলমান যদি ইসলামে আর বিশ্বাস করতে না পারে তাহলে তাকে হত্যা করে ফেলতে হবে। কোনো মুসলমান ইসলাম ত্যাগ করলে ইসলামের ভাষায় তাকে মুরতাদ বলা হয়। একজন মুরতাদের ইসলামের প্রতি আর বিশ্বাস না থাকা, ইসলামকে ভুল মনেকরা ইসলাম অনুযায়ী একটি “অপরাধ”। অনেক অনেক সহিহ হাদিস পাওয়া গেছে যেখানে দেখা যায়, মুহাম্মদ বলেছেন যে, যারা ধর্ম ত্যাগ করে ফেলে বা দ্বীন ত্যাগ করে ফেলে তাদেরকে হত্যা করো। সহিহ হাদিস সমূহ খুব পরিষ্কারভাবেই বর্ণনা করে যে, ইসলামে ইসলাম ত্যাগ করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ইসলামের চোখে ধর্ম ত্যাগ করা এতো বড়ই একটি অপরাধ যে, ইসলামে “নিরপরাধ” মানুষ হত্যা করার শাস্তি যা ধর্ম ত্যাগ করার শাস্তিও তা। বিভিন্ন সহিহ হাদিস সমূহের বর্ণনায় এসেছে যে, কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি সাক্ষ্য দেন যে, আল্লাহ্‌ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই এবং নবী মুহাম্মদ আল্লাহ্‌র রাসূল তাহলে তিনটি কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। কারণ তিনটি হচ্ছে : যদি তিনি কোনো নিরপরাধ মানুষকে খুন করেন, যদি তিনি বিবাহিত হওয়ার পরও ব্যভিচারে লিপ্ত হন এবং যদি তিনি ইসলাম ত্যাগ করেন। আমি কি ইসলাম নিয়ে ভুল কিছু বললাম কিনা ভুল কোনো অভিযোগ তুললাম কিনা ভুল ব্যাখ্যা করলাম কিনা সেটা সহিহ হাদিস সমূহ দেখে নিজেই মিলিয়ে নিতে পারেন। আমি আলোচ্য বিষয়ক কিছু সহিহ হাদিস তুলে ধরছি :

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
হাদিস নম্বরঃ ৩০১৭

৫৬/১৪৯. আল্লাহ্ তা‘আলার শাস্তি দিয়ে কাউকে শাস্তি দেয়া যাবে না।

৩০১৭. ইকরামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আলী (রাঃ) এক সম্প্রদায়কে আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন। এ সংবাদ ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আববাস (রাঃ)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, ‘যদি আমি হতাম, তবে আমি তাদেরকে জ্বালিয়ে ফেলতাম না। কেননা, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আল্লাহর আযাব দ্বারা কাউকে আযাব দিবে না। বরং আমি তাদেরকে হত্যা করতাম। যেমন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে লোক তার দ্বীন বদলে ফেলে, তাকে হত্যা করে ফেল।’ (৬৯২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮০৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহিহ বুখারী খণ্ড ৫ পৃষ্ঠা ২৩৬

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
হাদিস নম্বরঃ ৪৩৪৪

৬৪/৬১. বিদায় হাজ্জের পূর্বে আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) এবং মু‘আয [ইবনু জাবল (রাঃ)]-কে ইয়ামানে প্রেরণ।

৪৩৪৪-৪৩৪৫. আবূ বুরদা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার দাদা আবূ মূসা ও মু‘আয (রাঃ)-কে নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (শাসক হিসেবে) ইয়ামানে পাঠালেন। এ সময় তিনি বললেন, তোমরা লোকজনের সঙ্গে সহজ আচরণ করবে। কখনো কঠিন আচরণ করবে না। মানুষের মনে সুসংবাদের মাধ্যমে উৎসাহ সৃষ্টি করবে। কখনো তাদের মনে অনীহা সৃষ্টি করবে না এবং একে অপরকে মেনে চলবে। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নাবী! আমাদের এলাকায় মিয্র নামের এক প্রকার শরাব যব থেকে তৈরি করা হয় আর বিত্উ নামের এক প্রকার শরাব মধু থেকে তৈরি করা হয় (এগুলো সম্পর্কে হুকুম দিন)। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নেশা সৃষ্টিকারী সকল বস্তুই হারাম। এরপর দু’জনেই চলে গেলেন। মু‘আয আবূ মূসাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি উত্তর দিলেন, দাঁড়িয়ে, বসে, সাওয়ারীর পিঠে সাওয়ার অবস্থায় এবং কিছুক্ষণ পরপরই তিলাওয়াত করি। তিনি বললেন, আর আমি রাতের প্রথমদিকে ঘুমিয়ে পড়ি তারপর (শেষ ভাগে তিলাওয়াতের জন্য সালাতে) দাঁড়িয়ে যাই। এভাবে আমি আমার নিদ্রার সময়কেও আমার সালাতে দাঁড়ানোর মতই সওয়াবের বিষয় মনে করে থাকি। এরপর (উভয়েই নিজ শাসন এলাকায়) তাঁবু খাটালেন এবং পরস্পরের সাক্ষাৎ বজায় রেখে চললেন। (এক সময়) মু‘আয (রাঃ) আবূ মূসা (রাঃ)-এর সাক্ষাতে এসে দেখলেন, সেখানে এক ব্যক্তি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ লোকটি কে? আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, লোকটি ইয়াহূদী ছিল, ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে। মু‘আয (রাঃ) বললেন, আমি ওর গর্দান উড়িয়ে দেবো। শু‘বাহ থেকে আকাদী এবং ওয়াহ্ব এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর ওকী (রহ.) নযর ও আবূ দাঊদ (রহ.) এ হাদীসের সানাদে শু’বাহ (রহ.) সা‘ঈদ-সাঈদের পিতা-সাঈদের দাদা নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি জারীর ইবনু ‘আবদুল হামীদ (রহ.) শাইবানী (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ বুরদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। [২২৬১, ৪৩৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০৪)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
হাদিস নম্বরঃ ৬৮৭৮

৮৭/৬. আল্লাহর বাণীঃ প্রাণের বদলে প্রাণ……। (সূরা আল-মায়িদাহ ৫/৪৫)

৬৮৭৮. ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন ইলাহ্ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, তিন-তিনটি কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। (যথা) জানের বদলে জান, বিবাহিত ব্যভিচারী, আর নিজের দ্বীন ত্যাগকারী মুসলিম জামাআত থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া ব্যক্তি।[1] [মুসলিম ৬/২৮, হাঃ ১৬৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪১২)

[1] হাদীসে উল্লেখিত ‘‘জামা’আত’’ দ্বারা উদ্দেশ্য جماعة المسلمين তথা মুসলমানদের জামা’আত। অর্থাৎ মুরদাত হওয়ার মাধ্যমে মুসলিমদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয় অথবা মুরতাদ (স্বধর্মত্যাগী) হওয়ার মাধ্যমে মুসলমানদের ছেড়ে দেয়। সুতরাং جماعة শব্দটি تارك ও المفارق শব্দদ্বয়ের বিশেষণ। যা স্বতন্ত্র বিশেষণ নয়। কারণ স্বতন্ত্র বিশেষণ ধরা হলে হাদীসে উল্লেখিত তিনটি বৈশিষ্ট্যের স্থলে চারটি বৈশিষ্ট্য হয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, হাদীসে উল্লেখিত ‘‘জামা’আত’’ দ্বারা ‘‘মুসলমানদের মাঝে গড়ে ওঠা ছোট, বড় আঞ্চলিক বা জাতীয় ভিত্তিক কোন সংগঠন’’ উদ্দেশ্য নেয়া মোটেও ঠিক নয়। বরং তা সহীহ আকীদার পরিপন্থী। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহিহ বুখারী খণ্ড ১০ পৃষ্ঠা ২৬১

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
হাদিস নম্বরঃ ৬৯৩০

৮৮/৬. খারিজী সম্প্রদায় ও মুলহিদদের অপরাধ প্রমাণিত হবার পর তাদেরকে হত্যা করা।

وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى {وَمَا كَانَ اللهُ لِيُضِلَّ قَوْمًا بَعْدَ إِذْ هَدَاهُمْ حَتَّى يُبَيِّنَ لَهُمْ مَا يَتَّقُونَ} وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَرَاهُمْ شِرَارَ خَلْقِ اللهِ وَقَالَ إِنَّهُمْ انْطَلَقُوا إِلَى آيَاتٍ نَزَلَتْ فِي الْكُفَّارِ فَجَعَلُوهَا عَلَى الْمُؤْمِنِينَ

এবং আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আল্লাহ্ এমন নন যে, তিনি কোন সম্প্রদায়কে পথ দেখানোর পর তাদেরকে গুমরাহ করবেন-তাদেরকে কী বিষয়ে সাবধানে চলতে হবে তা সুস্পষ্টরূপে ব্যক্ত না করা পর্যন্ত।’’ (সূরাহ আত্-তাওবাহ ৯/১১৫)

ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্টির সবচেয়ে নিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসেবে বিবেচনা করতেন এবং তিনি বলেছেন, তারা  এমন কিছু আয়াতকে মু’মিনদের ওপর প্রয়োগ করেছে যা কাফিরদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে।

৬৯৩০. সুয়ায়দ ইবনু গাফালা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি যখন তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন হাদীস বয়ান করি ‘আল্লাহর শপথ! তখন তাঁর উপর মিথ্যা কথা আরোপ করার চেয়ে আকাশ থেকে নিচে পড়ে যাওয়াটা আমার কাছে শ্রেয়। কিন্তু আমি যদি আমার ও তোমাদের মধ্যকার বিষয় সম্পর্কে কিছু বলি, তাহলে মনে রাখতে হবে যে, যুদ্ধ একটি কৌশল। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, শেষ যুগে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা হবে অল্পবয়স্ক যুবক, নির্বোধ। তারা সৃষ্টির সবচেয়ে শ্রেষ্ঠতম কথা থেকে আবৃত্তি করবে। অথচ ঈমান তাদের গলা অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বের হয়ে যায়। তাদেরকে যেখানেই তোমরা পাবে হত্যা করবে। কেননা তাদেরকে হত্যা করলে হত্যাকারীর জন্য ক্বিয়ামাতের দিনে প্রতিদান আছে। [৩৬১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৬১)

ইসলাম যে আসলেই একজন ইসলাম ত্যাগীকে হত্যা করতে বলে সেটা উপরের উৎস সমূহ থেকে সরাসরি প্রকাশ পায়। এব্যাপারে কোনো সন্দেহ করার জায়গা নেই, কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে জল ঘোলা করার সুযোগ নেই। তাহলে বিশ্লেষণে আসা যাক।

ইসলাম অনুযায়ী ধর্ম ত্যাগ একটি অপরাধ, আসলেই কি ধর্মত্যাগকে অপরাধ বলে চিহ্নিত করা যায়? একজন মানুষ যদি তার পারিবারিক ধর্মে আর বিশ্বাস করতে না পারে তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে, সে একটি অপরাধ করেছে? একজন মানুষের ভেতর থেকে যদি তার ধর্মের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে যায় তাহলে কি আমরা তাকে অপরাধী বলে দাবি করে শাস্তি দিতে পারি? “ধর্মত্যাগ একটি অপরাধ” এরকম ধারনা মানবসভ্যতার ইতিহাসের অন্যতম হাস্যকর ধারনার একটি। আর কেউ ধর্মত্যাগ করলে তাকে হত্যা করে ফেলা উচিৎ, এরকম ধারনা মানবসভ্যতার ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য একটি ধারনা। অপরাধ বলতে আমরা এমনকিছু দাবি করতে পারিনা যা মানুষের নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই, যা মানুষের নিজস্ব ইচ্ছার ওপর নির্ভর করেনা। ধরুন, আপনি কালো কুকুর ভালবাসেন, এখন কি আমি দাবি করতে পারি যে, আপনার কালো কুকুর ভালবাসাটা একটি অপরাধ? আপনি ভূতের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন, এখন কি আমি দাবি করতে পারি যে, আপনার ভূতের অস্তিত্বে বিশ্বাস করাটা একটি অপরাধ? আমরা আমাদের নূন্যতম বোধশক্তি থেকে বুঝতে পারি যে, কালো কুকুর ভালোবাসা কিংবা ভূতের অস্তিত্বে বিশ্বাস করা কোনো অপরাধ নয়, কারণ কাউকে বা কোনোকিছু ভালবাসা বা ভালো না বাসা, কোনো কিছুর অস্তিত্বে বিশ্বাস করা বা না করা মানুষের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে করা কোনো কাজ নয়। আপনি ইচ্ছা করলেই কাউকে বা কোনোকিছু ভালবাসতে পারেন না বা ঘৃণা করতে পারেন না আবার আপনি ইচ্ছা করলেই কোনোকিছুর অস্তিত্বে বিশ্বাস করতে পারেন না বা অবিশ্বাস করতে পারেন না। মানুষের নিজের নিয়ন্ত্রণে করা যেকোনো কাজ যা আপনার পছন্দ নয় তাও আপনি অপরাধ বলে দাবি করতে পারেন না। ধরা যাক, বাম হাত দিয়ে ভাত খাওয়া আপনার পছন্দ নয় তাই বলে আপনি দাবি করতে পারেন না যে, বাম হাত দিয়ে ভাত খাওয়া একটি অপরাধ। ধরা যাক, সাপের মাংস খাওয়া আপনার একেবারেই পছন্দ নয়, তাই বলে আপনি দাবি করতে পারেন না যে, সাপের মাংস খাওয়া একটি অপরাধ। মানুষ নিজের ইচ্ছায় বা নিজের নিয়ন্ত্রণে যদি এমন কোনো কাজ করে যা অন্য কোনো মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না তাহলে সেই কাজকে অপরাধ বলা যায়না, কারণ সেই কাজকে অপরাধ বলে চিহ্নিত করার পেছনে কোনো অর্থপূর্ণ কারণ থাকে না। আমরা কোনো কাজকে অপরাধ বলে চিহ্নিত করতে চাইলে আমাদেরকে একটা অর্থপূর্ণ কারণ দেখাতে হবে যেই কারণে কাজটি নিষিদ্ধ হবে, যেই কারণে কাজটি করলে একজন মানুষের শাস্তি প্রাপ্য হবে। খুন করা একটি অপরাধ, কেন অপরাধ? কারণ খুন করা মানে একজন মানুষের ওপর শারীরিক এবং মানসিকভাবে জুলুম চালানো, একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া। ধর্মত্যাগ এমন একটি বিষয় যা মানুষ ইচ্ছা করে করতে পারেনা, যা মানুষের ইচ্ছার ওপর নিয়ন্ত্রিত নয়। একজন মানুষ চাইলেই তার ধর্মবিশ্বাস ত্যাগ করতে পারেনা, আবার চাইলেই অন্য একটি ধর্ম গ্রহণ করতে পারেনা। আপনি চাইলেই এক গ্লাস পানি নিয়ে পান করতে পারেন, আবার চাইলেই সেই এক গ্লাস পানি ছুড়ে ফেলে দিতে পারেন, আবার কোনো মানুষ চাইলে আপনাকে জোর করে পানি পান করাতে পারে। ধর্মত্যাগ পানি পান করার মতো কোনো বিষয় না যে আপনি ইচ্ছা করলেই ধর্মত্যাগ করতে পারবেন বা কেউ আপনাকে মারধোর করে জোর করে ধর্মগ্রহন করাতে পারবে আর এমন একটা বিষয়কে কোনোভাবেই অপরাধ বলে দাবি করা যায় না! আবার, ধর্মত্যাগ এমন কোনো বিষয়ও নয় যে, আমি ধর্মত্যাগ করলে আপনি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বা আপনি ধর্মত্যাগ করলে আমি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সুতরাং, ধর্মত্যাগকে কোনোভাবেই অপরাধ বলে দাবি করা যায় না। ধর্মত্যাগ করার কারণে মৃত্যু একজন ধর্মত্যাগীর পাওনা কোনোভাবেই নয়। অতএব, তথাকথিত শান্তির দূত হযরত মুহাম্মদ ইসলাম ত্যাগীদের হত্যা করতে বলে প্রকৃত পক্ষে নিরপরাধ মানুষ হত্যা করতে বলেছেন।

ইসলাম এমনই একটি ধর্ম যেই ধর্মের কাছে প্রত্যেক মুসলিমই এক একজন বন্দি। ইসলাম অনুযায়ী প্রত্যেক মুসলিমই ইসলামের কাছে বা মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কাছে বা মুসলিমদের কাছে জিম্মি। ইসলাম নামক বর্বর মতাদর্শ বলে, একজন মুসলিম যদি নিজের ভেতর ইসলামের জন্য আর কোনো বিশ্বাস খুঁজে না পায় এবং সে যদি বলে আমি আর ইসলামে বিশ্বাস করিনা তাহলে তাকে জবাই করার বা শিরচ্ছেদ করার অধিকার মুসলিমরা রাখে। কি জঘন্য আর কি হিংস্র একটা ব্যাপার ভাবা যায়?

ইসলামের এমন হিংস্র রূপের সাথে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন সমূহের দারুণ সাদৃশ্য রয়েছে। আপনি যদি বড় কোনো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্য হন তাহলে আপনি চাইলেই সেই সন্ত্রাসবাদের জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। আপনি যদি সেই সন্ত্রাসবাদের জীবন থেকে বেরিয়ে এসে একজন ভালো মানুষ হয়ে জীবন যাপন করতে চান তাহলে আপনি তা করতে পারবেন না, আপনাকে সেই সন্ত্রাসবাদের জীবনেই পঁচে মরতে হবে। কারণ সন্ত্রাসীরা তাদের সহচরদের সন্ত্রাসবাদ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুযোগ দেয়না, কেউ তাদের সংগঠন থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে তারা তাকে হত্যা করে ফেলে। ঠিক একইভাবে একজন মানুষ মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে মুসলিম হয়ে বড় হলে বা কোনো অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করলে তিনি আর ইসলাম থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন না, ইসলাম তাকে হত্যা করে ফেলার আদেশ দেয়।

বর্বর মুহাম্মদ যিনি কোনোভাবেই সর্বসময়ের জন্য আদর্শ নন বুঝতে পারেননি যে, একজন মানুষ ইসলাম ত্যাগ করলেই তাকে হত্যা করার অধিকার কারো নেই। বর্বর মুহাম্মদের মধ্যে এই সামান্য নৈতিকতাবোধও ছিলনা যে তিনি বুঝতে পারেননি, কেউ তার বিশ্বাসের মত বিশ্বাস ধারণ না করলেই বা কেউ তার বিশ্বাসের সাথে দ্বিমত পোষণ করলেই তাকে হত্যা করা যাবে না। একজন ইসলাম ত্যাগী মানুষের জীবন মুসলিমদের নিজেদের বানানো ধনদৌলত নয় যে, তাদের বিশ্বাসে আর বিশ্বাসী না হতে পারলে তারা তার জীবন কেড়ে নিবে! ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে বিশ্বাস করেন এমন অসংখ্য মানুষ জানেনই না যে, ইসলামে এমন জঘন্য একটি আইন রয়েছে। নতুন প্রজন্মের অসংখ্য তরুণ তরুণী আছে যারা ইসলামের ‘ই’ নিয়ে কোনো জ্ঞান রাখুক আর না রাখুক, নিজের জীবনে ইসলামী জীবনব্যবস্থার কোনো প্রয়োগ করুক আর না করুক তাদের ভেতরে ইসলামের জন্য খুব গর্ব কাজ করে, খুব ভালোবাসা কাজ করে। কারণ, ইসলাম তাদের বাবা মায়ের ধর্ম, কারণ ইসলামকেই তারা ছোটবেলা থেকে প্রিয়জনদের কাছে সত্য জেনে এসেছে, কারণ ইসলাম নিয়েই তারা ছোটবেলা থেকে ভালো ভালো কথা জেনে এসেছে, কারণ আশেপাশের বেশিরভাগ মানুষকেই তারা ইসলামের অনুগত হতে দেখেছে। খুবই দুঃখজনক ব্যাপার, এসব তরুণ তরুণীদের একটি বিশাল অংশ জানেইনা যে, ইসলাম এমনই একটি ধর্ম যেই ধর্ম কেউ ত্যাগ করলে সেই ধর্ম তাকে হত্যা করতে বলে। ইসলামের আইন বিষয়ে যাদের কমবেশি জানাশোনা আছে যারা কমবেশি হাদিস নিয়ে ঘাটাঘাটি করেছেন তারা সবাই জানেন যে, কেউ ইসলাম ত্যাগ করলে তার শাস্তি মৃত্যু এবং তারা খুব সহজেই তা মেনে নেন, কেননা তাদের কাছে তা আল্লাহ্ প্রদত্ত আইন। ঠিক তারাই আবার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারবেন না যদি কোনো খ্রিস্টান তার পারিবারিক ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করায় খ্রিস্টান মৌলবাদীরা তাকে হত্যা করে। আপনার কি মনে হয় কি হতে পারে যদি আমেরিকার দশজন খ্রিস্টান তাদের পারিবারিক ধর্ম খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং সেইজন্য আমেরিকার খ্রিস্টানরা শাস্তি হিসাবে তাদের জনসমক্ষে জবাই দেয়? আপনি আমি আমরা সবাই খুব ভালো করেই জানি যে পৃথিবীর কোনো মুসলিম তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারবে না। পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে মুসলিমরা প্রতিবাদ জানাবেন, আমেরিকার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও আপলোড করবেন পাশাপাশি হ্যাশট্যাগের বন্যাও বয়ে যাবে, তাদের দেশে দুই একটা চার্চ থাকলে সেসব ধ্বংস করে ফেলা হবে। এখন একই ধরনের ঘটনা যদি কোনো কট্টরপন্থী ইসলামিক দেশে ঘটে, যদি সৌদি আরবের দশজন মুসলিম তাদের পারিবারিক ধর্ম ইসলাম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করে এবং সেইজন্য যদি শাস্তি হিসেবে তাদেরকে জনসমক্ষে জবাই দেওয়া হয় তাহলে মুসলিমদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? তখন তারা কোনো প্রতিবাদ করবে না এবং তাদের প্রতিক্রিয়া হবে শূন্য, কেননা তাদের কাছে ইসলাম ত্যাগী হত্যা করা আল্লাহ প্রদত্ত আইন। একজন খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হওয়া লোককে তার ধর্মত্যাগের জন্য হত্যা করা হলে তা যেমন মুসলিমদের কাছে জঘন্য বর্বরতা বলে মনে হবে তেমনি একজন ইসলাম ত্যাগীকে তার ইসলাম ত্যাগের জন্য হত্যা করাও জঘন্য বর্বর কাজ আর এরকম জঘন্য বর্বর আইন কোনো সুবিচারক ঈশ্বরের হতে পারে না। একটু খেয়াল করে দেখুন, ইসলাম যে কেবল একজন মানুষের মনমানসিকতাকে বর্বর করে দেয় তা নয়, ইসলাম যে কেবল একজন মানুষের বিবেককে ধ্বংস করে দেয় তা নয়, ইসলাম মানুষকে একজন বিশাল বড় হিপোক্রেটে পরিণত করে। একজন প্রকৃত মুসলিম হতে হলে, আপনাকে অবশ্যই অন্যান্য ধর্মের মানুষদের ধর্মত্যাগের স্বাধীনতা সমর্থন করতে হবে, ঠিক একই সাথে ইসলাম ত্যাগীদের হত্যা করার আইন সমর্থন করতে হবে। চিরচেনা এই নীল দুনিয়ায় এরচেয়ে বড় হিপোক্রেসি আর কি হতে পারে!!

এবার আপনার মনে হতে পারে আমি এযাবৎ যা বললাম সব মিথ্যা সব ভুল, আপনার মনে হতে পারে আমি ইসলাম নিয়ে মিথ্যাচার করছি, আপনার মনে হতে পারে আমি হাদিসের অপব্যাখ্যা দিচ্ছি, আপনার মনে হতে পারে ইসলাম আমাকে মা বোনের সাথে যৌন সংগম করার স্বাধীনতায় বাধা দেয় বলে বা মদ খাওয়ার স্বাধীনতায় বাধা দেয় বলে আমি ইসলাম নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ কথা বলছি। আপনি কি মনে করলেন আর কি মনে করলেন না তা আপনার মনেই রাখুন, আপনি কিছু মনে করেন আর না করেন একটা কথা আমি আপনাকে অবশ্যই বলবো আর সেটা হচ্ছে, এযাবৎ যা বললাম তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না, যাচাই বাছাই করে সত্য খুঁজার চেস্টা করুন, তারপর নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে নিজেই চিন্তা করে দেখুন। কেবল আমি কি বললাম তা দিয়েই কোনো সিদ্ধান্তে আসার কোনো দরকার নেই। ইসলামের বড় বড় পন্ডিতরা এবিষয়ে কি বলেছেন তাও জানতে হবে।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হচ্ছে মালিক ইবনে আনাস এর সংকলিত একটি হাদীস।  মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদীস গ্রন্থকে সিহাহ সিত্তাহ এর একটি গ্রন্থ বলে মনে করেন। তিনি প্রায় একলক্ষ হাদীস থেকে যাচাইবাছাই করে প্রায় একহাজার নয়শ হাদীস সংকলন করেছেন। বইটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন এখান থেকে। খণ্ড ১, খণ্ড ২

বইটিতে ধর্মত্যাগীদের সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে যা বলা হয়েছে, তা হচ্ছে

২০ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম স্কলারদের মধ্যে একজন সাইয়েদ আবু আ’লা মওদূদী‘র প্রখ্যাত গ্রন্থ মুরতাদের শাস্তি গ্রন্থে এই বিষয়ে যা লেখা রয়েছে, তা এই পোস্ট থেকে পড়তে পারেন।

অন্যতম জনপ্রিয় ইসলামিক ওয়েবসাইট “ইসলাম জিজ্ঞাসা এবং জবাব” এ একজন অমুসলিম এবিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই অমুসলিমের প্রশ্নের জবাবে শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ আলোচ্য বিষয় নিয়ে পরিষ্কারভাবে কিছু আলোচনা তুলে ধরেছেন। আমি প্রথমে তার আলোচনা সরাসরি তুলে ধরবো এবং তারপরে সেই আলোচনার সমালোচনা করবো।

আপনার প্রশ্ন- “এই বিষয়টি বুঝা কঠিন যে, এক ব্যক্তি একটা কথা বলল, আর সে কথাটার কারণে তার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হবে…। আমি বিশ্বাস করি, আমরা যেহেতু মানুষ তাই এ ধরনের কোন রায় প্রকাশ করার অধিকার আমাদের নেই।” আপনার কথা সঠিক- কুরআন-হাদিসের দলিল ছাড়া কারো বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করার অধিকার কোন মানুষের নেই। যে কথার কারণে কারো বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয় সেটাকে মুসলিম স্কলারগণ ‘রিদ্দা’ (ইসলাম-ত্যাগ) হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন। কখন ব্যক্তির ‘রিদ্দা’ সাব্যস্ত হয়? এবং মুরতাদ (ইসলাম ত্যাগকারী) ব্যক্তির বিধান কী?

এক: রিদ্দা মানে- ইসলাম গ্রহণ করার পর কুফরিতে ফিরে যাওয়া।

দুই: কখন ব্যক্তির ‘রিদ্দা’ সাব্যস্ত হয়?

যে বিষয়গুলোতে লিপ্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কোন ব্যক্তির ‘রিদ্দা’ সাব্যস্ত হয়-তা চার প্রকার।

১. বিশ্বাসগতভাবে ইসলাম ত্যাগ করা। যেমন- আল্লাহর সাথে শিরক তথা অংশীদার স্থাপন করা, অথবা আল্লাহকে অস্বীকার করা অথবা আল্লাহ তাআলার সাব্যস্ত কোন গুণকে অস্বীকার করা।

২. কোন কথা উচ্চারণ করার মাধ্যমে ইসলাম ত্যাগ। যেমন- আল্লাহ তাআলাকে গালি দেয়া অথবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালি দেয়া।

৩. কর্মের মাধ্যমে ধর্মত্যাগ। যেমন-কোন নোংরা স্থানে কুরআন শরিফ নিক্ষেপ করা। এ কাজ আল্লাহর বাণীকে অবমূল্যায়নের নামান্তর। তাই এটি অন্তরে বিশ্বাস না থাকার আলামত। অনুরূপভাবে কোন প্রতিমাকে অথবা সূর্যকে অথবা চন্দ্রকে সিজদা করা।

৪. কোন কর্ম বর্জন করার মাধ্যমে ইসলাম ত্যাগ। যেমন- ইসলামের সকল অনুশাসনকে বর্জন করা এবং এর উপর আমল করা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুখ ফিরিয়ে নেয়া।

তিন: মুরতাদের হুকুম কী?

যদি কোন মুসলিম মুরতাদ হয়ে যায় এবং মুরতাদের সকল শর্ত তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় (সুস্থ- মস্তিস্ক, বালেগ, স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির অধিকারী হওয়া) তাহলে তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হবে এবং ইমাম তথা মুসলমানদের শাসক অথবা তাঁর প্রতিনিধি যেমন বিচারক তাকে হত্যা করবে। তাকে গোসল করানো হবে না, তার জানাযা-নামায পড়ানো হবে না এবং তাকে মুসলমানদের গোরস্থানে দাফন করা হবে না।

মুরতাদকে হত্যা করার দলিল হচ্ছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী “যে ব্যক্তি ধর্ম ত্যাগ করে তাকে হত্যা কর।” [সহিহ বুখারী (২৭৯৪)]। হাদিসে ধর্ম দ্বারা উদ্দেশ্য ইসলাম।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী- “যে মুসলিম ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল’ নিম্নোক্ত তিনটি কারণের কোন একটি ছাড়া তার রক্তপাত করা হারাম: হত্যার বদলে হত্যা, বিবাহিত ব্যভিচারী, দল থেকে বিচ্ছিন্ন-ধর্মত্যাগী।”[সহিহ বুখারি (৬৮৭৮) সহিহ মুসলিম (১৬৭৬)]।

দেখুন: মাওসুআ ফিকহিয়্যা (ফিকহি বিশ্বকোষ), খণ্ড-২২, পৃষ্ঠা- ১৮০

প্রিয় প্রশ্নকারী, এর মাধ্যমে আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, মুরতাদকে হত্যা করার বিষয়টি আল্লাহর আদেশেই সংঘটিত হয়ে থাকে। যেহেতু আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। “তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা কর্তৃত্বশীল তাদের আনুগত্য কর” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুরতাদকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে- “যে ব্যক্তি তার ধর্ম পরিবর্তন করেছে তাকে হত্যা কর।”

এ মাসয়ালার প্রতি সন্তুষ্ট হতে আপনার হয়তো কিছু সময় লাগতে পারে, কিছু চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হতে পারে। আপনি এ দিকটি একটু ভেবে দেখেন তো, একজন মানুষ সত্যকে অনুসরণ করল, সত্যপথে প্রবেশ করল এবং আল্লাহ তার উপর যে ধর্ম গ্রহণ করা আবশ্যক (ফরয) করে দিয়েছেন একমাত্র সে সত্য ধর্ম গ্রহণ করল। এরপর আমরা তাকে এই অবকাশ দিব যে, সে যখন ইচ্ছা অতি সহজে এই ধর্ম ত্যাগ করে চলে যাবে এবং কুফরি কথা উচ্চারণ করবে -যে কথা ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বহিষ্কার করে দেয়- এভাবে সে আল্লাহ, তাঁর রাসূল, তাঁর কিতাব, তাঁর ধর্মকে অস্বীকার করবে কিন্তু কোন শাস্তির সম্মুখীন হবে না। এই যদি হয় তাহলে তার নিজের উপর এবং অন্য যারা এই ধর্মে প্রবেশ করতে চায় তাদের উপর এর প্রভাব কেমন হবে? আপনার কি মনে হয় না, এ রকম সুযোগ দিলে এই মহান ধর্ম -যা গ্রহণ করা অনিবার্য- একটি উন্মুক্ত দোকানে পরিণত হবে। যে যখন ইচ্ছা এতে প্রবেশ করবে এবং যখন ইচ্ছা বের হয়ে যাবে। হতে পারে সে অন্যকেও ইসলাম ত্যাগে অনুপ্রাণিত করবে।

তাছাড়া এই ব্যক্তি তো এমন কেউ নয় যে সত্যকে জানেনি, ধর্মকর্ম, ইবাদত-বন্দেগি কিছুই করেনি। বরঞ্চ এই ব্যক্তি সত্যকে জেনেছে, ধর্মকর্ম করেছে, ইবাদত-অনুষ্ঠান আদায় করেছে। সুতরাং সে যতটুকু শাস্তি প্রাপ্য এটি তার চেয়ে বেশি নয়। এ ধরনের শাস্তি শুধু এমন এক ব্যক্তির জন্য রাখা হয়েছে যে ব্যক্তির জীবনের কোন মূল্য নেই। কারণ সে ব্যক্তি সত্যকে জেনেছে, ইসলামের অনুসরণ করেছে এরপর তা ছেড়ে দিয়েছে। অতএব এ ব্যক্তির আত্মার চেয়ে মন্দ কোন আত্মা আছে কি?

সারকথা হচ্ছে- আল্লাহ তাআলা এই ধর্ম নাযিল করেছেন এবং তিনি এই ধর্ম গ্রহণ করা অপরিহার্য করেছেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পর ইসলাম ত্যাগকারীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছেন। এই শাস্তি মুসলমানদের চিন্তাপ্রসূত নয়, পরামর্শভিত্তিক নয়, ইজতিহাদনির্ভর নয়। বিষয়টি যেহেতু এমন তাই আমরা যাঁকে রব্ব হিসেবে, ইলাহ হিসেবে মেনে নিয়েছি তাঁর হুকুমের অনুসরণ করতেই হবে।

আল্লাহ আমাদেরকে ও আপনাকে তাঁর পছন্দীয় ও সন্তোষজনক আমল করার তাওফিক দিন। আমরা পুনরায় আপনার ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

যে ব্যক্তি হেদায়েত গ্রহণ করেছে তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।

শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ

শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ তার আলোচনায় স্বীকার করেছেন যে, কেউ ইসলাম ত্যাগ করলে তাকে হত্যা করতে হবে। তিনি ইসলামের এমন বর্বর আইনকে সমর্থনযোগ্য করে তুলতে কিছু অজুহাতের আশ্রয় নিয়েছেন। যদিও তিনি যেসব অজুহাতের আশ্রয় নিয়েছেন সেসব অজুহাত যে একেবারেই যুক্তিহীন এবং এভাবে যে একজন ধর্মত্যাগীকে হত্যা করা সমর্থনযোগ্য করা যায়না তা আমার উপরের আলোচনাতেই পরিষ্কার, তবুও আমি আলাদাভাবে তার আলোচনার অসারতা তুলে ধরছি।

মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ মনে করেন, কোনো মানুষ সত্য ধর্ম যেই ধর্ম গ্রহণ করা আল্লাহ্ আবশ্যক করেছেন গ্রহণ করলে সেই ধর্ম ত্যাগ করে আল্লাহ্ রাসূলকে অস্বীকার করলে তার শাস্তি পাওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, মুসলিমদের যদি ইসলাম ত্যাগের স্বাধীনতা থাকে তাহলে অন্য যারা ইসলামে প্রবেশ করতে চায় তাদের ওপর একটা প্রভাব পড়বে, তারা হয়তো আর ইসলামে প্রবেশ করতে চাইবে না, তাই একজন ইসলাম ত্যাগীকে হত্যা করা উচিত। তিনি আরও মনে করেন, একজন ইসলাম ত্যাগী অন্যদেরও ইসলাম ত্যাগে অনুপ্রাণিত করতে পারে, তাই একজন ইসলাম ত্যাগীকে হত্যা করা উচিত। তিনি এও মনে করেন যে, আল্লাহ্ ইসলাম ত্যাগীদের হত্যা করার আইন দিয়েছেন বলেই ইসলাম ত্যাগীদের হত্যা করা উচিত।

প্রথমত, সত্য ধর্ম মিথ্যা ধর্ম যার যার বিশ্বাসের ব্যাপার। একজন মুসলিমের কাছে কেবল ইসলাম সত্য ধর্ম এবং বাকি সব মিথ্যা ধর্ম আবার, একজন খ্রিস্টানের কাছে কেবল খ্রিস্টান ধর্ম সত্য ধর্ম এবং বাকিসব মিথ্যা ধর্ম। ইসলামের মধ্যে থাকা একজন মুসলিমের কাছে ইসলাম সত্য ধর্ম হলেও একজন ইসলাম ত্যাগীর কাছে ইসলাম সত্য নয়। “ইসলাম ধর্ম সত্য ধর্ম” এবং “সত্য ধর্ম ত্যাগকারীর শাস্তি হওয়া উচিত” দুটোই আপনার বিশ্বাস। আপনি কি বিশ্বাস করেন আর কি বিশ্বাস করেন না তা দিয়ে তো আপনি কারো জীবন মরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখেন না। “খ্রিস্টান ধর্ম সত্য ধর্ম” এটা খ্রিস্টানদের বিশ্বাস, এখন খ্রিস্টানরা যদি বলে কেউ খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করলে তাকে হত্যা করা উচিত তাহলে তা আপনি মেনে নিতে পারবেননা। কেননা খ্রিস্টানরা খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগীদের হত্যা করতে থাকলে খ্রিস্টানরা ইসলামে আসতে পারবে না, যা আপনি অবশ্যই চাইবেন না।

দ্বিতীয়ত, আপনার যেমন নিজের বিশ্বাস প্রচার করে অন্যের ওপর প্রভাব আনার অধিকার আছে। তেমনি একজন অবিশ্বাসীরও তার অবিশ্বাস প্রচার করার অধিকার আছে। আপনি যদি মনে করেন, একজন ইসলাম ত্যাগী মানুষ অন্যের কাছে ‘ইসলাম সত্য নয়’ কথাটি প্রচার করলে তাকে হত্যা করা উচিত, তাহলে আপনার এটিও মেনে নেওয়া উচিত যে, একজন মুসলিম খ্রিস্টানদের কাছে ‘খ্রিস্টান ধর্ম সত্য নয়’ কথাটি প্রচার করলে সেই মুসলিমকে হত্যা করা উচিত। একজন ইসলাম ত্যাগী অন্যদেরকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে বলে তাকে হত্যা করা যদি সমর্থনযোগ্য হয় তাহলে একজন ইসলাম প্রচারককেও হত্যা করা সমর্থনযোগ্য বলে অমুসলিমরা দাবি করতে পারে। কেননা একজন ইসলাম প্রচারক একজন হিন্দুকে হিন্দু ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারে, একজন ইহুদিকেও এবং একইভাবে একজন খ্রিস্টানকেও।

তৃতীয়ত, “ইসলাম ত্যাগকারী ব্যক্তিকে হত্যা করতে হবে” আইনটি যে আল্লাহ্ প্রদত্ত আইন, তা মুসলিমদের বিশ্বাস মাত্র। প্রকৃতপক্ষে এরকম জঘন্য বর্বর আইন দ্বারাই একজন মানুষ বুঝতে পারেন যে ইসলাম ধর্ম অাদৌ কোনো ঈশ্বর প্রদত্ত ধর্ম কিনা। এরকম বর্বর আইন যে কোনো সুবিচারক ঈশ্বরের আইন নয় তা আমরা আমাদের নূন্যতম বোধশক্তি থেকে বুঝতে পারি। আল্লাহ্ ইসলাম ত্যাগীদের হত্যা করার আইন দিয়েছেন বলে মুহাম্মদ ইসলাম ত্যাগীদের হত্যা করতে বলেছেন বলে ইসলাম ত্যাগীদের হত্যা করা গ্রহণযোগ্য, এধরনের মনমানসিকতা থেকেই বুঝা যায় যে ধর্মান্ধতা কতোটা খারাপ এবং ধর্ম মানুষকে কতোটা বিবেকহীন করে দিতে পারে। আল্লাহ্ এবং তার নবী ধর্ষণ করা বৈধ করলেই আমি ধর্ষণ করতে পারিনা বা ধর্ষণ করাকে সমর্থন করতে পারি না। আমি বরং সেই ধর্ষণের বৈধতা দিয়ে বুঝে নিবো আল্লাহর কোনো সত্যতা নেই এবং সেই তথাকথিত নবীর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। কেননা, আমার নূন্যতম বোধশক্তি বলে, কোনো সুবিচারক ঈশ্বর এবং তার শান্তির দূত কোনোভাবেই এতোটা জঘন্য হতে পারেনা।

Marufur Rahman Khan

Ex-Muslim Atheist - Feminist - Secularist

2 thoughts on “ইসলাম এবং ধর্মত্যাগ

  • November 24, 2018 at 8:12 am
    Permalink

    শিক্ষিত মানুষ কি ভাবে যে একদিকে বিবর্তনবাদ পড়ে অন্য দিকে আদম হাওয়া বিশ্বাস করে বুঝিনা…

    Reply
  • November 24, 2018 at 2:17 pm
    Permalink

    ভালো মানুষদের ভালো হতে কোনো ধর্মের দরকার হয় না , আর খারাপ মানুষদের কোনো ধর্ম ভালো করতে পারে না ……প্লেটো .

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: