কুরআন কি আসলেই মহাবিশ্বের আদি অবস্থা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করে?

হারুন ইয়াহিয়ার মতো প্রথম সারির এপোলোজিস্টরা দাবি করেছেন, কুরআন নক্ষত্রের গঠন এবং মহাবিশ্বের প্রথম দিকের অগ্রগতির ধাপের সঠিক বর্ণনা তুলে ধরে৷ এই দাবিটি কোনোরকম সমালোচনামূলক নিরীক্ষণ ছাড়াই বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যাপকভাবে প্রচারিত এবং পুনরাবৃত্ত হয়েছে। এই দাবিটির মূল উপাদান হচ্ছে সূরা ফুসিলাতের একটি আয়াত। সূরা ফুসিলাত কুরআনের ৪১তম সূরা যা বলে, “আসমানসমূহ” একসময় ধোঁয়া ছিল। এপোলোজিস্টরা দাবি করেন, মহাবিশ্বের আদি অবস্থার এই তথ্য সপ্তম শতাব্দীর আরববাসীদের কাছে পরিচিত ছিল না এবং বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীতে এসেই মানুষ বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে এই তথ্য জানতে পেরেছে।

আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্ব

একটি মিরাকলের দাবি মূল্যায়ন করার আগে আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্ব বিষয়ক সঠিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। বিংশ এবং একবিংশ শতাব্দীতে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ এবং মহাবিশ্বতত্ত্ববিদরা আদি মহাবিশ্ব, নক্ষত্রসমূহ, ছায়াপথসমূহ এবং গ্রহসমূহের গঠনের বিশদ মডেল তুলে ধরেছেন। বিগ ব্যাঙ থিওরি এবং নেবুলার হাইপোথিসিস বৈজ্ঞানিক কমিউনিটিতে ব্যাপকভাবে সমর্থিত।

আদি মহাবিশ্বের প্রারম্ভিক সম্প্রসারণে কেবল ঘণ উত্তপ্ত শক্তির পিন্ড অস্তিত্বশীল ছিল। মহাবিশ্ব আকারে যত দ্রুত বাড়তে থাকলো, হাইড্রোজেন এবং হিলিয়ামের মতো লাইট কেমিক্যাল ততই গঠিত হতে থাকলো। প্রথম ৩৮০,০০০ বছর পর, মহাবিশ্ব উদ্ভবের তীব্র তাপ আলো জ্বলে ওঠার জন্য মহাবিশ্বকে প্রচন্ড উষ্ণ করে তোলে। পরমাণুসমূহ নিজেদের মধ্যে আছড়ে পড়বে নিউট্রন, প্রোটন ও ইলেকট্রন এর অত্যন্ত ঘন ও অস্বচ্ছ প্লাজমা তৈরি করতে। এই ধাপের পর, ইলেকট্রনসমূহকে প্রোটনসমূহের সাথে মিলিত হয়ে প্রথম বাস্তব উপাদান গঠন করতে মহাবিশ্ব যথেষ্ট সম্প্রসারিত এবং শীতল হয়েছিলো। ঠিক এই পর্যায়ে, ফোটনসমূহ স্বাধীনভাবে চলতে পেরেছিল এবং তখনই প্রথম আলোর উদয় হয়েছিল। [1]

হাইড্রোজেন এবং হিলিয়ামের এই মসৃণ, প্রায় বৈশিষ্ট্যহীন প্লাজমা শীতল এবং বিস্তৃত হতে থাকলো যতক্ষণ না সামান্য ত্রুটি গঠিত হল। তারপর মাধ্যাকর্ষণ প্রথম দিকের নক্ষত্র গঠন করতে কণাসমূহকে পরস্পরের দিকে টানলো। মহাবিশ্বের এই বিবর্তন আজকের দিনে রাতের আকাশে দৃশ্যমান ছায়াপথ, নক্ষত্র এবং নীহারিকা তৈরি করার জন্য ম্যাটার ডিস্ট্রিবিউশনের কনট্রাস্ট বৃদ্ধি করতে অব্যাহত ছিল। [2]

নক্ষত্রসমূহের উষ্ণ এবং ঘন অন্তস্তলে কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং লোহার মতো ভারী উপাদান গঠিত হয়। যখন এসব নক্ষত্র বিস্ফোরিত হবে তখন তারা এসব ভারী উপাদান বিক্ষিপ্ত করবে। অবশেষে, আজকের সৌরজগতের কোনো গ্রহের মতো গ্রহ গঠন করতে অন্যান্য নক্ষত্র থেকে মাধ্যাকর্ষণ এসকল ধ্বংসাবশেষ পরস্পরের দিকে টানবে। [3]

মুসলিমদের পক্ষ থেকে দাবি

আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্বের পর্যবেক্ষণীয় এবং তাত্ত্বিক বিজ্ঞান পরিষ্কারভাবেই ইংগিত প্রদান করে যে, একটি পর্যায়ে পুরো মহাবিশ্ব কেবল ধোঁয়ার মেঘ হয়েছিল। এটি আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্বের অন্যতম একটি অবিতর্কিত নীতি। বিজ্ঞানীরা এখন সেই ধোঁয়ার অবশিষ্টাংশ থেকে নতুন নক্ষত্রের গঠন হওয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। (চিত্র ১ এবং ২ দেখুন)

Figure 1: A new star forming out of a cloud of gas and dust (nebula), which is one of the remnants of the ‘smoke’ that was the origin of the whole universe. (The Space Atlas, Heather and Henbest, p. 50.)
Figure 2: The Lagoon nebula is a cloud of gas and dust, about 60 light years in diameter. It is excited by the ultraviolet radiation of the hot stars that have recently formed within its bulk. (Horizons, Exploring the Universe, Seeds, plate 9, from Association of Universities for Research in Astronomy, Inc.)

রাতে আমাদের দেখতে পাওয়া উদ্ভাসক নক্ষত্রসমূহ একসময় ঠিক সেরকম ছিলো যেরকম পুরো মহাবিশ্ব ছিলো সেই ধোঁয়ার উপাদানে।

আল্লাহ্ কুরআনে বলেছেন :

41:11

ثُمَّ اسۡتَوٰۤی اِلَی السَّمَآءِ وَ ہِیَ دُخَانٌ فَقَالَ لَہَا وَ لِلۡاَرۡضِ ائۡتِیَا طَوۡعًا اَوۡ کَرۡہًا ؕ قَالَتَاۤ اَتَیۡنَا طَآئِعِیۡنَ ﴿۱۱﴾

তারপর নজর দিয়েছেন আকাশের দিকে যখন তা ছিল ধোঁয়া। তখন তিনি আকাশ আর পৃথিবীকে বললেন- আমার অনুগত হও, ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। উভয়ে বলল- আমরা স্বেচ্ছায় অনুগত হলাম।

যেহেতু পৃথিবী এবং উপরের আসমানসমূহ (সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রসমূহ, গ্রহসমূহ, ছায়াপথসমূহ ইত্যাদি) এই একই ধোঁয়া থেকে গঠিত হয়েছিল সেহেতু আমরা এ সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, পৃথিবী এবং আসমানসমূহ ছিল এক সংযুক্ত সত্ত্বা। তারপর এই সমরুপ ধোঁয়া থেকে তারা গঠিত হয় এবং একে অপর থেকে আলাদা হয়।

আল্লাহ্ কুরআনে বলেছেন :

21:30

اَوَ لَمۡ یَرَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ کَانَتَا رَتۡقًا فَفَتَقۡنٰہُمَا ؕ وَ جَعَلۡنَا مِنَ الۡمَآءِ کُلَّ شَیۡءٍ حَیٍّ ؕ اَفَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۳۰﴾

অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশ আর যমীন এক সঙ্গে সংযুক্ত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে আলাদা করে দিলাম, আর প্রাণসম্পন্ন সব কিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?

ড. আলফ্রেড ক্রোনার পৃথিবীর প্রখ্যাত ভূতত্ত্ববিদদের একজন। তিনি ভূতত্ত্ব অধ্যাপক এবং জোহানেস গুটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের Institute of Geosciences এর ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান। তিনি বলেছেন, “ভাবছি মুহাম্মদ কোথা থেকে আসলো . . . আমার মনে হয়, এটি প্রায় অসম্ভব যে সে মহাবিশ্বের সাধারণ উৎসের মতো বিষয় জানতে পারতো। কেননা বিজ্ঞানীরা মাত্র গত কয়েক বছরের মধ্যে খুবই জটিল এবং অগ্রবর্তী প্রযুক্তিক পদ্ধতির সাহায্যে জানতে পেরেছিল যে, এই হচ্ছে ঘটনা।” তিনি আরও বলেন, “চৌদ্দশ বছর আগের একজন মানুষ যিনি পারমানবিক পদার্থবিদ্যা বিষয়ক কোনো জ্ঞান রাখেন না, আমি মনে করি, তিনি নিজে নিজে জানতে পারবেন না যে, পৃথিবী এবং আকাশের উৎস একই।”

“The Quran on the Origin of the Universe” (archived)
I. A. Ibrahim, Islam-Guide, accessed December 19, 2013.

বিশ্লেষণ

ধোঁয়ার সংজ্ঞা

যেহেতু পুরো আলোচনা “আসমান” কে “ধোঁয়া” হিসেবে উল্লেখ্য করা নিয়ে, সেহেতু এমন দাবি এসেছে যে ধোঁয়া শব্দটি আদি মহাবিশ্বের অবস্থা ব্যাখ্যা করার জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় :

আয়াতটিতে উল্লেখিত ধোঁয়ার আরবি শব্দ হল “দুখা-নুন” যা সৃষ্টিসংক্রান্ত উষ্ণ ধোঁয়াকে নির্দেশ করে। কুরআনের শব্দটি খুব যথাযথভাবেই এই ধোঁয়াকে বর্ণনা করে কারণ, এটি কঠিন পদার্থের সাথে জড়িত চলনশীল কণা ধারণকারী গ্যাসের উষ্ণ রূপ। এখানে কুরআন মহাবিশ্বের এই অগ্রগতির পর্বের উপস্থিতির বর্ণনা দিতে আরবি ভাষার সবচেয়ে যথাযথ শব্দ প্রয়োগ করেছে। মনে রাখতে হবে, মাত্র বিংশ শতাব্দীতেই বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, মহাবিশ্ব ধোঁয়ার গঠনে এক উষ্ণ গ্যাস থেকে উদিত হয়েছে।

“Creation from Hot Smoke” (archived)
Harun Yahya, Miracles of the Qur’an, accessed December 19, 2013

এই দাবিটি একটি লজিক্যাল ফ্যালাসি গঠন করেছে ; ধোঁয়া এবং তাদের আদি মহাবিশ্বের সংজ্ঞার মধ্যে একটি ‘ভুল সাম্য’ তুলে ধরেছে : একটি অস্বচ্ছ অত্যন্ত ঘন এবং একটি উষ্ণ বায়বীয় মিশ্রণ অথবা, কেবল “উষ্ণ গ্যাস”। ধোঁয়ার প্রকৃত সংজ্ঞা নিচে উল্লেখ্য করা হলো :

Smoke (noun \ˈsmōk\)

The cloud of black, gray, or white gases and dust that is produced by burning something.

. . .

The gaseous products of burning materials especially of organic origin made visible by the presence of small particles of carbon. [4]

আদি মহাবিশ্ব এবং ধোঁয়ার মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই। আদি মহাবিশ্ব ছিল অত্যন্ত ঘন এবং ধোঁয়া কোনোভাবেই ঘন নয় ; কার্যত, ধোঁয়া একদম বাষ্পীয়। ধোঁয়া কখনো কখনো গরম হয় আবার, কখনো নয়।

একক শব্দের বর্ণনা

আলোচ্য দাবিটিতে আগেই মেনে নেওয়া হয়েছে যে, কুরআনের বক্তা অবশ্যই এক শব্দের ব্যবহার করে মহাবিশ্বের আদি অগ্রগতির ধাপ বর্ণনা করেছেন। যাইহোক না কেন, কেউই সন্তুষ্ট হবেন না যদি একজন বিজ্ঞানী এক শব্দ দ্বারা নক্ষত্রসমূহের গঠন বর্ণনা করেন। এমনকি ইসলাম প্রচারকরাও উপলব্ধি করতে পারেন যে, এক শব্দের বর্ণনা এমন জটিল একটি বিষয়কে প্রকাশ করতে যথেষ্ট নয়, যেই কারণে তারা তাদের পয়েন্ট দাঁড় করানোর জন্য মহাবিশ্বের এই অবস্থাকে বর্ণনা করতে বহু শব্দ এমনকি একটি শর্ট প্যারাগ্রাফও ব্যাবহার করেন।

কুরআনের বক্তা খুব বিস্তারিতভাবে বলেছেন যে, আপনি কাকে বিয়ে করতে পারেন ও কাকে নয় এবং কিভাবে সম্পদ ভাগাভাগি করতে হবে। তাছাড়াও কুরআন বহুবার গল্পসমূহ পুনরায় বলে। এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এটি যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করা কঠিন যে কেন মহাবিশ্বের গঠনের মতো এতো জটিল কোনোকিছু বর্ণনা করতে এতো বিরল তথ্য ব্যবহার করা হল।

নেবুলা এবং মিল্কিওয়ে

তারপর দাবিটি দূরবর্তী নীহারিকার ছবি ব্যাবহার করেছে যা কেবল আধুনিক টেলিস্কোপের সাহায্য দ্বারা দৃশ্যমান। নিচে উল্লেখিত রাতের আকাশের অন্য একটি চিত্র দূরবর্তী নীহারিকার চেয়ে অনেক বেশি ধোঁয়ার স্মারক এবং এখানে পৃথিবীতে এটি খালি চোখে দেখা যেতে পারে। রাতের আকাশে মিল্কিওয়েকে ধোঁয়া হিসেবে কল্পনা করতে ঐশ্বরিক দৈববাণী কিংবা অগ্রসর বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। খুব সহজেই বুঝা যায় যে, সপ্তম শতাব্দীতে মরুভূমি থেকে আকাশে তাকিয়ে থাকা একজন মানুষ কিভাবে মিথটি আবিষ্কার করতে পারে।

The Milky Way as observed from earth (fisheye view)
Cloud of smoke rising on the horizon

কুরআনের আয়াতের প্রসঙ্গ

মুসলিমরা তাদের ধর্মকে ঐশ্বরিক ধর্ম হিসেবে প্রমাণ করার উদ্দেশে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের অল্প একটু অংশ উল্লেখ্য করে তা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে জোর করে। মিলানোর চেস্টা করে। কুরআনে মিরাকল আছে বলে দাবি করে তারা যেসব আয়াত উল্লেখ্য করে সেইসব আয়াতের আগে পরের আয়াত তারা কখনোই উল্লেখ্য করেনা, আয়াতটি কি প্রসঙ্গে কি বলছে তা তারা এড়িয়ে যায়।

এখানে মুসলিমদের মূল দাবি হচ্ছে, আলোচ্য আয়াতটি মহাবিশ্বের আদি অগ্রগতির ধাপ বর্ণনা করে। যদিও তারা আগে পরের আয়াত কি বলছে ত উল্লেখ্য করেননি, এমনকি যেই আয়াতে মিরাকল আছে বলে দাবি করা হয়েছে সেই আয়াতও পুরোপুরি উল্লেখ্য করেননি। আমি আগে পরের আয়াতসহ পুরো আয়াতটি তুলে ধরছি :

41:9

قُلۡ اَئِنَّکُمۡ لَتَکۡفُرُوۡنَ بِالَّذِیۡ خَلَقَ الۡاَرۡضَ فِیۡ یَوۡمَیۡنِ وَ تَجۡعَلُوۡنَ لَہٗۤ اَنۡدَادًا ؕ ذٰلِکَ رَبُّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۚ﴿۹﴾

বল- তোমরা কি তাঁকে অস্বীকারই করছ যিনি যমীনকে সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে আর তাঁর সমকক্ষ বানাচ্ছ? তিনিই তো বিশ্বজগতের রব্ব।

41:10

وَ جَعَلَ فِیۡہَا رَوَاسِیَ مِنۡ فَوۡقِہَا وَ بٰرَکَ فِیۡہَا وَ قَدَّرَ فِیۡہَاۤ اَقۡوَاتَہَا فِیۡۤ اَرۡبَعَۃِ اَیَّامٍ ؕ سَوَآءً لِّلسَّآئِلِیۡنَ ﴿۱۰﴾

(যমীন সৃষ্টির পর) তার বুকে তিনি সৃদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, যমীনকে বরকতমন্ডিত করেছেন আর তাতে প্রার্থীদের প্রয়োজন মুতাবেক নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য সঞ্চিত করেছেন চার দিনে।

41:11

ثُمَّ اسۡتَوٰۤی اِلَی السَّمَآءِ وَ ہِیَ دُخَانٌ فَقَالَ لَہَا وَ لِلۡاَرۡضِ ائۡتِیَا طَوۡعًا اَوۡ کَرۡہًا ؕ قَالَتَاۤ اَتَیۡنَا طَآئِعِیۡنَ ﴿۱۱﴾

তারপর নজর দিয়েছেন আকাশের দিকে যখন তা ছিল ধোঁয়া। তখন তিনি আকাশ আর পৃথিবীকে বললেন- আমার অনুগত হও, ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। উভয়ে বলল- আমরা স্বেচ্ছায় অনুগত হলাম।

41:12

فَقَضٰہُنَّ سَبۡعَ سَمٰوَاتٍ فِیۡ یَوۡمَیۡنِ وَ اَوۡحٰی فِیۡ کُلِّ سَمَآءٍ اَمۡرَہَا ؕ وَ زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡیَا بِمَصَابِیۡحَ ٭ۖ وَ حِفۡظًا ؕ ذٰلِکَ تَقۡدِیۡرُ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡمِ ﴿۱۲﴾

অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে সাত আকাশে বিন্যস্ত করলেন দু’দিনে আর প্রত্যেক আকাশকে তার বিধি-ব্যবস্থা ওয়াহীর মাধ্যমে প্রদান করলেন। আমি আলোকমালার সাহায্যে দুনিয়ার আকাশের শোভাবর্ধন করলাম আর সুরক্ষার (ও ব্যবস্থা করলাম)। এ হল মহা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর সুনির্ধারিত (ব্যবস্থাপনা)।

উপরে উল্লেখিত আয়াতসমূহ থেকে আমরা জানতে পারছি, কুরআনের বক্তা বলেছেন, আল্লাহ্ আসমান তৈরি করার আগে পৃথিবী তৈরি করেছেন। উপরের আয়াতসমূহ পৃথিবীর সবার আগে তৈরি হওয়া এবং পরে তাতে পাহাড় পর্বত ও খাদ্য তৈরি হওয়ার সময়ানুক্রমিক হিসাব প্রদান করে। পৃথিবী তৈরি করার এবং তা পাহাড় পর্বত ও খাদ্য দ্বারা সাজানোর পরেই আল্লাহ্ সাত আসমান, চন্দ্র সূর্য এবং নক্ষত্র তৈরি করেন। আয়াত ১১ তে দেখা যায়, আল্লাহ্ আকাশ এবং পৃথিবীর সাথে কথা বলছেন। পৃথিবী যদি সবার আগে তৈরি নাহয় তাহলে আল্লাহ্ কিভাবেই বা পৃথিবীর সাথে কথা বলতে পারলো? রেডিওমেট্রিক ডেটিং থেকে জানা যায়, পৃথিবী প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে গঠিত হয়, মহাবিশ্ব প্রথম সম্প্রসারিত হওয়ার প্রায় ৯ বিলিয়ন বছর পর। [5] কুরআনের বক্তা এবিষয়ে কিছুই জানতেন না এবং তাই তিনি দাবি করেছেন যে, পৃথিবী এবং এই “ধোঁয়া” একই সময়ে অস্তিত্বশীল ছিল। কুরআন অনুযায়ী, যখন পৃথিবী অস্তিত্বশীল ছিল তখনও নক্ষত্রসমূহ তৈরি করা হয়নি বা তাদের অস্তিত্ব ছিল না।

বিজ্ঞানীদের সমর্থন

যখন ড. আলফ্রেড ক্রোনার জার্মানিতে ভূতত্ত্ব অধ্যাপক ছিলেন তখন তিনি কখনোই কুরআনকে বৈজ্ঞানিক তথ্যের জন্য নির্ভুল উৎস হিসেবে সমর্থন দেননি। ২০১১ তে ক্রোনারের সাথে পরিচালিত একটি ইন্টারভিউ ভিডিও নিশ্চিত করে যে, তার আশির দশকের মন্তব্যসমূহ অপ্রাসঙ্গিক ভাবে নেওয়া হয়েছে। [6] তিনি বর্তমানেও কুরআনের সৃষ্টিতত্ত্ব সমর্থন করেন না এবং সেই ইন্টারভিউ এর সময়ও করেননি। তিনি স্বীকার করেছেন যে, কুরআনের বিভিন্ন অংশ আধুনিক বিজ্ঞান সমর্থন করেনা এবং সেইসব পুরোপুরিই অবৈজ্ঞানিক ও পৌরাণিক।

তথ্যসূত্র

    1.  Denise Chow, “The Universe: Big Bang to Now in 10 Easy Steps”, SPACE.com, October 18, 2011(archived).
    2. Sean Carroll, “Cosmology Primer: The Early Universe”, Preposterous Universe, accessed December 20, 2013 (archived).
    1. Space Telescope Science Institute, “How do Planets Form”, HubbleSite, accessed December 20, 2013 (archived).
    2.  “Smoke”, Merrian-Webster, accessed December 19, 2013 (archived).
    1. “Age of the Earth”, U.S. Geological Survey, July 9, 2007 (archived).
  1. TheRationalizer, “Alfred Kröner – Quote mined scientist denounces Quran miracle claims”, YouTube (video), March 21, 2011.

মূল : WikiIslam

Facebook Comments

Marufur Rahman Khan

Atheist, Feminist

Leave a Reply

%d bloggers like this: