ইসলামিক নিমিত্ত এবং প্রত্যুত্তরে

আমি কখনোই ধর্ম নিয়ে কারো সাথে সরাসরি তর্কে জড়াই না, এমনকি জড়ানো পছন্দও করি না। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমি গলায় রক্ত আসা পর্যন্ত গদি গদি উদাহরণ আর রেফারেন্স দিয়েছি, অথচ অভিজ্ঞতা সেই একই “সাতখন্ড রামায়ণ পাঠের পর, সীতা কার বাপ?” রূপক প্রশ্ন নিয়ে ফিরত আসতে হয়েছে। তাছাড়া আপনি একটা বিষয়ের উপর আপনার ঘিলুতে থাকা সর্বোচ্চ তথ্য দিয়ে যাবেন অথচ দিনশেষে উত্তর আসবে “মিয়া তুমি নাস্তিক?”

হ্যা আমি নাস্তিক, তো? সত্য উন্মোচন আর মিথ্যার পর্দা ফাস করাটা যদি নাস্তিকের কাজ হয় তাহলে আমি নাস্তিক পরিচয় দিতে নিজে গর্ভবোধ করি। যদি গোজামিল আর গাজাখোরী গল্প না মেনে নিয়ে কাফির উপাধি পাইতে হয়, তাহলে আমি কাফির। আমি নাস্তিক কিংবা কাফির অথবা মুর্তাদ শব্দগুলোকে কখনোই অনৈতিক কিংবা অসম্মানের ভাবিনা। কারণ এইসকল উপাধি তখনই পাওয়া হয়, যখন মিথ্যা আর বানোয়াটকে সত্যভাবে উপস্থাপন করা হয়।

যাই হোক, মুল প্রসঙে আসি। বন্ধুত্ব আর চলাফেরার খাতিরে প্রায়ই “ওভারভিলা” যাওয়া পরে। তবে আমি ওই এলাকাটা একদম পছন্দ করি না, কারণ সিকিউরিটির অভাব আর অধিক জনবহুল। আমার বহু পুরাতন মুমিন বন্ধু ‘সাইফুল’ কিছুদিন আগেই কাফির, মুর্তাদ, নাস্তিক নাসার আর ইহুদির দেশে পদাগমন করেছে। তাছাড়া মডারেট মুমিন স্কুলের বন্ধু “সুজন” অনেক আগে থেকে ছিল যার সুবাদে ওর বন্ধু “গালিব” এর সাথে পরিচয়। সবার পরিচয়টা দিয়ে নিলাম কারণ প্রসঙ্গটা তাদের নিয়েই। আমি ওদের বাসায় যাওয়ার সাথে সাথেই ‘সুজন’ আমাকে উস্কানিমূলক প্রশ্ন করে। মুলত সহজতর কঠিন মুমিন ‘গালিব’ ভাইকে আমার সাথে তর্কে লাগিয়ে মজা নেওয়াটাই ওর উদ্দেশ্য ছিল। আমি নাস্তিক এটা ওরা ভাল করেই জানে বিধায় কোন প্রশ্ন করতে হবে, সেটা সিলেকশনে কোন অসুবিধা হয়নি।
শুরুতেই সুজনের প্রশ্ন ছিল;

হারাম আবার কি? সবই খাওয়া যায়, চায়নাতো কুকুরও খায় তাতে সমস্যা কি?

কুকুর যে শুধুমাত্র চায়নারা খায় তা কিন্তু নয়। আমরা সরাসরিভাবে কুকুর না খেলেও ইনডিরেক্টলিভাবে কুকুরের উপাদানগুলো দেহে নিচ্ছি। যেমন খাদ্য ও খাদকের চক্রে কোন একসময় সর্বশেষ খাদক মাঠির সাথে মিশে যায়। এবং পদার্থের রুপান্তরের মাধ্যমে কোন এক রাসায়নিক পদার্থে রূপ নিয়ে তা আবার গাছের খাদ্য হয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই গাছের ফল কিংবা গাছ প্রাণীর খাদ্যবস্তু হয়। এক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে আমরা কুকুর কিংবা অন্য কোন অজানা দ্রব্যের উপাদানও আমাদের শরীরে নিচ্ছি৷ যেমন আয়রন(লোহা) আমরা সরাসরি আমাদের শরীরে না নিলেও ভিন্নভাবে তা শরীরের প্রবেশ করছে। আর ধর্মীয় দিক থেকে যে খাদ্যগুলা হারাম বলে উল্লেখিত, সেগুলো কেন সৃষ্টি করা হবে? এগুলা কি খাদ্য ব্যাতিরেকে মানুষের কিংবা প্রাণিকুলের অন্য কোন উপকারে আসে? না, মোটেও না। আমরা মুসলিম বলে আমরা শুকর কিংবা হারামজাত দ্রব্য খেতে নাক উচু করি আর দেখলেই হ রে রে রে করে তেড়ে আসি। আমরা যদি ভিন্নভাবে দেখি, তাহলে আমার প্লেইটের গরুর মাংস দিয়ে উদাহরণ দিতে পারি। আমি যে গরুর মাংস অত্যান্ত সুস্বাদু করে খাচ্ছি তেমনি কোন শুকুর প্রেমী ব্যাক্তি শুকুরের মাংসও তৃপ্তিসহকারে খাচ্ছে। পক্ষান্তরে, একজন তৃণভোজী কিংবা হিন্দু ধর্মালম্বী(কিছু এক্সেপশনাল থাকতে পারে, and exceptional is not example) যেমন গরুর মাংস দেখে ‘হায় হায় আর নাক কাচুমাচু করতে থাকবে ঠিক তেমনি যারা মুসলিম রয়েছে তারা শুকুরের মাংস দেখে নাক ১৮০ ডিগ্রি এংগেলে ঘুরিয়ে নেয়।
মাঝখান থেকে বাম হাত ডুকিয়ে দিল বন্ধু শাহীন!

তুই কি জানিস, এইডস রোগের সৃষ্টি কোথা থেকে হয়েছে?

আরে ভাই, এইডস রোগের সাথে হারাম জিনিসের সম্পর্ক কোথায়?

সম্পর্ক আছে, তুই যা জানিস না তা নিয়ে তর্ক করার কোন অধিকার নেই। এইডস রোগের সুচনা হয় শুকুরের মাংস থেকেই। আর এজন্যই এইটা হারাম।

আমি হাসব না কাদব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না, তবে পশ্চাৎপটে চিপা গন্ধময় আওয়াজ বের হচ্ছিল। অনেক কষ্ট করে নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, ভাই তুই এইসব আজগুবী কোন যায়গায় পাইছস? কোন ডাঃ, কোন রিসার্চ সেন্টার, কোন প্রমানের ভিত্তিতে কইছস? যাইহোক, বেচারা উত্তর দিবে বলে সময় নিয়েছে। আমিও মরনব্দি অল্প সময় দিয়েই দিলাম।

সময় চেয়েই আবার প্রশ্ন ছুড়ে বসে বন্ধু “শাহীন” তুই আল্লাহ বিশ্বাস করিস? দেখ আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি আল্লাহ আছেন, এবং আমি বুঝে শুনেই ইসলাম ধর্ম মেনে চলি।

বাড়া, এই প্রশ্ন এখন তেতো লাগে! আর তুই মনে প্রাণে আল্লাহ বিশ্বাস করিস, ভাল কথা৷ কিন্তু তুই কি বুঝে শুনে ইসলাম ধর্মালম্বী? তুই কি এমন জেনেছিস আর বুঝেছিস যার কারণে ইসলাম তর কাছে গ্রহনযোগ্য মনে হল?

আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ আছেন। ইসলাম সত্য, মোহাম্মদ সাঃ নিয়ে কথা বললে ঈমান থাকবে না। আর কত হেন তেন বাল বলতে থাকলো….

অনেক হইছে এইবার থাম! তুইসহ প্রায় ৯৮% মুসলমান রয়েছে যারা না বুঝে কেবলমাত্র পৈত্রিক সম্পত্তির মতই ধর্ম আকড়ে ধরে রয়েছে।

গালিব ভাই এতক্ষন চুপচাপ ছিল। একটু নাড়াচাড়া দিয়ে উঠে বসে একটা ভাব নিয়ে বলতে লাগলো;

জনাব, আপনি ধর্ম সম্পর্কে জানেন না। এজন্য একজন স্কলার ছাড়া তর্ক করলে তা বোকামি হবে। কারণ আপনি ইসলাম শিক্ষায় শিক্ষিত না কিংবা কোন মাদ্রাসার ছাত্র নন।

ভাই, মোহাম্মদ কোন মাদ্রাসার শিক্ষিত ছিলেন? মোহাম্মদ যদি অক্ষরজ্ঞানহীন হয়ে কোরানের মত উৎকৃষ্ট একটা সাহিত্য বই রচনা করতে পারে, তাহলে আমি স্বাক্ষরজ্ঞান থাকা স্বত্তেও কেন এই সাহিত্য বই বুঝতে পারব না? আর কেনইবা তার জন্য স্কলারের কাছে যেতে হবে? তাছাড়া কোরানেইতো স্পষ্ট বলা আছে;

“আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?(৫৪:১৭)

তাহলে এই কোরান বুঝতে আমার কেন অসুবিধা হবে কিংবা বুঝার জন্য কোন স্কলারের কাছে যেতে হবে? তাহলে কি এই আয়াত মিথ্যা?

জনাব, আপনি এই আয়াতের তাফসীর জানেন না!

আমি জানিনা যখন, আপনি আমাকে জানিয়ে দিন।

আমিও জানিনা, যার কারণে আপনাকে তাফসীর জানার জন্য স্কলারের কাছে যেতে বলেছি।

ভাই এতো সহজ একটা আয়াতের ব্যাখ্যা যদি স্কলারের মাধ্যমে জানতে হবে, তাহলেতো আমি বলব ইসলাম আমার আপনার মতো সাধারণ ব্যাক্তির জন্য নয়, বরং শুধুমাত্র স্কলারদের জন্য।

পাশেই সুজন ওর প্রেমিকার সাথে যথারীতি ফোনালাপে ছিল৷ সুযোগ বুঝে বলেই দিলাম;

সুজন জানো, আমি এক মেয়েকে কোরান আর হাদিসের আয়াত বলায় আমাকে জঘন্য উপাধি পাইতে হইছে?

মেয়েটা সম্ভবতঃ তোমার কথা বুঝেনি তাই তোমায় বলছে।

আমি আরো সুযোগ পেয়ে বললাম, তোমার জিএফ তো লাইনেই আছে। তুমি তাকে জিজ্ঞেস করো ও কি ইসলামে নারীর অধিকার কিংবা নারীদের প্রতি আচরণবিধির কিংবা বাচনভঙ্গির দিকগুলা জানে?
যেখানে বলা হয়েছে;

কি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে নারীকে ইসলাম ধর্মে।
১. নারীর অবস্থান পুরুষের নিচে (Quran 4:34, 2:228)
২. তাদের মর্যাদা পুরুষের অর্ধেক (Quran 2:282, 4:11 Sahih Bukhari 3:48:826, 1:142)
৩. নারী পুরুষের যৌন দাসী (Ibn Hisham- al- Sira al-nabawiyya Quran 4:251)
৪. তারা পুরুষের অধিকৃত সম্পত্তি (Sahih Bukhari
5:59:524)
৫. তারা কুকুরের সমতুল্য (Sahih Bukhari 1:9:490, 1:9:493, 1:9:486 Sahih Muslim 4:1032, 4:1034, 4:1038-39 Abu Dawud 2:704)
৬. ভালোবাসার অযোগ্য (Sahih Bukhari 7:62:17 Abu Dawud 41:5111)
৭. তাদের বন্ধক রাখা যায় (Sahih Bukhari 5:59:369)
৮. রজ্বচক্র চলাকালীন তারা অপবিত্র (Quran 2:222 Al-Tabari Vol.1 p.2
80) হজ্ব করার অযোগ্য (Sahih Bukhari 1:6:302)
৯. তারা নিকৃষ্ট (Sahih Bukhari 9:88:219)অকৃতজ্ঞ (Sahih Bukhari 1:2:28) খেলার পুতুল (Al-Musanaf Vol.1 পার 2 p.263) হাড়ের মত বক্রতা যুক্ত (Sahih Muslim 8:3466-68 Sahih Bukhari 7:62:113,০ 7:62:114, 4:55:548)
১০. তারা পুরুষের চাষযোগ্য ক্ষেত্র (Quran 2:223 Abu Dawud 11:2138)
১১. তারা শয়তানের রূপ (Sahih Muslim 8:3240)
১২. তাদের মাঝে নিহিত আছে যাবতীয় খারাপ (Sahih Bukhari 4:52:110, 4:52:111)
১৩. তারা বিশ্বাস ঘাতক (Sahih Bukhari 4:55:547)
১৪. পুরুষের জন্যে ক্ষতিকারক (Sahih Bukhari 7:62:33) ১৫. নেত্রিত্ব দেওয়ার অযোগ্য (Sahih Bukhari 9:88:219) ১৬. প্রার্থনা ভঙ্গ হওয়ার কারন (Sahih Bukhari 1:9:490, 1:9:493)
১৭. স্বামীর যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে তারা বাধ্য (Sahih Muslim 8:3368)
১৮. পুরুষ কত্রিক ধর্ষনের অনুমোদন (Quran 70:29-30 Abu Dawud 11:2153, 31:4006 Sahih Bukhari 5:59:459 Sahih Bukhari 8:77:600, 8:3432, 8:3371) ১৯. স্বামীর বাধ্য না হলে তাদের প্রার্থনা গৃহিত হবে না (Muslim Scholar Al-Suyuti while commenting on Quran 4:34 Mishkat al-Masabih Book I, Section ‘Duties of husband and wife’, Hadith No. ii, 60) ২০. পুরুষ পারবে চারজন নারীকে বিয়ে করতে (Quran 4:3) ২১. তালাকের অধিকার রয়েছে শুধু পুরুষেরই (Sahih Bukhari 8:4871-82 Mishkat al- Masabih, Book 1, duties of parents, Hadith No. 15)
২২. স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার অধিকার রয়েছে পুরুষের (Quran 4:34 Sahih Muslim 4:2127) যার কারনে কোন জবাব চাওয়া হবে না (Abu Dawud 11:2142)

আমি শুধু এখান থেকে বলেছিলাম, তারা পুরুষের সম্পত্তি! যেভাবে ইচ্ছা ভোগ করা যাবে! তারা শস্যক্ষেত্র! তাদের গায়ে হাত তুলা যাবে, তারা কুকুর সমতুল্য!

ওপাশ থেক ধপ করে সুজনের প্রেমিকা ফোন কেটে দেয় এবং একটা ছোট মেসেজ পাঠায়; এতো নিকৃষ্ট ও, আমরা কুকুর? এইটা বলে!

আরে ভাই, আমি বলিনিতো! এইসব ইসলামের কথা। কোরান, হাদিসের কথা।

ভাই দেখ আমি মুসলিম, আল্লা মানি আর নবীর সুন্নত পালন করি, এটুকুই যথেষ্ট আমার জন্য। বাম হাত ডোকানোর স্বভাব শাহীনের ইদানিং হয়েছে!

যাই হোক,
বন্ধু তুই সুন্নত পালন করিস? তাহলেতো তুই তর পুত্রবধুকেও বিয়ে করবি। ১৯ টা বিয়ে আর ৩/৪ টা যৌন দাসী রাখবি। বুইড়া বয়সে একটা হাটুর সমান বাচ্চা মেয়েকে বিয়ে করে সেক্স করবি।

আপনি এইসব কই পান? তুই এইসব ফাউ কথা কোথা থেকে বলিস? এইটা তুমি মিথ্যা বলছ। নবীজী অনেকগুলা বিয়ে করেছেন কারণ পৃথিবীতে ছেলের সংখ্যা থেকে মেয়ের সংখ্যা ৪ গুন বেশি। কিন্তু পুত্রবধুকে বিয়ে করেছেন এইটা অযুক্তিক। তিনজন একসাথেই বলে উঠল।

না জেনে ছোটখাট মিথ্যা তথ্য দিতে পার, কিন্তু এই ডাহা মিথ্যা কেমনে বলছ তোমরা? কে বলল আর কোন সমীক্ষায় পাইছো পৃথিবীতে পুরুষের চেয়ে মেয়ের সংখ্যা ৪ গুন বেশি? বরং প্রতি ১০৭ জন ছেলের জন্য ১০০ জন মেয়ে, আর এটা সর্বশেষ সমীক্ষা। যার লিংকগুলো;

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Human_sex_ratio
https://www.pnas.org/content/112/16/E2102

এরপর মিছকি হাসিয়া মুঠোফোন থেকে কোরানের আল আহযাবের ৩৬-৪০ নম্বর সুরা পড়ে শোনাইতে লাগলাম।
যেখানে ৩৮ নম্বর আয়াতে অত্যান্ত কৌশলভাবে পুত্রবধুকে বিয়ে করার আয়াত রচনা করেন মোহাম্মদ।

সুরা আল আহজাবের আয়াত নম্বর ৩৬ থেকেই শুরু করা যাক, যেখানে বলা আছে; “আর আল্লাহ ও তার রাসুল কোন নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য নিজেদের ব্যাপারে অন্য কিছু এখতিয়ার করার অধিকার থাকে না; আর যে আল্লাহ ও তার রাসুলকে অমান্য করল সে স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হল।”
কত সুন্দর এই ঐশ্বরিক বানী! আল্লাহ ও তার রাসুল থেকে কোন আদেশ আসলে তা মানতে বাধ্য, অন্য কোন ইচ্ছা থাকলেও তা গ্রাহ্য হবেনা। আর না মানলে পথভ্রষ্ট এবং পথভ্রষ্ট মানেই শাস্তি! তাই আদেশ হলেই মানা আবশ্যক। কিন্তু কেন এই আয়াত, কোরানের বেশীরভাগ আয়াতই ঘঠনা কেন্দ্রিক লিখা, এই আয়াতের পিছনে কি ঘঠনা হতে পারে? কাকে কি আদেশ দেওয়া হচ্ছে, যার অন্য ইচ্ছা থাকলেও এই আদেশ মানতে হবেই! পরবর্তী আয়াত(৩৭) এনজর দিলেই পরিষ্কার লক্ষ্য করা যাবে, কিসের আদেশের কথা বলা হয়েছিল! আল আহজাব এর আয়াত ৩৭ এ স্পষ্ট লিখা;
“আর স্মরণ কর, আল্লাহ যার উপর নিআমত দিয়েছিলেন এবং তুমিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলে, তুমি যখন তাকে বলেছিলে ‘তোমার স্ত্রীকে নিজের কাছে রেখে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর’। আর তুমি অন্তরে যা গোপন রাখছ আল্লাহ তা প্রকাশকারী এবং তুমি মানুষকে ভয় করছ অথচ আল্লাহই অধিকতর হকদার যে, তুমি তাকে ভয় করবে; অতঃপর যায়েদ যখন তার স্ত্রীর সাথে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করল তখন আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করলাম, যাতে পালক পুত্রদের স্ত্রীদের ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে; যখন তারা তাদের স্ত্রীদের সাথে বিবাহসম্পর্ক ছিন্ন করে।* আর আল্লাহর নির্দেশ কার্যকর হয়ে থাকে।”
নবীর মনের ভিতর কামনা গোপন ছিল যা প্রকাশ করেছিলেন এই আয়াতের মাধ্যমে। নবী জানতেন, জয়নবকে ভোগ করতে হলে যায়েদের সাথে তালাক দিতে হবে। আর এজন্য তিনি কৌশলে ৩৬ নম্বর আয়াত রচনা করেন, আদেশ মানতে হবে নয়তো তুমি পথভ্রষ্ট! বেচারা যায়েদ, উপায়ন্তর না দেখে তালাক দিলো আর মুহাম্মদ এই ৩৭ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে তার মনের বাসনা পূর্ণ করলেন।
আমরা যারা কোরানের সমালোচনা করি, তারা এই আয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি এবং মোহাম্মদের নিজের পালকপুতের বউকে বিয়ের বিষয়টা সামনে আনার চেষ্টা করি যাতে সবাই বুঝতে পারে আসলে মোহাম্মদ কতটুকু চরিত্রবান ছিলেন। আমাদের বাঙালিদের একটা প্রবাদ আছে, মাথায় মাল চড়ে গেলে অনেক কিছুই করতে পারি। মোহাম্মদের মাথায় জয়নবের দেহের সুন্দর্য ভোগের কামনা এমন ভাবে চড়েছিল যার কারনে নবী আরো কিছু নিচ আর ঘৃন্য কাজ করেছিলেন। সব থেকে মজার ব্যাপার লুকিয়ে আছে পরবর্তী ৪০ নম্বর আয়াতে।
ততকালীন আরবের প্রথা ছিল নিজের পুত্রের ডাকনাম এ নিজের নাম যুক্ত থাকবে যা এখনো বিদ্যমান। যায়েদকে মহানবী পুত্র হিসেবে গ্রহন করার পর যায়েদ বিন মুহাম্মদ নামেই সাবাই ডাকত। যখন জয়নাবের সাবেক স্বামী যায়েদকে যায়েদ বিন মুহাম্মদ ডাকা হত, যয়নাবের স্বামী হিসেবে নবী মুহাম্মাদ বিব্রত বোধ করতেন, তখন মোহাম্মদ ৪০ নম্বর আয়াত নিয়ে আসেন, যেখানে বলা হয়েছে;
“মুহাম্মাদ তোমাদের কোন পুরুষের পিতা নয়; তবে আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী।* আর আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞ।”
অর্থাৎ নবী যায়েদের পিতা নন। এই কথা ঘুরিয়ে ঐশ্বরিক বানী ফলানোর জন্য পরের লাইন লাগিয়ে দেন “তবে আল্লাহর রাসুল ও শেষনবী” আর যারা মুসলিম কোরান ব্যাখ্যা করেন, তারা শুধু দ্বিতীয় লাইন বলেন, যে এখানে শেষ নবীর ঘোষনা দেওয়া হয়েছে বলে, প্রথম অংশ ছেড়ে যান।
যাই হোক যায়েদ কে এখন থেকে মুহাম্মাদের পুত্র বলে ডাকা যাবেনা। কারন নবী কোন পুরুষের পিতা নন। এর পর সকলেই তখন তাকে যায়েদ বিন হারেসা ডাকতে শুরু করলেন। সাপ মরলো, লাঠিও ঠিক থাকল!

মনযোগে শুনতে শুনতে গালিব ভাই কথা না বাড়িয়ে বলতে লাগলো, প্রত্যেকটা জিনিস আর ঘঠনার পিছনেই কারণ রয়েছে। আপনাকে আল্লার পরিকল্পনা বিশ্বাস করতে হবে। উনি সবকিছুই পরিকল্পনা করে রেখেছেন। আর উনার বহুবিবাহের আর এই হিবাহের পিছনে হয়তো কারণ ছিল, তাই এটা মানতে হয়েছে। সবই আল্লার ইচ্ছা!

পূর্ব পরিকল্পনা নিয়ে হাদিসে আছে;

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র ইবনুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা সকল মাখলুকের তাকদীর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বৎসর পূর্বে লিখেছেন। তিনি বলেছেন, সে সময় আল্লাহর ‘আর্শ পানির উপরে ছিল।
(ই.ফা. ৬৫০৭, ই.সে. ৬৫৫৮)

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

আরে ভাই, দিলেনতো খেই হারিয়ে। আরেকটা ডালে চলে গেলেন। যেহেতু চলেই গেলেন সেহেতু না বলে থাকতে পারছি না! সবকিছু আগেই নির্ধারিত এবং আমরা কি করব না করব সেটা আল্লাহ আগেই যেহেতু ঠিক করে রেখেছেন সেহেতু আমরা কেন আমাদের কর্মের জন্য দায়ী হব? তাছাড়া সবকিছু যেতেহতু ঠিক করেই রাখা তাহলে ধর্মগ্রন্থ কেন, যা পরিকল্পিত তাইত হবে।

একটু অস্বস্তি বোধ করে গালিভ মহাশয় উনার হিচ দিলেন। সবকিছু ঠিক করার পরও আমাদেরকে আল্লাহ মুক্ত করে দিয়েছেন, বুদ্ধি আর জ্ঞান দ্বারা চলতে বলেছেন।
সবাই উনার কথায় বাহবা দিলেও তা ক্ষনিকের ছিল।

ভাই যেহেতু পুর্বপরিকল্পিত তাহলে বুদ্ধি আর জ্ঞান দিয়ে চলে কি আমি আল্লার প্লানের বারোটা বাজিয়ে দিব? উনার প্লানিং কি পরিবর্তন হবে? যদি নাইবা হয়, তাহলে আপনি রাস্তা পারাপার হওয়ার জন্য ডান বাম তাকান কেন? তাছাড়া বন্ধু শাহীন “তুই এইখানে কেন, ঘড়ে বসে থাকতি” যা হবার তাইতো হইত। তাছড়া আপনি ইচ্ছা বা অনিচ্ছায়ও’তো আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া করতে পারছেন না, সেহেতু পাপ কিংবা পুন্যের জন্য আমরা কেন দায়ী হব। কোরানেইতো বলা আছে;

“আর তোমরা ইচ্ছা করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ ইচ্ছা করেন।” (সূরা ৮১ আত-তাকওয়ীর, আয়াত ২৯)

ভাই, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া একটা গাছের পাতাও নড়ে না। এসব বিশ্বাস করতে হবে, যদি ভুল খুজতে থাকো তাহলে আমি সারারাতেও তোমায় বুঝাতে পারব না। আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে, কোরানে কোন ভুল নেই! কোরান সর্বসময়ের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট গ্রন্থ! এবং আজ পর্যন্ত অনেক চ্যালেঞ্জের পরও কেউ কোরানের মত একটা আয়াত রচনা করতে পারেনি। যা কোরানেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে;

“নাকি তারা বলে, ‘সে তা বানিয়েছে’? বল, ‘তবে তোমরা তার মত একটি সূরা (বানিয়ে) নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডাক, যদি তোমরা সত্যবাদী হও” (সুরা ইউনুস ১০, আয়াত ৩৮)

ভাই, ভালই বললেন! কেমন আয়াত বানাইতে বলছেন। কোরানের বেশিরভাগই তো বাইবেল থেকে কপি করা। তাছাড়া মোহাম্মদ নিজেই নকল করে লেখার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। আরবের শ্রেষ্ঠ কবি ইমরুল কায়েসের কন্যা তার বাবার কবিতা চুরির অভিযোগ এনেছিলেন কুরআনের বিরুদ্ধে। ইমরুল কায়েসের কন্যা একদিন নবী মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমার মুখে কিছু কবিতার মত লাইন আবৃত্তি শুনে রাগান্বিত হয়ে বললেন, আরে এটা তো আমার বাবার কবিতা! আমার বাবার কবিতা চুরি করে তোমার বাবা আল্লার নামে বেহেস্ত থেকে আয়াত আনার কথা প্রচার করে…। Ibn Warraq লিখেছেন,
‘We are told that Fatima, the Prophet’s daughter, was one day repeating as she went along the above verse. Just them she met the daughter of Imra’ul Qays, who cried out “O that’s what your father has taken from one of my father’s poems, and calls it something that has come down to him out of heavn”; and the story is commonly told amongst Arabs until now (The Origins of the Koran: Classic Essays on Islam’s Holy Book, by Ibn Warraq, page 235-236)
আর কোরানে কোন ভুল নেই আর এটা আমাকে অন্ধভাবে যদি বিশ্বাস করতে বলেন তাহলে আমি মোটেও একমত হতে পারলাম না। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যতটুকু জেনেছি, তার মধ্য থেকে অনেক হাস্যকর ভুল আয়াত আমি কুরানে লক্ষ করেছি। সেগুলা হল;

আকাশে কোন ফাটল নেই।

“তারা কি তাদের উপরস্থিত আকাশের পানে দৃষ্টিপাত করে না আমি কিভাবে তা নির্মাণ করেছি এবং সুশোভিত করেছি? তাতে কোন ছিদ্রও নেই।” (কুরআন সুরা ক্বাফ ৫০, আয়াত ৬)

ভাই, আকাশ কি কোন ছালার মত, যে ছিদ্র থাকবে? আকাশ সম্পর্কে আপনার কি কোন ধারণা আছে? আকাশ হল ভূপৃষ্ঠ থেকে বাইরের দিকে অবস্থিত অংশবিশেষ। বায়ুমণ্ডল এবং মহাশূন্যও এর অংশ। সাধারনত আকাশ শব্দটি ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরে যেকোনো বিন্দু নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এর অর্থ এবং ব্যবহার ভিন্নও হতে পারে। যেমন, আবহাওয়ার ক্ষেত্রে আকাশ বলতে কেবলমাত্র বায়ুমণ্ডলের নিচের দিকের অধিক ঘন অংশ কে বোঝায়।
দিনের আলোয় আলোর বিক্ষেপণের জন্য আকাশ নীল দেখায়। আর রাতের বেলায় আকাশকে তারায় পরিপূর্ণ একটি কালো গালিচার মত মনে হয়। দিনের বেলায় মেঘ না থাকলে আকাশে সূর্য দেখা যায়। আর রাতের আকাশে (কখনও কখনও দিনেও) চাঁদ, গ্রহসমূহ এবং তারা দৃশ্যমান থাকে। মেঘ, রংধনু, অরোরা বা মেরুপ্রভা, বজ্রপাত প্রভৃতি প্রাকৃতিক ঘটনা আকাশে পরিলক্ষিত হয়। মোটকথা এটা মহাশূন্য, আর শূন্য স্থানে ছিদ্র দ্বারা আল্লাহ কি বুঝাইতে চাইছেন? এ কি আদৌ সম্ভব?

“তবে কি তারা উটের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে? আর আকাশের দিকে, কীভাবে তা ঊর্ধ্বে স্থাপন করা হয়েছে? আর পর্বতমালার দিকে, কীভাবে তা স্থাপন করা হয়েছে? আর যমীনের দিকে, কীভাবে তা বিস্তৃত করা হয়েছে? (সুরা আল গাশিয়াহ ৮৮, আয়াত ১৭ থেকে ২০)

ভাই ২০ নম্বর আয়াত খেয়াল করেন, যেখানে বলা হয়েছে পৃথিবী সমতল! এইটা ডাহা মিথ্যা আপনি আমাকে বিশ্বাস করতে বলছেন? পৃথিবী কি সমতল নাকি গোলাকার? গোলাকার পৃথিবীকে যদি কোরান সমতল বলে চালিয়ে দেয়, তাহলে অবশ্যই আমি মাথা নেড়ে যাব না।

তাছাড়া আরো আয়াত রয়েছে যেখানে বলা আছে;
“উল্কাপাত হচ্ছে শয়তানদের তাড়াবার জন্য আল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র;
আমি সর্বনিম্ন আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুসজ্জত করেছি; সেগুলোকে শয়তানদের জন্যে ক্ষেপণাস্ত্রবৎ করেছি এবং প্রস্তুত করে রেখেছি তাদের জন্যে জলন্ত অগ্নির শাস্তি।” (কুরআন সুরা ৬৭, আয়াত ৫)

আসমানকে আটকিয়ে রেখেছেন, যাতে তা যমীনের উপর পড়ে না যায়
“তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, যমীনে যা কিছু আছে এবং নৌযানগুলো যা তাঁরই নির্দেশে সমুদ্রে বিচরণ করে সবই আল্লাহ তোমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন। আর তিনিই আসমানকে আটকিয়ে রেখেছেন, যাতে তাঁর অনুমতি ছাড়া তা যমীনের উপর পড়ে না যায়। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি বড়ই করুণাময়, পরম দয়ালু।”
(কুরআন সুরা ২২, আয়াত ৬৫)

আল্লাহ জমিনকে স্থির রাখেন
নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায় তবে তিনি ব্যতীত কে এগুলোকে স্থির রাখবে? তিনি সহনশীল, ক্ষমাশীল।”
(কুরআন সুরা ৩৫, আয়াত ৪১)

ভাই, জমীন কি স্থির থাকে? আপনারাই বলেন, যাদে নুন্যতম জ্ঞান আছে তারাও জানে যে পৃথিবী তার কেন্দ্রে ঘুর্ণয়মান। তাহলে স্থির থাকার মত এরকম গাজাখুরী কথা কেন কোরানে বলা হয়েছে, যদি এইগুলা বলা হয়ে থাকে তাহলে আমি নিশ্চই অন্ধভাবে কোরান বিশ্বাস করব না।

ততক্ষনে সবার মাথা হাইপার! বুঝার বাকি রইল না, কথার দিক আর সহনশীল রচ্ছে না, ভাগ্যিস ইহুদিদের দেশে আছি। নয়তো এরাই হয়তো চাপাতি নিয়ে বুঝাইতে আসতো। সুমন কথা না বাড়িয়ে বলল, ওকে যার যার বিশ্বাস তার তার কাছে। কথা না বাড়িয়ে প্রসঙ্গ পাল্টাই! আর গালিব মহাশয় বলতে লাগলেন”আল্লাহ হেদায়ত দিক”
চুপটি করে বাসা থেকে বেড়িয়ে আসলাম, সসম্মানে! তখন মনের ভিতর ছোট একটা কথাই গুরপাক খাচ্ছিলো “অন্ধকার পেরিয়ে সহসাই আলোর রেখা দেখা দিচ্ছে না”

Facebook Comments

বৃত্তবন্দি

"মুর্খরা প্রার্থনায় আর জ্ঞানীরা কাজে বিশ্বাসী।"(ময়নুল)

Leave a Reply

%d bloggers like this: