আপনি কি প্রমাণ করতে পারবেন ভালোবাসার অস্তিত্ব আছে?

প্রশ্ন: আপনি কি প্রমাণ করতে পারবেন ভালোবাসার অস্তিত্ব আছে?

উত্তরঃ যদিও সরাসরি এই প্রশ্নের সঙ্গে নাস্তিকতার কোন সম্পর্ক নেই, তারপরেও এই প্রশ্নটা প্রায়শই উত্থাপন করা হয়। প্রশ্নটির উত্তর দেয়ার আগে তার আগে একটি পটভূমি আলোচনা করা দরকার আছে।

আমাদেরকে সবার আগে বুঝতে হবে কোন কিছু প্রমাণ করা বলতে কি বুঝায়। বিজ্ঞান কোন কিছু চরম মাত্রা (absolute degree) হিসেবে প্রমাণ করে না। শুধুমাত্র গণিত ছাড়া কোথাও তা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে কোন কিছু প্রমাণ করা বলতে বোঝানো হয় কোন কিছু সুস্পষ্টভাবে প্রদর্শন করানো বা – একটি যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের মাত্রা অতিক্রম করে কোন কিছু প্রদর্শন করতে পারা (demonstration beyond a reasonable doubt) এবং একই সাথে পুনরায় তথ্য প্রমানাদি পেলে তা নবায়ন করার জন্য প্রস্তুত থাকা।

বিজ্ঞানের সব কিছু মেনে নেবার জন্য কিংবা বাস্তবতাকে বোঝার জন্য সরাসরি চাক্ষুষ দেখা প্রয়োজন পড়ে না। যদি তা চাক্ষুষ দেখা যায় তবে কাজটা দ্রুত হয় তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। আবার অনেক সময় চাক্ষুষ দেখাতে ত্রুটি থাকতে পারে, সেটাও বিজ্ঞান পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে পারে।

The Rutherford Gold Foil Experiment

গবেষণার ক্ষেত্রে যেমনটা দেখা গেছে এটম এর নিজস্ব স্বতন্ত্র নিউ ক্লাই (determine whether atoms had distinct nuclei or not) আছে কি না।  আমরা যদিও এটোমিক নিউ ক্লাইকে সত্যিকার অর্থে দেখতে পারিনা কিন্তু আমরা পরোক্ষভাবে তা পরীক্ষা করতে পারি। বিজ্ঞান অধিকাংশ ক্ষেত্র এভাবে কাজ করে। অদৃশ্য বিষয়বস্তু সমূহ বিজ্ঞানের অনুসন্ধানের জন্য খুব বড় কোন প্রতিবন্ধকতা বা সমস্যা না। 

আপনি যদি বিকালে পার্কে হাঁটতে যান এবং অনেক লোকজনের দেখা পান, তখন আপনি হয়তো সহজেই বুঝতে পারবেন এখানে কে কার সাথে প্রেমে করছে অথবা কে রাগান্বিত মনে কিংবা কে দুঃখ  ভারাক্রান্ত মনে বসে আছে।

অধিকাংশ মানুষ তা বুঝতে পারে কারণ ভালোবাসা, অন্য কিছু আবেগ অনুভূতির মতোই এমন কিছু প্রমান সূচক  নির্দেশনাবলী প্রদর্শন করে  যা হয়তো অভিব্যক্তি হিসেবে প্রকাশ পায়।  মানুষের প্রতিটা  আবেগেরই নির্দিষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু বাহ্যিক নিদর্শন দেখা সম্ভব।

ভালবাসা পদার্থবিদ্যার মত স্পর্শযোগ্য বা সরাসরি পরীক্ষাযোগ্য বিষয়বস্তুর মত বিষয় নয়। এক্ষেত্রে আমরা বলছি না যে , “করিম” নামক কোন ব্যাক্তির প্রদর্শনযোগ্য অস্তিত্ব জাতীয় কিছু প্রমাণ; বরং ভালবাসাকে এখানে কম্পিউটার প্রোগ্রামের সাথে তুলনা করতে পারেন।  খুব কম মানুষই দ্বিমত করবে যে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ নামক অপারেটিং সিস্টেমের অস্তিত্ব আছে। … কিন্তু আপনি বলতে পারবেন না যে আপনি সেই অপারেটিং সিস্টেমটি দেখেছেন বা স্পর্শ করেছেন। আপনি কম্পিউটার চালিয়ে হয়ত তা ব্যবহার করতে পারবেন, তার মধ্যে কাজ করতে পারবেন, মনিটরে তা প্রদর্শিত হবে কিবোর্ড এবং মাউস দিয়ে আপনি এর ভিতরে নির্দেশনা প্রেরণ করতে পারবেন। কিন্তু একই সাথে আপনি এই বিষয়টা পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারবেন না যে আপনার মনিটরে যে দৃশ্যাবলী ভেসে উঠেছে তা অন্য একটা প্রোগ্রাম দ্বারা প্রদর্শিত বিভ্রমও হতে পারে।

তারপরও আমরা মাইক্রোসফ্ট ইন্টারফেসের সাথে কাজ করতে করতে এই বিষয়ে আস্থা অর্জন করতে পারি, বিশেষ করে যখন কোন গবেষনামূলক বা স্ট্যাটিসটিক্যাল এনালাইসিস করি । কারণ তখন তা বিজ্ঞানের বাস্তবতায় এসে পড়ে।

আবেগের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য। মানুষের কাজ, শারীরিক ভাষা (body language), মৌখিক অভিব্যক্তি, কণ্ঠস্বর ইত্যাদি ইত্যাদি অনেকটা কম্পিউটার ইন্টারফেসের সাথে তুলনাযোগ্য। অধিকাংশ মানুষই অত্যন্ত ভালোভাবে এবং নিখুঁতভাবে অন্য ব্যক্তির মানসিক অবস্থা বুঝতে পারে।

বিজ্ঞানের হাইপোথিসিস পরীক্ষা বা পূর্বানুমান যাচাই করার মাধ্যমে প্রমান করে থাকে এবং মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরকম অগণিত গবেষণা হয়েছে শুধুমাত্র ভালোবাসার উপর। বিভিন্ন ভেরিয়েবলের তারতম্য করে কিংবা অন্ধ পরীক্ষার যাচাইয়ের মাধ্যমে ইত্যাদি। (controlling for different variables, setting up blinded trials, etc.) 

তারপরও আমরা যখন জীব বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের মগজকে পরীক্ষা করি আমরা দেখতে পাই পরীক্ষামূলক প্রমাণাদি (empirical evidence)। আমরা তা থেকে প্রমাণ পেয়েছি যখন মানুষ প্রথমবার প্রেমে পড়ে তখন মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণ স্নায়বিক পরিবর্তন ঘটে।  মানুষের ব্রেইন এর নির্দিষ্ট অংশ অতিরিক্ত কার্যকর হয়ে ওঠে যখন মানুষ ভালবাসা অনুভব করে যা কিনা Magnetic resonance imaging (MRI) কিংবা computerized axial tomography scan CAT স্ক্যান দ্বারা পরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণ করা যায়।

বিজ্ঞান অনেক আগেই ভালোবাসার উপস্থিতি প্রমাণ করেছে এবং বর্তমানে গবেষণা চলছে কিভাবে তা কাজ করে এই বিষয়ে। যদি ঈশ্বরের উপস্থিতি এতটাই সহজে আবিষ্কার করা যেত যেমনটা ভালোবাসার ক্ষেত্রে আবিষ্কার করা যায় তাহলে আমাদের এই ওয়েবসাইটটি বানাতে হতো না।

Facebook Comments

সরকার আশেক মাহমুদ

Sarker Ashek Mahmud is a Bangladeshi Ex-Muslim Atheist, Humanist, secular online activist.

Leave a Reply

%d bloggers like this: