ঈশ্বরের সন্তুষ্টির জন্য সন্তান উৎসর্গ

দামেস্কে এক গর্বিত জিহাদী বাবা মা তাদের সাত বছর বয়সী কন্যার পেটে আত্মঘাতি বোমা ফিট করে শেষবারের মত বিদায়ী চুম্বন করেছিল। নিজের কন্যাকে বিদায় জানিয়েছিল। সাত বছরের শিশুটি এরপরেই পুলিশ স্টেশনে ঢোকে, এবং রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে পুলিশ স্টেশন উড়িয়ে দেয়। এই শিশুটি জানতো না স্বর্গ নরক কাকে বলে। আল্লাহ আর ইসলাম কী বস্তু। তাকে কী বুঝিয়ে সেখানে পাঠানো হয়েছিল আমি জানি না। কিন্তু আমার ভীষণ মন খারাপ হচ্ছে বাচ্চা মেয়েটার জন্য।

ইসলামী মিথলজিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিজ সন্তানকে উৎসর্গ করার প্রচলন আজকের নয়। সেই ইব্রাহিম নবীর আমলেই আল্লাহ প্রভুভক্তির প্রমাণ স্বরূপ সবচাইতে প্রিয় বস্তুর কোরবানী চেয়েছিল। সেই গল্পকে এখনো মুসলমানগণ স্মরণ করে শ্রদ্ধা ভরে। একজন পিতা, যে নিজ সন্তানের গলায় ছুরি চালাতে যায়, তার গণ্য হওয়া উচিত ছিল মানসিক রোগী হিসেবে, নতুবা ইতিহাসের সর্বনিকৃষ্ট পিতা হিসেবে। কিন্তু মুসলমানগণ এই ঘটনাকে মহান এবং আদর্শ কাজ বলেই মনে করে আসছেন হাজার বছর ধরে। আমি জানি না, কোন মুসলমান পিতা কীভাবে আল্লাহ ভক্তির নিদর্শন স্বরূপ নিজের সন্তানকে বলিতে চড়াতে পারেন!

আমি একজন নাস্তিক। আমি আমার সন্তানকে পৃথিবীর যেকোন লোভ বা ভয়ের কারণে বলি দেবো না। পৃথিবীর সব দেবদেবী আল্লাহ ভগবান ঈশ্বর যিহোভা যদি পৃথিবীতেও নেমে আসে, প্রয়োজনে তাদের সবার সাথে যুদ্ধ করবো। কিন্তু আমার সন্তানের গায়ে একটা আচড়ও লাগতে দেবো না। বরঞ্চ বলবো, ফাক ইউ আল্লাহ! ফাক ইউ ঈশ্বর! ফাক ইউ ভগবান!

হে ধর্মান্ধ মানুষেরা। আপনাদের কী এতটুকু বিবেক বুদ্ধি নেই? কিসের আশায়, কিসের লোভে আপনারা নিজ সন্তানকে বলিতে চড়াতে চাচ্ছেন? সবাই চাচ্ছেন না, তবে যারা ধর্মের ব্যাপারে অন্ধ তারা নিশ্চিতভাবেই সবকিছু বলিতে চড়াতে পারেন, তা নিশ্চিতভাবেই জানি। আপনাদের সকল মানবতা, শুভ বোধ, বিবেক আর জ্ঞান ধর্মের প্রশ্নে হাঁটু গেড়ে বসে। কিন্তু আপনারা কী পাবেন? আপনার সন্তানের হাসি কি বেহেশতের লক্ষ কোটি হুর গেলমানের চাইতে সুন্দর না?

বাঙলাদেশে জঙ্গিদমন অভিযানে চারজন শিশু নিহত হয়েছে। প্যালেস্টানের হামাস যেভাবে মানব ঢাল ব্যবহার করে, আমাদের দেশেও কী একইভাবে শিশুদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে? আপনারা আর কতটা নিচে নামবেন? আর কতটা নোংরামি হলে আপনার আল্লাহ আপনাদের হুর দেবে?

যেই আল্লাহ আপন ইগোর কারণে সন্তান বলি দিতে বলে, লোভ আর ভয় দেখায়, আপনাদের আল্লাহর মুখে আমি থুঃ দিই।

Facebook Comments