রামচন্দ্রের বালী হত্যা-রাম ধর্মের অনুসারী নাকি অধর্মের?

কোনো গল্পের চরিত্রগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শতভাগ পরিচ্ছন্ন হয় না, সেরকম হলে হয়তো গল্পই এগোতো না। তাই তো কোনো চরিত্রে প্রকাশ পায় নানান দিক, তার কিছুটা নির্মল হতে পারে, আবার  কিছুটা কুৎসিত। সাহিত্য হিসেবে রামায়ণ এবং গল্পের চরিত্র হিসাবে রামও এর ব্যতিক্রম নন। তার চরিত্রেও ফুটে উঠেছে নানানরকম দিক। অবতার হিসাবে রামের ভালো দিকগুলো বরাবরই প্রচার পেয়ে থাকে। তবে রামায়ণ খুটিয়ে বিচার করলেই  অবতারের আবরণের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে দোষ-গুণ-ত্রুটি যুক্ত একটি সাধারণ মানুষ, একটি সাধারণ গল্পের সাধারণ একটি চরিত্র। কখনোবা গভীর বিশ্লেষণে গল্পের নায়ক হয়ে ওঠে খলনায়ক।

এবারের প্রচেষ্টা হবে দেবতাকে মানুষের সারিতে নামিয়ে আনার, তার ত্রুটিগুলোও তুলে ধরার।’এবারের প্রসঙ্গ রামের বালী বধ’।

সীতা উদ্ধারের জন্য রামচন্দ্র সুগ্রীবের সাথে মিত্রতা করেন। পূর্বেই শর্ত স্থির হয়, রাম সুগ্রীবের ভাই বালীকে হত্যা করবেন এবং তার বিনিময়ে সুগ্রীব সীতা সন্ধানে ও সীতা উদ্ধারে রামকে সহায়তা করবে।

বালী ও সুগ্রীবের  শত্রুতার কারণ  আগে জেনে নেয়া যাক।

বালী ও সুগ্রীব সম্পর্কে পরস্পরের ভাই হলেও ঘটনাচক্রে পরস্পরের পরম শত্রু হয়ে ওঠে। একবার মায়াবী নামে এক রাক্ষস বালীকে যুদ্ধের জন্য আহ্বান করে। বালী মায়াবীকে হত্যা করার জন্য ধাওয়া করলে সুগ্রীবও বালীর সাথে গমন করেন। একপর্যায়ে মায়াবী একটি গুহাতে ঢুকে গেলে বালীও তাকে অনুসরণ করেন। বালী সুগ্রীবকে বলে যায় গুহার মুখে অপেক্ষা করতে যতক্ষণ না সে মায়াবীকে বধ করে ফিরে আসে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও  বালি ফিরে আসে না। এরপরেই সুগ্রীব হঠাৎ এক চিৎকার শুনতে পায় এবং দেখতে পায় রক্তের স্রোত গুহার ভেতর থেকে প্রবাহিত হচ্ছে।

এরপরের ঘটনার দুরকমের ভাষ্য রয়েছে।একটি সুগ্রীবের যেটি সে রামকে বলেছিল।অপরটি বালীর ও তার পুত্র অঙ্গদের মত। প্রথমে ,সুগ্রীবের মতে তারপর কি ঘটেছিল তা জেনে নেয়া যাক।

সুগ্রীবের মতে, গুহার ভেতরে বালীর প্রবেশের পর দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও সুগ্রীব বালীর কোনপ্রকার রণধ্বনি শুনতে পায় নি। আর যখন গুহার ভেতর থেকে রক্তের স্রোত বইতে থাকে তখন সে ভাবে মায়াবি বুঝি তার ভাইকে বধ করেছে। তাই সে পাথর দিয়ে গুহার মুখটি বন্ধ করে দেয়, যাতে মায়াবী গুহার ভেতর থেকে বেরোতে না পারে এবং গুহাতে আটকে  মৃত্যুবরণ করে।

পরবর্তীকালে, বালী ও অঙ্গদের কথা থেকে ভিন্ন ব্যাপার জানা যায় । সুগ্রীব রাজ্যের লোভে তার ভাইকে মারার জন্য গুহার মুখ বন্ধ করে দিয়েছিল।

যাই হোক, মায়াবীকে হত্যা করার পর যখন বালী দেখতে পায় গুহার মুখটি পাথর দিয়ে আটকানো , তখন সে পদাঘাতে পাথর সরিয়ে গুহা থেকে বেরিয়ে আসেন। বালী বুঝতে পারে , গহ্বরের মুখ তার ভাই সুগ্রীবই বন্ধ করে দিয়েছে । রাজ্যে ফিরে আসার পর বালীর মুখ থেকেই শোনা যায়-

“अत्रानेनास्मि संरुद्धो राज्यं प्रार्थयताऽत्मनः।

सुग्रीवेण नृशंसेन विस्मृत्य भ्रातृसौहृदम्।। 4.10.25।।

অর্থাৎ, সুগ্রীব আমার রাজ্যের লোভে ভ্রাতৃত্ববোধ ভুলে গিয়ে আমাকে অবরুদ্ধ করেছিল।

পরবর্তীকালে বালির পুত্র অঙ্গদের কাছ থেকেও একই ধরণের কথা শোনা যায়,

“অঙ্গদ হনুমানের এই ধর্ম সঙ্গত প্রভুভক্তিযুক্ত ও বিনীত বাক্য শ্রবণ করে বললেন, “বীর! স্থৈর্য ,পবিত্রতা, সরলতা, অনৃশংসতা ও ধৈর্য এই সমস্ত গুণ সুগ্রীবের কিছুমাত্র নেই। যে ব্যক্তি দাদার জীবিতাবস্থায়  মায়ের মত তার স্ত্রীকে  গ্রহণ করে, সে অত্যন্ত জঘন্য। বালী ঐ দুরাচারকে রক্ষক রূপে দ্বারে নিয়োগ করে গর্তে প্রবেশ করেছিলেন কিন্তু ঐ দুষ্ট পাথর দিয়ে গর্তের মুখ ঢেকে দেয় , সুতরাং তাকে আর কিভাবে ধর্মজ্ঞ বলব?”

[কিষ্কিন্ধ্যাকান্ড ,৫৫ সর্গ |অনুবাদ- হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য]

রাজ্যে ফিরে এসে বালী দেখতে পায় সুগ্রীবের অপকর্ম , সে সিংহাসন দখল করেছে, ভ্রাতৃ বধূ, বালির পত্নী তারাকে সে অধিগ্রহণ করেছে।

সুগ্রীবের কথা অনুযায়ী, সে যে ভুল করে গুহার মুখ বন্ধ করে এসেছিল সেটাও মেনে নেয়া যেত, যদি না সে রাজ্যের দখলের সাথে সাথে ভ্রাতৃবধূ তারাকেও বিয়ে করে নিত। এ থেকেই স্পষ্ট হয়ে  যায়, বালির রাজ্য ও পত্নীর প্রতি সুগ্রীবের প্রথম থেকেই লোভ ছিল। সে শুধু ছিল সময়ের অপেক্ষায়। সুযোগ পেয়েই সুগ্রীব তার অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করেছে।

বালি ফিরে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। অসৎ সুগ্রীবকে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করে সে। তবে সুগ্রীবের দেখানো পথেই সে তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা সুগ্রীবের স্ত্রী রুমাকে দখল করে নেয়। (নারীদের এমন সম্পদের ন্যায় ভোগ দখল অসভ্য সমাজে হয়তো বেশ সুপ্রচলিত ছিল।)

বিতাড়িত সুগ্রীব বহুকাল জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। একসময় সে দেখা পায় রামচন্দ্রের।তার স্ত্রী সীতাকে রাবণ অপহরণ করেছে। সীতা উদ্ধারের জন্য রাম সুগ্রীবের সাহায্য প্রার্থী হয়। সেই সুযোগে সুগ্রীবের অতৃপ্ত বাসনা,রাজ্য-লোভ পুনরায় জেগে ওঠে। বালীর কাছে আটক তার স্ত্রীকেও  উদ্ধার করতে চায় সে। রামের সাথে সুগ্রীব সন্ধিতে আবদ্ধ হয়, সীতা উদ্ধারের পূর্বশর্ত হয় বালী বধ।

তারপর, পরিকল্পনা অনুসারে সুগ্রীব বালীকে যুদ্ধের জন্য আহ্বান করে। আড়ালে তীর ধনুক হাতে লুকিয়ে থাকেন কাপুরুষ রাম। বালীর হাতে সুগ্রীব পরাজিত হয়ে পলায়ণ করে প্রাণ বাচায় এবার। বালি ও সুগ্রীবকে একইরকম দেখতে হওয়ায় এইবার আড়াল থেকে তীর ছোড়েননি রামচন্দ্র।

পরের বার, আবার ফিরে আসে সুগ্রীব। এইবার রাম তার গলায় মালা পরিয়ে দেন, যাতে দূর থেকে তীর ছোঁড়ার সময় সে সহজেই বালিকে চিনে নিতে পারে। যুদ্ধের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বালি যুদ্ধ-ময়দানে হাজির হয়।তবে, সুগ্রীব বালিকে মারার জন্য ফাঁদ পেতে থাকলেও, বালি তার ভাই সুগ্রীবকে মারতে চায়নি। তাই পরাজিত সুগ্রীবকে পূর্বেও বালি ছেড়ে দিয়েছিল। যুদ্ধে আগমণের পূর্বে বালি তার স্ত্রী ‘তারার’ সাথে কথোপকথনকালে জানায়, সে সুগ্রীবকে বধ করবে না, কেবল সুগ্রীবকে আহত করে সুগ্রীবের দর্প চূর্ণ করতে চায় সে। । এইবার তাকে তার স্ত্রী তারা সাবধান করে দিয়েছিল, সুগ্রীব রাম লক্ষণের সাথে মিত্রতা করেছে তাকে হত্যা করার জন্য। পুত্র অঙ্গদের কাছে ‘তারা’ এই সংবাদ পেয়েছিল।তারার সতর্কবার্তা শুনে বালি জানায়, দশরথ-পুত্র রাম যাই করুক, নিশ্চয় তিনি অন্যায় যুদ্ধে বালিকে হত্যা করবেন না।

তারার বারণ না শুনে বালি রণাঙ্গনে উপস্থিত হয়। সুগ্রীবের সাথে যখন তার ভয়াবহ যুদ্ধ চলছিল সেই সময় তাকে আড়াল থেকে তীর ছুঁড়ে হত্যা করেন রামচন্দ্র। আহা! কি বীরত্ব! মর্যাদা পুরুষোত্তমের মত এমন বীরত্ব কোনো অধমেরও না হউক।

বালিকে হত্যা করে রাম সুগ্রীবকে  কিষ্কিন্ধ্যার সিংহাসনে বসান। সুগ্রীব আবারো বালির স্ত্রী ‘তারাকে ‘ অধিগ্রহণ করে। সুগ্রীবের সাহায্যে সীতা সন্ধান ও উদ্ধারের জন্য সুগ্রীবের মনোষ্কামনা পূর্ণ করেন রাম ।

বালি বধ নীতি-অনীতি

  দু’বারের প্রচেষ্টায় রাম আড়াল থেকে বালীকে হত্যা করতে সফল হন।প্রথমবার সুগ্রীব পরাজিত হয়ে পলায়ণ করেছিল। দ্বিতীয়বার যখন সুগ্রীব আবারো পরাজিত হচ্ছিল বালির কাছে ,তখন আড়াল থেকে তীর নিক্ষেপ করেন রামচন্দ্র, বীর বালির মৃত্যু হয় কাপুরুষ রামের হাতে।  ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে বালি।

সে রামকে জিজ্ঞেস করে, 

 ” হে রাম! তুমি একটি মহান বংশে জন্মেছ, তুমি এক সুবিখ্যাত রাজার পুত্র, মেধাবী, সুদর্শন , ও সৎকর্মা হয়ে , অন্যের সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় আমাকে আহত করে তুমি কি গুণ লাভ করলে?” [১]

আহত বালি রামকে বলে,

“তোমাকে মহৎ গুণের অধিকারী ভেবে, তোমার মহনুভবতার প্রতি শ্রদ্ধার কারণেই আমি সুগ্রীবের সাথে যুদ্ধে রত ছিলাম ‘তারার’ দ্বারা আগেই সতর্ক হওয়া সত্ত্বেও।” [২]

বালি ভেবেছিল, সুগ্রীবের সাথে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাম বালিকে আঘাত করবে না।   কিন্তু রাম বালির এই ভুল ধারণা ভেঙ্গে দিয়েছিলেন।

বালি রামকে বলে, ” আমি জানতাম না তুমি তোমার আত্মাকে বধ করেছ (নিজের নীতিবিরুদ্ধ কাজ করে) , তুমি পাপাচারী, তুমি মহৎ গুণাবলীর আড়ালে একজন অন্যায়কারী।” [৩] “তুমি বিশ্বাসঘাতক, অসৎ , স্বার্থপর, মিথ্যা নম্রতার অভিনয় কারী কিন্তু ভেতরে তুমি একজন পাপী।”[৪] অসচ্চরিত্রের মত, অনৈতিকভাবে তীক্ষ্ন তীরের দ্বারা দাম্ভিক রাম আমাকে হত্যা করেছে।” [৫]

বালি রামকে জিজ্ঞেস করে,

“হে রাম! যখন মহৎ ব্যক্তিরা  তোমাকে তোমার এই কর্মের কারণ  জিজ্ঞেস করবে তখন তুমি তাদের কি উত্তর দেবে?”[৬] “তুমি যদি  আমার সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে তবে আমি তোমাকে যম দর্শন করাতাম”। [৭] আমার মৃত্যুর পর সুগ্রীব যদি রাজ্য অধিকার করতো  তা অন্যায় হত না, কিন্তু আমাকে অন্যায় ভাবে হত্যা করায় তোমার অত্যন্ত অন্যায় হল। [৮] মৃত্যুর সময় হলে জগতে সকলকেই মৃত্যুবরণ করতে হয়, কিন্তু এভাবে লুকিয়ে আমাকে হত্যা করা কি তোমার উচিত হয়েছে? [৯]

কথা বলতে বলতে বালি যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়ে।

বালি কর্তৃক ভর্ৎসিত হয়ে রাম উত্তর দেন,

“ এই শৈলকাননপূর্ণ ভূবিভাগ ইক্ষ্বাকুবংশীয় রাজাদের অধিকৃত , এই স্থানের মৃগ, পক্ষী ও মানুষদের দন্ড-পুরস্কার তারাই করে থাকেন।এখন সত্যশীল, সরলস্বভাব রাজা ভারত এই ভূমির রক্ষা ভার নিজে গ্রহণ করেছেন।তিনি নীতিনিপূণ বিনয়ী , দুষ্টদমন ও শিষ্ট পালনে সুপটু, তিনি দেশকাল জানেন, ধর্ম, অর্থ ও কামের যথার্থতা বুঝেছেন। এখন সে মহাবীরই পৃথিবীর রাজা, আমরা এবং অন্যান্য রাজারা তারই আদেশে ধর্ম বৃদ্ধির অভিলাষে সমগ্র ভূমন্ডল পর্যটন করছি। যখন সেই রাজাধিরাজ ধর্ম বৎসল পৃথিবী পালন করছেন, তখন ধর্ম বিপ্লব আর কে করবে? আমরা স্বধর্মনিষ্ঠ ,এখন রাজনিয়োগে ধর্ম ভ্রষ্টকে অনুরূপ নিগ্রহ করব। তুমি বিধর্মী , দুশ্চরিত্র ও কামপ্রধান এবং তোমা হতে রাজধর্মের ব্যতিক্রম ঘটেছে।জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা , পিতা ও অধ্যাপক এনারা পিতা;কনিষ্ঠ ভ্রাতা, পুত্র ও গুণবান শিষ্য এরা পুত্র;এইরূপ ব্যবস্থার ধর্মই মূল কারণ।“

[কিষ্কিন্ধ্যাকান্ড, অষ্টাদশ সর্গ | অনুবাদ- হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য]

পুনরায় রাম বালি বধের কারণ বর্ণনা করেন,

“ তুমি সনাতন ধর্ম উলঙ্ঘন করা ভ্রাতৃবধূ রুমাকে গ্রহণ করেছ। মহাত্মা সুগ্রীব জীবিত আছেন, ওর পত্নী রুমা শাস্ত্রানুসারে তোমার পুত্রবধূ, তাকে অধিকার করায় তোমার পাপ হয়েছে। তুমি ধর্মভ্রষ্ট, স্বেচ্ছাচারী , এইজন্যই তোমাকে দন্ড প্রদান করলাম। …যে ব্যক্তি কামপ্রভাবে ঔরসী কন্যা, বোণ ও ভ্রাতৃবধূতে আসক্ত হয় তার প্রতি বধদন্ড বিহিত হয়ে থাকে। এখন ভরত পৃথিবীর অধীশ্বর এবং আমরা তার অধিকৃত, তুমিও ধর্ম পথ হতে পরিভ্রষ্ট হয়েছ, সুতরাং আমরা তোমাকে কিভাবে উপেক্ষা করব? ভরত ধর্মানুসারে রাজ্য পালনে প্রবৃত্ত হয়েছেন , যে ব্যক্তি ঘোরতর অধর্মী সেই ধীমান তার দন্ড বিধান করছেন। তিনি কামপরায়ণদের নিগ্রহে উদ্যত। আমরা তারই আদেশে তোমার ন্যায় অধার্মিকদের দন্ড বিধান করছি। যেমন লক্ষণের সাথে আমার সৌহার্দ্য আছে, সুগ্রীবের সাথেও আমার তেমন রয়েছে, সুগ্রীব রাজ্য ও স্ত্রীলাভ উদ্দেশ্য করে আমার কার্য সাধনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, আমিও বানরদের সম্মুখে তার সংকল্পসিদ্ধির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিলাম। এখন আমার মত লোক প্রতিজ্ঞা করে কিভাবে উপেক্ষা করবে? কপিরাজ, তুমি নিশ্চয় বুঝো আমি এইসকল ধর্মানুগত মহৎ কারণেই তোমাকে সমুচিত শাসন করলাম”।

[কিষ্কিন্ধ্যাকান্ড, অষ্টাদশ সর্গ |অনুবাদ-হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য]

রাম আরও বলেন,

“ বীর! আরো কিছু বলিবার আছে শুন, কিন্তু ক্রোধ করো না। আমি তোমাকে লুকিয়ে হত্যা করে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ নই এবং এজন্য শোকও  করি না। লোকে প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য থেকে বাগুরা,পাশ প্রভৃতি কূট উপায় দ্বারা হরিণকে ধরে থাকে। হরিণ ভীত বা বিশ্বাসে নিশ্চিত হউক, অন্যের সাথে বিবাদ করুক বা ধাবমান হউক, সতর্ক বা অসাবধানই থাকুক, মাংসাশী মনুষ্য তাকে বধ করে, এতে অনুমাত্র দোষ নেই। দেখ ধর্মজ্ঞ নৃপতিরা অরণ্যে মৃগয়া করে থাকে; সুতরাং তুমি শাখামৃগ বানর, যুদ্ধ কর বা নাই কর, মৃগ বলেই আমি তোমাকে বধ করেছি।“

[কিষ্কিন্ধ্যাকান্ড, অষ্টাদশ সর্গ | অনুবাদ- হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য]

রামের উত্তর হতে যে সারসংক্ষেপ পাওয়া যায় তা হলঃ

১/ সমগ্র পৃথিবীর রাজা ইক্ষ্বাকুবংশীয় ভরত ও রাম তার প্রতিনিধি হিসেবে যেকোনো অধর্ম কারীকে শাস্তি  দেওয়ার অধিকার রাখেন। রাম সহ নানান রাজারা অধর্মকারীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য সারা পৃথিবী পর্যটন করছেন। যেহেতু বালি অধর্মকারী তাই তাকে শাস্তি দেওয়া রামের কর্তব্য।  

২/ বালি সুগ্রীবের পত্নী অর্থাৎ নিজের ভ্রাতৃ বধূকে বিবাহ করেছে। রামের অনুসারে, জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা , পিতা ও অধ্যাপক এনারা পিতা; কনিষ্ঠ ভ্রাতা, পুত্র ও গুণবান শিষ্য এরা পুত্র;এইরূপই ধর্ম। সুতরাং ভ্রাতৃজায়াকে গ্রহণ করাই বালীর একমাত্র অপরাধ।

৩/ রাম সীতা উদ্ধারের জন্য সুগ্রীবের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সুগ্রীব রাজ্য ও স্ত্রীলাভের শর্ত দিয়েই রামকে সীতা উদ্ধারে সাহায্য করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিল। তাই সুগ্রীবের কথা রাখতেই রাম বালিকে বধ করেন।

৪/সবশেষে রাম বালীকে জানান, বালি তার কাছে নেহাতই পশুর মতন। তাই তাকে আড়াল থেকে বধ করে রাম লজ্জিত নয়। মৃগ বলেই রাম বালীকে হত্যা করেছে।

বালিকে লুকিয়ে হত্যার জন্য তীর নিক্ষেপ করে রাম বালি কর্তৃক ধিক্কৃত হয়েছেন। জবাবদিহি হিসাবে রাম কিছু কারণ দেখিয়েছেন। সেই কারণগুলি আসলেই কতটা যুক্তিযুক্ত তা এবার বিশ্লেষণ করা যাক।

প্রথম দাবী অনুসারে, ইক্ষ্বাকুরা সমগ্র পৃথিবীর  অধিকর্তা এবং ভরত ইক্ষ্বাকুবংশীয় বর্তমান রাজা এবং রাম তার প্রতিনিধি হিসাবে অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার জন্য পৃথিবীর নানা স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা কে না জানে যে, রাম তার কামুক পিতা দশরথের প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে গিয়ে  বনবাস পেয়েছেন চৌদ্দ বছরের জন্য।কৈকেয়ীর পরিকল্পনায় রাম রাজ্যচ্যুত, রাজ্য হতে বহিষ্কৃত। নিজের গায়ের বস্ত্রও পরিত্যাগ করে ছাল বাকল পরে বনবাসী সে। একজন রাজ্যচ্যুত,বনবাসী হিসাবে রাম যেসকল কথা বালীকে শোনালেন, তা ডাহা মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়। ভরত রামকে অপরাধীদের দণ্ডদানের কোনো অধিকার দিয়েছেন বলে বাল্মীকির বিবরণে পাওয়া যায় না। এছাড়া ইক্ষ্বাকুবংশীয়রা সমগ্র পৃথিবীর রাজা হলে, মিথিলা (মিথিলার রাজা জনকের কন্যা সীতাকে রাম বিয়ে করেছিলেন) সহ নানান অঞ্চলে বিভিন্ন রাজা থাকতেন না। ইক্ষ্বাকুবংশীয় সমগ্র পৃথিবীর অধিকারী হলে, লঙ্কার রাজা রাবণ হত না, যে কিনা সীতাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল। তাই ইক্ষ্বাকুবংশীয়রা সমগ্র পৃথিবীর অধিকারী ও রাম ভরতের প্রতিনিধি হিসাবেই বালীকে দণ্ড দানের অধিকার রাখেন ,এটা নেহাতই ভিত্তিহীন কথা। বালীকে হত্যাকালে, বালী কিষ্কিন্ধ্যার রাজা ছিলেন আর রাম ছিলেন সামান্য একজন বনবাসী। 

বালীর  একমাত্র অপরাধ ছিল ভ্রাতৃবধূকে অধিকার করে নেওয়া। হ্যাঁ , এটা একটা উপযুক্ত এবং একমাত্র অভিযোগ হতে পারে বালীর প্রতি।  এর জন্য বালীকে শাস্তি দেয়া যেত।তবে রামের উচিত ছিল সম্মুখসমরে অবতীর্ণ হওয়া।  রামের বক্তব্য অনুসারে “ দাদা, পিতা , শিক্ষক এরা হল পিতা এবং ছোটভাই , পুত্র ও গুণবান ছাত্র এরা হল পুত্র”। বেশ সুন্দর কথা, এবার রামের এই বক্তব্যেরই বিশ্লেষণ করা যাক। বালী সুগ্রীবের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা অর্থাৎ সে সুগ্রীবের পিতার মতন। তাহলে বালীর পত্নী তারা হলেন সুগ্রীবের মাতার মতন। তাহলে, বালীর অনুপস্থিতিতে অপদার্থ সুগ্রীব যে রাজ্যের পাশাপাশি তার মাতাকে (ভ্রাতৃ বধূ তারাকে) বিবাহ করে নিয়েছিল এই বিষয়ে রাম চিন্তিত নন, এটা বিস্ময়ের সঞ্চার করে। তবে হতে পারে, সুগ্রীব রামকে এই কথা জানায়নি, তাই রাম জানতে পারেনি যে সুগ্রীব বালীর পূর্বেই মাতৃ স্বরূপা ভ্রাতৃ বধূকে অধিগ্রহণ করেছিল। এই বিষয়টি অজ্ঞাত থেকেই রাম সুগ্রীবকে সাহায্য করেছিল, এটাও ধরে নেয়া যেত। (কিন্তু তা ধরা যাবে না, কেন ধরা যাবে না, তা পরে বিচার করা হবে)

তাহলে দেখা যায়, বালী ও সুগ্রীব দুজনেই একই অপরাধে অপরাধী ছিল। তবে শুরুটা সুগ্রীব করেছিল, ভাইকে গুহাতে পাথর চাপা দিয়ে তার রাজ্য ও পত্নী দখল করে বসেছিল। তবুও ধরে নিলাম রাম সুগ্রীবের অপকর্মের কথা জানতেন না, তাই তিনি বালীকেই কেবল অপরাধী ভেবেছিলেন।

বালীর অপরাধের জন্য সে বধ্য তা ধরে নিলেও রাম বালীকে বধ করেন আড়াল থেকে। পরপর দুবার  আড়াল থেকে  বালীকে হত্যার চেষ্টা করেন রাম। প্রথমবার যখন ব্যর্থ হয়েছিলেন বালীকে হত্যা করতে তখনও মুখে বড় বড় বীরত্বের কথা বলা কাপুরুষ রাম ঘাপটি মেরে লুকিয়েছিলেন অরণ্যেই।

নিজের কাপুরুষতা রাম স্বীকার করেন নি। অনার্য বালীকে বানর বলে ধিক্কৃত করেছেন। পশু বলে তাকে যেভাবে খুশি বধ করা যায় বলে নিজের ভীরুতাকে বৈধতা দিয়েছেন। তাহলে দেখা যায়, রাম পশু সুগ্রীবের সাথে শর্ত বদ্ধ হয়েই আরেক পশুকে বধ করেন! পশু হনুমান, অঙ্গদ ও জাম্ববানদের সহায়তাতেই লঙ্কা অভিযান করেন এবং রাবণকে পরাজিত করেন!এইসব পশুদের সাথে ঘুরে বেড়াতে , তাদের সাথে সখ্যতা করতে , নিজের প্রয়োজন মেটাতে রামের কোনো সঙ্কোচ হয়নি? যুক্তিহীন হয়ে, নিজের অপরাধ ও কাপুরুষতা ঢাকতেই অনার্য বালীকে রাম অভিহিত করেছেন পশু হিসাবে।

রামের সকল  যুক্তি-কারণ ব্যর্থ হলেও একটা কারণ অবশ্য সঠিক ছিল। রাম সীতা উদ্ধারের জন্যই সুগ্রীবের সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার কারণেই বালীকে বধ করেন, সুগ্রীবকে রাজ্য লাভে সাহায্য করতে। বালী বধে  রাম কেবল নিজ স্বার্থ দ্বারাই অনুপ্রাণিত ছিলেন, এতে ধর্মাধর্ম তেমন বিবেচ্য ছিল না। 

রাম বালীকে বধ করেন, সুগ্রীব কিষ্কিন্ধ্যার সিংহাসন দখল করে। মৃত্যুকালে বালী তার পুত্র অঙ্গদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, যদিও বালী বুঝতে পেরেছিলেন সুগ্রীব রাজ্য লাভে সমর্থ না হলে সে তার পুত্র অঙ্গদকেও হত্যা করতে পারে, তাই সে সুগ্রীবকেই রাজ্য গ্রহণ করতে বলে।

বালী যখন আহত, যন্ত্রণায় কাতর , তখন তার স্ত্রী ‘তারা’ খবর পেয়ে ছুটে আসেন বালীর কাছে। বিলাপ করতে থাকে সে বালীর পায়ে  মাথা রেখে। ‘তারা’ চাইত, তার পুত্র অঙ্গদ রাজা হোক। কিন্তু তা হয়নি, রাজ্য দখল করেছে সুগ্রীব। চতুর সুগ্রীব বালীকে গুহাতে পাথর চাপা দিয়ে প্রথম থেকে দাবী করছিল, সে ভুলবশত বালীকে গুহাতে পাথর চাপা দিয়ে এসেছিল। পরে সে রাজ্য দখল করে ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে, অধিগ্রহণ করে মাতৃসমা ভ্রাতৃপত্নীকে। পরে বালী ফিরে এসে তাকে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করে এবং সুগ্রীবের স্ত্রী রুমাকে সুগ্রীবের মতোই অধিগ্রহণ করে।

রাজ্য থেকে বিতাড়িত সুগ্রীব রামকে জানায়- বালী ভুল বুঝে সুগ্রীবকে বিতাড়িত করেছিল, বালীর রাজ্যের প্রতি তার কোনো লোভ ছিল না, সে বালীকে ভৃত্যের মত  সেবা করতো।

এসব কথা আসলেই যে মিথ্যা ছাড়া অন্য কিছু নয়, তা পরবর্তীকালেই পরিষ্কার হয়ে যায়। রামের সাথে সুগ্রীবের সন্ধির শর্তই ছিল ,’বালী বধ ও রাজ্য ও স্ত্রী পুনরুদ্ধার’। স্ত্রী উদ্ধারের উপযুক্ত কারণ থাকতে পারে, তবে সুগ্রীব যদি নির্লোভ হত তবে সে রাজ্য অধিকারের জন্য বালীকে হত্যা করতে বারংবার রামকে বলপ্রয়োগ  করতো না। [১০] আবার, বালীকে হত্যা করার পর , সে চাইলে তার ভ্রাতৃৃষ্পুত্র অঙ্গদকে সিংহাসনে বসাতে পারতো, কিন্তু সে তা করেনি।

রাজ্য লাভের পরেই শ্রীরামের সখা সুগ্রীব যে অত্যন্ত ধর্মসঙ্গত কাজটি করেছিল তা হল, পিতার মত  জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বালীর স্ত্রী , মায়ের মতন ভ্রাতৃ পত্নী ‘তারাকে’ সে পুনরায় অধিগ্রহণ (বিবাহ) করে। প্রথমবার যে বালীর অনুপস্থিতিতে রাজ্যের সাথে সাথে সুগ্রীব বালীর স্ত্রীকেও দখল করে নিয়েছিল সেটা হয়তো রামের অজানা ছিল। (হয়তো বা জ্ঞাত ছিল, শুধু বালীর সম্মুখেই সে ধর্মধ্বজা ধরেছিল) কিন্তু রামের সম্মুখেই যখন বালীর মৃত্যুর পর সুগ্রীব তার মায়ের মত জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার স্ত্রী ‘তারার’ সাথে ভোগের খেলায় মেতে উঠেছিল? –

Having realised his hopes and his fears being allayed, he passed the time by day and by night with his favourite consort Ruma and also Tara who was equally dear to him, as the Lord of the Gods disports himself among the troops of nymphs and musicians. Leaving the administration of the state to his ministers without supervision, his realm not being in peril, he became a slave to sense pleasures. 

[valmiki ramayana/kishkindakanda/29 sarga | Translation- Hari Prasad shastri ] [১১]

এখান থেকে জানা যায়, সুগ্রীব তার সমান প্রিয় পত্নী রুমা ও ‘তারা’ র- সাথে দিনরাত অতিবাহিত করতে থাকে।  মন্ত্রীদের হাতে নিরাপদে রাজ্য অর্পণ করে, সুগ্রীব ইন্দ্রিয়সুখের দাস হয়ে পড়ে।

তখন কি রামচন্দ্র বিস্মৃত হয়েছিলেন,

“জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা , পিতা ও অধ্যাপক এনারা পিতা;কনিষ্ঠ ভ্রাতা, পুত্র ও গুণবান শিষ্য এরা পুত্র;এইরূপ ব্যবস্থার ধর্মই মূল কারণ”

 তখন কি রামচন্দ্র ভুলে গিয়েছিলেন,

“এই শৈলকাননপূর্ণ ভূবিভাগ ইক্ষ্বাকু বংশীয় রাজাদের অধিকৃত , এই স্থানের মৃগ, পাখি ও মানুষদের দন্ড-পুরস্কার তারাই করে থাকেন।এখন সত্যশীল, সরলস্বভাব রাজা ভারত এই ভূমির রক্ষা ভার নিজে গ্রহণ করেছেন।তিনি নীতিনিপূণ বিনয়ী , দুষ্টদমন ও শিষ্ট পালনে সুপটু, তিনি দেশকাল জানেন, ধর্ম, অর্থ ও কামের যথার্থতা বুঝেছেন। এখন সে মহাবীরই পৃথিবীর রাজা, আমরা এবং অন্যান্য নৃপতিরা তারই আদেশে ধর্ম বৃদ্ধির অভিলাষে সমগ্র ভূমন্ডল পর্যটন করছি। যখন সেই রাজাধিরাজ ধর্ম বৎসল পৃথিবী পালন করছেন, তখন ধর্ম বিপ্লব আর কে করবে? আমরা স্বধর্ম নিষ্ঠ এখন রাজনিয়োগে ধর্ম ভ্রষ্টকে অনুরূপ নিগ্রহ করব”

রামচন্দ্র কি ভুলে গিয়েছিলেন,

“যে ব্যক্তি কামপ্রভাবে ঔরসী কন্যা, বোন ও ভ্রাতৃ বধূতে আসক্ত হয় তার প্রতি বধদন্ড বিহিত হয়ে থাকে”।

রামচন্দ্র কি সুগ্রীবকে বধ করেছিলেন? অথবা শাস্তি দিয়েছিলেন ধর্ম অনুযায়ী? দেননি।

রামচন্দ্রের বালী বধ কোনো ধর্ম-অধর্মের কারণে ছিল না, তিনি কেবল সীতা উদ্ধারের জন্যই সুগ্রীবের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। সুগ্রীবকে রাজ্য পাইয়ে দিয়েছিলেন এবং তার জন্য চোরের মত বালীকে বধ করেছিলেন এবং মিথ্যাচারীর মত বালী হত্যাকে বৈধতা দান করতে চেয়েছিলেন।

তথ্যসূত্রঃ-

১/বাল্মীকি রামায়ণ ৪-১৭-১৫

২/ বাল্মীকি রামায়ণ ৪-১৭-১৯

৩/ বাল্মীকি রামায়ণ ৪-১৭-২১

৪/বাল্মীকি রামায়ণ ৪-১৭-২২

৫/ বাল্মীকি রামায়ণ ৪-১৭-৪৩

৬/ বাল্মীকি রামায়ণ ৪-১৭-৪৪

৭/ বাল্মীকি রামায়ণ ৪-১৭-৪৬

৮/ বাল্মীকি রামায়ণ ৪-১৭-৫১

৯/ বাল্মীকি রামায়ণ ৪-১৭-৫২

১০/तव प्रसादेन नृसिंह वीर
प्रियाम् च राज्यम् च समाप्नुयाम् अहम् |
तथा कुरु त्वम् नर देव वैरिणम्
यथा न हिंस्यत् स पुनर् मम अग्रजम् || ४-५-३०

“By your grace, oh, lion among men, let me regain my wife and kingdom too… oh, god of humans, as to how he does not suffer me again, thus you may please make happen… let not my elder brother turned as an enemy of mine suffer me again… [4-5-30]

১১/ আরেকটি অনুবাদ

Facebook Comments

অজিত কেশকম্বলী II

"মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।" - লালন সাঁই

2 thoughts on “রামচন্দ্রের বালী হত্যা-রাম ধর্মের অনুসারী নাকি অধর্মের?

  • January 14, 2019 at 9:11 am
    Permalink

    ঈক্ষ্বাকু কে জানুন। মনু পুত্র ছিলেন তিনি। প্রথম বংশীয় রাজা। বালি ছোট থাকতেই ছিল আশুরিক।
    আর ভরত যখন রাজা হন তখন রাম কে ফিরিয়ে আনতে যান। এবং রাম ফিরে যাননি। তখন ভরত রাম এর পাদুকা সংগে নিয়ে যান আর সে পাদুকা সিংহাসনে রেখে ভরত রাজ্য শাষন করেন। সে মতে রাম শুধু বনে থেকে যান পিতার প্রতিজ্ঞা রক্ষার জন্য কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে রাম ছিল একজন রাজা।
    রাম তার দৈন্যতা ভরে তাকে প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেন।

    Reply
    • April 24, 2019 at 4:53 am
      Permalink

      রাম রাজ্য যখন গ্রহণ করেনি তখন সে রাজা নয়। ভরত রামের পাদুকা নিয়ে রাজ্য পরিচালনা করেছেন, এটা ভরতের উদারতা। এর মানে এই নয় রাম রাজা হয়ে যান। আপনি বলেছেন, “আর ভরত যখন রাজা হন তখন রাম কে ফিরিয়ে আনতে যান।… সে মতে রাম শুধু বনে থেকে যান পিতার প্রতিজ্ঞা রক্ষার জন্য কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে রাম ছিল একজন রাজা।” পিতার প্রতিজ্ঞা ছিল রামের রাজ্যহীন হয়ে বনবাস করা। রাম যদি বনে থেকেই রাজ্য দাবী করে বালীকে শাস্তি দিয়ে থাকেন, তবে বলতে হয় তিনি পিতার প্রতিজ্ঞা পালন করতে পারেননি।

      ইক্ষ্বাকুর উল্লেখ করে কি বলতে চাইছেন যে তার বংশধরেরা ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা সহ সমগ্র পৃথিবীর রাজা ছিলেন? পৃথিবীর ইতিহাস কিন্তু তা বলেনা! ভারতের নানা রাজ্যে নানা রাজা থাকার উল্লেখই ইক্ষ্বাকুর বংশধরদের সমগ্র পৃথিবীর উপর অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে! পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ইক্ষ্বাকুর বংশধরেরা কোনো কালে সমগ্র পৃথিবী শাসন করে থাকলেও, পরে তারা তাদের সেই ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে, নইলে অন্যান্য রাজ্যগুলোতে অন্যান্য স্বতন্ত্র রাজার উত্থান হওয়া সম্ভবপর নয়।

      Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: