অসহায় নিরপরাধ যুদ্ধবন্দী নারী ও দাসী ধর্ষণের বৈধতা – কুরআন হাদিসের দলিল

ইসলাম এমন একটি ধর্ম যেই ধর্ম কোনো যুদ্ধের পর প্রতিপক্ষের অসহায় নিরপরাধ মা বোন এবং বউকে জোরপূর্বক বন্দী করে তাদের সাথে জোরপূর্বক সহবাস করার বৈধতা দেয়। ইসলাম এমনই একটি ধর্ম যেই ধর্ম একজন নিরপরাধ মানুষকেও তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দাসী হিসেবে বন্দী করে রাখা সমর্থন করে এবং সেইসাথে সেই দাসীকেও ধর্ষণ করা সমর্থন করে। এই প্রবন্ধটি তৈরি করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যুদ্ধবন্দী নারী এবং দাসী ধর্ষণ বিষয়ক কুরআন হাদিসের তথ্যসমূহকে পাঠকদের সামনে তুলে ধরা। ইসলাম আসলেই যুদ্ধবন্দী নারী এবং দাসীদের ধর্ষণ করা সমর্থন করে কিনা তা আমি কুরআন হাদিসের দলিল থেকে তুলে ধরছি। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে যে, আপনারা তথ্যসমূহকে পড়া মাত্রই বিশ্বাস করবেন না, আমরা চাই আপনারা তথ্যসমূহকে যাচাই বাছাই করুন এবং তারপরেই ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

কুরআন

4:3

وَ اِنۡ خِفۡتُمۡ اَلَّا تُقۡسِطُوۡا فِی الۡیَتٰمٰی فَانۡکِحُوۡا مَا طَابَ لَکُمۡ مِّنَ النِّسَآءِ مَثۡنٰی وَ ثُلٰثَ وَ رُبٰعَ ۚ فَاِنۡ خِفۡتُمۡ اَلَّا تَعۡدِلُوۡا فَوَاحِدَۃً اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ؕ ذٰلِکَ اَدۡنٰۤی اَلَّا تَعُوۡلُوۡا ؕ﴿۳﴾

আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীমদের ব্যাপারে তোমরা ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দু’টি, তিনটি অথবা চারটি। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তবে একটি অথবা তোমাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে। এটা অধিকতর নিকটবর্তী যে, তোমরা যুলম করবে না।

তাফসীর

[১] এই আয়াতের তাফসীর আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এইভাবে বর্ণনা করেছেন যে, বিত্তশালিনী এবং রূপ-সৌন্দর্যের অধিকারিণী ইয়াতীম কন্যা কোন তত্ত্বাবধায়কের তত্ত্বাবধানে থাকলে, সে তার মাল ও সৌন্দর্য দেখে তাকে বিবাহ করে নিত, কিন্তু তাকে অন্য নারীদের ন্যায় সম্পূর্ণ মোহর দিত না। মহান আল্লাহ এ রকম অবিচার করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, যদি তোমরা ঘরের ইয়াতীম মেয়েদের সাথে সুবিচার করতে না পার, তাহলে তাদেরকে বিবাহই করবে না। অন্য মেয়েদেরকে বিবাহ করার পথ তোমাদের জন্য খোলা আছে। (বুখারী ২৪৯৪ নং) এমন কি একের পরিবর্তে দু’জন, তিনজন এবং চারজন পর্যন্ত মেয়েকে তোমরা বিবাহ করতে পার। তবে শর্ত হল, তাদের মধ্যে সুবিচারের দাবী যেন পূরণ করতে পার। সুবিচার করতে না পারলে, একজনকেই বিয়ে কর অথবা অধিকারভুক্ত ক্রীতদাসী নিয়েই তুষ্ট থাক। এই আয়াত থেকে জানা গেল যে, একজন মুসলিম পুরুষ (সে প্রয়োজন বোধ করলে) একই সময়ে চারজন মহিলাকে বিবাহ করে নিজের কাছে রাখতে পারে; এর বেশী রাখতে পারে না। অনেক সহীহ হাদীসেও এ বিষয়কে আরো পরিষ্কার করে বর্ণনা করে দেওয়া হয়েছে এবং চার সংখ্যা পর্যন্ত তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আর নবী করীম (সাঃ) যে চারের অধিক নারীকে বিবাহ করেছিলেন, সেটা ছিল তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। উম্মতের কারো জন্য তার উপর আমল করা জায়েয নয়। (ইবনে কাসীর)

4:3

তাফসীর আহসানু বায়ান  

4:24

وَّ الۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ۚ کِتٰبَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ ۚ وَ اُحِلَّ لَکُمۡ مَّا وَرَآءَ ذٰلِکُمۡ اَنۡ تَبۡتَغُوۡا بِاَمۡوَالِکُمۡ مُّحۡصِنِیۡنَ غَیۡرَ مُسٰفِحِیۡنَ ؕ فَمَا اسۡتَمۡتَعۡتُمۡ بِہٖ مِنۡہُنَّ فَاٰتُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ فَرِیۡضَۃً ؕ وَ لَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ فِیۡمَا تَرٰضَیۡتُمۡ بِہٖ مِنۡۢ بَعۡدِ الۡفَرِیۡضَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ﴿۲۴﴾

আর (হারাম করা হয়েছে) নারীদের মধ্য থেকে সধবাদেরকে। তবে তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে (দাসীগণ) তারা ছাড়া। এটি তোমাদের উপর আল্লাহর বিধান এবং এরা ছাড়া সকল নারীকে তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে যে, তোমরা তোমাদের অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে চাইবে বিবাহ করে, অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে নয়। সুতরাং তাদের মধ্যে তোমরা যাদেরকে ভোগ করেছ তাদেরকে তাদের নির্ধারিত মোহর দিয়ে দাও। আর নির্ধারণের পর যে ব্যাপারে তোমরা পরস্পর সম্মত হবে তাতে তোমাদের উপর কোন অপরাধ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

তাফসীর 

[১] কুরআন কারীমে إِحْصَانٌ শব্দটি চারটি অর্থে ব্যবহার হয়েছে। যথা, (ক) বিবাহ (খ) স্বাধীনতা (গ) সতীত্ব এবং (ঘ) ইসলাম। এই দিক দিয়ে مُحْصَنَات এর হবে চারটি অর্থঃ (ক) বিবাহিতা মহিলাগণ (খ) স্বাধীন মহিলাগণ (গ) সতী-সাধ্বী মহিলাগণ এবং (ঘ) মুসলিম মহিলাগণ। এখানে প্রথম অর্থকে বুঝানো হয়েছে। আয়াতের শানে নুযুল (অবতীর্ণ হওয়ার কারণ) সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যখন কোন কোন যুদ্ধে কাফেরদের মহিলারা মুসলিমদের হাতে বন্দিনী হল, তখন ঐ সকল মহিলারা বিবাহিতা হওয়ার কারণে মুসলিমরা তাদের সাথে সহবাস করার ব্যাপারে ঘৃণা অনুভব করল। অতঃপর নবী করীম (সাঃ)-কে সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-গণ এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে এই আয়াত অবতীর্ণ হল। (ইবনে কাসীর) এ থেকে জানা গেল যে, যুদ্ধলব্ধ কাফের মহিলারা মুসলিমদের হাতে বন্দিনী হয়ে এলে, তাদের সাথে সহবাস করা জায়েয, যদিও তারা বিবাহিতা হয়। তবে গর্ভমুক্ত কি না সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া জরুরী। অর্থাৎ, এক মাসিক দেখার পর অথবা গর্ভবতী হলে প্রসবের পর (নিফাস বন্ধ হলে তবেই) তার সাথে সহবাস করা যাবে।

ক্রীতদাসীদের মাসআলাঃ কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় দাস-দাসীর রাখার প্রথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। কুরআন এ প্রথাকে উচ্ছেদ তো করেনি, তবে তাদের ব্যাপারে এমন কৌশল ও যুক্তিময় পথ অবলম্বন করা হয়, যাতে তারা খুব বেশী বেশী সুযোগ-সুবিধা অর্জন করতে পারে এবং দাস-প্রথার প্রবণতা হ্রাস পায়। দু’টি মাধ্যমে এই প্রথা প্রচলিত ছিল। প্রথমটি হল, কোন কোন গোত্র এমন ছিল যাদের পুরুষ ও নারীকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ক্রয়-বিক্রয় করা হত। এই ক্রীত নর-নারীকেই ক্রীতদাস ও দাসী বলা হয়। মনিবের অধিকার হত তাদের দ্বারা সর্ব প্রকার ফয়দা ও উপকার অর্জন করা। আর দ্বিতীয়টি হল, যুদ্ধে বন্দী হওয়ার মাধ্যমে। কাফেরদের বন্দী মহিলাদেরকে মুসলিম যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হত এবং তারা দাসী হয়ে তাঁদের সাথে জীবন-যাপন করত। বন্দিনীদের জন্য এটাই ছিল উত্তম ব্যবস্থা। কারণ, তাদেরকে যদি সমাজে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হত, তাহলে তাদের মাধ্যমে ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি হত। (বিস্তারিত জানার জন্য দ্রষ্টব্যঃ মৌলানা সাঈদ আহমদ আকবার আবাদী রচিত বই ‘আররিক্কু ফীল ইসলাম’ (ইসলামে দাসত্বের তাৎপর্য) মোট কথা হল, (স্বামীর বিবাহ বন্ধনে থাকা অবস্থায়) সধবা মুসলিম মহিলাদেরকে বিবাহ করা যেমন হারাম, তেমনি সধবা কাফের মহিলারাদেরকেও বিবাহ করা হারাম, তবে যদি তারা মুসলিমদের অধিকারে এসে যায়, তাহলে তারা গর্ভমুক্ত কি না এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের জন্য (যৌন-সংসর্গ) হালাল হবে।

[২] অর্থাৎ, কুরআন ও হাদীসে যে মহিলাদের সাথে বিবাহ করা হারাম বলে ঘোষিত হয়েছে, তাদেরকে ছাড়া অন্য মহিলাদেরকে বিবাহ করা জায়েয চারটি শর্তের ভিত্তিতে। (ক) তলব করতে হবে। অর্থাৎ, উভয় পক্ষের মধ্যে ইজাব ও কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) হতে হবে (এক পক্ষ প্রস্তাব দিবে এবং অপর পক্ষ কবুল করবে)। (খ) দেনমোহর আদায় করতে হবে। (গ) তাকে সব সময়ের জন্য বিবাহ বন্ধনে রাখা উদ্দেশ্য হবে, কেবল কাম-প্রবৃত্তি চরিতার্থ করাই লক্ষ্য হবে না। (যেমন, ব্যভিচারে অথবা শীয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত মুতআ’ তথা কেবল যৌনক্ষুধা নিবারণের লক্ষ্যে কয়েক দিন বা কয়েক ঘণ্টার জন্য সাময়িকভাবে চুক্তিবিবাহ হয়ে থাকে)। (ঘ) গোপন প্রেমের মাধ্যমে যেন না হয়, বরং সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ হবে। এই চারটি শর্ত আলোচ্য আয়াত থেকেই সংগৃহীত। এ থেকে যেমন প্রমাণিত হয় যে, শীয়া সম্প্রদায়ের প্রচলিত মুতআ’ বিবাহ বাতিল, অনুরূপ প্রচলিত ‘হালালা’ (রীতিমত তিন তালাকের পর অন্য এক পুরুষের সাথে বিবাহের মাধ্যমে স্বামীর জন্য স্ত্রীকে হালাল করার) পদ্ধতিও না-জায়েয। কারণ, এতেও মহিলাকে সব সময়ের জন্য বিবাহ বন্ধনে রাখা উদ্দেশ্য হয় না, বরং প্রচলিত নিয়মানুযায়ী এই বিবাহ কেবল এক রাতের জন্য হয়।

[৩] এখানে এ ব্যাপারে তাকীদ করা হচ্ছে যে, যে মহিলাদের সাথে তোমরা বৈধ বিবাহের মাধ্যমে যৌনসুখ ও স্বাদ গ্রহণ কর, তাদেরকে তাদের নির্দিষ্ট মোহর অবশ্যই আদায় করে দাও।

[৪] এখানে পরস্পরের সম্মতিক্রমে মোহরের মধ্যে কম-বেশী করার অধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিঃ দ্রষ্টব্যঃ استمتاع ‘ইস্তিমতা’ শব্দ থেকে শীয়া সম্প্রদায় মুতআ’ বিবাহের বৈধতা সাব্যস্ত করে। অথচ এর অর্থ হল, বিবাহের পর সহবাসের মাধ্যমে যৌনসুখ উপভোগ করা; যেমন এ কথা পূর্বেও বলা হয়েছে। অবশ্য মুতআ’ বিবাহ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধ ছিল, কিন্তু তার বৈধতা এই আয়াতের ভিত্তিতে ছিল না, বরং সেই প্রথা অনুযায়ী ছিল, যা ইসলামের পূর্বে থেকেই চলে আসছিল। অতঃপর নবী করীম (সাঃ) একেবারে পরিষ্কার ভাষায় কিয়ামত পর্যন্ত তা হারাম ঘোষণা করে দিলেন।

4:24

তাফসীর আহসানুল বায়ান

23:5

وَ الَّذِیۡنَ ہُمۡ لِفُرُوۡجِہِمۡ حٰفِظُوۡنَ ۙ﴿۵﴾

আর যারা তাদের নিজদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী।

23:6

اِلَّا عَلٰۤی اَزۡوَاجِہِمۡ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ فَاِنَّہُمۡ غَیۡرُ مَلُوۡمِیۡنَ ۚ﴿۶﴾

তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে তারা ছাড়া, নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না

33:50

یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ اِنَّاۤ اَحۡلَلۡنَا لَکَ اَزۡوَاجَکَ الّٰتِیۡۤ اٰتَیۡتَ اُجُوۡرَہُنَّ وَ مَا مَلَکَتۡ یَمِیۡنُکَ مِمَّاۤ اَفَآءَ اللّٰہُ عَلَیۡکَ وَ بَنٰتِ عَمِّکَ وَ بَنٰتِ عَمّٰتِکَ وَ بَنٰتِ خَالِکَ وَ بَنٰتِ خٰلٰتِکَ الّٰتِیۡ ہَاجَرۡنَ مَعَکَ ۫ وَ امۡرَاَۃً مُّؤۡمِنَۃً اِنۡ وَّہَبَتۡ نَفۡسَہَا لِلنَّبِیِّ اِنۡ اَرَادَ النَّبِیُّ اَنۡ یَّسۡتَنۡکِحَہَا ٭ خَالِصَۃً لَّکَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ؕ قَدۡ عَلِمۡنَا مَا فَرَضۡنَا عَلَیۡہِمۡ فِیۡۤ اَزۡوَاجِہِمۡ وَ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ لِکَیۡلَا یَکُوۡنَ عَلَیۡکَ حَرَجٌ ؕ وَ کَانَ اللّٰہُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ﴿۵۰﴾

হে নবী! নিশ্চয় আমি তোমার জন্য তোমার স্ত্রীগণকে বৈধ করেছি যাদেরকে তুমি মোহরানা প্রদান করেছ এবং বৈধ করেছি তোমার অধিকারভুক্ত দাসিগণকে যাদেরকে আমি যুদ্ধবন্দিনীরূপে দান করেছি এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি তোমার চাচাতো ভগিনী, ফুফাতো ভগিনী, মামাতো ভগিনী ও খালাতো ভগিনীকে; যারা তোমার সঙ্গে দেশ ত্যাগ করেছে এবং কোন বিশ্বাসীনী নবীর নিকট নিজেকে নিবেদন করলে এবং নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে (সেও তোমার জন্য বৈধ।) –এ (বিধান) বিশেষ করে তোমারই জন্য; অন্য বিশ্বাসীদের জন্য নয়; বিশ্বাসীদের স্ত্রী এবং তাদের দাসিগণ সম্বন্ধে যা নির্ধারিত করেছি তা আমি জানি। (এ বিধান এ জন্য) যাতে তোমার কোন অসুবিধা না হয়। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীর

[২] সুতরাং সাফিয়্যা (রাঃ) ও জুওয়াইরিয়া (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর মালিকানায় এলে তিনি তাঁদেরকে মুক্ত করে বিবাহ করেছিলেন এবং রায়হানা (রাঃ) ও মারিয়া কিবত্বিয়া (রাঃ) ক্রীতদাসী হিসাবেই নবী (সাঃ)-এর নিকট ছিলেন।

33:50

তাফসীর আহসানুল বায়ান  

70:29

وَ الَّذِیۡنَ ہُمۡ لِفُرُوۡجِہِمۡ حٰفِظُوۡنَ ﴿ۙ۲۹﴾

আর যারা তাদের যৌনাংগসমূহের হিফাযতকারী।

70:30

اِلَّا عَلٰۤی اَزۡوَاجِہِمۡ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ فَاِنَّہُمۡ غَیۡرُ مَلُوۡمِیۡنَ ﴿ۚ۳۰﴾

তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে সে দাসীগণের ক্ষেত্র ছাড়া। তাহলে তারা সে ক্ষেত্রে নিন্দনীয় হবে না।

তাফসীর

[১] অর্থাৎ, মানুষের যৌন-ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য দুটি বৈধ মাধ্যম রেখেছেন। একটি হল স্ত্রী। আর দ্বিতীয়টি হল অধিকারভুক্ত (যুদ্ধবন্দিনী অথবা ক্রীত)দাসী। বর্তমানে এই অধিকারভুক্ত দাসীর ব্যাপারটা ইসলামের নির্দেশিত কৌশল অনুসারে প্রায় শেষই হয়ে গেছে। তবে আইনগতভাবে এই প্রথাকে একেবারে এই জন্য উচ্ছেদ করা হয়নি যে, ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাহলে অধিকারভুক্ত দাসী দ্বারা উপকৃত হওয়া যেতে পারে। মোট কথা ঈমানদারদের এটাও একটি গুণ যে, তাঁরা যৌন-ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য (উক্ত দুই মাধ্যম ছাড়া) কোন অবৈধ মাধ্যম অবলম্বন করে না।

7:30

তাফসীর আহসানুল বায়ান

হাদিস

যুদ্ধবন্দী ধর্ষণ 

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
হাদিস নম্বরঃ ৪১৩৮

৬৪/৩২. যাতুর রিকা-র যুদ্ধ।

قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَذَلِكَ سَنَةَ سِتٍّ وَقَالَ مُوْسَى بْنُ عُقْبَةَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَقَالَ النُّعْمَانُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ كَانَ حَدِيْثُ الإِفْكِ فِيْ غَزْوَةِ الْمُرَيْسِيْعِ

ইবনু ইসহাক (রহ.) বলেছেন, এ যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরী সনে সংঘটিত হয়েছিল। মূসা ইবনু ‘উকবাহ (রহ.) বলেছেন, ৪র্থ হিজরী সনে। নুমান ইবনু রাশিদ (রহ.) যুহরী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুরাইসীর যুদ্ধে ইফ্কের ঘটনা ঘটেছিল।

৪১৩৮. ইবনু মুহাইরীয (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদে প্রবেশ করে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)-কে দেখতে পেয়ে তার কাছে গিয়ে বসলাম এবং আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বানূ মুসতালিকের যুদ্ধে যোগদান করেছিলাম। এ যুদ্ধে আরবের বহু বন্দী আমাদের হস্তগত হয়। মহিলাদের প্রতি আমাদের মনে আসক্তি জাগে এবং বিবাহ-শাদী ব্যতীত এবং স্ত্রীহীন অবস্থা আমাদের জন্য কষ্টকর অনুভূত হয়। তাই আমরা আযল করা পছন্দ করলাম এবং তা করতে মনস্থ করলাম। তখন আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে আছেন। এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস না করেই আমরা আযল করতে যাচ্ছি। আমরা তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ওটা না করলে তোমাদের কী ক্ষতি? ক্বিয়ামাত পর্যন্ত যতগুলো প্রাণের আগমন ঘটবার আছে, ততগুলোর আগমন ঘটবেই। [২২২৯; মুসলিম ত্বলাক/২১, হাঃ ১৪৩৮, আহমাদ ১১৮৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮২৯)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১৮। দুধপান (كتاب الرضاع)
হাদিস নম্বরঃ ৩৫০০

৯. ইসতিবরার পর যুদ্ধ বন্দিনীর সাথে সঙ্গম করা জায়িয এবং তার স্বামী বর্তমান থাকলে সে বিবাহ বাতিল

৩৫০০-(৩৩/১৪৫৬) উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার আল মায়সারাহ আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ….. আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়ন এর যুদ্ধের সময় একটি দল আওত্বাস এর দিকে পাঠান। তারা শক্র দলের মুখোমুখী হয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক কয়েদী তাদের হস্তগত হয়। এদের মধ্য থেকে দাসীদের সাথে যৌন সঙ্গম করা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবা যেন নাজায়িয মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে। আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন “এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ” অর্থাৎ তারা তোমাদের জন্য হালাল, যখন তারা তাদের ইদ্দাত (ইদ্দত) পূর্ণ করে নিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৭৩, ইসলামীক সেন্টার ৩৪৭২)

[গর্ভবতী হলে প্রসব, অন্যথায় এক ঋতু অতিবাহিত হওয়াকে ইসতিবরার বলে।] হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) 

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১৮। দুধপান (كتاب الرضاع)
হাদিস নম্বরঃ ৩৫০১

৯. ইসতিবরার পর যুদ্ধ বন্দিনীর সাথে সঙ্গম করা জায়িয এবং তার স্বামী বর্তমান থাকলে সে বিবাহ বাতিল

৩৫০১-(৩৪/…) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহিমাহুমুল্লাহ) …… আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়ন যুদ্ধের সময় একটি ছোট সেনাদল পাঠান- পরবর্তী অংশ ইয়াযীদ ইবনু যুরা’য় এর হাদীসের মর্মানুসারে। তবে এতে রয়েছে- তাদের (সধবাদের) মধ্য থেকে যারা তোমাদের অধিকারভুক্ত তারা তোমাদের জন্য হালাল। এ বর্ণনায় “যখন তারা তাদের ইদ্দাত (ইদ্দত) পূর্ণ করে নিবে” অংশটুকুর উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৭৪, ইসলামীক সেন্টার ৩৪৭৩)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১৭। বিবাহ (كتاب النكاح)
হাদিস নম্বরঃ ৩৪৩৬

২২. আযল এর হুকুম

৩৪৩৬-(১২৫/১৪৩৮) ইয়াহইয়া ইবনু আবূ আইয়ুব, কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হুজর (রহিমাহুমুল্লাহ) ….. ইবনু মুহায়রিয (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আবূ সিরমাহ (রহঃ) আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম। আবূ সিরমাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবূ সাঈদ! আপনি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আযল সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বানু মুসতালিক এর যুদ্ধ করেছি। সে যুদ্ধে আমরা আরবের সবচেয়ে সুন্দরী বাঁদীদের বন্দী করলাম। এদিকে আমরা দীর্ঘকাল স্ত্রী সাহচর্য থেকে বঞ্চিত ছিলাম। অন্যদিকে আমরা ছিলাম সম্পদের প্রতি অনুরাগী। এমতাবস্থায় আমরা বাঁদীদের দ্বারা উদ্দেশ্য হাসিল করার এবং ‘আযল করার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু আমরা এ কথাও আলোচনা করলাম যে, আমরা কি এ কাজ করতে যাব, অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন। তার নিকট আমরা কি এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করব না! তাই আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ ঐ কাজ না করাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কেননা, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামাত পর্যন্ত যত মানুষ সৃষ্টি করার কথা লিখে রেখেছেন সে সব মানুষ সৃষ্টি হবেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪০৯, ইসলামীক সেন্টার ৩৪০৮)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৬/ বিবাহ (كتاب النكاح)
হাদিস নম্বরঃ ২১৫৫

৪৫. বন্দী দাসীদের সাথে সঙ্গম করা

২১৫৫। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। হুনাইনের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওতাসের দিকে একদল সৈন্য পাঠালেন। তারা শত্রুর মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং তাদের উপর বিজয়ী হয়ে তাদের নারীদেরকে বন্দী করে আনেন। কিন্তু সেই বন্দী নারীদের মুশরিক স্বামীরা বর্তমান থাকায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতিপয় সাহাবী তাদের সাথে সঙ্গম করাকে গুনাহ মনে করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ এ আয়াতটি অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘যে মহিলাদের স্বামী আছে তারা তোমাদের জন্য হারাম। তবে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত’’ (সূরা আন-নিসাঃ ২৪) অর্থাৎ যুদ্ধবন্দী দাসী যখন তাদের ইদ্দাতকাল সমাপ্ত করবে তখন তারা তোমাদের জন্য বৈধ।[1]

সহীহ।

[1]. মুসলিম, তিরমিযী, আহমাদ। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৬/ বিবাহ (كتاب النكاح)
হাদিস নম্বরঃ ২১৫৮

৪৫. বন্দী দাসীদের সাথে সঙ্গম করা

২১৫৮। রুয়াইফি‘ ইবনু সাবিত আল-আনসারী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। হানাশ (রহ.) বলেন, একদা রুয়াইফি‘ আমাদের সাথে দাঁড়িয়ে ভাষণ প্রদানের সময় বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু শুনেছি তোমাদেরকে শুধু তাই বলবো। তিনি হুনাইনের দিন বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য বৈধ নয় অন্যের ফসলে নিজের পানি সেচন করা। অর্থাৎ গর্ভবতী মহিলার সাথে সঙ্গম করা। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে তার জন্য বৈধ নয় কোনো বন্দী নারীর সাথে সঙ্গম করা যতক্ষণ না সে সন্তান প্রসব করে পবিত্র হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, তার জন্যও বৈধ নয় বন্টনের পূর্বে গনীমাত বিক্রয় করা।[1]

হাসান।

[1]. দারিমী, আহমাদ। হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

দাসী ধর্ষণ

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
হাদিস নম্বরঃ ৬৬০৩

৮২/৪. আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহর বিধান সুনির্ধারণে নির্ধারিত। (সূরাহ আহযাব ৩৩/৩৮)

৬৬০৩. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় আনসারদের এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো বাঁদীদের সঙ্গে সংগত হই অথচ মালকে ভালবাসি। কাজেই ‘আযল’র ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি এ কাজ কর? তোমাদের জন্য এটা করা আর না করা দুটোই সমান। কেননা, যে কোন জীবন যা পয়দা হওয়াকে আল্লাহ্ লিখে দিয়েছেন তা পয়দা হবেই। [২২২৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৫০)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
হাদিস নম্বরঃ ২২২৯

৩৪/১০৯. কৃতদাসীদের বিক্রয় করার বিবরণ।

২২২৯. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা বন্দী দাসীর সাথে সঙ্গত হই। কিন্তু আমরা তাদের (বিক্রয় করে) মূল্য হাসিল করতে চাই। এমতাবস্থায় আযল- (নিরুদ্ধ সঙ্গম করা) সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন, আর তোমরা কি এরূপ করে থাক! তোমরা যদি তা (আযল) না কর তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কারণ আল্লাহ তা‘আলা যে সন্তান জন্ম হওয়ার ফায়সালা করে রেখেছেন, তা অবশ্যই জন্ম নিবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৮৮)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ২৬/ গণ-গোসলখানা (كتاب الحمَّام)
হাদিস নম্বরঃ ৪০১৭

৩. উলঙ্গ হওয়া সম্পর্কে

৪০১৭। বাহয ইবনু হাকীম থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের ঢেকে রাখার অঙ্গসমূহ কার সামনে আবৃত রাখবো এবং কার সামনে অনাবৃত করবো? তিনি বলেনঃ তোমার স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত সকলের সামনে তা আবৃত রাখো। বর্ণনাকারী বলেনঃ যতদূর সম্ভব কেউ যেন অন্যের গোপন অঙ্গের দিকে না তাকায়। বর্ণনাকারী বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল আমাদের কেউ যখন নির্জনে থাকে? তিনি বলেনঃ লজ্জার ব্যাপারে আল্লাহ মানুষের চেয়ে অধিক হকদার।[1]

সহীহ।

[1]. তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, আহমাদ। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) 

দাসী ধর্ষণের শাস্তি (অন্যের ভাগের দাসী)

ইসলামী লেখকরা সুনান আবূ দাউদ এবং সুনান নাসাঈ গ্রন্থে বর্ণিত একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে সামনে এনে দাবী করেন যে, ইসলাম দাসীদের ধর্ষণ করা সমর্থন করে না। যাইহোক, এসব হাদিস যেসব দাসীদের কথা বলে তারা অন্যের ভাগের দাসী ছিল, হাদিসে তাদের যে ধর্ষকের কথা বলা হয়েছে তারা সেই ধর্ষকের দাসী ছিল না। অর্থ্যাৎ, ইসলাম অনুযায়ী, কোনো যুদ্ধের পর যুদ্ধবন্দী নারীদেরকে মুসলিমদের মাঝে বন্টনের পর মুসলিমরা কেবল নিজের অংশের যুদ্ধবন্দী নারীদেরকে ধর্ষণ করতে পারবে, অন্যের যুদ্ধবন্দী নারীদেরকে ধর্ষণ করার বৈধতা নেই।

গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৬/ নিকাহ (বিবাহ)(كتاب النكاح)
হাদিস নম্বরঃ ৩৩৬৫

৭০. গুপ্তাঙ্গ হালাল করা

৩৩৬৫. আবু দাউদ (রহঃ) … নুমান ইবন বশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর বাদীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়, তার সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি সে স্ত্রী বাদীকে তার জন্য বৈধ করে থাকে, তবে তাকে একশত কোড়ার আঘাত কর, আর যদি সে তা তার জন্য বৈধ না করে থাকে, তবে তাকে রজম কর।

তাহক্বীকঃ যয়ীফ। হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai’f)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ অপরাধ ও তার শাস্তি (كتاب الحدود)
হাদিস নম্বরঃ ৪৪৬০

২৮. যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে যেনা করে

৪৪৬০। সালামাহ ইবনুল মুহাব্বিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে সঙ্গম করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে ফায়সালা দিলেন, সে যদি তার সঙ্গে জোরপূর্বক এ কাজ করে থাকে, তাহলে দাসী আযাদ এবং তার কর্তব্য হলো, তার মতো একটি দাসী তার মনিবকে (স্ত্রীকে) দেয়া। আর যদি আপোষে তা হয়ে থাকে, তাহলে সে তার মালিকানায় চলে যাবে এবং দাসীর মনিবকে তার মতো একটি দাসী প্রদান করা স্বামীর কর্তব্য হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইউনুস ইবনু উবাইদ, আমর ইবনু দীনার, মানসূর ইবনু যাযান ও সাল্লাম (রহঃ) আল হাসান সূত্রে এ হাদীস পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণনা করেন। ইউনুস ও মানসুর (রহঃ) কাবীসাহর (রাঃ) উল্লেখ করেননি।[1]

দুর্বল।

[1]. নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, আহমাদ। এর সনদে কাবীসাহ বিন হুরাইস রয়েছে। ইমাম বুখারী বলেনঃ তার হাদীসে আপত্তি আছে। ইবনু কাত্তান বলেনঃ সে মাজহুল। ইমাম নাসায়ী বলেনঃ তার হাদীস সহীহ নয়। হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai’f)

একই ঘটনার অন্য বর্ণনায় তার স্ত্রীর দাসীর ধর্ষককে পাথর মেরে শাস্তি দেওয়ার কথা উঠে আসে।        

গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৬/ নিকাহ (বিবাহ)(كتاب النكاح)
হাদিস নম্বরঃ ৩৩৬৩

৭০. গুপ্তাঙ্গ হালাল করা

৩৩৬৩. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) … নুমান ইবন বশীর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে তার স্ত্রীর বাঁদীর সাথে সহবাস করেছিল। তিনি বললেনঃ যদি সে তাকে তার জন্য হালাল করে থাকে, তবে আমি তাকে একশত কোড়া লাগাব। আর যদি সে তা তার জন্য হালাল না করে থাকে, তবে আমি তাকে রজম করব।

তাহক্বীকঃ যয়ীফ। ইবন মাজাহ ২৫৫১। হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai’f)

আরও দেখুন   

গ্রন্থঃ মুয়াত্তা মালিক
অধ্যায়ঃ ৩৬. বিচার সম্পর্কিত অধ্যায় (كتاب الأقضية)
হাদিস নম্বরঃ ১৪৩৫

১৬. কোন স্ত্রীলোকের সাথে জবরদস্তি যিনা করিলে তাহার ফয়সালা

রেওয়ায়ত ১৪. ইবন যুহরী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান জবরদস্তিভাবে যিনা করান হইয়াছে এমন স্ত্রীলোকের ফয়সালা এই দিয়াছেন: ব্যভিচার যে করিয়াছে ঐ স্ত্রীলোকটিকে মোহর দান করিবে।

মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট এই ফয়সালা যে, যদি কেহ কোন স্ত্রীলোকের উপর জবরদস্তি করে, চাই সে কুমারী হউক অথবা অকুমারী, যদি সে স্বাধীন হয় তবে তাহাকে মাহরে মিসাল দেওয়া আবশ্যক।

আর যদি যে দাসী হয় তবে যিনার দ্বারা যে মূল্য কম হইয়াছে তাহা আদায় করিতে হইবে এবং ব্যভিচারীর শাস্তিও সঙ্গে সঙ্গে হইবে এবং উক্ত স্ত্রীলোকের উপর কোন শাস্তিও হইবে না। আর যদি ব্যভিচারী গোলাম হয় তবে মনিবের জরিমানা দিতে হইবে। কিন্তু যদি গোলামকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে দিয়া দেয় তবে ভিন্ন কথা।

হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ 

Facebook Comments

Marufur Rahman Khan

Ex-Muslim Atheist - Feminist - Secularist

8 thoughts on “অসহায় নিরপরাধ যুদ্ধবন্দী নারী ও দাসী ধর্ষণের বৈধতা – কুরআন হাদিসের দলিল

  • January 29, 2019 at 7:52 am
    Permalink

    বিয়ে করে স্ত্রী সহবাস কি ধর্ষণ?
    উভয়ের সম্মতি ছাড়া বিয়ে কি শুদ্ধ?

    যুদ্ধে আটককৃতরা যদি আশ্রয় প্রার্থনা করে তাদেরকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা কি নেই?

    তোদের মাথায় কি শুকরের মল নাকি রে??????

    Reply
  • February 3, 2019 at 6:24 am
    Permalink

    Kazi Nayeem. Apni mental gymnadtics korchhen keno ? Apni jerokom dabi korchhen sherokom hole to kono shomalochonar dorkar hoto na. Shottoke shikar korte khub koshto hochhe ? Pratishthanik Dhormo boro naki apnar bibek, apnar bichar bibechona, nai-onnai bodh konta ? Ontorer dhoro, ridoyer dhormoi boro dhormo. Boxer moddhe na theke bibektake free korun.
    “Juddhe atokkritora jodi asroi prarthona kore taderke nieapod sthane pouchhe dewar kotha ki nei “-Apni proshno korechen. Ei jonno korechhen je apnar moddhe bibek achhe, abeg kaj kore. Kintu apnake dekhte hobe bastobe ki ghotechhe sheta. Shottota kbujte hobe. Abeg die, emotion die shotto powa jai na. Banu Mustalik gotrer prodhaner ko prarnna Juwairya Muhommoder kachhe asroi prarthona korechhilo Muhommoder kachhe take jeno orther binimoe mukto kora hoi. Kintu Muhommod take Mukti na die nijer jonno rakhar shiddhanto nen. Al Khudrir moto bhoyonkor shahabar kach theke rokkha pete Juwairya baddho hoe , nijer oshohai obosthar karone Muhommoder prostab grohon kora chhara kono upai dekhlenna. Safiake Muhommod rape korechhilo kina Apni Scholar Mufassil Islamer video dekhben. Tini onek reference, proman ebong bishleshoner msddhome, hadiser maddhome proman den Safiake rape kora hoechhe kina.

    Reply
  • February 20, 2019 at 7:39 pm
    Permalink

    vai apni e sob koi pan? apni ki islam sara topics pan na? daklam na to onno religion nea kisu bolta. প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ বই টা পড়বেন। পৃথিবীততে কোন নাস্তিক নেই। চ্যালেন্জ দিলাম। আপনি মনে কাজ পান না? কোরানের হাদিসের একটা ভুল প্রমাণ করে দেখান।

    Reply
    • February 21, 2019 at 2:21 am
      Permalink

      Sahin Saruar, প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ অতন্ত্য বাজে এবং নিম্নমানের একটি বই। বইটির লেখক বইটি লিখেছিলেন সেইসব মানুষদের ধর্মান্ধ করে রাখার জন্য যাদের যুক্তিবিদ্যার ওপর সামান্য তম জ্ঞানও নেই আর এই ধরণের মানুষের সংখ্যাই আমাদের দেশে অধিকাংশ বলেই বইটি সাধারণ মানুষকে এটি ভাবিয়ে স্বস্তি দিয়েছে যে, “এই বইটি দ্বারা নাস্তিকদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়ে গেছে”। যারা যুক্তিবিদ্যার ওপর জ্ঞান রাখেন, কোন যুক্তিটি ভ্যালিড এবং কোন যুক্তিটি লজিক্যাল ফ্যালাসি বুঝেন তাদের কাছে এই বইটি একটি কৌতুকের বই ছাড়া কিছুই নয়।

      আপনি শামস অর্ক এর এই বইটি পড়লেও জবাব পেয়ে যাবেন।

      https://goo.gl/Kt2kuE

      Reply
  • February 21, 2019 at 2:23 am
    Permalink

    পৃথিবীতে কোনো নাস্তিক নাই বলতে? আপনি বলতে চাচ্ছেন যারা নিজেদের নাস্তিক বলে পরিচয় দেয়, তারাও ঈশ্বরে বিশ্বাস করে? প্রমাণ ?

    Reply
  • March 14, 2019 at 3:55 am
    Permalink

    শুধু ইসলাম কেন,প্রতিটা ধরমই একটা কল্পকাহিনী আর গোজামিলের কেচ্ছা ছাড়া আর কিছু নয়।কিন্তু সমাজ বিনির্মাণে এই সব ধরমের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।আর তাই যুগের প্রয়োজনে তার কৌশলী সংস্কার অত্তাবসশক।যতক্ষন না একটা গোটা জাতি পরযাপ্ত সুশিক্ষায় শিক্ষিত না হবে ততক্ষণ এইসব ধরমের বানী সমাজকে সুশৃঙ্খল রাখার জন্য অত্তাবসশক।তাই মুক্ত চিন্তার অনুসারীদের করজোরে অনুরোধ করব,ব্রিহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাসে আগাত দিয়ে কোন প্রচারণা না করে,আস্তে আস্তে আরো কউশলী ভুমিকায় তার অসারতা তুলে ধরতে।

    Reply
  • March 14, 2019 at 4:08 pm
    Permalink

    মালিক মওলা ভাইকে ধন্যবাদ । তবে কি যেন কম কম মনে হল , আরও ভাল করা যায় কি ভাবে তা ভাবা যায় কিনা ?

    Reply
  • June 13, 2019 at 9:10 am
    Permalink

    বুখারীর(ত)৬৯৪৯ সম্পর্কে কি বলবেন

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: