ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ?

চার্বাক। এই নামটি অনেকেই শুনে থাকবেন। এটি হল প্রাচীন ভারতের এক নাস্তিক্যবাদী দর্শন। এর অন্য নাম লোকায়ত দর্শন। চার্বাকেরা ঈশ্বর,দেহাতিরিক্ত আত্মা, জন্মান্তর,স্বর্গ,নরক,মোক্ষ ইত্যাদির কিছুই মানতেন না। চার্বাক এর নাম শোনামাত্রই একটি শ্লোক সবার মনে উঁকি দেয়-  

যাবজ্ জীবেৎ সুখং জীবেদ্ ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ।

ভস্মীভূতস্য দেহস্য পুনরাগমং কুতঃ।।  

অর্থাৎ, যতদিন বাঁচবে, সুখে বাঁচবে; ধার করে ঘি খাবে। ছাই হয়ে যাওয়া দেহ কোথায় (বা কোথা থেকে) আবার ফিরে আসে?

[ উৎসঃ সায়ন-মাধব এর সর্ব দর্শন সংগ্রহ]

চার্বাক এর বিরোধীদের কাছে যেন এটাই চার্বাক দর্শনের মূল কথা-‘ঋণ করে ঘি খাও‘। তারা ভাবেন, “ কি রকম ভোগবাদী হলে এরকম কথা বলা যায়? এই নাস্তিক চার্বাকদের মধ্যে আসলে নীতি নৈতিকতার ছিটেফোঁটাটুকুও নেই।“

চার্বাকেরা যে ‘ঋণ করে ঘি খাওয়ার’ কথা বলতেন, এ দাবী কতটা সত্য?

শুধু ঋণ করে ঘি খাবার কথা নয়, চার্বাক বিরোধী অনেক দার্শনিকেরা চার্বাকদের বিরুদ্ধে ইহসুখবাদী হবার অভিযোগ এনেছেন। তাদের এ দাবীও বা কতটা সত্য?

প্রথমেই একটা বিষয় জেনে রাখা ভালো, চার্বাকদের লেখা কোনো বইপত্র এখনো অবধি পাওয়া যায়নি, সেগুলো বিলুপ্ত। চার্বাক এর সম্বন্ধে যতটুকু জানা যায়, তা বিরোধীপক্ষের গ্রন্থ থেকেই। চার্বাককে খন্ডন করার জন্য এর বিরোধীরা পূর্বপক্ষ হিসেবে এর উল্লেখ করেছিলেন, অনেক সময়ই চার্বাক দর্শনকে তারা বিকৃত করেছেন। তারপরেও চার্বাক সম্বন্ধে জানার জন্য এর বিরোধীদের লেখাই হল একমাত্র সম্বল। তবে বিরোধীদের কাছ থেকে চার্বাক সম্বন্ধে জানার ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক, যেহেতু মূল দর্শনের বিকৃতির যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।  

সায়ন-মাধব তার সর্বদর্শনসংগ্রহের প্রথম অধ্যায়ের শেষের দিকে চার্বাক এর নামে প্রচলিত কুখ্যাত উক্তি, ‘ঋণ করে ঘি খাওয়ার’  উল্লেখ করেন। কিন্তু অধ্যায়ের শুরুতেই তিনি সেই শ্লোকটি অন্যভাবে বর্ণনা করেন-

যাবজ্ জীবং সুখং জীবেন্ নাস্তি মৃত্যোর্ অগোচরঃ।

ভস্মীভূতস্য দেহস্য পুনরাগমং কুতঃ।।

অর্থাৎ, যতদিন বাঁচবে সুখে বাঁচো, মৃত্যুর অগোচর কিছু নেই।ছাই হয়ে যাওয়া দেহ আবার কোথায় (বা কোথা থেকে) ফিরে আসে?

এই শ্লোকটি প্রথম পাওয়া যায় বিষ্ণু ধর্মোত্তর মহাপুরাণ নামে একটি উপপুরাণে। এর বয়স আনুমানিক খ্রিস্টীয় ৫ শতক। সর্বদর্শনসংগ্রহের প্রায় হাজার বছর আগে এটি রচিত। এখানে বলা হচ্ছে-

মুগ্ধা এবং প্রতার্যন্তে ধূর্তৈর্ ধন-জিহীর্ষয়া।

যাবজ্ জীবং সুখং জীবেন্ নাস্তি মৃত্যোর্ অগোচরম্।।

ভস্মীভূতস্য শান্তস্য পুনরাগমনং কুতঃ।     

নাস্তি দত্তং হুতং চেষ্টং ন দেবা ঋষয়ো ন চ।।

অর্থাৎ, ধন হরণ করার ইচ্ছায় ধূর্তরা এই ভাবে মোহিত লোকেদের প্রতারণা করে। যতদিন বাঁচবে, সুখে বাঁচবে; মৃত্যুর অগোচর কিছুই নেই। ছাই হয়ে যাওয়া প্রাণহীন দেহ কোথায় (বা কোথা থেকে) আবার ফিরে আসে? দান, আহুতি, আচার,দেবতা, ঋষি বলে কিছুই নেই।

এটিই হল আসল শ্লোক। পরবর্তীতে বিভিন্ন গ্রন্থে নানাভাবে পরিবর্তিত হয়ে এটি উক্ত হয়েছে। “তত্ত্বসংগ্রহপঞ্জিকায় এর দ্বিতীয় চরণটি ‘ভস্মীভূতস্য শান্তস্য ইত্যাদি’ হিসাবে উদ্ধৃত হয়েছে। তবে ন্যায় মঞ্জুরীতেই প্রথম ‘যাবজ জীবং…পুনরাগমং কুতঃ’ এই দুটি চরণ একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ শ্লোক হিসেবে উদ্ধৃত হয়েছে। যশস্তিলক চম্পূ, পরিশুদ্ধি, মুগ্ধবোধিনী (নীতিবাক্যামৃতব্যাখ্যা) ও দোহাকোষ এর অদ্বয়বজ্র কৃত ভাষ্যে ‘নাস্তি মৃত্যোর্ অগোচরঃ’ বা ‘তাবৎ মৃত্যোর্ অগোচর’ পাঠই পাওয়া যায়। জৈন লেখক অভয়দেব সূরিও তত্ত্ববোধবিধায়িনীতে সম্ভবত জয়ন্তভট্টর পাঠই অনুসরণ করেছেন। সর্বদর্শনসংগ্রহ এর সমকালে সর্ব দর্শন কৌমুদীতে ন্যায় মঞ্জুরীর পাঠই উদ্ধৃত হয়েছে, শুধু শান্তস্য এর বদলে আছে দেহস্য। তবে ন্যায় মঞ্জুরীর কোনো কোনো পুঁথিতে, জীবং এর জায়গায় জীবেৎ আর শান্তস্য র জায়গায় দেহস্য পাওয়া যায়।“

দ্বাদশ শতাব্দী থেকে শ্লোকটির বিকৃতি শুরু হয়। জৈন দার্শনিক হেমচন্দ্র বিকৃত করে লেখেন-

যাবজ্ জীবেৎ সুখং জীবেৎ বৈষয়িকৈঃ সুখৈঃ।

ন তাম্যেদ ধর্ম-কার্যায় ধর্মাধর্ম-ফলং ক্ব তৎ।।

অর্থাৎ, যতদিন বাঁচবে সুখে বাঁচবে, ইন্দ্রিয়ের সুখ নিয়ে, ধর্মকর্ম নিয়ে (বৃথা) ভাবনা করবে না। ধর্ম-অধর্ম র ফল কোথায়?

আর এক জৈন লেখক গুণরত্ন প্রথম চরণটিকে বিকৃত করে লিখেছেন,

যাবজ্ জীবেৎ সুখং জীবেৎ তাবৎ বৈষয়িকং সুখম্।      

অর্থাৎ, যতদিন ইন্দ্রিয়ের সুখ আছে ততদিন সুখে বাঁচবে।

দ্বিতীয় চরণের ক্ষেত্রে তিনি আবার ন্যায় মঞ্জুরির পাঠই উদ্ধৃত করেছেন।

শুধু জৈনরাই নন, ব্রাহ্মণ্য ধারার কবি শ্রীহর্ষ একই দোষে দোষী। নৈষধীয়চরিতম এ তিনি লিখেছেন,

কঃ শমঃ ক্রিয়তাং প্রাজ্ঞাঃ প্রিয়াপ্রীতৌ পরিশ্রমঃ।

ভস্মীভূতস্য ভূতস্য পুনরাগমং কুতঃ।।

অর্থাৎ, হে প্রাজ্ঞগণ (প্র+অজ্ঞ অর্থে), তোমাদের শম (শান্তি ) কি? প্রিয়ার প্রীতির জন্যে চেষ্টা করো। ছাই হয়ে যাওয়া বস্তু আবার কোথায় (বা কোথা থেকে) ফিরে আসে?

একই শ্লোকের এত বিকৃতি সত্ত্বেও সায়ন-মাধব ছাড়া অন্য কোনো দার্শনিক চার্বাকদের ‘ঋণ করে ঘি খাবার’ মত চটুল কথা লেখেননি কিন্তু তারা কেউই চার্বাকের অনুসারী বা তাদের প্রতি সহৃদয় ছিলেন না।

এ অভিযোগ নতুন নয়

বস্তুবাদীদের বিরুদ্ধে এই ধরণের ইহসুখবাদের অভিযোগ নতুন নয়। এপিকিউরাস ছিলেন প্রাচীন গ্রীসের ( খ্রি পূ ৩৪২-২৭০) একজন বস্তুবাদী দার্শনিক। তিনি পরিষ্কার বলেছিলেনঃ সুখ বলতে তিনি বোঝেন জমিয়ে মাছ খাওয়া নয়, মনন চর্চার সুখ। তবু এপিকিউর বলতে ইংরেজিতে বোঝায়ঃ খাও, দাও , ফুর্তি করো। অথচ এপিকিউরাস নিজে খুবই সাদাসিধে কায়দায় জীবন কাটাতেন, খেতেন শুধু শুকনো রুটি, উৎসব পরবের দিনে একটু পনির (চিজ)।

ভারতের আদি বস্তুবাদী,বুদ্ধের সমকালীন দার্শনিক, অজিত কেশকম্বলী (পালিতেঃ কেসকম্বল) র কথাও ধরা যায়। বিলাসব্যসন দূরের কথা, তিনি রীতিমতো কৃচ্ছ্রসাধনেই অভ্যস্ত ছিলেন। গরমকালে তিনি গায়ে দিতেন কুটকুটে কম্বল। এই ছিল তার একমাত্র পোশাক।এর জন্যই তার ঐ উপনাম হয়েছিল। অথচ তার অনুগামীদের সম্পর্কেও জৈনদের সূত্রকৃতাঙ্গসূত্র তে লেখা হয়েছেঃ তারা দেহসুখ নিয়েই মত্ত থাকে।

শুধু বস্তুবাদ নয়, যেকোনো অবৈদিক মতকেই হেয় করার উদ্দেশ্যে এই অভিযোগ তোলা হত।সাংখ্য সম্পর্কেও এমন একটি শ্লোক চালু ছিল। সাংখ্য কারিকার বৃত্তিতে মাঠর সেটি উদ্ধৃত করেছেনঃ

সর্বদা হাসো, পান করো, খেলা করো, আনন্দ করো, সব বিষয় উপভোগ করো, ভয় করো না।

যদি তোমার কপিলমত জানা থাকে, তাহলে তুমি মোক্ষও পাবে, সুখও পাবে।

জৈন ও বৌদ্ধদেরও একইভাবে দেখিয়েছেন, কৃষ্ণ মিশ্র ও জয়ন্তভট্ট তাদের প্রবোধচন্দ্রোদয় ও আগমডম্বর নাটকে। কিন্তু এরা কেউই তাদের অভিযোগের সাক্ষ্য হিসাবে কোনো প্রামাণিক চার্বাক, সাংখ্য, বৌদ্ধ বা জৈন উৎস থেকে কোনো সূত্র ইত্যাদি উল্লেখ করেননি। বৌদ্ধ, জৈন ও সাংখ্য দর্শনের প্রতি এই ভিত্তিহীন অভিযোগের উপর ভিত্তি করে নিশ্চয় কোনো বিচক্ষণ গবেষক এই সিদ্ধান্তে পৌছাবেন না যে, তারা ইহসুখবাদী, ভোগসর্বস্ব। তাহলে চার্বাকদের প্রতি বৈষম্য কেন? কেন তাদের নির্বিচারে ইহসুখবাদী, ভোগবাদী বলে দাগিয়ে দেওয়া?

তারা কেন চার্বাকের ইহসুখবাদের কথা বলেন নি?

অনুসন্ধান করলে দেখা যায় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও চার্বাক এর অনেক সমালোচনাকারী  দার্শনিক চার্বাকের বিরদ্ধে ইহসুখবাদ ও ভোগবাদের কোনো অভিযোগই তোলেন নি।  শঙ্করাচার্য লোকায়ত মতকে প্রাকৃতজনদের দর্শন বলে অবজ্ঞা করলেও তার বিরুদ্ধে ইহসুখবাদের অভিযোগ আনেন নি। শান্ত রক্ষিত, কমলশীল,  প্রভাচন্দ্র প্রমুখ দর্শনবিদ  চার্বাক খন্ডনের সময় এ অভিযোগ তোলেন নি- জ্ঞানতত্ত্বর ক্ষেত্রেই আলোচনা সীমাবদ্ধ থেকেছে।

ন্যায়মঞ্জুরী ছাড়াও জয়ন্তভট্ট আগমডম্বর বা ষন্মত নামে একটি নাটক লিখেছিলেন। বিতর্কের মধ্য দিয়ে অবৈদিক দর্শন ও ধর্ম সম্প্রদায়কে এই নাটকে হেয় করা হয়। এই নাটকের তৃতীয় অঙ্কে বৃদ্ধাম্ভি নামে এক চার্বাকপন্থীকে উপস্থিত করা হয়। কিন্তু দেখার বিষয় হল, এই নাটকে বৃদ্ধাম্ভিকে ধর্ম বিরোধী তার্কিক হিসেবে হাজির করা হয়েছে বটে, কিন্তু তার মুখ দিয়ে ইহসুখবাদ বা ভোগসর্বস্বতা প্রচার করানো হয়নি।বরং বৌদ্ধদের দেখানো হয়েছে চরম ইন্দ্রিয়পরায়ণ হিসেবে। তারা থাকেন সুন্দর প্রাসাদে; ভিক্ষুদের খাবার পরিবেশন করেন স্থূলস্তনী দাসীরা। পক্করস এর নাম করে তারা দিব্যি মদ খান, মাংসও খান। জৈনদেরও দেখানো হয়েছে কামুক ও ভোজনবিলাসী হিসাবে। যতরকমের নিরামিষ সুখাদ্য থাকতে পারে, চর্ব্য- চূষ্য-লেহ-পেয় সবই তাদের জোটে ধনী ভক্তদের কল্যাণে। এ ছাড়াও নাটকে আছে নীলাম্বর নামে এক ধর্ম সম্প্রদায়ের কথা- একটিই নীল কাপড়ে গা ঢেকে স্ত্রী পুরুষ মিথুন-নেচে-গেয়ে ঘুরে বেড়াতেন। কিন্তু এ নাটকে চার্বাকদের ইহসুখবাদী হিসাবে দেখানো হয় নি। চার্বাকেরা যদি সত্যিই ইহসুখবাদী ও ভোগসর্বস্ব হত তবে জয়ন্তভট্ট কেন তা আড়াল করবেন, যখন তিনি নিজেই চার্বাকদের তীব্র বিরোধীতা করেন।

পদ্মপুরাণে চার্বাকের প্রসঙ্গ মেলে। অসুরদের বিপথগামী করার জন্য দেবগুরু বৃহস্পতি অসুরদের গুরু শুক্রের রূপ ধরে অসুরদের কাছে উপস্থিত হন । বৃহস্পতি অসুরদের বিপথে পরিচালিত করতে তাদের চার্বাক মতের শিক্ষা দেন। কিন্তু এখানেও কোথাও চার্বাকদের ইহসুখবাদিতা ও ভোগ সর্বস্বতার পরিচয় পাওয়া যায় না। বরং চার্বাক মত প্রকাশকালে বৃহস্পতি নিজেই দেবতাদের বিরুদ্ধে অবাধ যৌনাচারের অভিযোগ আনেন। পদ্মপুরাণেই অসুরদের বেদবহির্ভূত করার জন্য বিষ্ণু মায়ামোহকে উৎপন্ন করেন। এই মায়ামোহ অসুরদের বেদবিরোধী উপদেশের মাধ্যমে তাদের বৈদিক ধর্ম হতে ভ্রষ্ট করেন। কিন্তু এই মায়ামোহের কথাতেও কোথাও চার্বাকদের ভোগবাদী মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় না।

প্রকৃত হেডনিস্ট কারা?

ইতিহাসে দেখা যায়, বস্তুবাদীদের উপর বারংবার ভোগসর্বস্বতার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু যারা নরকের পাশাপাশি পূণ্যবানদের জন্যে স্বর্গের কল্পনা করেছিলেন তাদেরই খাটি হেডনিস্ট বলা উচিত। স্বর্গ সুখ মানে হলো সবরকমের দৈহিক কামনার পরিতৃপ্তি। পরশুরামের বর্ণনায় তা চমৎকার ধরা পড়েঃ

“খাসা জায়গা, না গরম না ঠান্ডা। মন্দাকিনী কুলুকুলু বইছে, তার ধারে পারিজাতের ঝোপ। সবুজ মাঠের মধ্যিখানে কল্পতরু গাছে আঙ্গুর বেদানা আম রসগোল্লা কাটলেট সবরকম ফলে আছে, ছেঁড় আর খাও। জনা কতক ছোকরা-দেবদূত গোলাপী উডুনি গায়ে দিয়ে সুধার বোতল সাজিয়ে বসে রয়েছে, চাইলেই ফটাফট খুলে দেবে। ঐ হোথা কুঞ্জবনে ঝাঁকে ঝাঁকে অপ্সরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, দু দণ্ড রসালাপ কর, কেউ কিছু বলবে না, যত খুশি নাচ দেখো, গান শোনো। আর কালোয়াতি চাও তো  নারদ মুনির আস্তানায় যাও।“  

বিদ্রূপ রচনায় একটু অত্যুক্তি থাকেই, এখানেও আছে।কিন্তু স্বর্গ সুখ বলতে ধার্মিকেরা এরকমই বোঝেন। ইহকালে যা জুটলো না  বা জুটবে না, তার উলটো পিঠ সব পেয়েছির দেশ বলেই কল্পনা করা হয় স্বর্গকে।

শুধু ব্রাহ্মণ্য ঐতিহ্যে নয়, খ্রিষ্ট ধর্ম ও ইসলামেও স্বর্গ (যে নামেই ডাকা হোক) একই ধরণের সুখের জায়গা । তবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে সে সুখ সকলের জুটবে না। এখন কষ্ট করলে মরার পর সব সুদে আসলে উসুল হয়ে যাবে। তবে স্বর্গ নরক দুইই বাতিল করে দিয়ে , ইন্দ্রিয়সুখ আর কৃচ্ছ্র সাধনের দুটি প্রান্তকেই চার্বাকরা খারিজ করে দিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ বিরুদ্ধবাদীদের কাছ থেকে তাদের ইহসুখবাদী ও ভোগ সর্বস্ব-র তকমা জুটেছে।

সহায়ক গ্রন্থ

চার্বাক চর্চা- রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য | পাবলিশার-ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড

**কৃতজ্ঞতাঃ সম্পূর্ণ লেখাটিই রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের চার্বাক চর্চা অনুসরণে লেখা এবং সেখান থেকে সরাসরি প্রচুর উদ্ধৃতিও দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments

অজিত কেশকম্বলী II

সত্য যে কঠিন, সে কঠিনেরে ভালোবাসিলাম।

4 thoughts on “ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ?

  • March 24, 2019 at 3:59 am
    Permalink

    অজিত কেশকম্বলী দাদা আপনার লেখা খুবই সুন্দর হয়েছে, তবে দাদা পশ্চিমা দেশসমূহে যারা নিরীশ্বরবাদী তারা কি ভোগবিলাস করেননা দাদা? দাদা আপনি নিশ্চয়ই হিপি (Hippie) সংস্কৃতি সম্বন্ধে জানেন, হিপিরা নিরীশ্বরবাদী হয় দাদা, তারা তো অনেক আনন্দ করে, নারীভোগ করে, দাদা ইসলামের প্রবর্তক মহাম্মাদও নারীভোগ করতেন কিন্তু তিনি আবার ছিলেন ঈশ্বরবাদী, দাদা বিশ্ববিখ্যাত অস্তিত্ববাদী ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ-পল সার্ত্রে (Jean Paul Sartre) অনেক নারীসঙ্গ উপভোগ করেছিলেন (হুমায়ুন আজাদ স্যারের লেখা ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’ বইতে দাদা আমি এ তথ্য পেয়েছি যেটা সার্ত্রের প্রেমিকা সিমোন দ্যা বোভোয়ার – Simone De Beauvoir এর লেখা)। দাদা ভোগবিলাস করা কি কোনো অপরাধ হতে পারে যদি আমাদের হুমায়ুন আজাদ স্যার তার উপন্যাস এবং কবিতায় যৌনতার খুব স্পষ্ট বিবরণ দেন, দাদা হুমায়ুন আজাদ স্যার তার ‘নারী’ বইতেও নারীদের যৌন-স্বাধীনতা প্রদানের কথা বলেছেন। দাদা আপনি যৌন-স্বাধীনতার ব্যাপারে কিছু লিখবেন এই আশা করছি।

    Reply
  • March 24, 2019 at 5:20 am
    Permalink

    কিন্তু চার্বাকদের সম্বন্ধে ‘ঋণ করে ঘি খাওয়ার’ যে কথা প্রচলিত আছে, সেটা তো কেবল একটা বিকৃতি।

    চার্বাকেরাও সুখে থাকার কথা বলেছেন, “যতদিন বাঁচবে সুখে বাঁচো, দেহ পুড়ে ছাই হয়ে গেলে তা ফিরে আসে না।”

    জীবন একটাই। সকলে হাসিতে,খুশিতে,সুখে বাঁচার চেষ্টা করবে, এতে দোষের কি! ভোগ বিলাস অপরাধ নয় ঠিকই, কিন্তু জীবনে কামান্ধ হয়ে গেলে এবং ভোগ ছাড়া জীবনে অপর কোনো দিক না থাকলে, সেই জীবন মহিমান্বিত হতে পারে না।

    চার্বাকদের সম্বন্ধে প্রচার করা হত- তারা ভোগ ছাড়া আর কিছু বোঝেন না। নিরীশ্বরবাদী, বস্তুবাদীদের সম্বন্ধেও এই ধরণের প্রচার চলে। চার্বাকদের যেভাবে ইহসুখবাদী ও ভোগবাদী দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার কোনো প্রামাণিকতা নেই।

    ভবিষ্যতে যৌনস্বাধীনতা নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো।

    Reply
  • March 24, 2019 at 8:12 am
    Permalink

    ধন্যবাদ অজিত কেশকম্বলী দাদা।

    Reply
  • March 24, 2019 at 4:21 pm
    Permalink

    অবিরাম ভালবাসা রইলো.।

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: