আপস্তম্ভ সংহিতা ও জাতিভেদ

আপস্তম্ভ সংহিতা ধর্মশাস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম। এতে ব্রাহ্মণের মহিমা এবং শূদ্র ও অস্পৃশ্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বিধি-বিধান লক্ষ্য করা যায়।

ব্রাহ্মণের মহিমা

মন্দির অথবা পবিত্র স্থানে প্রবেশকালে ধর্মানুসারীরা সাধারণত তাদের জুতো খুলে থাকেন, কিন্তু ব্রাহ্মণ এর সামনেও যে জুতো (পাদুকা) খুলে ফেলার নিয়ম রয়েছে সেটা কি জানেন?

আপস্তম্ভ মুনি বলেছেন-

“হোম গৃহে, গোশালাতে, ব্রাহ্মণদের সামনে , বেদপাঠকালে এবং ভোজনকালে পাদুকা ত্যাগ করবে।“ (নবম অধ্যায়)

ব্রাহ্মণ কতটা পবিত্র তাহলে বুঝতেই পারছেন!

আলোচ্য শাস্ত্রপ্রণেতা স্বজাতি ব্রাহ্মণদের নিরাপত্তা ও সুখ স্বাচ্ছন্দ্যর জন্য নিম্নোক্ত বিধান দেন-

  • অনাথ ব্যক্তিকে দান করা, ব্রাহ্মণকে ঔষধ সেবন করানো, বালকের স্তন্যপানাদি ও রক্ষা করা অবশ্য কর্তব্য।(১ম অধ্যায়)
  • বালকদের স্তন্যপানাদি করাতে, ব্রাহ্মণের নিমন্ত্রণে বা চিকিৎসাতে প্রাণবিপত্তি ঘটলেও দোষ নেই।(১ম অধ্যায়)

ব্রাহ্মণকে খাওয়াতে গিয়ে, ব্রাহ্মণের প্রাণ বাচাতে গিয়ে কেউ মরে গেলেও কোনো সমস্যাই নেই, চমৎকার কথা!

এছাড়া নিম্নোক্ত উদ্ধৃতিটি ব্রাহ্মণের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার একটি উপায় বলেই মনে হয়-

  • “প্রায়শ্চিত্তের জন্য কর্তব্য ব্রতাদির নিয়মিত কাল, ক্রিয়া দ্বারা সম্পূর্ণ হলে ব্রাহ্মণের অনুমতি ছাড়াও শুদ্ধ হবে, নিয়মিত কাল সম্পূর্ণ না হলেও ব্রাহ্মণরা যদি বলেন, কার্য সম্পূর্ণ হয়েছে, তাতেই প্রায়শ্চিত্তার্হ ব্যক্তিরা শুদ্ধ হবে। ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শূদ্র এই জাতি কদাচিৎ কার্য সম্পন্ন হয়েছে বলবে না, প্রাণসংশয় উপস্থিত হলে ব্রাহ্মণকে সম্পন্ন হয়েছে, এটা বলাবে, তাতে কার্য সিদ্ধি হবে।“ (৩য় অধ্যায়)

অন্যান্য বর্ণের লোকেদের জীবনের চেয়ে ব্রাহ্মণের জীবন যে অধিক মূল্যবান তা বোঝাতে, ‘মাতৃ হত্যাকারী, পিতৃ হত্যাকারী, ব্রহ্মহত্যাকারী এবং বিমাতৃগমনশীল ব্যক্তিদের অন্ন ভোজন করে শুদ্ধির জন্য চান্দ্রায়ণ করবে (নবম অধ্যায়)।‘ এমন বিধান দেওয়া হয়েছে।

কুকুর ও শূদ্র সমার্থক ?

চতুর্বর্ণের মধ্যে শূদ্র হল চতুর্থ বর্ণ এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী বিধান অনুযায়ী সর্বনিকৃষ্টবর্ণ। শূদ্রের প্রতি আপস্তম্ভও দিয়েছেন নানা বৈষম্যমূলক ও উৎপীড়নমূলক বিধান। রজক, ব্যাধ, চর্মকার প্রভৃতি শ্রমজীবী মানুষদের প্রতিও ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে তার বিধানে-

  • রজক, ব্যাধ, শৈলুষ,বেণুজীবী এবং চর্মকার এদের অন্ন ভোজন করলে, ব্রাহ্মণদের চান্দ্রায়ণ ব্রত করে শুদ্ধ হতে বলা হয়েছে। (নবম অধ্যায়)
  • রজক, ব্যাধ, শৈলুষ, বেণুজীবি এবং চর্মকার এদের অন্ন ভোজন করে প্রাজাপত্য করে শুদ্ধ হতে বলা হয়েছে। (দশম অধ্যায়)

শূদ্রের ঘরে ব্রাহ্মণ ও অন্যান্য বর্ণের লোকেদের খেতে করতে বারণ করা হয়েছে-

  • শুষ্কমাংসময় অন্ন এবং শূদ্রের অন্ন অজ্ঞানবশত ভোজন করে কৃচ্ছব্রত করবে। জ্ঞান পূর্বক ভোজন করে কৃচ্ছত্রয় করবে।(নবম অধ্যায়)
  • বিপদাপন্ন হয়ে যদি ব্রাহ্মণ শূদ্র গৃহে অন্নভোজন করে, মনস্তাপ দ্বারা কিংবা দ্রুপদাদি মন্ত্র ১০০ বার জপ করে শুদ্ধ হবে। কোন দ্রব্য হস্তস্থিত হয়ে যদি উচ্ছিষ্ট শূদ্র কর্তৃক স্পৃষ্ট হয় , সে দ্রব্য দ্বিজেরা ভোজন করবেন না। (অষ্টম অধ্যায়)
  • শূদ্রান্ন উদরস্থ সত্ত্বেই যে দ্বিজ মৃত হয়, সে দ্বিজ জন্মান্তরে গ্রাম্য শূকর অথবা কুকুর হয়। ব্রাহ্মণের অন্ন সর্বদা ভোজন করতে পারবে, পর্ব দিবসে ক্ষত্রিয়ের অন্ন, যজ্ঞ কর্মে দীক্ষিত হলে বৈশ্যের অন্ন ভোজন করতে পারবে, কখনই শূদ্রের অন্ন ভোজন করতে পারবে না। ব্রাহ্মণের অন্ন অমৃতের মত,ক্ষত্রিয়ের অন্ন ঘি এর মত, বৈশ্যের অন্ন কেবলই অন্ন, শূদ্রের অন্ন রক্তের মত জানবে। বৈশ্বদেবের উদ্দেশ্যে দান, হোম, দেবতাদের পূজা এবং যব দ্বারা ঋগ্বেদ , যজুর্বেদ এবং সামবেদোক্ত মন্ত্র দ্বারা সংস্কৃত ব্রাহ্মণের অন্ন পবিত্র হয়, এজন্য তা অমৃততুল্য জানবে। ব্যবহারানুরূপ ধর্ম দ্বারা ছল বর্জিত ক্ষত্রিয়ের অন্নে প্রাণীদের প্রতিপালন হয়, এই নিমিত্ত তা ঘৃত তুল্য জানবে। নিজ চেষ্টা দ্বারা অশক্ত ব্যক্তিদের বৃষভ  দ্বারা উৎপন্ন যজ্ঞ কার্য এবং অতিথিসেবা দ্বারা বৈশ্যগণের অন্ন সংস্কৃত হয়, এজন্য তার অন্ন অন্ন অর্থাৎ শরীর পুষ্টিকর জানবে। অজ্ঞান, তিমিরান্ধ এবং মদ্যপানরত শূদ্রজাতির অন্ন বিধি এবং মন্ত্ররহিত, এ জন্য তা রক্তের মত জানবে। (অষ্টম অধ্যায়)
  • যে সকল ব্রাহ্মণ একমাস নিরন্তর শূদ্রান্ন ভোজন করে, সে এই জন্মে শূদ্রত্ব প্রাপ্ত হয়, জন্মান্তরে কুকুরযোনিতে জন্মগ্রহণ করে। শূদ্রান্নভোজন,শূদ্রের সম্পর্ক, শূদ্রের সঙ্গে একাসনে উপবেশন, শূদ্রের কাছ থেকে জ্ঞান লাভ করা এ সকল কাজ তেজস্বী পুরুষকেও পতিত করে।যে ব্রাহ্মণ নিত্য হোম করার জন্য অগ্নি স্থাপন করেছেন, সে ব্যক্তি যদি শূদ্রান্নভক্ষণ হতে নিবৃত্ত হতে না পারেন, তার আত্মা, বেদ এবং অগ্নিত্রয় বিনষ্ট হয়। শূদ্রান্ন ভোজন করে ওই অন্ন উদরস্থ থাকতেই স্ত্রী সহবাস করে যে পুত্রাদি জন্মাবে, যার অন্ন , তার ঐ সকল সন্তান জানবে, যে হেতু অন্ন হতে শুক্রের উৎপত্তি হয়। (অষ্টম অধ্যায়)

রজঃস্বলা নারীকে অপস্তম্ভ অপবিত্র বলেছেন। তবে রজঃস্বলা স্ত্রীদের মধ্যেও তিনি ভেদ করেছেন, মনু যেটা করেননি। বিধি প্রণয়নের ক্ষেত্রে রজঃস্বলা স্ত্রী  ব্রাহ্মণী নাকি শূদ্রা তা তিনি বিবেচনায় এনেছেন।  আপস্তম্ভ বলেন-

  • “রজঃস্বলা ব্রাহ্মণী যদি রজঃস্বলা শূদ্রা স্ত্রীকে স্পর্শ করে তাহলে, এক অহোরাত্র উপবাস করে পঞ্চগব্য ভক্ষণ দ্বারা শুদ্ধ হবে।“(সপ্তম অধ্যায়)

বারংবার কুকুর ও শূদ্র শব্দ দুটি একসাথে উচ্চারিত হয়েছে আপস্তম্ভ সংহিতায়। শূদ্র যেন মানুষ নয় বরং কুকুর! আপস্তম্ভ বলেন-

  • দ্বিজগণ উচ্ছিষ্টাবস্থায় কুকুর কিংবা শূদ্র কর্তৃক স্পৃষ্ট হয়ে একরাত্রি উপবাস শেষে পঞ্চগব্য ভক্ষণ দ্বারা শুদ্ধ হবে। (নবম অধ্যায়)
  • কাসার পাত্র কুকুর, কাক বা শূদ্র দ্বারা অপবিত্র হলে অনেক ক্ষার দিয়ে শুদ্ধ করবে।(৮ম অধ্যায়)
  • অজ্ঞানবশত ব্রাহ্মণ যদি উচ্ছিষ্ট স্পর্শ করে কিংবা কুকুর,শূদ্র,এবং মদ্যপান অথবা অশুচি পক্ষিগণের অণিষ্ঠান দ্বারা যে দ্রব্য অশুচি হয়েছে, এ সকল স্পর্শ করে এক অহোরাত্র উপবাসান্তে পঞ্চগব্য ভক্ষণ দ্বারা শুদ্ধ হবে।(পঞ্চম অধ্যায়)
  • সর্বদা শূদ্রের আজ্ঞা প্রতিপালনকারী ব্রাহ্মণকে ভূমিতে অন্ন প্রদান করবে, কুকুর যেরূপ অস্পৃশ্য, সেই ব্রাহ্মণও তেমনই জানবে। (নবম অধ্যায়)

অস্পৃশ্যের প্রতি চরম অমানবিক ব্যবহার

এই পরিচ্ছদের শিরোনাম দেখে কারো মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে অস্পৃশ্য কী? হিন্দু ধর্ম মতে, কিছু মানুষ এতটাই অপবিত্র হয় যে, তাদের স্পর্শ করাও পাপ। মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এই অস্পৃশ্যরা এমন কি খারাপ কাজ করেছিল যে তারা এতটাই অপবিত্র হয়ে পড়েছিল, যে তাদের ছোঁয়াও বারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর উত্তর  হল অস্পৃশ্যদের জন্মই ছিল পাপময়। তারা কর্ম দ্বারা নয়,  বরং জন্ম দ্বারাই পাপী হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ধর্মের ঠুলি চোখে দিয়ে ঋষিরা মানুষের ( অস্পৃশ্যদের) চেয়ে বরং গরুকে অধিক পবিত্র বলে বিবেচনা করেছেন। গোশালায় প্রবেশ করার সময় মানুষকে পাদুকা খুলে প্রবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। শূদ্রের অন্ন ভোজন করে, অস্পৃশ্যদের স্পর্শ করে যে পাপ হত দ্বিজদের (উচ্চ তিনবর্ণের)  সেই পাপক্ষালন হত গোদেবতার মল খেয়ে, মূত্র পান করে। (অশুচিতা কাটানোর জন্য পঞ্চগব্য খাওয়ার বিধান ছিল। পঞ্চগব্য দুধ,দই, ঘি, গোবর ও গোমূত্র দিয়ে তৈরি হয়।)

অস্পৃশ্যদের অপর নাম ছিল অন্ত্যজ। তারা ছিল বর্ণ বহির্ভূত। কোনো বর্ণেই তাদের ঠাই হয়নি। চার বর্ণের লোকের মধ্যে শূদ্রের অবস্থা ছিল শোচনীয়। জাতিবাদী হিন্দু ধর্মের আইনপ্রণেতাদের চোখে এই অন্ত্যজরা ছিল শূদ্রেরও অধম। তাদের ছুলেই ছিল পাপ হবার সম্ভাবনা।

এই অস্পৃশ্যদের প্রতি দ্বিজাতিদের মনে ছিল প্রবল ঘৃণা। চণ্ডাল জাতি অস্পৃশ্যদের মধ্যে অন্যতম। মনুসংহিতা মতে, শূদ্রের ঔরসে ব্রাহ্মণীর গর্ভে যে সন্তান জন্মে, সে-ই চণ্ডাল। হয়তো তাই স্বাভাবিকভাবেই সে ঘৃণার শিকার। অপস্তম্ভ ঋষি চণ্ডালের প্রতি অধিক দমনমূলক বিধানের প্রবর্তন করেছেন। আপস্তম্ভ বলেন-

  • খাওয়া শেষে আচমন না করে উচ্ছিষ্টাবস্থায় অল্পজ্ঞানী ব্রাহ্মণ যদি অজ্ঞানবশত চণ্ডাল কিংবা শ্বপচদের দ্বারা সংস্পৃষ্ট হয়, সে ব্রাহ্মণ ব্রহ্মচর্য করে নিত্য ত্রিকালীন স্নান এবং ভূমিশয়ন করে ত্রিরাত্র উপবাস শেষে পঞ্চগব্য ভক্ষণ দ্বারা শুদ্ধ হবে।(নবম অধ্যায়)
  • চণ্ডাল কর্তৃক স্পৃষ্ট হয়ে যে দ্বিজ জলপান করে, সে এক অহোরাত্র উপবাস করে ত্রিকালীন স্নান দ্বারা শুদ্ধ হবে। (নবম অধ্যায়)
  • চণ্ডাল কর্তৃক স্পৃষ্ট দ্বিজরা অভ্যক্ষণ না করে যদি কদাচিৎ জলপান করে, তার প্রায়শ্চিত্ত কিরূপ প্রকারে হবে? (এই প্রশ্নের উত্তর) ব্রাহ্মণরা তিন রাত উপবাস করে পঞ্চগব্য ভক্ষণ দ্বারা শুচি হবে। ক্ষত্রিয়রা দুই দিবস উপবাস করে পঞ্চগব্য দ্বারা শুদ্ধ হবে। চতুর্থ বর্ণ শূদ্রজাতির চণ্ডালাদি সংস্পর্শে প্রায়শ্চিত্ত নাই, ব্রত নাই, তপস্যা নাই, হোমও কর্তব্য নয়, পঞ্চগব্য বিধি দেবে না, যেহেতু শূদ্রের মন্ত্রপাঠ বিধি নাই, দ্বিজদের কাছে ঐ কার্য প্রকাশ করে দান দ্বারা শুদ্ধ হবে।(পঞ্চম অধ্যায়)
  • চণ্ডাল যে গাছে চড়েছে, ঐ গাছে চড়ে যদি দ্বিজরা ফল ভক্ষণ করে, তার প্রায়শ্চিত্ত কিরূপ নির্দিষ্ট হয়েছে? (এই প্রশ্নের উত্তর)ব্রাহ্মদের অনুজ্ঞানুসারে সবস্ত্র স্নান করবে এবং একরাত উপবাস করে, পঞ্চগব্য ভক্ষণ করে শুদ্ধ হবে। দ্বিজরা উচ্ছিষ্ট অবস্থায় অপবিত্র দ্রব্য স্পর্শ করলে , এক অহোরাত্র উপবাস করে পঞ্চগব্য ভক্ষণ দ্বারা শুদ্ধ হবে। (চতুর্থ অধ্যায়)
  • জলদান ,গৃহস্থিত, বনমধ্যে স্থিত, লাঙ্গল কর্ষিত ভূমিস্থিত, দ্রোণীস্থ, পুষ্করিনি হতে বহিষ্কৃত ,স্বপাক এবং চণ্ডাল কর্তৃক অধিকৃত যে সমস্ত জল তা পান করে পঞ্চগব্য দ্বারা শুদ্ধ হবে। (২য় অধ্যায়)
  • চণ্ডালের কূপ কিংবা ভাণ্ডে যে ব্যক্তি অজ্ঞানবশত জলপান করে, তার প্রায়শ্চিত্ত ব্রাহ্মণ প্রভৃতি চারবর্ণের কি প্রকারে বিহিত হয়েছে? (এটা প্রশ্ন) ব্রাহ্মণরা সন্তাপন ব্রত করবে, ক্ষত্রিয়রা প্রাজাপত্য ব্রত করবে, বৈশ্যরা প্রাজাপত্যের অর্ধেক করবে, শূদ্ররা প্রাজাপত্যের একপাদ ব্রত করবে। খাওয়ার পর আচমন না করে উচ্ছিষ্ট অবস্থায় যদি অজ্ঞানবশত শ্বপচ কিংবা চণ্ডাল কর্তৃক স্পৃষ্ট হয়, তার শোধননিমিত্ত অষ্টাধিক সহস্রবার গায়ত্রি জপ করবে কিংবা একশত বার দ্রুপদামন্ত্র জপ করবে। তিনদিবস অশ্রূল হয়ে জপ করার পরে পঞ্চগব্য ভক্ষণ দ্বারা শুদ্ধ হবে। বিষ্ঠা এবং মূত্র ত্যাগ করে শৌচের পূর্বে যদি চণ্ডাল কর্তৃক স্পৃষ্ট হয়, তাহলে তিনরাত উপবাস করবে, ভোজন করে উচ্ছিষ্ট অবস্থায় যদি চণ্ডাল কর্তৃক স্পৃষ্ট হয় তাতে ছয় রাত উপবাস করবে, এটা মতান্তর। (চতুর্থ অধ্যায়)
  • ব্রাহ্মণ যদি চণ্ডালী কিংবা রজঃস্বলা স্ত্রী কর্তৃক আরুঢ় বৃক্ষের এক শাখায় আরোহণ করে , তা হলে সে বস্ত্রের সাথে স্নান করবে। (সপ্তম অধ্যায়)

এছাড়া অন্যান্য অস্পৃশ্যদের স্পর্শে, খাদ্যে অথবা তাদের ঘরে বাস করে অপবিত্র হলে, তার প্রায়শ্চিত্ত প্রসঙ্গে আপস্তম্ভ বলেন-

  • অন্ত্যজ জাতির গৃহে অজ্ঞানবশত যে ব্যক্তি বাস করে, তা কালান্তরে সম্পূর্ণ রূপে জ্ঞাত হলে, দ্বিজগণ অনুগ্রহ করলে , চান্দ্রায়ণ কিংবা পরাঞ্চ ব্রত দ্বারা দ্বিজদের বিশুদ্ধি হবে, শূদ্রের প্রায়শ্চিত্ত প্রাজাপত্য ব্রত জানবে, শেষ কার্য অর্থাৎ দক্ষিণাদি প্রায়শ্চিত্ত অনুরূপ কর্তব্য। (৩য় অধ্যায়)
  • যদি ঋতুমতি স্ত্রী কিংবা অন্ত্যজ জাতির সহিত পান কিংবা মৈথুন সম্বন্ধ হয়, কিংবা মূত্র পূরীষ সম্বন্ধ হয়, অথবা এদের সংস্পর্শ হয়, এর প্রায়শ্চিত্ত কি হবে? (এই প্রশ্নের উত্তর) এদের অন্নভোজনে তিন রাত উপবাস কর্তব্য, জলাদিপানেও তিন রাত উপবাস, মৈথুন সম্পর্ক হলে, পাদকৃচ্ছ ব্রত করবে, মূত্র সংস্পর্শ হলে একদিন উপবাস কর্তব্য। বিষ্ঠা সংস্পর্শ হলে দিনত্রয় উপবাস কর্তব্য। চণ্ডাল প্রভৃতি কর্তৃক স্পৃষ্ট হয়ে দন্তধাবন করলে, এক দিবস উপবাস নির্দিষ্ট হয়েছে। (চতুর্থ অধ্যায়)
  • যে দ্বিজগণ অন্ত্যজ জাতির গৃহে পক্ক অন্ন ভোজন করে তাদের কৃচ্ছ, চান্দ্রায়ণ প্রায়শ্চিত্ত ব্যবস্থা প্রদান করবে। (এটা অজ্ঞানভোজনের প্রায়শ্চিত্ত) (৩য় অধ্যায়)
  • অন্ত্যজ গৃহে পক্কান্নভোজীদের গৃহে যারা ভোজন করবে, তাদের কৃচ্ছ ব্রতের একপাদ প্রায়শ্চিত্তের ব্যবস্থা দেবে। (৩য় অধ্যায়)
  • অন্ত্যজাতি কিংবা শ্বপাক কর্তৃক রজঃস্বলা স্ত্রী স্পৃষ্ট হলে, চার দিন অতিক্রম করে প্রায়শ্চিত্ত করবে; অন্ত্যজাতি স্পর্শের প্রায়শ্চিত্ত- ত্রিরাত্র উপবাস শেষে পঞ্চগব্য ভোজন করে শুদ্ধ হবে। চতুর্থ দিন রাত উপস্থিত হলে সন্তানোৎপাদনের চেষ্টা করবে। কুকুর কিংবা শ্বপাক জাতি কর্তৃক স্পৃষ্ট রজস্বলা পরিত্যজ্য অর্থাৎ তার সাথে কোনো সংসর্গ করবে না। ঐ স্ত্রী ত্রিরাত্র উপবাস করে পঞ্চগব্য ভক্ষণ দ্বারা শুদ্ধ হবে। (সপ্তম অধ্যায়)

সহায়ক গ্রন্থসূচি-

দ্রষ্টব্য-

সমগ্র লেখাটিতেই আপস্তম্ভ সংহিতার আলোচনা রয়েছে তাই অধ্যায় সংখ্যার পাশে আর অতিরিক্ত কিছুই লেখা হল না।

আরও পড়ুন-

Facebook Comments

অজিত কেশকম্বলী II

"মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।"

Leave a Reply

%d bloggers like this: