পৃথিবী আগে সৃষ্টি নাকি মহাকাশ?

কোরআন, হাদিস এবং ইসলামের ক্লাসিক্যাল তাফসীরসমূহ অনুসারে, জমিন বা পৃথিবীর সৃষ্টি এবং মহাকাশের অন্যান্য গ্রহ উপগ্রহ নক্ষত্র ইত্যাদি, এদের মধ্যে কোনটি পূর্বে বা আগে সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন ইসলামিস্ট বিভিন্ন সময়ে নানারকম মিথ্যাচার করেন। এই লেখাটিতে এই বিষয়ে রেফারেন্সগুলো একত্র করা হলো, পরবর্তীতে তাদের উত্তরগুলো একসাথে দেয়ার জন্য। আধুনিক বৈজ্ঞানিক ধারণা এবং ইসলামের ধারণার মিল অমিলগুলো আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারবেন।

পৃথিবী কী? পৃথিবী সূর্য থেকে দূরত্ব অনুযায়ী তৃতীয়, সর্বাপেক্ষা অধিক ঘনত্বযুক্ত এবং সৌরজগতের আটটি গ্রহের মধ্যে পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ। এটি সৌরজগতের চারটি কঠিন গ্রহের অন্যতম। পৃথিবীর অপর নাম “বিশ্ব” বা “নীলগ্রহ”। আজ থেকে প্রায় ৪৫৪ কোটি বছর আগে পৃথিবী গঠিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য, পৃথিবীর থেকে বহু পুরনো এবং বয়ষ্ক গ্রহ বিজ্ঞানের জগতে খুবই সাধারণ বিষয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, ট্রাপিস্ট-১ (ইংরেজি: TRAPIST-1) এর গ্রহগুলোর কথা।

TRAPIST-1 একটি অতি-শীতল বামন তারকা, যা 2MASS J23062928-0502285, হিসেবেও পরিচিত।  তারকাটি পৃথিবী থেকে ৩৯ আলোকবর্ষ (১২ পার্সেক; ৩৭০ পেটামিটার)দূরে কুম্ভ নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত । এটি  ২০১৫ সালে চিলির লা সিলা মানমন্দিরে মাইকেল গিলনের নেতৃত্বে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল ‘ট্রানজিট ফটোমেট্রি’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে TRAPPIST (Transiting Planets and Planetesimals Small Telescope)নামক দূরবীক্ষণযন্ত্র ব্যবহার করে বামন তারকাটির চারপাশে প্রদক্ষিণরত পৃথিবীর সমান আকারের তিনটি গ্রহ আবিষ্কার করে । ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এর চারপাশে আরো চারটি বহির্গ্রহ আবিষ্কারের ঘোষণা দেয় ।TRAPPIST ছাড়াও প্যারানালে অবস্থিত Very Large Telescope এবং নাসার Spitzer Space Telescope ব্যবহার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন যে , আবিষ্কৃত সাতটি গ্রহের মধ্যে কমপক্ষে তিনটি অথবা সবগুলোই বামন তারকাটির প্রাণমণ্ডলে অবস্থিত ।

আরো পড়ুনঃ The TRAPPIST-1 Planets Are Older Than Earth

এবারে জেনে নিন, মহাবিশ্বে যতটুকু মানুষ জানতে পেরেছে, তার মধ্যে প্রাচীনতম গ্রহটি সম্পর্কে। প্রায় ১৩ বিলিয়ন বছর আগের এই গ্রহটির সম্পর্কে পড়ুন এখান থেকেঃ Oldest Known Planet Identified

আসমান বা মহাবিশ্ব কী? পৃথিবী এবং অন্যান্য সমস্ত গ্রহ , সূর্য ও অন্যান্য তারা ও নক্ষত্র, জ্যোতির্বলয়স্থ স্থান ও এদের অন্তর্বর্তীস্থ গুপ্ত পদার্থ , ল্যামডা-সিডিএম নকশা , তমোশক্তি ও শূণ্যস্থান (মহাকাশ) – যেগুলো এখনও তাত্ত্বিকভাবে অভিজ্ঞাত কিন্তু সরাসরি পর্যবেক্ষিত নয় – এমন সব পদার্থ ও শক্তি মিলে যে জগৎ তাকেই বলা হচ্ছে মহাবিশ্ব বা বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড। বর্তমান বিশ্বতত্ত্বের মডেল অনুযায়ী মহাবিশ্বের বর্তমান বয়েস ১৩.৭৫ বিলিয়ন বা ১,৩৭৫ কোটি বছর। অর্থাৎ, মহাবিশ্ব সৃষ্টির পরে ৯২১ কোটি বছর পৃথিবী বলে কোন গ্রহের অস্তিত্ব ছিল না। এই সময়ে মহাবিশ্বে অসংখ্য গ্রহ নক্ষত্রের উদ্ভব এবং ধ্বংস ঘটেছে, যখন পৃথিবীর জন্মও হয় নি।

শুরুতেই জেনে নিই, এই পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে মহাবিশ্ব এবং পৃথিবীর উদ্ভব সম্পর্কে বিজ্ঞান কী বলছে।

এবারে আসুন, এই সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতগুলো দেখে নিই।

তোমাদের জন্য তিনি ভূ-মন্ডলের যাবতীয় বস্তু সৃষ্টি করিয়াছেন, অতঃপর নভোমন্ডলের যাবতীয় বস্তু সৃষ্টি করিয়াছেন, অতঃপর নভোমন্ডলের প্রতি দৃষ্টি দিয়া ইহাকে সাত স্তরে বিভক্ত করিয়াছেন, তিনিই সকল বস্তু সম্পর্কে পরিজ্ঞাত।
কুরআন ২ঃ২৯

বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা।
তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে।
অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।
অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।
কুরআন ৪১ঃ৯-১২

এবারে কয়েকটি অনুবাদ দেখে নিই।

এবারে আসুন দেখা যাক, সহিহ হাদিস কী বলে। উল্লেখ্য, অনেকেই দাবী করেন যে, ছয় দিনে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ছয়দিন বলতে নাকি ছয় যুগ বা ছয় কাল বোঝানো হয়েছে। অথচ সহিহ হাদিসে একদম শনি রবি সোম বার উল্লেখ করেই দিনের হিসেব করা হয়েছে। যা থেকে নিঃসন্দেহে বোঝা যায়, ঐ ছয় দিন আসলে পৃথিবীরই দিন। তাই এই বিষয়ে মিথ্যাচার করার আর কোন উপায় নেই।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ [6947] অধ্যায়ঃ ৫২। কিয়ামাত, জান্নাত ও জান্নামের বর্ণনা
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ১. সৃষ্টির সূচনা এবং আদাম (আঃ) এর সৃষ্টি
৬৯৪৭-(২৭/২৭৮৯) সুরায়জ ইবনু ইউনুস ও হারূন ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) ….. আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে বললেন, আল্লাহ তা’আলা শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেন এবং এতে পর্বত সৃষ্টি করেন রবিবার দিন। সোমবার দিন তিনি বৃক্ষরাজি সৃষ্টি করেন। মঙ্গলবার দিন তিনি বিপদাপদ সৃষ্টি করেন। তিনি নূর সৃষ্টি করেন বুধবার দিন। তিনি বৃহস্পতিবার দিন পৃথিবীতে পশু-পাখি ছড়িয়ে দেন এবং জুমুআর দিন আসরের পর জুমুআর দিনের শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ আসর থেকে নিয়ে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে সর্বশেষ মাখলুক আদাম (আঃ) কে সৃষ্টি করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৯৭,ইসলামিক সেন্টার ৬৮৫১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫৩/ কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ
হাদিস নম্বরঃ [6797] পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২. সৃষ্টির সূচনা এবং আদম (আঃ) এর সৃষ্টি
৬৭৯৭। সুরায়জ ইবনু ইউনুস ও হারুন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে বললেন, আল্লাহ তাআলা শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেন। রোববার দিন তিনি এতে পর্বত সৃষ্টি করেন। সোমবার দিন তিনি বৃক্ষরাজি সৃষ্টি করেন। মঙ্গলবার দিন তিনি আপদ বিপদ সৃষ্টি করেন। বুধবার দিন তিনি নূর সৃষ্টি করেন। বৃহস্পতিবার দিন তিনি পৃথিবীতে পশু-পাখি ছড়িয়ে দেন এবং জুমুআর দিন আসরের পর তিনি আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করেন। অর্থাৎ জুমুআর দিনের সময়সমূহের শেষ মুহূর্তে (মাখলূক) আসর থেকে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এবারে, সর্বাধিক প্রখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে ইবনে কাসীরে সুরা বাকারার ২৯ নম্বর আয়াত সম্পর্কে কী বলা হয়েছে।

এবারে, প্রখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে ইবন আব্বাসে সুরা বাকারার ২৯ নম্বর আয়াত সম্পর্কে কী বলা হয়েছে।

এবারে, প্রখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে জালালাইনে সুরা বাকারার ২৯ নম্বর আয়াত সম্পর্কে কী বলা হয়েছে।

এবারে,  মা’আরেফুল কোরআনে সুরা বাকারার ২৯ নম্বর আয়াত সম্পর্কে কী বলা হয়েছে।

এবারে, সর্বাধিক প্রখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে ইবনে কাসীরে সুরা ফুসসিলাতের ৯-১২ নম্বর আয়াত সম্পর্কে কী বলা হয়েছে।

Facebook Comments

One thought on “পৃথিবী আগে সৃষ্টি নাকি মহাকাশ?

  • June 23, 2019 at 9:39 am
    Permalink

    ভাই অসাধারণ ব্যবচ্ছেদ

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: