হাদিস না মেনে শুধুমাত্র কোরআন মেনে মুসলিম?

ভূমিকা

কোরানিস্ট বা আহলে কোরানরা মনে করে আল্লাহর পাঠানো বার্তা অর্থাৎ কোরান দ্বারাই পরিপূর্ণ ইসলামিক জীবনযাপন সম্ভব। এটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য কোন হাদীসেরই  নাকি কোন প্রয়োজন নেই। তারা হাদীসগুলোকে সন্দেহ করে, কারণ সেগুলো হযরত মোহাম্মদের মৃত্যুর প্রায় ৩০০ বছর পর থেকে লেখা শুরু হয়েছে। সুন্নাহ পালনকে তারা কেউ কেউ বিদয়াত বলে মনে করে, আবার কেউ শিরকের সাথেও তুলনা করে। তথ্য প্রমান হিসেবে তারা কোরানের কিছু আয়াত উপস্থাপন করে। কারণ প্রকৃত কুরানিষ্টরা কোরানের আয়াতের প্রেক্ষাপট, সময়, শানে নজুল, তাফসীর, পটভূমিকে শুধুমাত্র ইতিহাস হিসেবেই দেখে। আজকাল বাংলাদেশেও অনেককে দেখা যাচ্ছে বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থগুলোকে নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করতে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা অবশ্য সুবিধাজনক হাদীসগুলো গ্রহণ করলেও অমানবিক, বর্বর, হাস্যকর, অবৈজ্ঞানিক হাদীসগুলোর বেলায় কুরানিস্টদের মত আচরন শুরু করেন। এটা নিঃসন্দেহে ভন্ডামী। এছাড়াও রাসূলের জীবনে তার নির্দেশে ঘটানো গণহত্যা, গুপ্তহত্যা, গণিমতের মাল, বিভিন্ন বর্বর আইন প্রয়োগ, শিশুবিবাহ, দাসী সম্পর্কিত বিষয়াদি এড়ানোর জন্যও অনেকে অনেক  সময় সহীহ হাদীস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু মনে রাখা উচিত সুন্নাহ অস্বীকারকারী ধর্মত্যাগী/ মুরতাদ/ কাফেরে পরিণত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

হাদিস না মানার কারণ

হাদীস না মানার কারণ হিসেবে আহলে কোরানরা যেসব আয়াত উল্লেখ করে থাকেনঃ

এগুলো আল্লাহর আয়াত, আমি তা যথাযথভাবেই তোমার কাছে তিলাওয়াত করছি। অতএব তারা আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর আর কোন্ কথায় বিশ্বাস করবে?

কোরআন 45:6 

তারা কি দৃষ্টিপাত করেনি আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্বে এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি? আর (এর প্রতি যে) হয়তো তাদের নির্দিষ্ট সময় নিকটে এসে গিয়েছে? সুতরাং তারা এরপর আর কোন্ কথার প্রতি ঈমান আনবে? 

কোরআন 7:185 

আর যমীনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণী এবং দু’ডানা দিয়ে উড়ে এমন প্রতিটি পাখি, তোমাদের মত এক একটি উম্মত। আমি কিতাবে কোন ত্রুটি করিনি। অতঃপর তাদেরকে তাদের রবের কাছে সমবেত করা হবে।

কোরআন 6:38 

আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারা বোবা ও বধির, অন্ধকারে রয়েছে। আল্লাহ যাকে চান, তাকে পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান তাকে সরল পথে অটল রাখেন।

কোরআন 6:39 

আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বিচারক হিসেবে তালাশ করব? অথচ তিনিই তোমাদের নিকট বিস্তারিত কিতাব নাযিল করেছেন। আর যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছিলাম তারা জানত যে, তা তোমার রবের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে নাযিলকৃত। সুতরাং তুমি কখনো সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

কোরআন 6:114

আর তোমার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার দিক থেকে পরিপূর্ণ হয়েছে। তাঁর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তনকারী নেই। আর তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।


কোরআন 6:115

 এটি কিতাব, যা তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে। সুতরাং তার সম্পর্কে তোমার মনে যেন কোন সংকীর্ণতা না থাকে। যাতে তুমি তার মাধ্যমে সতর্ক করতে পার এবং তা মুমিনদের জন্য উপদেশ।

কোরআন 7:2

তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তা অনুসরণ কর এবং তাকে ছাড়া অন্য অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা সামান্যই উপদেশ গ্রহণ কর।

কোরআন 7:3

তোমাদের কাছে কি কোন কিতাব আছে যাতে তোমরা পাঠ করছ?

কোরআন 68:37 

সুতরাং কুরআনের পরিবর্তে আর কোন্ বাণীর প্রতি তারা ঈমান আনবে?

কোরআন 77:50 

যেহেতু এই কিতাব বিস্তারিতভাবেই নাজিল হয়েছে এবং এই কিতাবে কোন ত্রুটি নেই বলেছেন আল্লাহ, সেহেতু কুরানিস্টরা তাদের দাবী অনুযায়ী কেবলমাত্র এই কিতাবের উপরই ভরসা করতে পারে, অন্য কারো কথায় নয়।

মুহাম্মদ কি নিজের আদর্শ প্রচার করতেন?

খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্নটি চলে আসে এই যে, আল্লাহর কালাম ব্যতীত নিজের আদর্শ প্রচারের অনুমতি কি ছিল মুহম্মদের? আহলে কোরানদের মতে নবীর দায়িত্ব ছিল কেবলই আল্লাহর বাণী প্রচার। নিজের জীবন যাপন, কাজ-কর্ম অন্য মুসলমানদের ভেতর প্রচার করা নয়। আল্লাহর বিধান প্রচার ব্যতীত তার আর কোন দায়িত্ব ছিল বলে তারা মনে করেনা। এ বিষয়ে তারা কোরানের যেসব আয়াত পেশ করেঃ

আর তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর রাসূলের আর সাবধান হও। তারপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে জেনে রাখ যে, আমার রাসূলের দায়িত্ব শুধু সুস্পষ্ট প্রচার।

কোরআন 5:92

আর যারা শিরক করেছে, তারা বলল, যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমরা তাকে ছাড়া কোন কিছুর ইবাদাত করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষরাও না। আর তার বিপরীতে তো আমরা কোন কিছু হারাম করতাম না। এমনিই করেছে, যারা তাদের পূর্বে ছিল। সুতরাং স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া ছাড়া রাসূলদের কি কোন কর্তব্য আছে?

কোরআন 16:35

সুতরাং যদি তারা পৃষ্ঠ-প্রদর্শন করে, তবে তোমার দায়িত্ব তো শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।

কোরআন 16:82

বল, ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর।’ তারপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে সে শুধু তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য দায়ী এবং তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তার আনুগত্য কর তবে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে। আর রাসূলের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।

কোরআন 24:54

 আর তোমরা যদি মিথ্যারোপ কর, তবে তোমাদের পূর্বে অনেক জাতি মিথ্যারোপ করেছিল। আর রাসূলের উপর দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টভাবে পৌঁছানো।

কোরআন 29:18

আর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে আমি তো তোমাকে তাদের রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি। বাণী পৌঁছে দেয়াই তোমার দায়িত্ব। আর আমি যখন মানুষকে আমার রহমত আস্বাদন করাই তখন সে খুশি হয়। আর যখন তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের উপর কোন বিপদ আসে তখন মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ হয়।

কোরআন 42:48

তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর। কিন্তু তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমার রাসূলের তো একমাত্র দায়িত্ব হচ্ছে স্পষ্টভাবে বাণী পৌঁছে দেয়া।

কোরআন 64:12

তাদের মতে, যেহেতু আল্লাহর কালাম ব্যতীত অন্য কিছু প্রচারের দায়িত্ব নবীর ছিলনা সেই যুক্তিতে তারা নবীর সুন্নাহ পালনকে অবশ্যপালনীয় মনে করেনা।

কোরানিস্টদের অন্যতম শক্ত যুক্তি হচ্ছে যেসমস্ত আইন আল্লাহ কর্তৃক অনুমোদিত নয় সেগুলো পালন করা শিরক। এ বিষয়ে কুরানিস্ট কর্তৃক দেয়া কোরানের রেফারেন্সসমূহঃ

তাদের জন্য কি এমন কিছু শরীক আছে, যারা তাদের জন্য দীনের বিধান দিয়েছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? আর ফয়সালার ঘোষণা না থাকলে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েই যেত। আর নিশ্চয় যালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

কোরআন 42:21

যেহেতু সুন্নাহর ব্যাপারে আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশ নেই। তাই, তাদের মতে সুন্নাহ পালন আল্লাহর সাথে শিরকের সমান। আর শিরকের শাস্তির ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেনঃ

 আর যেদিন আমি তাদের সকলকে সমবেত করব তারপর যারা শির্‌ক করেছে তাদেরকে বলব, ‘তোমাদের শরীকরা কোথায়, যাদেরকে তোমরা (শরীক) মনে করতে?’

কোরআন 6:22

আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বিচারক হিসেবে তালাশ করব? অথচ তিনিই তোমাদের নিকট বিস্তারিত কিতাব নাযিল করেছেন। আর যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছিলাম তারা জানত যে, তা তোমার রবের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে নাযিলকৃত। সুতরাং তুমি কখনো সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

কোরআন 6:114

রাসুলের আনুগত্য বিষয়ে ব্যাখ্যা

রাসূলের আনুগত্য পালন করা বিষয়ে আয়াতসমূহ এখানে দেখে নেয়া জরুরি। সেই সুরাগুলো হচ্ছেঃ

তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর। কিন্তু তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমার রাসূলের তো একমাত্র দায়িত্ব হচ্ছে স্পষ্টভাবে বাণী পৌঁছে দেয়া।

কোরআন 64:12

যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হল, তবে আমি তোমাকে তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক করে প্রেরণ করিনি।

কোরআন 4:80

যদি শুধু আল্লাহর নির্দেশ মানাই যথেষ্ট হয়, তাহলে কেন আল্লাহ রাসূলের আনুগত্য করতে বললেন?

তাদের ভাষ্যমতে কেবল যখন আল্লাহ নবীকে নির্দেশ দিয়েছেন তার(রাসূলের) প্রতি আনুগত্য প্রকাশের কথা প্রচার করতে কেবল তখনই তিনি এই নির্দেশ পালন করেছেন। কোরানে ৩৩২ টা আয়াত রয়েছে যেখানে আল্লাহ তার নবীকে ‘বলতে’ বলছেন।

তাদের আরেকটি অন্যতম প্রধান যুক্তি কোরানে কোথাও মোহাম্মদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বলা হয়নি। বলা হয়েছে আল্লাহর রাসূলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে। অর্থাৎ, আসল উদ্দেশ্য বার্তাবাহকের বার্তা সবার মাঝে পৌছে দেয়া। মুহম্মদের জীবনবিধানের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।

নবী মোহাম্মদ কি নির্ভুল ছিলেন?

নিম্নোক্ত আয়াতটিতেই বিষয়টি পরিষ্কার যে তিনিও ভুল ভ্রান্তির উর্ধ্বে ছিলেননা। তাহলে তার বাণীকে অমোঘ সত্য বলে ধরে নেয়া শিরকের সমান।

বল, ‘যদি আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যাই তবে আমার অকল্যাণেই আমি পথভ্রষ্ট হব। আর যদি আমি হিদায়াত প্রাপ্ত হই তবে তা এজন্য যে, আমার রব আমার প্রতি ওহী প্রেরণ করেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী’।

কোরআন 34:50

কোরানে ৬ টি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে নবী ভুল করেছেন, এবং আল্লাহ আয়াত নাজিল করে তা শুধরে দিয়েছেন। আয়াত গুলো হল  8:67-68, 9:43, 9:113-114, 33:37, 66:1 এবং 80:1-11.

তাহলে হাদিসগুলো কেন টিকে আছে?

কোরানিস্টদের মতে এটি আসলে আল্লাহর তরফ থেকে বান্দাদের জন্য পরীক্ষা। কে আল্লাহর নির্দেশ মানছে আর কে শিরকের দিকে ধাবিত হচ্ছে এটাই হল উদ্দেশ্য।

 আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর শত্রু করেছি মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদেরকে, তারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে একে অপরকে চাকচিক্যপূর্ণ কথার কুমন্ত্রণা দেয় এবং তোমার রব যদি চাইতেন, তবে তারা তা করত না। সুতরাং তুমি তাদেরকে ও তারা যে মিথ্যা রটায়, তা ত্যাগ কর।

কোরআন 6:112

শেষ বিচারের দিন কিসের ভিত্তিতে বিচার হবে?

সেদিন স্ব স্ব জাতির উপর নাজিল হওয়া কিতাবের ভিত্তিতেই বিচার করা হবে। নবীজির সুন্নাহ অনুসারে নয়। এই যুক্তির পেছনে কয়েকটি আয়াত তারা প্রমান হিসেবে উপস্থাপন করে।

আর তুমি প্রতিটি জাতিকে দেখবে ভয়ে নতজানু; প্রত্যেক জাতিকে স্বীয় আমলনামার দিকে আহবান করা হবে। (এবং বলা হবে) ‘তোমরা যে আমল করতে আজ তার প্রতিদান দেয়া হবে’।

কোরআন 45:28

 আর আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যথাযথভাবে, এর পূর্বের কিতাবের সত্যায়নকারী ও এর উপর তদারককারীরূপে। সুতরাং আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তুমি তার মাধ্যমে ফয়সালা কর এবং তোমার নিকট যে সত্য এসেছে, তা ত্যাগ করে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি শরীআত ও স্পষ্ট পন্থা এবং আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে তোমাদেরকে এক উম্মত বানাতেন। কিন্তু তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান। সুতরাং তোমরা ভাল কাজে প্রতিযোগিতা কর। আল্লাহরই দিকে তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তনস্থল। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন, যা নিয়ে তোমরা মতবিরোধ করতে।

কোরআন 5:48

এরা যা বলে আমি তা সবচেয়ে ভাল জানি। আর তুমি তাদের উপর কোন জোর- জবরদস্তিকারী নও। সুতরাং যে আমার ধমককে ভয় করে তাকে কুরআনের সাহায্যে উপদেশ দাও।

কোরআন 50:45

নিশ্চয় এ কুরআন তোমার জন্য এবং তোমার কওমের জন্য উপদেশ। আর অচিরেই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে।

কোরআন 43:44

সুতরাং, যেহেতু শেষ বিচারের দিন সুন্নাহ পালনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে কোরানে কিছু বলা হয়নি তাই আহলে কুরানদের মতে সুন্নাহ পালন নিষ্প্রয়োজন।

তাদের মতে কোরানই পরিপূর্ণ জীবনবিধান। এটা সুস্পষ্ট, সহজ-সরল। অতিরিক্ত কোন কিছুর প্রয়োজন নেই। এবং যেহেতু এটা নিখুতভাবে বর্ণনা করা তাই এর কোন ব্যাখ্যারও প্রয়োজন নাই।

আর তোমার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার দিক থেকে পরিপূর্ণ হয়েছে। তাঁর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তনকারী নেই। আর তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

কোরআন 6:115

আলিফ-লাম-রা। এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

কোরআন 12:1

অতঃপর আমি তো তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে

কোরআন 44:58

আলিফ-লাম-রা। এটি কিতাব যার আয়াতসমূহ সুস্থিত করা হয়েছে, অতঃপর বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে প্রজ্ঞাময়, সবিশেষ অবহিত সত্ত্বার পক্ষ থেকে।

কোরআন 11:1

আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বিচারক হিসেবে তালাশ করব? অথচ তিনিই তোমাদের নিকট বিস্তারিত কিতাব নাযিল করেছেন। আর যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছিলাম তারা জানত যে, তা তোমার রবের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে নাযিলকৃত। সুতরাং তুমি কখনো সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

কোরআন 6:114

আহলে কোরআনের যুক্তি খণ্ডন

আহলে কুরানিস্টদের দেয়া যুক্তিগুলো স্ববিরোধী। কেন স্ববিরোধী তা এক এক করে উল্লেখ করছি।

কোনটি কোরআন আর কোনটি হাদিস তা জানার উপায় কী?

হাদিস মানে হচ্ছে, নবী মুহাম্মদের জীবন যাপন, তার নির্দেশ, পরামর্শ, বক্তব্য, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতি, মৌন সম্মতি এবং এই ধরণের সকল কিছুর সম্মিলন। হযরত মুহাম্মদের ওপর ওহীর মাধ্যমে কোরআন নাজিল হয়েছে ২৩ বছর ধরে এবং এলোমেলোভাবে। মুহাম্মদ যদি নিজে না বলে দেন যে, এই আয়াতটি অমুক সুরার সাথে যুক্ত হবে, বা এই মাত্র এই আয়াতটি ওহীর মাধ্যমে নাজিল হলো, এগুলো না বললে কোনটি মুহাম্মদের নির্দেশ আর কোনটি আল্লাহর ওহী, তা আলাদাই করা যাবে না৷ মুহাম্মদ যে বলেছেন, এটি কোরানের সুরা, এই কথাটুকুই হাদিস৷ হাদিস অস্বীকার করলে কোরান ভয়ঙ্কর এক সংকটে পরে, কারণ কোরানের কোন আয়াত মুহাম্মদের নিজস্ব বক্তব্য কিনা তা বোঝা যাবে না৷ শুধুমাত্র নবী মুহাম্মদই বলতে পারে, কোনটি আল্লাহর ওহী আর কোনটি নবীর নিজের উপদেশ বা পরামর্শ। সেটি নবী মুহাম্মদ না বলে দিলে, অর্থাৎ হাদিস না থাকলে কোরআনের আর কোন মূল্য থাকে না। যে কেউ কোরআনের যেকোন আয়াত নিয়ে দাবী করতে পারে, এটি আসলে নবী মুহাম্মদের নিজস্ব মতামত। ঐটি যে জিব্রাইলের মাধ্যমে আসা ওহী, তা নবী মুহাম্মদ নিজ মুখে না বললে বোঝার উপায় নেই।

হাদিস ছাড়া কোরআনের ব্যাখ্যা কীভাবে সম্ভব?

হাদিস হচ্ছে কোরআনের ব্যাখ্যা। নবী মুহাম্মদ কোরআনের আয়াত দ্বারা কী বুঝেছেন, সাহাবীদের কীভাবে কোরআনের আয়াত ব্যাখ্যা করেছেন, সেইসব না জানা থাকলে এক একজন কোরআনের আয়াতের এক এক অর্থ বের করতে পারে। শুধুমাত্র নবী মুহাম্মদ এবং তার সাহাবীগণই সঠিকভাবে বলতে পারবেন, কোন প্রেক্ষাপটে কী কারণে একটি আয়াত নাজিল হয়েছিল। সেগুলো শুধুমাত্র হাদিসেই পাওয়া সম্ভব। এছাড়া কোরআনের আয়াতের তেমন কোন অর্থই আর থাকে না।

মৃত মাছ কেন হালাল?

কোরআনে বলা হয়েছে,

মরা প্রাণী, রক্ত, শুকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা — শুধুমাত্র এগুলোই তিনি তোমাদের জন্য হারাম করেছেন। কিন্তু কেউ যদি বাধ্য হয় এগুলো খেতে এবং তার ভেতরে খাওয়ার কোনো আকাঙ্খা না থাকে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত না খায়, তাহলে তার কোনো পাপ হবে না। আল্লাহ অবশ্যই অনেক ক্ষমা করেন, তিনি নিরন্তর দয়ালু।

[আল-বাক্বারাহ ১৭৩]

তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়, যা কন্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যা, যা শিং এর আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করেছে, কিন্তু যাকে তোমরা যবেহ করেছ।

কোরআন ৫ঃ৩

উপরের আয়াত দুটি থেকে স্পষ্ট, মরা প্রাণীকে খাওয়া আল্লাহ হারাম ঘোষনা করেছেন। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, মৃত মাছ খাওয়া কী হালাল নাকি হারাম। এই বিষয়ে কোরআনে বলা হচ্ছে,

তোমাদের জন্য সমুদ্র শিকার ও তা খাওয়া হালাল করা হয়েছে।

সূরা মাইদাহ (৫:৯৬)

লক্ষ্য করে দেখুন, এখানে শুধুমাত্র সমুদ্রে শিকার হালাল করা হয়েছে। নদীর মাছ বা মৃত মাছ খাওয়া কিন্তু হালাল করা হয় নি। তাহলে আহলে কোরআনের অনুসারীগণ কী মৃত মাছ খান না? মৃত মাছ বা গরু ছাগলের কলিজা খেতে হলে অবশ্যই হাদিসের শরণাপন্ন হতে হবে। শুধুমাত্র হাদিসেই বিষয়টি বিশ্লেষণ করা আছে।

গ্রন্থের নামঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নম্বরঃ [3314]
অধ্যায়ঃ ২৩/ আহার ও তার শিষ্টাচার
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ২৩/৩১. কলিজা ও পীলহা।
১/৩৩১৪। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের জন্য দু’ প্রকারের মৃতজীব ও দু’ ধরনের রক্ত হালাল করা হয়েছে। মৃত জীব দু’টি হলো মাছ ও টিড্ডি এবং দু’ প্রকারের রক্ত হলো কলিজা ও প্লীহা।
আহমাদ ৫৬, ৯০, সহীহাহ ১১১৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুর রহমান বিন যায়দ বিন আসলাম সম্পর্কে আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী বলেন, তার দুর্বলতার ব্যাপারে সকলে একমত। আবুল কাসিম বিন বিশকাওয়াল বলেন, তার ভাই তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী ও ইমাম তিরমিযি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮২০, ১৭/১১৪ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবদুর রহমান বিন যায়দ বিন আসলাম এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৯ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ১০ টি খুবই দুর্বল, ৯ টি দুর্বল, ৮ টি হাসান, ২ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ আহমাদ ৫৬৯০, দারাকুতনী ৪৬৮৭, শারহুস সুন্নাহ ২৮০৩।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

স্ববিরোধীতা এবং বৈপরীত্য

আমরা সকলেই জানি কোরানে অনেক স্ববিরোধী আয়াত রয়েছে, বৈপরীত্য রয়েছে। কিন্তু এটাই সত্য কোরানের আয়াতসমূহ সঠিকভাবে বুঝতে গেলে হাদীসের বিকল্প নাই। আয়াতগুলো নাজিল হয়েছিল মুহম্মদের উপর, তাই তিনিই তার সঠিক ব্যাখ্যা দিবেন এটাই স্বাভাবিক।

যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হল, তবে আমি তোমাকে তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক করে প্রেরণ করিনি।

কোরআন 4:80

রাসূলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে গেলে অবশ্যই তার নির্দেশ পালন করতে হবে। এবং মহানবী হলেন সকল মুসলমানের জন্য আদর্শ। তাই তার জীবনযাপন অনুসরন না করলে আদর্শ মুসলমান হওয়া অসম্ভব। কেউ যদি কোন সহীহ হাদীস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তাহলে সে আসলে মহানবীকে নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করে অর্থাৎ এক কথায় ইসলামকেই অস্বীকার করে ফেলে।

কুরানিস্টরা মনে করে কোরান পুরোপুরি আল্লাহর নির্দেশ উপস্থাপন করে। কিন্তু কোরানে বহু সংখ্যক পরস্পরবিরোধী আয়াত রয়েছে। উদাহরন হিসেবে বলা যায়ঃ

অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন তোমরা মুশরিকদেরকে যেখানেই পাও হত্যা কর এবং তাদেরকে পাকড়াও কর, তাদেরকে অবরোধ কর এবং তাদের জন্য প্রতিটি ঘাঁটিতে বসে থাক। তবে যদি তারা তাওবা করে এবং সালাত কায়েম করে, আর যাকাত দেয়, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

কোরআন 9:5

আবার রয়েছে,

‘তোমাদের জন্য তোমাদের দীন আর আমার জন্য আমার দীন।’

কোরআন 109:6

আবার আরেকটি আয়াতে আছে,

দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় হিদায়াত স্পষ্ট হয়েছে ভ্রষ্টতা থেকে। অতএব, যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, অবশ্যই সে মজবুত রশি আঁকড়ে ধরে, যা ছিন্ন হবার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

কোরআন 2:156

এসব আয়াত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা পেতে মুহম্মদের মক্কা ও মদীনা জীবন সম্পর্কে জানতে হবে। একজন শুধুমাত্র কোরান নির্ভর মুসলিমের পক্ষে তা অসম্ভব।

এধরনের প্রচুর পরস্পরবিরোধী আয়াত রয়েছে। তাহলে একজন আহলে কোরান কোনটা পালন করবে? এছাড়াও কোরানের অনেক আয়াত রহিত, রদ বা বাতিল করা হয়েছে। এ সম্পর্কে কোরানে আছে,

“আমি কোনো আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?”

কোরআন 2:106

“এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলে আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না।“

কোরআন 16:101

কোন আয়াত রহিত হয়ে নতুন কোন আয়াত নাজিল হয়েছে, নাজিলের ক্রমানুসারে সূরাগুলোর ক্রম জানতেও হাদীস, তাফসীর, সিরাত ও ইতিহাসগ্রন্থগুলোর সাহায্য লাগবেই।

কেউ যদি হাদীসগ্রন্থগুলো (যেমন সহীহ মুসলিম, সহীহ বুখারী), তাফসীর (ইবনে কাসির, জালালাইন), ইতিহাসগ্রন্থ (আল তাবারি, ইবন ইসহাক) বাদ দেয় তাহলে পৃথিবীর ইতিহাস থেকেই কোরান নামক গ্রন্থটা মুছে যাবে। এমনকি মুহম্মদের অস্তিত্ব নিয়েও সন্দেহ উঠবে। অনেক ধরনের প্রশ্ন চলে আসবে যার কোন উত্তর পাওয়া যাবেনা। যেমন ‘ঈসা কে? আবু লাহাব কে?’ এধরনের অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেনা শুধু কুরান নির্ভর মুসলমানেরা। এছাড়াও তারা মুহাম্মদকে বর্ণণা করেছে এমন কিছু আয়াতকেও অস্বীকার করে থাকে।

ইসলাম ধর্ম প্রচার লাভ করার শুরু থেকে এই পর্যন্ত যাদের হাত ধরে প্রসার লাভ করেছে ( সাহাবা, তাবিউন, তাবি আল তাবিউন) তারা কেউই শুধুমাত্র কোরানের উপর ভরসা করে ইসলাম প্রচার করেননি।

(তাদের প্রেরণ করেছি) স্পষ্ট প্রমাণাদি ও কিতাবসমূহ এবং তোমার প্রতি নাযিল করেছি কুরআন, যাতে তুমি মানুষের জন্য স্পষ্ট করে দিতে পার, যা তাদের প্রতি নাযিল হয়েছে। আর যাতে তারা চিন্তা করে।

কোরআন: 16:44

যেহেতু আহলে কুরানদের কোন তাফসীর গ্রন্থের প্রয়োজন পড়েনা সেহেতু তাদেরকে তাফসীর থেকে রেফারেন্স দেয়াটা অযৌক্তিক। কিন্তু উপরোক্ত আয়াত থেকে এটা স্পষ্ট যে কোরানের আয়াতসমূহ স্পষ্ট করে দেয়ার দায়িত্বও রাসূলের উপরই ছিল। তাই তার কথাকে অস্বীকার করার অর্থ কোরানকেই অস্বীকার করা।

 আল্লাহ ইয়াহুদীদের নিকট থেকে তাঁর রাসূলকে ফায় হিসেবে যা দিয়েছেন তোমরা তার জন্য কোন ঘোড়া বা উটে আরোহণ করে অভিযান পরিচালনা করনি। বরং আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে যাদের ওপর ইচ্ছা কতৃত্ব প্রদান করেন। আল্লাহ সকল কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।

কোরআন 59:6

এই আয়াতেই স্পষ্ট হুকুম রয়েছে রাসূল যেটা আদেশ করেছেন সেটা করা, আর যেটা নিষেধ করেছেন সেটি না করা একজন মুমিন মুসলমানের দায়িত্ব।

ইসলামের ৫ স্তম্ভ

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান (كتاب الإيمان)
হাদিস নম্বরঃ ৭
২/ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর বাণীঃ ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি
উবায়দুল্লাহ্ ইবনু মূসা (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি।
১। আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ্ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ আল্লাহ্‌র রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য দান।
২। সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করা
৩। যাকাত দেওয়া
৪। হাজ্জ (হজ্জ) করা এবং
৫। রামাদান এর সিয়াম পালন করা।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

১। শাহদাহঃ শাহাদাহ্ একটি মুসলিম বিশ্বাস। আরবিতে এর অর্থ “সাক্ষ্য দেয়া”।

ইসলামে শাহাদাহ্‌ (বা শাহাদাত) বলতে আল্লাহ্‌র একত্ব ও মুহাম্মদ(সঃ) যে তার শেষ নবী তার শপথ নেয়াকে বোঝায়। শাহাদাহ্‌ আবৃত্তি করাকে সুন্নী মুসলমানেরা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি মনে করেন।

আরবিতে:

أشهد أن لا إله إلاَّ لله ، وأشهد أن محمد رسول الله

ইংরেজিতে অনুবাদ: I testify that there is none worthy of worship except Allah, and I testify that Muhammad is the messenger of Allah.

বাংলায় অনুবাদ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া উপাসনার যোগ্য কিছু নেই, এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর বার্তাবাহক|

ইসলামের প্রথম ভিত্তি এই শাহাদাহ এর উল্লেখ কোরানে কোথাও নেই। যেহেতু কোরানে এর উল্লেখ নেই তাই কুরানিস্টদের কাছে এর গুরুত্ব একটি প্রবাদবাক্যের মতই। কিন্তু সুন্নী মুসলমানদের ক্ষেত্রে এই বাক্যটি অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে।

২। সালাতঃ হাদীসে ৫ ওয়াক্ত নামাজের উল্লেখ আছে। সময়সূচী নির্দিষ্ট রয়েছে। কিন্তু কোরানে ওয়াক্ত, সময় কোনটাই নির্দিষ্ট নেই। সাথে নামাজ পড়ার পদ্ধতি সম্পর্কেও বর্ণনা নেই। কুরানিষ্টদের অনেকে এই নিয়ে দ্বিমত আসলে কয় ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে। বিভিন্ন আহলে কুরান আলেম ০-৫ ওয়াক্তের কথা উল্লেখ করে ফতোয়া প্রদান করেছেন। তাই তারা এক অর্থে ইসলামের দ্বিতীয় ভিত্তিকেও পুরোপুরি স্বীকার করেনা।

৩। যাকাতঃ কোরানে যাকাতের সুস্পষ্ট বিধান উল্লেখ নেই।

৪। হজ্জঃ সামর্থ্য থাকলে হজ্জ ফরজ। কিন্তু হজ্জ এর পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে গেলে হাদীসের আশ্রয় নেয়াই লাগবে।

৫। রোজাঃ ইসলামের এই একটি স্তম্ভই কোরানে মোটামুটিভাবে বর্ণনা করা আছে। যদিও এর বর্ণনা হাদীস বাদেই কোরানে পাওয়া যায় কিন্তু ইসহাকের বর্ণনার আগে কেউ রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে জানতোনা। পরবর্তী বুখারী, মুসলিম এবং তাবারী একি পদ্ধতি অনুকরণ করেছেন।

উপসংহার

হাদীস এবং সুন্নাহ ব্যতীত ইসলামকে কল্পনাই করা যায়না। শরীয়তের অসংখ্য বিষয় সরাসরি হাদিসের ওপর নির্ভরশীল। সহীহ হাদীস অস্বীকার করা আল্লাহর কালামকে অস্বীকার করারই মত। হাদীস অস্বীকার করলে ইসলামের পাচ ভিত্তির চারটিকেই অস্বীকার করা হয়ে যাবে। তাফসীর ও ইতিহাস গ্রন্থ ব্যতীত কোরান শুধুমাত্র একটি প্রাচীন আরব সাহিত্য ছাড়া আর কিছুই নয়। সহীহ হাদীস সেটা যতই অবৈজ্ঞানিক, অমানবিক বা হাস্যকর হোক না কেন একজন মুসলমানের অবশ্যই হাদীস নিয়ে কোনরুপ সন্দেহ থাকা যাবেনা। সুন্নাহ অস্বীকার করা মানে মহানবীকেই অস্বীকার করা। অর্থাৎ, কাফের মুরতাদে পরিনত হওয়া।

Facebook Comments

Leave a Reply

%d bloggers like this: