হিন্দু ধর্ম ও গোমাংস-রহস্যঃ বেদাঙ্গ

পূর্ববর্তী পর্ব- হিন্দু ধর্ম ও গোমাংস-রহস্যঃ বেদ

ইতোপূর্বেই আমরা দেখেছি বেদের সংহিতা, ব্রাহ্মণ ও উপনিষদ ভাগে গরু বলির ও গোমাংস খাওয়ার কথা বলা আছে। এখন বেদাঙ্গে খুঁজে দেখবার পালা। বেদ পাঠের সহায়ক হিসাবে যেসব রচনা সৃষ্টি হয়েছিল তাদেরই সংক্ষেপে বেদাঙ্গ বলা যায়। বেদাঙ্গের মধ্যে পড়ছে শিক্ষা, ব্যাকরণ, ছন্দ,নিরুক্ত, জ্যোতিষ ও কল্প। আমরা মূলত বেদাঙ্গের অন্তর্গত কল্পসূত্রের উপর দৃষ্টিপাত করবো। শ্রৌত সূত্র, শুল্ব সূত্র, গৃহ্য সূত্র ও ধর্মসূত্র নিয়েই কল্পসূত্র। শ্রৌত সূত্রের বিষয়বস্তু হল অগ্নিহোত্র, দর্শপূর্ণমাস ,পিতৃপিণ্ডযাগ,আগ্রয়নেষ্টি, চাতুর্মাস্য, রূঢ় পশুবন্ধ, সৌত্রামণী, সোমযাগ, গবায়মান, বাজপেয়, রাজসূয়, অশ্বমেধ, পুরুষমেধ, একাহযাগ, অহীনযাগ নামক যাগযজ্ঞের বিধি নির্দেশ। গৃহ্যসূত্রে গার্হস্থ্যজীবনের পালনীয় বিভিন্ন সংস্কার বর্ণিত হয়েছে। গৃহ্যসূত্রে জন্মের পূর্বে গর্ভাধান থেকে মৃত্যুর পর সৎকার পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্কারমূলক অনুষ্ঠান, পঞ্চমহাযজ্ঞ, পাকযজ্ঞ,বাস্তুশোধন, গৃহনির্মাণ, পশুপালন, কৃষি, বালক ও পত্নীর রোদ নিবারণের জন্য অভিচারিক ক্রিয়া প্রভৃতি আলোচিত হয়েছে। [1] ধর্ম সূত্রে বিভিন্ন রীতি-নীতি, আইন-কানুন আলোচিত হয়েছে।

গৃহ্য সূত্রে

আশ্বলায়ন গৃহ সূত্র

আশ্বলায়ন গৃহ্য সূত্র ১/৮/৯ এ বলদের চামড়া বিছানোর কথা বলা আছে-

বিবাহাগ্নিম্ উপসমাধায় পশ্চাদ্ অস্যানডু হং চর্মাস্তীর্য প্রাগগ্রীবম্ উত্তরলোম তস্মিন্ন্ উপবিষ্টায়াং সম্- অন্বারব্ধায়াম্। আ নঃ প্রজাং জনয়তু প্রজাপতির ইতি চতসৃভি প্রত্যৃচং হুত্বা সমঞ্জন্তু বিশ্বেদেদ্ভা ইতি দধ্নঃ প্রাশ্য প্রতিপ্রযচ্ছেদ্ আজ্যশেষেণ বানক্তি হৃদয়ে।। ১/৮/৯ 

অনুবাদ- বৈবাহিক অগ্নিকে স্থাপন করে তার পশ্চিমদিকে একটি বলদচর্ম এমনভাবে বিছিয়ে দেবেন, যাতে তার গ্রীবাটি পূর্বদিকে এবং চর্মের রোমপূর্ণ দিকটি উপরের দিকে থাকে। সেখানে বধূ উপবেশন করলে এবং তাকে স্পর্শ করা হলে, বর ‘আ নঃ প্রজাং জনয়তু প্রজাপতিঃ’ (ঋ ১০/৮৫/৪৩) ইত্যাদি চারটি ঋকের প্রতি মন্ত্র দ্বারা আহুতি দিয়ে ‘সমঞ্জন্তু বিশ্বে দেবাঃ’ (ঋ ১০/৮৫/৪৭) এই মন্ত্র বলে নিজে দধির একাংশ ভক্ষণ করে বধূকে অবশিষ্ট অংশ দেবেন অথবা অবশিষ্ট আজ্য দিয়ে উভয়ের হৃদয়ে লেপন করবেন। [ অনুবাদিকা- ডঃ দীধিতি বিশ্বাস]

 আশ্বলায়ন গৃহ্য সূত্র ১/১৪/৩ এ মহিষের চামড়া বিছানোর কথা পাওয়া যায় –

অথাগ্নিম্ উপ-সম্-অধ্যায় পশ্চাদ্ অস্যানডু হং চর্মাস্তীর্য

প্রাগগ্রীবম্ উত্তরলোম তস্মিন্ন্ উপবিষ্টায়াং সম্-অন্বারদ্ধায়াং

ধাতা দদাতু দাশুষ ইতি দ্বাভ্যাং রাকামহম্ ইতি দ্বাভ্যাং

নেজমেষ প্রজাপতে ন ত্বদেতান্যন্য ইতি চ। ১/১৪/৩

অনুবাদ- অতঃপর অগ্নিতে সমিৎ স্থাপন করে এই অগ্নির পশ্চিমদিকে এমনভাবে একটি মহিষের চর্ম বিছিয়ে দেবেন, যার গ্রীবাটি উত্তরদিকে এবং রোমপূর্ণ অংশটি উপর দিকে থাকে। পত্নী সেখানে স্পৃষ্ট হয়ে উপবেশন করে থাকলে তিন ‘ধাতা দদাতু’ (ধাতা হব্যদাতাকে দান করুন) ইত্যাদি দুটি মন্ত্রে ‘রাকামহং-‘ (ঋ ২/৩২/৪)  ইত্যাদি দুটি মন্ত্রে, ‘নেজমেষ’ এবং ‘প্রজাপতে ন ত্বদেতান্যন্য-‘ ( ঋ ১০/১২১/১০)  এই মন্ত্রে আজ্য আহুতি দেবেন। আজ্যভাগ পর্যন্ত অঙ্গের অনুষ্ঠান শেষ করে তারপরে প্রত্যেক মন্ত্রে একটি করে আজ্যহোম করবেন। [ অনুবাদিকা- ডঃ দীধিতি বিশ্বাস]

মধুপর্ক

মধুপর্ক একটি বৈদিক প্রথা ছিল। আশ্বলায়ন গৃহ্য সূত্রে মধুপর্কের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।

ঋত্বিকদের মধুপর্ক দ্বারা আপ্যায়ণ করা হত-

ঋত্বিজো বৃত্বা মধুপর্কম্ আহরেত্।। ১/২৪/১

অনুবাদ- ঋত্বিকদের বরণ করে তাদের জন্য মধুপর্ক আনবেন।

স্নাতককে মধুপর্ক দ্বারা আপ্যায়ণ করা হত-

স্নাতকায়োপস্থিতায়।। ১/২৪/২

অনুবাদ- সমাবর্তনের পর গৃহে উপস্থিত স্নাতককে ( মধুপর্ক দেবেন)।

রাজাকে মধুপর্ক দ্বারা আপ্যায়ণ করা হত-

রাজ্ঞে চ।। ১/২৪/৩

অনুবাদ- এবং উপস্থিত রাজাকেও (মধুপর্ক দেবেন)।

শিক্ষক, শ্বশুর প্রভৃতিকেও মধুপর্ক দ্বারা আপ্যায়ণ করা হত-

আচার্যশ্বশুরপিতৃব্যমাতুলানাঞ্ চ।। ১/২৪/৪

অনুবাদ- আচার্য, শ্বশুর, পিতৃব্য এবং মাতুলদেরও (মধুপর্ক দান করতে হয়)।

মধুপর্কের উপাদানের বর্ণনা আশ্বলায়ন গৃহ্য সূত্র দিচ্ছে এভাবে-

দধনি মাধ্বানীয়।। ১/২৪/৫

অনুবাদ- দধিতে মধু ঢেলে ( মধুপর্ক প্রস্তুত করতে হয়)।

সর্পির্ বা মধ্বালাভে।। ১/২৪/৬

অনুবাদ- অথবা মধু না পাওয়া গেলে ঘি (দেবেন)।

এই মধুপর্কের সাথে গোমাংসের প্রয়োজন হত। আশ্বালয়ন গৃহ্য সূত্র ১/২৪/৭ এ বলা হয়েছে-

বিষ্টরঃ পাদ্যম্ অর্ঘ্যম আচমনীয়ং মধুপর্কো

গৌর্ ইত্যেতেষাং ত্রিস্ ত্রির্  একৈকং বেদয়ন্তে।। ১/২৪/৭

অনুবাদ- আসন, পা-ধোওয়ার জল, অর্ঘ্যের জল, আচমনের জল, মধুপর্ক, গাভী এইগুলির প্রতিটি বস্তু তিনবার করে নিবেদন করবেন।

মধুপর্ক খাওয়ার পর গোমাংস খাওয়া হত-

আচান্তোদকায় গাং বেদয়ন্তে।। ১/২৪/২৩

অনুবাদ- (আবার) আচমনের জল গ্রহণ করলে তাকে গাভীর কথা জানানো হবে।

মধুপর্কের জন্য গাভীকে হত্যা হত-

হতো মে পাপমা মে হত ইতি জপিত্বোং কুরুতেতি কারয়িষ্যন্।। ১/২৪/২৪

অনুবাদ- ‘হতো মে-‘ (আমার পাপ ধ্বংস হল, পাপ আমার ধ্বংস হল) এই মন্ত্র জপ করে, যদি গাভীকে হত্যা করাতে চান তাহলে বলবেন, ‘ ওঁ কুরুত’ (হ্যাঁ কর)।

কেউ চাইলে গাভীকে হত্যা না করে মুক্তও করে দিতে পারতো-

মাতা রুদ্রাণাং দুহিতা বসূনাম্ ইতি

জপিত্বোমুতসৃজতেত্যুতম্রক্ষ্যন্।। ১/২৪/২৫

অনুবাদ- ‘মাতা রুদ্রাণাং দুহিতা বসূনাম্-‘ ( ঋ ৮/১০১/১৫) এই মন্ত্র জপ করে গাভীটিকে ছেড়ে দিয়ে বলবেন- ‘ওম্ উৎসৃজত’ (হ্যাঁ, একে ছেড়ে দাও)।

তবে আশ্বলায়ন গৃহ্য সূত্রে স্পষ্টভাবেই বলে দেওয়া হয়েছে মাংস ছাড়া মধুপর্ক হবে না-

নামাংসো মধুপর্কো ভবতি।। ১/২৪/২৬

অনুবাদ- মধুপর্ক মাংস ছাড়া হবে না।

বিবৃতি- মধুপর্কেরই অঙ্গ হচ্ছে ব্রাহ্মণভোজন। এই ভোজন মাংসশূণ্য হলে চলবে না। মাংসের উল্লেখ করায় বোঝা যাচ্ছে- ভোজনও এখানে বিহিত হয়েছে। যদি গোবধ করে থাকেন, তাহলে সেই গাভীর মাংসই ভোজন করবেন। যদি গাভীটি পূর্ববর্তী সূত্র অনুযায়ী ছেড়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে অন্য প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করতে হবে।  

[ অনুবাদিকা- ডঃ দীধিতি বিশ্বাস]

শূলগব-

আশ্বলায়ন গৃহ্য সূত্রে শূলগব নামক এক অনুষ্ঠানের বর্ণনা রয়েছে। অমরকুমার চট্টোপাধ্যায় এর বর্ণনায় সংক্ষেপে লিখেছেন, “ শরৎ অথবা বসন্তে আর্দ্রানক্ষত্রে চন্দ্রের অবস্থানের সময়ে শূলগবের অনুষ্ঠান করতে হয়। কুষ্ঠরোগগ্রস্ত নয় ও লোহিত বর্ণের উপর শ্বেত বিন্দুযুক্ত নয় এমন অথবা কৃষ্ণবিন্দুচিহ্নিত অথবা ঈষৎ লোহিত কৃষ্ণবর্ণের বৃষকে উৎসর্গ করতে হয়। দাঁত উঠলেও প্রজননক্ষম হলে চাল ও যব দিয়ে মেশানো জলে সেই বৃষকে মস্তক থেকে পুচ্ছ পর্যন্ত অভিষিক্ত করা হয়। শূলগবের অনুষ্ঠান হয় অর্ধরাত্রের বা সূর্যোদয়ের পরে। যেখান থেকে গ্রামকে আর দেখা যায় না, যাগের পক্ষে উপযুক্ত এমন কোন স্থানে যূপে বৃষকে বন্ধন করে পশুযাগের নিয়মে বধ করা হয়। একটি পাত্রী বা পলাশপাতার সাহায্যে পশুর বপা রুদ্রশিবের উদ্দেশে আহুতি দেওয়া হয়। চারটি দিকে চারটি চারটি করে কুশ ও তৃণের মিলিত গুচ্ছে স্থালীপাকের চরু ও পশুমাংস আহুতি দেবেন। আহুতির পরে প্রত্যেক দিককে প্রণাম জানাতে হয়। অগ্নির উত্তর দিকে দর্ভসমূহে বা কুশগুচ্ছে পশুর রক্ত সর্পদের উদ্দেশ্যে ঢেলে দিতে হয়। কেউ কেউ বলেন, এই যাগের প্রসাদ গ্রহণ করতে নেই এবং ব্যবহৃত কোন দ্রব্য গ্রামে ফিরিয়ে আনতে নেই। ‘শন্তাতীয়’ সুক্ত ( ঋ ৭/৩৫) জপ করতে করতে গৃহে প্রবেশ করতে হয়। “ [2]

নিচে শূলগব সংক্রান্ত সূত্রগুলি উল্লেখ করা হল-

অথ শূলগবঃ। ৪/৯/১

অনুবাদ- এরপর শূলগব (বলা হচ্ছে)

বিবৃতি- শূল শব্দের অর্থ এখানে ( শূল আছে এই অর্থে অচ্ প্রত্যয় ) শূলী বা শূলধারী রুদ্র। তার উদ্দেশে গো-পশু দ্বারা অনুষ্ঠেয় যাগ ‘শূলগব’।

শরদি বসন্তে বার্দ্রয়া। ৪/৯/২

অনুবাদ- শরৎ বা বসন্তকালে আর্দ্রা নক্ষত্রে ( তা অনুষ্ঠিত হয়)

শ্রেষ্ঠং স্বস্য যূথস্য। ৪/৯/৩

অনুবাদ- নিজের যূথের শ্রেষ্ঠ বৃষটিকে (গ্রহণ করবেন)।

অকুষ্ঠিপৃষত্। ৪/৯/৪

অনুবাদ- ( বৃষটি) কুষ্ঠগ্রস্ত ও পৃষৎ-বর্ণ হবে না।

বিবৃতি- কুষ্ঠ রোগগ্রস্ত  বা বৃষের দেহের চর্ম লোহিতবর্ণের এবং মাঝে মাঝে শ্বেতবিন্দুযুক্ত যেন না হয়।

কল্মাষম্ ইত্যেকে।। ৪/৯/৫

অনুবাদ- এক দল বলেন কৃষ্ণবর্ণযুক্ত (বৃষকে গ্রহণ করবেন)।

কামং কৃষ্ণম্ আলোহবাংশ্ চেত্।। ৪/৯/৬

অনুবাদ- ইচ্ছা হলে কৃষ্ণবর্ণের বৃষ গ্রহণ করবেন, যদি তা ঈষৎ লোহিতবর্ণ হয়।

ব্রীহিতযবমতীভির্ অদ্ভির্ অভিষিচ্য। ৪/৯/৭

অনুবাদ- ( বৃষকে) চাল ও যব-মিশ্রিত জল দিয়ে অভিষিক্ত করবেন

শিরস্ত আ ভসত্তঃ ৪/৯/৮

অনুবাদ- মস্তক থেকে পুচ্ছ পর্যন্ত (অভিষিক্ত করতে হবে)।

রুদ্রায় মহাদেবায় জুষ্টো বর্ধস্বেতি। ৪/৯/৯

অনুবাদ- ‘রুদ্রায়-‘ (মহাদেব রুদের প্রীতিকর এই পশু বর্ধিত হোক) এই মন্ত্রে

তং বর্ধয়েত্ সম্পন্নদন্তম্ ঋষভং বা। ৪/৯/১০

অনুবাদ- সেই উৎপন্নদন্ত বা প্রজননক্ষম বৃষকে বর্ধিত করবেন।

বিবৃতি- বৃষটিকে অভিষিক্ত করার পর অপেক্ষা করতে হবে যতক্ষণ না সে প্রজনন সমর্থ হয়ে ওঠে অথবা তার দন্ত উদগত হয়।

যজ্ঞিয়ায়াং দিশি। ৪/৯/১১

অনুবাদ- যজ্ঞের উপযোগী কোন স্থানে শূলগব করতে হবে।

বিবৃতি- দন্ত উদগত হলে বা বৃষটি প্রজননক্ষম হলে এক অমাবস্যায় গ্রামের বাহিরে পূর্ব অথবা উত্তর দিকে গিয়ে শূলগবের অনুষ্ঠান করতে হবে।

অসন্দর্শনে গামাত্। ৪/৯/১২

অনুবাদ- গ্রাম থেকে যে স্থান দেখা যায় না (সেইস্থানে অনুষ্ঠান হবে)।

ঊর্ধ্বম্ অর্ধরাত্রাদ্ উদিত ইত্যেকে। ৪/৯/১৩

অনুবাদ- অর্ধরাত্রির পরে অথবা কেউ কেউ বলেন সূর্য উদিত হলে অনুষ্ঠান হবে।

বৈদ্যং চরিত্রবন্তং ব্রাহ্মণম্ উপবেশ্য সপলাশাম্ আর্দ্রশাখাং যূপং নিখায় ব্রততৌ কুশরজ্জূ বা রশনে অন্যতরয়া যূপং

পরিবীয়ান্যতরয়ার্ধশিরসি পশুং বদ্ধা যূপে রশনয়া বা নিযুনক্তি যস্মৈ নমস্তস্মৈ ত্বা জুষ্টং নিযুনজ্মীতি। ৪/৯/১৪

অনুবাদ- বিদ্বান চরিত্রবান ব্রহ্মা নামে ঋত্বিককে উপবেশন করিয়ে যথাসময়ে পত্রবিশিষ্ট একটি আর্দ্রশাখাকে যূপ হিসাবে মাটিতে প্রোথিত করে দুটি লতা বা দুটি কুশরজ্জু রশনারূপে গ্রহণ করে ঐ দুইটির একটি রশনা যূপের চারিদিকে বেষ্টন করে এবং অপরটির দ্বারা মস্তকের অর্ধাংশে দক্ষিণ শৃঙ্গের মধ্যস্থলে বন্ধন করে যূপে অথবা যূপ-বদ্ধ রশনায় পশুকে ‘যস্মৈ-‘ (যিনি নমস্কারের যোগ্য তার জন্য প্রীতিকর তোমাকে বদ্ধ করেছি) এই মন্ত্রে বদ্ধ করবেন।

প্রেক্ষণাদি সমানং পশুনা বিশেষান্  বক্ষ্যামঃ। ৪/৯/১৫

অনুবাদ- প্রেক্ষণাদি কর্ম পশুযাগের সমান, বিশেষ বিধিগুলিই কেবল বলব।

পাত্র্যা পলাশেন বা বপাং জুহুয়াদ্ ইতি হ বিজ্ঞায়তে। ৪/৯/১৬

অনুবাদ- কাঠের পাত্র অথবা পাতা দিয়ে বপা আহুতি দেবেন- এইরূপ জানা যায়।

হরায় মৃডায় শর্বায় শিবায় ভবায় মহাদেবোগ্রায় ভীমায় পশুপতয়ে রুদ্রায় শঙ্করায়েশানায় স্বাহেতি। ৪/৯/১৭

অনুবাদ- ‘হারায়-‘ এই (মন্ত্রে বপা আহুতি দেবেন)

ষড্ভির্ বোত্তরৈঃ। ৪/৯/১৮

অনুবাদ- অথবা পরবর্তী ছয়টি মন্ত্রের দ্বারা (আহুতি দেবেন)।

রুদ্রায় স্বাহেতি বা। ৪/৯/১৯

অনুবাদ- অথবা ‘রুদ্রায় স্বাহা’ (হবে আহুতির মন্ত্র)

চতসৃষু চতসৃষু কুশসূনাসু চতসৃষু দিক্ষু বলিং হরেদ্ যাস্তে রুদ্র পূর্বস্যাং দিশি স্বনাস্তাভ্য এনং নমস্তে অস্তু মা মা হিংসীর্ ইত্যেবং প্রতিদিশং ত্বাদেশনম্। ৪/৯/২০

অনুবাদ- চারটি দিকে চারটি চারটি করে কুশসূনায় ‘যাস্তে-‘ (হে রুদ্র, পূর্বদিকে তোমার যে সেনাগণ রয়েছে তাদের জন্য এই ‘বলি’; তোমাকে নমস্কার, আমাকে হিংসা কর না) এই মন্ত্রে উৎসর্গদ্রব্য দেবেন; প্রতিদিকে সেই দিকের নাম উল্লেখ করবেন।

বিবৃতি- মন্ত্রের ‘ পূর্বস্যাং’ অংশে যথাক্রমে দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তরদিকের নাম উল্লেখ করতে হয়। স্বিষ্টকৃতের আগে কুশাসূনাগুলিতে স্থালীপাকের চরুর এবং প্রধানযাগের আহুতির মাংসের অবশিষ্ট অংশ রেখে এই ‘বলি’ উপহার দিতে হয়। ‘কুশসূনা’ হল দর্ভগুচ্ছ ও তৃণগুচ্ছ একত্র করে সেগুলির অগ্রভাগ আবার একত্রিত করে বেঁধে রাখা গুচ্ছ।

চতুর্ভিঃ সূক্তৈশ্ চতস্রো দিশ উপতিষ্ঠেত কদ্রুদ্রায়েমা রূদ্রায়াতে পিতরিমা রুদ্রায় স্থিরধন্বন ইতি। ৪/৯/২১

অনুবাদ- ‘ কদ্ রুদ্রায়-‘ ( ঋ ১/৪৩) , ‘ইমা রুদ্রায়’ (ঋ ১/১১৪), ‘আ তে পিত-‘ (ঋ ২/৩৩) এবং ‘ইমা রুদ্র-‘ এই চারটি সুক্তের দ্বারা চারটি দিককে উপস্থান করবেন।

সর্বরুদ্রযজ্ঞেষু দিশাম্ উপস্থানম্। ৪/৯/২২

অনুবাদ- সমস্ত রুদ্রযজ্ঞে দিকসমূহের উপস্থান (করতে হয়)

তুষান্ ফলীকরণাংশ চ পুচ্ছং চর্ম শিরঃ পাদান্ ইত্যাগ্নাব্ অনুপ্রহরেত্। ৪/৯/২৩

অনুবাদ- তুষ, তুষের সূক্ষ্মকণা, পশুর পুচ্ছ, চর্ম, শির, পাদ এইগুলি অগ্নিতে নিক্ষেপ করবেন।

ভোগং চর্মণা কুর্বীতেতি শাংবত্যঃ। ৪/৯/২৪

অনুবাদ- শাংবত্য বলেন পশুর চর্ম দিয়ে কোন ব্যবহারের বস্তু প্রস্তুত করবেন।

উত্তরতোহগ্নের্ দর্ভবীতাসু কুশসূনাসু বা শোণিতং নিনয়েচ্ ছ্বাসিনীর্ঘোষিণীর্বিচিন্বতীঃ সমুশ্নুতীঃ সর্পা এতদ্বোহত্র তদ্ ধরধ্বম ইতি। ৪/৯/২৫

অনুবাদ- অগ্নির উত্তরদিকে দর্ভরাজিতে বা কুশসূনাতে ‘শ্বাসিনী-‘ (হিস্-হিস্-ধ্বনিকারী, শব্দকারী, সন্ধানকারী, হরণকারী, সর্পগণ এখানে তোমার যা আছে তা গ্রহণ কর) এই মন্ত্রে পশুর রক্ত ঢেলে দেবেন।

অথোদঙ্ঙ্ আবৃত্য শ্বসিনীর্ঘোষিণীর্বিচিন্বতীঃ সমুশ্নুতীঃ সর্পা এতদ্বোহন্ন তদ্ ধরধ্বম্ ইতি সর্পেভ্যো যত্ তত্রাসৃগ্ ঊবধ্যং বাবস্রুতং তদ্ ধরন্তি সর্পাঃ। ৪/৯/২৬

অনুবাদ- অতঃপর উত্তরমুখী হয়ে সর্পদের বলেন ‘শ্বাসিনী-‘ (হিস্-হিস্ ধ্বনিকারী, শব্দকারী, সন্ধানকারী, হরণকারী, সর্পগণ, এখানে তোমার যা আছে তা গ্রহণ কর) তখন সর্পদের উদ্দেশে ক্ষরিত রক্ত বা অন্ত্রের যে বস্তুসমূহ ক্ষরিত হয়, সর্পগণ তা গ্রহণ করে।

সর্বাণি হ বা অস্য নামধেয়ানি। ৪/৯/২৭

অনুবাদ- সকলই এই রুদ্রেরই নাম

সর্বাঃ সেনাঃ । ৪/৯/২৮

অনুবাদ- সকল সেনা (রুদ্রেরই সৈন্য)

সর্বাণ্যুচ্ছ্রয়ণানি। ৪/৯/২৯

অনুবাদ- সকল উৎকৃষ্ট বস্তুসমূহ ( রুদ্রেরই অধীন)

ইত্যেবংবিদ্ যজমানং প্রীণাতি। ৪/৯/৩০

অনুবাদ- যিনি এমন জানেন সেই যজমানকে রুদ্রদেব প্রীত করেন।

নাস্য ব্রুবাণং চন হিনস্তীতি বিজ্ঞায়তে। ৪/৯/৩১

অনুবাদ- এই কর্মের প্রবক্তাকেও রুদ্রদেব হিংসা করেন না এইরূপ বেদ থেকে জানা যায়।

নাস্য প্রাশ্নীয়াত্। ৪/৯/৩২

অনুবাদ- (এক পক্ষের মতে) এই পশুর হুতাবশিষ্ট মাংস ভক্ষণ করবেন না।

নাস্য গ্রামম্ আহরেয়ুর্ অভিমারুকো হৈষ দেবঃ প্রজা ভবতীতি। ৪/৯/৩৩

অনুবাদ- যজ্ঞের কোন বস্তু গ্রামে নিয়ে যাবেন না, কারণ এই রুদ্র দেবতা মানুষের বিনাশসাধনকারী হন।

অমাত্যান্ অন্ততঃ প্রতিষেধয়েত্। ৪/৯/৩৪

অনুবাদ- এই দেবতার নিকটে আসা থেকে আত্মীয়দের নিষেধ করবেন।

নিয়োগাত্ তু প্রাশ্নীয়াত্ স্বস্ত্যয়ন ইতি। ৪/৯/৩৫

অনুবাদ- অবশ্যই স্বস্ত্যয়ন বাক্য বলে পশুমাংসের হুতাবিশিষ্ট ভক্ষণ করবেন।

বিবৃতি- এই সূত্র থেকে বোঝা যাচ্ছে ৩২ নং সূত্রের নিষেধটি বৈকল্পিক।

স এষ শূলগবো ধন্যো লোক্যঃ পুণ্যঃ পুত্র্যঃ পশব্য আয়ুষ্যো যশস্যঃ। ৪/৯/৩৬

অনুবাদ- এই সেই শূলগব হল ধন, লোক, পুণ্য, সন্তান, পশু, আয়ু ও যশের অনুকূল।

ইষ্ট্বান্যম্ উত্সৃজেত্। ৪/৯/৩৭

অনুবাদ- যাগটি করে পরবর্তী শূলগবের জন্য অন্য একটি বৃষকে ছেড়ে দেবেন।

নানুত্সৃষ্টঃ স্যাত্।। ৪/৯/৩৮

অনুবাদ- পশুটি যেন অবিমুক্ত না থাকে।

বিবৃতি- একবার শূলগবের অনুষ্ঠান অবশ্যই করতে হবে।

ন হাপশুর্ ভবতীতি বিজ্ঞায়তে। ৪/৯/৩৯

অনুবাদ- কখনও তিনি পশুহীন হন না- বেদ থেকে এইরূপ জানা যায়।

শন্তাতীয়ং জপন্ গৃহান্ ইয়াত্। ৪/৯/৪০

অনুবাদ- শন্তাতীয় সুক্ত (ঋ ৭/৩৫) জপ করতে করতে গৃহে প্রবেশ করবেন।

পশূনাম্ উপতাপ এনম্ এব দেবং মধ্যে গোষ্ঠস্য যজেত্। ৪/৯/৪১

অনুবাদ- নিজের পশুদের কোন ব্যাধি হলে গোশালার মধ্যে এই দেবতাকেই উদ্দেশ্য করে যাগ করবেন।

স্থালীপাকং সর্বহুতম্। ৪/৯/৪২

অনুবাদ- সম্পূর্ণ স্থালীপাক আহুতি দিতে হবে।

বর্হির আজ্যং চানুপ্রহৃত্য ধূমতো গা আনয়েত্। ৪/৯/৪৩

অনুবাদ- বর্হি ও আজ্য অগ্নিতে নিক্ষেপ করে ধূমের মধ্যে গাভীগুলিকে আনবেন।

বিবৃতি- তূষ এবং ফলীকরণ অগ্নিতে নিক্ষেপ করতে হবে।

শন্তাতীয়ং জপন্ পশূনাং মধ্যম্ ইয়ান মধ্যম্  ইয়াত্। ৪/৯/৪৪

অনুবাদ- শন্তাতীয় সুক্ত জপ করতে করতে পশুসমূহের মধ্যে যাবেন।

নমঃ শৌনকায় নমঃ শৌনকায়। ৪/৯/৪৫

অনুবাদ- শৌনকের উদ্দেশে নমস্কার শৌনকের উদ্দেশে নমস্কার। [3]

পারস্কর গৃহ্য সূত্র

মধুপর্ক

কাদের মধুপর্ক দিতে হবে এ সম্বন্ধে পারস্কর গৃহ্যসূত্র বলছে-

ষড়র্ঘ্যা ভবন্ত্যাচার্য ঋত্বিগ্বৈবাহ্যো রাজা প্রিয়ঃ স্নাতক ইতি।। ১/৩/১

অনুঃ- ছয়জন অর্ঘদানের যোগ্য, (এই ছয়জন হলো) ১) আচার্য (অর্থাৎ যিনি উপনয়ন বেদাধ্যয়ণ করান), ২) ঋত্বিক (যিনি শ্রৌত স্মর্তাদি কর্ম সম্পাদন করান), ৩) বৈবাহ্য (অর্থাৎ বর), ৪) রাজা (অভিষেকাদি ক্রিয়াবিশিষ্ট হয়ে প্রজাপালনে নিযুক্ত ক্ষত্রিয়), ৫) প্রিয় (অর্থাৎ উচ্চবর্ণ বা সমান বর্ণের বন্ধু) এবং ৬) স্নাতক (ব্রহ্মচর্য আশ্রম প্রতিপালন করে ক্রমাগত)

প্রতিসংবৎসরানর্হয়েয়ুঃ ১/৩/২

অনুঃ প্রতি বৎসরেই ( গৃহে আগত পূর্বোক্ত আচার্যাদি ছয়জনকে) অর্ঘ্য দান করে পূজা করতে হয়।

যক্ষ্যমাণাস্ত্বৃত্বিজঃ।। ১/৩/৩

অনুঃ (যক্ষমানাঃ) যজ্ঞানুষ্ঠানকারী যজমানগণ যাজকগণকে অর্ঘ দ্বারা পূজা করবেন।

আসনমাহার্যাহ সাধুভবানাস্তামর্চয়িষ্যামো ভবন্তমিতি।। ১/৩/৪

অনুঃ (কিভাবে পূজা করবে? – এই প্রশ্নের উত্তর হিসাবে বলা হচ্ছে)- (আসনম) বারণাদি দারুময় পীঠাদি (আহার্য) ভৃত্যাদি দ্বারা আনিয়ে বলবেন- পূজ্য আপনি স্বচ্ছন্দে বসুন, আমরা আপনাকে পূজা করব।

আহরন্তি বিষ্টরং পাদ্যং পাদ্যং পাদার্থমুদকমর্ঘমাচনীয়ং মধুপর্ক দধিমধুঘৃতমপিহিতং কাংস্যে কাংস্যেন।। ১/৩/৫

অনুঃ- বিষ্টর (পাদ্যং) অয়া রাখার জন্য দ্বিতীয় বিষ্টর, পা ধোয়ার জন্য জল, অর্ঘ্য, আচমনীয় মধুপর্ক- দই, মধু, ঘি একটি কাংস্য পাত্রে নিয়ে অন্য একটি কাংস্যপাত্র দ্বারা আবৃত করে (স্বীয় পরিজনের সঙ্গে যজমানেরা) আনবেন।

অতিথি মধুপর্ক খেয়ে আচমন করার পরে তার উদ্দেশ্যে  বলা হত –

আচান্তোদকায় শাসমাদায় গৌরিতি ত্রিঃ প্রাহ।। ১/৩/২৬

অনুঃ- (আচান্তোদকায়) যিনি জলে আচমন করেছেন তার উদ্দেশ্যে  অর্থাৎ পূজ্য পুরুষের উদ্দেশ্যে (শাসম্) একটি খড়্গ হাতে নিয়ে গৌঃ শব্দটি তিনবার বলবে।

অতিথি চাইলে গরুকে হত্যা করা হত না-

প্রয়াহ। মাতা রুদ্রাণাং দুহিতা বসুনাং স্বসাদিত্যানামমৃতস্য নাভিঃ।

প্রোনুবোচং চিকিতুষে জনায়মাগা মনাগামদিতিং বধিষ্ট।

মম চামুষ্য চ পাপ্মানং  হনোমীতি যদ্যালভেৎ। ১/৩/২৪

অনুঃ- তখন পূজ্যপুরুষ প্রতিবচন হিসাবে ‘মাতা রুদ্রানাম্… ইত্যাদি মন্ত্রটি পাঠ করবে। আর যদি গরুটিকে স্পর্শ করে, তাহলে বলতে হবে যে, আমার এবং যজমানের যত পাপ আছে সমস্ত নষ্ট করছি।

মন্ত্র- মাতা… ব্যাধিষ্ট।

মন্ত্রার্থঃ- এই গাভী রুদ্রদিগের জননী, বসুদের কন্যা এবং আদিত্যের ভগিনী। এর নাভীতে অমৃত আছে। (অতএব) আমার কথা হলো যে, আমার মত একটি ক্ষুদ্রপ্রাণীকে তুষ্ট করার জন্য এই নিরপরাধ অখণ্ডনীয় দেবজননীকে বধ করো না।

আবার অতিথি চাইলে গরুটিকে হত্যা করা হত-

অথ যদি উৎসিৃক্ষেন্মম চামুষ্য চ পাপ্মা হত ওমুৎসৃজত তৃণান্যত্বিতি ব্রুয়াৎ। ১/৩/২৮

অনুঃ- অথবা পূজ্য পুরুষ যদি গরুটিকে উৎসর্গ করতে ইচ্ছা করেন তাহলে বলবেন, আমার এবং যজমানের পাপ নষ্ট হয়েছে। ওম মন্ত্রটি মনে মনে উচ্চারণ করে গরুটিকে উৎসর্গ করবেন এবং (উচ্চৈস্বরে বলবেন গরুটি ) তৃণ ভক্ষণ করুক।

পারস্কর গৃহ্য সূত্রেও পরিস্কার বলে দেওয়া হয়েছে মাংস ছাড়া মধুপর্ক হবে না-

ন ত্বেবামাংসোহর্ঘঃ স্যাৎ। ১/৩/২৯

অনুঃ- অর্ঘ কখনও মাংসহীন হবে না।

পারস্কর যজ্ঞ এবং বিবাহকালে গরু হত্যা করার কথা বলেছেন-

অধিযজ্ঞমবিধিবিবাহং কুরুতেত্যেব ব্রুয়াৎ।।

অনুঃ- গবালম্ভনের সম্বন্ধে উভয় প্রকার মত নিয়ে পারস্কর শেষে আব্র বললেন যে, যজ্ঞে এবং বিবাহে গবালম্ভনের বিধান স্বীকরণীয়।।

পারস্কর গৃহ্য সূত্র হতে জানা যায় কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর একাদশ দিনে ব্রাহ্মণকে মাংস দিয়ে খাওয়ানো হত-

একাদশ্যামযুগ্মান্ ব্রাহ্মণান্ ভোজয়িত্বা মাংসবৎ। ৩/১০/৪৮

অর্থ- একাদশ দিনে অযুগ্মসংখ্যক ব্রাহ্মণকে সমাংস অন্ন ভোজন করাবে।

তার পরেই বলা হয়েছে-

প্রেতায়োদ্দিশ্য গামপ্যেকে ঘ্নন্তি। ৩/১০/৪৯

অর্থ- কোন কোন আচার্যের মতে- প্রেতের উদ্দেশ্যে ঐ দিন একটি গরু বলি দেওয়া হয়।

(কিন্তু পারস্কর এ মত পোষণ করেন না বলেই সূত্রে ‘একে’ পদটি যুক্ত করেছেন।)

[ অনুবাদক- শ্রীঅশোককুমার বন্দ্যোপাধ্যায়]

পারস্কর গৃহ্যসূত্রে শূলগব

শূলগবঃ।। ৩/৮/১

অনুঃ- (এখন) শূলগব নামক অনুষ্ঠানের বিধি সম্পর্কে বলা হবে।

স্বর্গ্যঃ পশব্যঃ পূত্র্যো ধান্যো যশস্য আয়ুষ্যঃ।। ৩/৮/২

অনুঃ- (এই যজ্ঞের দ্বারা যজমান স্বর্গ , পশু, সন্তান, শস্য, যশ ও আয়ু লাভ করে।)

ঔপাসনমরণ্যং হৃত্বা বিতানং সাধয়িত্বা রৌদ্রং পশুমালভেত।। ৩/৮/৩

অনুঃ- আবসথ্যাগ্নিকে বনে নিয়ে গিয়ে বিতান বিস্তার করে, রুদ্রদেবতার উদ্দেশ্যে একটি পশুকে বলি দিতে হবে।

সাণ্ডম্।। ৩/৮/৪

অনুঃ- পশুটি হবে অণ্ডবিশিষ্ট অর্থাৎ স্ত্রী বা নপুংসক হবে না।

গৌর্বাশব্দাৎ।। ৩/৮/৫

অনুঃ- (শূলগর্বাঃ – এই শিরোনামটিতে) ‘গব, শব্দের উল্লেখ থাকায় ছাগ বা অন্য পশু আলভন হবে না]

ষ্পাং শ্রপয়িত্বা স্থালীপাকমবদানানি চ রুদ্রায় বপামন্তরিক্ষায় বসাং স্থালীপাকমিশ্রান্যবদানানি জুহোত্যগ্নয়ে রুদ্রায়, শর্বায়, পশুপতয়ে উগ্রায়াশনয়ে ভবায় মহাদেবায় ঈশানায়েতি চ।। ৩/৮/৬

অনুঃ- বপা পাক করে স্থালীপাক এবং হৃদয়াদি নিয়ে স্থালীপাক মিশ্রিত হৃদয়াদি পাক রুদ্রায়বপাম্ এবং অণ্ডরিক্ষায় বসাম্ মন্ত্রে আহুতি দেওয়া হয়।

স্থালীপাকমিশ্রিত অবদানগুলি দিয়ে অগ্নয়ে স্বাহা, রুদ্রায় স্বাহা , শর্বায় স্বাহা, পশুপতয়ে স্বাহা, ঈশানায় স্বাহা, ভবায় স্বাহা, মহাদেবায় স্বাহা, ঈশানায় স্বাহা- মন্ত্রে নয়টি আহুতি দেওয়া হয়।

বনস্পতি স্বিষ্টকৃদন্তে।। ৩/৮/৭-৮

অনুঃ- তারপর বনস্পতির হোম (পৃষদান দ্বারা) তারপর স্বিষ্টকৃৎ অগ্নির হোম।

দিগ্ব্যাধারণম্।। ৩/৮/৯

অনুঃ- তারপর দিকগুলি ব্যাধারণ হবে। (অর্থাৎ দিকগুলির নাম উল্লেখ করে ছয়টি আহুতি হবে। যথা দিশঃ স্বাহা, প্রদিশ স্বাহা, আদিশয় স্বাহা বিদিশয় স্বাহা, উদ্দদিশন স্বাহা, দিগ্ভ স্বাহা, (এই আহুতি বসা দ্বারা হবে)

ব্যাধারণান্তে পত্নীঃ সংযাজয়ন্তীন্দ্রাণৈ রুদ্রাণৈ শর্বাণৈ ভবান্যা অগ্নংগৃহপতিমিতি।। ৩/৮/১০

অনুঃ- দিশাভিধারণের পর পশুর জঙ্ঘাদ্বারা দেবপত্নীদের নামে পাঁচটি আহুতি দেওয়া হবে। যথা- ইন্দ্রাণ্যৈ স্বাহা, রুদ্রান্যৈ স্বাহা, শর্বান্যৈ স্বাহা, ভবান্যৈ স্বাহা, অগ্নয়ে গৃহপতয়ে স্বাহা।

[এরপর মহাব্যাহৃতি থেকে প্রজাপত্যন্তে আহবনীয়গ্নিতে হোম করে সংস্রব প্রাশন ও দক্ষিণা দান ক্রিয়া হবে।]

“(তারপর) ঐ পশুর রক্ত পলাশ পাতায় বা কুশের উপর ‘যান্তে রুদ্র… ইত্যাদি ছয়টি মন্ত্র পাঠ করে রুদ্রকে এবং তার সেনাদের ছয়টি বলি প্রদান করতে হবে। ৩/৮/১১

ঊবধ্যং লোহিতলিপ্তমগ্নৌ প্রাস্যত্যধো বা নিথনতি।। ৩/৮/১২

অনুঃ- রক্তাক্ত ঊবধ্য (পোটি- পুরীষাধান) আহবনীয় অগ্নিতে নিক্ষেপ করা হবে অথবা ভূমিতে পুঁতে দেওয়া হবে।

অনুবাতং পশুমবস্থাপ্য রুদ্রৈরুপতিচ্ছতে প্রথমোত্তমাভ্যাং যা অনুবাকাভ্যাম্।। ৩/৮/১৩

অনুঃ- পশুর শরীরের বাকি অংশ বায়ুর অনুকূল স্থানে রেখে ‘রুদ্রধ্যায়ের মন্ত্রগুলি দ্বারা অথবা রুদ্রাধ্যয়ের প্রথম ও শেষ অনুবাক দ্বারা স্তুতি করা হয়।

নৈতস্য পশোর্গ্রামং হরন্তি।। ৩/৮/১৪

অনুঃ- ঐ রুদ্রসম্পর্কিত পশুর মাংস (যাজ্ঞিকের) গ্রামে থাকে না।

অর্থাৎ, কর্মাতিরিক্ত মাংস বনের মধ্যেই ফেলে আসে।

এতেনৈব গোযজ্ঞো ব্যাখ্যাতঃ।। ৩/৮/১৫

অনুঃ- এই ‘শুলগব’ কর্মের বিধানের দ্বারাই ‘গোযজ্ঞ’ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

অর্থাৎ শুলগব কর্মবিধি দ্বারা ‘গোযজ্ঞ’ বিধিও জানা গেল।

[ অনুবাদক- শ্রীঅশোককুমার বন্দ্যোপাধ্যায়]

বৈখানস গৃহ্য সূত্র

বৈখানস গৃহ্য সূত্র তে অষ্টকা শ্রাদ্ধে গোহত্যার কথা পাওয়া যায়-


[ vaikhanas grihya sutra 4/3 ; Translated by Dr. W. Caland ; Publisher: Asiatic Society of Bengal] 

আপস্তম্ভ গৃহ্য সূত্রে

আপস্তম্ভ গৃহ্য সূত্র ৮/২২ এ পিতৃদের জন্য গোহত্যার কথা পাওয়া যায়-

3. On the following day he touches a cow with a Darbha blade, with the words, ‘I touch thee agreeable to the Fathers.’

4. Having silently offered five Âgya oblations, and having cooked, the omentum of the (cow), and performed the ‘spreading under’ and the sprinkling over (of Âgya), he sacrifices (the omentum) with the next (verse, II, 20, 28) with a Palâsa leaf from the middle or the end (of the stalk).

[ apastambha grihya sutra patala 8, section 22 /3-4 ; Translated by Hermann Oldenberg ; Sacred Books of the east series]

আপস্তম্ভ গৃহ্য সূত্র ৫/১৩ এ দেখা যায় মধুপর্কে গোহত্যা করা হত-

15. (The host) announces the cow with (the word), ‘The cow!’

16. After the guest has recited the next (formula, M. II, 10, 6) over (the cow, the host) cools its omentum, and having performed the ‘spreading under’ and the sprinkling over (of Âgya), he sacrifices it with the next (verse, M. II, 10, 7) with a Palâsa leaf from the middle or the end (of the stalk).

17. If the guest chooses to let (the cow) loose, he murmurs the next (formulas, II, 10, 8-11) in a low voice (and says) loudly, ‘Om! Let it loose!’ (II, 10, 12).

18. (In this case) he recites the next (formulas, M. II, 10, 13-17) in a low voice over the food which is announced to him (instead of the cow), (and says) loudly, ‘Om! Make it ready!’ (II, 10, 18).

19. For his teacher, for a Ritvig, for his father-in-law, for a king he ought to perform this (Arghya ceremony) as often as they visit his house, if at least one year has elapsed (since they came last).

20. For a renowned teacher (of the Veda the ceremony should be performed) once.

[ apastambha grihya sutra / 5/13/ 15-20 Translated by Hermann Oldenberg ; Sacred Books of the east series ]

শাঙ্খায়ণ গৃহ্য সূত্রে

শাঙ্খায়ণ গৃহ্য সূত্র ২/১৫ এ মধুপর্কে গোমাংসের কথা পাওয়া যায়-

ষণ্ণাং চেদর্ঘ্যাণামন্যতম আগচ্ছেদ্ গোপশুম্জম্অন্নং বা যত্ সামান্যতমং মন্যেত তত্ কুর্যাত্।। ১।। নামাংসোহর্ঘঃ স্যাৎ।।২।। অধিযজ্ঞম্অধিবিবাহং কুরুতেত্যেব ব্রূয়াত্।।৩।। আচার্যায়াগ্নেয়ঃ।।৪।। ঋত্বিজে বার্হস্পত্যঃ।।৫।। বৈবাহ্যায় প্রাজাপত্যঃ।।৬।। রাজ্ঞ ঐন্দ্রঃ।।৭।। প্রিয়ায় মৈত্রঃ।।৮।। স্নাতকায়ৈন্দ্রাগ্নঃ।।৯

অনুবাদ- যদি অর্ঘ্যলাভের যোগ্য ছয় ব্যক্তির (৪-৯ সূত্র দ্রঃ) যে কোন একজন তার নিকট সাক্ষাৎ করতে আসেন , তার জন্য গাভী, ছাগ অথবা যে খাদ্য তিনি উপযুক্ত মনে করেন তা প্রস্তুত করবেন। অর্ঘ যেন মাংসবর্জিত না হয়। যজ্ঞের সময়ে বা বিবাহের সময়ে সমাগত অতিথি যেন বলেন, ‘প্রস্তুত কর’। আচার্যকে যে পশু অর্ঘ দেওয়া হয় তা অগ্নি সম্পর্কিত। ঋত্বিককে যে অর্ঘ দেওয়া হয় তা, বৃহস্পতি সম্পর্কিত। শ্বশুরকে অর্ঘ দিলে তা হয় প্রজাপতির সঙ্গে সম্পর্কিত। রাজাকে অর্ঘ দেওয়া হলে তা ইন্দ্র সম্পর্কিত। বন্ধুকে দিলে তা মিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। স্নাতককে অর্ঘ দিলে তা ইন্দ্র-অগ্নি দেবতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়। [অনুবাদিকা- কণা চট্টোপাধ্যায়]

শাঙ্খায়ণ গৃহ্য সূত্র ২/১৬/১ এ মনুর উদ্ধৃতি দিয়ে মধুপর্কে পশুহত্যার কথা বলা হয়েছে-

মধুপর্কে চ সোমে চ পিতৃদৈবতকর্মণি। অত্রৈব পশবো হিংস্যো নান্যত্রেত্যব্রবীন্ মনুঃ।।

অর্থ- মনু বলেছেন, মধুপর্কে ও সোমযাগে, পিতৃযাগে ও দেবযাগেই শুধু পশুদের বধ করা চলে, অন্যত্র নয়। [ অনুবাদিকা- কণা চট্টোপাধ্যায়]

শাঙ্খায়ণ গৃহ্য সূত্রে গুরু গৃহ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় স্নাতককে গরুর চামড়ার আসনে বসে ক্ষৌর কর্ম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে-

স্নানং সমাবর্তস্যমানস্য।। ৩/১/১

আনডুহমিত্যুক্তং তস্মিন্নুপবেশ্য কেশশ্মশূণি বাপয়তি লোমনখানি চ।। ৩/১/২

অনুবাদ- “সমাবর্তনকারী স্নান করবে। ষাঁড়ের চামড়া সম্পর্কে পরে বলা হয়েছে। সেই চামড়ার উপর শিষ্যকে বসিয়ে তার চিল, দাড়ি, দেহের লোম ও নখ কেটে দেওয়াবেন।“ [অনুবাদিকা- কণা চট্টোপাধ্যায়]

গোভিল গৃহ্য সূত্রে

গোভিল গৃহ্যসূত্রে ৪/১০ এ মধুপর্কের বিবরণ রয়েছে। মধুপর্ক খাওয়া হয়ে গেলে তারপর যা হত-

১৮। সে জল পান করার পর নাপিত তিনবার তার উদ্দেশ্যে বলবে, “একটি গরু”।

১৯। তার উত্তর দেওয়া উচিত, “গরুটিকে বরুণের পাশ হতে মুক্ত করো , এর দ্বারা তাকে বন্ধন কর যে আমাকে ঘৃণা করে। তাকে হত্যা কর এবং (আপ্যায়ণকারীর) শত্রুকে , উভয়ের (শত্রুকে) (আমার এবং আপ্যায়ণকারীর) , গরুটিকে মুক্ত করো, সে ঘাস খাক, জল খাক।  

২০। (এবং গরুটিকে মুক্ত করে দেওয়ার পর) তিনি এর উদ্দেশ্যে এই মন্ত্র পড়বেন “ রুদ্রের মাতা”

২১। এভাবে যদি যজ্ঞ না হয় ( যাতে অর্ঘ নিবেদন করা হয়)

২২। (তার বলা উচিত) ‘একে প্রস্তুত করো’ যদি যজ্ঞ হয়।

২৩। ছয় ব্যক্তিকে অর্ঘ দান করতে হবে , তারা হলেন-

২৪। শিক্ষক, পুরোহিত, স্নাতক, রাজা, শ্বশুর এবং বন্ধু যে অতিথি হিসাবে আসে।

২৫। তাদের বছরে একবারের বেশি অর্ঘ দান করতে হবে না।

২৬। কিন্তু বারবার যজ্ঞ ও বিবাহের সময়। কিন্তু বারবার যজ্ঞ ও বিবাহের সময়। [5]

 [Gobhila grihya sutra 4/10/18-26 Translated by Hermann Oldenberg ]

খাদির গৃহ্য সূত্রে

খাদির গৃহ্য সূত্রেও অতিথিকে মধুপর্ক দান করার কথা পাওয়া যায়। মধুপর্কে গরুরও প্রয়োজন হত-

৬। তারা তিনবার বলে (অতিথির উদ্দেশ্যে) প্রত্যেকটি (জিনিস যা তার জন্য আনা হয়েছে)ঃ (ঘাসের) বিছানা , পা ধোয়ার জল, অর্ঘ্য-জল, পান করার জল, এবং মধুপর্ক;

৭। এবং গরু[6]

অতিথি চাইলে গরুকে ছেড়ে দেওয়া হত অথবা বধ করা হত-

১৭।গরুর কথা যখন তাকে বলা হয় তখন সে এই মন্ত্রটি পড়বে , “ গরুটিকে ছেড়ে দাও।“

১৮। ঐ মন্ত্রে ‘এবং আপ্যরায়ণকারী নাম” এর স্থানে তার সেই ব্যক্তির নাম বলা উচিত যে অর্ঘ্য দান করে।

১৯। এভাবে যদি যজ্ঞ না হয় ( যার দ্বারা অর্ঘ্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন হচ্ছে)

২০। ‘একে প্রস্তুত করো’, যদি যজ্ঞ হয়।

২১। ছয় ব্যক্তি যাদের অর্ঘ দেওয়া হয় তারা হল , শিক্ষক, পুরোহিত, স্নাতক, রাজা, শ্বশুর এবং বন্ধু।

২২। বছরে একবার তার অর্ঘ দ্বারা তাদের সম্মান করা উচিত।

২৩। কিন্তু যজ্ঞ ও বিবাহের সময় বারবার । কিন্তু যজ্ঞ ও বিবাহের সময় বারবার । [7]

 [ khadira grihya sutra 4/4/17-23 ; Translated by Hermann Oldenberg]

হিরণ্যকেশী গৃহ্য সূত্রে

মধুপর্ক খাওয়া সম্পন্ন হবার পর যা করা হত সে সম্পর্কে হিরণ্যকেশী গৃহ্যসূত্রে বলা হচ্ছে-

১০। তারপর তিনি তিনবার তার উদ্দেশে বলেন ,  ‘গরু’।

১১। সেই (গরু) হয় হত্যা করা হয়, নইলে ছেড়ে দেওয়া হয়।

১২। যদি তিনি তাকে ছেড়ে দিতে চান , তবে ( তিনি উচ্চারণ করেন) , ‘ এই গরু একটি দুধেল গরু হবে । রুদ্রের মাতা, বসুর কন্যা , আদিত্যের ভগিনী , অমৃতের নাভি। যারা আমার কথা বোঝে তাদের উদ্দেশ্যে বলছি , “এই নির্দোষ গরু অদিতিকে মেরোনা”

‘সে জল খাক, ঘাস খাক।‘ –

(এবং লোকেদের) আদেশ দেয়, “ওম! একে ছেড়ে দাও।“

১৩। যদি একে হত্যা করা হবে, (তিনি বলেন) , “ গরু পাপ তোমা হতে দূরীকৃত । আমার পাপকেও দূর কর এবং (আপ্যায়ণকারীর) পাপকেও। যে আমাকে ঘৃণা করে তাকে হত্যা কর। যে কেউ আমাকে ঘৃণা করে সে হত হোক। (গরুটি) প্রস্তুত করো।

১৫।  তিনি জবাব দেন, “ একে ভালোভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে; এটা বিরাগ, এটা খাদ্য। এটা ব্যর্থ না হোক! আমি একে লাভ করি! এটা আমাকে শক্তি দিন। একে ভালোভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এবং আরও বলেন, “ব্রাহ্মণকে খাবার দাও।“

১৬। সেই (ব্রাহ্মণদের) খাওয়ার পর , (নিমন্ত্রণকারী) দোষরহিত (?) খাদ্যকে তার (অতথির) কাছে আনান।

১৭। তিনি তা গ্রহণ করেন (এই মন্ত্র বলে), “ স্বর্গ তোমাকে এটা দিক , পৃথিবী তাকে গ্রহণ করুক । পৃথিবী এটা তোমাকে দিক; সমীরণ একে গ্রহণ করুক; সমীরণ তোমাকে ভক্ষণ করুক, সমীরণ তোমাকে পান করুক।“

১৮। এই মন্ত্র , “ইন্দ্র ও অগ্নি আমাকে বীর্য দিক” (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৩/৩/৩/৩) বলে সে যতটা ইচ্ছা খায় এবং অবশিষ্ট অংশ তাকে দেয় যাকে সে পছন্দ করে। [8]

[ hiranyakeshi grihya sutra 1/4/13/7-19 ; Translated by Hermann Oldenberg]

হিরণ্যকেশী গৃহ্য সূত্র অনুসারে মাসিক শ্রাদ্ধের সময় গরু বলি দেওয়া হত-  

1. On the following day he sacrifices a cow to the Fathers.

2. Having put wood on the fire and strewn southward-pointed and eastward-pointed Darbha grass around it, he sacrifices the oblation for the touching of the animal (see below), with (the verse), ‘This cow I touch for the Fathers; may my assembled fathers gladly accept it (which is offered) with fat and ghee, with the word svadhâ; may it satiate my fathers in the other world. Svadhâ! Adoration!’ Then he touches (the cow) with one (blade of) sacrificial grass and with an unforked Vapâsrapanî of Udumbara wood, with (the formula), ‘I touch thee agreeable to the Fathers.’

3. He sprinkles (the cow with water) with (the words), ‘I sprinkle thee agreeable to the Fathers.’

4. When it has been sprinkled and fire has been carried round it, they kill it to the west of the fire, its head being turned to the west, its feet to the south.

5.  After it has been killed, he silently ‘strengthens’ its sense-organs (by touching them) with water, and silently takes out the omentum, the heart, and the kidneys.

6. With the Vapâsrapanî of Udumbara wood he roasts the omentum; with spits of Udumbara wood the other (parts mentioned in Sûtra 5) separately.

7. After he has roasted them, and has sprinkled Âgya over them, and has taken them from the fire, he sprinkles water round (the fire) from right to left, puts a piece of Udumbara wood on (the fire), and sacrifices with a Darvi spoon of Udumbara wood the omentum, spreading under and sprinkling over it (Âgya), with (the verse), ‘Carry the omentum, Gâtavedas, to the Fathers, where thou knowest them resting afar. May streams of fat flow to them; may their wishes with all their desires be fulfilled. Svadhâ! Adoration!’

8.  He sacrifices the omentum entirely. The other parts (Sûtra 5) he should offer to the Brâhmanas and should feed them (with those parts of the cow).

9. When the food (for the Brâhmanas) is ready, he cuts off (the Avadânas) together from the mess of boiled rice, and from the pieces of meat, and mixing them with clarified butter he makes oblations thereof with the verses, ‘Behold the Ekâshtakâ, the giver of food with meat and ghee, (which is offered) with (the word) svadhâ. By the Brâhmanas that food is purified. May it be an imperishable (blessing) to me! Svadhâ! Adoration!’

‘The Ekâshtakâ, devoting herself to austerities, the consort of the year, exuberant (with milk), has poured forth milk. May you live on that milk, O Fathers, all together. May this (food) be well offered and well sacrificed by me! Svadhâ! Adoration!

‘The image of the year’ (Taitt. Samh. V, 7, 2, 1).

10. After he has sacrificed, he cuts off (the Avadânas) from the food and from the pieces of meat, and mixing them with clarified butter he makes an oblation with (the formula), ‘To Agni Kavyavâhana Svishtakrit svadhâ! Adoration!’

11.  The known (rites) down to the pouring out of the handfuls of water (are performed here) as at the monthly (Srâddha).

12.  The gifts of food and presents, however, are not necessary here.

13.  On the following day, he prepares food for the Fathers with the rest of the meat, and sacrifices with (the two verses), ‘Thou, Agni, art quick,’ (and), Pragâpati!’ (see above, I, 1, 3, 5).

[ hiranyakeshi grihya sutra 2/5/15/1-13 ; Translated by Hermann Oldenberg]

ধর্ম সূত্রে

আপস্তম্ভ ধর্ম সূত্রে দুগ্ধবতী গাভী এবং ষাঁড়ের মাংস খাওয়া যাবে বলা হয়েছে-

dhenu anaḍuhor bhakṣyam || 30 ||

অর্থ- [কিন্তু] দুগ্ধবতী গাভী বা ষাঁড়ের [মাংস] খাওয়া যাবে। [9]

 medhyam ānaḍuham iti vājasaneyakam || 31 ||

অর্থ- বাজসনেয়ক বলেন , ‘ষাঁড়ের মাংস উৎসর্গের উপযুক্ত।‘[10]

[ prashna 1, patala 5, khanda 17 ;  Edited by  Rama Ramanuja Achari]

তবে অকারণে দুগ্ধবতী গাভী বা ষাঁড় হত্যা করলে প্রায়শ্চিত্তের  কথা বলা হয়েছে আপস্তম্ভ ধর্ম সূত্রে-

dhenv anaḍuhoś ca-akāraṇāt || 1 ||

অর্থ- [ একই প্রায়শ্চিত্ত অবশ্যই  করতে হবে ] যদি দুগ্ধবতী গাভী অথবা প্রাপ্তবয়স্ক ষাঁড়কে কারণ ছাড়া [ হত্যা করা হয়] [11]

 [ Apashtambha Dharma Sutra / Praśna 1. Paṭala 9. Khaṇḍa 26 ; Edited by Rama Ramanuja Achari ]

আপস্তম্ভ শ্রাদ্ধে মাংস দেওয়ার কথা বলেছেন। মাংসের অভাবে সবজি দিতে বলেছেন-

naiyyamikaṃ tu śrāddhaṃ snehavad eva dadyāt || 17 ||

অর্থ- [মাসিক] শ্রাদ্ধের সময় , যা অবশ্যই করতে হবে , তাতে তিনি মেদের সাথে [খাবার] মিশিয়ে দেবেন। [12]

sarpir māṃsam iti prathamaḥ kalpaḥ || 18 ||

অর্থ- প্রথম [এবং বাঞ্ছনীয়] বিকল্প হল বিশুদ্ধ মাখন এবং মাংস [ব্যবহার করা] ।[13]

abhāve tailaṃ śākam iti || 19 ||

অর্থ- [এসব] না থাকলে তিলের তৈল, সবজি এবং [ অনুরূপ জিনিস ব্যবহার করতে হবে] [14]

[ Apastambha dharma sutra / Praśna 2. Paṭala 8. Khaṇḍa 19 / 17-19 ; Edited by Rama Ramanuja Achari]

আপস্তম্ভ শ্রাদ্ধে গোমাংস ও মহিষের মাংস দেওয়ারও কথা বলেছেন-

snehavati tv eva-anne tīvratarā pitṛṛṇāṃ prītir drāghīyāṃsaṃ ca kālam || 24 ||

অর্থ- কিন্তু যদি পশুর মেদের সাথে খাবার মিশিয়ে [ উৎসর্গ] করা হয় , তাহলে পিতৃরা অধিক এবং অধিক সময় অবধি সন্তুষ্ট থাকেন। [15]

 tathā dharma āhṛtena dravyeṇa tīrthe pratipannena || 25 ||

অর্থ- যেমনি ধর্মসঙ্গতভাবে উপার্জিত অর্থ যদি যোগ্য [ব্যক্তিদের] দেওয়া হয়। [16]

saṃvatsaraṃ gavyena prītiḥ || 26 ||

অর্থ- গোমাংস [পিতৃদের] এক বৎসর সন্তুষ্ট রাখে। (মনু ৩/২৭১) [17]

 bhūyāṃsam ato māhiṣeṇa || 27 ||

অর্থ- মহিষের [মাংস] তার অধিক [সময়] পর্যন্ত ।[18]

 etena grāmya araṇyānāṃ paśūnāṃ māṃsaṃ medhyaṃ vyākhyātam || 28||

অর্থ- এর দ্বারা [ মহিষের মাংস ব্যবহারের অনুমতিতে] এটা বলা হয়েছে যে [অন্য] গৃহপালিত এবং বন্য পশু উৎসর্গের উপযুক্ত। [19]

[ Apastambha Dharma Sutra/ Praśna 2. Paṭala 7. Khaṇḍa 16/ 19-28 ] 

পরের পর্বঃ হিন্দু ধর্ম ও গোমাংস-রহস্যঃ ধর্মশাস্ত্র


তথ্যসূত্র-

[1] পারস্কর গৃহ্যসূত্র , অনুবাদক- শ্রী অশোককুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্কৃত পুস্তক ভাণ্ডার

[2] ঋগ্বেদীয় গৃহ্যসূত্র, সম্পাদক অমরকুমার চট্টোপাধ্যায়, সংস্কৃত পুস্তক ভাণ্ডার / ভূমিকা

[5] 18. After he has sipped water, the barber should thrice say to him, ‘A cow!’

19. 19 He should reply, ‘Let loose the cow from the fetter of Varuna; bind (with it) him who hates me. Kill him and (the enemy) of N.N., (the enemies) of both (myself and N.N.). Deliver the cow; let it eat grass, let it drink water’ (MB. II, 8, 13).

20. (And after the cow has been set at liberty), let him address it with (the verse), ‘The mother of the Rudras’ (MB. II, 8, 14).

21. 21 Thus if it is no sacrifice (at which the Arghya reception is offered),

22. (He should say), ‘Make it (ready),’ if it is a sacrifice.

23. There are six persons to whom the Arghya reception is due, (namely),

24. 24 A teacher, an officiating priest, a Snâtaka, a king, the father-in-law, a friend coming as a guest.

25. 25 They should offer the Arghya reception (to such persons not more than) once a year.

26. But repeatedly in the case of a sacrifice and of a wedding. But repeatedly in the case of a sacrifice and of a wedding.

[6] 6. They announce three times (to the guest) each (of the following things which are brought to him): a bed (of grass), water for washing the feet, the Argha water, water for sipping, and the Madhuparka;

7. And the cow.

[7] 17. Over the cow, when it has been announced to him, he should recite (the formula), ‘Let loose the cow.’

18. Instead of ‘and of N.N.’ (in that formula) he should put the name of the person who offers the Arghya reception.

19. Thus if it is no sacrifice (by which the Arghya ceremony has been occasioned).

20. ‘Make it (ready),’ if it is a sacrifice.

21. The six persons to whom the Arghya reception is due are, a teacher, an officiating priest, a Snâtaka, a king, the father-in-law, a friend.

22. He should honour them (with the Arghya reception) once a year;

23. But repeatedly in the case of a sacrifice and of a wedding. But repeatedly in the case of a sacrifice and of a wedding.

[8] 10. 10 Then he utters to him the announcement, ‘The cow!’

11. That (cow) is either killed or let loose.

12. If he chooses to let it loose, (he murmurs), ‘This cow will become a milch cow.

‘The mother of the Rudras, the daughter of the Vasus, the sister of the Âdityas, the navel of immortality. To the people who understand me, I say, “Do not kill the guiltless cow, which is Aditi.”

‘Let it drink water! Let it eat grass’—

(And) gives order (to the people), ‘Om! Let it loose.’

13. 13 If it shall be killed, (he says), ‘A cow art thou; sin is driven away from thee. Drive away my sin and the sin of N.N.! Kill ye him whoever hates me. He is killed whosoever hates me. Make (the cow) ready!’

14. 14 If (the cow) is let loose, a meal is prepared with other meat, and he announces it (to the guest) in the words, ‘It is ready!’

p. 175

15. He replies, ‘It is well prepared; it is the Virâg; it is food. May it not fail! May I obtain it! May it give me strength! It is well prepared!’—and adds, ‘Give food to the Brâhmanas!’

16. 16 After those (Brâhmanas) have eaten, (the host) orders blameless (?) food to be brought to him (i.e. to the guest).

17. He accepts that with (the formula), ‘May the heaven give it to thee; may the earth accept it. May the earth give it to thee; may breath accept it. May breath eat thee; may breath drink thee.’

18. With (the verse), ‘May Indra and Agni bestow vigour on me’ (Taitt. Samh. III, 3, 3, 3) he eats as much as he likes, and gives the remainder to a person who is kindly disposed towards him.

19. If he desires that somebody may not be estranged from him, he should sip water with (the Mantra), ‘Whereon the past and the future and all worlds rest, therewith I take hold of thee; I (take. hold) of thee; through the Brahman I take hold of thee for myself, N.N.!’—

[9]  30. [But the meat] of milch-cows and oxen may be eaten.

[10] 31. The Vājasaneyaka declares ‘bull’s flesh is fit for offerings.’

[11] 1. [The same penance must be performed], if a milch-cow or a full-grown ox [has been slain] without a reason.

[12]  17. At the [monthly] śrāddha which must necessarily be performed, he must use [food] mixed with fat.

[13]  18. The first [and preferable] alternative [is to employ] clarified butter and meat.

[14]  19. On failure [of these], oil of sesame, vegetables and [similar materials may be used].

[15] 24. But, if food mixed with animal-fat [is offered], the satisfaction of the Manes is greater, and [lasts] a longer time.

[16]  25. Likewise, if money, lawfully acquired, is given to worthy [persons].

[17] 26. Beef satisfies [the Manes] for a year. (Manu 3:271)

[18]  27. Buffalo’s [meat] for a longer [time] than that.

[19] 28. By this [permission of the use of buffalo’s meat] it has been declared that the meat of [other] tame and wild animals is fit to be offered.

Facebook Comments

অজিত কেশকম্বলী II

"মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।"

Leave a Reply

%d bloggers like this: