ধর্মগুলো কি আসলেই বিজ্ঞানসম্মত?

বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে আমরা প্রায় সময় একটি মনোভাব দেখতে পায় যেটা তারা খুবই আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রকাশ করে থাকে। তাদের মতে তাদের যার যার ধর্ম সম্পুর্ণ বিজ্ঞান সম্মত। অর্থ্যাৎ বিজ্ঞানে আজকের দিনে যা আবিষ্কার করা হচ্ছে সেটার সম্পর্কে নাকি একটা ধারণা তাদের ধর্মের মধ্যে কোথাও না কোথাও তাদের কল্পিত সৃষ্টিকর্তা অনেক বছর আগেই বলে রেখেছেন। যেমন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দাবী করেন তাদের বেদ বিজ্ঞান সম্মত আর মুসলমানরা দাবী করেন তাদের কোরান বিজ্ঞানসম্মত ঠিক তেমনই খৃস্টান, ইহুদী, বৌদ্ধ এরকম যত প্রকারের ধর্ম আছে এবং সেই সকল ধর্মের যত অনুসারী আছে তারা তাদের নিজ নিজ ধর্মকে বিজ্ঞানের সাথে মেলাবার আপ্রাণ চেষ্টা করে যান। কারণ হচ্ছে বর্তমান যুগ জ্ঞান, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি নির্ভর যুগ, এই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে এবং ভবিষৎ-এ নিজেদের ধর্মগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হলে তাদেরকে ধর্মগুলো বিজ্ঞান্সম্মত করতেই হবে।

আর তা যদি না করতে পারে তাহলে বিজ্ঞানের সামান্য একটি ফুলকি দিয়েই তাদের ধর্মের ঈশ্বরকে হত্যা করে ফেলা সম্ভব। ধর্ম এবং বিজ্ঞানের যে হাজার হাজার বছরের রক্তাক্ত ইতিহাস আছে সেটা কোন মানুষ কখনই অস্বীকার করতে পারেনা। আজ থেকে ২৫০০ বছর আগে যখন এনাকু সিগমুন্ড এবং পিথাগোরাসের মতো জ্ঞানী ব্যাক্তিরা প্রথম জানিয়েছিলো আমাদের এই পৃথিবীটা আসলে সুর্যের একটি গ্রহ মাত্র আর এই গ্রহটি আসলে ওই সূর্যের চারপাশে ঘুরছে। এই চরম সত্য বলার কারণে তাদেরকে সেই সময়ে সইতে হয়েছিলো নানান নির্যাতন, কারণ তাদের কথা এবং ধর্ম বিশ্বাসীদের ঈশ্বরের বানী ছিলো দুইটা উলটা।

এরপরে আরো ২০০০ বছর পার হয়, তখন ধার্মিকরা জিওর্দানো ব্রুনোকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছিলো ঈশ্বর বিরোধী এই একই কথা বলার কারণে। সেই সাথে একই সময়ে গ্যালিলিও গ্যালিলাই এবং নিকোলাস কোপার্নিকাস যারা এই মতবাদকে লিখিত পুস্তক আকারে প্রকাশ করেছিলো যে ঈশ্বরের বলা কথা অনুযায়ী পৃথিবীর চারদিকে সুর্য নয় বর্ং সুর্যের চারদিকে পৃথিবী ঘুরছে। ঈশ্বরের বানী অস্বীকার করার কারণে তাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছিলো জেলখানায়। বৃদ্ধ বয়সে জোতির্বিদ গ্যালিলিও গ্যালিলাইকে আমৃত্যু গৃহবন্দী করে রাখা হয়। কিন্তু দেখুন সত্য কোনদিন গোপন থাকেনা তাই ঈশ্বরের বানী ভূল প্রমাণিত হয়েছে এবং আজ কিন্তু ঠিকই সুর্যের চারপাশেই ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদের এই পৃথিবী নামক গ্রহ।

ধর্মের সাথে যেহুতূ খুব বড় ধরনের রাজনীতি জড়িত এবং ধর্ম দিয়ে অনেকেই তাদের দেশ এবং শাসনব্যাস্থাকে টিকিয়ে রেখেছে তাই ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের একটি সামঞ্জশ্যতা দেখাতে খরচ করা হয়ে থাকে কোটি কোটি ডলার। হাজার হাজার বছরের ইতিহাসে ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের এই সংঘর্ষের সব রক্তাক্ত ইতিহাস গুলো মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মের ধর্ম ব্যবসায়ীরা একটি যায়গাতেই এসে আটকে যায়। সেটা হচ্ছে বিবর্তনবাদ। বিজ্ঞানের সাথে তারা ধর্মের মিল দেখানোর যতই চেষ্টা করে যাক না কেনো, কিন্তু ধার্মিকরা একমাত্র বিবর্তনবাদের কাছে এসেই আর একটি পা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারেনা।

এখানেই এসে দাঁড়িয়ে যায় সেই হাজার বছর আগের পুথি বইতে লেখা সব মতবাদের সাথে মিলিয়ে আজকের দিনের আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে তূলনা করতে যাওয়াটা শুধুই বোকামী নয় সেই সাথে নিজেদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করা। বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসীদের মতো ইসলাম ধর্মটিই বর্তমানে এই বিবর্তন তত্ব অস্বীকারে একধাপ এগিয়ে আছে। ইসলামের সাথে বিবর্তনবাদের দ্বন্দের যেনো কোন শেষ নেই। মুসলিম দেশগুলোতে জাকির নায়েকের বিবর্তন বিরোধী লেকচারের সিডি আর ভিডিও যেভাবে প্রচার করা হয় তাতে মনে হবে বিবর্তনবাদ হচ্ছে ইসলাম ধর্মের একমাত্র শত্রু যাকে এখনই নিশ্চিহ্ন করতে না পারলে আগামীতে ইসলাম ধর্মকে আর পৃথিবীর বুকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবেনা।

ইসলাম ধর্মে মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে ঠিক খ্রিস্টান ধর্মের মতো করেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাদের বিশ্বাস তাদের কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কোন একটি সময় মাটি দিয়ে দুইটি মুর্তি তৈরি করেছিলো এবং তাদের নাম রেখেছিলো আদম এবং হাওয়া পরবর্তিতে সেই মাটির মূর্তিতে ফু দিয়ে প্রাণ দান করেছিলো এবং আজকের দিনের এই মানব সভ্যতা তাদের মাধ্যমেই তৈরি হয়েছে। শুনতে হাস্যকর হলেও আসলে এটাই সত্য যে ইসলাম ধর্মবিশ্বাসীরা বিবর্তনবাদকে ভুল মনে করলেও তারা এধরনের গল্প বা রুপকথাকে সত্য এবং সঠিক মনে করে থাকে।

বিজ্ঞান কখনই চাইনা ধর্মের সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে এগিয়ে যেতে কারণ বিজ্ঞানের টিকে থাকতে হলে এসব ধর্ম নামক আদীকালের কোন মতবাদের দরকার পড়েনা, কিন্তু ধর্মকে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞানের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে তা খুব ভালো করেই জেনে গিয়েছেন বিশ্বের বুকে ধর্ম ব্যবহার করে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা বিশ্বনেতারা। সৌদি আরবও ঠিক একই কাজ করে চলেছে আজ ১৪০০ বছর ধরে। তারা নিজেদের মধ্যে ইসলামকে টিকিয়ে রেখেছে একমাত্র ধর্মের দোহায় দিয়ে যাতে মানুষদের বসে রাখা যায় না হলে সৌদি রাজ পরিবারের আরবের তেল সম্পদ লুট করে খাওয়া এবং সোনার কমোড ব্যবহার করাতে স্বাধীনতা থাকেনা।

তারা আজও নিজেদের দেশে এই রাজতন্ত্র টিকিয়েই রেখেছে ধর্মকে ব্যবহার করে। এখন ধর্মকে যদি টিকিয়ে রাখতে না পারে তাহলে তাদেরও অস্তিত্ব হুমকীর সম্মুক্ষিন হবে। এসব দিক তারা খেয়াল করেই সৌদি আরবের পেট্রোডলার খরচ করা শুরু করেছিলো ইসলাম আর বিজ্ঞানকে যেভাবেই হোক এক কাতারে দাঁড় করাতে হবে। ইসলাম ধর্মের মধ্যে বিজ্ঞান আছে বা কোরান পড়ে বিজ্ঞানীরা সব আবিষ্কার করেছে এমন মতবাদ মানুষের মাঝে ছড়াতে তারা কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে থাকে। আর জাকির নায়েক এবং হারুন ইয়াহিয়ার মতো বিখ্যাত সব ইসলামী স্কলারদের লেলিয়ে দেওয়া হয় সাধারণ মানুষদের ব্রেন ওয়াশ করার কাজে। তারা তাদের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে ইসলাম ধর্ম এবং তার কোরানকে বিজ্ঞান সম্মত প্রমাণ করতে এবং বিবর্তনবাদকে মিথ্যা বা ভূল প্রমাণ করতে।

বিবর্তনবাদ ইসলাম ধর্মে ভূল কারণ এখান থেকে বেরিয়ে যাবার কোন রাস্তা ইসলাম ধর্মে নেই। একবার বিবর্তনবাদ মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে সাথে সাথেই ইসলাম ধর্ম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এটা ধর্মব্যবসায়ীরা খুব ভালো করেই জানেন। জন্য বাংলাদেশের মাদ্রসাগুলোতে এনো নতুন একটি সাবজেক্ট তোইরি করার অপেক্ষায় আছে তারা যে সাবজেক্টের নাম হবে বিবর্তনবাদ একটি ভূল মতবাদ। আর বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারকে তারা ইসলাম সম্মত বানাতে কোরানের আয়াত বা হাদীসের পাতাকেও পরিবর্তন করে ফেলতে পিছু হয়না।     

Facebook Comments

4 thoughts on “ধর্মগুলো কি আসলেই বিজ্ঞানসম্মত?

  • September 2, 2019 at 3:38 am
    Permalink

    এই বিষয় মাদ্রাসায় পড়ানো হলে,অন্তত মাদ্রাসার ছেলেরা বিবর্তন বলে কিছু একটা আছে, সে সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবে। আগ্রহী ছাত্ররা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবেই।

    Reply
  • September 20, 2019 at 1:20 am
    Permalink

    Evolution theory is not fact. it is a theory please give me proverb establish science against Quran.

    Reply
  • October 3, 2019 at 10:13 am
    Permalink

    থিওরি সত্য বের করার প্রথম ধাপ, আর কুরআন মানুষের অজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: