বিবর্তন যদি হয়ে থাকে এবং সৃষ্টিকর্তা যদি নাই বিদ্যমান থাকে তবে আমাদের সবার আঙ্গুলের ছাপ (Fingerprint) ভিন্ন কেন?

প্রথমত বলে নেয়া ভাল, আমি এই বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ নই। শুধুমাত্র জানার আগ্রহে আমি অনেক কিছু হাবিজাবি পড়ি, আবার কিছুদিন পরে ভুলেও যায়। তাই স্মৃতি থেকে যতটা সম্ভব উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি। যাদের আরও বেশি পারফেক্ট উত্তরের প্রয়োজন, তারা নিজে পড়ে নেবেন, বা এই বিষয়ে আরও অনেক জানবেন বলে আমি আশা রাখি। সেই সাথে বিজ্ঞানের এই বিশেষ বিষয়ের কোন বিশেষজ্ঞের সাথেও আলাপ করতে পারেন। আর যেহেতু আমি বিশেষজ্ঞ নই, তাই আমি ভুল বলতেই পারি। ভুল পেলে ভুল শুধরে দিলে কৃতজ্ঞ থাকবও। কিন্তু আল্লায় কইছে তাই আপনে ভুল, বা কুরানে নেকা তাই আফনে ভুল, এই ধরণের ভুল শুধরাতে আসলে হাসাহাসি ছাড়া অন্য পথ নেই। কারণ আপনার কেতাব কোন রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।

কোরানের দাবীঃ শুরুতেই এই প্রসঙ্গের কোরানের অলৌকিকত্বের দাবীটি আলোচনা করা প্রয়োজন। কারণ এই দাবীটি কোরানকে অলৌকিক কেতাব দাবী করা কিছু মানুষের। তাই আলোচনার শুরুতে তার জবাব দেয়া দরকার। কিছু মানুষ দাবী করছে, কোরানে নাকি অনেক আগে থেকে মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্টের কথা বলা হয়েছে। সেই দাবী অনুসারে উনারা নিচের আয়াতটি হাজির করেন। আসুন পড়ে দেখি নিচের আয়াতটি।

 

” তারা তাদের ত্বককে বলবে, তোমরা আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবে, যে আল্লাহ সব কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন, তিনি আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। ”

এখানে ত্বককে যদি খুব কৌশলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দাবী করা হয়, এবং শব্দের অর্থ পালটে দেয়া হয়, তাহলে সেটা শুধু হাস্যকরই নয়, বরঞ্চ মর্মান্তিকও হয়ে ওঠে। ইসলামপন্থীদের এই ধরণের শব্দের হেরফের করে বিজ্ঞানের সাথে কোরানের মিল সৃষ্টি করার ব্যাপারটা খুবই হাস্যকর। কোরানের এক একটি অর্থের কয়েকটি মানে হতে পারে, এবং সুবিধামত যার যেমন খুশি মানে বের করলেই কিন্তু হয় না। এর মানে ইসলামপন্থীরা সম্ভব বোঝাতে চাচ্ছেন, কেয়ামতের ময়দানে মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া হবে এবং ডেইটা বেইজ থেকে তার পাপ পুণ্যের হিসেব বের করা হবে। অথবা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে এখনকার আইডেনটিফিকেশনের ইঙ্গিত কোরান বহু আগেই দিয়ে রেখেছে। এইসব কথা আসলে খুবই হাস্যকর রকমের।

ধর্মীয় গ্রন্থে নানা ধরণের অলৌকিক দাবীঃ হিন্দু মৌলবাদীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরেই হিন্দু ধর্মগ্রন্থের সাথে আধুনিক বিজ্ঞানকে মেলাবার চেষ্টা করে আসছে। আসুন সেরকম কিছু বিষয় আগে আলোচনা করে নিই। বলা বাহুল্য, সেই দাবীগুলোও একেবারেই হাস্যকর এবং মিথ্যা। হেনতেন যদু মধু লোক নয়, খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন, বিজ্ঞানের আধুনিক সকল আবিষ্কার আসলে প্রাচীন ভারতের মুনীঋষীরা বহুকাল আগেই আবিষ্কার করে গিয়েছিলেন। নইলে গণেশের মাথায় হাতির মাথাটি আধুনিক অপারেশন ছাড়া কী বা হতে পারে? আধুনিক সার্জারির ইঙ্গিত সেই বহুকাল আগেই হিন্দু ধর্মে সাংকেতিকভাবে বলে দেয়া হয়েছিল। বা ধরুন হিন্দু ধর্মে বলা আছে, ব্রহ্মার এক মুহূর্ত পৃথিবীর সহস্র বছরের সমান। এইকথাটি আসলে আধুনিক বিজ্ঞানের নানা থিওরি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে। এর থেকেই বোঝা যায়, এখানে আসলে কৃষ্ণগহ্বরে সময়ের কথাটিই বলা হয়েছে। যারা সায়েন্স ফিকশন সিনেমা ইন্টারস্টেলার দেখেছেন, তারা জানেন, সেখানে দেখানো হয়, অন্য একটি গ্রহে খুব অল্প সময় থাকা সিনেমার হিরো আসলে পৃথিবীর সময়ের শত বছর পার করে ফেলেছিল। অর্থাৎ বোঝা যায়, হিন্দু ধর্মগ্রন্থে আসলে সেই ইঙ্গিতই করা হয়েছিল। খুব সাংকেতিকভাবে। ভাবুন তো, প্রাচীন মুনিঋষিরা আসলে কত বড় বড় একজন বিজ্ঞানী ছিলেন!

আবার ধরুন খ্রিস্টান ধর্মের, যীশুর জন্মও প্রক্রিয়া। আধুনিক সময়ে আমরা জানি, স্পার্ম ডোনাররা স্পার্ম দিলে সেটা মায়ের গর্ভে খুব কৌশলে ঢুকিয়ে দিয়ে সন্তান জন্মানো সম্ভব। অর্থাৎ বোঝা যায়, খ্রিস্ট ধর্ম সেই ২০০০ বছর আগেই ঈশ্বরের স্পার্ম যে জিব্রাইল নিয়ে এসে মেরির ভেতরে ঢুকিয়েছিল, কোন যৌন সম্পর্ক ছাড়াই, সেটার ইঙ্গিতই করা হয়েছে। ইশ, খ্রিস্টানদের  ঈশ্বর কত বড় বিজ্ঞানী, ভেবে দেখেছেন?

এরকম অজস্র আবর্জনা, অজস্র হাস্যরসাত্মক কথা নানা ধর্মের মৌলবাদীরা দাবী করে যাচ্ছেন। কেউ দাবী করছেন ব্রহ্মাস্ত্র আসলে ছিল পারমানবিক বোমা, কেউ দাবী করছে ইন্দ্রের উড়ন্ত রথ আসলে আধুনিক হেলিকপ্টার, কিংবা বিমান। এইসব নানা বুজরুকি দাবী। আসলে, সেভাবে বিচার করলে আমাদের কম বয়সে পড়া সকল রূপকথার সাথেই বিজ্ঞানকে কোন না কোনভাবে মেলানো সম্ভব। তবে উল্লেখ করার বিষয় হচ্ছে, বিজ্ঞান কিছু আবিষ্কার করবার পরেই ধর্মগ্রন্থে এগুলো আগে থেকেই ছিল বলে দাবীগুলো উঠতে থাকে। কিন্তু ১৪০০ বছর কোরান মুখস্ত করেও মুমিন বান্দারা এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানে গোটা দশেক নোবেল পুরষ্কার হস্তগত করতে পারে নি। কীভাবে পারবে, নোবেল তো আসলে ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্র! চক্রান্ত করে মুসলমানদের দেয় না। দিলে জাকির নায়েকই তো সবগুলো নোবেল পেয়ে যেতো, নাকি বলেন?

আবার যেমন ধরুন, কাজই নজরুল ইসলাম তার কবিতায় লিখেছেন,

” বিশ্ব- জগৎ দেখবো আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে ”

– এর থেকে খুব স্পষ্টভাবেই বোঝা যায়, কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন। এখন আমি দাবী করতে পারি, নজরুল একজন নবী ছিলেন এবং স্মার্টফোন আবিষ্কারের কাহিনীই তিনি এই কবিতায় বর্ণনা করে গেছেন। কী অলৌকিক কাণ্ড বলুন তো, সেই কত বছর আগেই কবি নজরুল বলে দিয়ে গেছেন, স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে আধুনিক সময়ে মানুষ পুরো পৃথিবীকে আপন হাতের মুঠোয় পুড়ে দেখবে! ভিডিও কলিং, ফেইসবুক লাইভ, সোশ্যাল মিডিয়ার কথা কত আগেই কবি নজরুল বলে গেছেন, ভেবে দেখেছেন?

কিন্তু সত্য হচ্ছে, নজরুল এরকম কিছুই আসলে মিন করেন নি। তিনি কবিতার রূপকে বোঝাতে চেয়েছেন সবকিছু তিনি হাতের মুঠোয় পুরে দেখতে চান। এ থেকে স্মার্ট ফোনের আবিষ্কারের ভবিষ্যতবাণী খোঁজা সীমাহীন মূর্খতা। আহাম্মকি।

আবার ধরুন, নস্ট্রাডুমাসের কথা। তিনি কয়েকশ বছর আগে কিছু হেঁয়ালিপূর্ণ কবিতা লিখে গেছেন। সেই কবিতাকে অনেক লেখক ভবিষ্যতবাণী দাবী করে ইতিহাসের নানা ঘটনার সাথে মিলিয়েছেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায়, পুরো বিষয়টাই ধাপ্পাবাজি। যেমন ধরুন, তিনি লিখেছেন,

“লজ্জাহীন এক মহান লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যে অনর্থক চেঁচামেচি করবে। সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হবে, তার বিবাদের সাহসিকতার মাধ্যমে।’
ছন্দে ছন্দে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘সেতু ভেঙ্গে যাবে, শহরের মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়বে।”

এই বিষয়টিকে এখন অনেক লেখক ট্রাম্পের আবির্ভাবের ভবিষ্যৎ বাণী হিসেবে প্রচার করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ঠিক একই কবিতা ব্যবহার হয়েছিল হিটলার সম্পর্কে নস্ট্রাডুমাসের ভবিষ্যৎ বাণী হিসেবে। দেখা গেছে, ইতিহাসে এরকম হাজার হাজার ঘটনা রয়েছে, যার কোন একটির সাথে এরকম ছড়ার মিল তৈরি করা অসম্ভব কিছু নয়। এরকম লজ্জাহীন অসংখ্য লোকেরই, শাসকেরই আবির্ভাব হয়েছে, হবে। এবং কোন না কোন ব্রিজও ভাঙবে হয়তো তারই সময়ে। ইতিহাসে এরকম উদাহরণ খুঁজলে অন্তত ২০ টা উদাহরণ পাওয়া যাবে। তাতে কী প্রমাণ হয়, নস্ট্রাডুমাস ভবিষ্যতবাণী করে গিয়েছিলেন? না, তা হয় না।

এবারে আসা যাক, ফিঙ্গারপ্রিন্ট কেন ভিন্ন হয় সে বিষয়ে। তবে সেই বিষয়ে যাওয়ার আগে বোঝা দরকার, কোন প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা না থাকলে তার পেছনে আল্লাহ ভগবান মামদো ভুত শাঁকচুন্নি তুকতাক জাদুমন্ত্র বা অলৌকিক কিছু খোঁজা খুবই নিম্নমানের নির্বোধ আচরণ।

ছোটবেলা আমি একবার গ্রামে গিয়েছিলাম। গ্রামে এক বুড়ো লোক ছিলেন, তিনি অনেক কিছুই বুঝতেন না। একটু বোকাসোকা লোক আর কী। আমার কাছে একটা এম্পিথ্রি প্লেয়ার ছিল, তা দিয়ে গান শুনে তার সে কী বিস্ময়। বলতো, আয় হায়, আল্লাহর কী কুদরত! এত ছোট যন্ত্রের মইধ্যে মানুষ ঢুকছে ক্যাম্বায়? তা ছিল তার কাছে এক অলৌকিক কুদরতি ব্যাপার। গ্রামের অশিক্ষিত মূর্খ অনেকের কাছে আজকের দিনের কম্পিউটারও আল্লাহর কী কুদরত মনে হতে পারে। কারণ সে বিষয়টা জানে বা বোঝে না। অশিক্ষিত, বোকা বা মুর্খ মানুষের কাছে যে কোন জাদুও আল্লাহর কী কুদরত মনে হতে পারে। কিন্তু জাদু আসলে জাদুকরের কিছু কৌশল মাত্র। সেখানে অলৌকিক কিছুই নেই। মন্ত্র পড়ে কোন জাদু হয় না। সেখানে খুব পরিষ্কার বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ব্যবহার করা হয়।

একজন বিজ্ঞানমনষ্ক সত্যানুসন্ধানই মানুষের কাজ হচ্ছে, কোন বিষয় না বুঝলে, বা না জানলে তা নিয়ে গবেষণা করে সত্য তথ্যটি খুঁজে বের করা। বা পড়ালেখা করা। তার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করা। আল্লার কুদরত নাহয় অশিক্ষিত মূর্খ বোকা মানুষেরাই ভাবুক। তাদের দিয়ে পৃথিবীর কোন উন্নতির আশা নেই।

 

এটি Pygmy marmoset, বা cebuella pygmaea। আমাদের নিকটাত্মীয়। এরও ফিঙ্গারপ্রিন্ট আছে।

প্রথমত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আমাদের হাতের রেখাগুলো বিবর্তনের মাধ্যমে আমাদের আসা আরও ভালভাবেই ব্যাখ্যা করে। কিছু ঠিকভাবে ধরার জন্য আমাদের আঙ্গুলে এরকম প্রয়োজন হয়। যা আমাদের গ্লাস বা কোন অস্ত্র ধরতে সাহায্য করে। যেসকল প্রাণীর জীবন ধারণের জন্য বিবর্তনের কথাটি বিশেষভাবেই উল্লেখযোগ্য, কারণ শুধু মানুষই নয়, অন্যান্য প্রাণীতেও এরকম দেখতে পাওয়া যায়। যদি আল্লাহ পাক আমাদের পাপ পুণ্যের ইনফরমেশন কালেক্ট করতেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে থাকেন, তাহলে কোয়ালায় কেন তা থাকবে? কোয়ালাও কী পাপ পুণ্যের হিসেব দিবে? অর্থাৎ, মানুষের ক্ষেত্রেই শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্ট আছে এরকম দাবীর ভিত্তি নেই। ঈশ্বর হয়তো ভুল করে এইসব প্রাণীকেও পাপ পুণ্যের হিসেব করার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে ফেলেছেন!

তবে শুধুমাত্র ফ্রিকশন বাড়াবার জন্যেই ফিঙ্গারপ্রিন্টের উদ্ভব, এমন দাবীর বিপক্ষেও কিছু দাবী রয়েছে, গবেষণা রয়েছে। যেটা এই লিঙ্কে গেলে ভালভাবে পড়া যাবে। তবে বিবর্তনবাদকে সামনে রেখেই। আমি এই লেখাটি ভালভাবে পড়িনি, আগ্রহি কেউ চাইলে পড়তে পারেন।

আর আমাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেই ইতিহাস বহন করে, জন্মের শুরুতে মায়ের ভ্রূণের ভেতরে আমরা কী কী পরিবেশের সম্মুখীন হয়েছিলাম। আঙ্গুলে যেই খুব হালকা ছাপগুলো আমরা দেখতে পাই, তা আমাদের বয়স যখন মায়ের ভ্রূণে প্রায় ৬ মাস। ১০ সপ্তাহের পরেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি হওয়া শুরু হয়।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে জেনেটিক। অন্য বিষয়গুলো হচ্ছে মাতৃগর্ভের পরিবেশ, পুষ্টি, ভ্রূণটির অবস্থান, ইত্যাদি নানা কিছু। এমনকি, যমজ বাচ্চার ফিঙ্গারপ্রিন্ট কাছাকাছি রকমের হলেও খানিকটা ভিন্ন হবে। কারণ এত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলো দুইজনার কখনই একই রকম হওয়ার সম্ভাবনা নেই। পারমিউটেশন কম্বিনেশন করলে সংখ্যাটা অনেক বড় হয়। খুব ছোট ছোট বিষয় সেখানে ভূমিকা রাখে। সেই সব ছোট ছোট বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি হয়। সেই ছোট ছোট বিষয়গুলো দুইজন মানুষের ক্ষেত্রে একই রকম হওয়া স্ট্যাটিস্টিক্যালই প্রায় অসম্ভব।

প্রায় অসম্ভব কেন বললাম? কারণ এটি কোন বৈজ্ঞানিক লও’ না যে দুইজনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট একই হতে পারবে না। স্রেফ স্ট্যাটিস্টিক্যালি অসম্ভবের কাছাকাছি।

শেষ কথাঃ এটা সত্য যে, মানুষের কৌতূহলের সীমা নেই এবং প্রশ্নের কোন শেষ নেই। তবে আমাদের কাজ হচ্ছে, রূপকথায় বিশ্বাস না করে ক্রমাগত প্রশ্ন করা, জানার চেষ্টা করা। ভুল হলে শুধরে নেয়া, এবং আবারো যাচাই বাছাই পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা। মানুষের বিশ্বাস আর বিজ্ঞান সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী বিষয়। বিজ্ঞান আগে তথ্য প্রমাণ পরীক্ষানিরীক্ষার ফলাফল সংগ্রহ করে, পরে সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তে যায়। ধর্ম বিশ্বাস আগে সিদ্ধান্ত নেয়, যে যা বলা আছে তার সাথে মেলাতে হবে, এরপরে সুবিধা মত তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে। বিশ্বাসের সাথে মিললে খুশি হয়ে বলতে থাকে, কোরানেই আগে থেকে সব লেখা ছিল, আর না মিললে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মুখ বন্ধ করতে চায়। তাই এইসকল দাবীই আসলে হাস্যকর এবং আহাম্মকি।

Facebook Comments

Leave a Reply