পানির দামে ফেরারী গাড়ি বুঝে নিন!

একটা স্বপ্ন সত্যি হলো। ভীষন খুশি খুশি লাগছে।

একটা ফেরারী গাড়ি পাচ্ছি। সেটার স্পিড পৃথিবীর সব গাড়ির থেকে বেশি। বুলেট ট্রেনের থেকেও বেশি। রকেটের থেকেও বেশি। সেটা পাচ্ছি অতি অল্প দামে। প্রায় পানির দামেই। এইমাত্রই যারা দিচ্ছে তারা জানালো। তাদের কনফার্মেশন ইমেইলটা পেলাম। আচ্ছা, আর রহস্য না করে খুলেই বলছি সবকিছু।

সেদিন আমার ইমেইল ইনবক্সের জাঙ্ক মেইল ফোল্ডারটি খুলতেই অবাক হয়ে গেলাম। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি কোম্পানি আমাকে মেইল করেছে, ওদের প্রতিষ্ঠানের একদম সিইও এর নিজের হাতের সিগনেচার করা ইমেইল। ওরা লিখেছে, আমাকে ওরা লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্য থেকে বাছাই করেছে।  তো এই বাছাইয়ের মাধ্যমে সেই প্রতিষ্ঠানটি আমাকে একটা খুব দামী ফেরারি গাড়ি দিচ্ছে। আমার নিজের সৌভাগ্য শুনে আমি খুশিতে একদমই আত্মহারা। শুধু ফেরারই গাড়িই নয়, গাড়িটির সাথে একটি বিখ্যাত সুন্দরী মডেল কন্যাকেও দেয়া হবে, আমার ড্রাইভার হিসেবে। ছবিও পাঠিয়েছে কয়েকটি মেয়ের। যাকে আমার পছন্দ আমি বেছে নিতে পারবও। বিশ্বাস না হলে নিজেই দেখুনঃ

আমাকে যা করতে হবে, তা হচ্ছে প্রতিমাসে তাদেরকে মাত্র দশ ডলার করে পাঠাতে হবে। আজীবন। এবং ডেইলি পাঁচবার ঐ কোম্পানির মালিক জনাব কগবানেশ্বরকাল্লাহ এর প্রশংসা করতে হবে। ডেইলি পাঁচবার বলতে হবে,কগবানেশ্বরকাল্লাহ অনেক দয়ালু, ন্যায় বিচারক এবং মহান। তাতেই আমি পেয়ে যাবো একটি লাল রঙের, অনেক দামী এবং অনেক স্পিডি ফেরারি গাড়ি। সাথে অনিন্দ্যসুন্দরী এক মেয়ে ড্রাইভার। তারা জানিয়েছে, এরকম অসাধারণ সুযোগ শুধু সামান্য কিছু মানুষই পায়। সবাই পায় না। আমি সেই সামান্য কয়েকজন সৌভাগ্যবান মানুষের একজন। নিজেকে আসলেই খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। খুশি চেপে রাখতে না পেরে তাই আপনাদেরকেও জানাচ্ছি। অবশ্য আপনাদেরকে জানানোটাও এই প্যাকেজের অন্তর্ভূক্ত। আমি যত মানুষকে জানাতে পারবো, যত মানুষকে বিশ্বাস করাতে পারবো, আমার গাড়িটির ইঞ্জিন হবে তত শক্তিশালী।

পুরো ব্যাপারটাতে সমস্যা একটাই, আর সেটা হচ্ছে, গাড়িটা আমি ডেলিভারি পাচ্ছি মৃত্যুর পরে। কারণ তারা জানিয়েছে, সেই গাড়িটা এত বেশি স্পিডি যে, এক সেকেন্ডেই তাতে করে পৃথিবীর এ মাথা থেকে ঐ মাথায় চলে যাওয়া যায়। তাই পৃথিবী ঐ গাড়িটার জন্য উপযুক্ত নয়। যখন আমি মারা যাবো, এবং স্বর্গে চলে যাবো, তখন তারা গাড়িটি ডেলিভারি দেবে। স্বর্গ অনেক বড়, পৃথিবীর চাইতে হাজার গুণ বড়। তাই সেখানেই গাড়িটি কাজে লাগবে।

ভাবতেই কী খুশি লাগছে, যে আমি স্বর্গে ফেরারি গাড়ি হাঁকিয়ে পাশের সিটে একজন সুন্দরী মডেলকে নিয়ে স্বর্গের এমাথা ওমাথা ঘুরে বেড়াচ্ছি। কখনো সে গাড়ি চালাবে কখনো আমি। আহা কী আনন্দ, আকাশে বাতাসে!

তবে সেই প্রতিষ্ঠানটি কিন্তু গাড়িটা আমাকে এমনিতেই দিচ্ছে না। বিনিময়ে তাদের ওপর আমার পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে। অন্যদেরকেও এই বিশ্বাসে আহবান জানাতে হবে। এই বিশ্বাস নিয়ে কোন প্রশ্ন করা যাবে না। এবং অন্যদের এই সুসংবাদ পৌছে দিতে হবে। যেন আরো আরো মানুষ সেই প্রতিষ্ঠানটির ওপর বিশ্বাস আনতে পারে, এবং মৃত্যুর পরে একটি গাড়ি পেতে পারে। সুতরাং, যারা যারা এরকম গাড়ি পেতে ইচ্ছুক, আজই দশ ডলার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে হয়ে যান সৌভাগ্যবানদের একজন। এরকম সুযোগ কিন্তু বারবার মেলে না। শুধুমাত্র বিশেষ সৌভাগ্যবান এবং পরিপূর্ণ বিশ্বাসী মানুষেরাই পাবে এরকম গাড়ি। রেজিস্ট্রেশন করতে এখুনি এই সাইটের উপরে ডানদিকে ডোনেশন লিঙ্কে গিয়ে দশ ডলার পাঠিয়ে বুকিং দিয়ে ফেলুন একটি স্বপ্নের ফেরারী গাড়ির। দেরি করবেন না, দেরি করলেই লস।

আর যারা অবিশ্বাসী, যাদের মনে বিশ্বাস নেই, যারা এই কথাগুলোতে বিশ্বাস করবে না, মৃত্যুর পরে তাদের দেয়া হবে একটা ভাঙ্গাচুরা রিকশা। তাকেই সেটা চালাতে হবে স্বর্গে। তাদের জন্য থাকবে সীমাহীন অভিশাপ। তাদের কথা ভেবে খারাপই লাগছে। কিন্তু তারা যদি আমাদের বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন করে, কটূক্তি করে, যুক্তি তুলে ধরে, সমালোচনা করে, হাসাহাসি করে, তাহলে তাদেরকে দেখামাত্র জবাই করে ফেলতে হবে। সেটাই তাদের একমাত্র শাস্তি। কারণ ঐ প্রতিষ্ঠানটিই বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি একটি শান্তির প্রতিষ্ঠান। অশান্তি কোনভাবেই ঐ প্রতিষ্ঠানটি বরদাশত করবে না।

আসুন আমরা সেই প্রতিষ্ঠানটির প্রশংসা করি। সেই প্রতিষ্ঠানটির নাম আত্মসমর্পন। কিন্তু সবসময় আমাদের যা প্রচার করতে হবে তা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির মানে হচ্ছে শান্তি। মনে রাখবেন, সেটার যত বেশি প্রশংসা করবো, গাড়িটি হবে তত স্পিডি এবং সুন্দর। সাথে ড্রাইভার মেয়েটিও। তাই প্রশংসা চালিয়ে যান। নিশ্চয়ই মৃত্যুর পরে আপনার জন্য রয়েছে ফেরারই গাড়ি এবং সুন্দরী নারীর নেয়ামত।

অতএব তোমরা ঐ প্রতিষ্ঠানের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

কী বুঝলেন?

Facebook Comments
%d bloggers like this: