মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত কিছু মিথ এবং মিথ্যাচার

১) ইসলাম শব্দের মানে শান্তি।
ইসলাম (আরবি: الإسلام‎) শব্দটি এসেছে আরবি س-ل-م শব্দটি হতে। এই শব্দটি থেকে দুটো শব্দের উদ্ভব। একটি সালাম, বা salaam বা “سلام” বা “Peace” বা শান্তি, অন্যটি ইসলাম (আরবি: الإسلام‎) বা আত্মসমর্পন। ইসলাম শব্দের আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে শান্তি (প্রতিষ্ঠা)’র উদ্দেশ্যে এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বর (আল্লাহ)-এর কাছে নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করা। অর্থাৎ শান্তির ধারণাটি শর্তসাপেক্ষ, তা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পনের মাধ্যমে হতে হবে। ইসলামের সঠিক অর্থ হচ্ছে আত্মসমর্পন, শান্তি নয়।

২) ইসলাম সন্ত্রাস সমর্থন করে না।
সন্ত্রাস একটি আপেক্ষিক শব্দ। ইরাকে মার্কিন সেনাবাহিনী কিংবা প্যালেস্টাইনে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বা মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙলাদেশে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী দাবী করতো, তারা শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই সেখানে আক্রমণ করেছে। এই কথিত শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবীতে বিভিন্ন অজুহাতে আক্রমণ করা হয়েছে। ইরাকে আক্রমণ করা হয়েছে গোপন রাসায়নিক অস্ত্রের কথা বলে, প্যালেস্টাইনে করা হয়েছে জঙ্গি নিধনের নামে, বাঙলাদেশে করা হয়েছে কথিত ভারতের দালাল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনের নামে। আক্রমণকারী শক্তি সবসময়ই এরকম নানা অজুহাত দেখিয়ে আক্রমণ করে থাকে। শুধু আক্রমণই নয়, তারা সেখানে নারী ধর্ষণ থেকে শুরু করে নারী শিশু বৃদ্ধ মানুষ হত্যা করেছে। ইরাকের জনগণের কাছে, কিংবা প্যালেস্টাইনের জনগণের কাছে অথবা বাঙলাদেশের জনগণের কাছে সেগুলো সন্ত্রাস হিসেবেই গণ্য হবে। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল বা পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ তা জানবে সন্ত্রাস দমন নামে।

মার্কিন সেনাবাহিনী, ইসরাইলি সেনা বা পাক সেনা, এরা প্রত্যেকেই সন্ত্রাস সমর্থন করে, এবং হত্যাও করে। সেই সাথে তাদের বিরোধী পক্ষও। বিরোধী পক্ষের সেনাদের হত্যা করতে পারলে রাষ্ট্র কর্তৃক দেয়া হয় মেডেল, এবং জাতীয় বীরের সম্মান। কিন্তু এই জাতীয় বীরেরাই বিরোধী পক্ষের মানুষের কাছে ঘৃণ্য ঘাতক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এখানে বিবেচ্য হচ্ছে, এই নানা অজুহাতে আক্রমণ শুধু অস্ত্রধারী সেনাবাহিনীর মধ্যে সীমিত থাকে, নাকি তা অসামরিক সাধারণ জনগণকেও হত্যা করতে প্রেরণা দেয়। যখনই তা অসামরিক সাধারণ জনগণের ওপর চলে আসে, যারা রাজনীতির বাইরে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে যাদের তেমন কোন অংশগ্রহণ নেই, সেটাকে স্পষ্টভাবেই সন্ত্রাস বলা যেতে পারে।

হযরত মুহাম্মদের সাথে বানু কুরাইজা গোত্রের রাজনৈতিক বিরোধ শুরু হয়। এ সময়ে মুসলিমদের পক্ষের সাদ ইবনে মুয়াজকে বিরোধ মীমাংসার জন্য নিযুক্ত করা হলে তার সিদ্ধান্তে বানু কুরাইজা গোত্রের প্রাপ্তবয়স্ক সকল পুরুষ সদস্যদের হত্যা এবং নারী ও শিশুদের দাস হিসেবে বন্দী করা হয়। এই সিদ্ধান্তে হযরত মুহাম্মদের সম্মতি ছিল এবং তিনি নিজেও বন্দী গনিমতের মাল থেকে নিজের অংশ বুঝে নেন। বেসামরিক জনগণের ওপর আক্রমণ, গণহত্যা এবং তাদের স্ত্রী কন্যা শিশুদের দাস বানানো নিঃসন্দেহে মানবতার চরম অপমান। এটি সহ আরও কয়েকটি গণহত্যার দায় মুহাম্মদ এড়াতে পারেন না। এই শতাব্দীতে জন্মও হলে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা করা যেতে পারতো।

সূত্রঃ

Peterson, Muhammad: the prophet of God, p. 125-127.
Ramadan, In the Footsteps of the Prophet, p. 140f.
Hodgson, The Venture of Islam, vol. 1, p. 191.
Brown, A New Introduction to Islam, p. 81.
Lings, Muhammad: His Life Based on the Earliest Sources, p. 229-233.

৩) ইসলাম কোন অবস্থাতেই মানুষ হত্যা সমর্থন করে না।

সূরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন-

مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنَّهُ مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ إِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ بَعْدَ ذَلِكَ فِي الْأَرْضِ لَمُسْرِفُونَ

অনুবাদঃ “এই কারণেই বনি ইসরাইলিদের এই বিধান দিলাম যে নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করার কারণ ব্যতীত যদি কেউ কাউকে হত্যা করে সে যেন দুনিয়ার সকল মানুষকেই হত্যা করল। যদি কেউ একটি প্রাণ রক্ষা করে সে যেন সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করলো। অতপর যদিও তাদের নিকট আমার রাসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণসহ এসেছিল এরপরও তাদের মধ্যে অনেকেই সীমালঙ্ঘনকারীই থেকে গেল।”
উল্লেখ্য, এই আয়াতটি স্পষ্টভাবেই বনি ইসরাইলিদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে। মুসলমান বা অন্যদের উদ্দেশ্যে নয়। খেয়াল করে পড়ুন। সেই সাথে, এই আয়াতটি মুহাম্মদ বা কোরানের মৌলিক আয়াত নয়। এই আয়াতটি তোরাহ থেকে মুহাম্মদ টুকে নিয়ে কোরানে যুক্ত করেছেন।

Whoever destroys a soul, it is considered as if he destroyed an entire world. And whoever saves a life, it is considered as if he saved an entire world.
Mishnah Sanhedrin 4:5; Yerushalmi Talmud 4:9, Babylonian Talmud Sanhedrin 37a.

এই আয়াতটি নিয়ে মুসলিমরা অনেক গর্ব করলেও অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, এর ঠিক পরের প্রাসঙ্গিক আয়াতটি তারা বলতে ইতস্তত করেন। ঠিক পরের আয়াতেই অর্থাৎ সুরা মায়দার ৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন,
“যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালায় এবং সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের প্রসারের জন্য, তাদের শাস্তি হচ্ছে তাদের হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশ বিদ্ধ করা হবে, অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে কিংবা তাদের দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। পৃথিবীতে এটাই হবে তাদের লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।”
অর্থাৎ, বনি ইসরাইলিদের যদিও আল্লাহ একটা ভাল কথা বলেছিলেন, পরক্ষণেই আবার মারামারি কাটাকাটি হত্যা খুন হাত পা কেতে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। এরকম হুমকি ধামকির সুরা কোরানে অজস্র।

৪) নবী মুহাম্মদ কোন মানুষ হত্যা করে নি।

৫) নবী মুহাম্মদ শত্রুদেরও ভালবাসতো।

৬) মক্কা পৃথিবীর কেন্দ্র।

পৃথিবী যেহেতু গোলাকার, কোন সমতল ভূমি নয়, তাই পৃথিবীর কেন্দ্র কোন নির্দিষ্ট জায়গা হতে পারে না। পৃথিবীর কেন্দ্র নির্ণয় করতে হলে সেটা হবে মাটির ভেতরে।

প্রাচীনকালে মানুষের ধারণা ছিল পৃথিবী হচ্ছে সমতল, অনেকটা এরকম। এই সমতল বিশ্বের ধারণায় পৃথিবীর কেন্দ্র থাকা সম্ভব ছিল।

তাই পৃথিবীর কেন্দ্রের ধারণা একেবারে প্রাগৌতিহাসিক সমতল বিশ্বের ধারণা। পৃথিবীর উপরিভাগে সেরকম কোন কেন্দ্রের স্থান নেই, গোলাকার হওয়ার কারণে প্রতিটি বিন্দুকেই কেন্দ্রও ধরা যেতে পারে। তারপরেও, পৃথিবীর ভূমি হিসেব করে তার কেন্দ্রও হিসেবে Geographical centre of Earth বের করলে তা বের হয় মিশরে। মক্কায় নয়। সেই সাথে, উত্তর মেরু থেকে মক্কা প্রায় ৪৫৭৫ মাইল দূরে, (৭৩১৭ কিলোমিটার) এবং দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ৭৪২৫ মাইল (১১৮৮০ কিলোমিটার) দূরে।

৭) জমজমের পানিতে রোগ ভাল হয়

জমজমের পানিতে আর্সেনিকের সন্ধান পাওয়া গেছে বহু বছর আগেই। বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশ হয়, World Health Organization এর নির্ধারিত ক্ষতিকর আর্সেনিকের মাত্রার অন্তত তিনগুণ বেশি আর্সেনিক পাওয়া গেছে জমজমের পানিতে। । বৃটেনে রীতিমত জমজমের পানি বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এবং একে ভয়ঙ্কর কেমিক্যাল যুক্ত বিষাক্ত পানীয় বলে গণ্যও করা হয়েছে। সেই সাথে এই পানীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি একটি সেনসিটিভ ব্যাপার।

Dr Yunes Ramadan Teinaz, an environmental health officer who has previously warned about Zam Zam water, said it was “a sensitive matter”.

“People see this water as a holy water,” he added.

“They find it difficult to accept that it is contaminated but the authorities in Saudi Arabia or in the UK must take action,” he said.

৮) মক্কায় বন্যা হয় না

মক্কায় বন্যার ছবি

 

৯) কাবার উপরে পাখী উড়ে না

কাবায় হাগু করছে একটি কবুতরঃ

১০) বিজ্ঞানীরা কোরান পড়ে বিজ্ঞান আবিষ্কার করে।

বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে এবং নামাজের খুতবায় প্রায় প্রতিদিনই দাবী করা হয়, বিজ্ঞানীগণ নাকি কোরান রিসার্চ করেই নানা বিষয় আবিষ্কার করেন। এই একই ধরণের বিশ্বাস অশিক্ষিত খ্রিস্টান কিংবা হিন্দুদেরও। মাঝে মাঝে অমুক তমুক বিজ্ঞানীর নাম বলে দাবী করা হয়, অমুক তমুক বিজ্ঞানী কোরান পড়ে মুসলমান হয়ে গেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাস্তবে এরকম কোন বিজ্ঞানীর সন্ধান পাওয়া যায় না। সেই সাথে, বিজ্ঞানীরা কোরান পড়ে বিজ্ঞান আবিষ্কার করে, এরকম হাস্যকর কথার জবাব দিতেও কোন বিজ্ঞানীই রাজী হন না। কারণ এসব নিয়ে হাসাহাসি করা যায়, এই নিয়ে আলোচনা করা যায় না।

১১) NASA র ছবি তে দেখা গেছে চাঁদকে দুই ভাগ এ ভাগ করা হয়েছিলো।

এই রকম বেশ কিছু ছবি দিয়ে দাবী করা হয়, চাঁদ দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। কিন্তু এরকম রেখা প্রতিটি গ্রহে প্রতিটি উপগ্রহে অসংখ্য পাওয়া যায়। এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে নাসার বিজ্ঞানী ব্রাড বাইলি জানান,

NASA scientist Brad Bailey said, “My recommendation is to not believe everything you read on the internet. Peer-reviewed papers are the only scientifically valid sources of information out there. No current scientific evidence reports that the Moon was split into two (or more) parts and then reassembled at any point in the past.”

১২) নীল আর্মস্ট্রং মুসলিম হয়েছেন।

  • দাবীঃ নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে আজান শুনেছিলেন। উল্লেখ্য, চাঁদে বাতাস না থাকায় শব্দ শোনা যায় না। শব্দ শুনতে বাতাসের প্রয়োজন হয়। তাই চাঁদে আজান শোনা খুবই হাস্যকর দাবী।
  • দাবীঃ নীল আর্মস্ট্রং মুসলিম হয়েছিলেন! নীচের চিঠিটি ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট হতে সকল ইসলামি এবং মুসলিম সংখ্যাগুরু দেশগুলোর দূতাবাসগুলোতে পাঠানো হয়েছিল।

P 04085 0Z MAR 83 ZEX

FM SECSTATE WASHD C

TO ALL DIPLOMATIC AND CONSULAR POSTS PRIORITY

BI

UNCLAS STATE 056309

FOLLOWING REPEAT SENT ACTION ALL EAST ASIAN AND PACIFIC DIPLOMATIC POSTS DID MAR 02.

QUOTE:   UNCLAS STATE 056309

E.O.  12356: N/A

TAGS:  PREL, PGOV, US, ID

SUBJECT:     ALLEGED CONVERSION OF ENIL ARMSTRONG TO ISLAM

———————————————

REF: JAKARTA 3081 AND 2374 (NOT ..)

FORMER ASTRONAUT NEIL ARMSTRONG, NOW IN PRIVATE BUSINESS, HAS BEEN THE SUBJECT OF PRESS REPORTS IN EGYPT, MALAYSIA AND INDONESIA (AND PERHAPS ELSEWHERE) ALLEGING HIS CONVERSION TO ISLAM DURING HIS LANDING ON THE MOON IN 1969.  AS A RESULT OF SUCH REPORTS, ARMSTRONG HAS RECEIVED COMMUNICATIONS FROM INDIVIDUALS AND RELIGIOUS ORGANIZATIONS, AND A FEELER FROM AT LEAST ONE GOVERNMENT, ABOUT HIS POSSIBLE PARTICIPATION INISLAMIC ACTIVITIES.

WHILE STRESSING HIS STRONG DESIRE NOT TO OFFEND ANYONE OR SHOW DISRESPECT FOR ANY RELIGION, ARMSTRONG HAS ADVISED DEPARTMENT THAT REPORTS OF HIS CONVERSION TO ISLAM ARE INACCURATE.

IF POST RECEIVE QUERIES ON THIS MATTER, ARMSTRONG REQUESTS THAT THEY POLITELY BUT FIRMLY INFORM QUERYING PARTY THAT HE HAS NOT CONVERTED TO ISLAM AND HAS NO CURRENT PLANS OR DESIRE TO TRAVEL OVERSEAS TO PARTICIPATE IN ISLAMIC RELIGOUS ACTIVITIES.

বিস্তারিত এখানে

১৩) কোরানে পৃথিবী গোলাকার তা বলা হয়েছে।

১৪) বিবর্তনবাদ একটি থিওরি মাত্র, একে এত গুরুত্ব দেয়ার কিছু নেই।

১৫) তাহলে মানুষ কী বানরের বংশধর?

ব্যাপারটি জানার আগে আমাদের জানা প্রয়োজন, বানর বলতে আমরা আসলে কী বুঝি।  আধুনিক যেই বানর, বহু বছর আগে বানর এরকম ছিল না। বিবর্তন তত্ত্ব বলছে যে, মানুষ আর পথিবীর বুকে চড়ে বেড়ানো অন্যান্য বাদঁর কিংবা বনমানুষেরা অনেক অনেককাল আগে একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভুত হয়ে বিবর্তিত হয়েছে। তাদের একটি কমন এন্সেস্টর বা পূর্বপুরুষ রয়েছে।

১৬) মাইকেল জ্যাকসন মুসলমান হয়েছিলেন।

মাইকেল জ্যাকসন মুসলমান হয়েছিলেন, এরকম কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নি। আরব বিশ্বের অনেক ধনকুবেরের  সাথে মাইকেল জ্যাকসনের সুসম্পর্ক ছিল, এবং একটি ইসলামি গানের কণ্ঠ মাইকেল জ্যাকসনের মত হওয়ায় এই প্রচারটি আরব বিশ্বে করা হয়, যার কোন যৌক্তিকতা নেই।

১৭) সুনিতা উইলিয়ামস ইসলাম গ্রহণ করেছেন 

একদমই ডাহা মিথ্যা কথা। সুনিতা উইলিয়ামস ভগবৎ গীতা নিয়ে মহাকাশে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তার সাথে গণেশের একটি মূর্তিও ছিল। এই ইন্টার্ভিউতে তিনি সে কথাই বলেছেন।

 

১৮) নবী মুহাম্মাদ ইতিহাস এর শ্রেষ্ট মানব, সারা পৃথিবী এটা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।

The 100 : A Ranking of the Most Influential Persons in History” বই এর লেখক Michael H. Hart সবচাইতে প্রভাবশালী ব্যক্তির লিস্টে হযরত মুহাম্মদকে প্রথমে রেখেছেন। এখানে উল্লেখ্য, প্রভাবশালী বলতে তিনি কিন্তু শ্রেষ্ট বোঝান নি। তিনি নিজেই বইটির ভূমিকায় লিখেছেন,

My choice of Muhammad to lead the list of the world’s most influential persons may surprise some readers and may be questioned by others, but he was the only man in history who was supremely successful on both the religious and secular (ইহলৌকিক) level.
(Michael H. Hart, The 100: A Ranking of the Most Influential Persons in History)

সেই সাথে, সেই লিস্টে নৃশংস খুনি হিটলারের নামও ছিল। ছিল গণহত্যাকারী কলম্বাসের নাম, ছিল ভয়াবহ খুনি চেঙ্গিস খানের নামও। যদি শ্রেষ্ট মানুষের লিস্টই তা হয়ে থাকে, তাহলে এদের নাম তো থাকার কথা না, তাই না? এদের নাম ছিল কারণ এরা নিজ সময়ে প্রভাবশালী ছিলেন।

১৯) ইসলামিক স্বর্ণযুগে মুসলমান বিজ্ঞানী দার্শনিকদের মিথ।

২০) জর্জ বার্নার্ড শ মহানবীর প্রশংসা করেছিলেন 

২১) এপ্রিল ফুল মুসলমান হত্যার ইতিহাস

** এই লিস্টটি ধীরে ধীরে আপডেইট হবে। 

Facebook Comments
%d bloggers like this: