আমি কেন ইসলামে বিশ্বাস করি না। পর্ব-২

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়।
বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে।
বরং বুদ্ধির নখে শান দাও, প্রতিবাদ করো।
অন্তত আর যাই করো, সমস্ত কথায়
অনায়াসে সম্মতি দিও না।
কেননা, সমস্ত কথা যারা অনায়াসে মেনে নেয়,
তারা আর কিছুই করে না,
তারা আত্মবিনাশের পথ
পরিস্কার করে।

মিলিত মৃত্যু-নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

আগের পর্বটি যারা আগে পড়েন নি, তারা অনুগ্রহ করে পড়ে আসবেন। আশাকরি, এই সিরিজটি পাঠক মন দিয়ে পড়বেন এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ যেই কথাটি বলা প্রয়োজন, তা হচ্ছে, আমার সকল কথা কিছুতেই বিশ্বাস করবেন না। আপনারা নিজেরাই রেফারেন্সগুলো যাচাই করে দেখবেন, মেলাবেন, প্রশ্নগুলো ভেবে দেখবেন, এবং নিজের মগজ ব্যবহার করে চিন্তা করবেন। নিজের বিবেক এবং বুদ্ধি খাঁটিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। কোন কিছু পড়া মাত্রই বিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই। আমার লেখার প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে, পাঠকের চিন্তাশীলতার বিকাশ ঘটানো। যদি আমার সমালোচনা করতে চান, আমার ভুল ধরতে চান, আপনাকে আমি স্বাগত জানাবো। আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবো না, বা আপনাকে সে কারণে চাপাতি দিয়ে কোপাতেও চাইবো না। বরঞ্চ যুক্তি সহকারে আমার ভুল ধরিয়ে দিলে আমিই আপনার কাছ থেকে কিছু শিখতে পারবো। মানব সভ্যতা এভাবেই এগিয়েছে। ক্রমাগত ভুল সংশোধনের মাধ্যমে।

সব কিছুতেই অবিশ্বাস? সন্দেহ? সংশয়? 

আবারো ছোটবেলা থেকে শুরু করি।  ছোটবেলা শুক্রবার দিন টিভিতে বাঙলা সিনেমা দেখাতো। আমাদের বাসায় একটা টিভি ছিল, এলাকার বহু লোক জানালা দিয়ে সেই টিভিটা দেখতে আসতো। আমাদের এলাকাটা দরিদ্র এলাকা ছিল বলে, বেশিরভাগ মানুষের বাসাতেই টিভি ছিল না। আমাদের একটা ছোটখাটো সাদাকালো টিভি ছিল, সেই টিভি দেখার জন্য শুক্তবার দুপুরের পর থেকেই লম্বা লাইন লেগে যেতো। বাঙলা সিনেমা তো চলতোই, মাঝে মাঝে ভিসিআর দিয়ে হিন্দিও চলতো।

যখন সিনেমা দেখতাম, আমাদের বাসার পাশের বস্তি থেকে অনেক লোকজন এসে জমা হতো, তারা আমাদের সাথেই বসে টিভি দেখত। লোকগুলো অশিক্ষিত, এবং মোটামুটি বোকাসোকা। সিনেমায় নানা আজগুবি জিনিস দেখাতো। আমার মনে নানা রকম প্রশ্ন আসতো। ঠিক বিশ্বাস হতো না। খালি প্রশ্ন করতাম। কিন্তু অবাক হয়ে দেখতাম, ঐ অশিক্ষিত মানুষগুলোর মনে কোন প্রশ্ন নেই। কোন জিজ্ঞাসা নেই। যা দেখছে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বাস করছে। ভীষণ আবেগে উৎফুল্ল হয়ে যাচ্ছে। নায়ক ফাইটে জিতলেই সবাই খুব খুশি, অতি আনন্দে হাততালি দেয়া শুরু। আবার নায়িকা শাবানার চোখের পানি দেখে তাদের সে কী কান্না! কান্নাকাটি করে সবাই গড়াগড়ি খাচ্ছে। এই অশিক্ষিত মানুষগুলো আসলেই মনে করে, সিনেমাতে যা দেখায় সেগুলো সবই সত্যি। অনেকে আবার মনে করে, কাগজে যা লেখা থাকে সেগুলো সবই সত্যি।

একবার দেখলাম, একটা হিন্দি সিনেমায়, নাগিন কি পিয়াস না কি জানি নাম হবে। শ্রীদেবী নামক এক নায়িকা এই সাপ হয়ে যাচ্ছে, আবার মানুষ হয়ে যাচ্ছে। সবাই তা দেখে তুমুল হাততালি। কেউ কেউ শিসও দিচ্ছে। উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে সবাই সিনেমা দেখে যাচ্ছে। আমি বেমক্কা মাঝখানে প্রশ্ন করে বসলাম, সাপ থেকে মানুষ হলো তা তো বুঝলাম, কিন্তু মেয়েটা মানুষ হওয়ার সাথে সাথে এরকম পোশাক পেল কোথায়? সাপ থেকে মানুষ হওয়ার পরে তো তার নগ্ন থাকবার কথা, তাই না?

এই প্রশ্ন করার সাথে সাথে সবাই মিলে আমাকে তুমুল বকাঝকা। আমি বেদ্দপ, আমি কিছু বুঝি না, জ্ঞান নাই, অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী, দুই পাতা বই পড়ে নিজেকে আমি পণ্ডিত মনে করছি ইত্যাদি নানা কথা। অথচ আমার প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিক প্রশ্ন ছিল। আমি আজ পর্যন্ত জানতে পারলাম না, সাপ থেকে মানুষ হওয়ার পরে শ্রীদেবী জামা পেল কোথায়! অদ্ভুত কাণ্ড।

আবার ধরেন, বাঙলা সিনেমায় দেখাতো, পাগলা বাবার দরবারে গিয়ে নায়িকা খুব কান্না করছে, আর আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। সাথে সাথে নায়ক হাসপাতালে মরা থেকে উঠে গেল, গিয়েই ভিলেনদের সাথে তুমুল মারপিট। কী অবস্থা! আমি বেমক্কা প্রশ্ন করলাম, তাহলে এখন থেকে কেউ অসুস্থ হলে বা এক্সিডেন্ট করলে হাসপাতালে না নিয়ে পাগলা বাবার দরবারে নিয়ে যাওয়া উচিত। এই কথা বলার সাথে সাথে সবাই একজোট হয়ে আমাকে ধমকা ধমকি। আমি নাকি খুব পাপ কাজ করে ফেলেছি। পাগলা বাবাকে নিয়ে এরকম ব্লাসফেমাস কথা বলা আমার ঠিক হয় নি। যাইহোক।

এই অভ্যাস এখনো আছে। সিনেমা দেখার সময় তার পেছনের বিজ্ঞানটুকু বোঝার চেষ্টা সম্ভবত আমার মজ্জাগত। হলিউড বলিউড সব সিনেমাতেই আমি ক্রিটিক্যালি দেখি। না দেখে পারি না। বিনোদন পাই বটে, তবে ক্রিটিক্যালি দেখাটুকু ছাড়া সম্ভব নয়। মাথায় নিজে নিজেই সেই সব যুক্তি ঘুরতে থাকে। যখন তামিল তেলেগু সিনেমায় দেখি, রজনীকান্ত নামক নায়ক ছুরি ছুড়ে মেরে গুলি করে, গুলি দুই ভাগ হয়ে দুই ভিলেনকে সাইজ করে দেয়, তখনো হাসি পায়। তবে এই হাসিটুকু যদি দক্ষিণ ভারতের কোন লোক দেখে, নির্ঘাত আমাকে জবাই করবে। শুনেছি ঐ অঞ্চলের লোকের কাছে রজনীকান্ত দেবতার মত। তার অসম্মান তারা সহ্য করবে বলে মনে হয় না। যেমন ধরুন নিচের ভিডিওটি। খুবই মজার সন্দেহ নেই, দেখে ব্যাপক বিনোদন পাওয়া যায়। তবে কেউ এইরকম ভিডিও বিশ্বাস করে বসলে সেটা হবে বিস্ময়কর ঘটনা।


যা বলছিলাম। টিভিতে দেখালেই তা সত্যি, বা কেতাবে দেখালেই তা সঠিক, বা কোন জাদু মন্ত্র অলৌকিক কাজ কারবারের দাবীদার সব সত্য, বা আমার মা বাবা বলেছেন বলেই তা সত্যি, বা ছোট বেলা থেকে শুনে আসছি বলেই তা সত্যি, এরকম আমার পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি বিষয় যাচাই বাছাই করে দেখতে চাই, সত্যতা পরীক্ষা করতে চাই। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমাগুলোতে এরকম হাজার হাজার আজগুবি কাহিনী থাকে। ধরুন আমি রজনীকান্তের ফ্যান। রজনীকান্ত ছাড়া বাদবাকি সিনেমাগুলো দেখে আমি হাসাহাসি করি। বলি, ধুর, সব বোগাস। কিন্তু রজনীকান্ত তার সিনেমায় যতই বোগাস জিনিস দেখাক, তা আমি অন্ধভাবে বিশ্বাস করি। এরকম মানুষ তো অনেক পাওয়া যায়, তাই না? কোন বিশেষ হিরোর ফ্যান, বা কোন বিশেষ দেবতার ফ্যান, বিশেষ সুপারহিরোর ফ্যান, বা কোন বিশেষ ঈশ্বরের ডাইহার্ড ফ্যান। সেই ঈশ্বর যতই আজগুবি কাজ কারবার করুক, বা বোকা বোঝাক, অনেকে তা নির্দ্বিধায় মেনে নেবে। কারণ তারা অন্ধ এবং বিশ্বাসী।
একবার এক ভদ্রলোকের সাথে আলাপ। ভদ্রলোক আরবের কোন দেশের সাংবাদিক। আমি বাঙলাদেশি শুবিখ্যাতনে জিজ্ঞেস করলো, আমি হিন্দু না মুসলিম।
আমি বললাম, আমি ধর্ম বিশ্বাসী নই। শুনে সে খুব বিজ্ঞের ভঙ্গিতে হাসতে হাসতে বললো, আমিও খুবই প্রগতিশীল বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ। কুসংস্কার একদম বিশ্বাস করি না। এই যে ধরো, একটা হিন্দি সিনেমায় দেখেছি হিন্দুদের দেবতা হনুমান নাকি পাহাড় তুলে নিয়ে উড়ে এসেছিল। এই শতাব্দীতেও লোকে এ কথা বিশ্বাস করে ভাবতেই অবাক লাগে। কত অশিক্ষিত আহাম্মক এই লোকগুলো। ছিঃ ছিঃ, এতো জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষা দীক্ষার ঘোর অপমান। বা ধরো এখনো অনেকেই বিশ্বাস করে জাদুটোনার কথা। ব্ল্যাক ম্যাজিক, ভুত পেত্নী। এই সব কুসংস্কারই তো সমাজকে আটকে রেখেছে।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কী বিশ্বাস করো, যে নবী মুহাম্মদ পাখনাওয়ালা বোরাক ঘোড়ায় চড়ে মহাশূন্য সাত আসমান পাড়ি দিয়ে রাতের মধ্যে ফিরে এসেছে?
সে উত্তর দিলো, নিশ্চয়ই। এটা তো আমার ধর্মবিশ্বাস!

যাকগে, এবারে মূল আলাপে আসি। আলোচনা শুরুর আগে যে বিষয়টি উল্লেখ করা প্রয়োজন, তা হচ্ছে, কোরানের মধ্যে বহু কিছুর বর্ণনা পাওয়া যায় যা আসলে আরবের মরুভূমিতে বসবাসকারী একজন অশিক্ষিত মানুষের কাছ থেকে পাওয়া খানিকটা কঠিন। তবে একেবারে অসম্ভব ব্যাপার তা নয়। কারণ ইতিহাসে এরকম অসংখ্য ব্যক্তির উল্লেখ আমরা পাই, যারা নিরক্ষর বা প্রায় অশিক্ষিত হওয়ার পরেও জ্ঞান বিজ্ঞান সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতেন। সেই সময়ে মানব জ্ঞান যতটুকু এগিয়েছে, তা সম্পর্কে ধারণা রাখতেন। যেমন ধরুন হোমারের কথা। ইলিয়াড এবং ওডিসির মত দুই দুইটা মহাকাব্যয়ের রচয়িতা তিনি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, তিনি ছিলেন একজন অন্ধ মানুষ। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে উনি জীবিত ছিলেন ১২০০-৮০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ সময়ের মধ্যে। অর্থাৎ মুহাম্মদের জন্মের পনেরোশত বছর পূর্বে।

হোমার

এটা তো শুধু একটি উদাহরণ। ইতিহাসে এরকম উদাহরণ অসংখ্য যে, বহু প্রাচীন যুগে অন্ধ বা বাক প্রতিবন্ধী মানুষ সৃষ্টি করে গেছেন অসাধারণ কিহু সৃষ্টি, যা আমাদের আজও মুগ্ধ করে। যেমন পিরামিডের আর্কিটেকয়ার নিয়ে আজও আমরা অবাক হই। কিংবা ধরুন চীনের প্রাচীর। বা অনেক অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষের সাহিত্য, সংগীত, কবিতা আমাদের মুগ্ধ করে। আমরা অবাক হয়ে ভাবি, এত প্রাচীন যুগে একজন অন্ধ মানুষ কীভাবে এরকম দুটি মহাকাব্য রচনা করলেন! এত দূরে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই, আমাদের লালন ফকির কিংবা নজরুলের কথাই ধরি। বা আরজ আলী মাতুব্বরের কথা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও উনারা এক একজন ছিলেন নিজ সময়ের মেধাবী মানুষ। কিন্তু তারা নিজেদের প্রেরিত রাসুল বা ঈশ্বরের ওহী প্রাপ্ত বলে দাবী করেন নি। ভাবুন তো, হোমার যদি দাবী করতো, ইলিয়াড ওডিসি আসলে তিনি ঈশ্বরের থেকে ওহী প্রাপ্ত হয়ে লিখেছেন, তাহলে? বা লালন ফকির? মুহাম্মদ যদি নিজেকে আর দশজন মেধাবী মানুষের মতই একজন সাধারণ মানুষ বলতেন, উনাকে নিয়ে আলাপ আলোচনাও সেরকম ভাবে হতে পারতো। আমরা অবশ্যই মুহাম্মদকে তার সময়ের একজন মেধাবী মানুষ হিসেবেই মেনে নিতাম। কিন্তু যেহেতু তিনি নিজ মেধাটুকু ব্যবহার করেছেন রাজনৈতিক কারণে, ক্ষমতা প্রাপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে, আল্লাহর প্রেরিত রাসুল বলে, তাই চুলচেরা বিচার বিবেচনা করে দেখা প্রয়োজন, উনার বক্তব্যের সত্যটা কতটুকু। আচ্ছা, মুহাম্মদ কী আসলেই নিরক্ষর ছিলেন?

■ মুহাম্মদ কী আসলেই নিরক্ষর ছিলেন? 

খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (خديجة بنت خويلد) ছিলেন মুহাম্মদের প্রথম স্ত্রী। তিনি কে ছিলেন? তিনি ছিলেন সেই সময়ে মক্কার অন্যতম ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। নিজ যোগ্যতায় অনেক বড় ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে তাঁকে আমেরাত কুরাইশ বা কুরাইশদের রাজকন্যা নামেও ডাকা হতো। ব্যবসার কাজে তিনি মুহাম্মদকে নিয়োগ করেন। তখনও মুহাম্মদ নবুয়ত লাভ করেন নি। তাঁর ব্যবসা দেখাশোনা এবং ব্যবসায় কর্মচারিদের মধ্যে প্রধান ব্যক্তিই ছিলেন মুহাম্মদ। সেই ব্যবসায় হিসেব নিকেশের কাজ ছিল, অন্য শহর এবং অন্য ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার বিষয় ছিল। প্রশ্ন জাগে, এরকম একজন অশিক্ষিত নিরক্ষর ব্যক্তিকে খাদিজা কেন নিজের এত বড় ব্যবসার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করবেন? উনার মত একজন সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী এত বোকা হবেন তা ধরে নেয়া মুশকিলের ব্যাপার।

বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে ইসকারের ” সিরাত আল রসুল” বই থেকে পাওয়া যায়, একবার মুসাইলিমা আল হাবীব নিজেকে নবী দাবী করে চিঠি লিখেমুহাম্মদকে।

From Musaylima the apostle of God to Muhammad the apostle of God. Peace upon you. I have been made partner with you in authority. To us belongs half the land and to Quraysh half, but Quraysh are a hostile people…

উত্তরে মুহাম্মদ লেখেন:
From Muhammad the apostle of God to Musaylima the liar. Peace be upon him who follows the guidance. The earth is God’s. He lets whom He will of His creatures (to) inherit it and the result is to the pious…

সেই সাথে, হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় মুহাম্মদ নিজেই সন্ধির কাগজটি পরিমার্জনা করেন বলেও একটি সহি হাদিস পাওয়া যায়।

সহীহ বুখারী (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ৫৩/ বিবাদ মীমাংসা, হাদিস নম্বরঃ ২৬৯৮
বারা’ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুদায়বিয়াতে (মক্কাবাসীদের সঙ্গে) সন্ধি করার সময় ‘আলী (রাঃ) উভয় পক্ষের মাঝে এক চুক্তিপত্র লিখলেন। তিনি লিখলেন, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। মুশরিকরা বলল, ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ লিখবে না। আপনি রাসূল হলে আপনার সঙ্গে লড়াই করতাম না?’ তখন তিনি আলীকে বললেন, ‘ওটা মুছে দাও’। ‘আলী (রাঃ) বললেন, ‘আমি তা মুছব না।’ তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজ হাতে তা মুছে দিলেন এবং এই শর্তে তাদের সঙ্গে সন্ধি করলেন যে, তিনি এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীরা তিন দিনের জন্য মক্কা্য় প্রবেশ করবেন এবং জুলুববান جُلُبَّانُ السِّلَاحِ ব্যতীত অন্য কিছু নিয়ে প্রবেশ করবেন না। তারা জিজ্ঞেস করল, جُلُبَّانُ السِّلَاحِ মানে কী? তিনি বললেন, ‘জুলুববান’ মানে ভিতরে তরবারীসহ খাপ।’ (১৭৮১) (মুসলিম ৩২/৩৪ হাঃ ১৭৮৩, আহমাদ ১৮৬৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫০২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৫১৫)
Sahih Muslim, Book 019, Number 4401), al-Bara’ b. ‘Azib, one of Mohammad’s gang members testified: “Abu Talib penned the treaty between the Holy Prophet (may peace be upon him) and the polytheists, on the Day of Hudaibiya. ……………..They (the polytheists) said: Do not write the words: “Messenger of Allah.” If we knew that you were the Messenger of Allah, we would not fight against you”. Smart people indeed! The narrator continues….. “The Prophet (may peace be upon him) said to Ali: “Strike out these words!” He, (Ali) said: “I am not going to strike them out.” So the Prophet (may peace be upon him) struck them out with his own hand………….”.

Heraclius the Emperor of Rome কে পাঠানো চিঠি
Negus, king of Abyssinia কে পাঠানো চিঠি

উপরের চিঠিগুলো অন্য কেউ লিখে থাকতেই পারে। তা নিয়ে বলছি না। বলছি নিচের দুটো হাদিস নিয়ে। এরকম বেশ কয়েকটি হাদিস পাওয়া যায়। বিশ্বাস না হলে হাদিস বই নিজেই খুলে দেখুন।

 

হাদিসটি হচ্ছে,

পরিচ্ছদঃ ৩/৩৯ ইলম লিপিবদ্ধ করা।

১১৪. ইবনু ‘আববাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অসুখ যখন বৃদ্ধি পেল তখন তিনি বললেনঃ ‘আমার নিকট লেখার জিনিস নিয়ে এস, আমি তোমাদের এমন কিছু লিখে দিব যাতে পরে তোমরা আর পথভ্রষ্ট হবে না।’ ‘উমার (রাযি.) বললেন, ‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রোগ-যন্ত্রণা প্রবল হয়ে গেছে (এমতাবস্থায় কিছু বলতে বা লিখতে তাঁর কষ্ট হবে)। আর আমাদের নিকট তো আল্লাহর কিতাব আছে, যা আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ এতে সহাবীগণের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিল এবং শোরগোল বেড়ে গেল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও। আমার নিকট ঝগড়া-বিবাদ করা অনুচিত।’ এ পর্যন্ত বর্ণনা করে ইবনু ‘আববাস (রাযি.) (যেখানে বসে হাদীস বর্ণনা করছিলেন সেখান থেকে) এ কথা বলতে বলতে বেরিয়ে এলেন যে, ‘হায় বিপদ, সাংঘাতিক বিপদ! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর লেখনীর মধ্যে যা বাধ সেধেছে।’ (৩০৫৩, ৩১৬৮, ৪৪৩১, ৪৪৩২, ৫৬৬৯, ৭৩৬৬ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৫)

এবারে বলুন তো, একজন নিরক্ষর অশিক্ষিত ব্যক্তি কেন লেখার জিনিস নিয়ে আসতে বলবেন, এবং লিখে দিতে চাইবেন? 

■ বিজ্ঞানের পদ্ধতি

ছোটবেলার কথা। সাধারণ গণিত পরীক্ষা দিতে বসেছি। এসেছে এক ভ্যাজাইল্লা জিনিস যাকে বলে সরল অংক। তো আমি খাটাখাটনি করে করে ফেললাম, উত্তর আসলো ১৩। সামনের সিটে বসা ফার্স্ট বয়, উঁকি দিয়ে দেখি তার উত্তর এসেছে ১। কী মুসিবতের কথা বলেন তো। এখন কী করি? সময়ও তো আর নাই। যন্ত্রণা! যাইহোক, বুদ্ধি বের করলাম। লিখলাম,

= ১৩
= ১৩-১২
= ১
উত্তরঃ ১

মারাত্মক বুদ্ধি আর কী। মনে মনে আশা, গণিত শিক্ষক উত্তর দেখেই নম্বর দিয়ে দেবেন। কিন্তু আল্লার মাইর দুনিয়ার বাইর। স্যার এসে কানে ধরে জিজ্ঞেস করলেন, ১২ কই থিকা পাইলি রে? আমি আর কী বলব! বললাম স্যার আরেকজনার থেকে ধার নিছি। পরে শোধ দিয়া দিবো নে। এই হইলো ছোটবেলার চোরচোট্টামি কারবার।

এই নিয়ে বিশাল ক্যারফা। এইটা ছোটবেলার একটা গল্প। যেই কারণে গল্পটা বললাম এখন সেটা বলি। বিজ্ঞানের পদ্ধতি বিষয়ে কথা। বিজ্ঞান আগে তথ্য উপাত্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে, সেই তথ্য উপাত্ত প্রমাণ বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। কিন্তু, ধরুন যদি আমি উত্তর জানি, এবং সরল অংকের গল্পটির মতই আমি কোথাও ভুল করি, তাহলে গোঁজামিল দেয়ার জন্য আসমান থেকে ১২ ধার করে এনে বিয়োগ দিয়ে উত্তর মিলিয়ে দেয়া সম্ভব। যখন কেউ জিজ্ঞেস করবে, ১২ কই থেকে পেলে? তখন তাদেরকে নাস্তিক, ইসলামবিদ্বেষী বলে হুংকার দিয়ে কল্লা নামিয়ে দিলেই হলো। ধর্মবিশ্বাস ঠিক এভাবেই কাজ করে। যখন উত্তর মিলবে না, তখন দেখবেন টুপ করে “ইহা অলৌকিক বিষয়, ইহা বোঝার মত জ্ঞান আমাদের নাই” বলে প্রমাণ করতে চাইবে, পবিত্র কেতাবে আগে থেকেই সব বলা আছে।

■ সেই তো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি

আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, বাইবেলে নানা ধরণের হাবিজাবি লেখা আছে। দুনিয়া নাকি ফ্ল্যাট, দুনিয়া স্থির রাখার জন্য নাকি পেরেকের মত পাহাড়ের দরকার, আকাশ নাকি মাথায় ভেঙ্গে পড়তে পারে, ইত্যাদি নানান হাবিজাবি। গ্যালিলিও কোপারনিকাস জিওনার্দো ব্রুনো যখন বলছিলেন, পৃথিবী গোলাকার, এবং সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, তা নিয়ে কত কিছুই না হয়ে গেছে। সেইসব আপনারা নিশ্চয়ই জানেন। ব্রুনোকে তো পুড়িয়েই মারা হয়েছিল। এই নিয়ে চার্চের সাথে বিজ্ঞানের সংঘাত বহু বছরের। চার্চ বহু বছর ধরে দাবী করে এসেছে, পৃথিবী ছয় হাজার বছর পুরনো এবং ঈশ্বর ছয়দিনে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে সপ্তম দিনে বিশ্রাম নেন। শুধু তাই নয়, পশুপাখি সবই ঈশ্বর একই সময়ে সৃষ্টি করেন। এবং পৃথিবী হচ্ছে মহাবিশ্বের কেন্দ্র। সূর্য সহ সবকিছুই নাকি পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে।

এই সব নিয়ে চার্চের অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে চার্চ স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে, অনেক রক্তক্ষয়ের পরে, যে পৃথিবী নয়, সূর্যই সৌরজগতের কেন্দ্র। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সম্প্রতি খ্রিস্টান মৌলবাদীরা দাবী করছে, সূর্য যে সৌরজগতের কেন্দ্র, তা নাকি বাইবেলে আগে থেকেই বলা ছিল। পৃথিবী যে গোল সেটাও। এতদিন নাকি খ্রিস্টানরা বাইবেলের আসল রূপক অর্থটি বুঝতে পারে নি, সেই কারণেই এত বিপত্তি। গ্রাম দেশে একটা কথা আছে, সেই তো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি?

কিন্তু কী লেখা ছিল বাইবেলে? বাইবেলের পৃথিবী সম্পর্কিত বক্তব্য পড়ে দেখা যাক।
আদিপুস্তক ১ 
1 শুরুতে, ঈশ্বর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। প্রথমে পৃথিবী সম্পূর্ণ শূন্য ছিল; পৃথিবীতে কিছুই ছিল না।
2 অন্ধকারে আবৃত ছিল জলরাশি আর ঈশ্বরের আত্মা সেই জলরাশির উপর দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল।
> সেই জলরাশি কোথায় ছিল? কিসের ওপর?
3 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আলো ফুটুক!” তখনই আলো ফুটতে শুরু করল।
4 আলো দেখে ঈশ্বর বুঝলেন, আলো ভাল। তখন ঈশ্বর অন্ধকার থেকে আলোকে পৃথক করলেন।
5 ঈশ্বর আলোর নাম দিলেন, “দিন” এবং অন্ধকারের নাম দিলেন “রাত্রি।” সন্ধ্যা হল এবং সেখানে সকাল হল। এই হল প্রথম দিন।
> খেয়াল করে দেখুন, সূর্য তৈরির আগেই ঈশ্বর দিন সৃষ্টি করে ফেলেছেন।
6 তারপর ঈশ্বর বললেন, “জলকে দুভাগ করবার জন্য আকাশমণ্ডলের ব্যবস্থা হোক।”
7 তাই ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের সৃষ্টি করে জলকে পৃথক করলেন। এক ভাগ জল আকাশমণ্ডলের উপরে আর অন্য ভাগ জল আকাশমণ্ডলের নীচে থাকল।
8 ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের নাম দিলেন “আকাশ।” সন্ধ্যা হল আর তারপর সকাল হল। এটা হল দ্বিতীয় দিন।


9 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশের নীচের জল এক জায়গায় জমা হোক যাতে শুকনো ডাঙা দেখা যায়।” এবং তা-ই হল।
10 ঈশ্বর শুকনো জমির নাম দিলেন, “পৃথিবী” এবং এক জায়গায় জমা জলের নাম দিলেন, “মহাসাগর।” ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে।
11 তখন ঈশ্বর বললেন, “পৃথিবীতে ঘাস হোক, শস্যদায়ী গাছ ও ফলের গাছপালা হোক। ফলের গাছগুলিতে ফল আর ফলের ভেতরে বীজ হোক। প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করুক। এইসব গাছপালা পৃথিবীতে বেড়ে উঠুক।” আর তাই-ই হল।
12 পৃথিবীতে ঘাস আর শস্যদায়ী উদ্ভিদ উত্পন্ন হল। আবার ফলদাযী গাছপালাও হল, ফলের ভেতরে বীজ হল। প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে।
13 সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল। এভাবে হল তৃতীয় দিন।
14 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশে আলো ফুটুক। এই আলো দিন থেকে রাত্রিকে পৃথক করবে। এই আলোগুলি বিশেষ সভাশুরু করার বিশেষ বিশেষ সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আর দিন ও বছর বোঝাবার জন্য এই আলোগুলি ব্যবহৃত হবে।
15 পৃথিবীতে আলো দেওয়ার জন্য এই আলোগুলি আকাশে থাকবে।” এবং তা-ই হল।
16 তখন ঈশ্বর দুটি মহাজ্যোতি বানালেন। ঈশ্বর বড়টি বানালেন দিনের বেলা রাজত্ব করার জন্য আর ছোটটি বানালেন রাত্রিবেলা রাজত্ব করার জন্য। ঈশ্বর তারকারাজিও সৃষ্টি করলেন।
17 পৃথিবীকে আলো দেওয়ার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে স্থাপন করলেন।
18 দিন ও রাত্রিকে কর্তৃত্ত্ব দেবার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে সাজালেন। এই আলোগুলি আলো আর অন্ধকারকে পৃথক করে দিল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে।
19 সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল। এভাবে চতুর্থ দিন হল।
20 তারপর ঈশ্বর বললেন, “বহু প্রকার জীবন্ত প্রাণীতে জল পূর্ণ হোক আর পৃথিবীর ওপরে আকাশে ওড়বার জন্য বহু পাখী হোক।”
21 সুতরাং ঈশ্বর বড় বড় জলজন্তু এবং জলে বিচরণ করবে এমন সমস্ত প্রাণী সৃষ্টি করলেন। অনেক প্রকার সামুদ্রিক জীব রয়েছে এবং সে সবই ঈশ্বরের সৃষ্টি। যত রকম পাখী আকাশে ওড়ে সেইসবও ঈশ্বর বানালেন। এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটি ভাল হয়েছে।
22 ঈশ্বর এই সমস্ত প্রাণীদের আশীর্বাদ করলেন। ঈশ্বর সামুদ্রিক প্রাণীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করে সমুদ্র ভরিয়ে তুলতে বললেন। ঈশ্বর পৃথিবীতে পাখীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করতে বললেন।
23 সন্ধ্যা হয়ে গেল এবং তারপর সকাল হল। এভাবে পঞ্চম দিন কেটে গেল।
24 তারপর ঈশ্বর বললেন, “নানারকম প্রাণী পৃথিবীতে উত্পন্ন হোক। নানারকম বড় আকারের জন্তু জানোয়ার আর বুকে হেঁটে চলার নানারকম ছোট প্রাণী হোক এবং প্রচুর সংখ্যায় তাদের সংখ্যাবৃদ্ধি হোক।” তখন য়েমন তিনি বললেন সব কিছু সম্পন্ন হল।
25 সুতরাং ঈশ্বর সব রকম জন্তু জানোয়ার তেমনভাবে তৈরী করলেন। বন্য জন্তু, পোষ্য জন্তু আর বুকে হাঁটার সবরকমের ছোট ছোট প্রাণী ঈশ্বর বানালেন এবং ঈশ্বর দেখলেন প্রতিটি জিনিসই বেশ ভালো হয়েছে।
26 তখন ঈশ্বর বললেন, “এখন এস, আমরা মানুষ সৃষ্টি করি। আমাদের আদলে আমরা মানুষ সৃষ্টি করব। মানুষ হবে ঠিক আমাদের মত। তারা সমুদ্রের সমস্ত মাছের ওপরে আর আকাশের সমস্ত পাখীর ওপরে কর্তৃত্ত্ব করবে। তারা পৃথিবীর সমস্ত বড় জানোয়ার আর বুকে হাঁটা সমস্ত ছোট প্রাণীর উপরে কর্তৃত্ত্ব করবে।”
27 তাই ঈশ্বর নিজের মতোই মানুষ সৃষ্টি করলেন। মানুষ হল তাঁর ছাঁচে গড়া জীব। ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও স্ত্রীরূপে সৃষ্টি করলেন।
28 ঈশ্বর তাদের আশীর্বাদ করে বললেন, “তোমাদের বহু সন্তানসন্ততি হোক। মানুষে মানুষে পৃথিবী পরিপূর্ণ করো এবং তোমরা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণের ভার নাও, সমুদ্রে মাছেদের এবং বাতাসে পাখিদের শাসন করো। মাটির ওপর যা কিছু নড়েচড়ে, যাবতীয় প্রাণীকে তোমরা শাসন করো।”
29 ঈশ্বর বললেন, “আমি তোমাদের শস্যদায়ী সমস্ত গাছ ও সমস্ত ফলদাযী গাছপালা দিচ্ছি। ঐসব গাছ বীজযুক্ত ফল উত্‌পাদন করে। এই সমস্ত শস্য ও ফল হবে তোমাদের খাদ্য।
30 এবং জানোয়ারদের সমস্ত সবুজ গাছপালা দিচ্ছি। তাদের খাদ্য হবে সবুজ গাছপালা। পৃথিবীর সমস্ত জন্তু জানোয়ার, আকাশের সমস্ত পাখি এবং মাটির উপরে বুকে হাঁটে য়েসব কীট সবাই ঐ খাদ্য খাবে।” এবং এই সব কিছুই সম্পন্ন হল।
31 ঈশ্বর যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সেসব কিছু দেখলেন এবং ঈশ্বর দেখলেন সমস্ত সৃষ্টিই খুব ভাল হয়েছে। সন্ধ্যা হল, তারপর সকাল হল। এভাবে ষষ্ঠ দিন হল।

বাইবেলে আরো বর্ণিত আছে,
এর পরে আমি দেখলাম, পৃথিবীর চার কোণে চারজম স্বর্গদূত দাঁড়িয়ে পৃথিবীর চার বায়ুর পথরোধ করছেন যেন পৃথিবীতে, সমুদ্রে কিম্বা কোন বৃক্ষের উপর বাতাস বইতে না পারে।
প্রকাশিত বাক্য ৭/১
> এর থেকে স্পষ্টই বোঝা যায়, পৃথিবীর শেষ চার প্রান্তে চারজন স্বর্গদূত আছে। এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু তা আর নাই করলাম।

বিজ্ঞানময় কেতাব 

আসুন আজকে বাঙলায় বিজ্ঞানময় একটি সুরা পড়ি। আল্লাহ পাক সুরা ফুসসিলাতের আয়াত ৯-১২ (টিকা-১ এ আয়াতের স্ক্রিনশট দেখুন)  তে কী বলেছেন দেখা যাক। তিনি বলেছেন,

বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা।

> অর্থাৎ আমরা জানতে পারলাম, আল্লাহ পাক পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে। এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, পৃথিবী সৃষ্টির আগে দিনের হিসেব কীভাবে আসলো? দিনের হিসাবটা কী সেটা আগে জেনে নিই।

পৃথিবীতে সূর্য যখন ওঠে এবং যখন অস্ত যায়, এই সময়টুকুকে আমরা মানুষেরা সময় গণনার একটি ইউনিট হিসেবে ধরে নিয়েছি। একে আমরা দিন বলি। এরপরে আসে রাত। একটি পুরো দিন এবং একটি পুরো রাত মিলে হয় একটি গোটা দিন। মানে হচ্ছে, এক দিন সময়ের একটি একক। সূর্য উঠা থেকে শুরু করে সূর্য অস্ত যাওয়ার পর থেকে পুনরায় সূর্য উঠা পর্যন্ত সময়কে দিন বলা হয়। তাই দিন পুরোপুরিই নির্ভর করে পৃথিবী এবং পৃথিবীর ঘুর্ণনের গতির ওপর। অন্যান্য গ্রহে দিনের হিসেব হবে ভিন্ন, রাতের হিসেবও। অন্য গ্রহে পৃথিবীর হিসেব অনুসারে দিন একরকম নয়। যেমন,

গ্রহগোটা দিনের দৈর্ঘ্য
বুধ১৪০৮ ঘণ্টা
শুক্র৫৮৩২ ঘণ্টা
পৃথিবী২৪ ঘণ্টা
মঙ্গল২৫ ঘণ্টা
বৃহস্পতি১০ ঘণ্টা
শনি১১ ঘণ্টা
প্লুটো১৭ ঘণ্টা
নেপচুন১৬ ঘণ্টা

পৃথিবীর হিসেবে এই একটি দিনকে আমরা আবার ২৪ টি ইউনিটে ভাগ করে এক একটি ইউনিটকে নাম দিয়েছি ঘণ্টা। তাকে আবার ৬০ ভাগ করে নাম দিয়েছি মিনিট। আবার ৭ দিনকে যুক্ত করে বানিয়েছি এক সপ্তাহ। ৩০ দিনকে যুক্ত করে এক মাস। এগুলো সবই আমাদের মানুষের বানানো বোঝার এবং গণনার সুবিধার্থে সময়ের এক একটি ইউনিট। কিন্তু পৃথিবীই সৃষ্টির আগে দিন এলো কোথা থেকে? দিনের হিসেব তখন তো থাকার কথা না।

তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে।

> অর্থাৎ এর পরের চারদিন তিনি পৃথিবীর খাদ্যের ব্যবস্থা করলেন। মানে সেই সময় তিনি পৃথিবী নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।

অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।

>অতঃপর মানে হচ্ছে, এরপরে। অর্থাৎ পৃথিবী বানাবার পরে তিনি মন দিলেন আকাশের দিকে। অর্থাৎ হিসেব মতে, পৃথিবীর বয়স হচ্ছে আকাশের চাইতে কমপক্ষে ছয়দিন বেশি। মানে দুইদিন + চারদিন। উল্লেখ্য, আকাশ সেই সময়ে ছিল ধুম্রকুঞ্জ।

অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।

অতঃপর মানে হচ্ছে, এরপরে। এরপরে তিনি সাতটি আকাশ বানালেন। কিন্তু এইসব বানাবার সময় আল্লাহ কোথায় ছিলেন? আল্লাহ নিজেই তার উত্তর দিয়েছেনঃ

তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, “নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু!”; সুরা হুদঃ ৭ (টিকা-২) 

মানে আমরা বুঝলাম, যেই সময়ে তিনি আসমান এবং জমিন বা পৃথিবী বানাচ্ছিলেন, সেই সময়ে তার আরশটি ছিল পানির ওপর। কিন্তু সেই পানি কোথায় ছিল? কিসের ওপর?

প্রাচীনকালে মানুষ ভাবতো পৃথিবীটা একটা কচ্ছপের ওপর অবস্থিত। নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে তারা ভূমিকম্প সম্পর্কে জানতো। তাই সেটার সাথে মিলিয়ে তারা দাবী করতো কচ্ছপটা নড়াচড়া করলে ভূমিকম্প হয়। যেন ভূমিকম্প হওয়াটাই কচ্ছপের উপর পৃথিবী অবস্থিত হওয়ার একদম বাস্তব প্রমাণ!
কেউ কেউ হয়তো তাদের কথাটি বিশ্বাস করতো না। তখন তারা তাদেরকে পালটা প্রশ্ন করতো, আমার কথা সত্যি না হলে ভূমিকম্প কেন হয়? বা কচ্ছপের ওপর না থাকলে পৃথিবীটা নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছে না কেন? যেহেতু এই প্রশ্নের উত্তরও সেই সময়ে মানুষ জানতো না, যে ভূমিকম্প কেন হয় বা পৃথিবীটা নিচের দিকে পরে যাচ্ছে না কেন, তাই তারা কচ্ছপের ওপর পৃথিবীর দাবীকে মেনে নিতো। বা বলা ভাল, জ্ঞানের স্বল্পতার জন্য সেই অজ্ঞানতার ধারণাই সেই সময়ে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যেতো।
কিন্তু একজন বুদ্ধিমান লোক হয়তো তখন প্রথম প্রশ্ন করলো, আচ্ছা, কচ্ছপের ওপর পৃথিবীটা অবস্থিত তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু কচ্ছপটা কিসের ওপর অবস্থিত? তার নিচে কী? সে কেন পড়ে যাচ্ছে না?
তখন যারা এই কচ্ছপের ওপর পৃথিবী, এই ধারণা বিশ্বাস করতো, বা সেই কচ্ছপের নামে ব্যবসা করতো, বা সেই কচ্ছপের পূজা করে কিছু টাকা পয়সা কামাই করতো, তারা হয়তো বলতো, তার নিচে আছে আরেকটা কচ্ছপের। তার নিচে আরেকটা। এভাবে কচ্ছপ- কচ্ছপ-কচ্ছপ-কচ্ছপ-কচ্ছপ। কিন্তু তার নিচে কী? সব চাইতে নিচের কচ্ছপের নিচে কী?
খুব ভয়াবহ প্রশ্ন। একদম ব্লাসফেমাস টাইপের। এরকম প্রশ্নের সামনে তারা একটু বিব্রত হয়ে যেতো। তখন বলা হতো, সেই সবচাইতে নিচের কচ্ছপটাকে নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। ওটা আদি কচ্ছপের। ওটা কিছুর ওপর অবস্থিত নয়। ওটা এমনি এমনি আকাশে ঝুলে থাকতে পারে। ওটার অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে। ওটাতে বিশ্বাস করতে হবে। ঐ নিচের কচ্ছপের ক্ষমতা না থাকলে, সে এমনিতেই আকাশে ঝুলে না থাকতে পারলে পৃথিবীটা এমনি এমনি আকাশে ঝুলে আছে কীভাবে? যেহেতু এই প্রশ্নের উত্তর নেই, সেহেতু সেই কচ্ছপটিই সত্যি। এখানেও দেখা যাচ্ছে সেই প্রাচীনকালের গল্পের মতই ঘটনা। আল্লাহ বসে ছিলেন পানির ওপর, তাহলে পানিটা কিসের ওপর ছিল? আল্লাহর ওপর?

এবারে আসুন, দেখা যাক হিন্দু পুরানে সৃষ্টি সম্পর্কে কী বলা আছে? উল্লেখ্য, নিচের বক্তব্য মুহাম্মদের আবির্ভাবের অনেক আগে থেকেই মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত ছিল।

মহাভারতে সৃষ্টিবিস্তারে বলা হয়েছেঃ

প্রথমে কেবল একমাত্র সনাতন ভগবান্ ব্রহ্মা বিদ্যামান ছিলেন। অনন্তর তাঁহার মরীচি, অত্রি,অঙ্গিরা, পুলস্ত্য, পুলহ, ক্রতু ও বশিষ্ঠ এই সাত অগ্নিতুল্য পুত্রের উৎপত্তি হয়।

সমগ্র বিশ্ব এক ঘোরতর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, পরমব্রহ্ম নিজ তেজে সেই অন্ধকার দূর করে জল সৃষ্টি করলেন। সেই জলে সৃষ্টির বীজ নিক্ষেপ করলে একটি অতিকায় সুবর্ণ অণ্ড বা ডিম সৃষ্টি হয়। সেই অণ্ডের মধ্যে পরমব্রহ্ম স্বয়ং প্রবেশ করেন। এরপর অণ্ড দুই ভাগে বিভক্ত হয়। এর একভাগ দ্বারা আকাশ ও অপর ভাগ দ্বারা ভূমণ্ডল তৈরি হয়। এরপর ব্রহ্মা মন থেকে দশজন প্রজাপতি সৃষ্টি করেন। এই প্রজাপতিরাই মানবজাতির আদিপিতা। এই দশজন প্রজাপতি হলেন- অঙ্গিরা, অত্রি, ক্রতু, দক্ষ, নারদ,পুলস্ত্য, পুলহ, বশিষ্ঠ, ভৃগু ও মরীচি। ব্রহ্মার আদেশে এঁরা বিভিন্ন প্রাণী সৃষ্টি করলেন। বাকি একজন অর্থাৎ নারদকে সৃষ্টি রক্ষার ভার দিলেন। কিন্তু ব্রহ্ম-সাধনায় বিঘ্ন হবে বলে নারদ সে ভার গ্রহণ করলেন না। এই কারণে ব্রহ্মা তাঁকে মানুষ ও গন্ধর্বরূপে জন্মগ্রহণ করার অভিশাপ দিলেন।

কী, মিল খুঁজে পাচ্ছেন? উপরে বাইবেলে বর্ণিত সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কে আরেকবার পড়ে নিন।

অন্যদিকে, আসুন দেখে নিই মহাবিশ্ব সম্পর্কে বিজ্ঞান কী বলছেঃ

আল্লাহর একদিন সমান মানুষের কয়দিন?
আল্লাহ পাক বলেছেন,

তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে। অথচ আল্লাহ কখনও তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। আপনার পালনকর্তার কাছে একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান।

আবার,

তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত কর্ম পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর কাছে পৌছবে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান।

আবার,

ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহ তা’আলার দিকে উর্ধ্বগামী হয় এমন একদিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।

এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ পাকেরও নিজস্ব দিনের হিসেব আছে। দিনের হিসেব যদি থেকেই থাকে, তাহলে নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ এমন কোন গ্রহে বসবাস করেন, যেই গ্রহে কোন সূর্যের মত কোন নক্ষত্র রয়েছে। কোন গ্রহে বসবাস না করলে এবং সেখানে সূর্যের মত কোন নক্ষত্র না থাকলে দিন রাতের হিসেবই অবান্তর। এখন জানা দরকার, আল্লাহর একদিন সমান আমাদের কতদিন? আল্লাহ পাক এক এক সুরায় এক এক কথা বলেছেন। একবার এক হাজার বছর, আরেকবার পঞ্চাশহাজার বছর।
আল্লাহর হিসেবে একদিন যদি আমাদের মানুষের হিসেবে এক হাজার বছরের সমান হয়ে থাকে, তাহলে সেই হিসেব করে আমরা নিচের সুরাটি আবার পড়তে পারি।

বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা। তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।

অর্থাৎ আল্লাহ পৃথিবী বানালেন মানুষের হিসেবে দুই হাজার বছরে (আল্লাহর হিসেবে দুইদিন), এরপরে চারহাজার বছরে (আল্লাহর হিসেবে চারদিন) পৃথিবীকে খাদ্যের ব্যবস্থা করলেন, এরপরে বাকি দুই হাজার বছরে মহাকাশ সৃষ্টি করলেন। এমনকি, পঞ্চাশহাজার বছর ধরলেও সময়ের হিসেবটি পৃথিবী এবং মহাবিশ্বের গঠিত হওয়ার সময়ের হিসেবে অতি তুচ্ছ একটি সংখ্যা। সাধারণ বিজ্ঞান পড়া যে কোন ছাত্রই বুঝবে, এখানে মতবড় গণ্ডগোলটি ঠিক কোথায়।

■ আগে কী বানানো হলো, মহাবিশ্ব নাকি পৃথিবী? 

বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা। তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, আল্লাহ আগে পৃথিবী বানিয়েছেন, এরপরে পৃথিবীর খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন, এরপরে আসমান বানিয়েছেন। আরও একটু সুরাতেও আল্লাহ একই কথা বলেছেন। অর্থাৎ পৃথিবীর বয়স আসমানে থাকা গ্রহও নক্ষত্র সবকিছুর চেয়ে বেশি।

তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।

■ তাহলে আসমান এবং জমিন বানাতে আল্লাহর মোট কয়দিন লাগলো? 

সুরা ফুসসিলাতে পড়ে আমরা জানতে পারলাম, আল্লাহ পৃথিবী বানালেন দুইদিনে, তারপরে চারদিন তাতে খাদ্যের ব্যবস্থা করলেন, এরপরে দুইদিনে সপ্ত আকাশ বানালেন। যোগ করলে হলো আটদিন। সাধারণ গণিত। ২+৪+২=৮। না বুঝতে পারার কিছু নেই। আমার কথা বিশ্বাস না হলে প্রাইমারী স্কুল পাশ যে কেউ নিজেই যোগ করে দেখতে পারেন। আবার, সুরা হুদের ৭ নম্বর আয়াতে বললেন, তিনি আসমান এবং জমিন বানিয়েছেন ৬ দিনে। আল্লাহ পাক কী গণিতে এতই কাঁচা যে, তিনি এই সাধারণ যোগটুকু করতে পারেন না?

■ গণিতে কাঁচা আল্লাহ পাক।

“আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দু’জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু`এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের সন্তান থাকে। যদি সন্তান না থাকে এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।” [কুরআন-৪:১১]

“আর, তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের হবে এক-চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়; ওছিয়্যতের পর, যা তারা করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক-চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা-পুত্র কিংবা স্ত্রী না থাকে এবং এই মৃতের এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয়-ভাগের এক পাবে। আর যদি ততোধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে ওছিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্থায় যে, অপরের ক্ষতি না করে। এ বিধান আল্লাহর। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।”
[কুরআন-৪:১২]

উপরের আয়াতদুটো হচ্ছে সম্পত্তির হিসেবের আয়াত। ছেলে মেয়ে স্বামী স্ত্রী কে কতটুকু সম্পত্তি পাবেন তার হিসেব। আচ্ছা, এবারে আসুন ধরি, জনাব আবুল মিয়ার পরিবারে রয়েছে তার বৃদ্ধ পিতা মাতা, তার স্ত্রী, এবং তিন কন্যা। আবুল মিয়া মারা গেলেন, এবং উনার সম্পত্তি কোরানের উপরের আয়াত মোতাবেক ভাগ বাটোয়ারা করা হবে। হিসেব করার সুবিধার জন্য ধরে নিচ্ছি আবুল মিয়া ১০০ টাকার সম্পত্তি রেখে গেছেন। এখন ভাগ বাটোয়ারা কীভাবে করবো?

মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের সন্তান থাকে।

  • এই আয়াত অনুসারে যেহেতু মৃতের সন্তান আছে, তাই তার বৃদ্ধ পিতা মাতা প্রত্যেকে পাবেন ছয় ভাগের এক ভাগ করে। অর্থাৎ এক একজন পাবেন (১০০÷৬ = ১৬.৬৬) টাকা করে। দুইজন মিলেে পাবেন ১৬.৬৬×২ = ৩৩.৩৩ টাকা।

আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দু’জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু`এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক।

  • এবারে আসুন তার তিন কন্যা কতটুকু সম্পত্তি পাবে তার হিসেবে। উপরের আয়াত থেকে বোঝা যায়, আবুল সাহেবের তিন কন্যা পাবে মালের তিনভাগের দুই ভাগ। অর্থাৎ ( ১০০× ২/৩ = ৬৬.৬৭)  টাকা।

স্ত্রীদের জন্যে এক-চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর।

  • এবারে মৃত আবুল মিয়ার স্ত্রীর হিসেব। উপরের আয়াত মোতাবেক তিনি পাবেন আট ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ (১০০÷৮ = ১২.৫০)  টাকা।

এভাবে আসুন হিসেব করি। আবুল সাহেব মোট ১০০ টাকা রেখে গিয়েছিলেন। তার মধ্যে কোরানের এই নিয়ম অনুসারে

যারা পাবেনযত পাবেন
পিতামাতা৩৩.৩৩ টাকা
তিন কন্যা৬৬.৬৭  টাকা
স্ত্রী১২.৫০  টাকা
মোট৩৩.৩৩ + ৬৬.৬৭ + ১২.৫০ = ১১২.৫০ টাকা

কিন্তু টাকাগুলো ভাগ করে দেয়ার সময় দেখা যাছে, ১২.৫০ টাকা কম হয়ে যাচ্ছে। মোট টাকা আছে ১০০, অথচ সবাইকে দিতে হবে ১১২.৫০। এই বাড়তি ১২.৫০ টাকা কোথা থেকে আসবে? আল্লাহ পাক নাজিল করবেন? এরকম বড় ধরণের গাণিতিক ভুল দিয়ে সম্পত্তির হিসেব করা খুবই বিপদজনক।

■ পুরুষের বীর্য কোথা থেকে উৎপন্ন হয়? 

আল্লাহ পাক সুরা ৮৬ এর আয়াত ৫ থেকে ৭ এ বলেছেন,(টিকা-৩)
অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে। সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে। এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে।

অর্থাৎ আমরা বুঝতে পারি, বীর্য উৎপন্ন হয় মেরুদণ্ড এবং বক্ষ পাঁজরের মধ্য থেকে। কিন্তু আসলেই কী তা? আসুন ভিডিওটিতে দেখি, পুরুষের বীর্য আসলে কোথা থেকে উৎপন্ন হয়-

■ কোরানের ভ্রূনতত্ত্ব? 

আল্লাহ বলেছেন,
আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়।
( টিকা-৪ এ আয়াতটিি দেখুন)

প্রথমত, মাটির সাথে মানব দেহের ক্যামিকেল এলিমেন্ট মেলানো আসলে পাগলের প্রলাপই বটে দেখুন মানব দেহের ক্যামিকেল এলিমেন্ট বা মানব দেহ কী দিয়ে তৈরি। এবং তারপরে নিজেই ভেবে দেখুন, মাটির ক্যামিকেল এলিমেন্টের সাথে এর কোন মিল আছে কিনা।

এরপরে আসি ভ্রুণতত্ত্বে। খেয়াল করে পড়লেই কোরানের সাথে গ্রীসের ভ্রুণতত্ত্বের ধারণার সাথে হুবুহু মিল খুঁজে পাবেন। হিপোক্রিটাস ( Hippocrates 460-370 BC) যা মনে করতেন তা হচ্ছে,
1st stage: “Sperm is a product which comes from the whole body of each parent, weak sperm coming from the weak parts, and strong sperm from the strong parts.”
2nd stage: “The seed (embryo), then, is contained in a membrane … Moreover, it grows because of its mother’s blood, which descends to the womb. For once a woman conceives, she ceases to menstruate…”
3rd stage: “At this stage, with the descent and coagulation of the mother’s blood, flesh begins to be formed, with the umbilicus.”
4th stage: “As the flesh grows it is formed into distinct members by breath … The bones grow hard … moreover they send out branches like a tree …”

তারিখসূত্রবর্ণনা
১৪১৬ খ্রিস্টপূর্বগর্ভ উপনিষদ (হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ)“From the conjugation of blood and semen the embryo comes into existence. During the period favorable to conception, after the sexual intercourse, (it) becomes a Kalada (one-day-old embryo). After remaining seven nights it becomes a vesicle. After a fortnight it becomes a sperical mass. After a month it becomes a firm mass”.
১০০০ খ্রিস্টপূর্বযব এর পুস্তক (ইহুদী খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থ)“Your hands formed me and made me – will you now absorb me? Remember that you formed me as if with clay – will you return me to dust? You poured me out like milk, and pulled me together like cheese. You clothed me with skin and flesh, and [inside me] did you interweave bones and sinews.”
৫০০ খ্রিস্টপূর্বPsalms(ইহুদী খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থ)“For you created my inmost being; you knit me together in my mother’s womb. I praise you because I am fearfully and wonderfully made; your works are wonderful, I know that full well. My frame was not hidden from you when I was made in the secret place. When I was woven together in the depths of the earth, your eyes saw my unformed body. All the days ordained for me were written in your book before one of them came to be.”
৪৬০-৩৭০ খ্রিস্টপূর্বহিপোক্রাটেস1st stage: “Sperm is a product which comes from the whole body of each parent, weak sperm coming from the weak parts, and strong sperm from the strong parts.”2nd stage: “The seed (embryo), then, is contained in a membrane … Moreover, it grows because of its mother’s blood, which descends to the womb. For once a woman conceives, she ceases to menstruate…”

3rd stage: “At this stage, with the descent and coagulation of the mother’s blood, flesh begins to be formed, with the umbilicus.”
4th stage: “As the flesh grows it is formed into distinct members by breath … The bones grow hard … moreover they send out branches like a tree …”

৩৮৪-৩২২ খ্রিস্টপূর্বএরিস্টোটল“When the material secreted by the female in the uterus has been fixed by the semen of the male…the more solid part comes together, the liquid is separated off from it, and as the earthy parts solidify membranes form all around it…Some of these are called membranes and others choria…” “So nature has first designed the two blood vessels from the heart, and from these smaller vessels branch off to the uterus, forming what is called the umbilicus…Round these is a skin-like integument, because the weakness of the vessels needs protection and shelter. The vessels join to the uterus like the roots of plants, and through them the embryo receives its nourishment”.
২৪০-১৮০ খ্রিস্টপূর্বDiocles of Carystus“on the ninth day a few points of blood, on the eighteenth beating of the heart, on the twenty-seventh traces of the spinal cord and head”
১২৯-২১০ খ্রিস্টাব্দClaudius Galenus“let us divide the creation of the foetus overall into four periods of time.
The first is that in which. as is seen both in abortions and in dissection, the form of the semen prevails [Arabic nutfah]. At this time, Hippocrates too, the all-marvelous, does not yet call the conformation of the animal a foetus; as we heard just now in the case of semen voided in the sixth day, he still calls it semen. But when it has been filled with blood [Arabic alaqa], and heart, brain and liver are still unarticulated and unshaped yet have by now a certain solidarity and considerable size,
this is the second period; the substance of the foetus has the form of flesh and no longer the form of semen. Accordingly you would find that Hippocrates too no longer calls such a form semen but, as was said, foetus.
The third period follows on this, when, as was said, it is possible to see the three ruling parts clearly and a kind of outline, a silhouette, as it were, of all the other parts [Arabic mudghah]. You will see the conformation of the three ruling parts more clearly, that of the parts of the stomach more dimly, and much more still, that of the limbs. Later on they form “twigs”, as Hippocrates expressed it, indicating by the term their similarity to branches.
The fourth and final period is at the stage when all the parts in the limbs have been differentiated; and at this part Hippocrates the marvelous no longer calls the foetus an embryo only, but already a child, too when he says that it jerks and moves as an animal now fully formed.””… The time has come for nature to articulate the organs precisely and to bring all the parts to completion. Thus it caused flesh to grow on and around all the bones, and at the same time … it made at the ends of the bones ligaments that bind them to each other, and along their entire length it placed around them on all sides thin membranes, called periosteal, on which it caused flesh to grow.”
প্রায় ২০০ খ্রিস্টাব্দতালমুদ (ইহুদী ধর্মগ্রন্থ)The embryo was called peri habbetten (fruit of the body) and develops as:1. golem (formless, rolled-up thing);
2. shefir meruqqam (embroidered foetus – shefir means amniotic sac);
3. ‘ubbar (something carried); v’alad (child); v’alad shel qayama (noble or viable child) and
4. ben she-kallu chadashav (child whose months have been completed).
৫৭১-৬৩২ খ্রিস্টাব্দমুহাম্মদ (কোরান)“Allah’s Apostle, the true and truly inspired said, “(The matter of the Creation of) a human being is put together in the womb of the mother in forty days, and then he becomes a clot of thick blood for a similar period, and then a piece of flesh for a similar period.”“The Prophet said, “Allah puts an angel in charge of the uterus and the angel says, ‘O Lord, (it is) semen! O Lord, (it is now) a clot! O Lord, (it is now) a piece of flesh.’ And then, if Allah wishes to complete its creation, the angel asks, ‘O Lord, (will it be) a male or a female?”
“Verily We created man from a product of wet earth; Then placed him as a drop (of seed) in a safe lodging; Then fashioned We the drop a clot, then fashioned We the clot a little lump, then fashioned We the little lump bones, then clothed the bones with flesh, and then produced it as another creation. So blessed be Allah, the Best of creators!”

দেখতে পাচ্ছেন, মুহাম্মদের বহু আগে থেকেই বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ভ্রুণতত্ব্ব সম্পর্কে নানা ধরণের মতামত দিয়েছেন, নানা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কিছু কিছু বিষয় বোঝার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আধুনিক ভ্রুণতত্ত্ব অনুসারে, তারা সকলেই ভুল ছিলেন। যে কেউ গোজামিলের আশ্রয় নিলে উপরের যেকোন পুরনো ভুল তত্ত্বকে রুপক, কিংবা অনুবাদের গোজামিল দিয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে মেলাতে চাইতে পারে।

এবারে আসুন আবার ঐ আয়াতগুলো পড়ি।

অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি।

জমাট রক্ত
১) মাঝে মাঝে গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাত হলে প্রচুর পরিমাণে রক্তপাত হয়। প্রাচীন কালের মানুষ সেই জমাট বাধা রক্ত দেখে ভেবেছিল, মানুষ আসলে এই জমাট রক্ত থেকেই জন্ম হয়। মানে হচ্ছে, এই জমাট রক্তই আসলে শিশুটি। এখনো গ্রামদেশে বহু মানুষ মনে করে, ঐ জমাট রক্তই আসলে ভ্রুণ। কিন্তু ভ্রুণ কখনোই জমাট রক্ত নয়।
২) কোরান অনুসারে, রক্ত থেকে মাংস, মাংস থেকে অস্থি বা হাড়, এরপরে হাড়কে মাংস দ্বারা আবৃত করণ। এই প্রক্রিয়াটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে একেবারেই ভুল। জমাট রক্ত শব্দটিকে অনেক চেষ্টা করেই ইসলামিস্টরা ভ্রূণ বানাতে পারে নি, সেটা বানাতে পারলে কিছুটা হলেও মিলতো। কিন্তু হায়, ভ্রুণ আর জমাট রক্ত আকাশ পাতালের পার্থক্য। এই ভিডিওটি দেখুন।

■ সূর্য রাতের বেলা কই যায়? 

প্রথমত, একদম সাধারণ জ্ঞান যাদের আছে তারা নিশ্চিতভাবেই জানেন, মহাশুণ্যে কোন উপর নিচ বলে কিছু নেই। পৃথিবীতে আমরা উপর নিচ ঠিক করতে পারি, কিন্তু মহাশূন্যে উপর নিচের ধারণাই নেই। সব দিকই উপর আবার সব দিকই নিচ। আবার কোন দিকই উপর নিচ নয়। আল্লাহর আরশ পৃথিবীর পরিপ্রেক্ষিতে উপরে থাকাও তাই সম্ভব নয়। কারণ মহাশূন্যে উপর নিচ কোথা থেকে থাকবে? আর উপর থাকলে, নিচও তো থাকবে, তাই না? এবারে আসুন কয়েকটি হাদিস পড়ি।

সহীহ বুখারী (ইফাঃ) ২৯৭২। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আবূ যার (রাঃ)-কে বললেন, তুমি কি জানো, সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল) ই ভাল জানেন। তিনি বললেন, তা যেতে যেতে আরশের নীচে গিয়ে সিজদায় পড়ে যায়। এরপর সে পুনঃ উদিত হওয়ার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেওয়া হয়। আর অচিরেই এমন সময় আসবে যে, সিজদা করবে তা কবূল করা হবে না এবং সে অনুমতি চাইবে কিন্তু অনুমতি দেওয়া হবে না। তাকে বলা হবে যে পথে এসেছ, সে পথে ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক হতে উদিত হবে–এটাই মর্ম হল আল্লাহ তাআলার বাণীঃ আর সূর্য গমন করে তার নির্দিষ্ট গন্ত্যব্যের দিকে, এটাই পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। (কোরআন ৩৬:৩৮)

সহীহ বুখারী (ইফাঃ) ৪৪৩৯। আবূ নু’আয়ম (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্যাস্তের সময় আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে মসজিদে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি কি জানো সূর্য কোথায় ডুবে? আমি বললাম, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল) সবচেয়ে ভাল জানেন। তিনি বললেন, সূর্য চলে, অবশেষে আরশের নিচে গিয়ে সিজদা করে। নিম্নবর্ণিত আয়াত –এ এ কথাই বর্ণনা করা হয়েছে, অর্থাৎ সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এ পরাক্রমশলী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।

সহীহ বুখারী (ইফাঃ) ৪৪৪০। হুমায়দী (রহঃ) আবূ যার গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আল্লাহর বাণীঃ –এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেছেন, সূর্যের গন্তব্যস্থল আরশের নিচে।

সহীহ মুসলিম (ইফাঃ) ২৯৬। ইয়াহইয়া ইবনু আইউব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জানো, এ সূর্য কোথায় যায়? সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। বললেনঃ এ সূর্য চলতে থাকে এবং (আল্লাহ তা’আলার) আরশের নিচে অবস্হিত তার অবস্হানস্হলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও! অনন্তর সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্হল দিয়েই উদিত হয়। তা আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্হিত তার অবস্হানস্হলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্হায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়লে হয়েই উদিত হয়। তা আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্হিত তার অবস্হান স্হলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্হায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্হল হয়েই সে উদিত হয়। এমনিভাবে চলতে থাকবে; মানুষ তার থেকে অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখবে না। শেষে একদিন সূর্য যথার্রীতি আরশের নিচে তার নিদিঁষ্টস্হলে যাবে। তাকে বলা হবে, ওঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও। অনন্তর সেদিন সূর্য পশ্চিম গগনে উদিত হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন দিন সে অবস্থা হবে তোমরা জানো? সে দিন ঐ ব্যাক্তির ঈমান কোন কাজে আসবে না, যে ব্যাক্তি পুর্বে ঈমান আনেনি কিংবা যে ব্যাক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি।

সহিহ হাদিসে কুদসি ১৬১. আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একটি গাধার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তখন তার উপর একটি পাড়যুক্ত চাদর ছিল। তিনি বলেন: এটা ছিল সূর্যাস্তের সময়, তিনি আমাকে বলেন: “হে আবূ যর তুমি জান এটা কোথায় অস্ত যায়?” তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ এবং তার রাসূল ভাল জানেন। তিনি বলেন: সূর্যাস্ত যায় একটি কর্দমাক্ত ঝর্ণায়, সে চলতে থাকে অবশেষে আরশের নিচে তার রবের জন্য সেজদায় লুটিয়ে পড়ে, যখন বের হওয়ার সময় আল্লাহ তাকে অনুমতি দেন, ফলে সে বের হয় ও উদিত হয়। তিনি যখন তাকে যেখানে অস্ত গিয়েছে সেখান থেকে উদিত করার ইচ্ছা করবেন আটকে দিবেন, সে বলবে: হে আমার রব আমার পথ তো দীর্ঘ, আল্লাহ বলবেন: যেখান থেকে ডুবেছে সেখান থেকেই উদিত হও, এটাই সে সময় যখন ব্যক্তিকে তার ঈমান উপকার করবে না”। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।

সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ৪৮০২. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আমি নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মসজিদে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি কি জান সূর্য কোথায় ডুবে? আমি বললাম, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সবচেয়ে ভাল জানেন। তিনি বললেন, সূর্য চলে, অবশেষে আরশের নিচে গিয়ে সাজদাহ করে। নিম্নবর্ণিত وَالشَّمْسُ تَجْرِيْ لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ذٰلِكَ تَقْدِيْرُ الْعَزِيْزِ الْعَلِيْمِএ আয়াতের কথাই বর্ণনা করা হয়েছে, অর্থাৎ সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের পানে, এ হল পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। [৩১৯৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩৯)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ৭৪৩৩. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছি, ‘‘আর সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে’’ আল্লাহর এ কথা সম্পর্কে। তিনি বলেছেনঃ সূর্যের নির্দিষ্ট গন্তব্য হল আরশের নিচে। [৩১৯৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৭)

সহি মুসলিম হাদিসে বলা হয়েছে, সূর্য রাতের বেলা আল্লাহর আরশের নিচে সিজদা করতে যায়। সকাল বেলা আবার উদিত হয়।
পরিচ্ছদঃ ৭২. যে সময়ে ঈমান কবুল হবে না।
২৮৯-(২৫০/১৫৯) ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (আঃ) ….. আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কি জান, এ সূর্য কোথায় যায়? সাহাবাগণ বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, এ সূর্য চলতে থাকে এবং (আল্লাহ তা’আলার) আরশের নীচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সাজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, উঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও! অনন্তর সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল দিয়েই উদিত হয়। তা আবার চলতে থাকে এবং আরশের নীচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সাজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয় উঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল হয়েই সে উদিত হয়। এমনিভাবে চলতে থাকবে; মানুষ তার থেকে অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখবে না। শেষে একদিন সূর্য যথারীতি আরশের নীচে তার অবস্থানে যাবে। তাকে বলা হবে, উঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও। অনন্তর সেদিন সূর্য পশ্চিমাকাশে উদিত হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, (কুরআনের বাণী) “কোন দিন সে অবস্থা হবে তোমরা জান? সেদিন ঐ ব্যক্তির ঈমান কোন কাজে আসবে না, যে ব্যক্তি পূর্বে ঈমান আনেনি কিংবা যে ব্যক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি”- (সূরাহ আল আনআম ৬ঃ ১৫৮)*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩০৭)

ক্রমশ…

টিকা ১

টিকা ২)

টিকা-৩

টিকা-৪

 

পরের পর্বঃ

Facebook Comments
%d bloggers like this: