প্রকৃতিতে অলৌকিক চিত্রাবলী কেন দেখা যায়।

ছোটবেলা আমার মন অনেক রঙ্গিন ছিল। অদ্ভুত অদ্ভুত সব কল্পনা করতাম আর রহস্য মনে হতো সবকিছু। তিন গোয়েন্দার বই পড়তাম, শার্লক হোমস পড়তাম, আর ভাবতাম অনেক কিছু। স্কুলের সামনে এক লোক দাঁড়িয়ে থাকলে ভাবতাম, এ নিশ্চিতভাবে আন্তর্জাতিক ছেলেধরা বাহিনীর সদস্য। অথবা একদিন দেখলাম আইসক্রিম ওয়ালা খুক খুক করে কাশছে। মনে মনে ভাবতাম, নিশ্চয়ই এই কাশির মধ্যে কোন সংকেত রয়েছে। এ নিশ্চয়ই রাশিয়ান গোয়েন্দা বাহিনী কেজিবি সদস্য। খুক খুক করে কেশে মোর্স কোডে কোন মেসেজ দিচ্ছে। খুব সাবধানে তার কাশি খেয়াল করতাম। কতক্ষণ বিরতিতে সে কাশছে, সেটা লিখেও রাখতাম। এই রকম নানা অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা করতাম। এসব আমি করতাম বা ভাবতাম এই কারণে যে, আমি এই ধরণের বইগুলো পড়তাম। আমাদের চিন্তাগুলো নির্ভর করতো আমি আসলে কী পড়ছি তার ওপর।

আবার মেঘের দিকে তাকালেই অনেক কিছু দেখতে পেতাম। বাচ্চাদের মন, তাই রোজ দেখতাম মেঘের ভেতরে হাতী, ঘোড়া, কচ্ছপ, সাপ, কত কিছু। একবার দেখলাম একজন ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছে। একটু বড় হওয়ার পরে বুঝতে পারলাম, আমি ছোটবেলা যেসব জিনিস মেঘ, আলো কিংবা ছায়ার মধ্যে দেখতে পেতাম, সেইগুলো আসলে আমার সাথেই আমার মস্তিষ্কের এক ধরণের খেলা। আমরা মস্তিষ্কে আমাদের স্মৃতি জমা করে রাখি। এবং মস্তিষ্ক যখন কোন কিছু দেখে, তখন চোখ থেকে সেই ইনফরমেশন আমাদের মগজে পৌঁছায়। মগজ তখন তার রক্ষিত স্মৃতির ভাণ্ডার থেকে নতুন দেখা জিনিসটিকে ক্রমাগত মেলাতে চেষ্টা করে। আমরা অনেক সময় পরিচিত অনেককে দেখি, কিন্তু ঠিক মনে করতে পারি না, তাকে কোথায় দেখেছি। আমাদের মগজ সেই সময় অনবরত খুঁজে যাচ্ছে তাঁর ডেইটা বেইজ, একটু পরেই হয়তো কোথায় তাদের দেখেছি তা আমাদের মনে পড়ে যাবে। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বিশেষ বিষয় খুব সহজে খুঁজে পায় আমাদের মস্তিষ্ক। একে এপোফেনিয়া বলা হয়। এপোফেনিয়া হচ্ছে, human tendency to perceive meaningful patterns within random data. এবং প্যারেডোলিয়া হচ্ছে, a psychological phenomenon in which the mind responds to a stimulus (an image or a sound) by perceiving a familiar pattern where none exists. প্যারেডোলিয়াকে এপোফেনিয়ার একটি সাবক্যাটাগরি হিসেবে ধরা হয়।

ঠিক এই কারণেই অনেক মুসলমান মেঘের মধ্যে আল্লাহু লেখা দেখেন, অনেক খ্রিস্টান মেঘের মধ্যে যীশুর মূর্তি দেখতে পান। হিন্দুরা দেখতে পান গণেশকে, কিংবা হনুমানকে। বৌদ্ধরা দেখেন গৌতম বুদ্ধকে। কারণ এই চিত্রগুলো প্রতিটি ধর্মের মানুষের মগজে থাকে, তারা যাই দেখেন তার মধ্যে তারা এই চিত্রগুলো খুঁজে বেড়ান, নিজের অজান্তেই। তাই কাছাকাছি কোন কিছু যখন মিলে যায়, উনারা চমকে ওঠেন। এবং বিষয়গুলোকে কোন অলৌকিক কুদরত বলে মনে করতে থাকেন। ছোটবেলা আমি বহুবার শুনেছি, গরুর মাংসের মধ্যে নাকি আল্লাহু লেখা পাওয়া গেছে। আবার, ঠিক একই কথা শুনেছি হিন্দু বন্ধুর কাছে। তারা নাকি মেঘের মধ্যে ঔঁঁ বা ওম দেখতে পেয়েছে।

সমস্ত ধর্মের মানুষই নিজ নিজ ধর্মের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে এই ধরণের কিছু ছবি নিয়ে আসেন, এবং প্রমাণ করতে ব্যস্ত হয়ে যান যে, তাদের ধর্মটিই সঠিক। মাঝে মাঝে উনারা ফটোশপ করেও নিয়ে আসেন অনেক ছবি। ধর্ম প্রচারের জন্য মিথ্যা বলাও ইসলামে জায়েজ আছে, যাকে তাকিয়া বলা হয়। আসুন সেই ছবিগুলো তাহলে এক এক করে দেখা যাক।

ঘোড়ায় করে যাচ্ছেন একজন। খ্রিস্টানদের দাবী এটি যীশু। মুসলমানরা হয়তো মুহাম্মদের মেরাজ গমন ভাবতে পারেন।

 

দাবী করা হয়েছিল, এটি যীশুর ছবি।
আরেকটি যীশু, বেচারা এখনো ক্রশে আটকে আছে

 

আপনি চাইলে নিজ ধর্মের প্রবর্তক বলে এই ছবিকে দাবী করতে পারেন।
ঔঁঁ
হিন্দুদের দেবতা গণেশ।

 

আরও গণেশ
এবং আরও

 

গণেশ হতে পারে
মুসলিমদের দাবী গাছটি নামাজ পড়ছে
মুসলিমদের দাবী পাথরটি নামাজ পড়ছে
তাহলে এই ছবিটি কিসের প্রমাণ?
তাহলে এটি কী আল্লাহর পাছা?
তাহলে এই ছবিটি কী আল্লাহর নুনু?
আল্লাহর কী দুটোই আছে?
তাহলে এই ছবিটি কী আল্লাহর নুনু?
আমাদের ডারউইনও কিন্তু কম যায় না

যদি এই ছবিগুলোকে সব ধর্মের যথার্থতা বলে ধরে নিতে হয়, অলৌকিক কাণ্ড হিসেবে ধরতে হয়, তাহলে নুনুর ছবিগুলোকে আমরা কী বলবো? তাহলে কী আল্লাহর চেহারা প্রকাণ্ড একটা নুনুর মত? আমাদের কী এখন নুনুর পূজা করা উচিত হবে? কিন্তু সেটা কী ঠিক ভদ্র কাজ হবে?

এটা আবার কী বাপু?
আর এটা?
Facebook Comments
%d bloggers like this: