মদিনায় মক্কার রিফিউজি মুহাম্মদ

ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ একদিন বাপদাদার ধর্মকে অস্বীকার করে নিজেই আরেকটা নতুন ধর্মের প্রবর্তন করলেন। দাবী করতে লাগলেন তিনিই সর্বশেষ নবী, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল। তিনি মক্কার কোরাইশদেরকে বললেন, তারা যে সব দেবদেবীর পূজা করছে সেগুলো সবই মিথ্যা। দেবদেবীর কোন ক্ষমতা নাই। সেই সাথে, পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে শুরু করলেন সংগ্রাম। প্রকাশ্যে শুরু করলেন তৎকালীন ধর্মগুলোর সমালোচনা। এবং বলতে লাগলেন পুরনো পৌত্তলিক ধর্মগুলো, সেই ধর্মের ঈশ্বরেরা সবই মিথ্যা এবং বানানো। মূর্তি গুলোর সামনে গিয়ে বলতে লাগলেন, এই মূর্তির কোন ক্ষমতা থাকলে আমার কিছু করে দেখাক। সে সময়ে এই কথাগুলো ছিল পরিষ্কার ব্লাসফেমি। তৎকালীন ধর্ম ও ঈশ্বরদের চরম অবমাননা।

মক্কার কুরাইশরা ক্ষেপে উঠলো। তাকে হত্যার পরিকল্পনা করলো। একদিন রাতে হযরত আলীকে বিছানায় শুইয়ে মুহাম্মদ হয়ে গেলেন রিফিউজি। যদিও মক্কার কোরাইশরা তাকে চাপাতি দিয়ে কোপাতে চায় নি। সর্বশক্তিমান অসূম দয়ালু আল্লাহ পাকও তাকে রাতের আধারে মদিনায় পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন! কোথায় যাবেন কী করবেন কিছুরই ঠিক নাই। মদিনার মানুষেরা তাকে আশ্রয় দিলো। তাকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করলো। এই ঘটনাকে বলা হয় হিজরত। মুহাম্মদ তার বেশিরভাগ সঙ্গিসাথী নিয়ে রিফিউজি হয়ে মদিনার আশ্রয়ে থেকেছেন, সেখানে তাদের ভরণ পোষণে দয়া দাক্ষিণ্যে চলেছেন। এগুলো ঐতিহাসিক সত্য, কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

মুহাম্মদের জন্মের দুই শতাব্দী আগে ইহুদীধর্ম মদিনায় ভালভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলেও ইহুদীরা মদিনার মরুদ্যানগুলো নিয়ন্ত্রণ করতো না। তাদের মধ্যে এক ধরণের চুক্তি ছিল, আনুগত্য এবং করের বিনিময়ে তারা সুরক্ষা পেত। দুটি বড় আরব গোত্র খাযরাজ ও আওস সে সময়ে মরূদ্যানগুলোর নিয়ন্ত্রণ করতো। মদিনার ইহুদীরা বিশেষভাবে গহনা, অস্ত্র এবং যুদ্ধের বর্ম প্রস্তুতকারক ছিল। অনেক ইহুদি গোত্র ছিল সে সময়ে, বিশেষভাবে উল্লেখ্য- বানু নাদির, বানু কাইনুকাকে, এবং বানু কোরাইজা গোত্রের কথা। সে সময়ে খুব বেশি যুদ্ধবিগ্রহ ছিল না মদিনাবাসীদের মধ্যে। মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই জীবন যাপন করতেন তারা। ইহুদী থেকে শুরু করে অন্যান্যরা সকলেই নিজ নিজ ব্যাবসা বাণিজ্য করছিল ভালভাবে।

কিন্তু মদিনায় আসার পরেই বের হওয়া শুরু হল মুহাম্মদের আসল রূপ। যারা তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, সে আসার সময় সাদরে তাকে গ্রহণ করেছিল, ধন সম্পদ দান করেছিল, সম্মানের সাথে বসবাস করতে দিয়েছিল, পরবর্তীতে তাদেরকেই নানা ধরণের হুমকি ধামকি দিতে শুরু করলেন তিনি। বহু ইহুদী গোত্রের সাথে যুদ্ধ শুরু করলেন, বহু ইহুদী নেতাদের জবাই করলেন। বানু কোরাইজা গোত্রের ইহুদীদের এক রাত্রে প্রায় ৮০০ পুরুষ সদস্যকে হত্যা করলেন। সেই গোত্রের সকল নারী এবং শিশুকে দাস বানালেন। যে কোন ইসলামিক স্কলারকে বানু কোরাইজা গোত্রের সাথে কী করা হয়েছিল জিজ্ঞেস করলেই জানবেন। পড়ালেখা করেও দেখতে পারেন। সেই সকল নারী এবং শিশুর কী দোষ ছিল, তা জিজ্ঞেস করলে এখনো ইসলামিক স্কলাররা বলেন, ঐসব শিশুরা বড় হলে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতো, তাই ছোট থাকতেই তাদের শিক্ষা দেয়া হয়েছে! ধরে ধরে জবাই করা হয়েছিল। লিঙ্গে যৌন কেশ যাদেরই উঠেছিল, এরকম সকল পুরুষ জবাই হয়েছিল। আর বাকিরা হয়েছিল ক্রিতদাস।

এভাবে একে একে দখল করতে শুরু করেছিলেন মুহাম্মদ। যেই মদিনা তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, তাদেরকেই ব্যবহার করে ক্রমশ আক্রমণ করতে শুরু করলেন মক্কার বাণিজ্য কাফেলাগুলো। ডাকাতি করতে শুরু করলেন অন্যান্য কাফেলাও। এই ডাকাতিতে অনেক লোকজনই স্বেচ্ছায় যোগ দিতো, কারণ সে সময় ভাড়াটে যোদ্ধার কমতি ছিল না আরবে। ভাড়াটে যোদ্ধারা যুদ্ধবন্দী, যৌনদাসী, উট এবং অন্যান্য মালামালের ভাগ পাওয়ার আশায় নানা যুদ্ধে যোগ দিতো। কিন্তু সেসব দেবার পরেও মুহাম্মদ তাদের লোভ দেখাতে শুরু করেছিল, মৃত্যুর পরে ৭২ জন স্বর্গীয় বেশ্যার। কোরআন হাদিসে সে সকল বেশ্যার এমন উত্তেজক বর্ণনা দেয়া হয়েছে, সেই সব বেশ্যার স্তন, চামড়া, চুল, ঊরু এমনকি থুথুর এমন বর্ণনা দেয়া হয়েছে, সে সেসব শুনেই উত্তেজিত হয়ে যেত মুহাম্মদের জিহাদিরা।

যুদ্ধে জিতলে জিহাদীরা পেত যৌনদাসী, হেরে গিয়ে মরলে স্বর্গের বেশ্যাদের পবিত্র প্রতিশ্রুতি। নারীর লোভ, নারী মাংসের লোভ, স্তন আর লোভনীয় শরীরের লোভ, উট, গনিমতের মাল, এগুলোই ছিল সে সময়ের জিহাদের অন্যতম চালিকা শক্তি। একসময় পুরো মদিনাই তারা দখলে নিলো, রিফিউজি মুহাম্মদ পরিণত হলেন মদিনার শাসকে। এবং এরপরে ক্ষমতাশালী হবার পরে তারা আক্রমণ করলো মক্কাকে।

এই ইতিহাস পড়লে বুঝতে সমস্যা হয় না, রিফিউজি হিসেবে ঢুকে কোন সমাজকে ধ্বংস করা এবং সেখানে ইসলামের নামে বর্বরতা কায়েম করার সংস্কৃতি ইসলামের একেবারেই পুরনো। তাই অবাক হবার কিছু নেই।

Facebook Comments
%d bloggers like this: