ত্যাগের মহিমা এবং কোরবানীর ফজিলত!

রাত্রে ঘুমাইয়া ছিলাম। সন্ধ্যায় কি সব হাবিজাবি ছাইপাশ খাইয়া পেট ফুলিয়া ঢোল হইয়া ছিল, বারকয়েক টয়লেটে যাইয়াও কোন কাজ হইলো না- ঠিকমত ত্যাগ করিতে পারিলাম না। মেজাজ টেজাজ খারাপ করিয়া ঘুম দিলাম, একটু পরে পরে এপাশ ওপাশ করিতেছি আর বদবায়ুর বদগন্ধে বুঝিতে পারিতেছি যে, আকাশ বাতাশ ক্রমশ ভারি হইয়া উঠিতেছে।

এমতাবস্থায় হঠাৎ দেখিলাম আসমান ফাটিয়া বিদ্যুৎ চমকাইতেছে। আসমানের দিকে তাকাইয়া দেখি আসমান ফাটিয়া চৌচির, ফাটা স্থান দিয়া সপ্ত আসমান পর্যন্ত দৃশ্যমান হইতেছে। সপ্ত আসমানে খোদার আরশ দেখিয়া আমার অবিশ্বাসী পাপীমন চমকাইয়া উঠিলো।

সপ্ত আসমান হইতে খোদাতালাহ হুংকার দিয়া বলিলেন, “ওহে নালায়েক নাস্তিক, ওহে মগাছিপ, ওহে ত্যাদর পোংটা, আমাকে চিনিতে পারছিস?”

ভয়ে তখন আমার হাঁটু কাপিতেছে। আজতক ফেসবুক ব্লগে এইবেটাকে কম চাটি মারি নাই। আজকে না জানি বেটা কি করে। বুদ্ধি করিয়া চোখ টিপ দিয়া বলিলাম, ” আরে খোদা, কি যে বলো না! চিনবো না কেন? তুমি রহমানুর রাহিম, তুমি সুপারম্যান তুমিই স্পাইডারম্যান তুমিই ব্যাটম্যান। এত সিরিয়াস হও কেনু? আমি তো ব্লগে ফেসবুকে স্রেফ মজা করিতেছিলাম। আসলে আমি একজন সাচ্চা মাসলম্যান, মানে মুসলমান। তোমার ভক্তদের ঈমান টেস্ট করিতেছিলাম আর কি। ”

খোদা বলিলেন, ” ওরে নালায়েক পামর, আমি সবই জানি, আমার সঙ্গে চামবাজি? আচ্ছা ঠিক আছে, তোর ঈমানের পরীক্ষা দে দেখি। তোর প্রিয় বস্তুকে আমার নামে কোরবানী দে।”

আমি এদিক তাকাইলাম, সেদিক তাকাইলাম। আমার প্রিয় বস্তু কি? ল্যাপটপের দাম দেড় লাখ, মোবাইল ফোনটাও কম না। যাইহোক, বেহেশতে ৭২ টা হুরীর জন্য এইসব দেয়া যায় বটে। বেজার মুখে ল্যাপটপ আর মোবাইলখানা আগাইয়া দিলাম, বলিলাম, “বেছে নাও… “।

খোদা বলিলেন, ” বেটা আমার সাথে মামদোবাজি? জানিস না আমিই সবচাইতে বড় মামদোবাজ? তোর ল্যাপটপ আর মোবাইল তোর জায়গামত ভরে দিবানে।”

স্বপ্ন ভাঙ্গিয়া ধরফর করিয়া জাগিয়া উঠিলাম, তখন ভয়ে আতংকে দিশেহারা-ঘামে ভিজিয়া একাকার। হন্তদন্ত হইয়া গেলাম আমার একমাত্র বিবির কাছে। তাহাকে লাজুক হাসি দিয়া সব খুলিয়া বলিলাম, যে তুমিই তো আমার সব থেকে প্রিয়। বলিতেই সে কষে চড় দিয়া বলিলো, “যা মিনশে, তোর প্রেমের নিকুচি করি।”

নাস্তিক বউ থাকিবার কষ্ট অন্যরা কি বুঝবে, দিনরাত পিটানির উপরেই থাকি। শরীয়ত মানে না, ইসলাম মানে না, নবীরাসুল নিয়া তামাশা করে, এই বেগানা আউরাতের বেডা মানুষের প্রতি কোন মান্যগন্য নাই। হে খোদা রক্ষা করো!! ইয়া নাফসী ইয়া নাফসী!

বলিলাম, আচ্ছা, অন্তত আমাদের সন্তানটিকে তো আল্লাহর নামে কোরবানি করিতে দাও?

নাস্তিক বিবি এই কথা শুনিয়া আমাকে পাক্কা এক ঘণ্টা ঝাঁটা পেটা করিয়া বাসা থেকে বাহির করিয়া দিলো। মনে মনে ভাবলুম, আহা, বিবি হাজেরা কতই না পুণ্যবতী মহৎ হৃদয় মাতা ছিলেন। নিজে গোছল করাইয়া সাজাইয়া আপন সন্তানকে পিতার সহিত জবেহ হইতে পাঠাইছিলেন। আহা, আগেকার রমণীগণ বিশেষ করিয়া নবী রাসুলের বিবিগণ কতই না উদার মনের মানুষ ছিলেন। এতই উদার মমতাময়ী মা ছিলেন যে, নিজ সন্তানকে তেল সাবান দিয়ে গোছল করাইয়া জবেহ হইতে পাঠাইতেন। সোভানাল্লাহ!

শেষে কী আর করিব! বউকে ঘুমের ঔষধ খাওয়াইয়া অজ্ঞান করিয়া নিয়া গেলাম খোদা তালার কাছে। বলিলাম, “হে খোদা, প্রিয় বস্তু আনিয়াছি।” এই বলিয়া পকেট থেকে ছুরি বাহির করিয়া যেই আমার প্রিয় বিবির গলায় বসাইয়া দেবো, খোদা আসমান হইতে হুংকার দিয়া উঠিলেন।

বলিলেন, “ওহে নালায়েক মগাছিপ, থাম। আমি শুধু পরীক্ষা করিতেছিলাম তুই কত বড় বোকচোদ। হাবিজাবি খাইয়া বদহজম বাধাইয়া হাবিজাবি দুঃস্বপ্ন দেখিয়া যে নিজ বউকে খুন করিতে উদ্যত হয়, সেই খোদার খাসি আবালের বালটিকে অতি অবশ্যই মানসিক হাসপাতালে পাঠানো প্রয়োজন। তুই একটা বলদ, তুই একটা আহাম্মক। ত্যাগের মহিমা বুঝতে চাইলে টয়লেটে যা, পানিভর্তি বদনা নিয়া যা। ত্যাগের মহিমা কি খুন জখম রক্তারক্তি নাকি মাথামোটা উল্লুক? ইহা মোটেও ঈমানের পরীক্ষা নয় রে আবাল। ইহা বোকাচুদাগিরির পরীক্ষা। এই বোকাচুদাগিরির  পুরষ্কার হিসেবে তোর পশ্চাতদ্বেশে লাত্থি হাকানো ফরজ, যেমন লাথি হাকাইয়াছিলাম কয়েক হাজার বছর আগে আরেক মরুভুমির পাগলের পশ্চাতদ্বেশে। যদিও ঐ পাগলটা বাড়ি ফিরিয়া বলিয়াছিল আমি নাকি খুশি হইয়া তাহাকে বকরী জবাই দিতে বলিয়াছি! এবং এখনও দুনিয়ার তিন সম্প্রদায়ের আবালগন সেই উজবুকটাকে নবী বলিয়া মানে!”

আমি ঘাড় বেঁকাইয়া গজগজ করিয়া বলিতে লাগিলাম, “এইসব কী বলো? মানুষের বিশ্বাসকে আঘাত করিবা না, বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করা শেখো। হে আল্লাহপাক, তুমি একটা কাঠ নাস্তিক!!!”

আর মনে মনে বলিলাম, যা শালা, অল্পের জন্য ৭২ হুর মিস!!!

Facebook Comments
%d bloggers like this: