এসেছে নতুন শফী তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান!

সিপিবির সাবেক প্রধান মনজুরুল আহসান খানের সাথে কয়েকবারই দেখাসাক্ষাত এবং আলাপ হয়েছে। সত্যি বলতে কী, উনাকে দেখতে যত না কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান মনে হয়, তার চাইতে ঘি মাখন খাওয়া দেওয়ানবাগী পীর সাহেবের মত মনে হয়। উনি হয়তো কমিউনিস্ট পার্টি না করলে পীর সাহেব হতেন। কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান এরকম হতে পারে, আমার ধারণা ছিল না। যাইহোক, উনার দশাসই গোলাকার শরীর নিয়ে কটাক্ষ করতে চাই না, কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হিসেবে উনাকে মানায় না। যার চেয়ার থেকে উঠতে এবং চেয়ারে বসতে তিনজন লোক দরকার হয়, জমিদারী চালচলন, উঠাবসা যার, উনি শ্রমিক শ্রেনীর জন্য বিপ্লব কতটা কী করবেন বা করেছেন সেটা ভাবলে হাসি আসে। মনে মনে হাসি। বয়ষ্ক লোক, তাই সামনে হাসলে আবার কিছু আবার মনে না করেন!

উনি আমাকে প্রায় জোর করে ধরে বেধে বস্তুবাদের জ্ঞান দিতে চেয়েছেন অনেকবার। আমি মুরুব্বি মানুষ বলে মাথা নেড়েছি, বেশি আলাপে যেতে ইচ্ছা হয় নি। বুড়ো মানুষ, তার ওপর বাম। বাম পচলে গন্ধ বেশি বের হয় এটা তো সকলেই জানে। বস্তুবাদী হতে হলে যে ধর্মকে সম্মান করতে হবে, ইসলামের পক্ষে কথা বলতে হবে, উনার এরকম হাস্যকর কথাবার্তা শুনে হেসেছি। কিছু বলি নাই। কারণ উনার সাথে আলাপের সুযোগ থাকে না। বয়সটাকে উনি ব্যবহার করেন যুক্তি হিসেবে। বয়সটা দেখিয়ে বোঝাতে চান, তিনি যেহেতু বয়ষ্ক তাই বেশি জানেন, বেশী বোঝেন। কিন্তু বয়স কীভাবে কোন যুক্তি হয়, আমার তা মাথায় ঢোকে নি। কিছু বলতে গেলেই বয়সকে ব্যবহার করে যারা, তাদের সাথে আর যাই হোক, কথা বাড়াতে হয় না।

আলাপ আলোচনায় উনি বেশ বোঝাতে চেয়েছিলেন, মুহাম্মদ ছিলেন প্রথম কমিউনিস্ট। ইসলামই নাকি কমিউনিজমের সুচনা করেছে। এইসব কথা আমার ফেইসবুকের কোন আহাম্মক কমেন্টকারী বললে আমি ইগনোর করতাম, কিন্তু যখন সিপিবির মত দলের প্রাক্তন নেতা এসব বলেন, কিছু বলার মত মুখ থাকে না। অদ্ভুত আর কী! তবে আমাদের মত দেশে হয়তো এটাই স্বাভাবিক। অসভ্য দেশের কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান একজন সভ্য শিক্ষিত চিন্তাশীল মানুষ হবেন, এটা আশা করাটা হয়তো আমারই অন্যায় ছিল।

উনি হজ্জ্বে গিয়েছেন। হজ্বে কেউ যেতেই পারেন। সমস্যা নাই। কিন্তু হজ্বে গিয়ে উনি বাঙলাদেশের বামপন্থীদের বুদ্ধি হওয়ার জন্য দু’আ করে এসেছেন। সেটা খুবই পলিটিক্যাল দু’আ। সেটাকে আর ব্যক্তিগত বিষয় বলে ধরা সম্ভব নয়। সেটা হলে, আল্লামা শফী কিংবা দেলোয়ার হোসেইন সাইদীর অনেক কথাবার্তাও ব্যক্তিগত বলে চালিয়ে দেয়া যায়। হাসিনার মদিনা সনদের কথাও ব্যক্তিগত বলে চালানো যায়। উনি মক্কায় গিয়ে নিজের বেহেশতের ফ্ল্যাটে কিছু অতিরিক্ত গেলমান আর হুরের আবদার করলে সেটাকে ব্যক্তিগত ইচ্ছা বলা যেতে পারতো। সেটাও হয়তো তিনি চেয়েছেন। কিন্তু সাথে চেয়েছেন দেশের বামপন্থীদের মধ্যে ইসলামী চেতনার বিকাশ। এটা পলিটিক্যাল ইচ্ছা। ব্যক্তিগত নয় কোন অবস্থাতেই।

হয়তো তিনি কোনদিন ক্ষমতা পেলে জামাতের চাইতেও বেশি ইসলাম কায়েম করতেন। ভাগ্য ভাল যে, সিপিবির তেমন ভোট নাই। যেহেতু ভোট নাই, ভোট পাওয়ার তেমন আশাও নাই, অন্তত মেরুদণ্ডটা শক্ত থাকা উচিত ছিল। এখন তো ভোটও নাই, রাবারের একটা ধ্বজভঙ্গ টাইপ একটা মেরুদণ্ড ছিল, সেটাও আর থাকলো না।

রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুর লাইন ধরে তিনি হজ্ব করে বুঝিয়ে দিলেন, বাম পচলে খাইস্টা হয়। এত খাইস্টা হয় যে, গন্ধে টেকা দায় হয়ে ওঠে। এরকম লোক এতদিন ধরে সিপিবির প্রধান ছিলেন, এরকম লোকের সাথে আড্ডা দিয়েছি, ভাবতে এখন একটু লজ্জাই লাগছে।

যাইহোক। সিপিবির বন্ধুদের জন্য সমবেদনা। আপনাদের দেখলে এখন থেকে হাসিই পাবে। এখন থেকে ফেইসবুকে গরম গরম কথা আপনাদের না লেখাই ভাল। কারণ দিনশেষে আপনাদের অবস্থান আস্তাকুড়েতেই।

Facebook Comments