গাইড বুকের কেন প্রয়োজন

লেখকঃ বুদ্ধিবৃত্তিক পুনর্জাগরন

বেশ কিছুদিন আগে একজনের সাথে স্রষ্টা সম্পর্কিত কয়েকটা বিষয়ে কথা চলছিল। প্রসংগক্রমে যে বিষয়টা উঠে আসলো তা হলঃ
১: এই সৃষ্ট সৃষ্টি জগতের কি উদ্দেশ্য হতে পারে?
২: যদি কোন উদ্দেশ্য না থাকে তবে স্রষ্টার উপস্থিতির যৌক্তিকতা কতটুকু?
প্রশ্ন দুটো এসেছিল মুলত আমার এক বন্ধুর নিম্নক্ত কথাগুলোর উপর ভিত্তি করে। তার মতে..
“স্রষ্টার কাছে আমাদের মত নগন্য মানুষের কোন হিসেব নেই। সে এই নগন্য সৃষ্টি নিয়ে মাথা ঘামায়না। অতএব এই মানুষদের পরিচালনার জন্য কোন গাইড বুকের প্রয়োজন নেই।”
অধিকাংশ মানুষ যারা কোন ধর্মিয় গ্রন্থে বিলিভ করেনা কিন্তু স্রষ্টার উপস্থিতি মেনে নেয় উক্ত ধারনা তাদের মাঝেই বেশি পরিলক্ষিত।
এইবার আসুন এ বিষয়টা একটু পর্যালোচনা করা যাক।
আচ্ছা গোলাপের কলির বৈশিষ্ট্য কি? গোলাপ ফুল হয়ে ফুটা। এখন কোনদিন কি দেখেছেন কোন গোলাপের কলি থেকে জুঁঁই ফুল ফুটতে? এটা হাস্যকর হবে। আর এটা সম্ভব না। এখানে আমরা যে বিষয়টা লক্ষ্য করি তা হলো গোলাপের কলির একটা ফিক্স করা রুলস থাকে। যার বাহিরে গিয়ে সে নিজের ইচ্ছায় অন্য কিছুতে রুপান্তরিত হতে পারেনা। একইভাবে মানুষ বাদে এই পৃথিবীর কোন কিছুই তার নিজের বৈশিষ্ট্যের বাহিরে কোন কর্মসম্পাদন বা ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারেনা। অতএব সৃষ্টিগত ভাবেই তাদের ভিতরে একটা অটো মেনুয়াল সেট করা থাকে তাই তাদের ডিরেকশনের জন্য কোন গাইডবুকের প্রয়োজন পরেনা।
কিন্তু মানুষ একটু ব্যাতিক্রম। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের সাথে মনুষ্যত্বে বৈশিষ্ট্য গেলেও প্রতিটা মানুষ কিন্তু সমান মনুষ্যত্ববোধ নিজের মাঝে পরিস্ফুটন করতে সক্ষম নয়। জন্ম থেকে গোলাপের কোলি পরিনত হয়ে গোলাপ ফুলে রুপান্তরিত হলেও মানুষ জন্মের পর মনুষ্যত্বেবোধের বৈশিষ্টে না পা দিয়ে অমানুষ হয়েও যেতে পারে। যেমন একজন চোর আর একজন পুলিশের বৈশিষ্ট্য এক নয়। তাদের চিন্তা ধারা,বিবেকের ব্যাবহার এক নয়। একজন খারাপ ব্যাক্তি ও ভালো মানুষ এক নয়। আপনার কাছে যা খারাপ আমার কাছে তা ভালো আর আমার কাছে যা ভালো আপনার নিকট তা খারাপ মনে হতে পারে। অর্থাৎ প্রত্যেক মানুষ প্রত্যেকের চেয়ে ভিন্য। অন্য সৃষ্টের মত সৃষ্টি থেকে এরা শৃঙ্খল নয়। তাহলে প্রশ্ন আসে কেন এই পৃথিবীর সব সৃষ্ট জিনিসকে শৃঙ্খলতায় রাখা হলেও মানুষকে এর ব্যাতিক্রম করা হলো? এর উত্তর হলো স্রষ্টা মানুষের মাঝে একটা বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছেন আর তা হলো ইচ্ছা শক্তি। আর ইচ্ছা শক্তির বলেই মানুষ নিজ নিজ কর্মের দারা বিশৃঙ্খখলতায় লিপ্ত। কিন্তু যেহেতু আমরা কৌতুহল প্রবন তাই আমাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যদি এমনটি হয় যে মানুষ জন্ম থেকে বিশৃঙ্খল । তাহলে এটা স্পষ্ট যে এর মাঝে ভালো মন্দ অবশ্যই থাকবে আর এটাই হয়া বাঞ্চনীয় এর জন্যতো মানুষের দোষ নেই।
এক্স্যাক্টলি তাই। আর এই প্রশ্নের নিরশনের জন্য স্রষ্টার উচিত হবে তার সৃষ্টের মাঝে ভালো মন্দের জ্ঞান দান। যেহেতু আমাদের চিন্তাধারা একে অন্যের চেয়ে ভিন্ন তাই এরই মাঝে শৃঙ্খলা আনতে অবশ্যই কোন গাইডের প্রয়োজন হবে। আর এটা হতেই হবে। তা নাহলে স্রষ্টা নিজেই নিজের নিকট তার সৃষ্টির অবমাননা করা হবে। আর এটা স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য নয় যে তার সৃষ্টিতে বিশঙ্খলা থাকবে।
অতএব অবশ্যই মানুষের জন্য একটা গাইড বুকের প্রয়োজন। আর এই গাইড বুক অনুযায়ী শৃঙ্খল হয়াই মানুষের সৃষ্টির উদ্দেশ্য। একি সাথে এটা স্রষ্টারও সৃষ্টি করার বৈশিষ্ট্য। আমাদের অনেকের ধারনা যে স্রষ্টা কেন আমাদের সৃষ্টি করলেন আর উক্ত লিখাটিতে তারই উত্তর দেয়ার সামান্য চেষ্টা।

Facebook Comments
%d bloggers like this: