হাঁসজারু, বকচ্ছপ, গিরগিটিয়া, হাতিমি, বিছাগল

আজকাল নতুন নতুন সব তত্ত্ব শোনা যাচ্ছে। কমিউনিস্ট হলে কী হজ্ব করা যাবে না? প্রায় কোমর বেঁধে এক একজন বামপন্থী ছেলে ছোকরা তর্ক করতে আসছে। ক’দিন পরে শুনবো, “কমিউনিস্ট হলে কী জামাত করা যাবে না? মুসা বিন শমসের ধনকুবের বলে কী সিপিবির প্রধান হতে পারবে না? ধনকুবের হওয়া তো তার ব্যক্তিগত বিষয়। এর সাথে রাজনীতি মিলান ক্যান?”

হা হা। ভাইজান, মন দিয়ে শুনুন। কমিউনিজম হোক বা সাম্যবাদ বা বামপন্থা, সেসব আর পৃথিবীর সকল ধর্মই সাংঘর্ষিক। যারা নতুন নতুন বাম হয়েছেন, আপনাদের বুড়ো নেতারা আপনাদের ভুল বোঝাচ্ছে। মগজ ধোলাই দিতে চাচ্ছে। আপনাদের উচিত সেসব বুড়োর পাছায় লাত্থি মেরে গদি থেকে নামিয়ে দেয়া। ওসব বুড়ো দিয়ে কিছু হবে না। ওসব বুড়ো এখন ইহকাল নয়, পরকালের হুরের সংখ্যা গণনায় ব্যস্ত।

আচ্ছা, ফেমিনিস্ট আল্লামা শফী, কিংবা নাস্তিক পোপ, হওয়া সম্ভব কিনা? বলেন তো? কাল যদি এরকম কিছু দেখেন, অবাক হওয়ার আর কিছু থাকবে না হয়তো। কারণ এই আল্লামা কমরেডরা পথ দেখাচ্ছে। হাসজারু লোকগুলো, ইশ!

আসলে আমাদেরই ভুল হয়তো! শুদ্ধ মানুষ চাই। যেটা হয়তো বেশি চাওয়া, এই ভণ্ডদের দেশে। কিছুদিন পরে হয়তো শুনবো, পুলিশ হয়েছে বলে কী অমুকের একটু রেইপ করার অধিকার নাই? বা সেনাবাহিনীর সদস্য বলে কী এরশাদের মত লোকের ক্যু করে ক্ষমতা দখলের অধিকার নাই? আমাদের দেশে দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ নেই, সেনাবাহিনী নেই, মন্ত্রী রাজনীতিবিদ নেই, বামপন্থীগুলো তো এরকমই হবে। এতে এত অবাক হওয়ার কী আছে? ওরা যে এখনো আল্লামা শফীকে সিপিবির প্রধান করে নি, তার জন্য ওদের সাধুবাদ জানানো উচিত। যাইহোক। যা বলার বলি।

কমিউনিজম পুরোপুরি বস্তুবাদী দর্শন। মানুষের জীবন যাপনে, এমনকি, মানব ইতিহাসের কখনই কোন অবস্থাতেই তা কোন অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে না। আল্লা ভগবান ঈশ্বরের মত অলৌকিক সত্ত্বা চাইলে কিছু হবে, না চাইলে হবে না, সেটা বস্তুবাদী দর্শনে হাস্যকর।

পরিশ্রম + প্রযুক্তির ব্যবহার + প্রার্থণা = শস্য

পরিশ্রম + প্রযুক্তির ব্যবহার = শস্য

তাই, প্রার্থণা = শুন্য।

তাই প্রার্থণার ফলাফল শুন্য। সবসময়ই। নইলে এত এত নাস্তিকদের দেশ ইউরোপে ফসল ফলতো না।

দ্বিতীয়ত, মানুষের উদ্ভব কোন অলৌকিক শক্তির দ্বারা নয়, বিবর্তনের পথ ধরে হয়েছে। মার্ক্স খুব ভালভাবেই ডারউইন দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন। সমাজের বিকাশ কীভাবে হলো, সেই ব্যাখ্যায় কখনো ঈশ্বর প্রভাব বিস্তার করেছে, এরকম মার্ক্স বলেন নি। উল্টোটা বলেছেন, যে মানুষের বিবর্তনের ধারায় ঈশ্বর/ঈশ্বররা পরিবর্তিত হয়েছে, সময়ের সাথে, স্থানের সাথে সাথে। ধর্মের উদ্ভব কেন হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য থাকলেও, তা পরিষ্কারভাবে বস্তুবাদী ব্যাখ্যা। সেখানে আল্লা ভগবান মেসেঞ্জার পাঠাচ্ছে, তুকতাক অলৌকিক মোজেজা দেখাচ্ছে, এসবের কোন জায়গাই নেই। সেইসাথে মার্ক্স প্রথম জীবনে ছিলেন কট্টর নাস্তিক, ধর্মের সমালোচনামূলক লেখা ছাপাবার জন্য উনাকে দেশ পর্যন্ত ছাড়তে হয়েছিল।

তৃতীয়ত, কমিউজম সরাসরি ব্যক্তি মালিকানার বিরুদ্ধে। ইসলাম সহ প্রাতিষ্ঠানিক বেশিরভাগ ধর্ম ব্যক্তি মালিকানা, এমনকি দাস প্রথাকেও বৈধতা দেয়। মুহাম্মদ নিজের জীবনে দাস কেনাবেচা করেছেন। যুদ্ধবন্দী নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে ভাগ বাটোয়ারা করেছেন। তাদের ভোগও করেছেন, চ্যালাচামুণ্ডা নিয়ে।  যিনি দাস কেনাবেচা পর্যন্ত করতে পারেন, যুদ্ধবন্দী মেয়েদের ভাগ করে দিতে পারেন, তিনি একজন কমিউনিস্টের আদর্শ হতেই পারে না। অন্যান্য বিষয় নাহয় নাই বললাম।

চতুর্থত, এই পর্যন্ত যতবার কমিউনিস্টরা ইসলামপন্থীদের লাই দিয়েছে, ততবার তারা কচুকাটা হয়েছে। ইরান তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

শেষ কথা হচ্ছে, মৌলিকভাবেই ধর্ম আর কমিউনিজম খাপ খায় না। এমনকি, মার্ক্স নিজেও যদি টুপি পড়ে ইসলাম কবুল করতেন, তাহলেও ধর্ম কমিউনিজমে জায়েজ হতো না। বাতিল এবং পুরনো মতবাদই থাকতো। একজন কমিউনিস্ট হয়ে দাস ব্যবসা করলে হবে না। একজন ইসলামপন্থী হয়ে ধর্ম আফিম তা বলতে পারে না। বা নারী নেতৃত্ব মেনে নিতে পারে না। বা সমকামীদের বিয়ের অধিকারের পক্ষে থাকতে পারেন না। কারণ এগুলো পরস্পর বিরোধী। ঠিক যেমন ফেমিনিস্ট আল্লামা শফী। বা নাস্তিক পোপ। বা মক্কার প্রধান খতিব নিজে একজন হিন্দু! 

দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমাদের বুড়ো বামদের প্রগতিশীল আন্দোলন ঝাঁড়ফুক, তাবিজকবচ, পানিপড়ার মত বিষয়ের বিরোধীতার পর্যায় পর্যন্ত প্রাপ্তবয়ষ্ক হয়েছে। অলৌকিকত্বে বিশ্বাস, উপরওয়ালার লীলা, বেহেশতের লোভ আর দোজখের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, মানুষের মধ্যে বিভেদ আর ঘৃণার সৃষ্টি করার জন্য দায়ী ধর্মকে তারা স্পর্শ করতে ভয় পায়। সেই দুই তিনশ বছর আগেকার মগজ দিয়ে এইসময়ে দুই একটা মেনন ইনু পাওয়া যাবে বড়জোর।

Facebook Comments
%d bloggers like this: