রক্ত মাতাল সাম্প্রদায়িকতা

লেখকঃ তারিক জামান

সাম্প্রদায়িকতা বা আসবিয়াৎ=এক ধরনের মনোভাব। যার উৎপত্তি সম্প্রদায় থেকে।
সম্প্রদায়ঃ সম্প্রদায় হচ্ছেএকটি সমাজের অংশ। যাদের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা ভাবে চেনা যায়।
রক্ত মাতাল সাম্প্রদায়িকতাঃ সুনির্দিষ্ট কোন সম্প্রদায়ের জন্য গোঁড়ামি এবং সীমা লংঘন করে বা রাসুলুল্লাহর বর্ণনানুযায়ী (আবু দাউদ) অন্যায় কাজে স্বগোত্র (নিজ দল ) স্বজাতির পক্ষে দাঁড়িয়ে যখন এক সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের ন্যায় অন্যায়, প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি , শিক্ষা সংস্কৃতি , আর্থিক অনার্থিক সুবিধাদি, নিজের সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে চিন্তা করে , অন্য সম্প্রদায় হতে সব সময় নিজ সম্প্রদায়ের প্রাধান্য নিশ্চিত করতে চায় বা নিজ ধর্মকে শ্রেষ্ঠতম বিবেচিত করে অন্য ধর্মাবলম্বী দের উপর জোর জবরদস্তি করতে চায় তখনই তা রক্ত মাতাল সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি হয়। এটি একটি সূক্ষ্ম কূট চাল। যা দিয়ে টার্গেটকে সহজেই বধ করা যায়। নৈতিকতার শ্লোগানে অনৈতিকতার হরিলুট সেরে ফেলা যায়। বাস্তবতার নিরিখে এটাই প্রমাণ সিদ্ধ যে সাম্প্রদায়িকতা হলো, ধর্মবেণে আর ধর্মবেণের আড়ালে তস্করদের রক্ষা কবচ। ধর্মীয় জোর জবরদস্তি , সহিংসতা আর ধর্মবেণে দের বিরুদ্ধে পবিত্র কোরানে রয়েছে বহু সতর্ক বাণী । ব্যক্তিগত ধর্ম বিশ্বাস অবিশ্বাস শুধুই ব্যক্তিগত । ভয়ংকর হয় তখনি যখন তা সামষ্টিক করার জন্য জবর দস্তি করে। আর জবরদস্তির বিরুদ্ধে পবিত্র কোরানে রয়েছে বহু সতর্ক বাণী । তোমাকে ওদের উপর জবরদস্তি করার জন্য পাঠানো হয়নি। সুরা =ক্কাফ -৪৫ তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করলে পৃথিবীতে যারা আছে তারা সকলেই বিশ্বাস করতো । তা হলে তুমি কি বিশ্বাসী হওয়ার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করবে ? সুরা =ইউনুস -৯৯-১০০ , ধর্মে কোন জবরদস্তি নেই সুরা =বাকারা -২৫৬ , তোমার ধর্ম তোমার আমার ধর্ম আমার , সুরা কাফিরুন -১-৬ , হে কিতাবি গন তোমরা তোমাদের ধর্ম সম্বন্ধে বাড়াবাড়ি করোনা , সুরা =নিসা -১৭১, সুরা মায়ীদা =৭৭, কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন কখনো তোমাদেরকে সীমা লংঘনে প্ররোচিত না করে । সুরা=মায়ীদা -৪৮, যারা তাদের প্রতিপালককে সকালে ও সন্ধ্যায় তার সন্তুষ্টির জন্য ডাকে তাদের তুমি তাড়িয়ে দিওনা। তাদের কর্মের জবাবদিহির দায়িত্ব তোমার নয় । সুরা =আনয়াম -৫২ , অবশ্য যারা ধর্ম সম্পর্কে নানা মতের সৃষ্টি করেছে ও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোন কাজের দায়িত্ব তোমার নয় তাদের বিষয় আল্লাহর এখতিয়ার । সুরা আনয়াম-১৫৯ , বলো আমাদের পাপের জন্য তোমাদের জবাবদিহি করতে হবে না , আর তোমরা যা করো আমাদের ও জবাবদিহি করতে হবে না সুরা সাবা ২৫, প্রচার ছাড়া রাসুলের কোন কাজ নেই। সুরা মায়িদা -৯৯।আর ওদের থেকে সাবধান যারা আমার বাণী বিক্রি করে খায় , ওদের স্থান হবে জাহান্নাম সুরা বাকারা =১৭৪-১৭৫।
রাষ্ট্র যতদিন পর্যন্ত এই ধর্মবেণেদের তস্কর হিসেবে ঘোষণা না করবে তত দিন পর্যন্ত সাম্প্রদায়িকতা শব্দের আড়ালে লুট ধর্ষণ দখলোৎসব, এবং অগ্নি সংযোগ চলিবেই।
সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তার নিজস্ব জাত পরিচয় হারিয়ে বিশ্বে “চোখের জল নির্ভর জাতি ” হিসেবে পরিচিত হবে ।
আসুন বাংলাদেশকে আমরা ধর্মবেণে মুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলি।

Facebook Comments