কোন কিছুর না থাকার প্রমাণ কী?

– হে মহান সাইন্টিস্ট, পরকাল যে সত্যি সত্যি নেই সেটার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কি?? গণিত বা বিজ্ঞানের কোন থিউরি দিয়ে পরকাল নেই এই বিষয়টি প্রমাণ করা যায়??

… কিন্তু আগে প্রমাণ করুন পরকাল নাই সেটার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

— না, আমি কোন সাইন্টিস্ট নই এবং দার্শনিকও নই। আমি বিজ্ঞান এবং দর্শনের সাধারণ পাঠক মাত্র। আপনার মনে যে প্রশ্নের উদয় হয়েছে সেটার জন্য সাধুবাদ জানাই।

যা নাই তার না থাকার কোন প্রমাণ হয় না। সহজ করে বোঝাচ্ছি।

ধরুন আমি যদি বলি, আপনাকে স্বপ্নে আমি দশলক্ষ টাকা দিয়েছি, সেটা এখন ফেরত দেন।

বিজ্ঞান কী প্রমাণ করতে পারবে, যে আমি আপনাকে স্বপ্নে টাকা দিই নি? পারবে না, কারণ বিজ্ঞান এরকম হাস্যকর বিষয় প্রমাণ বা অপ্রমাণ কোনটাই করতে যাবে না। বিজ্ঞান এই ধরণের কাল্পনিক বিষয় প্রমাণ অপ্রমাণ করে না।

বা ধরুন আমি যদি বলি, মঙ্গল গ্রহে আমার একটা ফ্ল্যাট বাড়ি আছে, যেই বাড়িটার পাশে একটা নদীও আছে।

সেটা কী বিজ্ঞান প্রমাণ বা অপ্রমাণ করবে? এরকম পাগলের প্রলাপ প্রমাণ অপ্রমাণের দায় বিজ্ঞানের নেই।

গণিত বা বিজ্ঞান বা যুক্তিবাদ সেগুলো নিয়ে ডিল করে, যার বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে। অলীক কল্পনা কেউ করতেই পারে। সেটা নিয়ে বিজ্ঞান মাথা ঘামায় না। আপনি স্পাইডারম্যান সুপারম্যানে বিশ্বাস করতেই পারেন। বিজ্ঞান প্রমাণ করতে আসবে না সেগুলো আছে কী নেই। যেগুলোর অস্তিত্ব নেই, সেগুলো অপ্রমাণের দায় বিজ্ঞানের নয়।

ক্রিস্টোফার হিচেন্স নামক একজন বিখ্যাত লেখক বলেছেন, যেটা কার্ল সাগানও বলেছেন,

In 1979 astronomer Carl Sagan popularized the aphorism “extraordinary claims require extraordinary evidence” (ECREE).

আপনি যদি উপরের ইংরেজি কথাটির অর্থ না বুঝে থাকেন, জানাবেন। বুঝিয়ে দেবো। ভাল থাকবেন, এবং প্রশ্ন করা, চিন্তা করা চালিয়ে যান এই কামনা করছি।

– প্রথমত জানাতে চাই যে আমি একজন গ্রামের ছেলে,,তার ওপর আবার বাংলা মাধ্যমে পড়ালেখা করি,,তাই শুধুমাত্র পরিক্ষার জন্য গ্রামার পড়ি,,ইংলিশ ভাষা তেমন করে শেখা হয়নি,,হ্যা শহরের স্টুডেন্ট দের দেখি বাংলা মাধ্যমে পড়ালেখার করাএ পরেও অনর্গল ইংলিশ বলতে পারে,,কিন্তু আমি অতোটা এ্যাডভান্সড নই,,,তাই আপনি যে ইংরেজি উদ্ধৃতি এখানে দিলেন সেটার অর্থটি বলবেন প্লিজ,,,তারপর আমি আরো কিছু বলতে চাই,,অর্থাৎ ইংরেজি অর্থটি জানার পর মূল আলোচ্য বিষয়ে ফিরবো,,

— সেটার অর্থ হচ্ছে, কোন অনন্য সাধারণ দাবী কেউ করলে তার সপক্ষে অনন্য সাধারণ বা খুব যথাপযুক্ত প্রমাণও তারই দিতে হবে। যুক্তিবিদ্যা কিংবা বিজ্ঞান দর্শণের ক্ষেত্রে যারা এরকম দাবী উত্থাপন করে, প্রমাণ এবং যুক্তি উপস্থাপন তাদেরকেই করতে হয়।

যেমন কোন ন্যাংটা পাগল যদি বলে সেই মহাবিশ্বের স্রষ্টা, তাহলে তাকেই তা প্রমাণ করতে হবে। বিজ্ঞান প্রমাণ করতে যাবে না যে, সেই ন্যাংটা পাগল মহাবিশ্বের স্রষ্টা নয়।

এবং এই কথাও বলা অযৌক্তিক যে, যেহেতু বিজ্ঞান প্রমাণ করতে পারে নি ঐ ন্যাংটা পাগলই মহাবিশ্বের স্রষ্টা নয়, তাই সেই ন্যাংটা পাগলই সঠিক।

যা বললাম তা মন দিয়ে পড়বেন এবং বোঝার চেষ্টা করবেন। হয়তো একটু কঠিন এরকম জটিল দার্শনিক বিষয় বোঝা, কিন্তু বুঝতে পারলে আপনারই চিন্তাভাবনা সমৃদ্ধ হবে।

Facebook Comments
%d bloggers like this: