মানবিক গ্রন্থ কোরান?

কথোপকথনঃ

– আপনি তো নাস্তিক। আপনি ইসলামের কী বুঝবেন? ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। ইসলাম কোনভাবেই কোন অবস্থাতেই মানুষ হত্যার অনুমতি দেয় না।

– – ৯/১১ এর থেকে গুনলে এই পর্যন্ত সর্বমোট পুরো পৃথিবীতে ইসলাম দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং ইসলামী শান্তিবাদী জঙ্গিদের দ্বারা আক্রমণ হয়েছে ২৮৭২৫ বার। প্রায় প্রতিবারই নারায়ে তাকবীর আল্লাহ আকবর বলে হামলা করা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এতে জবাই হয়েছে, হিন্দু ইহুদী খ্রিস্টান এমনকি, মুসলমানদের মধ্যেও ভিন্ন মতাবলম্বীরা বাদ যায় নি। একে কীভাবে শান্তির ধর্ম বলা যেতে পারে?

– দেখেন ভাই, কোরআনে স্পষ্ট বলা আছে, ” যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। “

– – খুব ভাল আয়াত। আচ্ছা, এর ঠিক পরের আয়াতটি কী একবার পড়ে দেখবেন? সেখানে বলা হচ্ছে,

” যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।”

এই আয়াতটি কী আপনার যথেষ্ট শান্তিপুর্ণ মনে হচ্ছে? যেখানে মুক্তমনা নাস্তিকরা বলছে, জঙ্গিরা মানুষ হত্যা করলেও যেন তাদের ক্রসফায়ারে না দেয়া হয়, মেরে না ফেলা হয়। তাদের সাথে যেন সুবিচার করা হয়। সেখানে মহান করুণাময় এবং অসীম দয়ালু আল্লাহর এটা কীরকম কথা? হত্যা শূলীতে চড়ানো হাত পা কেতে ফেলা! আচ্ছা এটা নাহয় বাদ দিলাম, নিচের আয়াতগুলো কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

কোরান ৯:৫ – অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাটিতে তাদের সন্ধনে ওৎপেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামাজ কায়েম করে, যাকাত আদায় করে তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু।

কোরান ২:২১৬ – তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে কোন একটা বিষয় পছন্দের নয় অথচঃ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহ ভাল জানেন, তোমরা জান না।

কোরান ৯:২৯ – তোমরা যুদ্ধ কর ‘আহলে-কিতাব’ এর ঐ লোকদের (ইহুদী এবং খৃষ্টান) সাথে যাহারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তার রসুল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহন করেনা সত্য ধর্ম ইসলাম, যতক্ষণ-না করজোড়ে তারা জিযিয়া কর প্রদান করতে বাধ্য থাকে।

কোরান ৪৮:২০ – আল্লাহ তোমাদেরকে বিপুল পরিমান যুদ্ধলব্ধ সম্পদের (war booty/গনিমতের মাল/নারীসহ অন্যান্য) ওয়াদা করেছেন, যা তোমরা লাভ করবে যুদ্ধে পরাজিত মুশরিকদের কাছ থেকে।

কোরান ৪৮:১৬ – তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করবে যতক্ষণ-না তারা মুসলমান হয়ে যায়।

কোরান ৮:৩৯ – তোমরা কাফেরদের সঙ্গে যুদ্ধ কর যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায় এবং আল্লাহ র সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।

কোরান ৮:১২ – …আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব, কাজেই তাদের গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাটো জোড়ায় জোড়ায়।

কোরান ৮:১৭ – সুতরাং তোমরা তাদেরকে (কাফের) হত্যা কর নি, বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন। আর তুমি মাটির মুষ্টি নিক্ষেপ কর নি, যখন তা নিক্ষেপ করেছিলে, বরং তা নিক্ষেপ করেছিলেন আল্লাহ স্বয়ং যেন ঈমানদারদের প্রতি এহসান করতে পারেন যথার্থভাবে।

কোরান ৯:১১১ – আল্লাহ ক্রয় করেছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মুল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে উৎকৃষ্ট জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর জন্য; অতপর হত্যা করে এবং হত হয়, তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরানের এই প্রতিশ্রুতিতে আল্লাহ অবিচল এবং আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক?

কোরান ৯:৭৩ – হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং মুনাফেকদের সাথে; তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন। তাদের ঠিকানা হল দোযখ এবং সেটা হল নিকৃষ্ট ঠিকানা।

কোরান ৯:১২৩ – হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তি কাফেরদের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক। আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকিনদের সাথে রয়েছেন।

এরপরে নিচের হাদিস গুলো?

সহি বুখারী # ৩৫, পৃষ্টা ১০২:

হযরত মহাম্মদ (সঃ) বর্ণনা করেছেন, “যে মুসলিম ধর্মযুদ্ধে বের হবে তাকে আল্লাহ নিজে রক্ষা করে। কারণ সে ধর্ম যুদ্ধে যোগ দেয় তখনি যখন সে আল্লাহ এবং রসুলের প্রতি অগাধ বিশ্বাস রাখে। আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত করে গনিমতের মাল (spoil of war) যাহা নিয়ে সে ঘরে ফিরে, নতুবা সে আল্লাহর জন্য মৃত্যুবরণ করে শহীদ হয়ে বেহেস্তে চলে যায়”। রসুলুল্লাহ আরও বলেন, “আমার কাছে জিহাদ অত্যন্ত পছন্দ যে আমি যুদ্ধে গিয়ে শহীদ হব, তারপর জীবিত হব, তারপর শহীদ হব, তারপর আবার জীবিত হব, তারপর পুনরায় শহীদ হব।”

সহি বুখারী ৪/৫২/৪৮

আবু আন্নাস বর্ণনা করেন, “নবী (সাঃ) বলেছেন-মাত্র একবার আল্লাহর নামে সকাল বা বিকালে জিহাদে অংশগ্রহন করার সওয়াব পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার চেয়েও অনেক মূল্যবান হবে। বেহেস্তের একটুকরা অংশ সারা পৃথিবীর চেয়েও শ্র্রেষ্ঠ হবে। আর যদি বেহেস্ত থেকে একজন হুরী পৃথিবীতে নেমে আসে তাহলে তার শরীরের সুগন্ধিতে সমস্ত পৃথিবী ভরে যাবে এবং হুরীর হিজাবের মূল্য এ নশ্বর পৃথিবীর সবকিছু থেকে বেশী মূল্যবান হবে।”

সহি বুখারী ৪/৫২/৪৪

আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন, “একজন মানুষ এসে রসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করলঃ ‘‘জিহাদের সমান মানের একটি জিনিষের নাম বলুন”। আল্লাহর রসুল বললেন, “আমি এমন বস্তুর নাম জানি না”। আবু হুরায়রা আরও বলেন, “মুজাহিদের (আল্লাহ র নামে যারা যুদ্ধ করে) ঘোড়ার ক্ষুরের প্রতিটি পদক্ষেপ আল্লাহ পুরস্কৃত করেন।”

সহি বুখারী ৪/৫২/৪৯

সামুরা বর্ণনা করেন, ‘‘রসুল (সাঃ) বলেছেন – গতরাত দু’জন লোক এসেছিল স্বপ্নে। ওরা আমাকে একটি গাছের উপরে উঠালেন এবং পরে একটি ঘরে স্থাপন করলেন যে ঘরটি পৃথিবীর সকল ঘর থেকে উৎকৃষ্ট। তাদের একজন আমাকে বলল ‘‘এ ঘরটি শহীদের ঘর’’।

সহি বুখারী ১১৪৭, খন্ড ৫, পৃ ৫৩৫

আবু হোরায়রা বর্ণনা করেন, ‘‘ রসুলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে সত্বার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে শরিক হয়ে কেউ জখমী হয় না; বরং আল্লাহ ভাল করেই জানেন কে জখমী হয়েছে; কিয়ামৎ-এর সময় সে এমন অবস্থায় স্বীয় কবর থেকে গাত্রোত্থান করবে যে তার রং হবে খুনের রঙ্গে রঞ্জিত এবং তার থেকে প্রবাহিত হবে মিঁশক আম্বরের সুবাস।’’

সহি বুখারী ৪/৫২/

বুখারী ৯/১১৫১ (পৃ ৫৩৬)

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ-বিন-আবি আওফা (রাঃ) বর্ণনা করেন, ‘‘যে তলোয়ারের চমকের নিচেই আছে বেহেস্ত।’’

মিঁশকাত আল-মাসাবিহ (অনুবাদ – জেমস রবশন, লাহোর, আসরাফ, ১৯৭৫), ১:৮০৭

আবু আবস বর্ণনা করেন, ‘‘রসুলুল্লাহ বলেছেন-যে ব্যক্তির পায়ে ধুলা লেগেছে আল্লাহ’র পথে জিহাদ করার সময়, তার শরীর কখনো দোজখের আগুন স্পর্শ করবেনা।’’

মিঁশকাত-আল-মাসাবিহ ১:৮১৪

আল-মিকদাম-বি-মাদিকারিব বর্ণনা করেছেন, একদা রসুলুল্লাহ বলেন-শহীদেরা আল্লাহ’র কাছ থকে ছয়টি ভাল জিনিষ লাভ করেঃ (১) প্রথম ফোটা রক্ত ঝরতেই তার সমস্ত পাপ মোচন হয়ে যায়, (২) তাকে তখনি বেহেস্ত দেখানো হয় (৩) তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করা হয় (৪) তাকে ভয়ংকর ত্রাস থেকে রক্ষা করা হয় (৫) তার মাথায় দামী মুকুট পরানো হয় যার মাঝে খচিত থাকে রুবী যার মূল্য এই পৃথিবীর চেয়েও বেশী মূল্যবান এবং (৬) তাকে বিবাহ দেওয়া হয় ৭২টি সুন্দরী হুরের সঙ্গে যাদের ডাগর ডাগর কালো চোখ থাকে এবং তার সত্তুরজন আত্মীয়কে বেহেস্তে স্থান দেওয়া হয়।’’

– কিন্তু ঐ আয়াতে(৯/৫) তো নিষিদ্ধ মাস, মানে রমজান মাসে হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাহলে যারা রমজান মাসে হত্যা করছে, তারা তো সহি ইসলাম পালন করছে না, তাই না?

— অর্থাৎ জঙ্গিদের তাহলে খুনোখুনি করার জন্য রমজান শেষ হওয়ার অপেক্ষা করা উচিত ছিল, তাহলে সেটা আপনার মতে সহি ইসলামিক হত্যা হতো, তাই তো? কিন্তু একটু আগেই না বললেন, ইসলাম এসব খুনোখুনির অনুমতিই দেয় না!

– আপনি বিষয়টা বুঝতেছেন না। আল্লাহপাক কোরআনে বলেছেন, তিনি অবিশ্বাসীদের অন্তরে সিলমোহর মেরে দিয়েছেন। তাই আপনি বুঝতে পারতেছেন না।

— তাহলে সেটার জন্য আমি কীভাবে দায়ী? আল্লাহই যদি আমার অন্তরে সিলগালা করে দিয়ে থাকেন, তার কারণে আমি যদি ইসলামের শান্তিময়তা বুঝতে না পারি, তার জন্য আমাকে নরকে পাঠানো কী তার উচিত হবে? ধরুন, আমি আপনার হাত পা বেঁধে দৌড়াতে বললাম। না দৌড়ালে আপনাকে খুন করা হবে বলেও হুমকি দিলাম। আপনি কী দৌড়াতে পারবেন? আপনি না দৌড়ালে আপনাকে যদি আমি খুন করি, সেই খুনের দায় আপনার না আমার? আমি কী বলবো, সেই খুনের দায় আপনার? কারণ আপনি হাত পা বাঁঁধা অবস্থায় দৌড়ান নি?

– আপনি আসলেই একটা অতি উগ্র নাস্তিক। আপনাকে ব্লক করা হলো!

Facebook Comments

Comments are closed.

%d bloggers like this: