ইসলামের পৌত্তলিক ভিত্তি

ইসলাম ধর্মের সাথে যেন নামটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে সেই নামটি হচ্ছে মক্কার কাবা। মুহাম্মদের জন্মের অনেক আগে থেকেই কাবা মক্কার অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত হতো। মুহাম্মদের মক্কাবিজয়ের আগ পর্যন্ত কাবা এবং তার চারপাশের অঞ্চল প্রধানত সেক্যুলার, বহুত্ববাদী, বৈচিত্র্যময় ছিল বলেই প্রমাণ পাওয়া যায়। নানা ধর্মের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল সেই সময়ের কাবা। কাবায় সেসময়ে ছিল অসংখ্য দেবতা, অপদেবতা, উপদেবতা, আদিবাসীদের আঞ্চলিক দেবতা ও অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তি। এমনকি ছিল জ্বীন থেকে শুরু করে নানা ধরণের অলৌকিক প্রাণী, পূর্বপুরুষের চিহ্ন। আরবের নানা গোত্র সেখানে আসতো দেবদেবীর কাছে প্রার্থনা করতে, মানত করতে। প্রাক-ইসলামী আরব ছিল পৌত্তলিক, বহুত্ববাদী সংস্কৃতি, সেখানে রীতিমত কাব্যের লড়াই চলতো, ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা হতো। কাবা ছিল হুবাল নামে এক দেবতার প্রতি উৎসর্গিত। হুবালই ছিল কাবার এবং মক্কার প্রধান দেবতা। সেই সাথে তার তিন কন্যা, তিন প্রধান দেবী লাত,উজ্জা ও মানাতের মূর্তি ছিল।

ইসলামের আজকের দিনে আল্লাহ্‌ বলতে যেমন একমাত্র ঈশ্বর বোঝায়, ইসলাম আবির্ভাবের পুর্বে আরবে তা ছিল না। আল্লাহ শব্দটির ইতিহাস ইসলামের চেয়ে অনেক প্রাচীন এবং বহুল প্রচলিত। ‘আল্লাহ্‌’ শব্দটির অর্থ নিয়ে বিভিন্ন ধরণের মতামত পাওয়া যায়। মুহাম্মদের বাবার নাম ছিল আবদ আল্লাহ্‌ ইবন আবদ আল মুত্তালিব; আবদ আল্লাহ অর্থ ‘আল্লাহ্‌-এর দাস’। প্রাক-ইসলামী খ্রিস্টান, ইহুদি ও হানাফি নামে পরিচিত একেশ্বরবাদী আরবরা ‘বিসমিল্লাহ্‌’ শব্দটিও ব্যবহার করত। আরবের শিলালিপিগুলিতে ইসলামের আবির্ভাবের কয়েক শতাব্দীর আগেও ‘আল্লাহ্‌’-কে সর্বোচ্চ দেবতা বা সৃষ্টিকর্তা দেবতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ হজ্বের প্রবর্তক নন। উনি শুধু পৌত্তলিক হজ্বকে নিজ ধর্মে গ্রহণ করেছেন ইসলামের অন্যান্য অংশের মতই। ইহুদী ধর্ম, খ্রিষ্টান ধর্ম এবং পৌত্তলিক বিভিন্ন প্রথার এক মিলিত রূপই মুহাম্মদের প্রবর্তিত ইসলাম। এমনকি আল্লাহ নামটিও উনি নিয়েছেন পৌত্তলিক ধর্মগুলো থেকেই। যার প্রমাণ তিনি রেখে গেছেন প্রতিটা ধাপে, প্রতিটা অংশে। নানা ঐতিহাসিকের তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা কঠিন নয় যে, মুহাম্মদ সম্ভবত স্কিজোফ্রেনিয়ার রোগী ছিলেন। স্কিজোফেনিয়া আক্রান্ত এবং খুব সম্ভবত স্প্লিট পারসোনালিটির অধিকারী মুহাম্মদ সেগুলো জায়েজ করিয়ে নিয়েছেন নিজের মনের আরেক অংশ, আল্লাহ দ্বারা।  স্কিজোফ্রেনিয়ার রোগীদের কিংবা আমজনতার ভাষায় যাদের পাগল বলা হয়, তাদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টা এখানে উল্লেখযোগ্য।

স্কিজোফ্রেনিয়া রোগীদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাঃ ইউরোপে যখন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত মানুষদের গ্রামের লোকজনদের মধ্যে পাগল বলে পাগলা গারদে পাঠিয়ে দিতো, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতো, সেই সময়ে ভারত উপমহাদেশে মানসিক ভারসাম্যহীনদের সমাজের মধ্যে রাখার এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্যেই মানসিক ভারসাম্যহীনদের নানা নাম দেয়া হতো। বলা হতো তারা আল্লাহর অলী, কিংবা পীর সাহেব, অথবা সাধুবাবা। মানুষ তাদের ভক্তি শ্রদ্ধার সাথে খেতে দিতো, মানত করতো। কিন্তু সেই সাথে তারা এটাও জানতো যে, লোকগুলো মানসিকভাবে অসুস্থ। এই রকম প্রথা মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য নিঃসন্দেহে ভাল ছিল, তাদেরকে আর পাগলা গারদের মত বদ্ধ জায়গায় যেতে হতো না।

তেমনি, প্রাচীন আরবেও যারা একটু অস্বাভাবিক ছিল, কিংবা মৃগী রোগী বা অলৌকিক কথাবার্তা শোনা লোকজনকে সেই সময়ে বলা হতো, তার ওপর আল্লাহ বা জ্বীন বা জিবরাইল ভর করেছে। এগুলো প্রতিটি সমাজেই খুব সাধারণ বিষয়।

জমজম কুপের গুরুত্বঃ

প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের মতই মক্কায় গোত্র গোত্র মারামারি, যুদ্ধবিগ্রহ লেগেই ছিল। আরব বেদুইনরা যুদ্ধবাজ জাতি, তারা একে অন্যের সাথে যুদ্ধ না করে বেশিদিন থাকতে পারতো না। ছোটখাটো ব্যাপার, বংশমর্যাদা রক্ষা কিংবা খুনের বদলে খুন, এই নিয়ে তারা একে অপরকে হত্যা করতো। স্বাভাবিকভাবেই, মরুভূমি অঞ্চলে যুদ্ধবিগ্রহের সময় যুদ্ধরত দুপক্ষেরই পানির দরকার হয়ে পড়তো। তাই গোত্রগুলো নিজ নিজ স্বার্থেই মরুভূমির গুরুত্বপূর্ণ কুপগুলোকে যুদ্ধের আওতার বাইরে রাখতো। তাদের মধ্যে এক অলিখিত চুক্তি ছিল এমন যে, দুই পক্ষ যতই মারামারি করুক, হত্যা লুণ্ঠন করুক না কেন, কুপের পানি থাকবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। কুপের কাছে কেউ পানি খেতে গেলে প্রতিপক্ষ তাদের আক্রমণ করবে না। কিছু কিছু মরূদ্যানে অস্ত্র নিয়ে যাওয়াই ছিল নিষিদ্ধ। মরূদ্যান গুলোতে সাধারণত গোত্রগুলো তাদের স্ত্রী এবং শিশু পুত্রকন্যাদের লুকিয়ে রাখতো, সোনা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী গচ্ছিত রাখতো মরূদ্যান গুলোর দায়িত্বে যারা থাকে তাদের কাছে। তাই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মরূদ্যান গুলো অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল।
কিন্তু তাদের মধ্যে খুব বেশি বর্বর বেদুইন গোত্রগুলো এই নিয়মও মানতে চাইতো না। তাদের মধ্যে লোভের জন্ম হচ্ছিল, মরূদ্যানগুলোতে গচ্ছিত মূল্যবান সামগ্রীগুলোর জন্য। মাঝে মাঝেই দেখা যেত, যুদ্ধরত অবস্থায় একপক্ষ পানিপানের জন্য মরূদ্যানে গিয়েছে, প্রতিপক্ষ সেখানে গিয়েই তাদের কচুকাটা করে আসছে। লুটপাট করে বিপক্ষ দলের নারীদের ধরে নিয়ে এসেছে। তাই সবগুলো গোত্রের নিরাপত্তার স্বার্থেই কিছু অঞ্চলের প্রয়োজন হলো, যেই স্থানগুলো যুদ্ধের আওতার বাইরে থাকবে। কেউ সেখানে আক্রমণ করবে না কিংবা সেখানে স্ত্রী কন্যাদের অন্তত লুকিয়ে রাখা যাবে। তাই সেই মরূদ্যান গুলোর ওপর ধীরে ধীরে ধর্মীয় মাহাত্ম্য আরোপ করা শুরু হলো। মরূদ্যানগুলোতে বিভিন্ন গোত্রগুলোর, যুদ্ধরত প্রতিটি পক্ষের প্রধান দেবদেবীর মূর্তি স্থাপন শুরু হলো, তাদের প্রতিনিধিত্ব এবং অংশীদারিত্ব কায়েম করা হলো। যেন অন্তত সেই দেবদেবীর মূর্তির সম্মান রক্ষার্থে একপক্ষ আরেকপক্ষের ওপর অন্তত মরূদ্যানে আক্রমণ না করে। কারণ প্রায় প্রতিটি গোত্রই সেখানে তাদের প্রধান দেবতার মূর্তি বসিয়ে রাখতো। সেটা ছিল আসলে গোত্রগুলোর মধ্যে এক ধরণের রাজনৈতিক চুক্তি, যা ধর্ম দ্বারাই শক্তিশালী করা হয়েছিল। যেন সেই দেবতার মূর্তির সম্মান রেখে অন্তত মরূদ্যানে দুই পক্ষের নেতারা বসে শান্তির আলোচনা চালাতে পারে।

মক্কার যমযম কুপ সেই প্রাচীন কাল থেকেই ছিল অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল, সেটা ছিল একটি বাণিজ্য রুট। আরবের অধিকাংশ গোত্রের প্রয়োজন ছিল একটি মুক্তাঞ্চল, যেখানে তারা প্রতিটি পক্ষের সাথে শান্তি আলোচনা, বিভিন্ন গোত্রের সাথে অর্থনৈতিক লেনদেনের চুক্তি করতে পারবে। কিন্তু আরবের একগোত্র তো অন্যগোত্রের মাতবরি মানবে না। তাহলে উপায় কী? উপায় ছিল এটাই যে, কাবায় প্রতিটি গোত্রের পূজনীয় প্রধান মূর্তিটিকে স্থাপন, প্রতিনিধিত্ব এবং অংশিদারিত্ব। সেখানে প্রধান মূর্তি থাকলে এবং সে যথাযোগ্য সম্মানের সাথে পূজিত হলে বিভিন্ন গোত্রের এক ধরণের অধিকারবোধের জন্ম নেয়, তারা কাবাকে নিজেদের অংশ ভাবতে শুরু করে। ধর্মীয়ভাবে সমান অংশিদারিত্ব থাকলে শান্তি আলোচনা, অর্থনৈতিক আলোচনা, ইত্যাদি সেসময়ে ফলপ্রসূ হয়ে উঠতো। তাই কাবা হয়ে উঠেছিল অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দিক দিয়ে সেই অঞ্চলের অন্যতম কেন্দ্র। মূর্তিগুলো ছিল এক একটি গোত্রের সম্মানের প্রতীক, কাবায় এক একটি ছোট ছোট সংস্কৃতির প্রতিনিধি।

মুহাম্মদের কৈশোরঃ

মুহাম্মদ কিশোর বয়সে কাবার হাজরে আসওয়াদ পাথরের স্থানান্তরণ নিয়ে একটি প্রায় বেঁঁধে যাওয়া যুদ্ধ থামিয়েছিলেন নিজের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। সেসময়েই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন কাবার অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব। মূলত সেই সময় থেকেই তার মাথায় এই চিন্তার উদ্ভব হয়, যে গোত্রগুলোর মধ্যে এক ধরণের ভ্রাতৃত্ববোধ কায়েম করতে পারলে আরব ভূমিতে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গঠন করা সম্ভব। কিন্তু গোত্রগুলো একে অপরের শত্রু থাকার কারণে অন্যান্য শক্তিশালী সাম্রাজ্যগুলো সহজেই তাদের কাবু করতে পারতো। মুহাম্মদের আগে থেকেই এই ধরণের কিছু চেষ্টা হয়েছিল, যেন পুরো আরব ভূমিকে একই সেনাপতির অধীনে নিয়ে আসা যায়। মুহাম্মদও সেই সময়ে স্বপ্ন দেখতে লাগলো, একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর। একটি সাম্রাজ্যের। তাই একসময়ে মুসলমানগণ জেরুজালেমের দিকে মুখ করে নামাজ পড়লেও তিনি পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে কাবার দিকে মুখ করে নামাজের নিয়ম প্রবর্তন করেন। এবং পৌত্তলিকরা যেভাবে কাবাকে ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত করেছিল, তিনিও একই কায়দায় কল্পিত কিছু উপকথাকে প্রয়োজনমত সংযোজন বিয়োজন করে কাবার ওপর মুসলমানদের দখলদারিত্ব আরোপ করেন। যদিও কাবা পরিষ্কারভাবেই পৌত্তলিকদের উপাসনালয় ছিল, পরিষ্কারভাবেই সেখানে প্যাগান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের।

হজ্বঃ

হজ্ব শব্দের পুরনো অর্থ হচ্ছে মূর্তি দর্শন। তৎকালীন আরবের বিভিন্ন গোত্র কাবায় মূর্তিগুলো দেখতে প্রতিবছর সেখানে হজ্ব করতে আসতো। হযরত মুহাম্মদ সেই পুরনো প্রথাকেই ইসলামের অন্তর্ভুক্ত করেন, এবং কিছুটা সংশোধন করেন। হজ্বের অধিকাংশ নিয়মই ইসলামের মূল চেতনার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। হজ্ব পরিষ্কারভাবেই একটি পৌত্তলিক প্রথা, মুহাম্মদ যেই প্রথাকে মক্কার অর্থনীতি সচল রাখার জন্য ইসলামে গ্রহণ করেন। যেই ইসলাম সরাসরি নারী পুরুষের প্রকাশ্যে মেলামেশার বিরুদ্ধে কঠোরতম অবস্থান নেয়, সেখানে এই ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসবে নারী পুরুষ একই সাথে এক কাপড়ে পালন করে। যেই ধর্মে মূর্তি পূজা, প্রতিমা তৈরি, পাথরের তৈরি কিছুকে সম্মান জানানো, শ্রদ্ধা জানানো সর্বাধিক ঘৃণিত পাপ বা শেরক বলে বিবেচিত হয়, সেই ধর্মে হাজরে আসওয়াদ নামক কালো পাথর চুম্বন করে শ্রদ্ধা জানানো, শয়তানের উদ্দেশ্যে ঢিল ছোড়া, কাবার মত নিছক একটি ঘরকে প্রদক্ষিণ করে সাতবার ঘোরা, তাকে উদ্দেশ্য করে সিজদা করা খুবই অদ্ভুত স্ববিরোধী। কারণ এগুলো সবই পুরনো প্যাগান প্রথার কিছুটা সংশোধিত রূপ। সেকারণেই কাবায় দেবতার সন্তুষ্টিলাভের জন্য পৌত্তলিক পশুবলি পরিণত হলো কোরবানিতে। কাজ একই, কিন্তু গল্পগুলো ভিন্ন।

পুরনো পৌত্তলিক নিয়মে হজ্বে নারী পুরুষ একইসাথে প্রার্থনা করতো, পৌত্তলিকদের মধ্যে নারী পুরুষের জন্য আলাদা প্রার্থনার ব্যবস্থা ছিল না। সেই সাথে কাবায় ছিল নারী দেবীও, এমনকি মেরীর কিছু ছবিও কাবায় দীর্ঘদিন পর্যন্ত বেশ গৌরবের সাথেই ছিল। কিন্তু সব কথার মধ্যে সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি হচ্ছে, আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ মোটেও হজ্ব প্রথার প্রবর্তক নন। তিনি শুধুমাত্র পৌত্তলিক প্রথাটিকে নিজ ধর্মে সংযোজন করেছেন।

দেবতা হুবাল
মক্কার সর্বোচ্চ দেবতা হুবাল

আল ইলাহ বা আল্লাহ শব্দটি বহুযুগ ধরেই আরব ভাষায় প্রচলিত রয়েছে সৃষ্টিকর্তা দেবতা হিসেবে। মনে করা হতো আল্লাহ হচ্ছেন দেবমণ্ডলীর প্রধান দেবতা, ঠিক যেমন গ্রিক মিথলজিতে জিউস কিংবা রোমান মিথলজিতে জুপিটার কিংবা মিশরীয় পুরাণে আমান (কোন কোন উচ্চারণে আমুন বা আমেন)। শব্দগুলোর উচ্চারণ খুবই গুরুত্বপুর্ণ।
মক্কার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেবতাদের অন্যতম ছিলেন হুবাল। কাবায় তার একটি মূর্তি পূজা করা হত। কাবা তার প্রতি উৎসর্গিত ছিল। মুহাম্মদের জীবনী থেকে জানা যায়, প্রথম জীবনে তিনি হুবাল দেবতার সম্মুখেই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। অর্থাৎ এই হুবাল দেবতাই ছিল আরবের শীর্ষ দেবতা, স্রষ্টা দেবতা কিংবা আল্লাহ। সেই সময়ের ৩৬০টি দেবমূর্তির মধ্যে তার মূর্তিটিই ছিল সবচাইতে বড় এবং শ্রেষ্ঠ। সম্ভবত এই ৩৬০ জন দেবতা বছরের প্রত্যেকটি দিনের প্রতিনিধি ছিলেন। কথিত আছে, হুবালের মূর্তিটি ছিল একটি মানুষের আকৃতিবিশিষ্ট মূর্তি এবং এর ডান হাতটা ছিল কাটা। সেই ডান হাতের জায়গায় ছিল একটি সোনার হাত।
মক্কাবাসীদের আরেকটি অন্যতম দেবতা ছিলেন মানাফ(আরবি: مناف‎)। তিনি ছিলেন নারী ও ঋতুস্রাবের দেবতা।

  • Abd Manāf al Mughirah ibn Quṣai: মুহাম্মদের প্র-প্র-পিতামহ
  • Hashim ibn ‘Abd Manaf al Mughirah: মুহাম্মদের প্রপিতামহ
  • Wahb ibn `Abd Manaf: মুহাম্মদের মাতা আমিনার পিতা

 

লাত মানাত উজ্জা
লাত মানাত উজ্জা

মক্কায় তিন প্রধান দেবী ছিলেন লাত, উজ্জা ও মানাত। এদের প্রত্যেকের বিশেষ বিশেষ ক্ষমতা এবং কাজের ক্ষেত্র ছিল এবং তাইফের কাছে মূর্তি সহ মন্দিরও ছিল। সেই সকল মূর্তিই পরিবর্তীতে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

  • আল-লাত (আরবি: اللات‎) বা আল্লাত ছিলেন পাতালের দেবী। আল-লাত ছিলো মেসোপটেমীয়দের পাতালের দেবী, যিনি এরেশকিগাল নামে পরিচিত, কার্থেজে তাকে আল্লাতু নামে ডাকা হতো। পেত্রার নবতাঈগণ এবং হাত্রার জনসাধারণ লাতের পূজা করতো। তাকে গ্রীক দেবী এথেনা ও টাইচি এবং রোমান দেবী মিনার্ভার সাথে তুলনা করা হতো। গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতকে তার লেখায় লাতকে আফ্রোদিতির সমতুল্য বলে উল্লেখ করেছেন।
    The Assyrians call Aphrodite Mylitta, the Arabians Alilat [Greek spelling: Ἀλιλάτ], and the Persians Mithra. In addition that deity is associated with the Indian deity Mitra.
হিশাস্ম ইবনে আল কালবি লিখিত কিতাব আল আসনাম (মূর্তি সম্পর্কিত বই) থেকে জানা যায় ইসলাম পূর্ববর্তী যুগে আরবগণ বিশ্বাস করতেন লাত কাবা শরীফে বাস করেন। এবং সেখানেও তার একটি মূর্তি স্থাপিত ছিলো।

Her custody was in the hands of the Banū Attāb ibn Mālik of the Thaqīf, who had built an edifice over her. The Quraysh, as well as all the Arabs, venerated al-Lāt. They also used to name their children after her, calling them Zayd al-Lāt and Taym al-Lāt. […] Al-Lāt continued to be venerated until the Thaqīf embraced Islam, when the Apostle of God dispatched al-Mughīrah ibn-Shu‘bah, who destroyed her and burnt her temple to the ground.

আল-লাত, আল উজ্জা, মানাত
আল-লাত, আল উজ্জা, মানাত
  • আল-উজ্জা (আরবি: العزى‎, অর্থাৎ ‘সর্বশক্তিময়ী’) ছিলেন আরবের উর্বরতার দেবী। যুদ্ধে রক্ষা ও জয়ের জন্য তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হত। হুবাল দেবতার মতই উজ্জাকেও সমৃদ্ধি ও কল্যাণের আশায় কুরাইশরা পূজা করত। মক্কা বিজয়ের পর মুহাম্মদের নির্দেশে খালিদ বিন ওয়ালিদ তার একটি অভিযানের মাধ্যমে নাখলা নামক স্থানে উজ্জার প্রতি উৎসর্গীকৃত একমাত্র মন্দির ও তার ভেতরে অবস্থিত উজ্জার মূর্তি দুটোই ধ্বংস করে দেন।
  • মানাত (আরবি: مناة‎) ছিলেন ভাগ্যের দেবী। মানাতের একটি মূর্তি মদিনা ও মক্কার মাঝে কাদাদের আল-মুশাল্লালের কাছে সমুদ্রতীরে নির্মিত হয়েছিল। বানু আউস ও বানু খাজরাজ এবং মক্কা ও মদিনা সহ উক্ত অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত এলাকার সবাই মনাতকে শ্রদ্ধা জানাত এবং নিজেদের শিশুসন্তান বলি দিত। আউস, খাজরাজ, ইয়াথরিব ও অন্যান্য সব আরবরা মনাতকে দর্শন না করলে এবং মস্তক মুণ্ডন না করলে তীর্থযাত্রা সম্পূর্ণ হয় না বলে মনে করত। মানাতের মন্দির মুহাম্মদের নির্দেশে সাদ ইবনে যায়িদ আল আশহালি জানুয়ারি ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে ধ্বংস করেন ।

বুক অফ আইডলস এ আছে –

এই তিন দেবীর মধ্যে মানাত সবচেয়ে প্রাচীন । আরবগণ তাদের সন্তানদের নামকরণ আবদ মানাত এবং যায়িদ মানাত করত । মানাতের মূর্তি কুদায়িদ এর নিকটবর্তী সমুদ্র উপকূলে ছিল যা মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থান । আরবগণ তাঁকে অর্চনা ও তাঁর কাছে উৎসর্গ করত । আউস, খাজরায, মক্কা-মদিনা ও তাঁর আশেপাশের নাগরিকরা তাঁর পূজা করত, তাঁর কাছে বলি দিত এবং তাঁকে নৈবেদ্য প্রদান করত । আউস, খাজ্রায এবং ইয়াশ্রিবরা তীর্থযাত্রায় নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে নিশিপালন করত কিন্তু মস্তক মুণ্ডন করত না । তীর্থযাত্রার পরে তারা বাড়ি ফিরত না বরং যেখানে মানাত পূজা হয়েছিল সেখানে মস্তক মুণ্ডন করত এবং কিছু সময় অতিবাহিত করত । মানাত দর্শন না করা পর্যন্ত তারা তীর্থযাত্রা অসম্পূর্ণ মনে করত ।

 

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেবদেবীঃ

  • ওয়াদ (আরবি: ود‎) ছিলেন প্রেম ও বন্ধুত্বের দেবতা। মনে করা হত, ওয়াদের কাছে সাপেরা পবিত্র।
  • আম (আরবি: أم‎) ছিলেন চাঁদের দেবতা। আবহাওয়ার (বিশেষত বজ্রপাত) সঙ্গে তাঁর যোগের জন্য তাঁকে পূজা করা হত।
  • তালাব (আরবি: تألب‎) ছিলেন দক্ষিণ আরবে পূজিত এক দেবতা। বিশেষত শেবা অঞ্চলে তাঁর পূজা হত। তিনিও ছিলেন চন্দ্রদেবতা। তাঁর কল থেকে পরামর্শ নেওয়া হত।
  • ধুল-বালাসা (আরবি: ذو الحلاس‎) ছিলেন দক্ষিণ আরবের এক ওর্যাদকল দেবতা। তাঁকে শ্বেতপাথরের মূর্তিতে পূজা করা হত।
  • আল-কায়ুম (আরবি: القوم‎) ছিলেন নাবাতিয়ান যুদ্ধ ও রাত্রি দেবতা। এছাড়া তিনি ছিলেন ক্যারাভানের রক্ষক।
  • দুশারা (আরবি: ذو الشرى‎) ছিলেন নাবাতিয়ান পর্বতদেবতা।

অন্যান্য অলৌকিক সত্ত্বাঃ

  • জ্বীন (বা জিনি, আরবি: جنjinn) হল এমন এক অতিলৌকিক সত্ত্বা যাদের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি আছে। এরা ভাল বা খারাপ হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খারাপ জ্বীনেরা মানুষদের কুপথে চালনা করে বিনষ্ট করত। মুহাম্মদ আরবে সেই সময়ে প্রচলিত জ্বীন বিষয়ক উপকথাগুলো তার ধর্মে গ্রহণ করেন।
  • মারিদ (আরবি: ماردmārid) হল সবচেয়ে শক্তিশালী জ্বীন। বলা হয় এদের শক্তি অনেক। এরা খুবই উদ্ধত ও অহংকারী। অন্যান্য জ্বীনের মতো এদের ইচ্ছাশক্তি আছে। কিন্তু এদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা যায়। এরা নশ্বরদের ইচ্ছা পূর্ণ করতে পারে। তবে যুদ্ধ করে, শাস্তি দিয়ে, অনুষ্ঠান পালন করে বা সহজভাবে তুষ্ট করে এদের ব্যবহার করতে হয়।
  • ইফ্রিত (আরবি: عفريت‘ifrīt) হল নরকের জিন। এদের স্থান দেবদূত ও শয়তানদের নিচে। এরা শক্তিমত্তা ও চাতুর্যের জন্য কুখ্যাত। এরা অগ্নিময় ডানাওয়ালা জীব। এরা পুরুষ বা নারী হয়। মাটির তলায় বা ধ্বংসাবশেষে এদের বাস। প্রাচীন আরব উপজাতীয় ক্ষেত্রে রাজা, উপজাতি ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ইলফ্রিতরা বাস করত। তারা একে অপরকে বিয়ে করত। তবে তারা মানুষকেও বিয়ে করতে পারত। সাধারণ অস্ত্র বা শক্তি প্রয়োগ করে তাদের ক্ষতি করা যেত না। জাদুর সাহায্যেই মানুষে তাদের হত্যা করতে বা বন্দী করতে পারত। জিনের মতো, ইলফ্রিতরাও হয় বিশ্বাসী নয় অবিশ্বাসী, হয় ভাল নয় মন্দ হত। তবে সাধরণত তাদের খারাপ ও নিষ্ঠুর আকারেই চিত্রিত করা হত।
  • নাসনাস (আরবি: نسناسnasnās) অর্ধেক মানুষ। এদের অর্ধেক মাথা, অর্ধেক দেহ, একটি হাত, একটি পা থাকত। এর সাহায্যে তারা সহজে চলাফেরা করতে পারত। মনে করা হয়, নাসনাসরা শিক নামে এক দানব ও এক মানুষের বংশধর।
  • ঘোউল (আরবি: غولghūl) হল মরুভূমিতে বসবাসকারী রূপান্তরের ক্ষমতাশালী দৈত্য। এরা জন্তু-জানোয়ারের রূপ ধারণ করতে পারে। বিশেষত হায়নার রূপ ধারণকরে এরা। অসাবধানী পথিকদের মরুভূমিতে পথভ্রষ্ট করে এরা খেয়ে ফেলে। এই দৈত্যরা ছোটো ছেলেমেয়েদের খায়, কবরখানায় হানা দেয়, রক্ত পান করেন, মৃতদেহ খায় আর যাকে খেয়েছে তার রূপ ধরে। শেষোক্ত অভ্যাসটির জন্য কবরখানায় হানাদার বা নৃশংস কাজে আনন্দ পাওয়া মানুষদেরও অনেক সময় ঘোউল বলা হয়।
  • বাহামুত (আরবি: بهموتBahamūt) হল একটি বিশাল মাছ। এটি পৃথিবীকে ধরে রাখে। কোনো কোনো মূর্তিতে এটির মাথা জলহস্তি বা হাতির মতো।

পরবর্তীতে ইসলামে অন্তর্ভূক্ত ফেরেশতাগণঃ

  • হামালাত আল-আরশ: যেসমস্ত ফেরেশতা আল্লাহর আরশ ধরে রাখে।
    রাশিয়ান বাইবেলে ঈশ্বরের আরশ
    রাশিয়ান বাইবেলে ঈশ্বরের আরশ
  • জিবরাইল [আ.]: আল্লাহর দূত ও সর্বশ্রেষ্ঠ ফেরেশতা। কাজ, বার্তা প্রেরণ।
  • মিকাইল [আ.]:  ইনি বৃষ্টি ও খাদ্য উৎপাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
  • ইসরাফিল [আ.]:এই ফেরেস্তা কিয়ামত বা বিশ্বপ্রলয় ঘোষণা করবেন।
  • আজরাইল [আ.]: ইনি মৃত্যুর ফেরেশতা ও প্রাণ হরণ করেন।
  • সাতটি বেহেশতের ফেরেশতাগণ।
  • হাফাজা বা তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতাগণ।
  • মুনকার ও নাকীর: কবরে প্রশ্নকারী ফেরেশতাদ্বয়।
  • দারদায়িল
  • মালিক: জাহান্নাম বা নরক তত্ত্বাবধানকারী ফেরেশতা।
  • রেদওয়ান: জান্নাত বা স্বর্গ তত্ত্বাবধানকারী ফেরেশতা।
  • জাবানিয়া: জাহান্নামে দায়িত্ব পালনকারী ফেরেশতাগণ।
  • নিয়ম শৃঙ্খলা পালনকারী ফেরেশতাগণ।

লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, এই ফেরেশতাদের প্রতিটি চরিত্র মিশরীয়, গ্রীক, রোমান, বা আরও পুরনো সভ্যতাগুলোতে নানাভাবে বর্ণিত ছিল। আরবেও সেই গল্পগুলো প্রচলিত ছিল উপকথা হিসেবে। সম্ভবত মুহাম্মদ ছোটবেলা থেকেই নানাজনার কাছে এইসব গল্প শুনে বেড়ে উঠেছে। যার ফলশ্ত্রুতিতে সেই সব দেবদেবী হয়ে উঠেছে ইসলামি ফেরেশতা। এদের মধ্যে সবচাইতে আকর্ষনীয় চরিত্র ছিল শয়তানের চরিত্র। তাকে নিয়ে আরেকদিন লেখা যাবে।


কালো পাথরঃ হাজরে আসওয়াদ (আরবি: الحجر الأسودal-Ḥajar al-Aswad বাংলা:কালো পাথর) হল একটি কালো রঙের প্রাচীন পাথর ।  মুসলিম বিশ্বাস অনুযায়ী এই পাথর আদম ও হাওয়ার সময় থেকে পৃথিবীতে রয়েছে। আকৃতিতে এটি বাইরে থেকে দেখতে খানিকটা নারী দেহের জননাঙ্গের মত মনে হয়।

হিন্দু আদি শক্তি দেবী লজ্জা ঘাউরি

সেই সময়ে নারীর যোনী ও ঋতুস্রাবকে উর্বরতার প্রতীক এবং পবিত্র মনে করা হতো। বিভিন্ন অঞ্চলে রীতিমত পূজা করা হতো নারীর যোনীকে। হিন্দু ধর্ম সহ বেশ কিছু প্রাচীন ধর্মেই আদি শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা  Lajja Gauri কে, যাকে বলা হয় সকল দেবদেবীর মাতা। উল্লেখ্য, হাজরে আসওয়াদ চুমু দেয়া রীতি রয়েছে।

শুধু যে ভারতেই এই দেবীর পূজা করা হতো তা নয়, অনেক সভ্যতায় এইরকম দেবীর প্রমাণ পাওয়া যায়। মুহাম্মদের সাথে কৈশোরে হাজরে আসওয়াদ পাথরের স্মৃতি থাকার কারণে মুহাম্মদ এই প্যাগান পাথরটি কাবায় সংরক্ষণ করতে বলেন। যদি ওমরের বক্তব্য থেকে জানা যায়, মুহাম্মদ যদি এই পাথরটিকে সম্মান না দিতেন, তাহলে সে পাথরটিকে কাবায় বরদাশত করতো না। যেহেতু ইসলাম একটি আপাদমস্তক পুরুষতান্ত্রিক এবং রাজনৈতিক ধর্ম, তাই এই কালো পাথরটির ইতিহাসই বদলে ফেলা হয়। সেই সময়ে উপায় ছিল দুইটি, নারী দেহের উর্বরতার প্রতীক হিসেবে পূজিত কালো পাথরটিকে ছুড়ে ফেলে দেয়া, অথবা কালো পাথরটিকে ইসলামিকরণ করা। মুসলমানগণ কালো পাথরটিকে ইসলামি করণ করেন এই প্রচারের মাধ্যমে যে, এই পাথরটি আদম হাওয়ার সময় স্বর্গ থেকে নেমেছিল।

আমুন, আমেন, আমেন রা, সৃষ্টির দেবতা, গোপন দেবতা, অদৃশ্য দেবতা

মিশরীয় সর্বোচ্চ দেবতা আমুন, হিন্দু ধর্মের ব্রহ্মা, ইহুদীদের ইয়াহওয়ে, এবং আল্লাহঃ 

মেসোপটেমিয়ার স্রষ্টা দেবতা এল বা ইলাহ

প্রাচীন হিব্রু ভাষায় শব্দটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বহুবচন এলোহিম אֱלֹהִ֔ים (কিন্তু অর্থের দিক দিয়ে একবচন) হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। আর আরামাইক ভাষায় শব্দটির রূপ এলাহা ܐܠܗܐ বা আলাহা ܐܲܠܵܗܵܐ। কিন্তু এই শব্দটির অর্থ এই সব ভাষাতেই সমার্থক, “একক ঈশ্বর”। পৌত্তলিক মক্কাবাসীরা আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা দেবতা হিসেবে ধারণা করতো। কিন্তু একক এবং অদ্বিতীয় ঐশ্বরিক শক্তি হিসেবে নয়। মুহাম্মদ আব্রাহামিক ধর্মের একাত্ববাদ এবং পৌত্তলিক আরবের স্রষ্টা দেবতাকে একত্র করেন এবং ঘোষণা দেন, আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নাই।

পৌত্তলিক আরবে আল্লাহ ছিল পৃথিবী-সৃষ্টিকারী এবং বৃষ্টি-দানকারী সত্তা হিসেবে। তাদের ধারণা ছিলো যে, আল্লাহর আরো সঙ্গী-সাথী আছে, যাদেরকে তারা অধীনস্থ দেবতা হিসেবে পূজা করতো। তাদের মধ্যে কিছু অংশ মনে করতো, আল্লাহর সঙ্গে জ্বিনজাতির কোনো সম্পর্ক আছে। কিছু কিছু গোত্র হুবালকেই আল্লাহ মনে করতো এবং লা’ত, উজ্জা, মানাতকে তারা আল্লাহর কন্যা সাব্যস্থ করেছিলো। তারা বিপদগ্রস্ত অবস্থায় তারা আল্লাহ ডাকতো।

মুহাম্মদের নব্যুয়তের আগেই মুহাম্মদ নানা সময়ে আল্লাহর উপাসনা করতেন বলে জানা যায়। তবে সেই সময়ে যেই আল্লাহর উপাসনা তিনি করতেন তা পরবর্তীতে তার প্রবর্তিত ধর্মের আল্লাহ একই বৈশিষ্ট্যের ছিল না। এরকম ঈশ্বর শুধু যে আরবেই তা নয়, বহু সভ্যতাতেই পাওয়া যায়। বস্তুতপক্ষে মক্কার আল্লাহ একজন পৌত্তলিক দেবতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

একবার মুসলিমদের পবিত্র স্থান কাবা শরীফ ভেঙ্গে ফেলার পরিকল্পনা হচ্ছিল, ইয়েমেনের বাদশাহ আবরাহা বিশাল হস্তিবাহিনী পাঠিয়ে কাবা শরীফ ভেঙ্গে ফেলার ব্যাপারে মনস্থির করলেন। সেসময়ের কোরায়েশ নেতা এবং ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মুহাম্মদের দাদা আবদুল মুত্তালিব এই আক্রমন থেকে বাঁচার জন্য তার উট-ভেড়া আর পরিবার নিয়ে কাবা ছেড়ে দূরে চলে যাচ্ছিলেন। তখন অন্যান্য লোকজন জিজ্ঞেস করলো, “হে আবদুল মুত্তালিব, আপনি পবিত্র কাবা ঘর রক্ষা না করে পালাচ্ছেন কেন?” আবদুল মুত্তালিব জবাব দিয়েছিল, “কাবা আল্লাহর ঘর, আল্লাহর সম্মান, আল্লাহই এর মালিক, তাই সেটা তিনিই রক্ষা করবেন। আর আমার উটগুলো এবং পরিবারের মালিক আমি, সেগুলো রক্ষার দায়িত্ব আমার। আল্লাহ আল্লাহর কাজ করুক, আমি আমার কর্তব্য করি।”

দাবী করা হয়, আল্লাহ তালাহ নাকি আবাবিল পাখি পাঠিয়ে সেই বিশাল হস্তি বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন এবং তার কাবাঘর রক্ষা করেছিলেন।

মুহাম্মদ যে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করে তার ধর্মটি বানিয়েছিল, তার প্রমাণ সে নিজেই রেখে গেছে কোরান হাদিসের পাতায় পাতায়। যেমন, মিশরের আমুন বা আমেন দেবতার থেকে নিরাকার এবং রহস্যময় ঈশ্বরের ধারণা তিনি গ্রহণ করলেও, সেটার সাথে অন্যান্য দেবতার বৈশিষ্ট্য যুক্ত করতে গিয়ে করে বসেন অনেকগুলো ভুল। যেমন ইসলামে বলা হয়, নিশ্চয়ই তিনি নিরাকার, সর্বব্যাপী এবং সকল ক্ষমতার মালিক।

নিরাকার বলে বর্ণিত আল্লাহকে ভুল করে অন্য জায়গাতে আকার যুক্ত করে ফেলা হয়েছে। যেমন, ইসলাম ধর্মেও আল্লাহর হাত আছে। 

قُلْإِنَّالْفَضْلَبِيَدِاللّهِ

হজ্বঃ হে রাসূল বলুন ! ধন-সম্পদ ও সম্মান আল্লাহর হাতে । [আল ইমরান ৭৩]

فَسُبْحَانَالَّذِيبِيَدِهِمَلَكُوتُكُلِّشَيْءٍوَإِ لَيْهِتُرْجَعُونَ

সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর, যাঁর হাতে বিশ্বের সকল বিষয়ের ক্ষমতা । তাঁর নিকট তোমদের সকলকে ফিরে যেতে হবে ।

قَالَيَاإِبْلِيسُمَامَنَعَكَأَنتَسْجُدَلِمَاخَلَقْ تُبِيَدَيَّأَسْتَكْبَرْتَأَمْكُنتَمِنَالْعَال ِينَ

আল্লাহ বললেন, হে ইবলিস, আমি স্বহস্তে যাকে সৃষ্টি করেছি, তার সম্মুখে সেজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল ? তুমি অহংকার করলে, না তুমি তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ? [সুরা ছোয়াদ] ।

 

আবার, নফস আরবী শব্দ । এর অর্থ হচ্ছে দেহ।

يَوْمَتَجِدُكُلُّنَفْسٍمَّاعَمِلَتْمِنْخَيْرٍمُّحْ ضَرًاوَمَاعَمِلَتْمِنسُوَءٍتَوَدُّلَوْأَنَّبَيْنَه َاوَبَيْنَهُأَمَدًابَعِيدًاوَيُحَذِّرُكُمُاللّهُنَ فْسَهُوَاللّهُرَؤُوفُبِالْعِبَادِ

সেদিন প্রত্যেকেই যা কিছু ভাল কাজ সে করেছে: চোখের সামনে দেখতে পাবে এবং যা কিছু মন্দ কাজ সে করেছে তাও । ওরা তখন কামনা করবে, যদি তার ওবং ওসব কর্মের মধ্যে ব্যবধান দুরের হতে ! আল্লাহ তোমাদিগকে আপন নফসের ভীতি প্রদর্শন করছেন । আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু । [আল ইমরান ৩০]

আল্লাহ মানুষকে শাস্তি দিতে কারো মুখাপেক্ষী নন । তার দেহে যে শক্তি বিদ্যমান তা দিয়েই তিনি মানব জাতি ও নিখিল বিশ্বকে ধ্বংস করতে পারেন । আল্লাহ মানুষকে সেই মহান শক্তির ভীতি প্রদর্শন করছেন ।

আবু যার [রা:] বলেন যে, রাসূল [সা:] বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বান্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, হে আমার বান্দাগন ! আমি আমার নফসের জন্য যুলুম হারাম করে রেখেছি । [মুসলিম আরবী মিশকাত ২০৩ পৃ:, মিশকাত বাংলা ৫ম পৃ: ১৩৩, হা: ২২১৮, এমদাদিয়া]

যার দেহ আছে তার আকার আছে । এতে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ নিরাকার নন ।

আবার, রূহ শব্দের অর্থ প্রাণ ।

আল্লাহর যে প্রাণ আছে কোরআনে তার বর্ণনা রয়েছে ।

فَإِذَاسَوَّيْتُهُوَنَفَخْتُفِيهِمِنرُّوحِيفَقَعُو اْلَهُسَاجِدِينَ

আল্লাহর ফেরেশতাদিগকে বলেন, আদমকে সুঠাম করব, তারপর আদমের মধ্যে আমার রূহ প্রদান করব, অত:পর তোমরা তাকে সেজদা করবে । [হিজর ২৯]

এই আয়াতে প্রমাণ হল আল্লাহর রূহ আছে ।

আবার, আল্লাহ কি সর্বত্র বিরাজমান???

আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান কথাটি মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য নীচের আয়াতগুলোর প্রতি লক্ষ্য করুন ।

الرَّحْمَنُعَلَىالْعَرْشِاسْتَوَى

তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন । [তোয়া হা ৫]

الَّذِينَيَحْمِلُونَالْعَرْشَوَمَنْحَوْلَهُيُسَبِّ حُونَبِحَمْدِرَبِّهِمْوَيُؤْمِنُونَبِهِوَيَسْتَغْف ِرُونَلِلَّذِينَآمَنُوارَبَّنَاوَسِعْتَكُلَّشَيْءٍ رَّحْمَةًوَعِلْمًافَاغْفِرْلِلَّذِينَتَابُواوَاتَّ بَعُواسَبِيلَكَوَقِهِمْعَذَابَالْجَحِيمِ

যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। [মুমিন ৭]

وَالْمَلَكُعَلَىأَرْجَائِهَاوَيَحْمِلُعَرْشَرَبِّك َفَوْقَهُمْيَوْمَئِذٍثَمَانِيَةٌ

এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে। [হাক্ক্ ১৭]

মুহাম্মদ এও দাবী করেছেন তিনি সাত আসমান পার হয়ে(মেরাজ) উনার সাথে সাক্ষাৎ করে এসেছেন। অর্থাৎ উনার সাথে সাক্ষাতের জন্য পথ পাড়ি দিতে হয়, অর্থাৎ উনি যে সর্বব্যাপী একথাটাও ভিত্তিহীন। উনার বসবাসের নির্দিষ্ট স্থান না থাকলে এত কোটি কোটি মাইল পাড়ি দিয়ে দেখা করতে যাবার কোন অর্থ হয় না। ঘরে বসেই দেখা সাক্ষাৎ- আলাপ আলোচনা সম্ভব ছিল। 

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, নতুন একটি ঈশ্বর তৈরি করতে গিয়ে মুহাম্মদকে নানা কসরত করতে হয়েছে, কিন্তু ফাঁক ফোকর দিয়ে বেড় হয়ে গেছে পরস্পরবিরোধী কথা। নানা উপকথা, গল্প, নানা সভ্যতা থেকে টুকে টুকে নতুন কিছু বানালে এরকম হওয়াটাই স্বাভাবিক বৈকি।

 

 

প্রাচীন দেবতারাঃ 

 

মিশরীয় দেবতাগণ
আফ্রিকান দেবতাগণ
গ্রিক এবং রোমান দেবতাগণ
হিন্দু দেবতাগণ

 

রাজনৈতিক সিদ্ধান্তঃ ইসলামের প্রাথমিক সময়ে মুসলমানদের কেবলা ছিল বায়তুল মোকাদ্দাস৷ ইহুদীরা সেই সময়ে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ছিল, মুহাম্মদের নতুন ধর্মের নানা প্রথাও মুহাম্মদ ইহুদীদের থেকে নিয়েছিলেন। মুহাম্মদের প্রত্যাশা ছিল, হয়তো ইহুদীরা তাকে নবী হিসেবে মেনে নেবে।

ইহুদীদের মধ্যে সেই সময়ে দরিদ্রদের সম্পদের একটা অংশ দেয়ার প্রথা ছিল, যা মুহাম্মদ গ্রহণ করেন যাকাত নামকরণের মাধ্যমে। ইহুদীদের মধ্যে শুকরের খাওয়া হারাম ছিল, ওজু এবং নামাজের সাথে মুহাম্মদের নতুন ধর্মের প্রায় হুবুহু মিল।  ইহুদীরা শনিবার, খ্রিস্টানরা রবিবারকে প্রার্থনার জন্য বিশেষ দিন হিসেবে পালন করতো, মুহাম্মদ সেটাকে করেন শুক্রবারে।  ইহুদীদের মধ্যে উপবাস প্রচলিত ছিল, যা তিনি গ্রহণ করেন রোজা নাম দিয়ে। এমনকি, এখনকার সময়ে সুন্নতে খতনার ধারণাও ইহুদীদের অনুকরণে যুক্ত হয়।  ইহুদীরা সেই সময়ে একজন নবীর আবির্ভাবের অপেক্ষায় ছিল, মুহাম্মদ প্রাথমিক সময়ে ভেবেছিল সে নিজেকে নবী দাবী করলে ইহুদীদের সাথে তার মিত্রতা তৈরি হবে।

কিন্তু পরবর্তীতে ইহুদীরা মুহাম্মদকে ভণ্ড এবং পাগল আখ্যা দিলে মুহাম্মদ পরবর্তী জীবনে ইহুদীদের ভালভাবেই ঘৃণা করতেন। এমনকি, বহু ইহুদী গোত্রকে দিনের মধ্যে উধাও করে ফেলা হয়। তাদের নারী এবং শিশুদের যৌনদাস বানানও হয়।

দমনমূলক ইসলাম ধর্মঃ যেই মক্কা একসময় ছিল সকল ধর্মমত এবং দেবদেবীর উপাসকের মিলনমেলা, কাব্য সংগীত এবং আনন্দ উৎসবের স্থান, মক্কা বিজয়ের পরে সেটা পরিণত হলো শুধুমাত্র ইসলামের তীর্থস্থানে। যেহেতু কাবা শুরু থেকেই রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাই মক্কার পতন সেই সময়ে আরবের বহুত্ববাদী সমাজের বিনাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হজ্বের নিয়ম যেমন সেলাইহীন সাদা কাপড়, সাতবার প্রদক্ষিণ, শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর ছুড়ে মারা, কালো পাথরে চুম্বন করা, এগুলো সবই ছিল প্রাচীন প্যাগান প্রথা।

ইসলাম আবির্ভাবের বহুকাল আগে থেকেই মক্কাতে বছরে একবার তীর্থযাত্রীদের সমাগম হতো। অপবিত্র কাপড় পড়ে এই উপাসনা নিষিদ্ধ ছিল বিধায় সেলাই বিহীন কাপড় সেখানে গিয়ে পরতে হতো। । কিছু কিছু গোত্র সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়েও কাবা প্রদক্ষিণ করতো। কাবাকে বাম দিকে রেখে ডান দিক থেকে সাতবার চক্কর দেয়ার নিয়ম সেই সময়েই ছিল।  ঘোরার সময় কালো পাথরকে চুম্বন করা ও মাথা নোয়ানোর নিয়ম ছিল। মক্কার দুই পর্বত সাফা ও মারওয়ার মধ্যে দৌড়ানো থেকে শুরু করে শয়তানকে পাথর মারার প্রতিটি পুরনো প্যাগান ধর্মগুলোর ইসলামি সংস্করণ। । দেবতার সন্তুষ্টি লাভের আশায় সেই সময়ে গরু উট ছাগল ইত্যাদি কোরবানি দেয়াও ছিল প্যাগান প্রথা।

প্রায় প্রতিটি প্যাগান প্রথাকে ইসলামে অন্তর্ভূক্ত করতে মুহাম্মদ আরবে প্রচলিত নানা উপকথার সাথে মিলিয়ে নিজের উদ্ভাবিত নানা গল্পের সৃষ্টি করেছিল। যেখানে ইব্রাহিমের আরবে আসার কোন বাস্তব প্রমাণই পাওয়া যায় না, সেখানে মুহাম্মদের প্রচারিত গল্পে ইব্রাহিমকে মক্কায় এসে কাবার পূনর্নির্মান করেছিল বলে দাবী করা হয়। সেই সাথে, নিজেকে ইসমাইলের বংশধর দাবী করার মধ্যেও তার ইহুদীদের নবী হওয়ার বাসনা প্রকাশ পায়। প্রাচীন প্যাগান ধর্মগুলোর নানা অনুষ্ঠান, প্রথা নিয়ে খানিকটা অনুসন্ধান করলেই দেখা যায়, হজ্বের পুরো অনুষ্ঠানই প্যাগান ধর্মগুলো থেকে ইসলামীকরণের মাধ্যমে নেয়া।

কিন্তু সবচাইতে ভয়াবহ যেই বিষয়টা ছিল, সেই মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে হারিয়ে গিয়েছিল হাজার বছরের আরবের সংস্কৃতি, সভ্যতা, আচার অনুষ্ঠান। মক্কা বিজয়ের পরে কাবায় একাধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় মুহাম্মদ এবং ইসলামের। নষ্ট করা হয় শিল্পকলা , সাহিত্য, কবিতা, ক্রমশ নিষিদ্ধ করা হয় সংগীত, অন্যান্য সকল ধর্মকেই। এমনকি, পুরনো বই পুস্তকও ধ্বংস করা হয় ইসলাম অবমাননার দায়।

তথ্যসূত্রঃ

১) মুহাম্মদের জীবনী
২) উইকিপিডিয়া
৩) ছবিগুলো সংগ্রহ করা ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে।

Facebook Comments