ভবিষ্য পুরাণে ইসলামের প্রবর্তক মুহাম্মদ

মুমিনঃ আপনাকে আমি বিতর্কের আহবান জানাই, সাহস থাকলে এবং এক বাপের পোলা হয়ে থাকলে উত্তর দেবেন।
– না ভাই, আমার এত সাহস আসলে নেই। আর এক বাপের পোলা না দশ বাপের পোলা, এই ধরণের কথাগুলোও আমার ঠিক পোষায় না। মনে হয় পাড়ার টঙ্গের দোকানের অথবা বাসের চালিয়াৎ হকারের কথা এগুলো। এই ধরণের মানুষের সাথে বিতর্ক তো দূরের কথা, কথাও বলতে চাই না। মান সম্মানে লাগে। আপনি আপনার সমমনা বা সমকক্ষ কাউকে খুঁজে নিন। আর আমার সাথে আপনি বিতর্কে জয়ী হয়েছেন ভেবে সুখ পেতে চাইলে তাও পেতে পারেন। আমার আপত্তি নেই।
মুমিনঃ আচ্ছা, তাইলে একটা প্রশ্নের উত্তর দেন। হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ ভবিষ্য পুরাণে হযরত মুহাম্মদের(সাঃ) নাম এবং ভবিষ্যত বাণী কীভাবে আছে? এই বই তো অনেক আগে লিখিত। এটাই কী ইসলাম এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সত্যতার প্রমাণ না? আপনি চাইলে আমি রেফারেন্সও দিতে পারি। ভবিষ্য পুরাণে স্পষ্ট মুহাম্মদ নামটা আছে। তার অনুসারিদের যে মুসলমান বলা হবে, এবং তারা যে লিঙ্গ কর্তন করবে এগুলাও বলা আছে। এগুলা তো ইসলাম এবং মহানবী (সাঃ) এর সত্যতার প্রমাণ।
ভবিষ্য পুরাণে ইসলাম ও মুহাম্মদ
– আপনি ভবিষ্য পুরাণ পড়েছেন সেজন্য আপনাকে সাধুবাদ জানাই। আপনি কি ভবিষ্য পুরাণ পুরোটা পড়েছেন?
মুমিনঃ না, যতটা প্রয়োজন ততটা পড়েছি।
– আপনি আসলে একটি শব্দও পড়েন নি। মিথ্যা বলার কোন দরকার দেখি না। পড়ে থাকলে আপনি ভবিষ্য পুরাণের রেফারেন্স দিয়ে মুহাম্মদকে নবী বানাতে চেষ্টাই করতেন না। কেন এগুলো বললাম, তা পরে ব্যাখ্যা করছি।
আপনি কী পুরাণ কাকে বলে, সে সম্পর্কে ভালভাবে জানেন? পুরাণ কে লিখেছে এবং কোন সময়কালে তা লিখিত, সে সম্পর্কে কোন বই পড়েছেন? কোন গবেষণা গ্রন্থ? কোন ঐতিহাসিকের দ্বারা লিখিত প্রবন্ধ?
মুমিনঃ পুরাণ কাকে বলে আপনে জানেন না? অনেক প্রখ্যাত হিন্দু ধর্মগুরুও ভবিষ্য পুরাণে মুহাম্মদের কথা স্বীকার করেছেন। আমার কাছে ভিডিও লিঙ্ক আছে।
– আমি জানি কী জানি না, সেটা ভিন্ন বিষয়। আপনি আমাকে উত্তর দেন, পুরাণ কী তা আপনি জানেন কিনা। ভিডিও লিঙ্ক সম্ভবত আমার দেখাই আছে। এগুলো কোনটাই আমি বাদ রাখি না।
মুমিনঃ পুরাণ হইলো হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ! আমি এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না। পড়ি নাই এগুলা।
– ভাই, যখন রেফারেন্স নিয়ে আসবেন, সেই রেফারেন্স সম্পর্কে কিছু বেইসিক ধারণা নিয়ে আসলে ভাল হয়। পুরাণ হচ্ছে, হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ আখ্যানমূলক ধর্মগ্রন্থ-সমুচ্চয়। যেগুলোর অনেক অংশই লোকমুখে যুগে যুগে প্রচলিত ছিল। এগুলোর উৎপত্তি সম্পর্কে বেশীরভাগেরই নির্দিষ্ট কোন সময়কাল নেই। যুগের পর যুগ ধরে, অনেক সময় শতাব্দীর পরে শতাব্দী ধরে এগুলো লিখিত হয় এবং লোকমুখে প্রচলিত হয়। এর মধ্যে, ভবিষ্য পুরাণ সংস্কৃতে লিখিত এবং সাধারণ বিশ্বাস অনুযায়ী বেদ-সংকলক ব্যাসদেব এই গ্রন্থের রচয়িতা। তবে সেটি শুধুই বিশ্বাস মাত্র। ভবিষ্য পুরাণের লেখার কোন নির্দিষ্ট সময়কালই নেই। ভবিষ্য পুরাণের কিছু অংশ খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে রচিত। এবং এই রচনাকালের ব্যাপ্তি বিষয়ে একজন বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ মরিজ উইন্টারনিৎজ এর মতে, উদ্ধৃতি হিসেবে গৃহীত লেখ ও পুরাণ উভয় ক্ষেত্রে উল্লিখিত এই শ্লোকগুলি সম্ভবত ধর্মরাষ্ট্রসমূহের পূর্ববর্তী এবং তাই এগুলির ভিত্তিতে কোনো কালানুক্রমিক তালিকা প্রস্তুত সম্ভব নয়। আরেকজন বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ Alf Hiltebeitel এর মতে, খ্রিষ্ঠপূর্ব ৫০০ থেকে শুরু করে উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত ভবিষ্য পুরাণ লিখিত এবং পরিমার্জিত হয়েছে। অর্থাৎ, এটি কোন ঐশ্বরিক অবিকৃত গ্রন্থ নয়, বহুল পরিমার্জিত এবং নতুন নতুন বিষয় যুক্তকরণের মাধ্যমেই আজকে যেই ভবিষ্য পুরাণ পাওয়া যাচ্ছে সেটি।

সেই সাথে, এই বিষয়ের স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ Alf Hiltebeitel গবেষণা করে দেখিয়েছেন, লিখিত শ্লোকগুলোর অনেকাংশই রচনা হয়েছিল একদমই সাম্প্রতিক সময়ে। কারণ সেই শ্লোকগুলোর বাক্যগঠন অতীতের বাক্য গঠনের থেকে আলাদা। এর অর্থ হচ্ছে, ভবিষ্য পুরাণে অত্যন্ত চাতুর্য্যের সাথে বর্তমান সময়ের ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা অতীতের লেখা ভবিষ্যতবানী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো আসলে অতীতে লিখিত নয়, বর্তমান সময়েই লিখিত।

এ কে রামানুজন একে ” যথাযথভাবে হালনাগাদকৃত ভবিষ্য পুরাণ” বলে মন্তব্য করে বলেছেন, এইগ্রন্থে খ্রিস্ট, মুসা ও রানি ভিক্টোরিয়ার উল্লেখ পাওয়া গেছে। একে তিনি এই বলে ব্যাখ্যা করেন যে: চতুর বক্তব্য ও অনুশাসন প্রয়োগ করার প্রচেষ্টার পরও বলতেই হয় যে পুরাণগুলি মুক্ত ব্যবস্থার অন্তর্গত। ভবিষ্যোত্তর পুরাণ মুখ্যত কিছু কিংবদন্তি ও লোককথা সম্বলিত ধর্মীয় রীতিনীতির হাতবই।
রাজেন্দ্র হাজরা একে “বিভিন্ন সূত্র থেকে গৃহীত একটি অসংবদ্ধ উপাদানসংগ্রহ” বলে উল্লেখ করেছেন।

সবচাইতে মজার বিষয় হচ্ছে, ভবিষ্য পুরাণে যেই অংশে মহম্মদের কথা বলা আছে, সেখানে ঈশ্বরপুত্র যীশু, ভারতের রাণী ভিক্টোরিয়া, সম্রাট আকবর, এমনকি, হিটলারের কথাও বর্ণিত আছে। আপনি কী তাহলে ঈশ্বরপুত্র যীশুর দাবিটিও মেনে নিচ্ছেন? বা হিটলারকে নবী মানবেন?

বিষয়টি সহজ করে বোঝাচ্ছি। ধরুন, আমি এখন একটি ভবিষ্যত বাণী করলাম, যে ১৯০০-১৯৫০ সালের মধ্যে দু’টি বিশ্বযুদ্ধ হবে। কথাটি লিখে মাটির নিচে পুতে দিলাম, এবং কয়েক বছর পরে সেগুলো মাটি থেকে তুলে বলতে লাগলাম, এই কথাগুলো খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ সালে লিখিত। কিন্তু কথাগুলোর বাক্যগঠন এবং রচনার ধারা লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে, সেগুলো আসলে আমি সাম্প্রতিক সময়েই লিখেছি। এবং এগুলো অতীতে লিখিত ভবিষ্যত বাণী হিসেবে উপস্থাপন করতে চাচ্ছি।

মরিজ উইন্টারনিৎজ এর মতে, ভবিষ্য পুরাণ শিরোনামে যেসব পুথি আমাদের হস্তগত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে আপস্তম্বীয় ধর্মসূত্র গ্রন্থে উদ্ধৃত প্রাচীন কীর্তি নয়। আপস্তম্বীয় ধর্মসূত্র-এ একটি উদ্ধৃতি ভবিষ্য পুরাণ -এর নামাঙ্কিত; কিন্তু উক্ত পুরাণের প্রাপ্ত কোনো পাঠে তা পাওয়া যায় না। ভবিষ্য পুরাণ অনুসারে এই গ্রন্থের পাঁচটি পার্বন বা খণ্ড। কিন্তু প্রাপ্ত পাঠভিত্তিক মুদ্রিত সংস্করণে চারটি খণ্ড দেখা যায় ( ব্রাহ্ম , মধ্যমা , মধ্যমা , ও উত্তর)। এই চারটি খণ্ড বিষয়গতভাবে পৃথক ও ভিন্ন ভিন্ন সময়কালে রচিত।
Alf Hiltebeitel তার Rethinking India’s Oral and Classical Epics গ্রন্থে পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, this part (যেই অংশে মুহাম্মদের কথা আছে, প্রতিসর্গপর্বন) of the Bhavisya Purana was mostly likely composed in the 19th century.

এবারে আসুন আরেকটি মজার বিষয় লক্ষ্য করি। আপনি যদি ভবিষ্য পুরাণের কিছু অংশ পড়ে থাকেন, পড়লেই দেখবেন, এটি ভবিষ্যতের নানা কথা বর্ণনা করেছে। এবং বর্ণনার সময়, টেন্স হিসেবে ফিউচার টেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যপুরাণের প্রতিসর্গপর্বন অংশটুকু পড়লেই, মজার বিষয় দেখবেন, মুহাম্মদের বর্ণনা অংশে, সেখানে ব্যবহৃত হয়েছে পাস্ট টেন্স। অর্থাৎ অতীত কালের বিবরণ। মজার না বিষয়টি? কেউ ভবিষ্যতবাণী করলে কোন টেন্সে লেখে? অতীত কাল হিসেবে বর্ণনা করে বুঝি?

আসুন এবারে আপনাকে ভবিষ্য পুরাণে মুহাম্মদ সম্পর্কিত অংশটুকু বাঙলায় অনুবাদ করে দিচ্ছি। আপনি নিজেই পড়ে আমাকে বলবেন, ভবিষ্য পুরাণকে আপনি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করবেন কিনা। কারণ সেটা আপনি করতে চাইলে, মুহাম্মদকে একটি ইবলিশি বা দানবীয় বা অসুরীয় ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেই আপনাকে মানতে হবে।

ইসলাম সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী [প্রতিসর্গ পুরাণ তৃতীয় অংশ থেকে]
শ্রী সুতা গোস্বামী বলেন: রাজা শালীবন রাজবংশের মধ্যে, দশজন রাজা ছিলেন যারা ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শাসন করার পর স্বর্গীয় গ্রহগুলিতে গিয়েছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে পৃথিবীতে নৈতিকতা ভূলণ্ঠিত হতে লেগেছিল। সেই সময়ে ভোজরাজা ছিলেন পৃথিবীর রাজাদের দশম জন। তিনি যখন দেখলেন যে পৃথিবীতে নৈতিকতা ভূলণ্ঠিত হচ্ছিল তখন তিনি কালিদাসের দশ হাজার সৈন্যবাহিনী দিয়ে তার দেশের চারিপাশের সব দিক জয় করলেন। তিনি সিন্ধুর নদী পার হলেন এবং গান্ধারা, ম্লেচ্ছ, শক, কাশ্মীর, নওড়া ও শঠের উপর জয়ী হন। তিনি তাদের শাস্তি দিয়েছিলেন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। তারপর রাজা মহমদদ (মুহম্মদ), ম্লেচ্ছ ধর্মের প্রবক্তা, এবং যিনি মরুভূমিতে ছিলেন, তাকে নিয়ে এবং মহাদেব শিবের অনুসারিদের সাথে গেলেন। তিনি গঙ্গা পানি দিয়ে মহাদেব শিবকে ধৌত করেছিলেন এবং মনপ্রাণ দিয়ে উপাসনা করেছিলেন পঞ্চগভ্য (দুধ, ঘি, দই, গরু এবং গোমূত্র) দিয়ে এবং চন্দনচোপড় ইত্যাদি দিয়ে। তারপরে তিনি প্রার্থণা অর্পণ করে তাকে খুশী করেন।
শ্রী সুতা গোস্বামী বলেন: তার প্রার্থণা শুনে, মহাদেব শিব বললেনঃ হে রাজা ভোজরাজ, তোমাকে মহাকক্ষ্ম নামক স্থানে যেতে হবে। সেই স্থানটিকে বহিকা বলা হয় এবং এখন ম্লেচ্ছদের দ্বারা দূষিত হচ্ছে। সেই ভয়ঙ্কর দেশে আর ধর্ম (ধর্ম বলতে এখানে হিন্দু ধর্ম বোঝানো হচ্ছে) বলে কিছু নেই।
অতীতে একসময় ত্রিপুরা নামক একটি দানবের আবির্ভাব ঘটেছিল, যাকে আমি ইতিমধ্যেই পুড়িয়ে ছাই করেছিলাম। কিন্তু সে আবার বালির আদেশে ফিরে এসেছে। তার কোন সৃষ্টি নেই এবং সে আমার কাছ থেকে একটি বর লাভ করেছে। তার নাম মহাওদা এবং তার কর্ম একটি দানবের মতো। অতএব, হে রাজা, ঐ অশুভ দানবের দেশে যেও না। আমার দয়া দ্বারা আপনার বুদ্ধি শুদ্ধ করা হবে।
এইসব শুনে রাজা ভোজরাজ তার দেশে ফিরে আসেন এবং মহমমদ তাদের এগিয়ে দিতে সিন্ধু নদীর তীর পর্যন্ত এসেছিলেন। তিনি (মহম্মদ) মায়া (ইল্যুশন) প্রসারিত করতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন, এবং খুব আনন্দের সাথে রাজাকে বললেন, ” হে মহারাজ, আপনার ঈশ্বর আমার দাস হয়েছেন। শুধু দেখুন, আপনার ঈশ্বর আমার অবশিষ্টাংশ খাবে, তাই আমি আপনাকে দেখাবো।” তার সম্মুখে এইসব দেখে রাজা বিস্মিত হলেন। তারপর রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে কালিদাস মহমমদকে ধমক দিয়ে বললেন, “হে বদমাশ, তুমি রাজাকে বিদ্রূপ করার জন্য মায়াজ্বাল তৈরি করছো, আমি তোমাকে মেরে ফেলব, তুমি নিকৃষ্টতম …”
[…] সেই শহরটি তীর্থযাত্রীদের কাছে তীর্থস্থান হিসাবে পরিচিত ছিল, একটি জায়গা যা ছিল মদিনা এবং উম্মত্ততা থেকে মুক্ত। একটি দানব সাথে নিয়ে মোহমায়া সৃষ্টিতে পারঙ্গম মহমমদ রাজা ভোজরাজের সামনে রাতে হাজির হলো এবং বললো: হে রাজা, আপনার ধর্ম অবশ্যই সব ধর্মের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম। তারপরেও আমি আমার প্রভুর নির্দেশ মোতাবেক একটি ভয়ঙ্কর এবং অসুরীয় ধর্ম স্থাপন করতে যাচ্ছি। আমার অনুসারিদের লক্ষণ হবে যে, তারা প্রথমে তাদের যৌনাঙ্গ কেটে ফেলবে, কোন শিখা থাকবে না, তবে দাড়ি থাকবে, তারা পাপাত্মা হবে, প্রচুর হট্টোগোল করবে এবং সব খাবে। তারা কোন শুদ্ধ নিয়মনীতিহীন ভাবে প্রাণী হত্যা করে খাবে। ইহাই আমার অভিপ্রায়। আপনি যেমন কুশার সাহায্যে সব পরিশুদ্ধ করেন, তারাও মুশাল্লা বা মশলা দিয়ে শুদ্ধকর্মের কাজ করবে। অতএব, তারা মুসলমান হিসাবে পরিচিত করা হবে, যাদেরকে ধর্মদুষণকারী বলা হবে। এইভাবে আমি একটি অসুরীয়/ ইবলিশি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করবো।
এই সব শুনে শুনে রাজা তার প্রাসাদে ফিরে আসেন এবং সেই পাপাত্মা তার জায়গায় ফিরে গেল।

এবারে আসুন মূল আলাপে। ভোজরাজা(সর্বপ্রথম জন) সম্পর্কে আমরা যা জানি, তা হচ্ছে, উনি শাসন করেছেন ১০১০ থে ১০৫৫ সাল পর্যন্ত। মুহাম্মদের জন্মকাল হচ্ছে ৫৭০ থেকে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ। দুইজনার দেখাসাক্ষাত হয়েছে বা মিল মহব্বত হয়েছে, এরকম কল্পনা শুধু পাগলের মাথায় আসতে পারে। তারপরে লক্ষ্য করুন,  এখানে হযরত মুহাম্মদ পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে পাস্ট টেন্সে ভবিষ্যত বাণী করা হয়েছে যে, সে একটি অসুরীয় ধর্ম প্রতিষ্ঠা করবেন। আপনি বা আপনারা যারা ভবিষ্য পুরাণে মুহাম্মদের নাম আছে জেনেই ধেই ধেই করে নৃত্য শুরু করেছেন, ভবিষ্য পুরাণের রেফারেন্স ধরে মুহাম্মদকে সত্য প্রতিষ্ঠিত করতে নেমেছেন, তাদের মত কাঠ বলদ মনে হয় আর কেউ নেই। কারণ, আপনারা আসলে মুহাম্মদের পেছনে আইক্কাওয়ালা বাঁশ দেয়ার উদ্দেশ্যেই, মুহাম্মদকে অসুরীয় ধর্মের প্রবর্তক, এই বক্তব্য প্রচার করছেন।

হিন্দু ধর্মগুরুরা কী উদ্দেশ্যে মুহাম্মদের কথা ভবিষ্য পুরাণে বর্ণিত আছে, এরকম দাবী করেন, তার উদ্দেশ্য হচ্ছেঃ
১. এতে তাদের ধর্মগ্রন্থ কতটা অলৌকিক তা প্রমাণ হয়।
২. এতে তাদের ধর্মের ভিত মজবুত হয়।
৩. এতে মুহাম্মদকে একটি অসুরীয় বা রাক্ষসের ধর্ম, বা দানবীয় ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।
৪. এতে মুসলমানদেরকে অসুরের উপাসক, এবং ঘৃণিত সম্প্রদায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উষ্কানি দেয়া যায়।

হিন্দুরা নাহয় এইকাজ করে যাচ্ছে, তার কারণ বোধগম্য, আপনি মুসলমান হয়ে ভবিষ্য পুরাণকে রেফারেন্স ধরে নিচ্ছেন কোন বুদ্ধিতে? মুমিন হয়েছেন ভাল কথা, তাই বলে কী জ্ঞানবুদ্ধি কিছুই থাকতে নেই? এরকম বেয়াকুব কীভাবে হন আপনারা?

মুমিনঃ আপনাদের সাথে যুক্তি দিয়া লাভ নাই। কারণ আপনারা যুক্তি বুঝেন না। আল্লাহ আপনাদের অন্তরে মোহর মেরে বন্ধ করে দিয়েছেন। আপনাদের মত লোকদের সাথে তর্ক করে সময় নষ্ট করতে চাই না।
– আচ্ছা ঠিক আছে। আল্লাহ আপনাকে হেদায়ের দান করুক। আমিন।

Statue of Raja Bhoja
ভোজরাজা

প্রয়োজনীয় রেফারেন্সঃ

১। Alf Hiltebeitel এর লেখা Rethinking India’s Oral and Classical Epics University of Chicago Press. pp. 217–218. ISBN 978-0-226-34050-0. আগ্রহী পাঠকের জন্য বইটির ডাউনলোড লিঙ্কও দেয়া হলো।

২। পুরাণ সংকলন, ইংরেজিতে। ইসলাম সম্পর্কিত অংশটুকু ৪৮৩ নং পৃষ্ঠায় দেখুন।

ভবিষ্য পুরাণে ইসলাম মুহাম্মদ

ভবিষ্য পুরাণে মুহাম্মদ

Facebook Comments

9 thoughts on “ভবিষ্য পুরাণে ইসলামের প্রবর্তক মুহাম্মদ

  • March 7, 2018 at 2:17 am
    Permalink

    মুহাম্মদ এর ভবিষ্যত বাণী টা past tense লেখা। মানে কি বোঝাতে চেয়েছেন? এটা manipulation? এই জায়গাটা একটু clear করবেন?

    Reply
    • March 7, 2018 at 8:01 am
      Permalink

      মুহাম্মদ, যীশু, ভারতে ব্রিটিশ শাসন, হিটলারের বিবরণ পুরোটাই ধাপ্পাবাজি। পরবর্তীতে সংযুক্ত। খুব সম্ভবত উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এটি পরিমার্জন করা হয়।

      Reply
  • March 7, 2018 at 11:26 am
    Permalink

    তার মানে আপনার অবস্থানটা হলো মুহম্মদ এর ভবিষ্যৎ বাণীর পুরোটাই মুসলিমরা চক্রান্ত করে পুরানের অন্তর্ভুক্ত করেছে?

    Reply
    • March 10, 2018 at 5:18 am
      Permalink

      ছাগল, বোঝে কম খায় বেশি।

      Reply
  • March 7, 2018 at 11:30 am
    Permalink

    এটা আপনার লেখার পরের অংশের সাথে খুব সূক্ষ ভাবে বৈপরীত্য প্রকাশ করে না?

    Reply
  • March 8, 2018 at 2:36 am
    Permalink

    খুবই তথ্যবহুল আর গুরুগম্ভীর লেখা শুধু আইক্কাওয়ালা বাঁশ শব্দটা এই লেখার সাথে মানাচ্ছে না। শব্দটা বাদ দিয়ে দিন।।

    Reply
  • March 10, 2018 at 10:12 am
    Permalink

    যদি পুরান কেউ manipulation করে তা নিশ্চয় হিন্দুরা করার কথা না।

    কিন্তু খেলাটা অন্য জায়গাতে। মুসলিমরা করলে পুরো কথাটাই মুসলিমদের পক্ষে আসতো।

    দাদারা একটু মরিচীকা দেখিয়ে গাধাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবেন, কিন্তু আসলে চক্রান্তটা দাদারাই করেছেন চিন্তা করলেই তা ক্রিস্টাল ক্লেয়ার।

    Reply
  • May 25, 2018 at 2:55 am
    Permalink

    In this article one thing comes to light if an analytical mind uses his rationality . That’s about the shortcomings of references given by Zakir Nayek. It is not enough just providing references mechanically, even they are true. Why? When Zakir Nayek provides references, he overlooks or bypasses various contradictions, time validity, faithful or honest interpretation etc. This is intellectual dishonesty. For example Mr ASif pointed out about the falsification of timing of the myth about a character “Muhammad”. There are many mismatching or
    gojamil which Zakir Nayek just avoids or bypasses. It is dishonesty or cheating. So those who follow him are also dishonest.

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: