ইসলাম কী মানুষের বানানো ধর্ম?

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে বসে বই পড়ছিলাম। সাজিদ পড়ছিলাে এ্যান্থনি মাসকারেনহাস এর বই- ‘The Legacy of Blood’ ।। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর বিদেশি সাংবাদিকের লেখা বই। সাজিদের অনেকদিনের ইচ্ছে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর সে একটা ডকুমেন্টারি তৈরি করবে। তাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যতাে বই আছে, সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ছে সে।।
আমি অবশ্য সাজিদকে সঙ্গ দেওয়ার জন্যই রয়ে গেছি। এসব বই-টই পড়ার ব্যাপারে আমার যথেষ্ট অনীহা আছে। থার্ড পিরিয়ডে সাজিদ ফোন করে বললাে ক্লাশ শেষে যেনাে ওর সাথে দেখা করি। দেখা করতে এসেই আটকে গেছি। সােজা নিয়ে এলাে লাইব্রেরিতে। মােটা মােটা বইগুলাে নিয়ে সে বসে পড়েছে।খুব মনােযােগ দিয়ে পড়ছে। আর গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলাে ডায়েরিতে ঠুকে নিচ্ছে। আমি আর কি করবাে? সাজিদকে মুখের উপর ‘তুই বসে থাক’ বলে চলেও আসা যাবে না। তাহলেই হয়েছে। আমি ঘুরে ঘুরে শেলফে সাজিয়ে রাখা বইগুলাে দেখছি। হুমায়ুন আহমেদের একটি বই হাতে নিলাম। বইটির নাম- ‘দীঘির জলে কার ছায়া গাে।’ হুমায়ুন আহমেদ নামের এই ভদ্রলােক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় লেখক। যদিও উনার তেমন বই আমি পড়িনি, কিন্তু সাজিদের মুখে উনার বেশ প্রশংসা শুনি। উনার বেশকিছু কালজয়ী চরিত্র আছে। একবার নাকি উনার নাটকের একটি প্লট পাল্টানাের জন্য মানুষ মিছিল নিয়েও বেরিয়েছিলাে। বাব্বা! কি সাংঘাতিক!
‘দিঘীর জলে কার ছায়া গাে’ নামের বইটি উল্টাতে লাগলাম। উল্টাতে উল্টাতে একটি জায়গায় আমার চোখ আটকে গেলাে। বিবর্তনবাদের জনক চার্লস ডারউইনের ব্যাপারে কিছু একটা লেখা। পড়তে শুরু করলাম’আহসানকে পেয়ে শওকত সাহেব আনন্দিত। তিনি নতুন একটা বই পড়ছেন। বইয়ে বিবর্তনবাদের জনক ডারউইন সাহেবকে ধরাশায়ী করা হয়েছে। তাঁর পূর্বপুরুষ বানর- এটা তিনি মেনে নিতেই পারতেন না। এখন সমস্যার সমাধান হয়েছে। তিনি আহসানের দিকে ঝুঁকে এসে বললেন, ‘তুমি ডারউইনবাদে বিশ্বাস কর?’ আহসান বলল,- ‘জ্বী চাচা, করি।’ – ‘তােমার বিশ্বাস তুমি এখন যে-কোনাে একটা ভাল ডাস্টবিন দেখে ফেলে আসতে পারাে।’ আহসান বলল,- ‘ জ্বী আচ্ছা, করি।’ – ‘পুরাে বিষয়টা না শুনেই জ্বী আচ্ছা বলবে না। আগে পুরাে বিষয়টা শােন।’ আহসান হতাশভঙ্গিতে পুরাে বিষয়টা শােনার জন্য প্রস্তত হলাে। সহজে এই বিরক্তিকর মানুষটার কাছ থেকে ছাড়া পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে না। শওকত সাহেব বললেন, ‘তােমাদের ডারউইনের থিওরি বলে পাখি এসেছে সরীসৃপ থেকে। তুমি এখন একটা সাপ ও ময়ূর পাশাপাশি রাখাে। চিন্তা কর যে, ময়ূরের পূর্বপুরুষ সাপ, যে সাপ এখন ময়ূয়ের প্রিয় খাদ্য। বলাে, তােমার কিছু বলার আছে?’ – ‘এই মুহূর্তে কিছু বলার নেই চাচা।’

– ‘মনে মনে দশের ওপরে ৯৫০টা শূন্য বসাও। এই বিশাল প্রায় অসীম সংখ্যা দিয়ে ১ কে ভাগ করাে। কী পাবে জানাে? শূন্য। এটা হলাে এ্যাটমে এ্যাটমে ধাক্কাধাক্কি করে DNA অনু তৈরীর সম্ভাবনা। মিলার নামে কোন সাইন্টিস্টের নাম শুনেছ? ছাগলটাইপ সাইনটিস্ট।’ – ‘চাচা, শুনিনি।’
– ‘ঐ ছাগলটা ১৯৫০ সনে একটা এক্সপেরিমেন্ট করে অন্য ছাগল সাইন্টিস্টদের মধ্যে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল।ছাগলটা করেছে কী, ল্যাবরেটরিতে আদি পৃথিবীর আবহাওয়া তৈরী করে ঘনঘন ইলেক্ট্রিক কারেন্ট পাস করেছে। কিছু প্রােটিন অনু। তৈরী করে বলেছে- এভাবেই পৃথিবীতে প্রাণের শুরু। প্রাণ সৃষ্টিতে সৃষ্টিকর্তার কোন প্রয়ােজন নেই। এখন সেই ছাগল মিলারকে নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে হাসাহাসি। Life ম্যাগাজিনে কী লেখা হয়েছিল পড়ে শােনাই।’ – ‘চাচা, আরেকদিন শুনি? জটিল কিছু শােনার জন্য আমি এ মুহূর্তে মানসিকভাবে তৈরী না।’ – ‘জটিল কিছু বলছি না। জলবৎ তরলং। মন দিয়ে শােনাে।’ শওকত সাহেব পড়তে শুরু করলেন। আহসান হতাশ চোখে জানালা দিয়ে তাকিয়ে রইল…….
এইটুকু পড়ে আমি বেশ আনন্দ পেলাম। লেখক হুমায়ুন আহমেদ এখানে ব্যাটা ডারউইনকে একহাত নিলেন। শওকত সাহেবের মতাে আমিও কোনভাবেই মানতে পারিনা যে, আমাদের পূর্বপুরুষ বানর। ভাবতেই ঘেন্না লাগে!
বইটি নিয়ে আমি সাজিদের কাছে গেলাম। এসে দেখি সে ব্যাগপত্র গােছানাে শুরু করেছে। সে বললাে,- ‘চল, বাসায় যাবাে।’ আমি তাকে হাতের বইটি দেখিয়ে বললাম, ‘ এই বইটা পড়েছিস? মজার একটি কাহিনী আছে। হয়েছে কি জানিস……’ আমার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে সাজিদ বললাে, ‘শওকত সাহেব নামের এক ভদ্রলােক আহসান নামের একটি ছেলের সামনে ডারউইনের গােষ্ঠী উদ্ধার করেছে, তাই তাে?’ আমি অবাক হলাম। বললাম, ‘হ্যাঁ। কিন্তু আমি এই ব্যাপারে বলবাে কি করে। বুঝলি?’
সাজিদ ব্যাগ কাঁধে নিতে নিতে বললাে,- ‘এটা ছাড়া এই বইতে আর তেমন বিশেষ কিছু নাই যেটা দেখাতে তুই এভাবে আমার কাছে ছুটে আসবি। তাই অনুমান করলাম।’ আমি আর কিছুই বললাম না। বইটি শেলফে রেখে দিয়েই হাঁটা ধরলাম।
সিঁড়ির কাছাকাছি আসতেই হঠাৎ বিপ্লব দা’র সাথে দেখা। উনার সাথে শেষবার দেখা হয়েছিলাে উনার বাসায়। সেবার সাজিদ আর বিপ্লব দা’র মধ্যে কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে যা বিতর্ক হয়েছিলাে, দেখার মতাে। বিতর্কে বিপ্লব দা সাজিদের কাছে গোঁ হারা হেরেছিলাে। সেটা ভাবতেই এখনাে আমার পৈশাচিক আনন্দ হয়।। আমাদের দেখেই বিপ্লব দা হেসে দিলেন। কিছুক্ষণ কথাবার্তা বললেন। এরমধ্যে হঠাৎ করে বৃষ্টি চলে এলাে। মধ্যাকাশে সূয্যি মামা তখনও বহাল তবিয়তে জ্বলজ্বল করছে, আবার ওদিকে বৃষ্টির বিশাল বিশাল ফোঁটা। গ্রাম্য লােকজনের কাছে এই বৃষ্টির একটি মজার ব্যাখ্যা আছে। তারা বলে, শিয়ালের বিয়ে হলে এরকম বৃষ্টি হয়। রােদের মধ্যেই বৃষ্টি। শিয়াল প্রজাতির মধ্যে বিয়ে-টিয়ের প্রচলন আছে কিনা কে জানে।
বিপ্লব দা সহ আমরা ক্যান্টিনে ঢুকলাম। বৃষ্টি কমলে বেরুতে হবে।। সাজিদ তিন কাপ চা অর্ডার করলাে। এরপর বিপ্লব দা’র দিকে তাকিয়ে বললাে,- ‘দাদা ভাই, চা খেতে অসুবিধে নেই তাে?’ – ‘না না, ইট’স ওকে’- বিপ্লব দা উত্তরে বললাে। এরপর আবার বিপ্লব দা বললাে, ‘সাজিদ, তােমার সাথে একটি ব্যাপারে আলাপ করার ছিলাে।’
ততক্ষণে চা চলে এসেছে। বৃষ্টির মধ্যে গরম গরম ধোঁয়া উঠা চা’য়ের কাপে চুমুক দেবার ফ্লেভারটাই অন্যরকম। সাজিদ তার কাপে চুমুক দিতে দিতে বললাে,- ‘হ্যাঁ দাদা, বলুন। কোন টপিক?’ বিপ্লব দা বললাে, ‘ওই যে, তােমরা যে বইটাকে স্রষ্টার বাণী বলাে, সেটা নিয়ে। কোরান ।’ সাজিদ বললাে,- ‘সমস্যা নেই। বলুন কি বলবেন? বিপ্লব দা বললেন, ‘কোরানে একটা সূরা আছে। সূরাটার নাম তালাক।’ সাজিদ বললাে, ‘সূরাটির নাম তালাক নয়, আত-তালাক। অর্থ- বিবাহ বিচ্ছেদ। ইংরেজিতে ডিভোর্স।
– এই সূরার ৫ নাম্বার লাইনগুলাে তুমি কি পড়েছাে?’
– ‘পুরাে কোরআনই আমরা মাসে কয়েকবার করে পড়ি। এটা মার্কস কিংবা প্লেটো’র রচনা নয় যে একবার পড়া হয়ে গেলেই শেলফে আজীবনের জন্য সাজিয়ে রাখবাে।’
বিপ্লব দা বললেন,-‘ এই লাইনগুলােতে বলা হচ্ছে “And those who no longer expect menstruation among your women – if you doubt, then their period is three months, and [also for] those who have not menstruated. And for those who are pregnant, their term is until they give birth. And whoever fears Allah – He will make for him of his matter ease….. এরপর বিপ্লব দা সেটার বাংলা অর্থ করে বললেন, “তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের ঋতুবর্তী হওয়ার আশা নেই, তাদের ব্যাপারে সন্দেহ হলে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস। আর যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি, তাদেরও অনুরূপ ইদ্দতকাল হবে। গর্ভবর্তী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তানপ্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।”
এইটুকু বলে বিপ্লব দা থামলেন।
সাজিদ বললাে,- ‘what’s wrong with these verses? ।
বিপ্লব দা বললেন, ‘দেখাে, এখানে বলছে তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে এখনো যারা ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি, এর মানে কী?’
সাজিদ বললাে,- ‘হু।’
বিপ্লব দা বললেন, ‘ পরম করুণাময় মহান আল্লাহ পাক কীভাবে একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক নাবালক মেয়ের সাথে বিয়েকে বৈধতা দিতে পারেন? ‘
সাজিদ বললাে,- ‘এখানে কী অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে? বলা হয়েছে যদি নাবালিকা স্ত্রী থেকে থাকে তবে…’
বিপ্লব দা বললেন, ‘ তা হয়তো না, কিন্তু বক্তব্যটি তো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করার প্রত্যক্ষ জাস্টিফিকেশন। আল্লাহ পাক কেন এভাবে শিশুকামকে বৈধতা দিলেন? শিশুকাম সভ্য দুনিয়ায় এক ভয়াবহ অপরাধ বলেই গণ্য। সম্ভবত সবচাইতে ভয়ঙ্কর অপরাধ, তাই না? ‘
সাজিদ বললাে,- ‘ আচ্ছা, আপনার মতে বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে সবচাইতে এগিয়ে আছে কোন দেশ? ‘
বিপ্লব দা বললেন, ‘ সেটা তো ভিন্ন বিষয়। তুমি প্রাসঙ্গিক আলোচনা করো। ‘
সাজিদ বললাে, -‘ সেটাই করছি। তার আগে বলুন, কোন দেশকে আপনার বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে সবচাইতে এগিয়ে থাকা মনে হয়?’
-‘নিঃসন্দেহে আমেরিকা।’
সাজিদ বললাে,-‘ আচ্ছা। আপনি কী জানেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স কতো?’
-‘কতো?’
সাজিদ বললাে,-‘ আপনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটের পরিসংখ্যান দিচ্ছি। নিজেই দেখুন।’
আমেরিকায় শিশু বিবাহ
সাজিদ বলতে লাগলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নত একটি দেশের স্টেটগুলো যেখানে শিশুবিবাহকে বৈধতা দিচ্ছে, আর আল্লাহ সেই একই কাজ করলে আপনার সমস্যা হয় কেন? সেইম কথা কোরান বললেই আপনারা চিৎকার করে বলে উঠেন- কোরান অমানবিক! তাছাড়া, আধুনিক মেডিক্যাল সায়েন্স প্রমাণ করেছে, একটি নারী যত কম বয়সে সন্তান জন্ম দেয়, ততই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী শিশু জন্ম দিতে পারে। মেয়েদের বয়স যত বৃদ্ধি পায়, তাদের শরীরের হরমোনগুলো ততই দুর্বল হতে থাকে। এখন বলুন তো, সেই ১৪০০ বছর আগেই, মরুভূমির একজন নিরক্ষর মানুষ কীভাবে জানলেন, মেয়েদের ছোটবেলাতেই বিয়ে দেয়া যায়? তাতে শারীরবৃত্তিক কোন সমস্যাই হয় না। যেই তথ্যটি আজকে আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারাই প্রমাণিত?
বিপ্লব দা তোতলাতে লাগলেন। বললেন, ‘ কিন্তু তুমি তো সবকিছুকেই বিজ্ঞান দিয়ে জাস্টিফাই করে ফেলো।’
সাজিদ মুচকি হেসে বলতে লাগলো, ‘ হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ১৪০০ বছর আগেই বলেছেনঃ “পুরুষের প্যান্ট বা কাপড় পায়ের টাখনুর উপর পড়তে হবে। অন্যথায় তারা জাহান্নামে যাবে।” – (সহীহ বুখারী ৫৩৭১)
আর আজকে বিজ্ঞান মাথা নুইয়ে স্বীকার করে নিচ্ছে, পুরুষের টাখনুর ভিতর প্রচুর পরিমানে হরমোন থাকে এবং তার আলো বাতাসের প্রয়োজন হয়। তাই কেউ যদি তা খোলা না রেখে ঢেকে রাখে, তাহলে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।

সেই ১৪০০ বছর আগেই হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ভ্রু প্লাগকারীর উপর আল্লাহর লানত”- (সহীহ বুখারী ৫৫১৫)
আর আজকে বিজ্ঞান হাদিসের এই বাণীকে স্যালুট করে স্বীকার করে নিচ্ছে, ভ্রু হলো চোখের সুরক্ষার জন্য। সূর্য রশ্মি এবং ক্ষতিকর বস্তু থেকে চোখকে রক্ষার জন্য। ভ্রুতে এমন কিছু লোম থাকে যদি তা
কাটা পড়ে যায় তাহলে ভ্রুপ্লাগকারী পাগল হতে পারে, অথবা মৃত্যুবরণও করতে পারে।

সেই ১৪০০ বছর আগেই রাসুল্লাহ হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়া হারাম” – (সহীহ বুখারী ৬১২৪)
আজকের বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে, ধুমপানের কারনে ফুস্ফুসের ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস ও হৃদরোগ হয়ে মানুষ মারা যায়। ধূমপান করলে ঠোট, দাতের মাড়ি, আঙ্গুল কালো হয়ে যায়। যৌনশক্তি ও ক্ষুধা কমে যায় এমনকি স্মৃতিশক্তি ও কমে যায়।

সেই ১৪০০ বছর আগেই রাসুল্লাহ হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম।” – (মুসলিম ১৬৫৫)
আজকের বিজ্ঞানীরা এই কথারও সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন। তারা জানাচ্ছেন, স্বর্ণ এমন একটি পদার্থ যা স্কিনের সাথে মিশে ব্লাডের মাধ্যমে ব্রেনে চলে যায়। আর তার পরিমান যদি ২.৩ হয় তাহলে মানুষ তার আগের স্মৃতি সব হারিয়ে ফেলবে।

রাসুল্লাহ হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘুমানোর সময় আলো নিভিয়ে এবং ডান কাত হয়ে ঘুমাতে। – (সহীহ বুখারী ৩২৮০)
আজকের আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষকরা দিনরাত পরিশ্রমের পরে আবিষ্কার করেছেন, ডান কাত হয়ে ঘুমালে হার্ট ভালো করে পাম্প করে। আর লাইট না নিভিয়ে ঘুমালে ব্রেনের এনাটমি রস শরীরে প্রবেশ করতে পারে না, যার ফলে ক্যান্সার হওয়ার খুব সম্ভবনা থাকে।

রাসুল্লাহ হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা গোফ ছেটে ফেল এবং দাড়ি রাখ।” – (সহীহ মুসলিম ৪৯৩ ও ৪৯৪)
আর আজকের বিজ্ঞান বলছে, দাড়ি না রাখলে স্ক্রিন ক্যান্সার, ফুসফুসের ইনফেকশন এবং ৪০ এর আগে যৌনশক্তি হারানোর সম্ভবনা থাকে।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, “আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়োনা। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং ধ্বংসের পথ।”- (বনি ইসরাঈল ৩২) নেশাগ্রস্থ শয়তানের কাজ (মাইদাহ ৯০)
আর আজকের বিজ্ঞান বলছে, পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল সম্পর্ক সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য নেশায় যদি কেউ জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার ব্রেনের ফরেন্টাল এরিয়া পরিচালনা করার ইনটেলেকচুয়াল সেলগুলো থরথর করে কাঁঁপতে থাকে এবং অস্থির হয়ে যায়। যার ফলে সে নেশাগ্রস্থ হয়ে মাতাল ও অসুস্থের মত জীবন পরিচালনা করে। এবং তা তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, “আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।” – (আরাফ ২০৪)
আজকের দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছে, কুরআনের সাউন্ডওয়েভ শরীরের সেলগুলোকে সক্রিয় করে, অসুস্থতা আরোগ্য করে বিশেষ করে হার্ট এবং ক্যান্সার রোগীদের। আর ব্রেনকে এমনভাবে চার্জ করে, ঠিক যেমন ভাবে ফিউজ হওয়া ব্যাটারীকে সচল করা হয়।

এরপরেও আপনারা বলবেন, আমরা বিজ্ঞান দিয়ে ইসলামকে জাস্টিফাই করছি? এতকিছুর পরেও?” এতক্ষণ বলে সাজিদ থামলাে।

এখন বিজ্ঞানি মহলে এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হয়েই চলেছে আজ অদ্যাবধি।’ – সাজিদ আবার বলতে লাগলো। আমরা এক নিশ্বাসে বিজ্ঞানের অনেকগুলো মজার অধ্যায় থেকে ভ্রমণ করে এলাম। এবার সাজিদ আমাদের মধ্যে যে এগনােষ্টিক, যে বিশ্বাস করে যে, কোরান মুহাম্মদ সাঃ এর নিজের কথা, তার দিকে ফিরলাে। বললাে,-, ‘রােহান, বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে তোমার এসব অবশ্যই জানা থাকার কথা,তাই না?’ রােহান বললাে,- ‘হ্যাঁ। জানি।’ – ‘মাত্র গত শতাব্দীতে বসে আইনষ্টাইনও যে মহাবিশ্ব নিয়ে ভুল জানতেন, তা তাে তুই জানিস, তাই না?’ – ‘হ্যাঁ।’ – ‘বিজ্ঞানি Georges Lemaitre আর বিজ্ঞানি হাবলের আগে এই জিনিস তাবৎ দুনিয়ার কেউই জানতাে না, ঠিক না?’ – ‘হ্যাঁ।’- রােহানের স্বীকারােক্তি। সাজিদ বললাে,- ‘আচ্ছা রােহান, আমি যদি বলি, তাদের অনেক অনেক অনেক আগে, তাদের প্রায় সাড়ে ১৩০০ বছর আগে একজন ব্যক্তি এসব কথা বলেছে, তুই বিলিভ করবি?’ রােহান চিৎকার করে বললাে,- ‘Impossible, Quite Impossible… ‘

সাজিদ তখন বললাে, ‘বিপ্লব দা এবং রােহান, কোরানের সূরা আয-যারিয়াতের ৪৭ নাম্বার আয়াতে আছে ‘আমরা নিজ হাতে আসমানকে সৃষ্টি করেছি এবং এটাকে সম্প্রসারিত করে চলেছি।’ এখানে আয়াতের শেষে আসমানের সম্প্রসারণ বুঝাতে যে ‘মূসিউন’ শব্দ আছে, সেটি একটি সক্রিয় বিশেষণ। চলমান ক্রিয়া নির্দেশক, যা নির্দেশ করে কোন কাজ অতীতকাল থেকে শুরু হয়ে বর্তমান অবধি চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা হয়ে চলবে। অর্থাৎ, আল্লাহ বলছেন, তিনি মহাবিশ্বকে (এখানে আসমান = মহাবিশ্ব) নিজের হাতে সৃষ্টি করেছেন, এবং সেটাকে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করেই চলেছেন। ঠিক এই কথাগুলােই বিজ্ঞানি Georges Lemaitre এবং বিজ্ঞানি হাবল আমাদের গত শতাব্দীতে জানিয়েছেন। বল তাে, আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে, মরুভূমিতে উট চড়ানাে এক বালক এমন একটি কথা কিভাবে বললাে, যা আধুনিক বিজ্ঞান প্রমান করেছে মাত্র ১৯২৯ সালে? এই কথা না বাইবেলে ছিলাে না ইঞ্জিলে। না ছিলাে কোন গ্রিক পুরাণে, না কোন মিথােলজিতে। মহাকাশের এমন একটি একটি রহস্যময় ব্যাপার মক্কার একজন নিরক্ষর, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবিহীন লােক মুহাম্মদ সাঃ কোথায় পেলেন? বল তাে?’ অন্যান্য সময় হলে বিপ্লব দা বলতাে, মুহাম্মদ বাইবেল থেকে চুরি করেছে, নয়তাে বলতাে কোন গ্রিক পুরাণ থেকে মেরে দিয়েছে, কিন্তু সাজিদের বিস্তারিত গল্প শােনার পর তার এই দাবি যে ধােপে টিকবেনা, সে সেটা বুঝতে পারলাে।
সাজিদ বললাে,- ‘ এটা কি সম্ভব নিরক্ষর মুহাম্মদ সাঃ এর দ্বারা যদি কোন ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ তাতে না থাকে?’ বিপ্লব দা এবং রােহানের মাথা তখন অনেকটাই নিচু হয়ে গেছে।

‘নাহ।’ সাজিদ বললাে, ‘তাহলে প্রমাণ হলাে, কোরান মুহাম্মদ সাঃ এর লেখা নয়, এটি একটি ঐশ্বরিক কিতাব, যা নাজিল হয়েছে মুহাম্মদ সাঃ এর উপর।’ তারা কিছু বললাে না। তাদেরকে কিছুটা চিন্তিত দেখালাে। সম্ভবত তারা বুঝতে পেরেছে। যে, চোরের দশদিন, গেরস্থের একদিন।

Facebook Comments

আরিফ আজাদ

আরিফ আজাদ। জন্মেছেন চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার সময় থেকেই লেখালেখির হাতেখড়ি। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশুনা করতেই বেশি পছন্দ করেন। ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ লিখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা কুড়ান। বিশ্বাসের কথাগুলােকে শব্দে রূপ দিতে পছন্দ করেন। অবিশ্বাসের দেয়ালে অনুপম স্পর্শে বিশ্বাসের ছোঁয়া দিতে তাঁর রয়েছে ব্যাপক মুন্সিয়ানা। একুশে বইমেলা – ২০১৮ তে তাঁর রচিত দ্বিতীয় বই ‘আরজ আলী সমীপে।

5 thoughts on “ইসলাম কী মানুষের বানানো ধর্ম?

  • March 9, 2018 at 2:14 pm
    Permalink

    one of the best blog and also my favourite. Im trying to find a way to write here, but still did’nt get it how to.

    Reply
  • April 24, 2018 at 3:42 am
    Permalink

    ///কোরানের সূরা আয-যারিয়াতের ৪৭ নাম্বার আয়াতে আছে

    ‘আমরা নিজ হাতে আসমানকে সৃষ্টি করেছি এবং এটাকে সম্প্রসারিত করে চলেছি।’ ///

    মিথ্যাবাদী আরিফ আজাদ, অপপ্রচার করে কুমতলব হাসিল করাই যার উদ্দেশ্য।

    কোরআনের সুরা ৫১.আল-যারিয়াত,
    আয়াত ৪৭এ আসলে লেখা আছে —

    ৫১. সুরা আল-যারিয়াত
    ৪৭. আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই ব্যাপক ক্ষমতাশালী।
    ৪৮. আমি ভূমিকে বিছিয়েছি। আমি কত সুন্দরভাবেই না বিছাতে সক্ষম।
    ৪৯. আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি,যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।

    Reply
    • April 30, 2018 at 10:18 am
      Permalink

      Mujibor Rahman অনুবাদক বলেছেন ঃ আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই মহা সম্প্রসারণকারী…
      Taisirul Quran অনুবাদক বলেছেন ঃ আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই মহা সম্প্রসারণকারী…
      Mohiuddin Khan অনুবাদক বলেছেন ঃ আমি অবশ্যই ব্যাপক ক্ষমতাশালী।
      এটা …অনুবাদকদের সমস্যা… কোরআনে না…

      Reply
    • April 30, 2018 at 10:19 am
      Permalink

      Mujibor Rahman অনুবাদক বলেছেন ঃ আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই মহা সম্প্রসারণকারী…
      Taisirul Quran অনুবাদক বলেছেন ঃ আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই মহা সম্প্রসারণকারী…
      Mohiuddin Khan অনুবাদক বলেছেন ঃ আমি অবশ্যই ব্যাপক ক্ষমতাশালী।
      এটা …অনুবাদকদের সমস্যা… কোরআনে না…

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: