আধুনিক বিজ্ঞান কী বলে- নারী দেখলে পুরুষের কী লালা ঝরে!

সেদিন ছবির হাটে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আমি, সাজিদ, পার্থ, তারেক, শাহরিয়ার আর মিশকাত।

প্রথমেই বলে রাখি, আমাদের মধ্যে সাজিদ হলো এক্স-এথেইষ্ট। আগে নাস্তিক ছিলো, এখন আস্তিক। পার্থ আর শাহরিয়ার এখনো নাস্তিক। ডারউইন আর ডকিন্সই হলো তাদের ধ্যান-জ্ঞান। মিশকাত এগনোষ্টিক। স্রষ্টা কি সত্যিই আছে, নাকি আদৌ নাই- সেই ব্যাপারে কোন সমাধানে তারেক আর আমি এখনো আসতে পারি নি।

সপ্তাহের প্রতি রোববারে আমরা এখানে আড্ডা দিই। আড্ডা না বলে এটাকে ‘পাঠচক্র’ বলাই যুতসই। সপ্তাহান্তে এখানে এসে আমরা পুরো এক সপ্তাহে কে কি পড়েছি, পড়ে কি বুঝেছি, কি বুঝিনি এসব আলোচনা করি। ভারি ইংরেজিতে যেটাকে ‘বুক রিভিউ’ বলা হয় আর কি!

আজকের আলোচক দু’জন। শাহরিয়ার আর সাজিদ। শাহরিয়ার আলোচনা করবে ইমানুয়েল কাণ্টের ‘ Critical philosophy’ এর উপর, আর সাজিদ আলোচনা করবে আল কোরআনের উপর।

দুজনই তুখোঁড় আলোচক। ‘Critical philosophy’ নিয়ে শাহরিয়ারের আলোচনা বেশ জম্পেশ ছিলো। শাহরিয়ার খুবই চমৎকারভাবে শুরু হেগেল দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে পাশ্চাত্য এবং প্রাচ্যের দার্শনিকদের আলোচনা করে যাচ্ছিল। এই আলোচনায় দর্শনের শাখাপ্রশাখাগুলো কীভাবে গড়ে উঠতে লাগলো, এনলাইটেনমেন্টের সাথে সেসবের কী সম্পর্ক ছিল, সবই উঠে আসলো। মনে হচ্ছিলো- ইউরোপের কোন দর্শন স্কুলের শিক্ষক যেন সে, আমাদের সামনে আঙুল উঁচিয়ে উঁচিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন কোন জিনিসটার কি ব্যাখ্যা, কি কাজ, কি ধর্ম।

শাহরিয়ারের আলোচনা শেষ হলে সাজিদ তার আলোচনা শুরু করে। সেও আল কোরআন নাজিল হবার কারণ, এতে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার, নারী-পুরুষ এবং এতদসংক্রান্ত যে বিষয়গুলো আছে- তার একটি চমৎকার সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরলো। ইসলামে নারীর অধিকার, পুরুষের দায়িত্ব, নারী পুরুষের সম্পর্ক, ইত্যাদি দারুণভাবে উঠে আসলো।

এতটুকু বলে সাজিদ থেমে গেলো। এমন সময় শার্ট প্যান্ট পড়া এক মেয়ে ছবির হাটের ভেতরে হেঁটে যাচ্ছিল। মিশকাত সেই মেয়েটির দিকেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। তা দেখে সাজিদ তাকে বললো, ‘ মেয়ে দেখলেই পুরুষদের সব দার্শনিক জ্ঞান, আলোচনা, সুস্থ চিন্তা লোপ পেতে থাকে। মেয়েছেলে জিনিসটাই এরকম। এই কারণেই মহানবী (সাঃ) বলেছেন,

আবদুল্লাহ বিন ওমরের বর্ণনামতে নবী বলেছেন, “তিন জিনিস অশুভ আছে- নারী, বাড়ি এবং ঘোড়া”।
সহিহ বুখারী ভলিউম ৭ হাদিস ৩০

মিশকাত খুব ক্ষেপে উঠলো। বললো, ‘ আরে সাজিদ, তুই তো একদম আল্লামা শফীর মতই কথা বললি। যে মেয়েদের দেখলেই পুরুষদের মুখে লালা ঝরে। না ঝরলে নাকি সে পুরুষই না। ছিঃ ছিঃ, কী ভয়ঙ্কর অবজ্ঞা আর নোংরা উক্তি। আসলে তোরা মুসলমানরা আর মানুষ হলি না। নারীদের সম্মান করতে শিখলি না। মুসলমানই থেকে গেলি।’

সাজিদ বললো,- ‘হ্যাঁ। আমরাই তো খালি এইসব বলি। কিন্তু দোস্ত, আধুনিক বিজ্ঞানও যদি একই কথা বলে, তখন? তখন কী বলবি, বিজ্ঞানও নারীদের সম্মান করতে শেখে নি?’

তখন শাহরিয়ার বললো,- ‘বিজ্ঞান কখন বলেছে মেয়েদের দেখলে পুরুষদের মুখে লালা ঝরে? এইসব কী বাজে কথা বলছিস?’

– ‘আমি বলছি না, আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাই বলছে’- সাজিদ বললো।

আমরা সবাই একটু অবাকই হলাম। এইসব কী বলছে সাজিদ? আল্লামা শফী যখন বলেছিল, মেয়েরা হচ্ছে তেঁতুলের মত, তাদের দেখলেই পুরুষের মুখে লালা ঝরা উচিত, এইসব কথা শুনে পুরো দেশের মানুষ ছিঃ ছিঃ করেছিল। এখন সাজিদ এইসব কথাকে কীভাবে জাস্টিফাই করছে, তাও বিজ্ঞানের রেফারেন্স দিয়ে?

অপেক্ষা করছি সাজিদের উত্তরের জন্য।

সাজিদ একটু ঝেড়ে কেশে নিলো। এরপর বলতে শুরু করলো-

‘দেখ মিশকাত! আল্লাহ পাক পবিত্র কোরানে বলেছেন,

নারী পুরুষের জন্য শষ্যক্ষেত্রস্বরুপ, পুরুষ যেভাবে খুশি তাকে ব্যবহার করতে পারে। কোরান (2:223)

এই কথাটি নারীর জন্য কোন অমর্যাদাকর কথা নয়, অসম্মানজনক নয়। কারণ এটাই সত্য কথা। যুক্তি এবং বিজ্ঞানের কথা। আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত সত্য। শুধু মুসলমানরাই বলছে না, পশ্চিমের বড় বড় বিজ্ঞানীরাও বলছে। ডেইলি মেইলের একটি রিপোর্ট থেকেই বলছি। কোন মুসলিম প্রধান দেশের কোন ইসলামি পত্রিকা নয়। ‘

রিপোর্টটিতে বলা হচ্ছে,

They say the prettiest girls make men’s mouths water – and now scientific research suggests that it is true.
A study has revealed that male saliva undergoes dramatic changes during small talk with attractive young women.
It suggests they almost start drooling during the briefest of flirtations with members of the opposite sex.
And the more they try to impress, the more their saliva gives them away.
Experts at the University of Chicago in America set out to test male hormonal reactions. College students who took part in the study, all of whom were heterosexual, were asked to make small talk with a young man or a young woman.
The participants, most of whom were in their early twenties, provided saliva samples before and after the encounter.
Results reveal that after just five minutes talking to young women, men’s saliva undergoes significant changes.
While little or no change was noted in the saliva of those paired with other males, those paired with young women produced saliva containing high levels of the male sex hormone testosterone.
The most dramatic changes were noted in men who appeared to be trying to impress. Dr James Roney, of the Institute for Mind and Biology at the University of Chicago, who led the research, said: “I would not say that the men were actually drooling but there were significant changes to their saliva. After these conversations with the women, they showed a major testosterone increase.

“The degree of change was associated with the extent to which the girls thought they were interested in them as romantic partners or trying to show off.”
The study participants were quizzed about how physically attractive they found the woman they talked to, using such categories as ‘sexy’ and ‘cute’.
Following the five-minute sessions, the women were asked detailed questions about the men’s behaviour, focusing on how interested and engaged they seemed, and whether or not they appeared to be trying to impress.
The women involved in the study were not professional models or exceptionally good-looking – suggesting that many women may have the power to make men’s mouths water.
In their research paper, published in the latest edition of the journal Evolution And Human Behaviour, the American team describes the process as a ‘courtship response’.
It is thought that when men find women attractive, their brains send messages to the pituitary gland, triggering production of testosterone. Changes in the level of the hormone is easiest to test in saliva.

এই বক্তব্য বাংলায় করলে যেমন হয়ঃ
একটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষনায় দেখা গেছে, সুন্দরী মেয়েদের দেখলে পুরুষদের মুখে লালা ঝরে। গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, আকর্ষণীয় চেহারার মেয়েদের সাথে সামান্য সময়ের হাল্কা আলাপের সময়ও পুরুষের মুখের লালার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা পুরুষের শরীরে নানা হরমোনাল প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করেন। গবেষণায় অংশ নেন কলেজ ছাত্ররা, যাদের সবাই ছিল বিষমকামী। সেই পরীক্ষায় একটি যুবককে একটি যুবতী সঙ্গে অল্প কিছুক্ষণ আলাপ করতে বলা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা, যাদের বেশিরভাগই বয়স বিশের কাছাকাছি। তাদের সেই আলাপের আগে এবং পরবর্তী সময়ে লালার নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
ফলাফলে দেখা যায় যে, অল্প অল্পবয়সী নারীদের সাথে কথা বলার মাত্র পাঁচ মিনিটের পরে, পুরুষদের লালা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। …
শিকাগোর ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো ইনস্টিটিউট অব মাইন্ড অ্যান্ড বায়োলজির অধ্যাপক ড. জেমস রনির গবেষণার নেতৃত্বে পরীক্ষাগুলো হয়। তিনি বলেন, “আমি বলতে চাই না যে পুরুষেরা আসলে লোভাতুর হয়েছিল, তবে তাদের মুখের লালায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছিল।

এবার সাজিদ বললো,- ‘মিশকাত, ইসলামবিদ্বেষীরা ইসলামকে দুর্নাম করার জন্য অনেক কথাই বলবে। কিন্তু আমাদের জানা উচিত, এই বিষয়ে বিজ্ঞান কী বলে। আধুনিক বিজ্ঞানই যখন বলছে, মেয়েদের দেখলে পুরুষের মুখে লালা ঝরে, সেখানে তো তোরা তাদের নারী অবমাননাকারী বলিস না। শুধু দাড়িটুপি ওয়ালা কেউ বললেই, মাদ্রাসার কেউ বললেই তোদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়।

সাজিদ শাহরিয়ার আর মিশকাতের মুখের দিকে চেয়ে আছে কোন একটি উত্তরের আশায়। মিশকাত কিছু না বলে পিক করে হেসে দিলো। মনে হচ্ছে সাজিদের কথায় সে খুব মজা পেয়েছে। ফেরার সময় আমি সাজিদকে বললাম, সাজিদ, সব মুসলমান যদি তোর মত বিজ্ঞান দিয়ে ইসলামকে বুঝিয়ে দিতো, তাহলে পৃথিবীতে ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের নাম নিশানাও থাকতো না।

সাজিদ কিছু বললো না। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে মনে হলো, সেই দিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলার মাটি থেকে ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিকদের নাম নিশানাও মুছে যাবে।

Facebook Comments

আরিফ আজাদ

আরিফ আজাদ। জন্মেছেন চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার সময় থেকেই লেখালেখির হাতেখড়ি। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশুনা করতেই বেশি পছন্দ করেন। ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ লিখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা কুড়ান। বিশ্বাসের কথাগুলােকে শব্দে রূপ দিতে পছন্দ করেন। অবিশ্বাসের দেয়ালে অনুপম স্পর্শে বিশ্বাসের ছোঁয়া দিতে তাঁর রয়েছে ব্যাপক মুন্সিয়ানা। একুশে বইমেলা – ২০১৮ তে তাঁর রচিত দ্বিতীয় বই ‘আরজ আলী সমীপে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.