আমি কলাবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং কে ভালোবাসি না, কারণ-

স্টিফেন হকিং মারা গেছেন। কিছু মানুষের মতে, তাকে বিশ্বের সমকালীন তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের মধ্যে অন্যতম হিসাবে বিবেচনা করা হয়। হকিং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান অধ্যাপক (স্যার আইজ্যাক নিউটনও একসময় এই পদে ছিলেন) হিসেবে ১ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে অবসর নেন। এছাড়াও তিনি কেমব্রিজের গনভিলি এবং কেয়াস কলেজের ফেলো হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন আমাদের শৈশবের হিরো। মফস্বল শহরে থাকাবস্থায় কোন বিজ্ঞান লেখককে তেমনভাবে না চিনলেও স্টিফেন হকিংকে চিনতাম খুব ভালো করেই। পত্রপত্রিকায় প্রায়ই তার নাম দেখতাম, আর শুনতাম উনি এই শতাব্দীর সবচাইতে প্রভাবশালী বিজ্ঞানী। কিন্তু তারপরেও, স্বীকার করতেই হবে তিনি ছিলেন একজন কাফের এবং নাস্তিক। একজন কাফের এবং নাস্তিকের জন্যেও শৈশবে আমার ছিল তীব্র আকর্ষণ।

এরপর…

এরপর বড় হলাম। আমি আরো বেশি করে জানলাম আমার ধর্মকে। ধর্মটাকে জানতে গিয়ে আমি যেন বারবার ধাক্কা খাচ্ছিলাম। এতোদিন যাকে আমি প্রচন্ডরকম ভালোবেসে এসেছি, যাকে আমি আমার শৈশব-কৈশোরের ‘হিরো’ ভেবে এসেছি, যাকে আমি ভালোবেসেছি আমাদের মধ্য থেকে একজন শক্তিমান বিজ্ঞানী হিসেবে, সেই তিনিই যেন নতুনভাবে আমার সামনে প্রতিভাত হতে লাগলেন ধীরে ধীরে। এতোদিন আমি উনার লেখাগুলোকে বিজ্ঞান ভেবেছিলাম। কিন্তু এরমধ্যে যে সুক্ষ্ম বিদ্বেষ, সুক্ষ্ম ধর্মবিরোধিতা আর সুক্ষ্ম ‘ব্রেইনওয়াশ’ এর উপাদান ছিলো, আমার কিশোর মন তখন সেটা অবলোকন করতে পারেনি। আমার সামনে তখন দু’টো রাস্তা এসে পড়ে।

১। যদি আমি স্টিফেন হকিং কে ধ্যান জ্ঞান করে নিই, আমাকে আমার ধর্ম ত্যাগ করতে হবে।
২। যদি আমি আমার ধর্মকে ধ্যান জ্ঞান করে নিই, তাহলে স্টিফেন হকিং কে আর ভালোবাসা যাবে না।
এই দুটো রাস্তার মধ্যে যদি আমি প্রথমটা বেছে নিই, তাহলে আমি হবো পাক্কা স্টিফেন হকিং এর ফ্যান। আর, যদি আমি দ্বিতীয়টি বেছে নিই, তাহলে আমাকে ভালোবাসতে হবে আমার রাসূল (সাঃ) কে, আমার ধর্মকে। আমি দ্বিতীয়টি বেছে নিয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

আমি স্টিফেন হকিং কে ভালোবাসি না, কারণ-

ঈমানের ঘোষণা হচ্ছে, – ‘আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই’- এই দাবিটার অর্থ হচ্ছে আপনি শুধু আল্লাহর জন্যই কাউকে ভালোবাসবেন, এবং কাউকে যদি ঘৃণা করতে হয়, তাকে আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করবেন। কারো সাথে বন্ধুত্ব করবেন আল্লাহর জন্যই এবং কারো সাথে শত্রুতা করতে হলে তাও হবে আল্লাহর জন্যই’। [ আল ইহতিজাল ফিল ক্বদর- পৃঃ ৬২] আমি স্টিফেন হকিং নামক কাফের বিজ্ঞানীটিকে ভালোবাসি না আল্লাহর জন্যই।

আমি স্টিফেন হকিং কে ভালোবাসি না, কারণ-

স্টিফেন হকিং এর কিছু রচনার কথা উল্লেখ করবো যেখানে তিনি খুব সুক্ষ্মভাবে ইসলাম ধর্মকে নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। সর্বপ্রথম তাঁর লেখা এই কথাই ধরা যাক।

We are just an advanced breed of monkeys on a minor planet of a very average star. But we can understand the Universe. That makes us something very special.
– Der Spiegel (17 October 1988)
– আমরা শুধুমাত্র খুব সাধারণ একটি নক্ষত্রের একটি গৌণ গ্রহের বানরদের একটি উন্নততর প্রজাতি। কিন্তু আমরা মহাবিশ্বকে বুঝতে পারি, যা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

কথাটি শুনেই বোঝা যাচ্ছে বিবর্তনবাদের পক্ষে বলা একটি বক্তব্য। বিবর্তনবাদের মূল ধারণা হচ্ছে আমাদের, অর্থাৎ মানুষের আদি পুরুষ হচ্ছে প্রাইমেট জাতীয় একপ্রকার প্রাণী। সুদীর্ঘকালের বিবর্তনের ধারায় আস্তে আস্তে আমরা আজকের মানুষের আকৃতিতে এসে পৌঁছেছি। স্টিফেন হকিং মানুষের পূর্বপুরুষের কথা বলতে গিয়ে বিবর্তনবাদকে টেনে এনেছেন। তিনি মনে করেন, বানরের মতো প্রাণীগুলোই হচ্ছে আমাদের পূর্বপুরুষ’।

প্রথমত, বিবর্তনবাদ বিজ্ঞানমহলে ‘জল ঘোলা করা’ টাইপ একটা ইস্যু। বস্তুবাদী বিজ্ঞানমহল থেকে স্রষ্টাতত্ত্বকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করার জন্যই এই তত্ত্বের অবতারণা বলে অনেকে মনে করেন। বিবর্তনবাদ এমন একটা ইস্যু, যা নিয়ে স্বয়ং বিবর্তনবাদীরাই তিন-চার দলে বিভক্ত। পশ্চিমের অনেক প্রতিথযশা বিজ্ঞানীই বিবর্তনবাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। প্রচুর বইপত্র, কলাম, আর্টিকেল লিখেছেন। তাদের লেখার বিপক্ষে বিবর্তনবাদীরা কেবল কটূক্তি আর তিরস্কার ছাড়া তেমন কোন ইন্টেলেকচুয়্যাল আর্গুমেন্টস দাঁড় করাতে পারেনি।
[এ ব্যাপারে আমি আর তেমনকিছু বলতে চাই না। যাদের ইন ডিটেইলস জানা দরকার, তারা আমার বই ‘আরজ আলী সমীপে’র শেষ অধ্যায়টা পড়ে নিতে পারেন]

বিবর্তনবাদ হচ্ছে বিজ্ঞান জগতে সবচেয়ে বিতর্কিত একটা থিওরি। এই বিতর্কিত একটা থিওরিকে ‘ফ্যাক্ট’ ধরে নিয়ে কেনো স্টিফেন হকিং পাঠকদের জন্য সরস বক্তব্য বলতে গেলেন? যেখানে প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানীদের বেশিরভাগই বিবর্তনবাদকে ভুল প্রমাণ করেছে? তাছাড়া স্টিফেন হকিং হচ্ছেন একজন পদার্থ বিজ্ঞানী, উনি জীববিজ্ঞানের কী বোঝেন?

তিনি বলেছেন আমাদের পূর্বপুরুষ হলো একপ্রকার বানর। অথচ কোরান সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে আমাদের পূর্বপুরুষ হজরত আদম (আঃ)। তাঁর ভাষায় ব্যাকটেরিয়া থেকে বিবর্তিত হয়ে ধাপে ধাপে এসে একপ্রকার ‘বুদ্ধিমান পশু’ থেকেই আধুনিক মানুষ এসেছে। অথচ আল্লাহ তা’লা যে আদম (আঃ) কে পূর্ণাঙ্গ মানবরূপেই সৃষ্টি করেছেন, জান্নাতে থাকতে দিয়েছেন, সেখান থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করিয়েছেন, সেগুলো কিন্তু কোরানেরই কথা। যে লোক বিশ্বাস করে যে আমরা ব্যাকটেরিয়া থেকে বিবর্তিত, আমাদের পূর্বপুরুষ একপ্রকার বানর, যার বিশ্বাস আমরা একপ্রকার পশু থেকে ধাপে ধাপে আধুনিক মানুষ হয়েছি, সে আর যাই হোক, বিজ্ঞানী হতে পারে কি?

স্টিফেন হকিং সম্পর্কে তার সমপর্যায়ের বিজ্ঞানীরা আসলে কী বলে? তার সম্পর্কে Andy Buckley বলেছেন, যিনি পার্টিকেল ফিজিক্সের ওপর একজন PhD, এবং CERN এর একজন visiting researcher এবং lecturer in physics,

But there were many of those, versus the public perception that he is one of the great physicists of all time — I think that doesn’t square with the perception among physicists. Although it is proof of nothing, Hawking’s absence from the Fields Medal and Nobel prize lists does hint that maybe his influence has not been extraordinary. (১)

অর্থাৎ, ফিল্ড মেডেল এবং নোবেল পুরষ্কারের লিস্টে হকিং এর অনুপস্থিতিই ইঙ্গিত করে, পদার্থ বিজ্ঞানে তার প্রভাব এত অসাধারণ কিছু নয়।

এই লেখাটিতে তিনি আরও বলেছেন,
The reason for that fame — which I’m surprised that other answers have not mentioned — is of course his disability.

অর্থাৎ, তার এই খ্যাতির মূল কারণ তার তত্ত্ব বা পদার্থ বিজ্ঞানে তার অবদান নয়, তার পঙ্গুত্ব। মানে হচ্ছে, আধুনিক সময়ের পদার্থ বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত স্টিফেন হকিং কে খুব বড় বিজ্ঞানী মনে করেন না, অথচ ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের স্টিফেন হকিং কে নিয়ে মাতামাতির সীমা নাই। এর কারণ বিজ্ঞান নয়, এর কারণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলা গভীর ষড়যন্ত্র। মুসলমানদের ব্রেইনওয়াশ করে নাস্তিক বানাবার পশ্চিমা চক্রান্ত। নইলে তার মতো একজন কলাবিজ্ঞানীকে নিয়ে এত মাতামাতির কী আছে?

এবার বলবো স্টিফেন হকিং এর আর একটা আর্টিকেলের কথা। উনি বলেছেন,

“When people ask me if a god created the universe, I tell them that the question itself makes no sense. Time didn’t exist before the big bang, so there is no time for god to make the universe in. It’s like asking directions to the edge of the earth; The Earth is a sphere; it doesn’t have an edge; so looking for it is a futile exercise. We are each free to believe what we want, and it’s my view that the simplest explanation is; there is no god. No one created our universe,and no one directs our fate. This leads me to a profound realization; There is probably no heaven, and no afterlife either. We have this one life to appreciate the grand design of the universe, and for that I am extremely grateful.”

“যখন কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করে যে, ঈশ্বর মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন কিনা, আমি তাদের বলি যে প্রশ্নটির কোন অর্থ হয় না। বিগ ব্যাং এর আগে সময়ের অস্তিত্ব ছিল না, তাই মহাবিশ্বের তৈরি করার জন্য ঈশ্বরের কাছে কোন সময় থাকতে পারে না। এটি হচ্ছে, পৃথিবীর প্রান্ত কোনদিকে তা জিজ্ঞাসা করার মত; পৃথিবী একটি গোলক; এর একটি প্রান্ত নেই; তাই এটা হচ্ছে একটি নিরর্থক কসরত। আমরা যা খুশী তাই বিশ্বাস করতে পারি, এবং এটি আমার সরলতম ব্যাখ্যা যে, কোনো ঈশ্বর নেই। কেউ আমাদের মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেনি, এবং কেউ ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে না। এটি আমার গভীর উপলব্ধি বৃদ্ধি করে; সম্ভবত কোথাও কোন স্বর্গ নেই, এবং কোন পরকাল নেই। মহাবিশ্বের মহা সমারোহ উপলব্ধি করতে আমাদের একটাই জীবন আছে, এবং যে জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। ”

এই কথাটুকুর সারমর্ম কি? সারমর্ম হলো- আল্লাহ বলে কিছু নাই। সবই কুসংস্কার এবং পুরনো ধ্যান ধারনা। এইরকম ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের পরেও উনার কোন শাস্তি দেয়া গেল না, এই দুর্ভাগ্য আমাদের সকল মুসলমানদের। কোন মুসলিম দেশে স্টিফেন হকিং থাকলে এই বক্তব্যের জন্য তাকে যথোপযুক্ত শাস্তি দেয়া সম্ভব হতো। কিন্তু মুসলমানরা পারে নি তাতে কী? আল্লাহ তার শাস্তি নিজেই দিয়ে দিয়েছে।

সূরা আনফালের ৩০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন-

وَإِذْ يَمْكُرُ بِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِيُثْبِتُوكَ أَوْ يَقْتُلُوكَ أَوْ يُخْرِجُوكَ وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ (30)

“স্মরণ কর সেই সময়ের কথা যখন অবিশ্বাসীগণ তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল তোমাকে বন্দি করার জন্য, হত্যা অথবা নির্বাসিত করার জন্য এবং তারা ষড়যন্ত্র করেছিল এবং আল্লাহও কৌশল গ্রহণ করেছিলেন এবং কৌশল গ্রহণকারীদের মধ্যে আল্লাহই শ্রেষ্ঠ।” (৮:৩০)

এই ধরণের আল্লাহ বিরোধী মনোভাবের জন্যেই, আল্লাহ পাকের গজব হিসেবে শারীরিকভাবে স্টিফেন হকিং অচল হয়ে যান। তার এক ধরণের মোটর নিউরন রোগ হয়, যাকে বলে এ.এল.এসের (এমায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা লাউ গেহরিগ রোগ)। বিজ্ঞান বিজ্ঞান নিয়ে চেঁচামেচি করার পরেও, এত বড় বিজ্ঞানী হওয়ার পরেও, তিনি নিজের রোগ নিজে সারাতে পারেন নি। এ কারণেই, আল্লাহই হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিশোধ গ্রহণকারী। তিনি বিজ্ঞান দিয়ে সুস্থ হয়ে উঠলে বোঝা যেতো, তিনি আসলেই একজন বিজ্ঞানী। কিন্তু নিজেকে সুস্থ করে না তুলতে পারলেও আল্লাহ বিদ্বেষের তার সীমা ছিল না। তাই একজন প্রকৃত বিজ্ঞানী হতে পারেন নি। হবে কীভাবে, তিনি তো বিজ্ঞান আসলে বোঝেন নি। বুঝলে তিনি বিবর্তনবাদের মত একটি ভ্রান্ত মতবাদকে সঠিক বলে মনে করতেন না।

আমি বলছিনা যে স্টিফেন হকিং কে ইসলাম আর মুসলিমদের পক্ষে ওকালতি করতে হবে। আমি এও বলছি না যে স্টিফেন হকিংকে ‘ইসলামই সঠিক ধর্ম’ এই সার্টিফিকেট দিতে হবে। আমি বা আমরা শুধু চাই, আমার মতো যেসকল মুসলিম তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী স্টিফেন হকিং কে গুরু মনে করে, সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী মনে করে, তারা যেন তার কথাগুলো মস্তিষ্কে সেট করার আগে ভাবে। তারা যেন বিভ্রান্ত না হয়ে পড়ে। তারা যেন ভালভাবে বোঝে যে, স্টিফেন হকিং শুধুমাত্র ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রচারিত একজন সাধারণ মানের বিজ্ঞানী। বিজ্ঞান সম্পর্কে তার কোন পেপারই আজ পর্যন্ত শতভাগ সঠিক বলে প্রমাণিত হয় নি। অথচ, কোন তত্ত্ব সরাসরি প্রমাণিত না হওয়ার পরেও, গাঁজাখুরি কিছু কথাবার্তা বিজ্ঞানের নামে চালালেও, বিকলাঙ্গ পাগলের মতও ইসলাম বিদ্বেষী কথাবার্তা বলার পরেও নাস্তিকদের তাকে নিয়ে লাফালাফির শেষ নেই। এর কারণ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী নাস্তিকতার প্রচার চালানো, এবং সরলপ্রাণ মুসলমানদের ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া।

এই কারণেই, ফ্রান্সিস বেকন বলেছিলেন, বিজ্ঞান সম্পর্কে কম জানলে মানুষ হয় নাস্তিক, আর বেশী জানলে হয় আস্তিক।

আমি আবারও বলছি, আমি স্টিফেন হকিংকে ভালোবাসি না, কারণ-

আমি ‘আল ওয়ালা ওয়াল বা’রা’ তে বিশ্বাসী। এটার অর্থ- কাউকে আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা আর আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করা। যিনি বিশ্বাস করেন যে স্রষ্টায় বিশ্বাস একটা অযৌক্তিক, অন্ধবিশ্বাস, যিনি বিশ্বাস করেন যে ইবাদাত করার কোন প্রয়োজন নাই, যিনি বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ চাইলে কোন বিপদ থেকে মুক্তি দিতে পারে না, ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে না, যিনি বিশ্বাস করেন যে ধর্মীয় কিতাব কোরান হচ্ছে একটি কুসংস্কার, যিনি বিশ্বাস করেন যে আমাদের পূর্বপুরুষ বানর জাতীয় স্তন্যপায়ী প্রাণী, যিনি বিশ্বাস করেন মহাবিশ্ব স্রষ্টা ছাড়া এমনি এমনি সৃষ্টি হয়েছে, যিনি বিশ্বাস করেন যে সবগুলো ধর্মই ভুল এবং যিনি এই বিশ্বাসগুলোকে বিজ্ঞানের রূপ দিয়ে সরলমনা শিশু-কিশোরদের ব্রেইন ওয়াশ করতে পারেন, তাকে ভালোবাসার যথেষ্ট কারণ আমি খুঁজে পাই না।

আমি স্টিফেন হকিংকে ভালোবাসি না, কারণ-
আমি তাকে আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করি।।

আল্লাহ পাক উনার মত ইসলাম বিদ্বেষী ধর্মবিদ্বেষী বিজ্ঞানের নামে কুসংস্কার প্রচারকারী মানসিক রোগী বিকলাঙ্গ নরকের কীটকে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে নিক্ষিপ্ত করুক। আমীন।

১। https://www.quora.com/What-do-physicists-think-of-Stephen-Hawking

Facebook Comments

আরিফ আজাদ

আরিফ আজাদ। জন্মেছেন চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার সময় থেকেই লেখালেখির হাতেখড়ি। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশুনা করতেই বেশি পছন্দ করেন। ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ লিখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা কুড়ান। বিশ্বাসের কথাগুলােকে শব্দে রূপ দিতে পছন্দ করেন। অবিশ্বাসের দেয়ালে অনুপম স্পর্শে বিশ্বাসের ছোঁয়া দিতে তাঁর রয়েছে ব্যাপক মুন্সিয়ানা। একুশে বইমেলা – ২০১৮ তে তাঁর রচিত দ্বিতীয় বই ‘আরজ আলী সমীপে।

3 thoughts on “আমি কলাবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং কে ভালোবাসি না, কারণ-

  • March 16, 2018 at 5:02 am
    Permalink

    মোটা মাথার মোটা বয়ান

    Reply
  • March 27, 2018 at 4:23 pm
    Permalink

    Mr. Asif Mohiuddin believes in freedom of speech in letter and spirit , I think, this is the only reason behind the publication of this kind of article in his website . The last sentence of article written by a Mr.Arif Azad reveals what kind of man the author is.

    Reply
  • July 16, 2018 at 5:34 am
    Permalink

    Nobel prize is given only for those theories that can be testet practically. Dr. Einstein didnt got the nobel prize for relativity, why? ’cause it didnt have enough practical proof for the comitti. Hawking’s theory for blackhole radiation, black hole area theorem, big bang and other sectors are this sentury’s gem. Mr. Arif should listen to himself with sanity before writing these emotional rubbish. Common Muslims are facing illogical problems for these ‘digital prophets’ . Prof. Higgs didnt got nobel for god particle until it was practically proven. Science is, unlike bangladeshi educational system, is not based on medals and prizes.As for his popularity, ha ha ha, he wrote some books that made things easier to understand, rather than filing gaps with gods.

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: