ইসলাম এবং আমার অবিশ্বাস (পর্ব তিন)

মাঝেমাঝে ধার্মিক সাহেবরা বলেন, বিজ্ঞান মহাবিশ্ব সম্পর্কে যা জেনেছে তা পুরো মহাবিশ্বের মাত্র পাঁচ শতাংশ আর এখনো পঁচানব্বই শতাংশ অজানা রয়ে গেছে। তাদের দাবি এতো কম জেনেও বিজ্ঞান দিয়ে কিভাবে আল্লাহ্‌ সত্য নাকি মিথ্যা তা জানা যায়? তারা আসলে বিশ্বাস করেন, বিজ্ঞান যেহেতু এখনো মহাবিশ্বের পঁচানব্বই শতাংশ সম্পর্কে জানতে পারে নি সেহেতু আল্লাহ্‌ সত্য, ইবলিস সত্য, ফেরেশতা সত্য হয়তো শাঁকচুন্নি আর মামদোভূতও সত্য! তারা বিশ্বাস করেন বিজ্ঞান যেহেতু মহাবিশ্বের অনেক কিছুই এখনো জানতে পারে নি সেহেতু বিজ্ঞানে ভরসা করা ঠিক হবে না! তবে একটা ব্যাপার খুবই অবাক লাগে যে, বিজ্ঞান যা সত্য বলে প্রমাণ করেছে তাও কি তারা অস্বীকার করবে? ধরে নিলাম বিজ্ঞান মাত্র পাঁচ শতাংশ নয়, বিশ্বজগতের মাত্র এক শতাংশ জানতে পেরেছে আর নিরানব্বই শতাংশ সম্পর্কে বিজ্ঞানের কোনো পরিষ্কার ধারনা নেই। তাহলে কি আল্লাহ্‌, ইবলিস, ফেরেশতা, শাঁকচুন্নি এসব সত্য হয়ে যায়? বিজ্ঞান যদি এক শতাংশ জেনে থাকে তাহলে সেই এক শতাংশ দিয়েই বিজ্ঞান প্রচলিত ধর্মের সত্যতা নির্ণয়ের যোগ্যতা রাখে। কারণ বিজ্ঞানের ধর্মই সত্য অনুসন্ধান করা এবং সে তাই গ্রহণ করে যা সত্য বলে প্রমাণিত। বিজ্ঞান আর যাই জানুক বিজ্ঞান জানে পৃথিবী গোল যা চিরন্তন সত্য। এবার প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মসমূহ পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কেমন ধারনা প্রকাশ করে তা জানলেই আমরা ধর্মের সত্যমিথ্যা জানতে পারি। তাই আল্লাহ্‌, ফেরেশতা, ইবলিস ইত্যাদি সত্য কিনা তা জানতে বিজ্ঞানের প্রয়োজন নেই পুরো মহাবিশ্ব সম্পর্কের জানার। পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে আল্লাহ্‌ কেমন ধারনা প্রকাশ করে সেটা জেনেও আল্লাহ্‌র সত্য মিথ্যা জানা যেতে পারে।

দুঃখজনক ভাবে কোরআন হাদিসের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না যে, পৃথিবী গোল! আরও দুঃখজনক ভাবে কোরআন হাদিসের কোথাও গোল পৃথিবী সম্পর্কে কোনোরূপ ইংগিতও পাওয়া যায় না। তো এব্যাপারে আজকাল কিছু ধার্মিক বলেন, কোরআন কোনো বিজ্ঞানের বই নয় বা কোনো ভূগোলের বই নয় যে সেখানে পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কিছু লেখা থাকতেই হবে। তাদের এসব কথায় আসলে না আছে জ্ঞানের সামান্য চিহ্ন নাহ আছে কোনো যুক্তি! হ্যা কোরআন কোনো বিজ্ঞানের বই নয় তা আমরা সবাই জানি। তবে কোরআন প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করেই বলেই তা প্রকৃতি সম্পর্কে সঠিক ব্যাখ্যা করে কিনা তা যাচাই করতে হবে। কেননা কোরআনকে ঈশ্বরের কিতাব এবং কোরআনের ঈশ্বর চরিত্র আল্লাহ্‌কে সত্য দাবি করা হয়। কোরআন যদি কোনো ঈশ্বরের পাঠানো কিতাব হয় তাহলে কোরআন প্রকৃতি সম্পর্কে যা ব্যাখ্যা করে তা ভুল হওয়ার কথা নয়। কোরআন পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে বলেই সেই ব্যাখ্যা সত্য কিনা তা যাচাই করতে হবে। যদি কোরআন বিশ্বজগত সম্পর্কে কোনোরূপ ধারনা প্রকাশ নাহ করতো তাহলে হয়তো কেউ জানতে আগ্রহ প্রকাশ করতো না যে কোরআনে পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কি বলা হয়েছে। তাহলে কোরআন অনুযায়ী পৃথিবীর আকৃতি কেমন তা নিয়ে কথা বলা যাক।

কোরআনের বক্তা সূরা বাকারার আয়াত ২২ এ বলেছেন, আল্লাহ্‌ পৃথিবীকে বিছানা করেছেন অর্থাৎ কোরআন অনুযায়ী পৃথিবীর আকৃতি হচ্ছে বিছানার আকৃতির মতো। বিছানা বলতে আমরা অবশ্যই কোনো সমতল জিনিসকে বুঝি। আমাদের বিছানা দেখতে ফুটবলের মতো গোল হয় না আবার, কমলালেবুর মতোও না। বিছানা মানে অবশ্যই কোনো সমান পৃষ্ঠের জিনিসকে বোঝায়! আল্লাহ্‌ পৃথিবীকে সরাসরি সমতল না বললেও তুলনা দিয়েছেন সমতল জিনিসের সাথে যা কোরআন অনুযায়ী পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে ধারনা দেয়।

সূরা আল-বাকারা আয়াত ২২

ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ فِرَٰشًا وَٱلسَّمَآءَ بِنَآءً وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءً فَأَخْرَجَ بِهِۦ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ رِزْقًا لَّكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا۟ لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ

আল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা ফিরা-শাওঁ ওয়াছছামাআ বিনাআওঁ ওয়া আনঝালা মিনাছছামাই মাআন ফাআখরাজা বিহী মিনাছছামারা-তি রিঝকাল্লাকুম ফালা-তাজ‘আলূলিল্লা-হি আনদা-দাওঁ ওয়া আনতুম তা‘লামূন।

যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।

বাকারার আয়াত ২২ এ পৃথিবীকে বিছানার সাথে তুলনা দেওয়া হয়েছে নাকি মানুষের চারপাশে থাকা ভূপৃষ্ঠকে বিছানার সাথে তুলনা দেওয়া হয়েছে সেটা নিয়ে সংশয় থাকতে পারে। সেই কারণে মানুষের চারপাশে থাকা ভূপৃষ্ঠকে কি আসলেই বিছানার সাথে তুলনা দেওয়া যায় কিনা সেটা একটু ভেবে দেখতে হবে। বিছানা বলতে আমরা সাধারণত একদম সমান পৃষ্ঠ বুঝি। আমাদের বিছানার মধ্যে দিয়ে পানি চলাচল করে না। আমাদের বিছানার মধ্যে বিশাল বিশাল খাদ খুঁজে পাই না। এসব যদি থাকতো তাহলে সেটাকে আর বিছানা বলা যেত না। অথচ ভূপৃষ্ঠ বা পৃথিবীর কোনো এলাকা বা ভূমি সমান কোনো পৃষ্ঠ নয়। পাহাড় পর্বতকে বাদ দিলেও ভূপৃষ্ঠের কোথাও বিশাল উঁচু আবার কোথাও বিশাল নিচু। সেইসাথে আছে মালভূমি উপত্যকা গিরিখাত। স্পষ্টত পৃথিবীর ভূমি অসমতল এবং একেবারেই বিছানার সাথে তুলনীয় নয়।

দ্বিতীয়ত, বিছানার শেষ এবং শুরু আমরা দেখতে পারি। যেমন এখান থেকে বিছানা শুরু সেখানে গিয়ে শেষ। তারপর আর বিছানার অংশ নেই, তারপর বিছানার শেষ। এবার, যদি ধরে নেই বাকারার আয়াত ২২ এ পুরা পৃথিবী নয় বরং মানুষের চারপাশে থাকা ভূপৃষ্ঠ বুঝানো হয়েছে তাহলে তার শেষ এবং শুরু খুঁজতে হবে। আমাদের চারপাশে থাকা ভূপৃষ্ঠের শেষ শুরু খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়, কারণ পৃথিবী গোল। পুরো পৃথিবী যদি সমতল হয় তাহলেই কেবল বিছানার মতো পৃথিবীর শেষ ও শুরু থাকবে। পুরো পৃথিবী সমতল হলেই বিছানার মতো একটা স্থানের পর পৃথিবীর আর কোনো স্থান খুঁজে পাওয়া যাবে নাহ। সুতরাং, পৃথিবীকে বিছানার সাথে তুলনা দেওয়ার অর্থ পুরো পৃথিবীকে বিছানার সাথে তুলনা দেওয়া যা আমাদের চারপাশে থাকা ভূপৃষ্ঠের সাথে দেওয়া যায় নাহ।

তৃতীয়ত, আরবি শব্দ “আল আরদ” যে আমাদের চারপাশের ভূপৃষ্ঠ নয় বরং পুরো পৃথিবী অর্থ প্রকাশ করে তা বিভিন্ন আয়াত থেকে আমরা নিশ্চিত হতে পারি। যেমন: সূরা ফাতির আয়াত ৪১ এ কোরআনের বক্তা বলেছেন, আল্লাহ্‌ আসমান ও পৃথিবী স্থির রাখেন যেন তারা টলে না যায়। সেখানে সূরা বাকারার আয়াত ২২ এর মতো একইভাবে “আল আরদ” শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায়। আমাদের চারপাশের ভূপৃষ্ঠের সাথে স্থিরতা বা গতিশীলতার প্রশ্নই আসে না। আমাদের চারপাশের ভূপৃষ্ঠের সাথে টলে পড়ার প্রশ্নই আসে না। পরিষ্কার ভাবেই সূরা ফাতির আয়াত ৪১ এ আসমান এবং পুরো পৃথিবীকে স্থির বোঝানো হয়েছে। সূরা বাকারা আয়াত ২২ এ একইভাবে পুরো পৃথিবীকে বিছানার সাথে তুলনা দেওয়া হয়েছে।

সূরা আল-ফাতির আয়াত ৪১

نَّ ٱللَّهَ يُمْسِكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ أَن تَزُولَا وَلَئِن زَالَتَآ إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّنۢ بَعْدِهِۦٓ إِنَّهُۥ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا

ইন্নাল্লা-হা ইউমছিকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা আন তাঝূলা- ওয়ালাইন ঝালাতাইন আমছাকাহুমা-মিন আহাদিম মিম বা‘দিহী ইন্নাহূকা-না হালীমান গাফূরা-।

নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও পৃথিবীকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায় তবে তিনি ব্যতীত কে এগুলোকে স্থির রাখবে? তিনি সহনশীল, ক্ষমাশীল।

তবে শুধু সূরা বাকারা আয়াত ২২ নয় পুরো কোরআনের অনেক আয়াতেই পৃথিবীকে বিছানার সাথে তুলনা দেওয়া হয়েছে।

সূরা ত্বা হা আয়াত ৫৩

ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ مَهْدًا وَسَلَكَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءً فَأَخْرَجْنَا بِهِۦٓ أَزْوَٰجًا مِّن نَّبَاتٍ شَتَّىٰ

আল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা মাহদাওঁ ওয়া ছালাকা লাকুম ফীহা ছুবুলাওঁ ওয়া আনঝালা মিনাছছামাই মাআন ফাআখরাজনা-বিহীআঝওয়া-জাম মিন নাবা-তিন শাত্তা-।

তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে শয্যা করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।

সূরা আয-যুখরুফ আয়াত ১০

ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ مَهْدًا وَجَعَلَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ

আল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা মাহদাওঁ ওয়া জা‘আলা লাকুম ফীহা-ছুবুলাল লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন।

যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে তোমাদের জন্যে করেছেন পথ, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।

সূরা নূহ আয়াত ১৯

وَٱللَّهُ جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ بِسَاطًا

ওয়াল্লা-হু জা‘আলা লাকুমুল আরদা বিছা-তা- ।

আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা।

আচ্ছা গোলাকার কোনো জিনিস কি ঢলে পরতে পারে? পানিতে ভাসমান একটা ফুটবলকে যদি নাড়া দেওয়া হয় তাহলে সেটি পানির মধ্যে ঘুরতে থাকবে নয়তো সরে যাবে। একই ঘটনা শুন্যে ভাসমান অবস্থায়ও হবে। যেহেতু সেটা গোলাকার সেহেতু সেটা ঢলে পরবে না। অপরদিকে, ভাসমান অবস্থায় একটা ভ্যালা ঠিকই ঢলে পরতে পারে কারণ সেটা সমতল। সমতল জিনিসের প্রান্ত থাকে বলেই তা একদিক থেকে ঢলে যেতে পারে যা কোনো গোলাকার জিনিসের বেলায় অসম্ভব। ভ্যালার দুই পাশে দুটো বোঝা রাখলেই সেটি কোনোদিকে ঢলে পরবে না। যাইহোক, যা সমতল তাই ঢলে পরবে, যা গোলাকার তা নয় আর না বুঝতে পারার মতো কঠিন কিছু নয়। কোরআনের বক্তা সূরা লুকমান আয়াত ১০ এ বলেছেন, আল্লাহ্‌ পৃথিবীতে পর্বতমালা স্থাপন করেছেন যাতে পৃথিবী আমাদের নিয়ে ঢলে না পরে। প্রথমত, আবারো বলতে হচ্ছে পৃথিবীর বিশালতার তুলনায় ছোট্টছোট্ট পর্বতমালা যাদের নিয়েই পৃথিবী অনায়াসে গতিশীল ও ঘূর্ণনশীল তারা পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করে সেটা বেশ হাস্যকর। যেমন একটা ফুটবলের ভারসাম্য ফুটবলের ওপর থাকা কিছু পিপড়ার রক্ষা করা হাস্যকর। দ্বিতীয়ত, পৃথিবীর এই ঢলে পরার প্রশ্ন তখনই আসতো যদি পৃথিবী সমতল হতো এবং পৃথিবীর প্রান্ত বা শেষ সীমানা বলে কিছু থাকতো। তাহলেই পৃথিবী একদিক থেকে ঢলে পরতে পারতো। আবার, পৃথিবী সমতল হলেই তা যেন কোনোদিকে ঢলে পরতে নাহ পারে সেজন্য পৃথিবীর ওপর ভারী বোঝার প্রয়োজন হতে পারতো। গোল পৃথিবীর সাথে ঢলে পরা বা না পরার কোনো সম্পর্ক নেই।

সূরা লুকমান আয়াত ১০

خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا وَأَلْقَىٰ فِى ٱلْأَرْضِ رَوَٰسِىَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَآبَّةٍ وَأَنزَلْنَا مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءً فَأَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ

খালাকাছছামা-ওয়া-তি বিগাইরি ‘আমাদিন তারাওনাহা-ওয়া আলাকা-ফিল আরদিরাওয়াছিয়া আন তামীদা বিকুম ওয়া বাছছা ফীহা-মিন কুল্লি দাব্বাতিওঁ ওয়া আনঝালনামিনাছছামাই মাআন ফাআমবাতনা-ফীহা-মিন কুল্লি ঝাওজিন কারীম।

তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উদগত করেছি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদরাজি।

সূরা আন-নাহল আয়াত ১৫

وَأَلْقَىٰ فِى ٱلْأَرْضِ رَوَٰسِىَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ وَأَنْهَٰرًا وَسُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ

ওয়া আলকা-ফিল আরদি রাওয়া-ছিয়া আন তামীদাবিকুমওয়াআনহা-রাওঁ ওয়া ছুবুলাল লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন।

এবং তিনি পৃথিবীর উপর বোঝা রেখেছেন যে, কখনো যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে-দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরী করেছেন, যাতে তোমরা পথ প্রদর্শিত হও।

সূরা আন-নাবা আয়াত ৬

أَلَمْ نَجْعَلِ ٱلْأَرْضَ مِهَٰدًا

আলাম নাজ‘আলিল আরদা মিহা-দা-।

আমি কি করিনি ভূমিকে বিছানা

সূরা আন-নাবা আয়াত ৭

وَٱلْجِبَالَ أَوْتَادًا

ওয়াল জিবা-লা আওতা-দা।

এবং পর্বতমালাকে পেরেক?

আচ্ছা কেমন জিনিস বিছানো যায় বা কোন ধরণের জিনিসের সাথে বিছানো শব্দটা মানানসই? আমরা বিছানার চাদর বিছাই আমরা কার্পেট বিছাই। বিছানার চাদর বা কার্পেটের মতো ফুটবল কি বিছানো যায়? না! ডিমের ভেতর থাকা তরল অংশ আমরা ফ্রাই পেনে বিস্তৃত করি। পুরো ডিম কি বিস্তৃত করা যায় বা ডিমের আকৃতির সাথে বিস্তৃত শব্দটা কি মানানসই? উত্তর হচ্ছে না। তবে কোরআনের বক্তা বলেছেন, আল্লাহ্‌ পৃথিবীকে বিছিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পৃথিবীকে বিস্তৃত করা হয়েছে যা সমতল পৃথিবীর ধারনা প্রকাশ করে।

সূরা আয-যারিয়াত আয়াত ৪৮

وَٱلْأَرْضَ فَرَشْنَٰهَا فَنِعْمَ ٱلْمَٰهِدُونَ

ওয়াল আর দা ফারাশ-হা-ফানি‘মাল মা-হিদূন।

আমি ভূমিকে বিছিয়েছি। আমি কত সুন্দরভাবেই না বিছাতে সক্ষম।

সূরা আল-হিজর আয়াত ১৯

وَٱلْأَرْضَ مَدَدْنَٰهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَٰسِىَ وَأَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ شَىْءٍ مَّوْزُونٍ

ওয়াল আরদা মাদাদনা-হা-ওয়া আলকাইনা-ফীহা-রাওয়া-ছিয়া ওয়া আমবাতনা-ফীহামিন কুল্লি শাইয়িম মাওঝূন।

আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি।

সূরা আশ-শামস আয়াত ৬

وَٱلْأَرْضِ وَمَا طَحَىٰهَا

ওয়াল আরদিওয়ামা-তাহা-হা-।

শপথ পৃথিবীর এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন, তাঁর,

এযাবৎ অনেক ইসলামপন্থী দাবি করেছেন সূরা নাযিয়াত আয়াত ৩০ এ পৃথিবীকে বিস্তৃত করার কথা বলা হয় নি। বরং বোঝানো হয়েছে আল্লাহ্‌ পৃথিবীকে উট পাখির ডিমের আকৃতি দিয়েছেন। তাদের দাবি, আরবি শব্দ “দাহাহা” দ্বারা বিস্তৃত করা নয় বরং পৃথিবীকে উট পাখির ডিম আকৃতি করা অর্থ বোঝানো হয়েছে। অথচ কোরআনের কোনো অনুবাদেই পৃথিবীকে উটপাখির ডিমের আকৃতি করার গল্প খুঁজে পাওয়া যায় না।

সূরা আন-নাযিয়াত আয়াত ৩০

وَٱلْأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَىٰهَآ

ওয়াল আর দা বা‘দা যা-লিকা দাহা-হা-।

পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন।

ইসলামিক স্কলারদের দাবি আরবি “দাহাহা” শব্দের মূল হলো “দুহিয়া” যার অর্থ উটপাখির ডিম। প্রথমত, দুহিয়া নিজেই নামবাচক শব্দ এবং সেটা কোনো মূল শব্দ নয়। দুহিয়া উদ্ভূত হয়েছে দাহ্ভ (دحو) থেকে। দুহিয়া শব্দের অর্থও উট পাখির ডিম নয়। ডিকশনারির দ্বারস্থ হলেই জানতে পারবেন “দুহিয়া” শব্দের মানে হলো সেই স্থান যেখানে উটপাখি তার ডিম রাখে। দ্বিতীয়ত, উটপাখির ডিমের জন্য দুটো শব্দের প্রয়োজন হয়। ডিমের আরবি শব্দ হলো আল বাইজি (بَيْضِ) এবং উটপাখির আরবি শব্দ হলো আন-না’আমি (النَّعَامِ)। অর্থাৎ উটপাখির ডিম আরবিতে বাইজি আন-না’আমি ( بَيْضِ النَّعَامِ )। মূলত আরবি শব্দ ‘দাহাহা’ কে উটপাখির ডিম বা ডিম্বাকৃতি দাবি করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে জোর করে নয়কে ছয় বানানোর ব্যর্থ চেষ্টা ব্যতীত কিছুই নয়। তৃতীয়ত, বাস্তবে পৃথিবীর আকৃতি উটপাখি বা অন্যান্য ডিমের মতো নয়। আমরা জানি পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয় বরং কমলা লেবু আকৃতির। আমাদের পৃথিবী উত্তর ও দক্ষিণে খানিকটা চাপা এবং বিষুবরেখা বরাবর প্রসারিত অর্থাৎ oblate আকৃতির। অথচ উটপাখির ডিম ঠিক তার বিপরীত অর্থাৎ উটপাখির ডিম মেরু বরাবর প্রসারিত অর্থাৎ prolate আকৃতির। তবে দুঃখজনক ভাবে ডিম এদিক সেদিক করা হলেও পৃথিবীর আকৃতি আর ডিমের আকৃতি দেখতে এক মনে হবে না।

কোরআনের বক্তা বলেছেন, আল্লাহ্‌ পাহাড়সমূহকে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করবেন এবং পাহাড় ব্যতীত পৃথিবী মসৃন সমতলভূমি হয়ে যাবে। সমতল পৃথিবীর ধারনামতেই উঁচু উঁচু পাহাড় পর্বত না থাকলে পৃথিবী একেবারে সমান সমতলভূমি হওয়া সম্ভব। পাহাড় পর্বত ব্যতীত গোল পৃথিবী সমতল ভূমি হয়ে যাবেনা, আকৃতি একইরকম থাকবে।

সূরা আল-কাহফ আয়াত ৪৭

وَيَوْمَ نُسَيِّرُ ٱلْجِبَالَ وَتَرَى ٱلْأَرْضَ بَارِزَةً وَحَشَرْنَٰهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَدًا

ওয়া ইয়াওমা নুছাইয়িরুল জিবা-লা ওয়া তারাল আরদা বা-রিঝাতাওঁ ওয়া হাশারনা-হুম ফালাম নুগা-দির মিনহুম আহাদা-।

যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উম্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত করব অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়ব না।

সূরা ত্বা হা আয়াত ১০৫

وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْجِبَالِ فَقُلْ يَنسِفُهَا رَبِّى نَسْفًا

ওয়া ইয়াছআলূনাকা ‘আনিল জিবা-লি ফাকুল ইয়ানছিফুহা-রাববী নাছফা-।

তারা আপনাকে পাহাড় সম্পর্কে প্রশ্ন করা। অতএব, আপনি বলুনঃ আমার পালনকর্তা পাহাড়সমূহকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন।

সূরা ত্বা হা আয়াত ১০৬

فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًا

ফাইয়াযারুহা-কা-‘আন সাফসাফা-।

অতঃপর পৃথিবীকে মসৃণ সমতলভূমি করে ছাড়বেন।

সূরা ত্বা হা আয়াত ১০৭

لَّا تَرَىٰ فِيهَا عِوَجًا وَلَآ أَمْتًا

লা-তারা-ফীহা-‘ইওয়াজাওঁ ওয়ালাআমতা-।

তুমি তাতে মোড় ও টিলা দেখবে না।

কোরআনে মুসলিমদের জন্য রোজা রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারন করা হয়েছে। সূরা বাকারার আয়াত ১৮৭ থেকে আমরা জানতে পারি রোজার রাতে স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা হালাল, খাওয়া দাওয়া করা হালাল। রোজার নিয়ম অনুযায়ী, একজন মুসলিম রোজা রাখতে চাইলে তাকে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আহার করা, পান করা এবং স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রোজার নিয়ম মেনে রোজা রাখা পৃথিবীর কোনো কোনো দিকে একেবারেই অসম্ভব। যেমন পৃথিবীর নর্থ পোল এবং সাউথ পোল ও তাদের নিকটবর্তী এলাকায় একজন মুসলিমের জন্য রোজা রাখা অসম্ভব। পৃথিবী গোল হওয়ায় এবং উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করায় উত্তর মেরুতে ছয়মাস দিন এবং ছয়মাস রাত থাকে। অর্থাৎ কোরআনে বর্ণিত রোজা রাখার নিয়ম অনুযায়ী, উত্তর মেরুতে বসবাসরত একজন মুসলিমকে রোজা রাখতে হলে ছয়মাস বিনা আহারে থাকতে হবে। অর্থাৎ সেহেরি করে ছয়মাস অপেক্ষা করতে হবে ইফতারির জন্য নয়তো কোরআন অনুযায়ী রোজা হবে না। আর ছয়মাস না খেয়ে থাকা একজন মানুষের পক্ষে স্বপ্নেও সম্ভব না। কোরআনে বর্ণিত রোজা রাখার এ নিয়ম সমতল পৃথিবীর সাথেই মানায়, আমাদের গোল পৃথিবীর সাথে নয়। পৃথিবী সমতল হলেই পৃথিবীর যেকোনো স্থানে দিনরাত একইরকম হতো। পৃথিবী সমতল হলেই উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে দিনরাত এতো দীর্ঘ হতো না। আল্লাহ্‌ যদি জানতেন পৃথিবী গোল এবং উত্তর মেরুতে ছয়মাস দিন ও ছয়মাস রাত থাকে তাহলে তিনি অবশ্যই কোরআনে বর্ণিত রোজা রাখার নিয়মটা মুসলিমদের অনুসরণ করতে বলতেন না যা উত্তর মেরু ও তার নিকটবর্তী এলাকার মানুষ অনুসরণ করতে পারবে না। বাস্তবতা হলো কোরআনে বর্ণিত রোজা রাখার নিয়মটা যার আবিষ্কার তিনি মনে করতেন পৃথিবীর সবখানে দিনরাত একইরকম। তিনি মনে করতেন পৃথিবীর যেকোনো দিকে ভোর থেকে সন্ধ্যা অব্ধি নাহ খেয়ে থাকা সম্ভব!

সূরা আল-বাকারা আয়াত ১৮৭

أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ ٱلصِّيَامِ ٱلرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَآئِكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ عَلِمَ ٱللَّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ فَٱلْـَٰٔنَ بَٰشِرُوهُنَّ وَٱبْتَغُوا۟ مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَكُمْ وَكُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ ٱلْخَيْطُ ٱلْأَبْيَضُ مِنَ ٱلْخَيْطِ ٱلْأَسْوَدِ مِنَ ٱلْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا۟ ٱلصِّيَامَ إِلَى ٱلَّيْلِ وَلَا تُبَٰشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَٰكِفُونَ فِى ٱلْمَسَٰجِدِ تِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ ءَايَٰتِهِۦ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ

উহিল্লা লাকুম লাইলাতাসসিয়া-মিররাফাছুইলা-নিছাইকুম হুন্না লিবা-ছুল্লাকুম ওয়া আনতুম লিবা-ছুল লাহুন্না ‘আলিমাল্লা-হু আন্নাকুম কুনতুম তাখতা-নূনা ফাতাবা ‘আলাইকুম ওয়া ‘আফা- ‘আনকুম ফালআ-না বা-শিরূহুন্না ওয়াবতাগূ মা-কাতাবাল্লা-হু লাকুম ওয়া কুলূ ওয়াশরাবূ হাত্তা-ইয়াতাবাইয়ানা লাকুমুল খাইতুল আবইয়াদুমিনাল খাইতিল আছওয়াদি মিনাল ফাজরি ছু ম্মা আতিম্মুস সিয়া-মা ইলাল্লাইলি ওয়ালাতুবা-শিরূহুন্না ওয়া আনতুম ‘আ-কিফূনা ফিল মাছা-জিদি তিলকা হুদূদুল্লা-হি ফালাতাকরাবূহা-কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু আ-য়া-তিহী লিন্না-ছি লা‘আল্লাহুম ইয়াত্তাকূন।

রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে।

ইসলামপন্থীদের যেভাবেই হোক কিছু একটা জবাব দিতে হয় ধর্ম বাঁচানোর জন্য সেই জবাব গ্রহণযোগ্য হোক বা না হোক। যেমন তাদের অনেকের দাবি একজন মুসলিম নবী মোহাম্মদের দেশের সময়সূচী অনুসরণ করবে অথবা নিকটবর্তী কোনো দেশের সময়সূচী অনুসরণ করবে। দুঃখজনক ভাবে কোরআন এবং হাদিসে এরকম কোনো সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় না।

একইভাবে কোরআনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী একজন মুসলিম নামাজ পড়তে চাইলে তাকে ফজরের নামাজ আদায় করার ছয়মাস পর মাগরিবের নামাজ আদায় করতে হবে। আবার, মাগরিবের নামাজ আদায় করার ছয়মাস পর ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে। অর্থাৎ উত্তরমেরুতে বা তার নিকটবর্তী এলাকায় একজন মুসলিম কখনওই একদিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারবে না। আপনি কি এবার বলতে চাচ্ছেন একজন মুসলিম ঘড়ির সময় ধরে চব্বিশঘণ্টায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারবে? সেটা সম্ভব নয়। কেননা কোরআন বা হাদিসে নামাজ পড়ার নিয়ম সেভাবে বর্ণিত হয় নি। কোরআন হাদিসের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে বলা হয়েছে এতো সময় পর পর তোমরা নামাজ আদায় করো। কোথাও বলা হয়নি ঘড়িতে এতো বাজলে নামাজ আদায় করতে হবে। কোরআন এবং হাদিসে নামাজ পরার সময় বেধে দেওয়া হয়েছে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী।

সূরা বনি ইসরাইল/আল ইসরা আয়াত ৭৮

أَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ لِدُلُوكِ ٱلشَّمْسِ إِلَىٰ غَسَقِ ٱلَّيْلِ وَقُرْءَانَ ٱلْفَجْرِ إِنَّ قُرْءَانَ ٱلْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا

আকিমিসসালা-তা লিদুলূকিশশামছি ইলা-গাছাকিল্লাইলি ওয়া কুরআ-নাল ফাজরি ইন্না কুরআ-নাল ফাজরি কা-না মাশহূদা-।

সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করুন এবং ফজরের কোরআন পাঠও। নিশ্চয় ফজরের কোরআন পাঠ মুখোমুখি হয়।

হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি, মোহাম্মদ বলেছেন, সূর্য সন্ধ্যার পর সিজদারত অবস্থায় পরে থাকে এবং অনুমতি পেলেই আবার চলতে শুরু করে। অর্থাৎ সন্ধ্যার পর সূর্য আল্লাহ্‌র অনুমতি না পাওয়া অব্ধি স্থির হয়ে পরে থাকে। সূর্যের এ চলন পৃথিবীকেন্দ্রিক কেননা আল্লাহ্‌র অনুমতি পেয়ে সিজদা ছেড়ে আবার চলে বলেই আবার দিন হয়। বাস্তবে দিন রাত হওয়ার সাথে সূর্যের চলনের সম্পর্ক নেই। তবে আসল কথা হলো, সন্ধ্যার পর সূর্য বিশেষ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে না বা সন্ধ্যার পর সূর্য স্থির হয়ে পড়ে থাকে না। পৃথিবী আহ্নিকগতিতে ঘূর্ণনশীল থাকায় সূর্য প্রতিনিয়ত পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হয়ে থাকে। আহ্নিকগতির কারণে পৃথিবীর দিন বিরাজ করা অংশ অন্ধকারে চলে যায় এবং অন্ধকার বিরাজ করা অংশ দিনে চলে আসে। অথচ মোহাম্মাদ বলেছেন, সূর্য সন্ধ্যার পর সিজদারত অবস্থায় পরে থাকে এবং আল্লাহ্‌র অনুমতি পেলেই উঠে। অর্থাৎ মোহাম্মদ জানতেন না যে, তার দেশে যখন সন্ধ্যা হয় তখন অন্যকোনো দেশে ভোর হয়। তিনি জানতেন না যে, দিনের বেলায় তার দেশ থেকে সূর্য যেভাবে দৃশ্যমান থাকে রাতের বেলায় ঠিক সেভাবেই অন্যকোনো দেশে দৃশ্যমান থাকে। পুরো পৃথিবীকে সমতল বলে বিশ্বাস করা একজন মানুষই এরকম ধারনা পোষণ করতে পারে। কেননা পৃথিবী সমতল হলেই পুরো পৃথিবীতে একসাথে দিন বিরাজ করবে।

ইয়াহইয়া ইবনু আইউব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জানো, এ সূর্য কোথায় যায়? সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এ সূর্য চলতে থাকে এবং (আল্লাহ তা’আলার) আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও! অনন্তর সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল দিয়েই উদিত হয়। তা আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়লে হয়েই উদিত হয়।

সে আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল হয়েই সে উদিত হয়। এমনিভাবে চলতে থাকবে; মানুষ তার থেকে অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখবে না। শেষে একদিন সূর্য যথার্রীতি আরশের নিচে তার নিদৃষ্টস্থলে যাবে। তাকে বলা হবে, ওঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও। অনন্তর সেদিন সূর্য পশ্চিম গগনে উদিত হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন দিন সে অবস্থা হবে তোমরা জানো? সে দিন ঐ ব্যাক্তির ঈমান কোন কাজে আসবে না, যে ব্যাক্তি পুর্বে ঈমান আনে নাই কিংবা যে ব্যাক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করে নাই। [ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ) : হাদিস নং ২৯৬ ]

গোলাকার ফুটবলের কোনো শেষপ্রান্ত নেই বলে আমরা জানি। কমলালেবুর কোনো শেষপ্রান্ত নেই বলে আমরা জানি। কারণ এসব গোলাকার জিনিসে প্রান্ত বলে কিছু থাকে নাহ। প্রান্ত থাকে সমতল আকারে। যেমন সমতল টেবিলে আমরা দুটো প্রান্ত খুঁজে পাই। অথচ মোহাম্মদ মনে করতেন, দুনিয়ার একটা শেষপ্রান্ত আছে! যা নিশ্চিতভাবেই সমতল পৃথিবীর ধারনা প্রকাশ করে।

সাহল ইবনে সাদ আস- সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তিই তালবিয়া পাঠ করে, সাথে সাথে তার ডান ও বাঁ দিকের পাথর, গাছপালা অথবা মাটি, এমনকি দুনিয়ার সর্বশেষ প্রান্ত উভয় দিকের সবকিছু তালবিয়া পাঠ করে। [ সূনানে ইবনে মাজাহ : হাদিস নং ২৯২১ ]

সূরা হাজ্ব আয়াত ৬১ এ বলা হয়েছে, আল্লাহ্‌ রাত্রিকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাত্রির মধ্যে দাখিল করেন। আবার, সূরা লুকমান আয়াত ২৯ এ বলা হয়েছে, আল্লাহ্‌ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন। কোরআন অনুযায়ী পৃথিবী গোল প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টায় আজকাল ইসলামপন্থীরা দাবি করেন, এ আয়াতে আল্লাহ্‌ বুঝিয়েছেন তিনি রাত্রিকে ধীরে ধীরে দিনে পরিণত করেন এবং দিনকে ধীরে ধীরে রাত্রিতে পরিণত করেন। তাদের দাবি এমন ঘটনা পৃথিবী গোল হলেই সম্ভব। পৃথিবী যদি সমতল হয় তাহলে রাত্রি ধীরে ধীরে দিনে বা দিন ধীরে ধীরে রাত্রিতে পরিণত হবে না। পৃথিবী সমতল হলে রাত্রি থেকে মুহূর্তের মধ্যে দিন চলে আসবে এবং দিন থেকে মুহূর্তের মধ্যে রাত্রি চলে আসবে। দুঃখজনক ভাবে তাদের এরকম দাবি একেবারেই গ্রহণযোগ্যতা পায় না। কেননা পৃথিবী সমতল হলে মুহূর্তের মধ্যে রাত্রি দিনে বা দিন রাত্রিতে পরিণত হওয়া তাদের নিজস্ব কল্পনা অথবা ছয়কে নয় বানানোর চেষ্টা ছাড়া কিছুই নাহ। পৃথিবী সমতল হলেও পৃথিবী ধীরে ধীরে আলোকিত হবে এবং ধীরে ধীরেই অন্ধকারময় হয়ে যাবে। সেটা নিজে নিজেই পরীক্ষা করে আমরা বুঝতে পারি। পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন হবে একটা অন্ধকার ঘর, একটা টেবিল এবং একটা ফ্ল্যাশলাইট। আপনি যখন অন্ধকার ঘরে টেবিলের পাশ থেকে ধীরে ধীরে ফ্ল্যাশলাইট উপরের দিকে ওঠাতে থাকবেন তখন টেবিলের উপরিভাগের পৃষ্ঠ ধীরে ধীরে অন্ধকার থেকে আলোকিত হতে থাকবে। ফ্ল্যাশলাইট যখন সামান্য উঠবে তখন টেবিল সামান্য আলোকিত হবে ঠিক যেমন ভোরে সূর্যোদয়ের সময় পৃথিবী সামান্য আলোকিত হয়। ফ্ল্যাশলাইট যখন পুরোপুরিভাবে উঠবে তখন টেবিল বেশি আলোকিত হবে ঠিক যেমন সকাল বেশি আলোকিত হয় ভোরের তুলনায়। সুতরাং সূরা হাজ্ব আয়াত ৬১ বা সূরা লুকমান আয়াত ২৯ পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কোনোরূপ ধারনা দেয় না।

সূরা আল-হাজ্ব আয়াত ৬১

ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ يُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِ وَأَنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌۢ بَصِيرٌ

যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা ইউলিজুল্লাইলা ফিন্নাহা-রি ওয়া ইউলিজুন্নাহা-রা ফিল্লাইলি ওয়া আন্নাল্লা-হা ছামী‘উম বাসীর।

এটা এ জন্যে যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাত্রির মধ্য দাখিল করে দেন এবং আল্লাহ সবকিছু শোনেন, দেখেন।

সূরা লুকমান আয়াত ২৯

أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِ وَسَخَّرَ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِىٓ إِلَىٰٓ أَجَلٍ مُّسَمًّى وَأَنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

আলাম তারা আন্নাল্লা-হা ইঊলিজুল লাইলা ফিন্নাহা-রি ওয়া ইঊলিজুন্নাহা-রা ফিল্লাইলি ওয়া ছাখখারাশশামছা ওয়ালা কামারা কুলুলইঁইয়াজরীইলাআজালিম মুছাম্মাওঁ ওয়া আন্নাল্লা-হা বিমা-তা‘মালূনা খাবীর।

তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন?

কোরআনের বক্তা সূরা যুমার আয়াত ৫ এ বলেছেন তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন। ইসলামপন্থীরা বলে থাকেন, এ আয়াতে রাত দিন দ্বারা এবং দিন রাত দ্বারা আচ্ছাদিত হওয়া বোঝাতে যে আরবি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো يُكَوِّرُ । এই শব্দটির অর্থ হলো প্যাঁচানো/জড়ানো। ক্লাসিক্যাল আরবি ডিকশনারিতে এর অর্থের ব্যাখ্যাতে বলা হয়েছে, কোন পাগড়ির মধ্যে একটি কাপড় অন্য একটি কাপড়ের মধ্যে যেভাবে প্যাঁচিয়ে ঢোকানো হয়। একটি অন্যটির মধ্যে প্যাঁচিয়ে ঢুকে যাচ্ছে। কোরআন হাদিস তন্নতন্ন করে খুঁজেও গোলাকার পৃথিবীর কোনোরকম ইংগিত না খুঁজে পেয়ে তারা দাবি করেন, রাত্রিকে দিবস দ্বারা এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করা তখনই সম্ভব, যখন পৃথিবীর আকার গোল হবে যা বেশ হাস্যকর বটে।

যদিও আগে বলেছি, তারপরও আবার বলতে হচ্ছে যে, কোরআনে বর্ণিত, ‘রাত্রিকে দিবস দ্বারা এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করা’ বা ‘রাত্রিতে দিবস প্রবিষ্ট করা এবং দিবসে রাত্রি প্রবিষ্ট করা’ এরকম বাক্য মূলত কোরআন অনুযায়ী পৃথিবীর চারিদিকে দিনরাতের গতিশীলতা তুলে ধরে। বাস্তবতা হলো, রাত্রি দিবস দ্বারা বা দিবস রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত হয় না। রাত বা অন্ধকার তার নিজ অবস্থান আলোর বিপরীতেই থাকে আবার, দিন বা সূর্যের আলোও তার নিজ অবস্থান সৌরজগতের কেন্দ্র থেকেই আসে। রাত এবং দিনের মধ্যেই পৃথিবী আহ্নিকগতিতে ঘূর্ণনশীল অবস্থায় থাকে। রাত্রিকে দিবস দ্বারা এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করার গল্প বরং পৃথিবীকেন্দ্রিক জগতের প্রমাণ দেয়। কেননা সূর্যের কক্ষপথ পৃথিবী কেন্দ্রিক হলেই রাত (অন্ধকার) দিন (সূর্যের আলো) দ্বারা আচ্ছাদিত হবে। তাছাড়া ‘আল্লাহ্‌ রাতকে দিন দ্বারা বা দিনকে রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন বা পেঁচিয়ে নেন’ কথা টি কি পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে ধারনা দেয়? না! কারণ আমরা দুটো কাপড় অনায়াসে একটা পিরিচের মধ্যে পেঁচিয়ে নিতে পারি আবার একটা টেনিস বলের মধ্যেও পেঁচিয়ে নিতে পারি।

সূরা আয-যুমার আয়াত ৫

خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ بِٱلْحَقِّ يُكَوِّرُ ٱلَّيْلَ عَلَى ٱلنَّهَارِ وَيُكَوِّرُ ٱلنَّهَارَ عَلَى ٱلَّيْلِ وَسَخَّرَ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِى لِأَجَلٍ مُّسَمًّى أَلَا هُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْغَفَّٰرُ

খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা বিল হাক্কি ইউকাওবিরুল্লাইলা ‘আলান্নাহা-রি ওয়া ইউকাওবিরুন্নাহা-রা ‘আলাল্লাইলি ওয়া ছাখ খারাশশামছা ওয়াল কামারা কুল্লুইঁ ইয়াজরী লিআজালিম মুছাম্মান আলা-হুওয়াল ‘আঝীঝুল গাফফা-র।

তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সুর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।

উপরের আলোচনার পর আশাকরি কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয় যে, ইসলাম ধর্মমতে কেন পৃথিবী সমতল। সুতরাং, স্টিভেন হকিং মারা যাওয়ায় যারা ভাবতে শুরু করেছিলেন তিনি জাহান্নামে যাবেন, “ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি” তাদের জন্য বেহেশতের টিকেট হতে পারে।

(কিবোর্ড চলবে…)

ইসলাম এবং আমার অবিশ্বাস (পর্ব এক)
ইসলাম এবং আমার অবিশ্বাস (পর্ব দুই)

Facebook Comments

Marufur Rahman Khan

Atheist, Feminist

Leave a Reply

Your email address will not be published.