ভারতে শিশু যৌননির্যাতনের বর্তমান পরিস্থিতি

একটি শিশুকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যখন নিজের যৌন চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করে, সেটিই শিশু যৌননির্যাতন। মনে রাখতে হবে যে, শিশুর সম্মতির এক্ষেত্রে কোনো মূল্য নেই। তার কারণ মনোবিজ্ঞান, জীবনবিজ্ঞান ও আইন বলে যে একটি ন্যূনতম বয়স পৌঁছানো না পর্যন্ত একটি মানুষ যৌনসংসর্গে সম্মতি বা অসম্মতি দেওয়ার মতো পরিণতি পায় না। যৌননির্যাতন যেকোন পরিবেশে হতে পারে — বাড়ি, স্কুল, পাড়াপরিবেশ বা কাজের জায়গা। শিশুশ্রমিকদের ক্ষেত্রে কাজের জায়গায় যৌননির্যাতন এখন প্রায় স্বাভাবিকতার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
২০০৬ সালের ২১টি দেশে (যার মধ্যে ভারত একটি) করা এক WHO রিপোর্ট অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী ১৫ কোটি মেয়ে এবং ৭.৩ কোটি ছেলে বলপূর্বক যৌনসংসর্গ ও অন্যান্য যৌন অত্যাচারের শিকার [১,২]। সারা পৃথিবীর মাত্র ২.৪% শিশু এই ব্যাপারে আইনি সহযোগিতা পায় [২]। ২০% মহিলা এবং ৮% পুরুষ ছোটবেলায় কোনো না কোনো যৌন অত্যাচারের শিকার হয় [৩]। এর মধ্যে ৩০% ক্ষেত্রে আততায়ী তার পরিবারবর্গের কেউ [৪]। সাধারণত পুরুষ প্রধান এই যৌনঅপরাধীদের তালিকায় আছে যথাক্রমে ভাই, কাকা, সৎবাবা, বাবা এবং মহিলা সদস্যরা [৫]। বাকি আততায়ীদের মধ্যে ৬০% ক্ষেত্রে শিশুর চেনাপরিচিত কেউ – পরিবারের কারোর বন্ধু, বাড়ির কাজের লোক বা প্রতিবেশী [৬]।

মাত্র ১০% ক্ষেত্রে যৌননির্যাতনকারী হয় শিশুর সম্পূর্ণ অপরিচিত কেউ [৬]!

এই বিশাল সংখ্যক যৌননির্যাতনকারীর সবাই যে শিশুকামী সেটা নয়, — অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় এরা অন্য একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সাথে দৈনিক সুস্থ যৌন জীবনযাপন করে। অদ্ভুতভাবে যৌননির্যাতনের ক্ষেত্রে শিশুরা লিঙ্গনির্বিশেষে আক্রান্ত হয়, অর্থাৎ একজন ছেলে-নিপীড়নকারী মানুষ অন্যক্ষেত্রে মহিলা সংসর্গে লিপ্ত থাকতে পারে।

ছবি ১ :- ১৮ বছরের আগে বিবাহিত মেয়েদের দেশভিত্তিক হার [৫]
ছবি ১ :- ১৮ বছরের আগে বিবাহিত মেয়েদের দেশভিত্তিক হার [৫]
শিশুবিবাহ শিশুযৌননির্যাতনের একটি অন্যতম বড় প্রকার। পৃথিবীর প্রায় ৮.২ কোটি মেয়েদের ১০-১৭ বছর বয়সে বিয়ে হয় এবং যাদের মধ্যে বেশিরভাগকেই ঋতুচক্র শুরুর আগেই ১০-১১ বছর বয়স থেকে দৈনিক যৌনসংসর্গ করতে হয় [৫]। প্রায় ২৮টি দেশে এই সংখ্যা শতকরা ৩০ এর বেশি — প্রতিবেশী দেশ নেপালে ৭% মেয়ের ১০ বছর আর ৪০% মেয়ের ১৫ বছরের আগে এবং বাংলাদেশে ৬৫% মেয়ের বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগে (ছবি ১ দেখুন [৫])।
ভারতে যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত সঠিক সমীক্ষা খুঁজে পাওয়া কঠিন, তার কারণ আমাদের দেশে যৌনতা একটি নিষিদ্ধ বিষয়। বিয়ে হলেই বাচ্চা হয়, এই ধারণা নিয়ে বড় হতে থাকে বাচ্চারা যতদিন না সত্যিকারের যৌনসংসর্গ সম্পর্কে বন্ধুদের বা পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে ওয়াকিবহাল হয়। তাই এই জ্ঞানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের পরিবর্তে নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি শিশুর স্বাভাবিক আগ্রহপূর্ণ উত্তেজনাই থাকে বেশি। ক্রমবর্ধমান HIV/AIDS, জনসংখ্যা, ত্রুটিপূর্ণ প্রজনন স্বাস্থ্যের চাপ ঠেকাতে ২০০৬-০৭ সালে MHRD, NCERT, NACO ও UNICEF একত্রিত হয়ে ভারতের সব স্কুলে “এডোলেসেন্স এডুকেশন প্রোগ্র্যাম (এইপি)” চালু করার একটি প্রয়াস দেখিয়েছিল। এইপির মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল প্রধানত তিনটি — ১. শিশুদের বড় হয়ে ওঠার দৈহিকচক্র বোঝানো, ২. মাদকজাতীয় পদার্থের সেবন প্রতিরোধ করা, ৩. HIV/AIDS প্রতিরোধ [৭,৮]। তাতে আমাদের নেতা-নেত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকবর্গের চক্ষু চড়কগাছ হয় এই ভেবে যে স্কুলে গিয়ে বাচ্চারা অনাচার শিখবে [৯]। রাজ্যসভা কমিটি এইপি সম্পর্কে রিপোর্ট দেয় “এইপি একটি চতুর প্রয়াস যার প্রকৃত লক্ষ্য স্কুলে শিশুদের যৌন শিক্ষা প্রদান এবং অপরিকল্পিত যৌনতা প্রচার করা”(AEP is a cleverly used euphemism whose real objective was to impart sex education to schoolchildren and promote promiscuity.) [১০]।
এইপির আওতায় NACO ও UNICEF যে বই তৈরী করেছিল শিশুপাঠ্যের জন্য, তা অশালীনতার অভিযোগে মহারাষ্ট্র, গোয়া, গুজরাট, কর্ণাটক, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, কেরল ও রাজস্থানের রাজ্য সরকারের প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হয় এবং যৌন শিক্ষার এই কর্মসূচিকে বাতিল করে শালীনভাবে যৌনসচেতনতার চেষ্টা চলছে [৮]। এখন “জীবনশৈলী” বা সমার্থক নামে কোন-কোন রাজ্যের পাঠক্রমে যা শেখানো হয় তাতে “কন্ডোম/condom”, “স্যানিটারি ন্যাপকিন/sanitary napkin”, “যোনি/vagina”, “যৌনসহবাস/intercourse” ইত্যাদি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক শব্দ প্রায় অনুপস্থিত বললেই চলে [৮,১১]। এর ফলস্বরূপ – অরক্ষিত যৌনসংসর্গ, কৈশোরে গর্ভাবস্থা, যৌন নির্যাতন নীরবে সহ্য করা। এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও ভারতের প্রায় ৬২% মেয়ে ঋতুচক্রের সময় কাপড় ব্যবহার করে এবং মাত্র ৫৪% মেয়ে ঋতুচক্রকে শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে মনে করে [১২,১৩]। ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী HIV রোগীর সংখ্যায় ভারত এখন তৃতীয় স্থানে [১৪]। একই বছরে মুম্বাইয়ে পুলিশে রিপোর্ট করা ধর্ষণের অভিযোগের মধ্যে ৭২% ক্ষেত্রে ধর্ষিতের বয়স ১৮ বছরের কম [১৫]। দিল্লী “নির্ভয়া” কাণ্ডে দোষীদের মধ্যে সবথেকে বেশি নির্মম ছিলো একটি ১৭ বছরের ছেলে [১৬]।
এই সংখ্যাগুলো দেখে কি ভয় হচ্ছেনা আপনার বাড়ির ছোট মেয়েটি বা ছেলেটির জন্য? “নির্ভয়া” কাণ্ডে দোষী ছেলেটির এমন বিকৃতমনস্কতার কারণ কি? আমাদের সংস্কৃতিমনস্ক দেশ কি শিশুদের সঠিক সচেতন নাগরিক হয়ে ওঠার শিক্ষা দিতে পারছে?
শুরুতেই বলেছি WHO এবং আরো কিছু সংস্থার রিপোর্টের কথা। কিন্তু সে তো সামগ্রিক পৃথিবীর ছবি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে আসে যে এই বিরাট সংখ্যক যৌন অত্যাচারিত শিশুর সংখ্যায় ভারতের ভূমিকা কতটা।

সারা পৃথিবীর ১/৫ ভাগ শিশু বাস করে ভারতে।

এই সুবিশাল সংখ্যক শিশুদের সুস্থ পরিবেশের যোগান দেওয়ার দায়ভার আমার-আপনার বৈকি! আমাদের দেশের শিশুরা কেমন আছে সেই নিয়ে বিস্তারিত লেখার আগে কয়েকটা প্রাসঙ্গিক তথ্য বলে নিই —
১. ভারতে ৪৬% মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছরের আগে, যদিও আমাদের দেশে বিয়ের বৈধ বয়স ১৮ [৫]।
২. ৮% ভারতীয় মেয়ে ১৫-১৯ বছর বয়সে গর্ভবতী হয় [১৭]।
৩. ২০১১ সালের জনসংখ্যা পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতীয়দের ৩৯% এর বয়স ১৮ বছরের কম, যদিও ভারতীয় বাজেটের মাত্র ৩.২% বরাদ্দ এদের জন্য [১৮]।
ভারতে ২০১২ সাল পর্যন্ত শিশু নির্যাতন নিয়ে কোনো আলাদা আইন ছিল না, অর্থাৎ একটি শিশুকে যৌননির্যাতন ক্ষেত্রে একটি পূর্ণবয়স্ক মানুষের সমান চোখেই দেখা হতো। ২০১২ সালে POCSO অর্থাৎ “Protection of Children Against Sexual Offense” বিল পাশ হয় [১৯,২০]। যার অনেকটাই প্রভাবিত হয়েছিল ২০০৭ সালে “নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রক” পরিচালিত তেরোটি রাজ্যের (যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ একটি) ১২৪৪৭ শিশুর উপর যৌননির্যাতন সম্পর্কিত একটি সমীক্ষার দ্বারা [২১]। ৫-১২ বছর বয়সি এই শিশুদের পাঁচটি দলে ভাগ করা হয়েছিল — যাদের মধ্যে ছিল বাড়ির পরিবেশে থাকা, স্কুলপড়ুয়া, শিশুশ্রমিক, নিরাশ্রয় এবং আবাসিক শিশু [২১]। ভারতে এর আগে বা এর পরে এই আকারের শিশুনির্যাতন সম্পর্কিত সমীক্ষা হয়নি। কি তথ্য ছিল এই সমীক্ষায়?

পৃথিবীর সর্বাধিকসংখ্যক যৌননির্যাতিত শিশু বাস করে ভারতে — যেখানে প্রতি ১৫৫ মিনিটে ১টি ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু, প্রতি ১৩ ঘন্টায় ১টি ১০ বছরের কমবয়সী শিশু ধর্ষিত হয় [২১]।

রিপোর্ট করা আরো মারাত্মক কিছু তথ্য [২১] (এখানে সমস্ত সংখ্যাই এই ১২৪৪৭ শিশুর উপর করা সমীক্ষার উপর নির্ভরশীল) —

টেবিল ১ :- যৌননির্যাতিতর রাজ্য ও লিঙ্গভিত্তিক শতকরা হার [২১]
টেবিল ১ :- যৌননির্যাতিতর রাজ্য ও লিঙ্গভিত্তিক শতকরা হার [২১]
১. প্রতি ২টি শিশুর একজন এক বা একাধিকরকম যৌন নির্যাতনের শিকার (৫৩%) – যার মধ্যে ৫৩% ছেলে এবং ৪৭% মেয়ে (টেবিল ১ দেখুন)।

টেবিল ১ :- যৌননির্যাতিতর রাজ্য ও লিঙ্গভিত্তিক শতকরা হার [২১]

২. শিশুদের মধ্যে ২২% অর্থাৎ প্রতি ৫ জনে ১ জন ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার (ছবি ২ দেখুন)। আসাম, বিহার, দিল্লী এবং অন্ধ্রপ্রদেশে এর সংখ্যা সর্বাধিক। এর মধ্যে পড়ে —
ক. পায়ু বা যোনিপথে প্রবেশ বা মুখকাম (penetration in anus or vagina or oral sex) – এর মধ্যে শতকরা ৬ ভাগ যার মধ্যে শতকরা ১৭ ভাগের বয়স ৬-১০ বছর। POCSO বিল অনুযায়ী বর্তমানে এর শাস্তি ৭ বছর – যাবজ্জীবন কারাবাস ও জরিমানা (Penetrative sexual assault)।
খ. শিশুকে দিয়ে নিজের বা শিশুর যৌনাঙ্গ নিয়ে কামক্রীড়া — এর মধ্যে শতকরা ১৪ ভাগ যার মধ্যে শতকরা ২৫ ভাগের বয়স ৫-১০ বছর। POCSO বিল অনুযায়ী বর্তমানে এর শাস্তি ৩-৫ বছরের কারাবাস ও জরিমানা (Sexual assault)।
গ. জোর করে শিশুর যৌনাঙ্গ দেখা বা নিজের যৌনাঙ্গ দেখানো — এর মধ্যে শতকরা ১৩ ভাগ যার মধ্যে শতকরা ১৮ ভাগের বয়স ৫-১২ বছর। POCSO বিল অনুযায়ী বর্তমানে এর শাস্তি ০-৩ বছরের কারাবাস ও জরিমানা (Sexual harrashment)।
ঘ. শিশুকে পর্নোগ্রাফিক মাধ্যমে ব্যবহার করা — এর মধ্যে শতকরা ৪ ভাগ। POCSO বিল অনুযায়ী বর্তমানে এর শাস্তি ০-১০ বছরের কারাবাস ও জরিমানা (Using child for pornographic material or Storage of pornographic material involving children)

ছবি ২ :- ভয়াবহ শিশুনির্যাতনের বয়সভিত্তিক চার্ট
ছবি ২ :- ভয়াবহ শিশুনির্যাতনের বয়সভিত্তিক চার্ট [২১]
৩. যৌননির্যাতিতর মধ্যে বাকিরা আরো অন্য নানাপ্রকার যৌন নির্যাতনের শিকার- জোর করে চুম্বন, পর্নোগ্রাফিক ছবি বা বই দেখানো ইত্যাদি।
৪. ১৩টি রাজ্যের মধ্যে ৯টিতে ছেলেদের যৌননির্যাতিত হওয়ার হার মেয়েদের থেকে বেশি – বিশেষত দিল্লিতে নির্যাতিতর মধ্যে ছেলের হার ৬৫% (টেবিল ১ দেখুন)। অর্থাৎ, শিশু নির্যাতনে লিঙ্গনির্বিশেষে সব শিশুই আক্রান্ত হতে পারে।
৫. যৌন নির্যাতনকারীর শতকরা ৫০ ভাগ শিশুর চেনা পরিচিত বা অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন কেউ, যার ফলস্বরূপ পারিবারিক লোকলজ্জার ভয়ে এর বেশিরভাগটাই কেউ পুলিশে রিপোর্ট করে না (ছবি ৩ দেখুন)।

ছবি ৩ :- পায়ু বা যোনিপথে প্রবেশ বা মুখকাম দ্বারা যৌননির্যাতনকারী
ছবি ৩ :- পায়ু বা যোনিপথে প্রবেশ বা মুখকাম দ্বারা যৌননির্যাতনকারী [২১]
৬. ৭০-৮০% ভাগ ক্ষেত্রে কোন পুলিশ রিপোর্ট হয়না।
আরো অনেক কথাই বাকি রয়ে গেলো। মেয়েশিশুভ্রুণহত্যা, বাসে-ট্রেনে মেয়েদের লাঞ্ছনা, মেয়েসুলভ ছেলেদের যৌন হয়রানি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আরো অনেক অনেক কথা বাকি রয়ে গেলো। কিছুদিন আগে “#metoo” ট্যাগে জনমাধ্যমে একটি আলোড়ন ওঠে, যাতে সবাই সবার ছোট-বড়বেলার কুঅভিজ্ঞতা নিয়ে লেখে। সেই সুবিশাল সংখ্যক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্যে এটা পরিষ্কার যে আমাদের শিশুরা খুব ভালো নেই। এরা ছোটবেলায় পরিবারে সবচাইতে আপন বাবা বা মাকে জানালেও তাঁরা এই নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাননা।
শিশুনির্যাতন নিয়ে কথা বলুন — সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ আপনার শিশুকে এমন পরিবেশ দিন যাতে সে আপনাকে খোলামেলা এই নিয়ে বলতে পারে। এইধরণের কুঅভিজ্ঞতা আপনার ছেলে-মেয়ের মানসিক-শারীরিক বৃদ্ধিতে বড়রকম প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিককালে পনেরোটি ভাষায় বানানো চাইল্ডলাইনের “কোমল/Komal” নামের একটি দশ মিনিটের ভিডিও এই ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে [২২]।

উপরে যে তথ্যগুলি দিলাম, তার থেকে একটি আবার জোর দিয়ে বলতে চাই —

ভারতে লিঙ্গনির্বিশেষে প্রতি ২টি শিশুর ১টি শিশু যৌননির্যাতনের শিকার [২১]।

একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে এইধরণের সমীক্ষাগুলিতে কিন্তু ৫ বছর বা তার থেকে ছোট বাচ্চার থেকে কোন তথ্য পাওয়া সম্ভব না। আপনার যে কাকা আপনার ২-৩ বছরের ছেলের লিঙ্গ নিয়ে “শিব শিব” করে মজা করে তাঁকে আটকান, একইভাবে আপনার যে বন্ধুকে দেখলেই আপনার মেয়ে ভয়ে সিঁটিয়ে যায় সেটা কেন তাকে জিজ্ঞেস করুন। আপনার ছেলে-মেয়ে হঠাৎ করে চুপচাপ হয়ে গেলে, কারো বাড়ি বা কোনো মানুষকে এড়াতে চাইলে সেটা কেন বুঝতে চেষ্টা করুন। একটি দশ জনের পরিবারে যদি এক জনও যৌননিপীড়ক থাকে, সে সেই পরিবারের সব শিশুর সুস্থ শৈশব নষ্ট করতে পারে। তাই, এমন লোককে চিহ্নিত করুন। আপনার শিশুকে সুস্থ পরিবেশ দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের পাশাপাশি আপনারও।
————————————————————————————————————–
১. WHO report
২. UNICEF report chapter 1 https://www.unicef.org/violencestudy/reports.html
৩. Pereda, N.; Guilera, G.; Forns, M. & Gómez-Benito, J. (2009). “The prevalence of child sexual abuse in community and student samples: A meta-analysis”. Clinical Psychology Review. 29 (4): 328–338. doi:10.1016/j.cpr.2009.02.007.
৪. Raising Awareness About Sexual Abuse: Facts and Statistics. NSOPW. Retrieved 18 October 2017.
৫. UNICEF report chapter 3 https://www.unicef.org/violencestudy/reports.html
৬. Julia Whealin (2007). Child Sexual Abuse. National Center for Post Traumatic Stress Disorder, US Department of Veterans Affairs.
৭. Adolescence Education Programme.
৮. Dey, A (2015) : Formal and informal sexuality education: a study of kolkata
৯. BBC news (22 august 2007) – Sex education runs into trouble
১০. Indian Express (2009) article: No sex education in schools, leads to promiscuity: House panel
১১. CBSE AEP manual
১২. Times of India (January 2018): 62% young women in country using cloth for menstrual protection, says NFHS report
১৩. Firstpost (January 2018): Shame, taboo resulting in unhygienic menstrual practices across much of India

১৪. Avert report (2016)
১৫. Hindustan times (January 2018): Mumbai NGO study reveals that cases of child abuse increased in 2016
১৬. Delhi Nirbhaya Gang rape case (December 2012)
১৭. NFHS 4 (2015-16)
১৮. Indian budget 2017-18
১৯. NDTV (22 May 2012). Parliament passes bill to protect children from sexual abuse.
২০. POCSO Act (2012)
২১. Study on Child Abuse: India 2007. Published by the Government of India, (Ministry of Women and Child Development).
২২. Komal – a film on child sexual abuse . বাংলায় দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.