ইসলাম এবং আমার অবিশ্বাস (পর্ব পাঁচ)

যুক্তি ব্যবহারের দিক থেকে মানুষ প্রধানত দুই রকমের হয় বলে আমি মনে করি। কেউ আছেন যারা বিশ্বাস আছে বলে যুক্তি টেনে নিয়ে আসেন। আবার, কেউ আছেন যুক্তি দিয়ে বিশ্বাসের সত্যতা যাচাই করেন। যারা বিশ্বাস আছে বলে যুক্তি টেনে নিয়ে আসেন তারা মূলত বিশ্বাস কে ঘিরেই জীবন কাটাতে চান, বিশ্বাস থেকে একটু সরে দাঁড়িয়ে নিরপেক্ষ ভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে ভয় পান। তাদের বিশ্বাস কে তারা ধ্রুব সত্য বলে জ্ঞান করেন এবং ধ্রুব সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করতে যেভাবে সম্ভব যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। কারণ বাল্যকাল থেকে পেয়ে আসা বিশ্বাস কে তারা খুব ভালোবাসেন এবং নিজের পরিবারের মতোই আপন মনে করেন। পরিবারের কাছ থেকে কেউ যেমন দূরে সরে যেতে চায় না ঠিক তেমনি, তারাও নিজের প্রচলিত বিশ্বাস কে নিরপেক্ষ ভাবে বিচার বিশ্লেষণ করতে চান না। ভয় একটাই, বিশ্বাস নামক বিভ্রম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয়। এই ভয় টা কেই জয় করতে পারে কিছু মানুষ, যারা যুক্তি দিয়ে বিশ্বাসের সত্যতা বিচার করতে পারে। যারা বিশ্বাস কে বিশ্বাসের অবস্থানেই রাখতে জানে এবং সেই বিশ্বাসের পেছনের গল্প কি সেটা নিজের কৌতুহলি মস্তিষ্ক খাটিয়ে নিরপেক্ষ ভাবে বিচার বিশ্লেষণ করতে জানে। আর যখন একজন মানুষ বিশ্বাস কে সত্য প্রমাণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে যুক্তি প্রদান করে তখন সচরাচর কুযুক্তিই সামনে চলে আসে। কেননা নিজের প্রচলিত বিশ্বাসের বেলায় অন্ধবিশ্বাসীদের মধ্যে ভুল কে ভুল এবং সঠিক কে সঠিক বলার মানসিকতা থাকে। নিজের বিশ্বাস কেই সঠিক প্রমাণ করতে হবে এমন মানসিকতা থেকে তারা ভুল কে জোর করে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করে। তবে দুঃখজনক হলো যা ভুল তা ভুলই, সেটা কুযুক্তি আর ছলচাতুরীর আশ্রয় ছাড়া সঠিক প্রমাণ করা যায় না। ধরা যাক, কোরআনে লেখা আছে ২ আর ২ মিলে ৫ হয়। যারা যুক্তি দিয়ে সত্যতা বিচার করে তারা স্বাভাবিক ভাবেই বলবে এখানে ভুল বলা আছে। আর যারা নিজের বিশ্বাস কে সত্য প্রমাণের উদ্দেশ্য নিয়ে এদিক সেদিক থেকে যুক্তি টেনে নিয়ে আসে তারা বলবে, “আরে কোরআনে ভুল থাকবে কেন? এখানে ২+২=৫ লেখা থাকলেও আপনাকে ৫ এর পর একটা (-১) ধরে নিতে হবে”। এরকমভাবে ধর্মান্ধরা অসংখ্য যুক্তি দিতে পারে, যেখানে ভুল খুঁজে পাওয়া যাবে সেখানে এসে বলবে এখানে অমুক লেখা আছে, আমাদের তমুক ধরে নিতে হবে। তবে আমাদের মনে মনে যা ধরে নিতে হবে তা সম্পর্কে যদি কোনো অথেনটিক সোর্সে কোনোরূপ ইংগিত না থাকে অথবা প্রমাণ না থাকে তাহলে কেন ২+২=৫ কে ২+২=৫-১ বলে ধরে নিবো, সেটা কে ভুল না বলে? এধরণের কুযুক্তি প্রয়োগের সময় একজন ধর্মবিশ্বাসীর মস্তিষ্কে চলে “আমার ধর্মগ্রন্থ ই ঐশ্বরিক, তাই এতে কোনো ভুল থাকতে পারেনা” এবং তাদের উদ্দেশ্য থাকে নিজের প্রচলিত বিশ্বাস কে সত্য প্রমাণ করা। একজন ধর্মবিশ্বাসী তার ধর্মগ্রন্থ পড়ার আগেই, তাতে কি লেখা আছে সেটা ভালোভাবে জানার আগেই মনে মনে ধরে নেয় এই গ্রন্থ ঐশ্বরিক। সে পড়ার সময় বিশ্বাস রেখেই পড়ে আমি যা পড়ছি তা ঈশ্বরের বানী। আর তাই সে বিশ্বাস করে এই গ্রন্থে কোনো রকম ভুল থাকতে পারে না। অপরদিকে একজন অবিশ্বাসী ধর্মগ্রন্থ পড়ে, ভালোভাবে জেনে তারপর বিচার বিবেচনা করে ধর্মগ্রন্থ টি কোনো ঈশ্বরের পাঠানো গ্রন্থ হওয়া সম্ভব কিনা। আমি মনে করি একজন ধর্মবিশ্বাসী এবং একজন অবিশ্বাসীর মধ্যে সরল পার্থক্য এখানেই। আর যারা একটা কিতাব পড়া শুরু করার আগেই মাথায় রাখে সেটা ঈশ্বরের পাঠানো কিতাব তাদের চোখে স্বাভাবিক ভাবেই সেই কিতাবের ভুল চোখে পড়ে না। কোনো ব্যাপারে খটকা লাগলেও তারা এভাবে সেভাবে করে কোনোএক ভাবে নিজের মন কে বুঝ দিয়ে থাকে। নিজের মন কে তারা বুঝ দেয় যে, “না এব্যাপার টা ঠিকই আছে, ঈশ্বরের পাঠানো কিতাবে ভুল থাকতে পারে না”। অবিশ্বাসীরা যখন ধর্মগ্রন্থের অসংগতি সমূহ বিশ্বাসীদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় তখন বিশ্বাসীদের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে দেখা যায়। এসমস্ত ব্যাখ্যা তাদের নিজের মন কে দেওয়া বুঝ ছাড়া আর কিছুই না। তবে তারা নিজেদের মন কে যা বলে বুঝ দেয় বা তারা যেসব ব্যাখ্যা দাঁড় করায়, সেসব আদৌ গ্রহণযোগ্য কিনা সেটা নিজেরা কখনওই নিরপেক্ষ ভাবে চিন্তা করে দেখে না। বেশিরভাগ ধর্মান্ধ বিশ্বাস করে অবিশ্বাসীরা ধর্মগ্রন্থের অপব্যাখ্যা করে অথবা এমন কথা বলে তারা নিজের মন কে একটা বুঝ দিয়ে সংশয় থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। কারণ আগেই বলেছি, তারা চায় না তাদের বিভ্রম ধ্বংস হয়ে যাক। “নাস্তিকরা ভুল ব্যাখ্যা দেয়”, “নাস্তিকরা অপব্যাখা দেয়”, “নাস্তিকরা এটা করে”, “নাস্তিকরা সেটা করে” এ ধরণের কথাবার্তা খুব সার্টিফিকেট ওয়ালা মানুষের মুখেও সচরাচর শোনা যায়। তবে আমি সেটা অস্বাভাবিক ভাবি না। কারণ আমি জানি এদেশের মানুষ সার্টিফিকেটের পেছনে দৌড়ায় টাকা পয়সা আর সামাজিক মর্যাদার জন্য, জ্ঞান অর্জনের জন্য নয়। প্রচুর সার্টিফিকেট ওয়ালা মানুষও ছোটবেলা থেকে কিছু পাওয়া বিশ্বাস কে ধ্রুব সত্য ভেবে এসেছে, সেও তার ধর্মগ্রন্থ পড়ার আগেই মনে মনে তীব্র ভাবে বিশ্বাস করেছে সেটা ঈশ্বরের পাঠানো গ্রন্থ। সেও কখনো সত্যমিথ্যা বিচার বিশ্লেষণ করার জন্য তার ঘরে থাকা ধর্মগ্রন্থ পড়ে নি। তাই প্রচুর পড়াশোনা জানা বা সার্টিফিকেট ওয়ালা মানুষদের মধ্যেও নাস্তিকদের সম্পর্কে উদ্ভট ধারনা থাকা নিয়ে অবাক হই না। ‘নাস্তিকরা ধর্মগ্রন্থের অপব্যাখা দেয় না’ মানলে যে আবার তাদের বিভ্রম সব ধ্বংস হয়ে যাবে! মানুষের ছোটকাল থেকে লালন করে আসা বিশ্বাস কে ভুল বলা হলে তার কাছে সেটা ভালো লাগে না। যে ভুল বলেছে তার জ্ঞান কম বা সে অপব্যাখা করেছে এমন কিছু একটা চিন্তা করে সে নিজের মন কে বুঝ দেয়। যেকোনো মানুষই তার বিশ্বাস সম্পর্কে অনেক ভালো ভালো কথা শুনতে চায়, কেউই তার বিশ্বাস বিরুদ্ধ মতামত শুনতে চায় না। একজন ধর্মবিশ্বাসী তার বিশ্বাসের পক্ষে বলা হাজার কুযুক্তি অনায়াসে খেয়ে নেয়। আর বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কথা বললে বিশ্বাসী অপব্যাখা বলে বিশ্বাসের অন্ধত্বে আটকে থাকতে চায়। সেজন্যই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমের দেশে অবিশ্বাসীদের প্রশ্নের জবাব দিয়ে ইসলামের পক্ষে বই লেখা হলে সেই বই পাবলিক প্রচুর পরিমাণে খায়। ইসলামের পক্ষে লেখা হয়েছে মানেই এতে থাকা প্রতি টা প্যারা যুক্তিযুক্ত এমন মানসিকতা নিয়েই তারা সেসব বই পড়ে আর মনে মনে “উফফ নাস্তিকদের দাঁত ভাঙা জবাব দিয়েছে” ভেবে স্বস্তি বোধ করে। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো বিশ্বাসীদের মস্তিষ্ক ধর্মগ্রন্থ আর ধর্মের পক্ষে লেখা বই সমূহের বাইরে বেশি কিছু ভাবতে পারেনা। একজন মুসলিম ইসলামের পক্ষে লেখা বইপত্র পড়ে মনে করে খুব যুক্তিযুক্ত কিছু পড়ে ফেলেছি। সে কখনওই নিজের মন কে প্রশ্ন করে না, যা পড়লাম তা কি আসলেই নাস্তিকদের যুক্তি রিফিউট করতে পারে কিনা? সে কখনওই ভেবে দেখে না, যা পড়লাম তাই কি শেষকথা নাকি সেটাও কোনো যুক্তি দিয়ে রিফিউট করা যায়। বিশ্বাসীরা যেসব বইপত্র পড়ে মনে করে নাস্তিকদের দাঁত ভাঙা জবাব দেওয়া হয়ে গেছে, অবিশ্বাসীরাও সেসব বইপত্র পড়ে, তবে তারা নিরপেক্ষ ভাবে বিচার বিবেচনা করে। আর একজন বিশ্বাসী যখন নিরপেক্ষ ভাবে প্রত্যেক টা বিষয় বিচার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে শিখবে তখন সে আর বিশ্বাসী হয়ে থাকতে পারবে না, সে হবে কৌতুহলি সে হবে অবিশ্বাসী। আর সে যখন কৌতুহলি হতে শিখবে, নিজের মস্তিষ্ক নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখবে তখন সেসব বইপত্র তার কাছে কুযুক্তির খনি ছাড়া কিছুই মনে হবে না। যা ভুল তা স্বাভাবিক ভাবেই ভুল আর একটা ভুল কে শুদ্ধ প্রমাণ করতে যতো যুক্তিই ব্যবহার করা হোক না কেন সেসব যুক্তি তে কিছু না কিছু অসংগতি থাকবেই। আমার এক অবিশ্বাসী বন্ধু আমাকে কিছু বইয়ের লিংক দিয়ে বললেন, এসব বইতে নাকি নাস্তিকদের দাঁত ভাঙা জবাব দেওয়া হয়েছে। সেসব একে একে পড়ে আমিও ব্যাপার টার সাথে একমত হলাম। কারণ তাদের কিছু লজিক পড়লে হাসতে হাসতে বিছানা থেকে পড়ে দাঁত ভাঙার পরিস্থিতি চলে আসে। আমরা অবিশ্বাসীরা ধর্মগ্রন্থের কোনো অসংগতি তুলে ধরি তখন বিশ্বাসীরা প্রায়ই বলে, জাকির নায়েকের ভিডিও দেখুন, উত্তর পেয়ে যাবেন। তাদের সবার আগে একটা কথা বুঝতে হবে যে, জাকির নায়েকদের কাজই হলো আমরা যেসব অসংগতি তুলে ধরি, সেসব অসংগতির ওপর একটা জবাব রেখে সেটা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা। তবে তারা জবাবে যা বলছে তা আদৌ গ্রহণযোগ্য কিনা সেটা নিজের মস্তিষ্ক খাটিয়ে বিচার করতে হবে যা একজন বিশ্বাসী একদমই করেন না। তারা অবিশ্বাসীদের প্রশ্নের জবাব খুঁজে, জবাব কেউ একজন দিলেই সে মহান। অবিশ্বাসী যখন ধর্মের নানা অসংগতি তুলে ধরে বিশ্বাসী তখন খুব আশা করে তার বক্তব্য নিশ্চয়ই ভুল, সে খুব চেষ্টা করে উত্তর খুঁজার, খুব চেষ্টা করে তাকে ভুল প্রমাণ করার। আসল কথা হলো একজন অবিশ্বাসীর বক্তব্য একজন বিশ্বাসী পড়া মাত্রই গ্রহণ করে না বরং তাকে ভুল প্রমাণ করা যায় এমন যুক্তি খুঁজে। ঠিক সেভাবেই বিশ্বাসীদের উচিত বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলা জাকির নায়েকদের বক্তব্য শোনা মাত্রই সেসব অনায়াসে মেনে না নিয়ে নিজের মস্তিষ্ক একটু ব্যবহার করা।

⭕ কোরআন অনুযায়ী বীর্যের অবস্থান

অনেকেই সূরা তারিক আয়াত ৬/৭ এ যে অসংগতি পাওয়া যায় সেটা তুলে ধরেছেন এবং বিশ্বাসীরা এব্যাপারে জাকির নায়েক যা ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটা সামনে এনে নাস্তিকদের দাঁত ভেঙে দিতে চান। আরও অনেকেই এ আয়াত কে শুদ্ধ প্রমাণ করতে নানা ধরণের ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকেন। তবে ইসলামপন্থীরা যেসব ব্যাখ্যা প্রদান করেন, কোরআনের বক্তাও যে সেটা আয়াতে বুঝিয়েছেন তার কি প্রমাণ আছে? কোনো প্রমাণ নেই। জাকির নায়েক তার ব্যাখ্যায় যা বলেছেন, আল্লাহ্‌ও যে কোরআনে সেটাই বুঝাতে চেয়েছেন সেটা একজন মানুষ কিভাবে বুঝবে? একেক যুগে একেকজন একেকরকম করে আয়াত টি কে ব্যাখ্যা করেছেন, মানুষ কেমন করে সঠিক ব্যাখ্যা চিনবেন? যাইহোক, যে যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন, বিশ্বাসীরা সাধারণত কখনওই ব্যাখ্যা প্রদানকারীর ব্যাখ্যার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিচারবিবেচনা করেন না। তারিক আয়াত ৬-৭ অনুযায়ী, আল্লাহ্‌ মানুষ কে সৃষ্টি করেছেন স্খলিত পানি অর্থাৎ বীর্য থেকে যা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাঁজরের মধ্য থেকে। অর্থাৎ কোরআন মতে, মানুষের বীর্য নির্গত হয় মানুষের মেরুদন্ড এবং বক্ষপাঁজরের মধ্য থেকে।

সূরা আত-তারিক আয়াত ৬

خُلِقَ مِن مَّآءٍ دَافِقٍ

খুলিকা মিম্মাইন দা-ফিকি।

সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে

সূরা আত-তারিক আয়াত ৭

يَخْرُجُ مِنۢ بَيْنِ ٱلصُّلْبِ وَٱلتَّرَآئِبِ

ইয়াখরুজুমিম বাইনিসসুলবি ওয়াত্তারাইব।

এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে।

এদিকে বাস্তবতা বলে, মানব বীর্য চারটি গ্রন্থির উৎপাদিত বস্তু দ্বারা গঠিত হয়। টেস্টিস শুক্রাণু উৎপন্ন করে, যে তরলে তারা বাহিত হয় তা আসে seminal vesicles, প্রোস্টেট গ্রন্থি এবং bulbourethral গ্রন্থি থেকে। এদের কোনো টাই মেরুদন্ড ও পাঁজরের মধ্যে অবস্থান করে না।

জাকির নায়েক অন্য সবকিছুর মতো কোরআনের এই ভুল ঢাকার জন্যও একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

In embryonic stages, the reproductive organs of the male and female, i.e. the testicles and the ovaries, begin their development near the kidney between the spinal column and the eleventh and twelfth ribs. Later they descend; the female gonads (ovaries) stop in the pelvis while the male gonads (testicles) continue their descent before birth to reach the scrotum through the inguinal canal. Even in the adult after the descent of the reproductive organ, these organs receive their nerve supply and blood supply from the Abdominal Aorta, which is in the area between the backbone (spinal column) and the ribs. Even the lymphatic drainage and the venous return goes to the same area

জাকির নায়েকের এই ব্যাখ্যার প্রথম অসংগতি হলো, কোষ সমূহের স্পার্মাটোগোনিয়ায় পরিণত হওয়ার প্রকৃত গন্তব্য কিডনির কাছে মধ্যবর্তী উদরিক অংশে নয় বরং কুসুম কোষের প্রাচীরে।

টেস্টিস ও ডিম্বাশয় উদ্ভূত হয় মেসোডার্মাল এপিথিলিয়াম আস্তরণের উপাদান অবর উদরিক প্রাচীর, নিম্নাবস্থিত এবং মৌলিক অঙ্কুর কোষসমূহ থেকে।

চতুর্থ সপ্তাহে মৌলিক অঙ্কুর কোষ কুসুম কোষের প্রাচীরে গঠিত হয়। তারা পরে ষষ্ঠ সপ্তাহে উন্নয়নশীল গোনাডের মধ্যে অভিপ্রয়ান করে এবং নির্ধারক অঙ্কুর কোষে পৃথক হয়। [1]

জাকির নায়েকের বক্তব্য অনুযায়ী যদি আয়াতটি ভ্রূণ অবস্থায় টেস্টিস নির্দেশ করে তাহলেও গোনাড মেরুদণ্ড ও ১১/১২ তম পাঁজরের মধ্যে অবস্থান করে বলে তিনি যা দাবি করেন তা সঠিক কিনা সেটা অস্পষ্ট।

মানব ভ্রূণের cross-sectional ডায়াগ্রাম টি প্রদর্শন করে, ভ্রূণ গোনাড নাড়ির কাছাকাছি অবস্থান করে।

সুতরাং, ভ্রূণ টেস্টিস মেরুদণ্ড ও ১১/১২ তম পাঁজরের মধ্যে অবস্থান করার গল্প সঠিক নয়। যেহেতু যৌনগ্রন্থীয় বা জনন সম্বন্ধীয় সেতুবন্ধ মেসোনেফ্রসের মধ্যবর্তী থেকে নিম্ন অংশে বিবেচনা করা হয়, যেখানে পরিণত কিডনি মেটানেফ্রস থেকে বিকশিত হয়।

পরিণত কিডনির অবস্থান থেকে ভ্রূণ গোনাডের অবস্থানের অনুমান ভুল। কারণ ভ্রূণ গোনাডের অবস্থান এবং কিডনির অবস্থান এক নয়, ঠিক যেমন পরিণত অবস্থায় তাদের অবস্থান এক নয়। ভ্রূণ গোনাড নামতে থাকে, যেখানে কিডনি সম্প্রসারিত হতে এবং উঠতে থাকে। মনে রাখতে হবে, উন্নয়নশীল ভ্রূণ গোনাড ভ্রূণ কিডনির কাছে ভেন্ট্রোমেডিয়াল, পরিণত কিডনির কাছে নয়।

যদি জাকির নায়েকের বোঝানো প্রাথমিক ও পরিণত শারীরিক অবস্থানের মধ্যকার সংযোগ গ্রহণযোগ্য হতো তবুও তার দাবি ভুল বলে বিবেচিত হবে। কারণ cryptorchidism অবস্থায় টেস্টিস undescended এবং undescended টেস্টিস সর্বোচ্চ কিডনির নিচে অবস্থান করে [2]।

মনে রাখতে হবে, কিডনির নিম্নতর মেরুর অবস্থান L3 (the third lumbar vertebra) এর কাছাকাছি। অতএব, ভ্রূণ টেস্টিসের অবস্থান অবশ্যই L3 এর নিচে হবে। ১২ তম পাঁজর আবার L2 এর নিচে পৌছায় না। যেহেতু টেস্টিস কিডনি সমূহের নিচে অবস্থান করে সেহেতু টেস্টিস ভ্রূণ অবস্থায় হোক আর পরিণত অবস্থায় হোক কোনোভাবেই মেরুদণ্ড ও পাঁজরের মধ্যে অবস্থান করতে পারে না।

তারপর উদরিক মহাধমনী থেকে স্নায়ু সরবরাহ, রক্ত সরবরাহ এবং লসিকা চক্র নিয়ে উপস্থাপিত ব্যাখ্যা নিয়ে কথা বলা যাক। জাকির নায়েক এখানে কুযুক্তি ব্যবহার করে কোরআনের আয়াত নির্ভুল প্রমাণ করার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছেন। আত-তারিক আয়াত ৬/৭ অনুযায়ী, মানুষ সৃজিত হয় ‘নির্গত পানি’ থেকে আর সেই ‘নির্গত পানি’ দ্বারা বীর্য ব্যতীত অন্যকিছু বোঝানো হয়নি। কেননা বীর্য নামক তরল পুরুষদেহ থেকে নির্গত হয় আবার, সরাসরি মানব প্রজননের জন্য দায়ী। মানুষ সৃজিত হওয়ার এই নির্গত পানিকে স্নায়ু সংকেত বা রক্ত কিংবা লসিকা বলে দাবি করা যায় না। কেননা রক্ত বা লসিকা এমন কোনো তরল নয় যা পুরুষদেহ থেকে নির্গত হয়ে নারীকে গর্ভবতী করে।

পুরুষদেহ থেকে বীর্য নির্গত হওয়ার কারণে নারী গর্ভবতী হয় আর বীর্য নির্গত হওয়ার মানে রক্ত কিংবা লসিকা নির্গত হওয়া নয়। আবার, মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে রক্ত ও লসিকা সরবরাহ হওয়ার অর্থ এ নয় যে, মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে বীর্য নির্গত হয়।

ধরা যাক, আপনি একটি পাত্রে দুধ চা বানালেন এবং সেজন্য আপনার দুধের কৌটা থেকে দুধ এবং চিনির বয়াম থেকে চিনি নেওয়ার প্রয়োজন পড়লো। এসব উপকরণ নিয়ে চা কিন্তু সেই চায়ের পাত্রেই তৈরি করলেন। চায়ের কাপে আপনি যখন চা ঢালবেন সেটা কিন্তু চায়ের পাত্র থেকেই ঢালবেন। তাহলে যদি প্রশ্ন করা হয়, চায়ের কাপে চা কোথা থেকে আসে বা নির্গত হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই বলতে হবে, চায়ের কাপে চা চায়ের পাত্র থেকে নির্গত হয়। চা তৈরিতে উপকরণ হিসেবে দুধ ও চিনি লাগে বলে আমরা বলতে পারি না যে, দুধ ও চিনির বয়াম থেকে চা নির্গত হয়, বললে সেটা খুব হাস্যকর হয়ে যাবে। সেজন্যই স্নায়ু সরবরাহ, রক্ত সরবরাহ ইত্যাদি কোন অবস্থান থেকে আসে, সেটা আসলে কিছুই প্রমাণ করে না। বীর্য কোন অবস্থান থেকে নির্গত হয় সেটাই এখানে আসল প্রশ্ন। চা তৈরির উপকরণ দুধ ও চিনির পাত্র যেমন চায়ের অবস্থান নয় তেমনি রক্ত ও লসিকা মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে সরবরাহ হলেই তা বীর্যের অবস্থান হয়ে যায়না।

ইবনে কাসীর আয়াত সমূহের তাফসীরে বলেছেন,

Referring to the creation of man from a drop of fluid gushing forth from between the backbone and the ribs, Allah emphasizes the inherent weakness of man… Allah says that man has been created from a mix of seminal fluid of man which gushes forth from the backbone and the yellowish fluid of woman that flows from her ribs [3]

আধুনিক বিজ্ঞানে পুরুষের মেরুদণ্ড থেকে বীর্য নির্গত হওয়া এবং নারীর পাঁজর থেকে যৌন নিঃসরণ নিঃসৃত হওয়া হাজার বছর আগের মানুষদের ভ্রান্ত ধারনা হিসেবে প্রমাণিত।

আরও নানারকম দাবি

seminal vesicles যা থেকে বীর্য ছুটে যায় তা পাঁজর এবং কক্সিক্সের (lower back, loin, backbone) মাঝখানে অবস্থান করে

একজন দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের anatomy অনুযায়ী, পাঁজর seminal vesicles এর উপরে অবস্থান করে যা কক্সিক্সের ডগার উপর অবস্থান করে। যেহেতু seminal vesicles এর শুধু শীর্ষস্থান কক্সিক্সের নিম্নদেশ থেকে পাঁজরের নিম্নদেশে পরে সেহেতু প্রকৃতপক্ষে সেটা মেরুদণ্ড ও বক্ষপাজরের মাঝখানে অবস্থান করে না [4]। তাছাড়াও এই যুক্তি প্রোস্টেট গ্রন্থি (বীর্যের ২৫-৩০% এর উৎস), টেস্টিস (২-৫%) এবং bulbourethral গ্রন্থি (১% নাগাদ) সম্পর্কে এড়িয়ে যায়।

আয়াত টি মেরুদণ্ড ও পাঁজরের মধ্যে থেকে বহির্গামী মানবশিশু কে নির্দেশ করেছে যা মায়ের মেরুদণ্ড ও পাঁজরের মধ্যে অবস্থান করে। সুতরাং এখানে মানবশিশু সম্পর্কে বলা হয়েছে, বীর্য সম্পর্কে নয়

যদি জোর করে ধরেও নেই আলোচ্য আয়াতে বীর্য নয়, মানবশিশু কে নির্দেশ করা হয়েছে তবুও আয়াত টি ভুল বলে বিবেচিত হবে। কেননা গর্ভকালে কোনোভাবেই তার মায়ের মেরুদণ্ড ও পাঁজরে মধ্যে অবস্থান করে না। সুতরাং ‘বাচ্চা তার মায়ের মেরুদণ্ড ও পাঁজরের মধ্যে থেকে আসে’ কথা টা গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে মায়ের গর্ভ থেকে একটি বাচ্চার নির্গমন সম্পর্কে বলতে হলে মেরুদণ্ড ও উদরের মধ্য থেকে কথা টি উল্লেখ্য করতে হবে। তাছাড়া সকল মূখ্য অনুবাদেই আয়াত ৭ (এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে) বাক্য টি অসম্পূর্ণ যা শুরু হয়েছে আয়াত ৬ (সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে) থেকে। সুতরাং এটি কোনোভাবেই বাচ্চা নির্দেশ করতে পারে না।

অঙ্কুর কোষ যা পরে শুক্রাণু তে পরিণত হয় তা মেরুদন্ডের কাছাকাছি গঠিত হয়

এই দাবি টি একেবারেই ভ্রান্ত দাবি। একটি spermatogonium থেকে একটি শুক্রাণু পুরো spermatogenesis প্রোসেস ঘটে অণ্ডকোষের বিভিন্ন অঞ্চলে [5]।

⭕ মানুষ কি মাটির তৈরি?

কোরআন থেকে আমরা জানতে পারি, আল্লাহ্‌ প্রথম মানব সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে এবং তার বংশধর সৃষ্টি করেছেন তুচ্ছ পানি থেকে। অর্থাৎ কোরআন মতে সব মানুষ নয় কেবল প্রথম মানুষ মাটি দ্বারা তৈরি এবং বাকি সবাই সেই প্রথম মানুষের বীর্য থেকে এসেছে।

সূরা আস-সাজদাহ আয়াত ৭

ٱلَّذِىٓ أَحْسَنَ كُلَّ شَىْءٍ خَلَقَهُۥ وَبَدَأَ خَلْقَ ٱلْإِنسَٰنِ مِن طِينٍ

আল্লাযী-আহছানা কুল্লা শাইয়িন খালাকাহূওয়া বাদাআ খালকাল ইনছা-নি মিন তীন।

যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।


সূরা আস-সাজদাহ আয়াত ৮

ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَهُۥ مِن سُلَٰلَةٍ مِّن مَّآءٍ مَّهِينٍ

ছু ম্মা জা‘আলা নাছলাহূমিন ছুলা-লাতিম মিম মাইম মাহীন।

অতঃপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে।

প্রথম মানুষ কি আসলেই কাদামাটি থেকে সৃজিত হয়েছে? এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হিসেবে এটাই উঠে আসে। বিভিন্ন ইসলামিক ওয়েবসাইট দাবি করে, কাদামাটি আর মানুষের গাঠনিক সাদৃশ্য রয়েছে এবং কোরআন এব্যাপারে নির্ভুল। The Chambers Dictionary of Science and Technology এর সংজ্ঞা অনুযায়ী কাদামাটি হলো,

a fine textured, sedimentary, or residual deposit. It consists of hydrated silicates of aluminum mixed with various impurities

বিজ্ঞানের কল্যাণে আমরা জানতে পেরেছি যে, কাদামাটির অপরিহার্য উপাদান সমূহ হলো সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন। অপরদিকে প্রাণের প্রতিপালনে সিলিকন এবং অ্যালুমিনিয়ামের ভূমিকা থাকলেও তা খুবই সীমিত [6]। মানবদেহের অন্যান্য উপাদান যেমন, নাইট্রোজেন, সোডিয়াম ইত্যাদি সামান্য পরিমাণেই কাদামাটিতে পাওয়া যায় যা দূষণকারী উপাদান হিসেবে বিবেচ্য। অর্থাৎ মানুষ এবং কাদামাটির কোনোরূপ গাঠনিক সাদৃশ্য নেই।

⭕ কোরআনের ভ্রূণতত্ত্ব

তারপর কোরআনের ভ্রূণতত্ত্বের দিকে যাই। আসুন নিরপেক্ষ ভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে দেখি কোরআনের ভ্রূণতত্ত্ব আসলেই বাস্তবতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কিনা নাকি কোরআনের ভ্রূণতত্ত্ব এক কথা বলে আর বাস্তবতা অন্যকিছুই ইংগিত করে। কোরআনের ভ্রূণ তত্ত্ব সম্পর্কিত আয়াত সমূহ থেকে আমরা জানতে পারি, মানুষ প্রথমে বীর্য অবস্থায় মাতৃগর্ভে অবস্থান করে, তারপর বীর্য জমাট রক্তপিন্ডে পরিণত হয়। তারপর সেই জমাট রক্তপিণ্ড আবার মাংসপিন্ডে পরিণত হয়। তারপর সেই মাংসপিন্ড আবার হাড়ে পরিণত হয় এবং মাংসপিন্ড হাড়ে পরিণত হলে সেই হাড় আবার মাংস দ্বারা আবৃত হয়। কোরআন অনুযায়ী মানুষ এভাবেই বীর্য থেকে মাতৃগর্ভে পরিণত হয়।

সূরা আল-মুমিনুন আয়াত ১৩

ثُمَّ جَعَلْنَٰهُ نُطْفَةً فِى قَرَارٍ مَّكِينٍ

ছু ম্মা জা‘আলনা-হু নুতফাতান ফী কারা-রিম মাকীন।

অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি।

সূরা আল-মুমিনুন আয়াত ১৪

ثُمَّ خَلَقْنَا ٱلنُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا ٱلْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا ٱلْمُضْغَةَ عِظَٰمًا فَكَسَوْنَا ٱلْعِظَٰمَ لَحْمًا ثُمَّ أَنشَأْنَٰهُ خَلْقًا ءَاخَرَ فَتَبَارَكَ ٱللَّهُ أَحْسَنُ ٱلْخَٰلِقِينَ

ছু ম্মা খালাকনান নুতফাতা ‘আলাকাতান ফাখালাকনাল ‘আলাকাতা মুদগাতান ফাখালাকনাল মুদগাতা ‘ইজা-মান ফাকাছাওনাল ‘ইজা-মা লাহমান ছু ম্মা আনশা’না-হু খালকান আ-খারা ফাতাবা-রাকাল্লা-হু আহছানুল খা-লিকীন।

এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়।

সূরা আল-হাজ্ব আয়াত ৫

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِن كُنتُمْ فِى رَيْبٍ مِّنَ ٱلْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَٰكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِن مُّضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِى ٱلْأَرْحَامِ مَا نَشَآءُ إِلَىٰٓ أَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوٓا۟ أَشُدَّكُمْ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَىٰٓ أَرْذَلِ ٱلْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنۢ بَعْدِ عِلْمٍ شَيْـًٔا وَتَرَى ٱلْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَآ أَنزَلْنَا عَلَيْهَا ٱلْمَآءَ ٱهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنۢبَتَتْ مِن كُلِّ زَوْجٍۭ بَهِيجٍ

ইয়াআইয়ুহান্না-ছুইন কুনতুম ফীরাইবিম মিনাল বা‘ছি ফাইন্না-খালাকনা-কুম মিন তুরা-বিন ছু ম্মা মিন নুতফাতিন ছুম্মা মিন ‘আলাকাতিন ছুম্মা মিম মু দগাতিম মুখালিলকাতিওঁ ওয়া গাইরি মুখাল্লাকাতিল লিনুবাইয়িনা লাকুম ওয়া নুকিররু ফিল আরহা-মি মা-নাশাউ ইলাআজালিম মুছাম্মান ছুম্মা নুখরিজুকুম তিফলান ছুম্মা লিতাবলুগূআশুদ্দাকুম ওয়া মিনকুম মাইঁ ইউতাওয়াফফা-ওয়া মিনকুম মাইঁ ইউরাদ্দুইলাআরযালিল ‘উমুরি লিকাইলাইয়া‘লামা মিম বা‘দি ‘ইলমিন শাইআওঁ ওয়া তারাল আরদা হা-মিদাতান ফাইযা আনঝালনা-‘আলাইহাল মাআহতাঝঝাত ওয়া রাবাত ওয়া আমবাতাত মিন কুল্লি ঝাওজিম বাহীজ।

হে লোকসকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও, তবে (ভেবে দেখ-) আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমি এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না। তুমি ভূমিকে পতিত দেখতে পাও, অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা সতেজ ও স্ফীত হয়ে যায় এবং সর্বপ্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করে।

সূরা আল-মুমিন আয়াত ৬৭

هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ يُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوٓا۟ أَشُدَّكُمْ ثُمَّ لِتَكُونُوا۟ شُيُوخًا وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ مِن قَبْلُ وَلِتَبْلُغُوٓا۟ أَجَلًا مُّسَمًّى وَلَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ

হুওয়াল্লাযীখালাকাকুম মিন তুরা-বিন ছুম্মা মিন নুতফাতিন ছুম্মা মিন‘আলাকাতিন ছুম্মা ইউখরিজুকুম তিফলান ছুম্মা লিতাবলুগূআশুদ্দাকুম ছু ম্মা লিতাকূনূশুয়ূখাও ওয়া মিনকুম মাইঁ ইউতাওয়াফফা-মিন কাবলুওয়া লিতাবলুগূআজালাম মুছাম্মাওঁ ওয়া লা‘আল্লাকুম তা‘কিলূন।

তিনি তো তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা, অতঃপর শুক্রবিন্দু দ্বারা, অতঃপর জমাট রক্ত দ্বারা, অতঃপর তোমাদেরকে বের করেন শিশুরূপে, অতঃপর তোমরা যৌবনে পদর্পণ কর, অতঃপর বার্ধক্যে উপনীত হও। তোমাদের কারও কারও এর পূর্বেই মৃত্যু ঘটে এবং তোমরা নির্ধারিত কালে পৌঁছ এবং তোমরা যাতে অনুধাবন কর।

যদিও আগে অনেকেই লিখেছে তবুও উল্লেখ্য করছি, কোরআনের ভ্রূণতত্ত্ব এবং প্রভাবশালী গ্রিক চিকিৎসক গ্যালেনের (129-199) ভ্রূণতত্ত্ব পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ। যার কাজ মোহাম্মদের সময়ে সিরিয়া ও মিশরে চর্চিত হতো [7]। যারা বলে এই ভ্রূণ তত্ত্ব মোহাম্মদ কোথায় পেলো তাদের এই তথ্য আগে মাথা নেওয়া উচিত।

And now the third period of gestation has come. After nature has made outlines of all the organs and the substance of the semen is used up, the time has come for nature to articulate the organs precisely and to bring all the parts to completion. Thus it caused flesh to grow on and around all the bones… Galen, On semen, p.101

নুতফা পর্যায়

কোরআনের ভ্রূণতত্ত্বের প্রথম ভুল হলো, কোরআনের ভ্রূণতত্ত্বে নারীর ডিম্বাণু সম্পর্কে একটা টুঁ শব্দও খুঁজে পাওয়ার অবকাশ নেই। অথচ নারীর ডিম্বাণু ছাড়া মাতৃগর্ভে সন্তানের উদ্ভব হওয়া একেবারেই বাস্তবতার বিপরীত। কোরআনের ভ্রূণতত্ত্ব আমাদের জানায়, মাতৃগর্ভে বীর্য জমাট রক্তে পরিণত হয়। যেখানে পুরুষের শুক্রাণু এবং নারীর ডিম্বাণুর মিলনে ভ্রূণ গঠন হবার কথা আসার কথা ছিলো। বাস্তবতা জানায়, একটি শুক্রাণু একটি ডিম্বকোষে প্রবেশ করে এবং একীভূত হয়ে ভ্রূণকোষ গঠন করে।

কোরআনের ভ্রূণতত্ত্বে নারীর ডিম্বাণুর উপস্থিতির ইংগিত প্রমাণ করতে বিভিন্ন ইসলামী পণ্ডিত দাবি করে থাকেন, আরবি শব্দ “নুতফা” (نطفة) দ্বারা শুধু পুরুষের বীর্য নয়, বরং পুরুষ ও নারীর যৌন তরলের মিশ্র বুঝানো হয়েছে। আসলেই কি আরবি শব্দ “নুতফা” দ্বারা নারী ও পুরুষের যৌন তরল মিশ্র বোঝানো হয়? তাহলে চলুন দেখি আরবি ডিকশনারি “নুতফা” শব্দের কি অর্থ বলে, কিভাবে সংজ্ঞায়িত করে। The Lisan al Arab dictionary of classical Arabic অনুযায়ী “নুতফা” হলো :

A little water; a little water remaining in a waterskin; a little water remaining in a bucket; pure water, a little or a lot; the water of the man; semen is called nutfah for its small amount [8]

সূরা আবাসা আয়াত ১৮-১৯ এ বলা হয়েছে, মানুষকে বীর্য থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সূরা আল মুরসালাত আয়াত ২০-২১ থেকে জানা যায়, মানুষকে তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে যা সংরক্ষিত আধার অর্থাৎ মাতৃগর্ভে রাখা হয়। সেইসাথে সূরা আল মমিনুন আয়াত ১৩ এ বলা হয়েছে, শুক্রবিন্দু একটি সংরক্ষিত আধার অর্থাৎ মাতৃগর্ভে স্থাপন করা হয়। এসব আয়াত পরিষ্কার ভাবেই প্রকাশ করে যে, “নুতফা” মানে পুরুষের বীর্য যা গর্ভাশয়ে স্থাপন করা হলে মানব ভ্রূণের জন্ম হয়।

সূরা আবাসা আয়াত ১৮

مِنْ أَىِّ شَىْءٍ خَلَقَهُۥ

মিন আইয়ি শাইয়িন খালাকাহ।

তিনি তাকে কি বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন?

সূরা আবাসা আয়াত ১৯

مِن نُّطْفَةٍ خَلَقَهُۥ فَقَدَّرَهُۥ

মিন নুতফাতিন খালাকাহূফাকাদ্দারাহ।

বীর্য থেকে তাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে সুপরিমিত করেছেন।

সূরা আল-মুরসালাত আয়াত ২০

أَلَمْ نَخْلُقكُّم مِّن مَّآءٍ مَّهِينٍ

আলাম নাখলুককুম মিম মাইম্মাহীন।

আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করিনি?

সূরা আল-মুরসালাত আয়াত ২১

فَجَعَلْنَٰهُ فِى قَرَارٍ مَّكِينٍ

ফাজা‘আলনা-হু ফী কারা-রিম মাকীন।

অতঃপর আমি তা রেখেছি এক সংরক্ষিত আধারে,

সূরা আল মুরসালাত আয়াত ২০-২১ এর মতো সূরা মুমিনুন আয়াত ১৩ সাদৃশ্যপূর্ণ ভাবে বলে, আমরা তাকে সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করি। আল মুরসালাত আয়াত ২০-২১ যেখানে “মাইম্মাহীন” শব্দ টি ব্যবহার করেছে সেখানে আল মুমিনুন আয়াত ১৩ এ “নুতফা” শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে এবং “মা-ইন” (مني) শব্দ টি বীর্যের কোমলতর পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ মুরসালাত আয়াত ২০-২১ এ “বীর্য” কে নিরাপদ আধারে স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে “মাইম্মাহীন” ব্যবহার করে এবং একই কথা বলা হয়েছে মুমিনুন আয়াত ১৩ এ “নুতফা” শব্দের ব্যবহার করে। সুতরাং “নুতফা” শব্দের অর্থ “বীর্য” বলে স্বীকার না করা নয় কে ছয় বানানোর এক অসৎ উদ্দেশ্য ছাড়া কিছুই না।

সূরা আল-মুমিনুন আয়াত ১৩

ثُمَّ جَعَلْنَٰهُ نُطْفَةً فِى قَرَارٍ مَّكِينٍ

ছু ম্মা জা‘আলনা-হু নুতফাতান ফী কারা-রিম মাকীন।

অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি।

ইসলামপন্থীদের দাবি, সূরা আল ইনসান আয়াত ২ এ ব্যবহৃত “নুতফাতিন আমশা-জিন” ( نُّطْفَةٍ أَمْشَاجٍ) শব্দদ্বয় কোরআনে স্ত্রী জননকোষ বা ডিম্বাণুর উপস্থিতি প্রমাণ করে। কেননা “আমশা-জিন” শব্দের অর্থ মিশ্র [9]। “আমশা-জিন” বা মিশ্র শব্দ টাকে ব্যবহার করেই যে কোরআনে নারীর ডিম্বাণুর উপস্থিতি প্রমাণ করা যাবে সেটা ইসলামপন্থীদের একটা ভুল ধারনা।

সূরা আল-ইনসান আয়াত ২

إِنَّا خَلَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ مِن نُّطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَّبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَٰهُ سَمِيعًۢا بَصِيرًا

ইন্না-খালাকানাল ইনছা-না মিন নুতফাতিন আমশা-জিন নাবতালীহি ফাজা‘আলনা-হু ছামী‘আম বাসীরা- ।

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, এভাবে যে, তাকে পরীক্ষা করব অতঃপর তাকে করে দিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।

“নুতফাতিন আমশা-জিন” সহজেই এরিস্টটল (384-322 bc) এবং প্রাচীন ভারতের ভ্রূণতত্ত্ববিদদের পুরুষের বীর্য ও নারীর মাসিক রক্ত মিলনের ধারনা প্রকাশ করতে পারে অথবা, হিপোক্রেটিস (circa 460-377 bc) এবং গ্যালেনের ( 129-199) এর The two semens hypothesis প্রকাশ করতে পারে। কোরআন যেমন নারীর ডিম্বাণুর কথা কোথাও বলে নি ঠিক তেমনি “নুতফাতিন আমশা-জিন” যে নারীর ডিম্বাণু ধারণ করে সেটাও প্রকাশ করেনি। “নুতফাতিন আমশা-জিন” যে নারীর ডিম্বাণু ধারণ করে সেই প্রমাণ হিসেবে ইসলামপন্থীরা কিছুই দেখাতে পারে না। তাদেরকে ব্যাপার টা মনে মনে ধরে নিতে হয় নিজেদের অন্ধবিশ্বাসকে সত্য প্রমাণ করতে।

কোরআনে সূরা বাকারা আয়াত ২২৩ বলে, স্ত্রীরা হলো তার স্বামীর জন্য শস্য ক্ষেত্র, স্বামী যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার করতে পারে। এ আয়াতে মূলত বোঝানো হয়েছে, স্বামী যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই তার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করতে পারে ( পায়ুপথ, মুখ ইত্যাদিতে সঙ্গম করা ব্যতীত)। তবে এটা কিছুতেই ফেলে দেওয়া যায় না যে, এখানে স্ত্রীকে তুলনা করা হয়েছে শস্য ক্ষেত্রের সাথে এবং সেই শস্য ক্ষেত্রে ফসল ফলাবে তার স্বামী। এটা বুঝতে পারা খুব কঠিন না যে, এ আয়াত অনুযায়ী ‘সন্তান’ শুধুমাত্র তার বাবার ফসল এবং ‘সন্তানের মা’ সেখানে সামান্য জমি মাত্র। সন্তানের বাবা যেভাবে খুশি নিজের বীজ বপন করতে পারে সন্তানের মায়ের গর্ভে। অর্থাৎ আলোচ্য আয়াত থেকে পরিষ্কার ভাবেই প্রকাশ পাচ্ছে, পুরুষ তার বীর্য নারীর গর্ভে রোপণ করে বীজ হিসেবে, যার ফলে নারীর গর্ভ থেকে মানবসন্তান জন্ম নেয় ফসল হিসেবে। সন্তান জন্মে যে তার মায়ের বীজও প্রয়োজন, সেটা তার জানা ছিল না যিনি কোরআনের বানী ঈশ্বরের নামে প্রচার করেছেন। কেননা কোরআন হাদিস বা অন্যান্য ইসলামিক সোর্সের কোথাও নারীর ডিম্বাণুর কথা বলা নেই, না আছে কোনোরূপ ইংগিত।

সূরা আল-বাকারা আয়াত ২২৩

نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُوا۟ حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ وَقَدِّمُوا۟ لِأَنفُسِكُمْ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّكُم مُّلَٰقُوهُ وَبَشِّرِ ٱلْمُؤْمِنِينَ

নিছাউকুম হারছুল্লাকুম ফা’তূহারছাকুম আন্না-শি’তুম ওয়া কাদ্দিমূ লিআনফুছিকুম ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়া‘লামূ আন্নাকুম মুলা-কূহু ওয়া বাশশিরিল মু’মিনীন।

তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্থা কর এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও।

আলাকাহ পর্যায়

নুতফা পর্যায়ের পর আসে ‘আলাকাহ’ পর্যায়। ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কিত আয়াত সমূহের অধিকাংশ তাফসীর থেকেও জানা যায় আরবি ‘আলাকাহ’ শব্দ দ্বারা ‘রক্ত’ বুঝানো হয়েছে। অনেক তাফসীরেই ‘রক্ত’, ‘জমাট রক্ত’ বা ‘জমাট বাধা রক্ত’ অর্থে বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সময়ের মুসলিমরা যারা বাস্তবতা সম্পর্কে জানে তারা আরবি ‘আলাকাহ’ শব্দের অর্থ অন্যান্য ডিকশনারির বিকল্প সংজ্ঞা ব্যবহার করে পুনরায় ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করে। সেসব বিকল্প সংজ্ঞা বেশ অনিশ্চিত এবং অগ্রহণযোগ্য। তাছাড়া, ব্যাপার টি খুব হাস্যকর হয়ে যাবে কোনো বায়োলজিক্যাল প্রোসেসে একটি শব্দের বিকল্প অর্থ টেনে নিয়ে আসা যার প্রধান সংজ্ঞা একটি স্পষ্ট বায়োলজিক্যাল অর্থ ধারণ করে। প্রকৃতপক্ষে, ‘আলাকাহ’ শব্দের প্রধান অর্থ হলো ‘জমাট বাধা রক্ত’ [10] এবং একটি ভ্রূণ কোনোভাবেই রক্ত বা জমাট রক্ত নয়। পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বাণুর মিলন জমাট রক্তের উদ্ভব ঘটায় না।

অনেকেই দাবি করে বসে যে, কোরআনে আরবি ‘আলাকাহ’ শব্দ দ্বারা সংলগ্ন জিনিস বোঝানো হয়েছে। তাদের এমন দাবিকে জোড়াতালির একটা উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। কেননা ভ্রূণ জরায়ুজ প্রাচীরে সংযুক্ত থাকার জন্য থেমে থাকে না যখন ‘musculoskeletal’ পদ্ধতি বিকশিত হতে শুরু করে পঞ্চম সপ্তাহের কাছাকাছি সময়ে।

একইভাবে দাবি করা হয়, আলোচ্য আয়াতে ‘নিলম্বিত জিনিস’ অর্থে আরবি ‘আলাকাহ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কেননা নব্য ভ্রূণ অ্যামনিয়টিক তরলে ভাসতে থাকে এবং সংযোজক নলিকা পথে জরায়ুজ প্রাচীরে সংযুক্ত থাকে যেখানে সেটা প্রোথিত হয়। সমস্যা টা হলো সকল ভ্রূণ তাদের সংযোজক নলিকার অধীনে নিম্নাভিমুখে ভাসতে থাকে না। বরং এটা নির্ভর করে জরায়ুর কোথায় অবরোপণ ঘটে। এ সময় জরায়ু পুরোপুরি অনুভূমিক অবস্থান করে। সুতরাং জরায়ুর যে অংশে অবরোপণ ঘটে তার ওপর নির্ভর করে নব্য ভ্রূণ নলিকার বাইরেও থাকতে পারে [11]।

placentas (গর্ভের ফুল) এর বিভিন্ন গবেষণা এবং আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যানসমূহ থেকে জানা যায়, ২৬% থেকে ৫৩% অবরোপণ জরায়ুর সামনের দিকের প্রাচীরে ঘটে [12]। অর্থাৎ ইসলামপন্থীদের মধ্যে যারা দাবি করে, নব্য ভ্রূণ অবস্থায় মানুষ ‘নিলম্বিত জিনিস’ অবস্থায় থাকে তাদের ভিন্ন পথ খুঁজতে হবে। কেননা একটা গুরুত্বপূর্ণ শতাংশের জন্য তাদের ব্যাখ্যা ভুল এবং সেটা কোনো সাধারণ নিয়মও নয়।

কোরআনের ভ্রূণতত্ত্বের এ পর্যায়কে নির্ভুল প্রমাণ করতে জোঁক রূপক ব্যবহার করতে ভালোবাসে অসংখ্য ধর্মান্ধ মুসলিম। তাদের আগে বুঝতে হবে যে, ভ্রূণ জোঁকের মতো দেহ থেকে রক্ত চুষে নেয় না, বরং মায়ের সাথে রক্ত এবং বর্জনীয় পদার্থ প্রবাহিত এবং আদানপ্রদান করে [13]। তাছাড়া জোঁক প্রাণী দেহের পৃষ্ঠতলের সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকে। যেখানে ব্লাস্টোসিস্ট পর্যায়ের ভ্রূণ জরায়ুজ প্রাচীরের ভিতর প্রবেশ করে, অর্থাৎ এ পর্যায়ে ভ্রূণকে বহিঃস্থ কোষের একটা স্তর পরিবেষ্টন করে রাখে, যাকে syncytiotrophoblast বলা হয়। syncytiotrophoblast ই endometrium কে আক্রমণ করে, পুরো ভ্রূণ প্রাচীরে নিবিষ্ট করে, একটি সঁচরণশীল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে এবং পরে placenta এর বহির্ভাগের স্তর গঠন করে। একটা জোঁকের আকার আকৃতি আচরণ, বর্ণ, উপস্থিতি এজাতীয় অনেক বৈশিষ্ট্য আছে। আল্লাহ্‌ কেন এমন রূপকশোভিত অর্থে ‘আলাকাহ’ শব্দ ব্যবহার করবেন যদি মানুষ কি উপমা স্থাপন করা হয়েছে সেটা জানতে প্রত্যাশিত হতে না পারে?

জমাট রক্ত ‘আলাকাহ’ শব্দের একটি অর্থ যা অনেক তাফসীর থেকেও পরিষ্কার ভাবে জানা যায়। কোনো বায়োলজিক্যাল প্রোসেস ব্যাখ্যা করতে কোনো নির্দিষ্ট বায়োলজিক্যাল অর্থের সাথে এমন শব্দের ব্যবহার খুব নির্বোধের মতো কাজ হবে যদি সেই অর্থ লক্ষ্য না হয়। এমনকি একই কারণে ‘জমাট রক্ত’ কে রূপক অর্থে ব্যবহার করাও নির্বুদ্ধিতা। একজন আদর্শ লেখক তার শব্দ নির্বাচনের মাধ্যমে ভুল বায়োলজির সংশয় যেন না জাগে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। আল নবীঘা النابغة الجعدي (died c.670 AD) মোহাম্মদের সমসাময়িক একজন কবি ছিলেন। আল্লাহ্‌কে নিয়ে তার একটি কবিতা এই অবিশ্বাসের ওপর আরও জোর দেয়।

الخـالق البـارئ المصـور في الأرحام ماء حتى يصير دما

The creator, the maker, the fashioner, in the wombs water until it becomes blood [14]

কবিতায় (মা-ইন) শব্দ টি বীর্যের পরিবর্তে কোমলতর পদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, ঠিক যেভাবে আমরা পানি কোরআন হাদিসে শব্দ টির ব্যবহার খুঁজে পাই। কবিতা টি হয়তো আমাদের সপ্তম শতাব্দীর আরবে গ্রিক চিকিৎসক গ্যালেনের ধারনার প্রভাব প্রকাশ করে, যার কাজ সেসময় আলেক্জান্দ্রি়া ও সিরিয়াতে চর্চিত হতো।

মাংস এবং হাড় গঠন

কোরআনের ভ্রূণতত্ত্ব অনুযায়ী, আল্লাহ্‌ প্রথমে মাংস দ্বারা হাড় তৈরি করেছেন, তারপর তিনি হাড় কে মাংস দ্বারা অাবৃত করেছেন। বিজ্ঞানের সাথে কোরআনের এ দাবি সংগতিপূর্ণ কিনা সেটা জানতে বিজ্ঞান হাড় এবং মাংসপেশির গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কি আবিষ্কার করেছে সেটা দেখা প্রয়োজন। হাড় ও মাংসপেশির গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিজ্ঞান কি বলে সেটার সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রথমে তুলে ধরছি এবং তারপর বিজ্ঞানের তথা বাস্তবতার সাথে কোরআনের বর্ণনা কেন মিলবে না ও কোরআন ভুল প্রমাণিত হবে সেটা তুলে ধরবো। নব্য ভ্রূণের তিন টি স্তরের মধ্য হলো মেসোডার্ম। কিছু মেসোডার্ম কোষ নার্ভীয় নলের (যে টিউব অবশেষে স্পাইনাল কর্ড এবং মস্তিষ্ক গঠন করবে) যেকোনো এক পাশে এক সারি ব্লক গঠন করে, যাকে somites বলা হয়। এসব somites আবার sclerotome এবং myotome এ পৃথক হবে যা তরুণাস্থি টেম্পলেট গঠন করে এবং পরবর্তীকালীন অক্ষীয় কঙ্কালের সংযোজক টিস্যুতে পরিণত হয়। myotome আলাদা হয়ে প্রচরণ করে কারণ sclerotome মেসেনকাইমে ঘনীভূত হতে থাকে, যা তরুণাস্থির জন্ম দিবে। প্রতি টা প্রক্রিয়া somites কে আংশিকভাবে নিম্নগামী করে cranio-caudal ক্রমে (মাথা থেকে লেজ)। অন্য স্থানের মেসোডার্ম (পার্শ্বিক প্লেট মেসোডার্ম) নির্দিষ্ট অবস্থানে অঙ্গ মুকুল গঠন করতে বিশেষভাবে প্রচুর সংখ্যায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সেখানে মেসেনকাইম কোষসমূহ অঙ্গ মুকুলের মধ্যে স্বতন্ত্র সাধারণে ঘনীভূত হয়। এসব মেসেনকাইম কোষ chondrocytes এ আলাদা হয়, যা তরুণাস্থি ম্যাট্রিক্স লুকিয়ে রাখে এবং তাতে অনুবিদ্ধ হয়। এভাবে পরিণত অবয়ব হাড়ের তরুণাস্থি মডেল ধীরে ধীরে গঠিত হয়। যখন তরুণাস্থি মডেল গঠিত হয় এবং তবুও তারা উঠন্ত থাকে, তরুণাস্থি মডেলের কেন্দ্র থেকে বহির্দিকে Osteoclasts (অশ্মীভবন) কার্য-পদ্ধতি কর্তৃক তরুণাস্থি আসল অস্থি দ্বারা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিস্থাপিত হয়। Mineralized তরুণাস্থির অবশিষ্টাংশ Osteoclasts দ্বারা অপসারিত হয়। অবয়ব সমূহে অশ্মীভবন শুরু হওয়ার পর উপর ও নিচের চোয়াল বাদে অক্ষীয় কঙ্কালেও অশ্মীভবন শুরু হয়, যা হাড়ে পরিণত করতে শুরু হয়। এদিকে, যতো তাড়াতাড়ি অবয়ব মুকুল আবির্ভূত হয় ততো তাড়াতাড়ি মাংস গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। Myoblast কোষ সমূহ অবয়ব মুকুল জনপূর্ণ করতে somites থেকে প্রচরণ। তারা স্বতন্ত্র সাধারণে একত্রিত হয়, পেশীতন্তু তে আলাদা এবং একীভূত হয়, কারণ ঘনীভূত মেসেনকাইম chondrify হতে শুরু করে এবং পরিণত হওয়ার আগে তরুণাস্থি মডেল হাড়ে পরিণত হতে শুরু করে।

সময়জ্ঞান

প্রজনন বিদ্যা বিশেষজ্ঞ রবার্ট জান গ্যালজার্ড এর A very detailed account of musculo-skeletal development in the human limb অনলাইনে পড়তে পারেন [15]। বই টি থেকে আমরা জানতে পারি, muscle precursor কোষ somites থেকে অঙ্গ মুকুলে প্রচরণ করে (ca. day 26), মেসেনকাইমের ঘনীভূত মূল উপর অঙ্গের উপর অংশে (ca. day 37) এবং একইভাবে নিম্ন অংশে (ca. day 41) তরুণাস্থি হাড় মডেলে chondrify হতে শুরু করার পূর্বে। এ পর্যায়ে myoblasts স্বতন্ত্র সাধারণে সুবিন্যস্ত হয় এবং পেশিতন্তু তে পৃথক হতে থাকে। তারপর উপরের অবয়ব হাড়ে পরিণত হতে শুরু করে (ca. day 54). মেসেনকাইমের Chondrification, myogenic সাধারণের শ্রেণীবন্ধন এবং অশ্মীভবন সবই proximal-distal অনুযায়ী (প্রতি অবয়বের উপর থেকে নিচ) ঘটে। হাতের আঙুল chondrify হতে শুরু করে ৫১তম দিনে।

প্রোফেসার পিটার ল নিশ্চিত করেছেন যে, ২৬তম দিনে myoblast কোষ অবয়ব মুকুলে পাওয়া যায় [16]। ৩৬তম দিনে Myoblast কোষ উপর অঙ্গে উদরিক ও পৃষ্ঠ্য সাধারণে একত্রিত হয় এবং chondrification শুরু হয় [17]। Walker এবং Miranda এর A detailed account কার্যকর ডায়াগ্রামের সাথে ব্যাখ্যা করে যে, ৩৫তম দিনে myoblasts এবং fibroblasts ধারণকারী অবয়বের প্রাক মাংসপেশি অঞ্চল স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং ৪৫তম দিনে myotubes (যা পেশী তন্তু গঠন করে) এ পরিণত হতে একীভূত হয়। ৫ম সপ্তাহে অক্ষীয় কংকাল বিকাশের সাথে সাথে myotomes প্রচরণ করে এবং sclerotomes মেসেনকাইমে ঘনীভূত হতে শুরু করে [18]।

Rugh অনুযায়ী, বিল্ডিং ব্লক সমূহ ৪০ জোড়া পেশীর জন্য বিদ্যমান, যারা ২৮তম দিনে মস্তকের নিম্নদেশ থেকে মেরুদন্ডগত স্তম্ভের নিম্নদেশে অবস্থান করে (এসব হলো somites এর myotomes) [19]। ৩১তম দিনে শ্রোণীচক্রে মাংসপেশি আবির্ভূত হয় [20]। ষষ্ঠ সপ্তাহে পেশীর নড়ন স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় [21]। গর্ভধারণের পর ৩৬তম দিনে সব পেশী ব্লক আবির্ভুত হয় [22]।

Developing Human এর দশম সংস্করণে (২০১৬) Keith Moore বলেন, অষ্টম সপ্তাহে লম্বা অস্থির অশ্মীভবন শুরু হয়, উপর অবয়বের সাথে শুরু হয়, যা নিম্ন অবয়ব ও শ্রোণীচক্র দ্বারা অনুসৃত হয় [23]।

এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, মাংসপেশির বহু পরিমাণ মেসেনকাইম ঘনীভবনের কাছাকাছি গঠন হতে শুরু করে ঠিক সেই সময়ে যখন তারা অবয়ব অস্থির তরুণাস্থি মডেলে chondrify হতে শুরু করে এবং তারা হাড়ে পরিণত হতে শুরু করার আগে। একইভাবে, axoskeleton এর জন্য পেশী এবং তরুণাস্থির গঠন প্রক্রিয়া একই সময়ে শুরু হয়।

কোরআনের বর্ণনার সমস্যা

প্রথমত, কোরআনে তরুণাস্থি সম্পর্কে নয়, শুধু অস্থি সম্পর্কে উল্লেখ্য করা হয়েছে, যা পেশির পর গঠন হতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, মাংসপেশি এবং অস্থি (অথবা তাদের প্রিকার্সর) সমকালীন ভাবে বিকশিত হতে থাকে। যদিও সমান্তরাল কার্যধারা তখন শুরু হয় যখন মাংসপেশি মেসেনকাইমের ঘনীভবনের কাছাকাছি বিকশিত হতে শুরু করে, যা শুরু হয় শুধুমাত্র তরুণাস্থিতে আলাদা হতে। অতএব, কোরআনের দাবি অনুযায়ী আগে অস্থি গঠন হওয়া এবং পরে তা মাংস দ্বারা আবৃত হওয়া বৈজ্ঞানিক ভাবে ভিত্তিহীন। সূরা মুমিনুন আয়াত ১৪ তে ‘কাছাওয়ানা’ শব্দের পূর্বে ব্যবহৃত শব্দাংশ ‘ফা’ যার অর্থ ‘এবং তারপর’ একটি নিরবচ্ছিন্ন পর্যায়ক্রম ইংগিত করে [24]। তারপরও যদি আমরা ধরে নেই, কোরআন অস্থি নয়, অস্থির precursor তরুণাস্থি মডেল নির্দেশ করেছে (যদিও অস্থির আরবি শব্দ ‘ইজাম যা কোরআনে স্থান পেয়েছে এবং তরুণাস্থির আরবি শব্দ ‘ঘুধরুফ’ [25] স্থান পায়নি) তারপরও কোরআনের ভ্রূণতত্ত্বের এ পর্যায় ভুল যার কারণ উপরে প্রদর্শিত। এমনকি আমরা যদি জোর করে ধরে নেই, কোরআন শুধু তরুণাস্থির গঠনের প্রারম্ভ (কোনো আকৃতি পরিপূর্ণ করার পূর্বে) এবং পেশীর গঠনের প্রারম্ভ বুঝিয়েছে, তাহলেও সেটা একই পর্যায়ে ঘটে (৪১তম দিনের কাছাকাছি)। আরও পূর্বে গেলেও, myoblasts এবং mesenchyme অবয়ব মুকুলে অস্তিত্বশীল যতো তাড়াতাড়ি সেটা উদ্ভূত হয়। স্বাভাবিক ভাবে সূরা মুমিনুন আয়াত ১৪ পড়লে আমরা জানতে পারি, সেখানে মাংস ‘অস্থি’ তে পরিণত হওয়ার কথা বলা হয়েছে আর এই ঘটনা অবশ্যই সেই ঘটনা নয় যখন ঘনীভূত মেসেনকাইম তরুণাস্থি উৎপাদন করতে শুরু করে। আলোচ্য আয়াত স্বাভাবিক ভাবে পড়লে আমরা আরও বুঝতে পারি, আল্লাহ্‌ অস্থি কে মাংস দ্বারা আবৃত করার পূর্বে সকল অস্থির গঠন পূর্ণতা পায়। এদিকে উপরের প্রামাণিক তথ্য থেকে আমরা জানতে পারি, আঙুল শুধুমাত্র chondrify করতে শুরু যখন অবয়বের উপরের অংশে পেশী গঠন ইতিমধ্যে চলছে।

সূরা মুমিনুন আয়াত ১৪ ইতিমধ্যে ইতিমধ্যে চেনা যায় এমন অস্থি এবং মাংস পরিহিত অস্থি নির্দেশ করে। সূরা বাকারা আয়াত ২৫৯ এ একটি গাধার (যা ১০০ বছর ধরে মৃত ছিলো) পুনরুত্থান ব্যাখ্যা করতে ‘অস্থি’, ‘পরিহিত’ এবং ‘মাংস’ এর জন্য যেসব আরবি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সূরা মুমিনুন আয়াত ১৪ এ সেই একই আরবি শব্দ সমূহ ব্যবহার করা হয়েছে। আবার, উপরে প্রদর্শিত সূরা হাজ্ব আয়াত ৫ ভ্রূণের ক্রমবিকাশের সাথে পুনরুত্থানের সাদৃশ্য নির্দেশ করে। পুনরুজ্জীবিত করা গাধার হাড়ে কোনোরকম মাংস ছিলো না বা তার হাড় অনাবৃত ছিলো। আল্লাহ্‌ মাংস দ্বারা সেই অনাবৃত হাড় কে আবৃত করেন। যা থেকে সহজেই অনুমেয় যে, ভ্রূণের ক্রমবিকাশ ব্যাখ্যা করতে যখন একই শব্দ সমূহ ব্যবহার করা হয়েছে, তখন কোরআন যার বানী তিনি কল্পনা করেছিলেন মাতৃগর্ভে আগে শিশুর কংকাল আসে এবং পরে সেটা মাংস দ্বারা আবৃত হয়ে যায়।

সূরা আল-বাকারা আয়াত ২৫৯

أَوْ كَٱلَّذِى مَرَّ عَلَىٰ قَرْيَةٍ وَهِىَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىٰ يُحْىِۦ هَٰذِهِ ٱللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا فَأَمَاتَهُ ٱللَّهُ مِا۟ئَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُۥ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ قَالَ بَل لَّبِثْتَ مِا۟ئَةَ عَامٍ فَٱنظُرْ إِلَىٰ طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهْ وَٱنظُرْ إِلَىٰ حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ ءَايَةً لِّلنَّاسِ وَٱنظُرْ إِلَى ٱلْعِظَامِ كَيْفَ نُنشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُۥ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

আও কাল্লাযী মাররা ‘আলা-কারইয়াতিওঁ ওয়াহিয়া খা-বিয়াতুন ‘আলা-‘উরুশিহা-কা-লা আন্না-ইউহয়ী হা-যিহিল্লা-হু বা‘দা মাওতিহা-ফাআমাতাহুল্লা-হু মিআতা ‘আমিন ছু ম্মা বা‘আছাহু কা-লা কাম লাবিছতা কা-লা লাবিছতুইয়াওমান আও বা‘দা ইয়াওমিন কা-লা ‘বাল্লাবিছতা মিআতা ‘আ-মিন ফানজু র ইলা-তা‘আ-মিকা ওয়াশারা-বিকা লাম ইয়াতাছান্নাহু ওয়ানজু র ইলা-হিমা-রিকা ওয়া লিনাজ‘আলাকা আয়াতাল লিন্না-ছি ওয়ানজু র ইলাল ‘ইজা-মি কাইফা নুনশিঝুহা- ছু ম্মা নাকছূহা-লাহমান ফালাম্মা-তাবাইয়ানা লাহু কালা আ‘লামুআন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইইন কাদীর।

তুমি কি সে লোককে দেখনি যে এমন এক জনপদ দিয়ে যাচ্ছিল যার বাড়ীঘরগুলো ভেঙ্গে ছাদের উপর পড়ে ছিল? বলল, কেমন করে আল্লাহ মরনের পর একে জীবিত করবেন? অতঃপর আল্লাহ তাকে মৃত অবস্থায় রাখলেন একশ বছর। তারপর তাকে উঠালেন। বললেন, কত কাল এভাবে ছিলে? বলল আমি ছিলাম, একদিন কংবা একদিনের কিছু কম সময়। বললেন, তা নয়; বরং তুমি তো একশ বছর ছিলে। এবার চেয়ে দেখ নিজের খাবার ও পানীয়ের দিকে-সেগুলো পচে যায় নি এবং দেখ নিজের গাধাটির দিকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানাতে চেয়েছি। আর হাড়গুলোর দিকে চেয়ে দেখ যে, আমি এগুলোকে কেমন করে জুড়ে দেই এবং সেগুলোর উপর মাংসের আবরণ পরিয়ে দেই। অতঃপর যখন তার উপর এ অবস্থা প্রকাশিত হল, তখন বলে উঠল-আমি জানি, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।

সুতরাং কোরআনের ভ্রূণতত্ত্ব কেন ভুল এবং বাস্তবতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয় আশাকরি। কেননা উপরের আলোচনা প্রমাণ করে কোরআনের ভ্রূণতত্ত্ব মোহাম্মাদের সময়ে প্রচলিত একটি ভ্রূণতত্ত্ব যা মোহাম্মাদ ব্যবহার করেছেন মাত্র এবং সেটা আধুনিক বিজ্ঞানে ভুল বলে বিবেচিত। শেষে একটা কথাই বলবো, ‘আল্লাহ্‌র কিতাবে ভুল থাকতে পারে না’ এমন চিন্তা অর্থহীন। বরং, কিতাব টি আসলেই আল্লাহ্‌র কিতাব কিনা সেই সিদ্ধান্তে আসতেই ভুল সঠিক বিচার করতে হবে।

1. Taihung Duong, Ph.D., “Urogenital system embryology”, Indiana University School of Medicine, accessed February 9, 2014
2. ‎genetics basics
3. ‎”A Quranic Journal: Surah at-Tariq ayah 7″, Al-Muhajabah, November 13, 2002
4. ‎For a visual reference, see this medical diagram. Taken from: “Reproductive Health Module (SECTION I: Reproductive Anatomy and Physiology)”, Columbia University: Mailman School of Public Health, accessed March 22, 2014
5. ‎Spermatogenesis
6. ‎ Fenchel, Tom 2003. The origin and Early Evolution of Life. Oxford University Press. Page 27.
7. Marshall Clagett, “Greek Science in Antiquity”, pp.180-181, New York: Abelard-Schuman, 1955; Dover, 2001
8. The Lisan al Arab dictionary of classical Arabic
9. ‎ أَمْشَاج Amshajan – [1] Volume 7 Page 2717
10. ‎ عَلَقَةً alaqah – Lane’s Lexicon Volume 5, page 2134
11. ‎ Fraternal twins in the womb — 4 weeks – BabyCenter Medical Advisory Board, June 1, 2013
12. ‎ Benirschke, K. & Kaufmann, B. 2000. Pathology of the Human Placenta. 4th Edition. Springer-Verlag, New York. Page 399 – 400
13. ‎Barry Mitchell & Ram Sharma 2009. Embryology: An Illustrated Colour Text. Second Edition. Churchill Livingstone ElSevier. Page 10-11
14. ‎ “الحمد لله لا شريك له”, PoetsGate (Arabic), February 15, 2007
15. ‎ Galjaard, R.J.H. Mapping Studies of Congenital Limb Anomalies. Ablasserdam: Haveka, B.V., 2003, page 16
16. ‎ Law, Peter et al., Pioneering Human Myoblast Genome Therapy as a Platform Technology of Regenerative Medicine. In: Stem Cell Therapy. Erik Greer (Editor). Nova Science Publishers, Inc. 2006. Page 3.
17. ‎ Sivakumar, B. et. al. Congenital Hand Differences in Farhadieh, R. et. al. (ed.) Plastic and Reconstructive Surgery: Approaches and Techniques, Chichester: Wiley, 2015, p.660
18. ‎ Walker, U. A., and Miranda, A. F. Muscle Metabolism in the Fetus and Neonate in Cowett, R. M. (ed.) Principles of Perinatal-Neonatal Metabolism, 2nd Edition, Volume 1, New York: Springer, 1998, pp.642-643
19. ‎ Conception to Birth Roberts Rugh, Ph.D., Landrum B. Shettles, Ph.D., M.D. Harper & Row, (New York), 1971, p.35
20. ‎ibid. p.43
21. ‎ibid. p.34
22. ‎ibid. p.46
23. ‎Keith L. Moore, Ph..D., FIAC, FRSM T.V.N. Persaud, M.D., Ph.D., D.Sc., FRCPath W.B., The Developing Human: Clinically Oriented Embryology, , 10th Edition, Philadelphia: Elseiver, 2016, p. p.349
24. ‎ فَ fa – Lane’s Lexicon Volume 6, page 2322
25. ‎ غضروف ghudhroof, alternatively spelt غرضوف ghurdoof – Lane’s Lexicon Volume 6, page 2248

ইসলাম এবং আমার অবিশ্বাস (পর্ব এক)

ইসলাম এবং আমার অবিশ্বাস (পর্ব দুই)
ইসলাম এবং আমার অবিশ্বাস (পর্ব তিন)
ইসলাম এবং আমার অবিশ্বাস (পর্ব চার)

 

Facebook Comments

Marufur Rahman Khan

Atheist, Feminist

4 thoughts on “ইসলাম এবং আমার অবিশ্বাস (পর্ব পাঁচ)

  • May 16, 2018 at 5:30 pm
    Permalink

    Fantastic, keep going. It was a great scholarly approach.

    Reply
    • May 17, 2018 at 6:41 am
      Permalink

      Thanks brother.

      Reply
  • June 9, 2018 at 11:38 am
    Permalink

    Thanks.

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: