বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে আর রোজা থাকি নি

মুমিন – আপনারা নাস্তিকরা যে রোজা না রেখে নিজেদের খুব বুদ্ধিমান মনে করেন, আপনারা কি জানেন রোজা রাখা কতো উপকারী? বুদ্ধিমান হলে অবশ্যই সেটা জানতেন।

আমি – তাই? দারুণ তো। যাইহোক, আমি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ না। রোজা উপকারী না অপকারী এসব হিসেব করে রোজা না রাখার সিদ্ধান্ত নেই নি। রোজা রাখার নিয়ম পড়লেই বুঝা যায়, রোজা রাখা কেন অর্থহীন।

– হা হা আল্লাহ্‌র নির্ধারিত নিয়ম আপনাদের পছন্দ হবে কেন, আপনারা তো শয়তানের নিয়মে চলতে চান!

– সমস্যা তো এখানেই, আপনারা কোরআনে রোজা রাখার যে নিয়ম টা পেয়েছেন সেটা বিনা প্রশ্নে বিনা সন্দেহে মেনে নিয়েছেন আল্লাহ্‌র পাঠানো নিয়ম বলে। আর আমরা সেই নিয়ম আসলেই কোনো ঈশ্বরের পাঠানো নিয়ম হতে পারে কিনা সেটা যাচাই করে দেখেছি।

– ‎আচ্ছা, তো কোরআনে বর্ণিত রোজা রাখার নিয়ম কি দোষ করলো বলেন!

– কোরআনে বর্ণিত রোজা রাখার নিয়ম অনুসরণ করে পৃথিবীর সব স্থানের মানুষের রোজা রাখা সম্ভব নয়। কোরআনে বর্ণিত রোজা রাখার নিয়ম পড়লে সহজেই বুঝা যায় যে, মোহাম্মদ জানতেন না পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দিন রাতের দৈর্ঘ্য সমান নয় এবং কিছু এলাকার মানুষের জন্য রোজা রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে একটানা ছয়মাস দিন এবং একটানা ছয়মাস রাত থাকে। যতোই মেরু অঞ্চলের দিকে যাওয়া যায়, দিন-রাত কয়েক মাস পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে। আর (কোরআন ২:১৮৭) অনুযায়ী এসব এলাকায় একজন মানুষ কোনোভাবেই রোজা রাখতে পারবে না। কেননা (কোরআন ২:১৮৭) অনুযায়ী আপনি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আপনি পানাহার করতে পারবেন না, স্ত্রীদের সাথে সহবাস করতে পারবেন না। যেহেতু রোজা থাকতে হলে দিনের শুরু থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত না খেয়ে কাটাতে হয় সেহেতু, উত্তর মেরুতে রোজা রাখতে হলে আপনাকে ছয়মাস না খেয়ে কাটাতে হবে। অর্থাৎ উত্তর মেরুতে আপনি কোনোভাবেই রোজা রাখতে পারবেন না, জীবন বাঁচাতে হলে রোজা ভাঙতে হবে।

– ঐসব এলাকায় মানুষ থাকে নাকি! যেসব এলাকায় মানুষ থাকে না, সেসব এলাকায় সারাবছর দিন আর সারা বছর রাত থাকলেই বা কি সমস্যা?

– সমস্যা হলো ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী কোরআনের বিধান পৃথিবীর সকল ভূখন্ডের জন্য প্রযোজ্য এবং সর্বসময়ের জন্য। আর ‘কোরআনের বিধান পৃথিবীর সকল ভূখন্ডের জন্য প্রযোজ্য’ কথা টার মানে সেটা উত্তর মেরু এবং তার আশেপাশের এলাকার জন্যও প্রযোজ্য। উত্তর মেরুতে আজকে যদি মানুষ বাস না করে তারমানে এটা নয় যে কখনোই সেখানে কেউ থাকবে না। যখন সেখানে কেউ থাকবে তখন সে কোন নিয়ম অনুসরণ করে রোজা রাখবে? ধরা যাক, রমজান মাস চলাকালীন সময়ে আপনি যেকোনো কারণে উত্তর মেরু যেয়ে থাকতে লাগলেন এবং একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ হিসেবে আপনার ওপর রোজা রাখা ফরজ, তারপর আপনি কিভাবে ও কোন নিয়ম অনুসরণ করে রোজা রাখবেন?

– আরে! যেখানে দিন রাত ছয়মাস করে থাকে সেখানে কাবা শরীফের দেশের সময়সূচী অনুসরণ করলেই আল্লাহ্‌ রোজা কবুল করবেন।

– যেভাবেই হোক একটা সমাধান দিতে হবে, এমন মানসিকতা নিয়েই কি আপনারা সমাধান খুঁজেন নাকি গ্রহণযোগ্যতাও বিবেচনায় আনেন? কোরআন হাদিসের কোথাও লেখা নেই, যে এলাকায় সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করে রোজা রাখা সম্ভব নয় সেই এলাকায় রোজা রাখতে হলে কাবা শরীফের দেশের সময়সূচী অনুসরণ করতে হবে। এক ভূখন্ডে থেকে অন্য ভূখন্ডের সময়সূচী অনুসরণ করা যাবে এমন কোনো সমাধান কোরআন হাদিসে নেই। এমনকি একইসময়ে পৃথিবীর কোথাও দিন আবার, কোথাও রাত হয় এরকম কোনো ইংগিতও কোরআনে নেই। তাছাড়া আমরা আধুনিক যুগের মানুষ একদেশে বাস করে অন্যদেশের সময় সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে পারি। সপ্তম শতাব্দীর একজন মানুষের জন্য এক ভূখন্ডে থেকে অন্য ভূখন্ডের সময়সূচী অনুসরণ করা সম্ভব ছিল না। এমনকি তারা জানতো না একইসময়ে পৃথিবীর কোথাও দিন আবার কোথাও রাত হয়। ইসলাম অবশ্যই এমন কোনো সমাধান গ্রহণ করবে না যা সপ্তম শতাব্দীর মানুষের জন্য অনুসরণ করা সম্ভব ছিলো না, তবে তা আধুনিক যুগের মানুষের জন্য সম্ভব। ইসলামে অবশ্যই এমন কোনো সমাধান থাকতে হবে যা সর্বযুগের মানুষের জন্য বোধগম্য এবং অনুসরণ করা সম্ভব। কেননা ইসলাম অনুযায়ী ইসলাম সর্বযুগের জন্য প্রযোজ্য জীবন বিধান।

– মরার পর আপনাদের চোখ খুলবে, কিন্তু তখন হাতে আর সময় থাকবে না।

– মরার পর আমার অস্তিত্ব থাকবে সেটা ধরে নিয়ে একটা ভুলে পরিপূর্ণ গ্রন্থকে শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ বলে বিশ্বাস করবো, এরকম গর্দভ আসলে নাস্তিকরা হয় না। যদি হতো তাহলে তারা আপনার মতো ধর্মান্ধই হতো।

যাইহোক, এবার সামারেও আইসল্যান্ডের একজন মুসলিমকে ২২ ঘণ্টা রোজা রাখতে হবে। অন্যদিকে চিলিতে একজন মুসলিমকে মাত্র ৯ ঘণ্টা রোজা রাখতে হবে। অর্থাৎ চিলিতে একজন মুসলিমকে যতো সময় ধরে বিনা আহারে কাটাতে হবে, আইসল্যান্ডে একজন মুসলিমকে তার ডাবলেরও বেশি সময় ধরে বিনা আহারে কাটাতে হবে। এভাবেও বলতে পারি, আইসল্যান্ডে অবস্থান করে ৩০ টা রোজা রাখা চিলিতে অবস্থান করে ৬০ টারও কিছু বেশি রোজা রাখার সমান। আপনি কি তাহলে এমনি এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন যিনি মানুষের ওপর এমন ভয়াবহ বৈষম্য চাপিয়ে দিয়েছেন? অথবা, আপনি কি আসলেই মনে করেন, কোনো ঈশ্বর এতো টা নির্বোধ হতে পারে?

– যেসব এলাকায় রোজার দৈর্ঘ্য বড় সেসব এলাকার রোজাদারদের আল্লাহ্‌ নিশ্চয় বেশি সোয়াব দিবেন! আল্লাহ্‌ সবসময় সুবিচার করেন।

– ইসলামের প্রধান দলিল কোরআন হাদিসের কোথাও বলা নাই যে, যেসব এলাকায় রোজার দৈর্ঘ্য বড় হবে সেসব এলাকায় রোজা রাখলে রোজাদার বেশি সোয়াব পাবে এবং যেসব এলাকায় রোজার দৈর্ঘ্য ছোট হবে সেখানে রোজা রাখলে রোজাদার তুলনামূলক কম সোয়াব পাবে। এটা দূরের কথা, পৃথিবীর কোথাও রোজার দৈর্ঘ্য বড় হবে, কোথাও ছোট হবে এমন ইংগিতও পাওয়া যায় না। তাহলে মানে কি দাঁড়ালো? মানে দাঁড়ালো, আপনি যা বললেন তা নিজের বিশ্বাসকে বাঁচাতে নিজেকেই একটা বুঝ দিলেন! এবার নিজেই বিবেচনা করে দেখুন তা গ্রহণযোগ্য কিনা!

– আল্লাহ্‌ আপনাকে হেদায়েত দিক!

– আমিন!

Facebook Comments

Marufur Rahman Khan

Atheist, Feminist

4 thoughts on “বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে আর রোজা থাকি নি

  • May 25, 2018 at 5:31 pm
    Permalink

    সেহেরী খেয়ে বিমানে করে জাপান গিয়ে 6 ঘন্টা আগেই ইফতার করা জায়েজ কিনা?

    Reply
  • May 25, 2018 at 8:00 pm
    Permalink

    Very true fact
    For some medical conditions Roza is not practical!

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: