আমরা সবাই নাস্তিক

পৃথিবীতে সত্য চার ধরনের, প্রথমত যা আমার কাছে সত্য, দ্বিতীয়ত যা আপনার কাছে সত্য, তৃতীয় যা সার্বজনীন গৃহিত সত্য আর সবশেষে হল প্রকৃত সত্য যা মুলত তেতো হয়ে থাকে। যেমন ধরা যাক, আমি ক্রিস্টান আর আপনি মুসলমান, সেক্ষেত্রে আমার কাছে আমার ক্রিশ্চিয়ানত্ত্ব সত্য। তদরুপ আপনি মুসলমান বলে আপনার কাছে মুমিনতত্ত্ব অবশ্যই সত্য। এবার আসা যাক সার্বজনীন সত্যে, সেক্ষেত্রে ঈশ্বরীয় ধারনার কথা না বললেই নয় যা সবার ধারাই গৃহীত সত্য। সাদা হওক অথবা কালো হওক, আকার অথবা সকার, একজন অথবা বহুজন, ঈশ্বরীয় ধারনা সার্বজনীন স্বীকৃত সত্য (যদিও ভিন্ন ভিন্ন ধারনার সব সত্য হওয়াটা অসম্ভব)।  সর্বশেষে হল অপ্রিয় তেতো সত্য যা প্রকৃত অর্থে সত্য, যা হল নিরীশ্বরবাদী বা নাস্তিকতা। যা কোন বিশ্বাস নয় বরং চলমান অপার্থিব বিশ্বাসকে  বাস্তবিক ব্যাখ্যার মাধ্যমনে বর্জন। যুক্তিগত দিক দিয়ে আমরা সবাই এই তেতো সত্যের দলে। যদি আস্তিকতাকে বর্জনই নাস্তিকতা হয়ে থাকে তাহলে আমরা সবাই নাস্তিক, কারন আমরা কোন না কোনভাবে ঈশ্বরত্যাগী। আপনি যেমন অন্যজনের ঈশ্বর ত্যাগ করেছেন তেমনি অন্যজনও আপনার ঈশ্বর ত্যাগ করেছে। আগে জানা প্রয়োজন নাস্তিকতা কি, শব্দের অর্থ ও পরিপুর্ণতা। নাস্তিকতা কোন বিশ্বাস নয়, বরং প্রচলিত অপার্থিব বিশ্বাসের স্রোতের বিপরীত। আস্তিকরা যেমন কল্পিত সত্ত্বা কল্পিত ভাবে বর্ণনা করে পক্ষান্তরে নাস্তিকরা বাস্তবমুখী গঠনমূলকভাবে বিবৃতির মাধ্যমে কল্পিত সত্ত্বা বর্জন করে। মোটকথা, আস্তিকতা বর্জনই হল নাস্তিকতা। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৫ থেকে ২০ ভাগ স্বঘোষিত নাস্তিক বা সরাসরিভাবে নাস্তিক, যারা ঈশ্বরের ইতি টেনেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাকি সবাই কি আস্তিক, নাকি সংশয়বাদী?  হাজারো ধর্মের মধ্যে একটাই মিল পাওয়া যায়, সেটা হল অপার্থিব আর গাঁজাখুরি ভাবে আমরা এবং দৃশ্যমান সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে যার একটা উদ্দ্যেশ্যও রয়েছে এবং যার কতগুলো ধাপ রয়েছে। এছাড়া আভ্যন্তরীণ কাঠামো ও বিশ্বাসীয় যত ধারনা রয়েছে সবগুলোতেই রয়েছে ভিন্নমত। একদল নিরাকার নিয়ে আবার অন্যদল নিজের হাতেই আকার দিচ্ছে, একদল একজনকে দাবী করছে তো অন্যদল পরিবার সমেত দার করাচ্ছে, মোটকথা সৃষ্টিকর্তা নিয়ে ভিন্নমুখী অধিক মতামত। হাস্যকর হচ্ছে, সবাই নিজেকেই স্বীকৃতি দিচ্ছে, কেউ কারো সৃষ্টিকর্তাকে সত্য বলে মানছে না। নিজেদের প্রচলিত ধারনা আর বিশ্বাসকেই তারা সর্বসত্য মানছে। একজন হিন্দুর কাছে তাদের দেবতাই সত্য অপরদিকে বাকি সবাই মিথ্যা, আবার একজন মুসলিমের কাছে আল্লাহ সত্য বাকি সবাই অধম, কীট। তদরুপ একজন ক্রিশ্চিয়ান এর কাছে তার ঈশ্বর সত্য, বাকি সবাই পথভ্রষ্ট। এক দিক লক্ষ্যণীয়, সবাই নিজেদের বাদে সবাইকে মিথ্যা বলছে, তার মানে হল মিথ্যার আর সন্দেহের ভেরাজালে সকল ধর্মই প্রতিকী হয়েছে, কেউ বা কারোর বিশ্বাসের ধারনার সন্দেহের বাইরে নয়।
ভিন্ন মতের সবটা বাতিল হতে পারলেও, সবটা গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা, তাদের মধ্য থেকে কেবল একটা মত গৃহীত হতে পারে নতোবা কোনটিই নয়।” (ময়নুল)
সবাই যেখানে নিজেদের দিকে আঙুল না তুলে অন্যের দিকে তুলছে, সেখানে মত গ্রহন কখনোই নিরপেক্ষ আশা করা যায় না। সন্দেহের তীর যেখানে কাউকে ছেড়ে দিচ্ছে না সেখানে সন্দেহের বাতাসই বইতে থাকবে, যে পর্যন্ত না নিরপেক্ষ অবস্থান আসে। অর্থাৎ যুক্তিক অর্থে সবগুলো মতামতই বাতিল করাই হবে নিরপেক্ষতা।  আবার যেহেতু সন্দেহের বাইরে কেউই নয়, সুতরাং সবাই দ্বিধান্বিত অবস্থায়। আমার কাছে আপনি, আপনার কাছে আমি, তার কাছে আমি আপনি এরকম করে সবাই একটা সংশয়ী অবস্থানে বিরাজ করছে অথচ এ ব্যাপারে সংশয়ী অজ্ঞ। আমি নাস্তিক, এজন্য  সকল ভেড়াজাল আর চক্রের বাইরে আছি বলেই নিরপেক্ষরেখা করতে সক্ষম হচ্ছি। সংশয়ী চক্রে থেকে কখনোই এ রেখা অংকন করা সম্ভব হবে না। বাংলার প্রবাদ রয়েছে, “দুষ্ট গরুর ছেয়ে শুন্য গোয়াল ভাল”। যেখানে সবাই সংশয়বাদী, সেখানে সংসয়বাদের ইতি টানাই শ্রেয়। প্রাকৃতিক নিয়মের মধ্যে কোন অপার্থিব বিশ্বাসী সত্তাকে টেনে হিছরে নিয়ে আসা আর রসাল দধির মধ্যে কীড়া পোকা ঢেলে দেওয়া একই। বিশ্বাস সর্বদাই সম্ভাবনা, যার কোন ভিত্তি নেই। অংকে আসা যাক, যদি Y=2 হয় তাহলে প্রমান কর যে, X+y=1। ধরা যাক এখানে X হল অপার্থিব সত্তা বা ঈশ্বর যার মান দেওয়া নেই। যিনি সর্বদাই অন্ধ বিশ্বাসের প্রতীক। একে সংশয়বাদীও বলা যেতে পারে, কারন এর মান কত হবে তা প্রমানের আগে ধারনাই থেকে যায়। অপরদিকে Y  হল নাস্তিকতা বা অবিশ্বাসী কারন এর মান দেওয়া আছে এবং বাস্তবিক বিজ্ঞান সম্মত যার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। যেখানে আমাকে প্রমান করতে হবে X+Y এর মান 1 এর সমান সেখানে Y এর মান বের করতে যাওয়াটা বোকামি। X এর মান সন্দেহে রেখেই(1-Y) বামপক্ষ আর ডানপক্ষ প্রমান করা যায়। সুতরাং সন্দেহের প্রমানে না গিয়ে সোজাসুজিভাবে বাস্তিবিক বিজ্ঞানস্মত  উপায় গ্রহন করাই যোগপযোগী। কোন তথ্য প্রমানের আগেই গ্রহন করা কতটুকু কার্যকর তা হয়ত বলতে হবে না। একটি পদ কাকে দেওয়া হবে এ বিষয়ে যে পর্যন্ত সিদ্ধন্তে আসা যাবে না, সে পর্যন্ত যায়গা কি শুন্য থাকবে না পদে যে কাউকেই বসানো হবে। হ্যা, পদশুন্যই থাকবে। সেক্ষেত্রে সন্দেহের তীরে সকল সংশয়বাদী ধার্মিকরা কি নিজেদের সংশয় বজায় রাখবে নাকি পদশুন্য রাখবে। এজন্য এটা বলা বাহুল্য, যে নাস্তিক আমি একা নয়। পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষই নাস্তিক। হয়ত যুক্তিক দিক দিয়ে আজ প্রমান করতে হচ্ছে, কিন্তু ক্রমে ক্রমে অজ্ঞতার অবসানের মধ্য দিয়ে সবাই নিজেদের নাস্তিকবাদের মুখোশ উন্মোচন করবে। আমরা সবাই নাস্তিক পার্থক্য শুধু এইটুকুই, “আপনি আপনার নাস্তিকতা জানেন না”।

Facebook Comments

ক খ গ বৃত্তবন্দী

"মুর্খরা প্রার্থনায় আর জ্ঞানীরা কাজে বিশ্বাসী।" (ময়নুল)

One thought on “আমরা সবাই নাস্তিক

  • June 14, 2018 at 10:39 pm
    Permalink

    বেশীর ভাগ চরম সত্য জানা আমাদের কারো পক্ষেই সন্ভব না।

    ==================

    “ যুক্তিবিদ্যা (reasoning) হচ্ছে বর্তমান জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রধান মাধ্যম। যুক্তিবাদের কষ্টি পাথরে যাচাই করা ব্যতিরেক কোন কিছুকে মেনে নেওয়াকে মূর্খতা, পশ্চাদপদতা হিসাবে ধরা হয় যেখানে আবেগের কোন স্হান থাকতে পারবেনা। মোদ্দা কথা আবেগ, ভালবাসা, বিশ্বাস বর্জন করে বুদ্ধি নির্ভর হতে হবে।
    ………..

    যুক্তিবাদ (লাতিন ভাষা ratio তথা ” কারণ ” বিশ্লেষন ) একটি দার্শনিক গতির অনুমানের উপর ভিত্তি করে যা, মানবিক যুক্তির সমস্ত জ্ঞানের মূলনীতির উৎ‍স। জ্ঞানতত্ত্বে এবং আধুনিক অর্থে যুক্তিবাদকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়ঃ

    ১/ একটি দৃষ্টিভঙ্গী যা যুক্তিকে জ্ঞানের উৎস ও সত্য প্রতিপাদনের একমাত্র মাধ্যম মনে করে।

    ২/একটি তত্ত্ব যেখানে সত্যের মানদন্ড ঐন্দ্রিক নয়, বরং বৌদ্ধিক( Intellectual) এবং অবরোহী (Deductive)। “
    =============

    এখন চলেন জানা যাক এই আধুনিক মুক্ত চিন্তা কতো টা মুক্ত তা ছোটাকারে বিশ্লেষন করার চেষ্টা করি।

    বিজ্ঞান ও মুক্তচিন্তা।

    আইন্সাটাইনের Special theory of relativity যা অদ্যাবধি একমাত্র সুপ্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার যার মাধ্যমে বলা হয় আলো হচ্ছে সর্বচ্চো গতিসন্পন্ন particle। আলোর এই গতির ঊপর নির্ভর করেই অপরাপর অন্যান্য বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্ভরশীল।

    Light cone কি? একটি নির্দিষ্ট জায়গা হতে একটি নির্দিষ্ট সময় বিচ্ছিরত আলো যে সকল দিকে প্রজ্বলিত হবে তার সমষ্টি হচ্ছে লাইট কোন। খেয়াল করেন কয়েকটি শব্দে, “ যে সকল দিকে” অর্থ যে সকল স্হানে । তারমানে স্হান অর্থ জায়গ বা space। অর্থাৎ Light cone সৃষ্টি মানেই জায়গার সৃষ্টি। light একলা সৃষ্টি সন্ভব না তদরুপ স্হান বা space ও একেলা সৃষ্টি সন্ভব না। Light সৃষ্টি মানেই সময় সৃষ্টি আর সময়ের সাথে যুগপৎ ভাবে space বা স্হান সৃষ্টি। এজন্য বলা হয় space time.

    আজপর্যন্ত বিজ্ঞানীগন প্রায় সকলেই স্বিকার করছেন বিগব্যাং থেকে হঠাৎ বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথে স্হান ও সময়ের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্ব ক্রমাগত সম্প্রসারিত হয়ে চলেছে যে ভাবে একটা বেলুন সম্প্রসারিত হতে থাকে।

    সময় গননার মাধ্যম light. মানুষের এই মূহুর্তে light এর উপর নির্ভর করা ব্যাতিত আর কোন উপায় নাই তাই বর্তমান অতি বুদ্ধিমান আধুনিক মানুষ কিছুতেই বলতে পারছেনা মহা বিস্ফোরণ বা BigBang এর আগের অবস্থা কি ছিল। কারন light, space সহ মানুষের দুনিয়ার জ্ঞানই সৃষ্টি হচ্ছে Bigbang এর পর থেকে। Physics, chemistry, biology সহ যত কিছু আছে সব ঐ মহা বিস্ফোরেনের পরে সৃষ্টি ।

    এবার চলেন মুক্তমনা, যুক্তি বিদ্যার ব্যবচ্ছেদ করা যাক। আধুনিক বিজ্ঞান মনস্ক বাবুরা আপনারা বলছেন Big Bang এর পূর্বের অবস্হান ছিল singularity তথা শূন্য। কিন্তু যুক্তিবিদ্যায় শুন্য থেকে শুন্য হয়। From nothing থেকে something তো হয় না। আপনাদের জ্ঞানবিদ্যায় কারন ছারা কোন ঘটনা ঘটে না যাকে বলা হয় Cause effect।

    Laplace বলে এক বিজ্ঞানী ভেবে ছিলেন এমন কিছু বৈজ্ঞানিক পদধ্থি হয়ত অবশ্যই বার করা যাবে যাতে ভূত ও ভবিস্হত যানা যাবে।

    এখানে দারুন একটা জিনিষ লক্ষ্যণীয়। এই Pierre-Simon, marquis de Laplace একজন French scholar যিনি mathematics, statistics, physics এবং একজন astronomy বিজ্ঞানী। উনি কি করেছেন। উনি বিশ্বাস করেছেন যে ভূত, ভবিষৎ হয়ত পূর্বেই বলে দেওয়া যাবে।

    কিন্তু আমরা জানি বিজ্ঞান মনস্কগনের কাছে যৌক্তিক Fact ব্যতিত বিশ্বাস বলে কিছু নাই। কিন্তু বোঝা গেল ওনাদের বিশ্বাসের ওপর মাঝে মাঝে নির্ভর করতে হয়।

    কিন্তু German physicist Werner Heisenberg এর সন্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন মানুষ কোনদিনই এটা করতে পারবে না।

    কারন ভবিষ্যতের একটা নির্দিষ্ট অবস্হান জানতে হলে প্রথমেই বর্তমানে বিশ্বে তার accurate অবস্হান জানতে হবে । কিন্তু plank constant এ তা কোনদিনই সন্ভব না। আমাদের বা অন্য কোন কিছুর accurate অবস্হান আমাদের দ্বারা জানা সন্ভব নয়। ছোট করে বলি বর্তমান geometric setting এ কোন স্হানকে locate করতে তিনটি স্হানাঙ্ক বা coordinate দিয়ে করা হয়।

    আমরা সূর্যের বর্তমান অবস্হা দেখতে পারবো আট মিনিট পরে কারন সূর্য থেকে আলো আসতে লাগে প্রায় আট মিনিট তাই সূ্র্যের বর্তমান অবস্হা আমরা কোন দিনই দেখতে পাবো না। সেক্ষেত্রে কিভাবে আমাদের ঐন্দ্রিয়িক সীমাবদ্ধতা দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে নিতে পারবো? এমনকি আমরা নীজেদের কে আয়নায় সম্পূর্ন দেখতে পাইনা আর দেখতেও three millionths of a second সময় লাগে।

    In order to predict the future position one has to be able to measure its present position and velocity accurately. The accurate way to do tis to shine light on the particle. When these particles will be shined by light some of the lights will be scattered by the particles and tis ll indicate its location.lol as we do in x-ray our body.

    The accurate way to throw light is shortwave. No one can throw arbitrary amount of light but must throw at least one quantum. When u shall throw the shorter wavelength it ll changes the velocity of the particle you are trying to locate. Shorter the wavelength means higher the energy of a quantum.

    The more accurately u r trying to measure the position of the particle the less accurately u can measure its speed, lol and vice versa. Yes, I am talking about Plank’s constant of Heisenberg’s uncertainty principle. We as the student of science know this uncertainty principle is an inescapable property of the world.

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: