বৈজ্ঞানিক নবী বা অবতারের ভবিষ্যৎবাণী ও নানা প্রসঙ্গ

কোন নবী, রসূল, অবতার, দেব, দেবী, আল্লাহ, গড, স্বর্গদূত , ম্যাসেঞ্জার, পীর, দরবেশ, ইমাম, ফাদার বা ঋষি কখনো বলেননি ভবিষ্যতে মানুষ বিমানে কর আকাশে উড়বে। কোন নবী বা অবতার বলেননি মানুষ বিদ্যুৎ আবিষ্কার করে ব্যবহার করবে। মানুষ মোবাইল ফোনে কথা বলবে, ভিডিও কল দিবে, কম্পিউটার আবিষ্কার করবে । সবচেয়ে বড় কথা কোন নবী, রাসূল বা অবতার কখনও বলেননি ভবিষ্যতে মানুষ চাঁদে পা রাখবে। তবে চাঁদ নিয়ে অনেক বিশ্বাস তৈরি করেছেন তারা । সে সকল বিশ্বাস এখন ভুল প্রমাণিত হয়েছে। জ্ঞানী মানুষকে ইশারায় বুঝানো যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষকে বুঝাতে অনেক কষ্ট হয়। সাধারণ মানুষকে বুঝাতে হয়তো আমার এই আলোচনাটি সাহায্য করবে । আমরা অনেকেই কোন নবী, রাসুল, অবতার, ঋষি, দেবদূত বা ম্যাসেঞ্জারকে দোষী করে থাকি । তাদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করি। তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়ে প্রশ্ন করি। তখন বিশ্বাসী মানুষ তা খন্ডন করেন তাদের মত করে। কোন নবীকে, অবতারকে বা ম্যাসেঞ্জারকে কটূক্তি করলে বিশ্বাসী মানুষ সবার প্রথমে রেগে যান। বিশ্বাসী মানুষ এতটাই খেপে যান যে, তিনি আপনাকে হত্যা করতেও দ্বিধা করেন না। তাই তাদেরকে না খেপিয়ে আমি কিছু সাধারণ যুক্তি উপস্থাপন করছি।

পবিত্র কোরানে, হাদিসে, পুরানে, বাইবেলে, ত্রিপিটকে ও বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদকে নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে এবং অনেক ইবাদত সৃষ্টি করা হয়েছে। অনেক ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছে। কিন্তু সরাসরি বলা হয়নি চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই। আল্লাহ, দেবতা, গড বা নবী সরাসরি বলতে পারতেন আমাদের এই পৃথিবী মহাশূন্যে ভাসমান একটি গোলক । নবী বা অবতার সরাসরি বলতে পারতেন পৃথিবীর পরিধি প্রায় ৪০,০৭৫ কি.মি.। বলতে পারতেন পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব প্রায় ২,৪০,০০০ মাইল। বলতে পারতেন চাঁদের ব্যাস পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় ১/৪ ভাগ । নবী বা অবতার বলতে পারতেন, সূর্যে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস রয়েছে। বিশ্বাসী মানুষ বলবেন এগুলো বিজ্ঞান, এগুলো পার্থিব বিষয়, পার্থিব বিষয় নিয়ে কোরান, গীতা, বাইবেল বা ত্রিপিটক কেনো কথা বলবে? আমি বলব এগুলো বিজ্ঞান, এগুলো আল্লাহর বা ভগবানের বা গডের কুদরত ও মহিমা। আমি বলব এগুলো বললে নবী বা স্রষ্টার মুজেজা ও কুদরত সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পেত। যত বেশি বৈজ্ঞানিক তথ্য ও তত্ত্ব নবী বা স্রষ্টা প্রদান করতেন তত বেশি স্রষ্টার মহিমা ও বড়ত্ব প্রকাশ হতো। যুক্তিযুক্ত কথা হলো এগুলো তারা জানতেন না। সূর্য ও চাঁদকে ঘুরতে দেখেছেন, তাই “সূর্য ও চাঁদ আপন কক্ষপথে ঘুরে” বলেছেন (আল কোরআন ৫৫:৫, ৩৬:৩৮-৪০)। “সূর্য স্রষ্টাকে সেজদা দেয়” বলেছেন (বাংলা অনুবাদ, বুখারীর হাদিস নং ২৯৭২, ২৯৬১ ও ৪৪৪২ মীনা বুক হাউস, ঢাকা)। কিন্তু পৃথিবীকে ঘুরতে দেখেননি, তাই “পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরে” এই কথাটি বলেননি। বা “পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে স্রষ্টাকে সেজদা দেয় ” এটাও বলেননি। নবী বা অবতার সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ দেখেছেন এবং সে সম্পর্কে ইবাদত ও সে সময়ে ইবাদত করতে বলেছেন। কিন্তু সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ এর কারনটি নবী ব্যাখ্যা করতে পারেননি। যা সাধারন মানুষ আজ ব্যাখ্যা করতে পারে। নবীর চেয়ে উম্মত বিজ্ঞানীরা বেশি জানলো কিভাবে? কোরানে বা পুরানে বা বাইবেলে কোথাও সরাসরি জ্যামিতির ও ত্রিকোনমিতির কোন সূত্র নেই। অথচ ধর্মগ্রন্থ নাকি মহাবিজ্ঞানময়। জ্যামিতি ও ত্রিকোনমিতির কোন সূত্র কোরানে, বাইবেলে ও পুরানে নেই, কারণ মানুষ সূত্র জেনে গেলে স্রষ্টার আসনের দূরত্ব মেপে বের করে ফেলবে। স্বর্গ ও নরকের দূরত্ব ও পরিধি জেনে যাবে।
“সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর ছুটে চলার বেগ ঘন্টায় ৬৭ হাজার মাইল। কিন্তু তোমরা তা বুঝ না । স্রষ্টা অতি মহান ও মহা হেকমতওয়ালা।” এইরকম ১টি আয়াত বা উক্তি বা শ্লোক যদি কোন ধর্মগ্রন্থে থাকতো তবে তা নবী বা অবতারের মহিমা ও সত্যতা প্রকাশ করতো সবচেয়ে বেশি। আপনি স্রষ্টার কুদরত চিন্তা করে সেজদায় পড়ে যেতেন। কিন্তু ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছিল, “ পাহাড়কে পেরেক হিসেবে বসানো হয়েছে যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে টলে না পড়ে।” (আল কোরআন ২১:৩১ এবং ৩১:১০)

পৃথিবীর সব জায়গায় গণিত একই রকম। যেমন: ৩৪+৭-৬=৩৫ । যেকোন ভাষায়, যেকোন দেশে, যেকোন শ্রেণিতে এটা ৩৪+৭-৬=৩৫ । যেকোন ভাষায় অনুবাদ করলেও এটা ৩৪+৭-৬=৩৫ । যেকোন যুগে বা শতাব্দীতে এটা ৩৪+৭-৬=৩৫। স্রষ্টার কিতাব বা আইন বা ইবাদতের পদ্ধতি গণিতের চাইতেও স্পষ্ট হওয়ার কথা । কিন্তু আমরা কী দেখতে পাই ? একই ধর্মে হাজারো ধর্মীয় মতবাদ। বিভিন্ন তাফসির, বিভিন্ন মাসালা, বিভিন্ন মতবেদ, বিভিন্ন পদ্ধতি, বিভিন্ন মাযহাব ও তার অনুসারী। পবিত্র বিতাব বা গ্রন্থ অনুবাদ করলে ভুল হয়ে যায়। আবার অনুবাদ সংশোধন করতে হয়। শতাব্দী পর পর অনুবাদ পরিবর্তন করে সংশোধন করতে হয়। আল্লাহ বা গড বা ভগবান পারতেন সব ভাষায় কিতাব অনুবাদ করে তার বান্দাদের সহজ করে দিতে। সব ধর্মীয় হানাহানির অবসান ঘটাতে পারতেন। কিন্তু তা করেননি , হয়তো স্রষ্টা সমস্যা পছন্দ করেন। তিনি চান ১ম শ্রেণির ছাত্র থেকে মাষ্টার্স বা পি. এইচ. ডি পরীক্ষা নিতে। যখন বিশ্বাসী মানুষ যুক্তি দিয়ে মিলাতে পারেন না তখন বলেন, “স্রষ্টার লীলা খেলা বুঝা বড় দায়”। অথচ পবিত্র কোরআন আপনাকে বলছে যুক্তিবাদী হতে। বার বার বলা হয়েছে “তারা কি চিন্তা করে না?” (আল কোরআন ৭: ১৮৪-১৮৫)

একজন নবী বা অবতার সব ভাষায় কথা বলতে পারতেন না বা সব ভাষা জানতেন না। তবু দাবী করা হয় যে, নবীগন বা অবতারগন সব জানতেন। আকাশের উপরে ও মাটির নিচে যা আছে সব জানতেন। নবী বা অবতার মানুষের মনের খবর জানতেন। একজন নবী বা অবতার স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট বানাতে পারলেন না, সবাইকে বানাতে বললেন না, অথচ তিনি মানুষের খবর জানেন ! সত্যি সেলুকাস, বড় বিচিত্র এই পৃথিবীর মানুষ!
কতটা অন্ধ হলে আপনি বলতে পারেন “একজন মানুষ নবীর পায়খানা ও প্রস্রাব বিশুদ্ধ।” মুসলমানদের ভাষায় “পায়খানা মোবারক।” কতটা আবেগী হলে আপনি বলতে পারেন একজন মানুষ নূরের তৈরি, নূরের তৈরি কোনকিছু সহবাসের পর বীর্য বের কর? নূর কি বিষপানে মারা যায়? নূর কি ১৩টি বিয়ে করে? নূর কি রোগে আক্রান্ত হয়? স্রষ্টা নবীকে বা অবতারকে প্রস্রাব ও পায়খানা না দিলেই পারতেন।
যে নবী কাফেরদের চাহিদামত মরুভূমির মধ্য দিয়ে একটি প্রবাহমান নদীর ব্যবস্থা করতে পারেননি বা ঝর্ণার ব্যবস্থা করতে পারেননি, সে নবীর কদম মোবারকের স্পর্শে নাকি মরুভূমির তলদেশে সোনা হয়েছে ও তেল হয়েছে (আল কোরআন ১৭: ৯০-৯৩)। কিন্তু এই ভবিষ্যৎ বাণীটুকু তিনি করেননি কেন? তিনি বলে যেতে পারতেন, “এই মরুভূমির নিচে তোমরা অনেক সোনা ও তেল পাবে” । যে নবী মরুভূমিতে (মক্কা ও মদীনায়) গরমকালে ঠান্ডার ব্যবস্থা করতে পারলেন না, তিনি কাফেরদের তৈরি এসি ব্যবহার করার অনুমতি দিলেন ইজমা কেয়াসের মাধ্যমে। অথচ তিনি ভবিষ্যৎ বাণী করতে পারতেন “ তোমরা এসি আবিষ্কার করতে পারবেনা, কিন্তু কাফেরদের তৈরি এসি ব্যবহার করতে পারবে।” একজন নবী বা অবতার ভবিষ্যৎ বাণী করত পারতেন, “আসিফ মহিউদ্দিন নামে এক দাজ্জাল ফেসবুকে তোমাদের ঈমান ধ্বংস করবে। তার জন্ম হবে বাংলাদেশে এবং সে হিজরত করে জার্মানীতে গিয়ে সন্তান জন্ম দিবে।” এরকম ১টি হাদিস কোথাও পাইনি।কোন সহি, দুর্বল, যয়িফ, জাল কোন হাদিসে পাইনি। কোন তাফসির, সিরাহ কোথাও পাইনি । হয়তো কোন মুমিনের ব্যাখ্যায় পাবো।
আরো একটি বিষয় বলা দরকার, আপনি যদি কোন বিশ্বাসী মানুষের সাথে শুরুতেই তার ধর্ম প্রবর্তকের চরিত্র নিয়ে কথা বলেন তিনি আবেগী হবেন। এটাই স্বাভাবিক। তাই শুরুতেই সকল ধর্ম ও স্রষ্টার প্রচলিত ধারনার বিপরীত ধারনা দিতে হবে বা ধর্ম সম্পর্কে তার মনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে হবে। সেটা একক কোন বই পড়া বা একক কোন প্রশ্নের দ্বারা নাও হতে পারে। তাই বিভিন্ন বই পড়িয়ে ও অনেকগুলো প্রশ্ন করার দ্বারা বিশ্বাসী মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে হবে। আপনি যদি পবিত্র কোরান থেকে একটি আয়াত নিয়ে আলোচনা করেন বা একটি আয়াতকে ভুল প্রমান করতে চান, দেখবেন বিশ্বাসী মানুষটি বিভিন্ন ভাবে তার মনকে বিভিন্ন কুযুক্তি দিয়ে শান্তনা দিবে। তাই সার্বিক ভাবে চেষ্টা করতে হবে। সার্বিক বিষয় তার সামনে উপস্থাপন করতে হবে। ধরুন ৫০টি বিষয় বা প্রশ্ন থেকে যেকোন একটি বিষয়ে তার সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ১%। একজন বিশ্বাসী মানুষকে আপনি নাস্তিকতার ৫টি ও বিজ্ঞানের ৫টি বই পড়তে দিন এবং প্রচলিত ধর্মের বিরুদ্ধে ৫০টি প্রশ্ন করুন। কখনই ১টি বিষয় বা ১টি প্রশ্ন দিয়ে তর্ক করার দরকার নেই। যখন একজন বিশ্বাসীর মনে ০.০০০১% সন্দেহ সৃষ্টি হবে তখন ১টি বিষয় নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে। প্রত্যেক মানুষের মনে যেকোন ১টি ধর্ম বিরুধী প্রশ্ন জাগে। প্রশ্নটি ঘুমিয়ে থাকে বা ঘুমিয়ে রাখা হয়।
সবশেষে একটি কথা বলা উচিত, প্রচলিত ধর্ম ছাড়াও (শুধু নাস্তিকাতায়) আমাদের সারা বিশ্বের মানবতা সমস্যায় পড়বে। ধর্মের অনেক ভালো দিক বা ভালো প্রভাব রয়েছে। নাস্তিকতায়ও ভালো ও মন্দ প্রভাব রয়েছে।

Facebook Comments

Md. Moon

I am an ex muslim from Bangladesh. I am a teacher.

Leave a Reply

Your email address will not be published.