বাল্যবিবাহ এবং পবিত্র পেডোফিলিয়া

সেদিন বন্ধু তালিকার একজন একজনার একটি লাইভ ভিডিওর লিঙ্ক পাঠিয়ে বললেন, এখানে আপনাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। একটু দেখুন। আমিও কী মনে করে লিঙ্কে ক্লিক করে ফেললাম। দেখলাম, এক ইসলামিস্ট মুমিন ভাইয়ের লাইভ ভিডিও। দেখতে গেলাম কী আলাপ হচ্ছে। সময় হলে সেখানে যুক্ত হওয়া যায় কিনা। কিন্তু আমি যুক্ত হওয়া মাত্রই ভিডিওটি শেষ হয়ে গেল। আমারও বেশিক্ষণ সময় ছিল না, তাই বসে বসে কয়েকটি কমেন্ট করে আসলাম। আলোচনার বিষয় ছিল, শিশুবিবাহ। যদিও ৯-১০ বছরের বালিকাকে ঐ ইসলামিস্ট মুমিন ভাইটি  অপ্রাপ্তবয়ষ্ক/শিশু মানতে রাজি নন। যদি কোন মেয়ের পিরিয়ড শুরু হয়ে যায়, তাহলে তিনি মনে করেন, ঐ মেয়ের সাথে যৌন সম্পর্ক করা যাবে। বিয়ে দেয়া যাবে। মানে নিয়মিত যৌন সম্পর্কের মধ্যে গেলে তাতে সমস্যার কিছু নেই। রক্ত বের হওয়া মাত্রই তার সাথে যৌন সম্পর্ক করতে উনার কোন আপত্তি নেই। কোন দেশে কবে কোথায় বাল্য বিবাহ বৈধ ছিল, কোন কোন বিখ্যাত লোক বাল্য বিবাহের পক্ষে বলেছেন, সেসব নিয়েই ছিল উনার আলোচনা। ইসলামিস্ট ছেলেটা বেশ কয়েকবারই বেশ টেনে টেনে কোন এক মার্কিন বিচারকের নাম উচ্চারণ করে তার দর্শকদের বোঝাচ্ছিলেন, এই লোকটি শিশু বিবাহের পক্ষে বলেছেন। নামটি দশ পনেরোবার উচ্চারণ করে দর্শকদের নামটি মুখস্থ করতে বললেন। এবং নাস্তিকদের সাথে তর্ক হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিচারকের ইংরেজি নামটি বলে নাস্তিকদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিয়ে দিতে বললেন। তার কথা শুনে মনে হচ্ছিল, এই ইংরেজি নামটি উচ্চারণ করলেই নাস্তিকরা তর্কে একদম হেরে তাড়াতাড়ি বাল্য বিবাহ করা শুরু করে দেবে। খানিকটা শুনলাম এবং একটু মন খারাপ হলো। এই ধরণের অল্প শিক্ষিত ছেলেপেলেদের বোধবুদ্ধি দেখে। যুক্তিতর্কের নমুনা দেখে।

জাকির নায়েকের ভক্ত এইসব লোকজন যারা এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে আসতে পারছেন, তারা যুক্তি তর্ক বলতে বোঝেন, কয়েকটি কঠিন ইংরেজি নাম মুখস্থ করা, কিছু সন তারিখ মুখস্থ করা, এবং নাস্তিকদের সাথে তর্ক করতে চলে আসা। গড়গড় করে এইসব দিন তারিখ, খটমটে ইংরেজি নাম উচ্চারণের সাথে সাথেই তাদের ভক্তকূলের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়। এই নামগুলো উচ্চারণের কারণে তার মাদ্রাসা পড়ুয়া অশিক্ষিত বন্ধুটি মনে করে, বাপরে! কী বিশাল জ্ঞান রে বাবা! এরকম খটমটা ইংরেজি নাম উচ্চারণ করে ফেলেছে, তার মানে এই লোকের এলেম আছে বটে। আর এমন খটমটা ইংরেজি নাম যেই লোকের, সে তো আর আমাদের মত রাম শাম যদু মধু না। এর কথার তো নিশ্চয়ই অনেক দাম আছে। তার মানে বাল্য বিবাহ করতে দোষের কিছু নেই! বাল্য বিবাহের পক্ষে এরকম শক্ত যুক্তি আর হয় না।

দুঃখজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ মাদ্রাসা পড়ুয়া অথবা শিক্ষাবঞ্চিত মুসলমানদের মধ্যে এই ধরণের ধারণাগুলো খুবই জনপ্রিয়। যুক্তিতর্কও এই ধরণের। কয়েকদিন আগেই খন্দকার হাসান মাহমুদ নামক এক মাদ্রাসার শিক্ষক এরকম কিছু লেখা লিখে ঝড় তুলেছিলেন। তিনি ৫ বছরের মেয়েকেই বিয়ে করার অধিকার চেয়েছিলেন। এমনটাও লিখেছেন, ৫ বছরের মেয়ের সাথে সেক্স করে যৌন স্বাদ পাওয়া যায়! অর্থাৎ তিনি পরীক্ষাও করে দেখেছেন, স্বাদ পাওয়া যায় কিনা। আরো ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, এরা দাবী করছে, একজন পাঁচ বছরের শিশুকন্যা নাকি একজন সক্ষম প্রাপ্তবয়ষ্ক পুরুষকে তৃপ্তি দিতেও পারে, নিতেও পারে! কী ভয়াবহ ব্যাপার! এরা আপনারই ভাই, আপনারই চাচা, আপনারই মামা। আপনার শিশু কন্যাটিকে আপনি নিরাপত্তা কীভাবে দেবেন? আপনার প্রতিবেশি এইরকম একজন “ভদ্রলোক” আপনার পাঁচ বছরের মেয়ের দিকে কোন দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে, আদর করার ছলে আসলে কী করতে চাচ্ছে, আপনি কীভাবে বুঝবেন? আপনি নিরাপদ বোধ করছেন তো? যেই লোকটি একটি পাঁচ বছরের মেয়েকে বিয়ে করতে চায়, বিয়ে করার অধিকার চায়, সে বাঙলাদেশের প্রচলিত আইনে তা করতে পারে না। কিন্তু তার মনের সুপ্ত ইচ্ছা কী আইন দিয়ে বন্ধ করা সম্ভব? মনের সুপ্ত ইচ্ছা তখন কী তার মনের দরজায় বারবার ধাক্কা দেবে না? পাঁচ বছরের শিশু একটা মেয়েকে আপনি তার সামনে আনতে অস্বস্তি বোধ করবেন না?

শিশুবিবাহ কিংবা পেডোফিলিয়া কেন ভয়াবহ ক্ষতিকর, তা নিয়ে লিখতেও খারাপ লাগে। কিন্তু উপায় নেই। নিরুপায় হয়েই এই নিয়ে লিখতে বসে গেলাম। এরকম একটা পৃথিবীতে আমরা বসবাস করি, যেখানে শিশুকাম যে ক্ষতিকর, তা আবার যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে বলতে হয়, এটা আসলে আমাদের এক বড় দুর্ভাগ্যের বিষয়। এই লেখাটির অনেকাংশই বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে নেয়া। আমি এই বিষয়ের একজন এক্সপার্ট নই, তবে যতটুকু পড়ালেখা করেছি এবং বুঝেছি, তা থেকেই লিখছি।

প্রথমেই যা বলে নেয়া ভাল, ইউনিসেফ শিশু বিবাহকে মেয়েদের জন্য এক প্রকারের মৃত্যুদণ্ড বলে ঘোষনা দিয়েছে। কেন এরকম ঘোষণা তারা দিলেন? এর কারণ বিশ্লেষণের জন্য কয়েকটা বিষয় ভালভাবে বুঝে নেয়া দরকার।

আমাদের অনেকের মধ্যে অনেক বদ্ধমূল ভুল ধারণা রয়েছে যে, গরম দেশে মেয়েরা দ্রুত বয়ঃসন্ধিতে অবতীর্ণ হয়। অনেক মোল্লাকেও দেখবেন ওয়াজ মাহফিলে বলতে, গরম দেশে যেমন আম কাঠাল তাড়াতাড়ি পাঁকে, মেয়েরাও গরম দেশে অল্প বয়সে পেঁকে যায়।  কিন্তু, বিষয়টি পুরোই ভুল ধারণা। প্রথমত, মেয়েরা আম কাঁঠাল নয়। দ্বিতীয়ত, গ্রীষ প্রধান দেশে মেয়েরা আগে আগে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়, শীতপ্রধান দেশে ধীরে ধীরে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়, এরকম কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। বয়ঃসন্ধিতে মেয়েদের মধ্যে কেউ কেউ খানিকটা আগেই চলে আসতে পারে, যার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ ফ্যাক্টর কাজ করে। সেগুলো দেশের আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে, এমন কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

প্রথমেই আমাদের যা জানা প্রয়োজন, তা হচ্ছে মেয়েদের বয়ঃসন্ধি কিভাবে হয়। বয়ঃসন্ধি বা পিউবার্টি কী তা আমরা সকলেই কমবেশী জানি এবং বুঝি। আমরা অনেকে এটাও জানি যে, পিউবার্টির সময়ে নানাবিধ হরমোনাল পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে একজন মানুষ যায় এবং এই সব হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে তার শরীরে এবং মনে নানা ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্যণীয় হয়ে ওঠে। মনে রাখা দরকার, পিউবার্টি কোন আকস্মিক ঘটনা নয়, এটি একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে কয়েকটি ধাপ রয়েছে, যেই ধাপগুলো পূর্ণ করা প্রয়োজন।

একটি মেয়ে ৮-১০ বছর বয়সে তার মস্তিস্কের হিপোথেলামাস অংশটি গোনাড্রোপিন নামের একটি হরমোন নিঃসরন শুরু করে। এই হরমোনটির কারণে তাদের রক্তে লুটেইনাইজিং হরমোন এবং ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন নিঃসরণ শুরু হয়। এই হরমোনগুলো তার ডিম্বাশয়ে পৌঁছালে ডিম্বাশয় এস্ট্রোজেন উৎপাদন করার জন্য সক্রিয় হয়। নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন।

এই সময়ে শুরু হয় তাদের শরীরকে গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত করে তোলার প্রক্রিয়া। এর সাথে সাথে আরো কিছু হরমোন নিঃসরণ হতে থাকে, যা মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটায়। অনেক সময় এই প্রক্রিয়াটি বয়সের চাইতে আগেও হয়ে যেতে পারে। তখন তাকে বলে প্রিকোশিয়াস পিউবার্টি। তবে তা হয়ে থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি। কারণ এরকম হওয়ার প্রধানতম কারণগুলো হচ্ছে নানা ধরণের অসুখ বিসুখ, ইনফেকশন, রেডিয়েশন। সেই সাথে, আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া। অথবা, তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া।(১)

একটি শিশু মেয়ে যদি অতি অল্প বয়সেই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, প্রায়শই দেয়া যায় তারা তাদের মামা চাচাদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, বা তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। সেই সময়ে তাদের মস্তিষ্কে কিছু ভুল মেসেজ যায়। মানুষের মস্তিষ্ক জানে না, এটি যৌন নির্যাতন নাকি স্বেচ্ছায় যৌনতা। মস্তিষ্ক তখন এই বিষয়ে একটিভ হয়ে ওঠে, এবং শরীরকে দ্রুত যৌনতার জন্য উপযুক্ত করে তোলার জন্য জরুরি হরমোনগুলো নিঃসরণ করতে শুরু করে দেয়। যা মেয়েটির ভবিষ্যত জীবন ধ্বংস করে ফেলতে পারে।

একটা মেয়ে যখন বড় হতে থাকে, বড় হওয়ার সাথে সাথে তার শরীরের হাড়গুলো গঠিত হতে থাকে। একটা শিশুর শরীরে ৩০০ এর বেশি হাড় থাকে, কিন্তু একজন মানুষ যখন পূর্ণ বয়ষ্ক হন তখন তার হাড় থাকে ২০৬ টা। এই হাড়গুলো প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া পর্যন্ত গঠিত হয়। মানে, একদিন হঠাৎ করে গঠিত হয়ে যায় না। বেশ দীর্ঘ সময় নিয়ে ধীরে ধীরে গঠিত হতে থাকে। একটি মেয়ের ক্ষেত্রে, পেলভিক ফ্লোর এই সময়ে গঠিত হয়। যা বাচ্চা জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিষয়টি এমন নয় যে, একদিন একটি মেয়ের পিরিয়ড হওয়া শুরু হলো, আর সাথে সাথে মেয়েটি সেক্স এবং বাচ্চা জন্ম দেয়ার জন্য উপযুক্ত হয়ে গেল। পুরো বিষয়টা ধীর গতির একটি প্রক্রিয়া, এবং এর এক একটি ধাপ রয়েছে। একটি ধাপ পরের ধাপের সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু একটি মেয়েকে খুব ছোট বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেয়া হলে, বা নিয়মিত যৌন নির্যাতন করা হলে, বা বিয়ে দিয়ে স্বামীর যৌন চাহিদা মেটাতে হলে তার মস্তিষ্ক খুব দ্রুত তার শরীরকে যৌনতার জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করে। কিন্তু এই সময়ে যেই সমস্যাটি দেখা দেয়, তা হচ্ছে, মেয়েটির শারীরিক বৃদ্ধির জন্য যেই হরমোন নিঃসরণ প্রয়োজন, তা প্রায়শই শরীর বন্ধ করে দেয়। মানুষের মস্তিষ্ক এই সময়ে মনে করে, মেয়েটি যথেষ্ট বড় হয়েছে, সন্তান ধারণের উপযুক্ত হয়েছে, এখন আর শারীরিক বৃদ্ধির হরমোনের প্রয়োজন নেই।

ভারতের অনেকগুলো পতিতালয়ে দেখা গেছে, অল্প বয়সী মেয়েদের নানা ঔষধ খাইয়ে, ইঞ্জেকশন দিয়ে তাদের শরীরে দ্রুত পিউবার্টি আনার চেষ্টা করা হয়। সেই সমস্ত মেয়েদের স্তন এবং শরীরের অন্য অংশ অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে, কিন্তু তাদের শরীরের হাড় বৃদ্ধি পাওয়া বন্ধ করে দেয়। এই কারণে এই ধরণের মেয়েরা প্রায়শই খর্বাকার হয়। আমাদের গ্রামাঞ্চলে এই কথাটি আপনি নানী দাদীদের মুখে প্রায়ই শুনে থাকবেন যে, যে সকল মেয়ের আগে আগেই পিউবার্টি চলে আসে, তারা আর বেশী লম্বা হয় না।

আরো বড় সমস্যা অপেক্ষা করে এদের জন্য, বয়স হওয়া শুরু হলে, বা সন্তান জন্মদানের সময়। পেলভিক ফ্লোর ঠিকমত গঠিত হওয়ার আগেই শরীর বৃদ্ধির হরমোন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এদের বাচ্চা জন্ম দেয়া একটি বিভীষিকাময় ঘটনা হয়ে ওঠে। অসংখ্য জটিলতা এবং ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে এই ধরণের মেয়েদের সন্তান জন্ম দেয়ার সময়। যা একজন পুরুষ কখনো কল্পনাও করতে পারবে না, এরকম ব্যথা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এমনকি, মেয়েটি প্রাপ্তবয়ষ্ক হয়ে সন্তান জন্ম দিতে গেলেও ঠিক একই ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ তার শরীর বৃদ্ধি পাওয়ার আগেই বয়ঃসন্ধি চলে এসেছে, বয়ঃসন্ধি মেয়েটি অতিক্রম করেছে অতি দ্রুত, এবং শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

এই ধরণের মেয়েদের খুব স্বাভাবিকভাবেই মেরুদণ্ডে দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা, হাঁটুর জয়েন্ট ক্ষয় হয়ে যাওয়ার মত সমস্যায় পরেন। এদের সন্তানরা হাবাগোবা বা নানারকম প্রতিবন্ধী হতে পারে। কারণ এদের শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে নি, তাই সন্তানকে পেটে থাকা অবস্থায় এই ধরণের মেয়েরা স্বাভাবিক পুষ্টির যোগানও দিতে পারেন না। এদের সন্তানগণের রোগব্যধির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ইমিউন সিস্টেমও অনেক দুর্বল হতে পারে।

তাই, বাল্যবিবাহ এবং শিশু বয়সেই নিয়মিত যৌন সম্পর্ক একটি শিশু মেয়ের পরবর্তী জীবনকে শুধু ধ্বংসই করে না, একটি পুরো প্রজন্মকেও ধ্বংস করে। একটি ৫-৬ বছরের মেয়ের জীবন হবে সুন্দর, রঙিন। সে হাসবে, খেলবে, পড়ালেখা করবে। সে মাঠে ময়দানে দৌঁড়াবে, সাঁতার কাটবে, লাফাবে ঝাঁপাবে। ধীরে ধীরে তার শরীর গঠিত হতে থাকবে। সেই পুষ্টিকর খাবার খাবে, তার শরীরের হাড়গুলো ধীরে ধীরে শক্ত হতে থাকবে। ৯-১০ বছর বয়সেই তার শরীরে নানা ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। এবং এই পরিবর্তন ঘটবে ধীরে ধীরে। একটা সময়ে সে খুব দ্রুত লম্বা হতে থাকবে। এরপরে একটা সময় মস্তিষ্ক বুঝতে পারবে, শরীরের হাড়িগুলো ঠিকমত গঠিত হয়ে গেছে। এরপরে তার লম্বা হওয়ার হার কমতে থাকবে, এবং তার চেহারায় নারীসূলভ অভিব্যক্তি প্রকাশিত হতে থাকবে। এই পুরো প্রক্রিয়া চলতে থাকবে ১৮-১৯ বছর পর্যন্ত। যতদিন সে লম্বা হতেই থাকবে। সেই সময়ে তার শরীর নতুন হরমোনগুলোর সাথে ধীরে ধীরে এডোপ্ট করবে, এবং তার কিছুটা আগেই সে যৌনতার জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, এই বয়সেই যেন সে সন্তান ধারণ না করে। গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত সময়ও এটি নয়। তা আরো পরে।

অথচ, আমাদের দেশে এখন প্রচার চলছে, পাঁচ বছর বয়সেই নাকি একটি মেয়ে সন্তান ধারণ করার উপযুক্ত। ধর্মান্ধ মুসলমানগণ বিভিন্ন পত্রিকার নিউজ খুঁজে বের করছেন, অমুক মেয়ে তমুক মেয়ে কত কম বয়সে সন্তান ধারণ করেছে। কিন্তু এইসব প্রচার তারা নিজেদের এবং নিজেদের আদর্শ অনুকরনীয় অনুসরণীয় মানবের বিকৃত পেডোফিলিক চরিত্রকে জাস্টিফাই করার জন্যেই করে। পৃথিবীতে ৭০০ কোটি মানুষের অবশ্যই এরকম কিছু অদ্ভুত ঘটনা পাওয়া যাবে যে, কোন মেয়ে শিশুই আরেকটি মেয়ে শিশুকে জন্ম দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু সেগুলোকে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করে অন্য সমস্ত মেয়েদের জীবন ধ্বংস করার পরিকল্পনা আমরা করতে পারি না। এমনকি, যেই শিশু মেয়েটি আরেকটি শিশুকে জন্ম দিয়েছে, তার পরবর্তী জীবনও দূর্বিসহ হয়ে উঠবে, এই কথাগুলো কিন্তু এই মোল্লারা বলবে না।

এখানে তো শুধু অল্প কিছু সমস্যার বিবরণ দিলাম। কিন্তু শিশু বিবাহের খারাপ দিক লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মেয়ের জীবন প্রায় ধ্বংস হয়েছে বাল্য বিবাহের অভিশাপে। একটি মেয়ের জীবনই শুধু নয়, আপনার পরের প্রজন্ম, তার প্রজন্মকে ধ্বংস করে ফেলার জন্য একটি শিশু বিবাহই যথেষ্ট। মেয়েটার স্বাধীনতা, জীবন, পড়ালেখা, ঠিকভাবে বেড়ে ওঠা কোনকিছুই আর সম্ভব নয়। মেয়েটার দীর্ঘমেয়াদী হৃদপিণ্ডের সমস্যা থেকে শুরু করে বাকিটা জীবন পঙ্গু হয়ে কাটানো শিশুবিবাহের খুব ভয়াবহ সব ফলাফল। সেই সাথে, বিভিন্ন ভয়ঙ্কর রোগের প্রাদুর্ভাব তো থাকেই। এই নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে, এখনো হচ্ছে। কিন্তু অশিক্ষিত অসভ্য মূর্খ সম্প্রদায়গুলো এখনো বালুর মধ্যে উটের মত মুখ ডুবিয়ে শিশুবিবাহের অধিকার চাইছে! প্রকাশ্যে পেডোফিলিয়ার পক্ষে কথা বলছে। তা আবার অনেকের হাততালিও কুড়াচ্ছে! যা জাতি হিসেবে আমাদের অসভ্যই প্রমাণ করে।

প্রাসঙ্গিকভাবে নিচের লেখা দুটি পড়া জরুরি।

ভারতে শিশু যৌননির্যাতনের বর্তমান পরিস্থিতি

> বাল্যবিবাহ এবং ইসলামিক ডিফেন্স

সংযুক্তিঃ
১। Precocious puberty
২। Health Consequences of Child Marriage in Africa
৩। ইউনিসেফ থেকে প্রকাশিত একটি পিডিএফ বই । 

Facebook Comments

4 thoughts on “বাল্যবিবাহ এবং পবিত্র পেডোফিলিয়া

  • July 17, 2018 at 11:04 am
    Permalink

    খুব ভালো লাগলো

    Reply
  • July 17, 2018 at 5:42 pm
    Permalink

    মোল্লাত‌ন্ত্রের নিপাত যাক
    কন্যা‌শিশু মু‌ক্তি পাক।
    আসিফ ভাই আপনা‌কে অ‌নেক ধন্যবাদ ।

    Reply
  • August 13, 2018 at 10:49 pm
    Permalink

    মানবতার সন্ধানে কবে অমানুষগুলো বিজ্ঞান চর্চায় আসবে আসিফ ভাই আপনার ধীর্ঘয়ু কামনা করি ????????????

    Reply
    • October 6, 2018 at 7:16 am
      Permalink

      are vai age banan shikhun!!!!!!!!!!!!!!!!!

      Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: