পেডোফাইল মোহাম্মদ এবং ইসলামিক ডিফেন্স

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বসময়ের জন্য অনুসরণযোগ্য মহামানব বলতে আমরা কি বুঝি? সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বসময়ের জন্য অনুসরণযোগ্য মহামানব বলতে আমরা এমন একটি চরিত্র বুঝি যিনি যেকোনো যুগের জন্যই একজন সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ চরিত্র। যিনি তার জীবনে এমন কোনো কাজ করেননি যা যুক্তিবিদ্যায় অন্যায় অপরাধ অবিচার কিংবা জুলুম বলে প্রমাণিত হবে। যিনি এমন কোনো কাজ করতে পারেননা যা তার সময়ের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও যুক্তিবিদ্যায় তিনি একজন অপরাধী বলে প্রমাণিত হবেন। হযরত মোহাম্মদ মুসলিমদের কাছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বসময়ের জন্য অনুসরণযোগ্য চরিত্রের একজন মানুষ। মুসলিমরা বিশ্বাস করেন তিনি তার পুরো জীবনে একটিও অপরাধ করেননি, তারা আরও বিশ্বাস করেন নারীর প্রতি তার কোনো নোংরা প্রলোভন ছিলোনা। তবে মুসলিমদের এধরনের বিশ্বাস যে একেবারেই ভুল বিশ্বাস তার প্রমাণ বহন করে ইসলামের সহিহ হাদিসসমূহ। ইসলামের সহিহ হাদিস সমূহ থেকে আমরা জানতে পারি, তিনি শেষ বয়সে এসে ৬ বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে আয়েশাকে বিয়ে করেছিলেন এবং সেই বাচ্চা মেয়েটার যখন ৯ বছর বয়স তখন তিনি তার সাথে যৌনসংগম করেন। তথাকথিত সর্বযুগের আদর্শ মানুষটি কেবল বাল্যবিবাহের মতো অপরাধ করেছিলেন তা নয়, বরং একটি বাচ্চা মেয়ের সাথে যৌনসংগম করার মতো জঘন্য কাজও করেছিলেন। ঐ নোংরা চরিত্রের লোকটিকে সর্বসময়ের জন্য অনুসরণযোগ্য দাবি করার অর্থ বাল্যবিবাহকেও সর্বসময়ের জন্য গ্রহণযোগ্য দাবি করা, পেডোফিলিয়াও সর্বসময়ের গ্রহণযোগ্য দাবি করা। যুগের পর যুগ বদলেছে, মুসলিম বিশ্বের চিন্তাভাবনা কিছুটা হলেও উন্নত হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও চিন্তাশীলতার অভাবে তারা আজও ধর্মান্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি, যে ধর্মান্ধতাই ধর্মের চালিকাশক্তি (ধর্মের ভাষায় যাকে ‘ঈমান’ বলে)। ইসলামের এপোলোজিস্টরা ইসলামের মান বাঁচাতে মোহাম্মদকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বেশকিছু প্রোপাগান্ডা আর লজিক্যাল ফ্যালাসির সাহায্য নিয়ে। ধর্মান্ধতার কারণে এসব প্রোপাগান্ডাকেই মানুষ বিনা যাচাইয়ে সত্য বলে গ্রহণ করে নেন এবং সারাজীবন অতিবাহিত করেন কিছু মিথ্যার ওপর। সেজন্যই সত্য তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এ আর্টিকেলের মাধ্যমে আয়েশার বাল্যবিবাহ নিয়ে এপোলোজিস্টদের প্রোপাগান্ডা সমূহের ওপর সাধারণ জবাব রাখা হলো।

হাদিসের প্রমাণ






এপোলোজিস্টদের দাবি

কোরআনের কোথাও বলা হয়নি যে, মোহাম্মদ আয়েশাকে বিয়ে করেছিলেন যখন তার (আয়েশার) বয়স ৬ বছর ছিলো এবং যৌনসংগম করেছিলেন যখন তার বয়স ৯ বছর ছিলো

এযুগের মুসলিমদের সামনে যখন তুলে ধরা হয়, মোহাম্মদ জীবনের শেষ বয়সে এসে ছয় বছর বয়সের একটি বাচ্চা মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন এবং সেই মেয়ের নয় বছর বয়স হলে যৌনসংগম করেছিলেন তখন অনেক মুসলিম আছেন যারা দাবি করেন, এরকম কথা কোরআনের কোথাও আসে নি। অনেক মুসলিমকেই আমরা দেখেছি যারা কোরআনের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখেন তবে অনেক হাদিস আছে যা তারা মানতে চান না। যেসব হাদিস ইসলামকে খুব নিখুঁতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে সেইসব হাদিস তারা প্রত্যাখ্যান করেন। তবে মজার ব্যাপার হলো যেসব হাদিস ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করেনা, ইবাদতের জন্য প্রয়োজনীয় সেইসব হাদিস আবার তারা অনায়াসে মেনে নেন।

কোরআন মোহাম্মদের কোনো জীবনী নয় যে সেখানে লেখা থাকতেই হবে যে তিনি কোন বয়সে কোন বয়সের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। কোরআনে মোহাম্মদের নাম এসেছে মাত্র চার বার [1]। আবার, কোরআন ইতিহাসের কোনো ধারাবাহিক বর্ণনাও নয়। হাদিস এবং সিরাত ছাড়া ইসলামের “পাঁচ স্তম্ভ” সম্ভব নয় [2]। হাদিস সিরাত না থাকলে নবী মোহাম্মদ নামে যে ইতিহাসে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব ছিলো তার কোনো প্রমাণ থাকবে না। সুতরাং, হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করা মানে ইসলামকেই প্রত্যাখ্যান করা। হাদিস অস্বীকার করে নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করা একেবারেই অর্থহীন। আর আমরা মোহাম্মদ আয়েশার বিয়ে এবং যৌনসংগম নিয়ে যেসব হাদিস তুলে ধরি তা সবি “সহিহ হাদিস” অতএব নিজেকে একজন মুসলিম বলে দাবি করলে এসব হাদিস অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

আয়েশা এবং মোহাম্মদের বিয়েতে যৌনসংগম আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্য ছিলো না, আয়েশা একজন মহান স্কলার ছিলেন যিনি অনেক প্রয়োজনীয় হাদিস বর্ণনা করেছেন

মুসলিমদের সামনে যখন তুলে ধরা হয় যে তাদের তথাকথিত সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সুমহান চরিত্রের অধিকারী নবী বাচ্চা বয়সের একটা মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন এবং যৌনসংগম করেছিলেন তখন তাদের অনেকেই দাবি করেন যে, সেই বিয়ের একটা উদ্দেশ্য ছিলো এবং সেটা যৌনসংগম কিংবা ভোগবিলাসের নয়।

বিশেষ উদ্দেশ্য বলতে মুসলিমরা আসলে যা বোঝাতে চান তা বাস্তবে বিশেষ অজুহাত ছাড়া কিছু নয়। এধরনের অজুহাত বাল্যবিবাহকে জাস্টিফাইড করতে পারেনা, বিশেষ করে যাকে সর্বসময়ের জন্য আদর্শ ব্যক্তি বলে দাবি করা হয় তার জন্য তো একেবারেই নয়।

প্রথমত, আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন তিনি কোনোভাবেই বাল্যবিবাহের মতো সমর্থনযোগ্য নয় এমন কোনোকিছুর বৈধতা দিতে পারেননা যদি তিনি আসলেই সুবিচারক ঈশ্বর হয়ে থাকেন। নিশ্চয় কোনো সুবিচারক ঈশ্বর কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যসাধনের জন্য একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার বৈধতা দিবেন না।

দ্বিতীয়ত, ধর্মের বর্ণনা অনুযায়ী আল্লাহ্‌ অসীম ক্ষমতার অধিকারী এবং এমনকিছু নেই যা তিনি করতে পারেননা। যিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী, জগতের সবকিছু যার নিয়ন্ত্রণে তিনি কেন বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বাল্যবিবাহের মতো অপরাধের আশ্রয় নিবেন? অসীম ক্ষমতাধারী কোনো ঈশ্বর বাল্যবিবাহ এড়িয়েও বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য সাধন করার ক্ষমতা রাখেন। মুসলিমদের এধরনের ব্যাখ্যা বরং তাদের আল্লাহ্‌কে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

তৃতীয়ত, মোহাম্মদ যদি আসলেই নয় বছরের আয়েশার সাথে যৌনসংগম করতে না চাইতো এবং আয়েশাকে নিজের কাছে রাখাই যদি তার একমাত্র উদ্দেশ্য হতো তাহলে তিনি অবশ্যই আয়েশাকে ‘নাতনী’ হিসেবে নিজের কাছে রাখতেন। তাছাড়া মোহাম্মদের একজন পালক পুত্রও ছিলো!

একটি হাদিস আছে যা বলে “আয়েশা কখনওই মোহাম্মদের গোপন অঙ্গ দেখেন নি”

মোহাম্মদ আর আয়েশার মধ্যে কোনো যৌনসংগম হয়নি প্রমাণ করতে একটি হাদিস তুলে ধরা হয় যেখানে বলা হয়েছে, “আয়েশা কখনওই মোহাম্মদের গোপন অঙ্গ দেখেন নি”। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, সেই হাদিসটি একটি যঈফ হাদিস [3], অর্থাৎ দূর্বল হাদিস এবং যঈফ হাদিস সমূহ ইসলামে কোনো প্রভাব রাখে না [4]।

যেসব হাদিস নিশ্চিত করে যে, মোহাম্মদ আর আয়েশার মধ্যে যৌনসংগম হয়েছিলো সেইসব হাদিস হলো “মুতওয়াতির”, যার অর্থ বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস। বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীসের সত্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা কমসংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদিসের তুলনায় বেশি। এই শ্রেণীবিভাগ আবার অন্য শ্রেণিবিভাগের সাথে যোগদান করতে পারে, যেমন কোনো হাদিস যদি “সহিহ” এবং “মুতওয়াতির” উভয়ই হয় তাহলে সেই হাদিসের সত্যতা সবচেয়ে বেশি। যেহেতু সকল অথেনটিক হাদিস নিশ্চিত করে, মোহাম্মদ এবং আয়েশার মধ্যে যৌনসংগম হয়েছিলো সেহেতু এই দুর্বল হাদিসটিকে উপেক্ষিত করা যায়।

তাছাড়াও এমন হাদিসও আছে যা বলে, মোহাম্মদ একরাতে তার সকল স্ত্রীর (নয় থেকে এগারো জন) সাথে যৌনসংগম করতেন।


সেই হাদিসের কথা ভুলে গেলে কিভাবে চলবে যেই হাদিসে বলা হয়েছে, সাওদা তার সহবাসের রাত্রি আয়েশাকে দিয়েছিলেন?

কিছু ইসলামিক সোর্স অনুযায়ী যৌনসংগমের সময় আয়েশার বয়স ছিলো ১২, ১৪, ১৫, ১৭, ১৮ এবং ২১ বছর

আয়েশার নিজস্ব বিবৃতির অথেনটিক সোর্স সমূহ নিশ্চিত করে যে, যৌনসংগমের সময় আয়েশার বয়স ছিলো নয় বছর।

মোহাম্মদ আয়েশার জন্য তিন বছর অপেক্ষা করেছিলেন যেন যৌনসংগমের আগে আয়েশা বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছে

ইসলাম অনুযায়ী ঘরে পুতুল রাখা, পুতুল নিয়ে খেলা করা, পুতুল কেনাবেচা করা অথবা এধরনের ক্রিয়াকলাপ হারাম।

তবে একটি হাদিস থেকে জানা যায়, মোহাম্মদের ঘরে থাকা অবস্থায় অর্থাৎ নয় বছর বয়সে আয়েশা পুতুল নিয়ে তার বান্ধবীদের সাথে খেলা করতেন এবং আয়েশার এই পুতুল নিয়ে খেলা করা মোহাম্মদ সমর্থন করতেন। আরও জানা যায়, যৌনসংগমের সময় আয়েশার পুতুল খেলার বয়স ছিলো।

হাদিসটি মূলত ইংগিত দেয়, ইসলামে পুতুল ঘরে রাখা, পুতুল নিয়ে খেলা করা ইত্যাদি হারাম হলেও বাচ্চাকাচ্চাদের জন্য এসব গ্রহণযোগ্য, অর্থাৎ সাবালকত্বে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এসব হালাল [5] [6]।

এখন আমাদের দেখতে হবে ইসলামে একজন মানুষ কখন সাবালক হয়। তাহলে আমরা বুঝতে পারবো ঠিক কখন একজন মানুষের জন্য পুতুল নিয়ে খেলা করা হারাম হবে। ইসলাম পরিষ্কার ভাবেই বলে, একজন মানুষ তখনি সাবালক হন যখন তিনি বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছান [7]।

অর্থাৎ, যেহেতু আয়েশা নয় বছর বয়সে পুতুল নিয়ে বান্ধবীদের সাথে খেলা করতেন এবং মোহাম্মদ সেটা সমর্থন করতেন সেহেতু যৌনসংগমের সময়ও আয়েশার বয়স বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেনি। সুতরাং ইসলামপন্থীদের দাবিটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কল্পনা ছাড়া কিছুই না।

প্রচুর গরম জলবায়ুর অঞ্চলে মেয়েদের ঋতুস্রাবের বয়স খুব তাড়াতাড়ি চলে আসে, তাই আরবদেশীয় নারীরা ৯ বছর বা তার আগেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যায়

ইসলামপন্থীদের মধ্যে থেকে এরকম একটি দাবি উঠে আসে যে, বেশি গরম জলবায়ুর এলাকাতে নাকি মেয়েদের ঋতুস্রাবের বয়স বেশি তাড়াতাড়ি চলে আসে। তবে বাস্তবতা বলে, জলবায়ুর সাথে আদ্যঋতু/বয়ঃসন্ধির যে কোনো সম্পর্ক আছে এমন কোনো প্রমাণ নেই [8] [9]। বাস্তবতা বরং উল্টো কথা বলে, যেমন : ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডে আদ্যঋতুর (প্রথমবার ঋতুস্রাব ঘটা) গড় বয়স যথাক্রমে ১৩.০, ১৩.২, ১৩.৩। অন্যদিকে সেনেগাল, তানজানিয়া এবং ইয়েমেনে আদ্যঋতুর গড় বয়স যথাক্রমে ১৬.১, ১৫.২১, ১৪.৪। মধ্যযুগীয় মধ্যপ্রাচ্যের মেয়েদের আদ্যঋতুর গড় বয়স ছিলো ১২ থেকে ১৩ এর মধ্যে, ৯ নয়। মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় মেয়েদেরও আদ্যঋতুর গড় বয়স অনুরূপ ছিলো, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়স [10]।

একটি হাদিস বলে, আয়েশা বলেছেন, “একটি কিশোরীর বয়স যখন ৯ বছর, তখন সে একজন নারী (অর্থাৎ তিনি বয়ঃপ্রাপ্ত হয়েছেন)”

ইসলামপন্থীদের দাবি, যেহেতু আয়েশা বলেছেন ৯ বছর বয়সের কিশোরী মানেই একজন নারী সেহেতু আসলেই মধ্যযুগীয় মধ্যপ্রাচ্যের নারীরা ৯ বছর বয়সেই বয়ঃপ্রাপ্ত হয়ে যেতেন। আয়েশা যাই বলেছিলেন তাই যে সেসময়ের বাস্তবতা সেটা ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। যাইহোক, আয়েশার বিবৃতি যা ছিলো ভুল এবং কেন ভুল তা উপরে ইতিমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। আয়েশার সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে বেশি নারী ৯ বছর বয়সে বয়ঃপ্রাপ্ত হয়ে যেতেন না।

আয়েশার বিবৃতি প্রমাণ করেনা যে, নয় বছর বয়সে তিনি বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেন। “অর্থাৎ তিনি বয়ঃপ্রাপ্ত হয়েছেন” অংশটুকু বন্ধনীতে উল্লেখ্য করা হয়েছে, যার অর্থ এই অংশটুকু অনুবাদক নিজ থেকে সংযোগ করেছেন, মূল উৎস থেকে নেওয়া হয়নি।

কোনো মানুষ নিজেকে নবী দাবি করলেই যেমন তিনি নবী হয়ে যাবেন না ঠিক তেমনি, কোনো বাচ্চা মেয়ে নিজেকে ও নিজের বয়সী অন্যান্য মেয়েদের প্রাপ্তবয়স্ক নারী বললেই সে বা তার বয়সী নারীরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যান না।

তাহলে মোহাম্মদ কেন আয়েশার জন্য তিন বছর অপেক্ষা করলেন?

মোহাম্মদ ৬ বছরের আয়েশাকে বিয়ে করলেও ঘরে তোলেন ৯ বছরের আয়েশাকে এবং সেটা প্রমাণ করেনা যে, তিনি আয়েশার বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর অপেক্ষায় ছিলেন। সহিহ বুখারী থেকে আমরা জানতে পারি, বিয়ের সময় যখন আয়েশার ছয় বছর তখন আয়েশা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এতে তার মাথার চুল পড়ে যায়। একই হাদিস আবার নিশ্চিত করে যে, যখন আয়েশা সুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার চুল আবার গজিয়ে যায় তখন তাকে আবার, মোহাম্মদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ইসলামপন্থীদের আলোচ্য দাবি খন্ডন করতে এই সহিহ হাদিসটিই যথেষ্ট।

মোহাম্মদ যদি পেডোফাইল হতেন, তাহলে তিনি কেন আয়েশার জন্য তিন বছর অপেক্ষা করলেন?

যৌনসংগম সূচনা করার পূর্বে সেক্স পার্টনারকে দীর্ঘ সময় ধরে জানা একজন পেডোফাইলের জন্য অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। এব্যাপারটাকে বলা হয় Grooming. Mayo Clinic এর একটি জরিপে প্রকাশিত হয় যে, Heterosexual পুরুষ পেডোফাইলরা সেক্স পার্টনার হিসেবে ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী বাচ্চা মেয়েদের বেশি পছন্দ করেন (যৌনসংগমের সময় আয়েশার বয়স ছিলো ৯ বছর)।

মোহাম্মদ যদি আসলেই পেডোফাইল হতেন, তাহলে আয়েশার মা-বাবা তাকে মোহাম্মদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন না

আয়েশার মা-বাবা কোনো বিয়ের প্রস্তাব দেননি। বরং, মোহাম্মদ নিজেই আয়েশাকে বিয়ের আগ্রহ প্রকাশ করে আবু বকরের নিকট প্রস্তাব দেন এবং আবু বকর প্রাথমিকভাবে এ বিয়েতে আপত্তি জানান। তাছাড়া আয়েশার মা-বাবা প্রস্তাব দিলেও বাল্যবিবাহ সমর্থনযোগ্য হয়ে যায় না।

আয়েশা এ বিয়েতে রাজী ছিলেন। এটি যদি এবিউজ হতো তাহলে আয়েশা তাকে ত্যাগ করতেন

ইসলামে কুমারী নারীর নীরব থাকাকেই বিয়েতে রাজি থাকা বলে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ ইসলাম অনুযায়ী একটি মেয়ে মন থেকে বিয়েতে রাজি কিনা, বিয়ের জন্য আদৌ মানসিক ভাবে প্রস্তুত কিনা সেসব জানার কোনো প্রয়োজন নেই। একটি মেয়ে যদি পারিবারিক চাপে বিয়ের ব্যাপারে নীরব থাকেন তাহলে ইসলাম অনুযায়ী মেয়েটি বিয়েতে রাজি আছেন বলে বিবেচিত হয়। সুতরাং আয়েশা যে এ বিয়েতে মন থেকে রাজি ছিলেন তা কোনোভাবেই বলা যায়না। তাছাড়া আয়েশা নিজের মুখে তিনি বিয়েতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন এমন কোনো অথেনটিক সোর্সের অস্তিত্ব নেই।


এবার আসা যাক আয়েশার বৈবাহিক জীবন ত্যাগ করে চলে না আসার প্রসঙ্গে। ধরুন, একজন পুরুষ তার স্ত্রীকে প্রতি রাতে বেধড়ক প্রহার করেন এবং তার স্ত্রী তার ওপর হওয়া নির্যাতন সহ্য করে নেন, একেই তার জীবন বলে মেনে নেন। প্রশ্ন হচ্ছে, একজন নির্যাতিত নারী তার ওপর হওয়া নির্যাতন মেনে নিলেই কি একজন নারীর ওপর নির্যাতন চালানো সমর্থনযোগ্য হয়ে যায়? অবশ্যই না। ঠিক তেমনি যদি একজন বয়স্ক লোক একটি নয় বছরের বাচ্চা মেয়ের সাথে যৌনসংগম করেন এবং বাচ্চা মেয়েটি সেটা সহ্য করে নেন, তাহলেই নয় বছরের একটি বাচ্চা মেয়ের সাথে যৌনসংগম করা সমর্থনযোগ্য হয়ে যায়না।

তিনি কোনোভাবেই পেডোফাইল হতে পারেননা। কারণ তিনি প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের সাথেও যৌনসংগম করেছেন

Mayo Clinic প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯৩% Heterosexual পুরুষ পেডোফাইল প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সাথেও যৌনসংগম করেন [11]।

পেডোফাইলরা বাচ্চা মেয়ে পছন্দ করেন। অথচ মোহাম্মদের অনেক প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী এবং মাত্র একটি কিশোরী স্ত্রী ছিলো

খাদিজার মৃত্যুর পর আয়েশা যিনি তার একমাত্র বাল্য স্ত্রী ছিলেন, তিনি তার সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রীও ছিলেন [12]।

তাছাড়া তার আরেক বাচ্চা মেয়ের ওপরও যৌন উদ্দেশ্য ছিলো [13] [14]।

পেডোফিলিয়ার DSM-IV-TR ক্লিনিক্যাল ডেফিনিশন তুলে ধরা হলো।

A. Over a period of at least six months, recurrent, intense sexually arousing fantasies, sexual urges, or behaviors involving sexual activity with a prepubescent child or children (generally age 13 years or younger).

B. The person has acted on these sexual urges, or the sexual urges or fantasies caused marked distress or interpersonal difficulty.

C. The person is at least age 16 years and at least 5 years older than the child or children in Criterion A.

Note: This does not include an individual in late adolescence involved in an ongoing sexual relationship with a 12- or 13-year-old.

Diagnostic Critiera for Pedophilia
Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders, Fourth Edition, Psychiatry Online

“According to the DSM-IV definition, pedophilia involves sexual activity by an adult with a prepubescent child. Some individuals prefer females, usually 8- to 10-year-olds. Those attracted to males usually prefers slightly older children. Some prefer both sexes. While some are sexually attracted only to children, others also are sometimes attracted to adults.

Pedophiliac activity may involve undressing and looking at the child or more direct physical sex acts. All these activities are psychologically harmful to the child, and some may be physically harmful. In addition, individuals with pedophilia often go to great lengths to obtain photos, films or pornographic publications that focus on sex with children.

These individuals commonly explain their activities with excuses or rationalizations that the activities have “educational value” for the child, that the child feels “sexual pleasure” from the activities or that the child was “sexually provocative.” However, child psychiatrists and other child development experts maintain that children are incapable of offering informed consent to sex with an adult. Furthermore, since pedophiliac acts harm the child, psychiatrists condemn publications or organizations that seek to promote or normalize sex between adults and children.”

Diagnostic Critiera for Pedophilia
Medem Medical Library

DSM-IV এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, একজন পেডোফাইলের কেবলমাত্র বাচ্চা মেয়েদের প্রতি প্রলোভন থাকবে এমন কোনো কথা নেই, এ ধারনা ভুল। বরং DSM-IV বলে, যদি কারো একবারের জন্যও একটি বাচ্চা মেয়ের প্রতি যৌন প্রলোভন থাকে অথবা যৌনসংগম করে।

ঐসময় আরবে ৯ বছর বয়সী মেয়ের সাথে যৌনসংগম করা স্বাভাবিক ছিলো। এটা সংস্কৃতি বিষয়ক সাধারণ আচরণ ছিলো

প্রথমে ধরে নিলাম, ঐসময় আরবে ৯ বছর বয়সী মেয়েদের সাথে যৌনসংগম করা স্বাভাবিক ঘটনা ছিলো। তবে ইসলামপন্থীদের জন্য দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে এভাবে পেডোফিলিয়া বা যেকোনো অপরাধ কোনো নবীর জন্য তো দূরের কথা, এমনকি কোনো সাধারণ মানুষের জন্যও সমর্থনযোগ্য করা যায়না।

বর্তমান সময়ে আমরা বুঝি যে, একজন মানুষকে দাসী হিসেবে বন্দী করে রেখে তাকে ধর্ষন করা জঘন্যতম একটি অপরাধ। মধ্যযুগীয় মানুষদের মধ্যে আমাদের মতো বিবেক, বিচারবিবেচনা করার সামর্থ্য ছিলোনা এবং তারা মনে করতেন একজন মানুষকে দাসী হিসেবে বন্দী করে তার শরীর তার যোনিপথ নিজের ইচ্ছামত ব্যবহার করা সমর্থনযোগ্য। এখন আসল কথা হচ্ছে, ঐসময়ের মানুষদের ভাবনায় একজন মানুষকে বন্দী করে রেখে ধর্ষণ করা সমর্থনযোগ্য হলেই তা প্রকৃতপক্ষে সমর্থনযোগ্য হয়ে যায়না। বাস্তবতা অনুযায়ী, যা লজিক্যালী অপরাধ তা সবসময়ের জন্য অপরাধ। ঠিক তেমনি, ঐসময়ের মানুষদের কাছে বাল্যবিবাহ সমর্থনযোগ্য হলেই তা প্রকৃতপক্ষে সমর্থনযোগ্য হয়ে যায়না। কেননা লজিক্যালী বাল্যবিবাহ একটি অপরাধ।

ধরুন, ২০ বছর পর অর্থাৎ ভবিষ্যতে সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিষ্টান প্রধান সকল দেশে মুসলিম হত্যা করা একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়ালো। খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করতে লাগলেন, মুসলিমদের কোথাও পেলেই হত্যা করতে হবে, তাদেরকে বেঁচে থাকতে দেওয়া যাবেনা। এখন কথা হচ্ছে, ভবিষ্যতে খ্রিষ্টানদের ভাবনায় নিরপরাধ মুসলিম হত্যা করা সমর্থনযোগ্য হলেই কি আপনি মুসলিম হত্যাকারীদের নিরপরাধ বলে মেনে নিবেন? অবশ্যই মেনে নিবেন না।

ঐসময়ের আরবের মানুষদের মধ্যে ৯ বছর বয়সী বাচ্চা মেয়েদের সাথে যৌনসংগম করা স্বাভাবিক ঘটনা হলেও সর্বসময়ের জন্য আদর্শ চরিত্রের একজন মহামানবের জন্য তা কখনওই স্বাভাবিক ঘটনা হবে না। তাহলে ঐসময়ের সাধারণ মানুষ এবং সর্বসময়ের জন্য আদর্শ চরিত্রের মহামানবের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকেনা। ঐসময়ের কোনো সাধারণ মানুষ সর্বসময়ের জন্য আদর্শ কোনো চরিত্র নন। ইসলাম অনুযায়ী, ইসলামের শেষ নবী সর্বসময়ের জন্য একজন আদর্শ চরিত্র যাকে সারাবিশ্ব অনুসরণ করবে। সুতরাং, বিবেকবোধ ও বিচারবিবেচনা করার সামর্থ্যের অভাবে ঐসময়ের মানুষদের মধ্যে ভিন্নমতপোষণকারীদের হত্যা করা স্বাভাবিক হলেও সর্বসময়ের জন্য আদর্শ চরিত্রের একজন মানুষের কাছে তা স্বাভাবিক হতে পারেনা। একইভাবে, বিবেকবোধ ও বিচারবিবেচনা করার সামর্থ্যের অভাবে ঐসময়ের মানুষদের মধ্যে পেডোফিলিয়া স্বাভাবিক হলেও সর্বসময়ের জন্য আদর্শ চরিত্রের একজন মানুষের কাছে তা স্বাভাবিক হতে পারেনা।

এবার আসি আসল কথায়। আসল কথা হচ্ছে, ঐসময় আরবে অমুসলিমদের মধ্যে পেডোফিলিক বিবাহ সমর্থনযোগ্য ছিলো বলে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়না। আমরা যা তথ্য পাই, তা সব মুসলিমদের তথ্য, সুতরাং ইসলামপন্থীদের দাবিটি অর্থহীন কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। মধ্যযুগীয় মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদী সংস্কৃতিতে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হতো ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সে [15]। আবার স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে বিশাল বয়স ব্যবধানও ছিলো না [16] [17]। অথচ মোহাম্মদ আর আয়েশার মধ্যে ৪৫ বছরের বিশাল বয়স ব্যবধান ছিলো।

আবারও বলছি, ঐসময়ের সব মানুষের কাছে কোনোকিছু সমর্থনযোগ্য ছিলো মানে এই নয় যে তা প্রকৃতপক্ষে সমর্থনযোগ্য।

প্রাক ইসলামিক আরবে মদ্যপান করা একটি অনুমোদিত ক্রিয়াকলাপ ছিলো যা তিনি মুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ করে গেছেন। তিনি কি একইভাবে মুসলিমদের জন্য পেডোফিলিয়া নিষিদ্ধ করে যেতে পারতেন না? বরং সর্বসময়ের জন্য আদর্শ চরিত্রের একজন মহামানব অবশ্যই পেডোফিলিয়াকে ঘৃণা করতেন। বাস্তবতা হচ্ছে তিনি সর্বসময়ের জন্য আদর্শ চরিত্রের মানুষ হওয়া তো দূরের কথা বরং নিজ সময়ের জন্যও একজন হীন চরিত্রের লোক ছিলেন।

ঐসময়ের মানুষদের জীবনকাল খুব কম ছিলো। ঐসময়ের ৯ বছর বয়সী একজন মেয়ে এসময়ের ২০ বছর বয়সী একজন মেয়ের তুলনীয়

আয়ু বলতে বোঝায়, জীবনের গড় দৈর্ঘ্য এবং গড় জীবনকাল বলতে বোঝায়, ইনফ্যান্ট স্টেজ পার হওয়ার পর মানুষ কতকাল জীবিত ছিলো। অর্থাৎ, “ঐসময় মানুষের জীবনকাল খুব কম ছিলো” কথাটার অর্থ এই নয় যে ঐসময়ের মানুষের জীবনচক্র খুব দ্রুততর ছিলো। কথাটার অর্থ হলো, এসময়ের তুলনায় ঐসময় অনেক বেশি মানুষ অল্পবয়স্ক অবস্থায় মারা যেতেন।

ধরা যাক, কোনো দেশে মানুষের গড় আয়ু ছিলো ৩২ বছর বয়স। যার অর্থ এ নয়, সেই দেশে একজন মানুষ ৩২ বছর বয়সে বৃদ্ধ হয়ে যেত। যার অর্থ প্রচুর মানুষ জন্মের সময় কিংবা ৫ বছর বয়সে অথবা ১১ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলো যা গড় আয়ু নিচে নামিয়েছে। সুতরাং সপ্তম শতাব্দীর নয় বছরের বাচ্চা মেয়ের সাথে এসময়ের ২০ বছরের প্রাপ্তবয়স্ক নারীর তুলনা করা একেবারেই অর্থহীন।

তাছাড়াও, তথাকথিত মহামানব জীবিত ছিলেন ৬৩ বছর বয়স পর্যন্ত, আয়েশা জীবিত ছিলেন ৬৬ বছর বয়স পর্যন্ত, আসমা বিনতে আবু বকর জীবিত ছিলেন ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত, আবু বকর জীবিত ছিলেন ৬১ বছর বয়স পর্যন্ত। এযুগের তুলনায় কি এসব অল্পকালব্যাপী জীবন?

সকল ধর্ম প্রতিষ্ঠাতাই তাদের সময়ের মানুষ। এসময়ের মান দিয়ে আমরা তাদেরকে বিচার করতে পারিনা

ইসলাম অনুযায়ী, ইসলামের শেষ নবী ও রাসূল সর্বসময়ের জন্য অনুসরণযোগ্য আদর্শ চরিত্রের একজন মানুষ ছিলেন। ইসলামে তিনি সর্বসময়ের জন্য অনুসরণযোগ্য চরিত্র বলেই তার চরিত্র আসলেই সর্বসময়ের জন্য অনুসরণযোগ্য কিনা তা বিচার করতে হবে। উপরেও বলেছি, ঐসময়ের সাধারণ মানুষ যাদের সর্বসময়ের জন্য অনুসরণযোগ্য দাবি করা হয় না তারা বিবেকবোধ ও বিচারবিবেচনা করার সামর্থ্যের অভাবে পেডোফাইল হলেও সর্বসময়ের জন্য অনুসরণযোগ্য একজন মানুষ কখনওই পেডোফাইল হতে পারেননা।

যুগের সাথে সাথে নৈতিকতার মান বদলাবে এমন ধারনা কোরআন বিরোধী, কেননা ইসলাম অনুযায়ী কোরআন সর্বসময়ের জন্য প্রযোজ্য জীবন বিধান। আর সর্বসময়ের জন্য প্রযোজ্য কোরআন পেডোফিলিয়া সমর্থন করে। তাছাড়া প্রধান ধারার মুসলিমরা বর্তমানের স্ট্যান্ডার্ডে নৈতিকতা বিচার করেন না। তারা নৈতিকতা বিচার করে থাকেন মোহাম্মদের স্ট্যান্ডার্ডে।

বর্তমান সময়েও লাখ লাখ বাচ্চা মেয়েদের পেডোফিলিক বাল্যবিবাহ দেওয়া হচ্ছে। অনেক ইসলামিক দেশে আয়েশা ও মোহাম্মদের বাল্যবিবাহকে জাস্টিফিকেশন হিসেবে ব্যবহার করা হয় [18] [19] [20] [21] [22]। তাছাড়া বিকাশমান বিভিন্ন দেশে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে বাধা প্রদান করতেও আয়েশার বাল্যবিবাহ ব্যবহার করা হয়েছিলো [21] [23] [24] [25]

মেরি ৯০ বছর বয়সী জোসেফকে বিয়ে করেন যখন তার বয়স ছিলো ১২ বছর। সুতরাং জোসেফও একজন পেডোফাইল ছিলেন

যারা এরকম দাবি করেন তারা প্রত্যেকেই একি নতুন আবির্ভাব ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া পেজ উল্লেখ্য করেন [26]। তারা যা উল্লেখ্য করেন না তা হলো এই পেজটি সতর্কবাণী দ্বারা শুরু হয়, “The apocryphal literature is full of details, the non-admittance of these works into the Canon of the Sacred Books casts a strong suspicion upon their contents” [27].

উইকিপিডিয়া অনুযায়ী apocrypha মানে হচ্ছে মিথ্যা, সন্দেহজনক প্রমাণ এবং খ্রিষ্টীয় গ্রন্থ যা আনুশাসনিক নয় [28]। সেসব জাল হাদিসের সমতুল্য বলে বিবেচিত হতে পারে।

যা আনুশাসনিক নয় তা একজন খ্রিস্টান ধর্ম অনুসারী প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। এমন কোনো প্রামাণিক খ্রিস্টীয় গ্রন্থ নেই যেখানে মেরির বয়স উল্লেখ্য করা হয়েছে।

তারপরও আমরা যদি মেনে নেই তাদের দাবি সঠিক তারপরও সেটা একটি লজিক্যাল ফ্যালাসি তৈরি করে। জোসেফ পেডোফাইল হলেই মোহাম্মদের পেডোফাইল হওয়া গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়না। এধরনের লজিক্যাল ফ্যালাসিকে বলে tu-quoque logical fallacy. ধরুন, পাড়ার এক ছেলে ফাহিম তার বন্ধু জিসানকে বললেন, “এই তুই আমার বোন শীলাকে টিজ করিস কেন”? উত্তরে জিসান আবার বললেন, “কেন তুইও তো আমার বোন মুন্নিকে টিজ করিস”! এখানে ঘটনা কি ঘটলো? জিসান তার নিজের অপরাধ ফাহিমের অপরাধ দ্বারা ন্যায়সংগত প্রমাণ করতে চাইলেন। তবে সমস্যা হচ্ছে, একটি অপরাধকে আরেক অপরাধ দ্বারা ন্যায়সংগত প্রমাণ করা যায়না। আমি আজকে কোনো মেয়েকে টিজ করলে সেটা অবশ্যই আমার অপরাধ, একইভাবে আপনি কোনো মেয়েকে টিজ করলে সেটা অবশ্যই আপনার অপরাধ। আমি কোনো মেয়েকে টিজ করলেই আপনার কোনো মেয়েকে টিজ করা সমর্থনযোগ্য হয়ে যায়না। ঠিক সেজন্যই, মোহাম্মদের পেডোফিলিয়া ডিফেন্ড করতে ইনিও পেডোফাইল ছিলেন তিনিও পেডোফাইল ছিলেন এধরনের কথাবার্তা বলা সত্যি বেশ হাস্যকর। পড়াশোনা জানা লোক যখন এধরনের কথাবার্তা বলে তখন উপলব্ধি করা যায় যে, ধর্ম মানুষকে কতোটা অন্ধ করে রাখতে পারে।

তাছাড়া খ্রিস্টান ধর্মের জোসেফ আর ইসলাম ধর্মের মোহাম্মদের মধ্যে কোনোরূপ তুলনা করা যায়না। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী ইসলামের শেষ নবী মোহাম্মদ হলেন, সর্বযুগের জন্য অনুসরণযোগ্য আদর্শ চরিত্রের একজন মহামানব। অপরদিকে, খ্রিষ্টান ধর্মে জোসেফ সর্বসময়ের জন্য অনুসরণযোগ্য আদর্শ চরিত্রের কোনো মানুষ নন। জোসেফের চরিত্র খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বে কোনো ভূমিকা রাখে না।

এছাড়াও, বিবাহিত জীবনে কখনো যৌনসংগম হবে না বুঝেই জোসেফ মেরি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় কথাটি উল্লেখ্য করার মাধ্যমে সেই নতুন আবির্ভাব ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া পেজ জোসেফের জীবনের ধারাবাহিক বর্ণনা অব্যাহত রাখে [29]।

আবার, রোমান ক্যাথলিক, এংলো ক্যাথলিক, ইস্টার্ন অর্থোডক্স এবং অরিয়েন্টাল অর্থোডক্স খ্রিস্টানসহ বিশ্বের অধিকাংশ খ্রিষ্টানদের বিশ্বাসের অত্যাবশ্যক অংশ হলো, জেসাস ক্রাইস্টের মা মেরি তার সারাজীবন ধরে একজন ভার্জিন নারী ছিলেন [30]।

পরিশেষে, জোসেফকে পেডোফাইল প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে যেই লেখা তুলে ধরা হয় সেই একি লেখা আবার বলে, মেরি চিরকাল ভার্জিন ছিলেন [31]।

এমনকি আজকের দিনেও আমেরিকার কিছু রাজ্য ১৫ বছর বয়সী, ১৪ বছর বয়সী এমনকি ১৩ বছর বয়সী মেয়েদের বিয়ের অনুমতি দেয়

আমেরিকায় রাজ্য ভেদে বিবাহের বয়সে কিছু তারতম্য আছে তবে সার্বজনীনভাবে ১৮ [32]। অধিকাংশ রাজ্য ১৮ এর নিচে বিয়ের অনুমোদন দেয় (স্বাভাবিক ভাবে ১৬ বা কখনো তার নিচে) পিতামাতা এবং বিচারিক অনুমোদনে।

যথাসময়ের পূর্বে বিবাহের আইন বয়ঃসন্ধিকালের কিশোর কিশোরীদের জন্য যারা প্রেমে পড়েছেন, গর্ভবতী হয়েছেন এবং বিবাহের ইচ্ছা পোষণ করেন। তারা কখনওই পেডোফিলিয়ার অনুমোদন দেন না।

উদাহরণ হিসেবে টেক্সাসের কথা উল্লেখ্য করা যায়, যেখানে বিবাহের মিনিমাম বয়স ১৮ বছর বয়স তবে পিতামাতা এবং বিচারিক অনুমোদনে বিয়ের মিনিমাম বয়স ১৪ বছর বয়স। আবার, একটি মেয়ের বয়স যখন ১৭ এর নিচে তখন কোনোভাবেই তার সেক্সুয়াল পার্টনার বয়সে তারচেয়ে ৩ বছরের বড় হতে পারবেনা এবং অবশ্যই প্রমাণিত হতে হবে, এতে কোনো জোরজবরদস্তি, জুলুম ও ভীতিপ্রদর্শন ছিলো না [33]। অর্থাৎ, একজন ১৪ বছর বয়সী একজন ১৭ বছর বয়সীর সাথে যৌনসংগম করতে পারবেন অনুমোদনের সাথে, তবে ১৮ বছর বয়সীর সাথে নয়। এতে সেই ১৮ বছর বয়সী সংবিধিবদ্ধ ধর্ষণের একজন যৌন অপরাধী হবেন।

যদি সমসাময়িক আমেরিকান আইন দ্বারা ৫৪ বছর বয়সী মোহাম্মদকে বিচার করা হয় তাহলে তিনি সংবিধিবদ্ধ ধর্ষণের একজন যৌন অপরাধী বলে বিবেচিত হবেন।

1.  How many times name of the holy prophet Muhammad mentioned in Quran? – Answers.com, accessed October 24, 2011
2. ‎ Much like the hadith literature and prophetic biographies, the early non-Muslim references to Muhammad that do exist seem to paint a very negative picture of him. For example; the Doctrina Jacobi portrays him as a bandit, and the Mandaeans’ Haran Gawaitha depicts him as the “Son-of-Slaughter, the Arab” converting “people to himself by the sword.”
3. ‎  Sunan Ibn Majah, “The Book of Purification and its Sunnah – كتاب الطهارة وسننها”, Sunnah.com, English ref: Vol. 1, Book 1, Hadith 662, Arabic ref: Book 1, Hadith 707, accessed June 30, 2013
4. ‎Muzammil Siddiqi, “May People Act According to a Weak Hadith?”, Islam Online, Fatwa Bank, September 27, 2003
5. ‎Little Girls Playing With Dolls
The Islamic Ruling Concerning Tasweer, Abu Muhammad Abdur-Ra’uf Shakir
6. Islam Q&A, Fatwa No. 49844
7. ‎The Young Marriage of `Âishah(R)
Madrassah In’aamiyya
8. Frederic Thomas, François Renaud, Eric Benefice, Thierry de Meeus, Jean-Francois Guegan, “International Variability of Ages at Menarche and Menopause: Patterns and Main Determinants,” Human Biology: Volume 73, Number 2, April 2001, pp. 271-290, 10.1353/hub.2001.0029
9. ‎ Table on the mean ages of menarche around the world (Reference: “Average age at menarche in various cultures,” The Museum of Menarche (mum.org), accessed January 12, 2013).
10. ‎Average age at menarche in various cultures – Mum.org, accessed January 12, 2013
11. ‎Ryan C. W. Hall, MD, and Richard C. W. Hall, MD, PA, – “A profile of Pedophilia: Definition, Characteristics of Offenders, Recidivism, Treatment Outcomes and Forensic Issues” – Page 459, April 2007;82(4):457-471 • www.mayoclinicproceedings.com
12. ‎ Goodwin, Jan. Price of Honour: Muslim Women Lift the Veil of Silence on the Islamic World. UK: Little, Brown Book Group, 1994
13. ‎ “(Suhayli, ii. 79: In the riwaya of Yunus I. I. recorded that the apostle saw her (Ummu’lFadl) when she was a baby crawling before him and said, ‘If she grows up and I am still alive I will marry her.’ But he died before she grew up and Sufyan b. al-Aswad b. ‘Abdu’l-Asad al-Makhzumi married her and she bore him Rizq and Lubab…” – Ibn Ishaq, The Life of Muhammad: A Translation of Ishaq’s Sirat Rasul Allah, translated by A. Guillaume [Oxford University Press, Karachi] 14. ‎ “Muhammad saw Um Habiba the daughter of Abbas while she was fatim (age of nursing) and he said, “If she grows up while I am still alive, I will marry her.”” – Musnad Ahmad, Number 25636
15. Kiddushin (tosafot) 41a
16. ‎ Yebamot 44a
17. ‎ Sanhedrin 76a
18. ‎Sheik Abdul-Aziz Ibn Baaz, supreme religious authority of Saudi Arabia: “…If she is married without her permission, by threat or coercion, then the marriage is not valid. The only exeption is in the case of the father and his daughter who is less than nine years of age. There is no harm if he gets her married while she is less than nine years old, according to the correct opinion. This is based on the messenger of Allah (peace be upon him) marrying Aisha without her consent when she was less than nine years old, as is stated in authentic Hadith…” – Questions Related to Marriage/ Is it allowed for a father to force his daughter to marry a specific man that she does not want to marry? – Muslim Students Organization of the University of Houston
19. ‎Sheikh Hamoud Hashim al-Tharihi, general secretary of the Vice and Virtue Committee and member of the Islah Party in Yemen: “Because this happened to the Prophet, we cannot tell people that it is prohibited to marry at an early age” – Child marriage and divorce in Yemen – Jenny Cuff, BBC, November 6, 2008
20. ‎Mufti Fazlul Haque Amini: “Banning child marriage will cause challenging the marriage of the holy prophet of Islam, who also married minor Ayesha, when she was just eight years old. The new law [seeking to ban child marriages] initiated by the current government [of Bangladesh] will put the moral character of the prophet into controversy and challenge. Islam permits child marriage and it will not be tolerated if any ruler will ever try to touch this issue in the name of giving more rights to women.” – Islamist leader threatens of waging Jihad – Weekly Blitz, April 20, 2011
21. ‎Former governor and current senator of Zamfara State, Nigeria, Ahmed Sani Yerima:

“Child marriage in Islam is permissible. In the Koran there is no specific age of marriage…[If the government imposed new laws against child marriage] There will be violent conflict from the Muslims, saying that ‘no, we will not accept this, we’d rather die than accept something which is not a law from Allah.'” – “Nigeria Child Brides-Broken Lives”, Times Online, November 28, 2008
22. Sheikh Mohamed Ben Abderrahman Al-Maghraoui: “The marriage of nine-year-old girls is not forbidden because according to the Hadith (the Prophet Mohammed’s sayings), Mohammed married Aisha when she was only seven-years-old and he consummated his union when she was nine.” – Moroccan theologian: Muslim girls can wed at nine – Middle East Online, September 15, 2008
23. ‎Islamist leader threatens of waging Jihad – Weekly Blitz, April 20, 2011
24. ‎yessir – Child Marriage – Death Of 13 Year Old Bride After Wedding – A BIG MESSAGE, April 10, 2010
25. ‎YEMEN: Deep divisions over child brides – IRIN, March 28, 2010
26. ‎ Charles Souvay – St. Joseph – The Catholic Encyclopedia. Vol. 8. New York: Robert Appleton Company, 1910. 24 Oct. 2011
27. ‎ “The chief sources of information on the life of St. Joseph are the first chapters of our first and third Gospels; they are practically also the only reliable sources, for, whilst, on the holy patriarch’s life, as on many other points connected with the Saviour’s history which are left untouched by the canonical writings, the apocryphal literature is full of details, the non-admittance of these works into the Canon of the Sacred Books casts a strong suspicion upon their contents; and, even granted that some of the facts recorded by them may be founded on trustworthy traditions, it is in most instances next to impossible to discern and sift these particles of true history from the fancies with which they are associated. Among these apocryphal productions dealing more or less extensively with some episodes of St. Joseph’s life may be noted the so-called “Gospel of James”, the “Pseudo-Matthew”, the “Gospel of the Nativity of the Virgin Mary”, the “Story of Joseph the Carpenter”, and the “Life of the Virgin and Death of Joseph”.” – St. Joseph – Charles Souvay, The Catholic Encyclopedia. Vol. 8. New York: Robert Appleton Company, 1910. 24 Oct. 2011
28. ‎ Apocrypha – Wikipedia, accessed October 24, 2011
29. ‎ “This marriage, true and complete, was, in the intention of the spouses, to be virgin marriage (cf. St. Augustine, “De cons. Evang.”, II, i in P.L. XXXIV, 1071-72; “Cont. Julian.”, V, xii, 45 in P.L. XLIV, 810; St. Thomas, III:28; III:29:2). But soon was the faith of Joseph in his spouse to be sorely tried: she was with child. However painful the discovery must have been for him, unaware as he was of the mystery of the Incarnation, his delicate feelings forbade him to defame his affianced, and he resolved “to put her away privately; but while he thought on these things, behold the angel of the Lord appeared to him in his sleep, saying: Joseph, son of David, fear not to take unto thee Mary thy wife, for that which is conceived in her, is of the Holy Ghost. . . And Joseph, rising from his sleep, did as the angel of the Lord had commanded him, and took unto him his wife” (Matthew 1:19, 20, 24).” – St. Joseph – Charles Souvay, The Catholic Encyclopedia. Vol. 8. New York: Robert Appleton Company, 1910. 24 Oct. 2011
30. ‎ Perpetual virginity of Mary – Wikipedia, accessed October 24, 2011
31. ‎ The History of Joseph the Carpenter – Interfaith Online, accessed October 24, 2011
32. ‎Nebraska (19) and Mississippi (21)
33. ‎ “Sec. 21.11. Indecency With A Child.
Angel A person commits an offense if, with a child younger than 17 years of age, whether the child is of the same or opposite sex, the person: (1) engages in sexual contact with the child or causes the child to engage in sexual contact; or (2) with intent to arouse or gratify the sexual desire of any person: […] (b) It is an affirmative defense to prosecution under this section that the actor: (1) was not more than three years older than the victim and of the opposite sex; (2) did not use duress, force, or a threat against the victim at the time of the offense; “, Texas Penal Code: Title 5. Offenses Against the Person. Chapter 21. Sexual Offenses.

Facebook Comments

Marufur Rahman Khan

Atheist, Feminist

Leave a Reply