অবশেষে আসিফ মহিউদ্দীনের ইসলাম গ্রহণ।

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাইয়া অবশেষে স্বঘোষিত নাস্তিক আসিফ মহিউদ্দীন ইসলাম ধর্ম কবুল করিলেন। বিশ্বাস হইতেছে না? বিশ্বাস না হইবারই কথা। এহেন বদমাশ নাস্তিক যে এইভাবে ইসলাম কবুল করিবেন কে জানিতো? তিনি সম্প্রতি পাক কুরআন ছুইয়া শপথ লইলেন যে তিনি আর নবী মুহাম্মাদ মোস্তফা এবং আল্যাতালার সম্পর্কে বেয়াদবি করিবেন না। আসিফ মহিউদ্দীন তাহার নাস্তিক বন্ধু এবং শুভানুধ্যায়ীদের আহ্বান জানাইয়া এক বিবৃতিতে বলিয়াছেন “হে আহাম্মক নাস্তিক ভাই এবং বন্ধুরা, এতদিন নাফরমানী আর গোমরাহীর পথ ছাড়িয়া অবশেষে আমি সত্যের সন্ধান পাইয়াছি, আল্যাতালার নূরের আলোয় নিজের অন্তর আলোকিত করিয়াছি। আসুন, আমরা দলে দলে পাক ইছলাম কবুল করিয়া দুনিয়া এবং আখিরাতের অশেষ নেকী এবং ৩৬-২৬-৩৬ ফিগারের ঝাক্কাছ হুর হাছিল করি। নিশ্চয়ই আল্যাতালা পরম দয়ালু এবং ভয়ংকর শাস্তিদাতা!”

আল্লাহ মেহেরবান,
করিবেন হুর গেলমান দান।

কী সেই মোজেজা? কী সেই অসামান্য উপলব্ধি? যার কারণে এই রকম ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক অবশেষে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় ফিরিয়া আসিলেন? এ এক অপূর্ব ঘটনা, খোদাবিরোধীদের প্রতি আল্যাতালার সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং আল্যাতালার মোজেজা, তিনিই তো মাটির গাছে লাউ পয়দা করেন এবং সেই লাউকে কাঁঠালে পরিনত করেন। এমনকি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত সমগ্র বিশ্বের সবচাইতে বড় বিজ্ঞানী সংস্থা ইউনাইটেড সায়েন্টিস্ট ফেডারেশন এর প্রধান মহান বিজ্ঞানী মাইকেল আবজাব পর্যন্ত স্বীকার করে নিয়েছেন, কোরান আল্লহর বাণী। আল্লাহ ছাড়া এরকম বিজ্ঞানময় কেতাব কোন মানুষের পক্ষে লেখা সম্ভবই না। বলেন সুবহানাল্লা।

খবরে প্রকাশ, কঠোর নাস্তিক এবং ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মবিদ্বেষী আসিফ মহিউদ্দীন গত কয়েকদিন ধরিয়া খোদাবিরোধী প্রচারণা চালাইবার উদ্দেশ্যে পাক কুরআন অত্যন্ত গভীর মনোযোগের সহিত পাঠ করিতেছিলেন। পাঠ করিতে করিতে হঠাৎ তাঁহার উপলব্ধি হইলো, এই তো সেই বিজ্ঞানময় কেতাব, সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাংকেতিক নিদর্শনওয়ালা অসামান্য আসমানী মোজেজা “যাহার বিষয়ে কোনোই সন্দেহের অবকাশ নাই”।
আসিফ মহিউদ্দীন সেই রাত্রিতেই এক-এক করিয়া আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার একে-একে পাক কুরআনে খুঁজিতে লাগিলেন এবং আশ্চর্য হইয়া দেখিলেন, কুরআনে সকল বিজ্ঞানই সাংকেতিক ভাষায় লিপিবদ্ধ করা রহিয়াছে। শুধু তাহাই নয়, ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর ঘটনাবলী সম্পর্কে সুস্পষ্ট আভাস-ইঙ্গিতও দেওয়া হইয়াছে।

প্রথমেই দেখা যাক, পাক কুরআনে কী কী বিজ্ঞান আসিফ মহিউদ্দীন খুঁজিয়া পাইয়া নেক আমলকারী বান্দাদের খাতায় এবং বেহেস্তের অসংখ্য হূরীর পতি হিসেবে নিজের নাম লিখাইয়াছেন।

যাঁহারা বিজ্ঞানমনস্ক এবং ইসলামের সেবক, যাহারা ইসলামি বিজ্ঞানের বিজ্ঞানের সকল জটিল তত্ত্ব একটি পাত্রে ঢালিয়া ঘোল বানাইয়া কুৎ করিয়া গিলিয়া ফেলিয়াছেন, তাঁহারা সকলেই আসিফের সাথে একমত হইবেন যে, কুরআনই পরমবিজ্ঞানময় কেতাব এবং সকল জ্ঞানের নিদর্শনই কুরআনে দেওয়া রহিয়াছে। কিন্তু যাহারা বিজ্ঞান পাঠ করেন নাই, করিলেও ভাসা-ভাসা জ্ঞান (বিশ্ববিদ্যালয়ের মোটামোটা ডিগ্রী দেখিয়া ভুল করিবেন না, তাহাদের মোটামোটা ডিগ্রী থাকিতে পারে, কিন্তু পাক কলাম তাহারা কলবে ধারণ করেন নাই বলিয়া জ্ঞান সীমাবদ্ধ হইয়া গিয়াছে), গভীরে প্রবেশ করিতে সমর্থ হন নাই, যাঁহারা চোখের উপর ঠুলি পরিয়া রহিয়াছে, আল্যাতালা যাঁহাদের অন্তরে সিল মারিয়া দুনিয়ার চৌরাস্তায় পাছায় কষে লাথি মারিয়া ছাড়িয়া দিয়াছেন। তাঁহারা এই সকল তত্ত্ব কিছুই অনুধাবন করিতে পারিবেন না। অতএব সেই সকল পাঠক অযথা ত্যানা প্যাঁচাইয়া বা নাফরমানী যুক্তি-প্রমাণ চাহিয়া খোদাতালার অপমান করিবেন না। আপনারা বিজ্ঞান বোঝেন না, ইহা মানিয়া লওয়াই আপনাদের জন্য উত্তম।

আসুন, দেখা যাক, পাক কুরআনে আসিফ কী কী বিজ্ঞান খুঁজিয়া বাহির করিতে সমর্থ হইয়াছেন।

আল্লাহ বিগ ব্যাং এর সময় হও বলিলেন

এক। এই মাত্র সেদিন স্টিফেন হকিং বলিয়াছেন মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে ঈশ্বরের ভূমিকা গৌণ, আসলে কোনো ভূমিকাই নাই। এই ২০১০ সালে পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং যে কথা বলিয়াছেন, পবিত্র কুরআনে আল্যাপাক সেই চোদ্দশত বছর পূর্বেই এই কথা বলিয়া দিয়াছেন। আল্যাতালা পবিত্র কুরআনে বলিয়াছেন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” অর্থাৎ ” আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই”। ইহা হইতে প্রমাণিত হয়, মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে ঈশ্বরের কোনো ভূমিকাই নাই, থাকিতে পারে না। সব অযৌক্তিক অবৈজ্ঞানিক কথাবার্তা। মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে এক এবং কেবল মাত্র আল্যাতালা ছাড়া আর কারো কোনো অবদান নাই, থাকা সম্ভব নয়। স্টিফেন হকিং বলেন নাই যে, মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে আল্লাহর কোন ভূমিকা নাই। বিষয়টা বুঝতে হবে।  যদিও স্টিফেন হকিং এখনও আবিষ্কার করিতে সক্ষম হন নাই যে, মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে ঈশ্বর নয়, আসলে আল্য্যার হাত রহিয়াছে, তথাপি বিবেকবান এবং বিজ্ঞানমনস্ক মানুষেরা, যাঁহাদের পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান আছে, তাঁহারা মানিয়া লইবেন যে, আজ প্রমাণিত হইল, মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে ঈশ্বরের ভূমিকা নহে, রহিয়াছে আল্য্যাপাকের ভূমিকা। বলেন সুভানাল্লাহ।

তাছাড়া পবিত্র কুরআনে আল্যাপাক বলেছেন, “আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা এবং যখন তিনি কিছু করতে ইচ্ছা করেন তখন শুধু বলেন, ‘হও’ আর তা হয়ে যায়।”

অর্থাৎ এখানে ওনার কোনো ভূমিকাই পালন করতে হয় না, শুধু হও বলতে হয় মাত্র। পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তাই শুধুমাত্র পবিত্র কুরআনের প্রতিধ্বনি করিয়াছেন মাত্র। অর্থাৎ কোরানে সেই ১৪০০ বছর পুর্বেই আল্লাহপাক স্টিফেন হকিং এর এই বক্তব্য লিখিয়া রাখিয়াছেন। স্টিফেন হকিং শুধুমাত্র কোরানের প্রতিধ্বনিই করিয়াছে মাত্র। বলেন আলহামদুলিল্লাহ।

চিঠিপত্র মেইল টেলিফোন মোবাইল ফোন সবই তো কোরান থেকেই আইডিয়া নেয়া

দুই। আমরা সকলেই জানি, স্যামুয়েল মোর্স নামক আমেরিকান বিজ্ঞানী মোর্স কোড আবিষ্কার করিয়াছেন। কিন্তু তিনি কখনোই যেটা স্বীকার করেন নাই, সেটা হচ্ছে এই আবিষ্কার তিনি কীভাবে করিয়াছেন। হ্যাঁ, অবশেষে আসিফ ইহা অনুধাবন করিতে পারিলো যে, মোর্স সাহেব কুরআন পাঠ করিয়াই মোর্স কোড তথা টেলিগ্রাফ আবিষ্কার করিয়াছেন।

কুরআন বলছে:

” Then Adam received from his Lord [some] words, and He accepted his repentance. Indeed, it is He who is the Accepting of repentance, the Merciful. (২:৩৭)

এই আয়াতের Then Adam received from his Lord [some] words –  এই অংশের বঙ্গানুবাদ করিতে হইবে এইভাবে “আদম লাভ করিলো তাহার প্রভুর থেকে সাংকেতিক বার্তা”। আসমান হইতে যেই বার্তা পৃথিবীতে আগমন করে, একজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষমাত্রই বুঝিতে সমর্থ হইবেন যে, সেই বার্তা সাধারণ কোনো বার্তা নহে, তাহা ছিল সাংকেতিক বা কোডেড বার্তা। তাই এইখানে “প্রভুর বাণী” কে প্রভুর সাংকেতিক বা কোডেড বার্তা হিসেবে ধরাটাই যে কোনো বিবেকবান এবং বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের উচিত হইবে।
এখন প্রশ্ন হইলো, এই সাংকেতিক বা কোডেড বার্তা বলিতে কী বুঝানো হইয়াছে? ইহা কি আধুনিক কালের মোর্স কোড বা বেতারে বার্তা প্রেরণের মত নহে? তাহলে এই যে ইহুদী নাসারা নাস্তিকিদের বিজ্ঞান, সেই বিজ্ঞান কোরান ছাড়া আর কোথা থেকে এই আইডিয়া পাইল?  বলেন সুবহানাল্লাহ!

কোরান পড়িয়া অবাক হইলেন আইনস্টাইন।

তিন।আলবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫), জার্মান বংশোদ্ভুত মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি আপেক্ষিকতাবাদ সহ বেশকিছু তত্ত্বের আবিষ্কারক। আপেক্ষিকতাবাদ সম্পর্কে পবিত্র আল কুরআনে বলা আছে:

He arranges [each] matter from the heaven to the earth; then it will ascend to Him in a Day, the extent of which is a thousand years of those which you count.

(আল্যাতালার এক বছর = মানুষের ১০০০ বছর) এবং আরেক জায়গায় তিনি বলেছেন ৭০: ৪ (আল্লাহর একবছর = মানুষের ৫০০০০)। পবিত্র কুরআনে পাতায় পাতায় আপেক্ষিক তত্ত্বের কথা বলা হয়েছে, খালি একটু খুঁজে বের করার মানসিকতাটুকু জরুরী। মুহাম্মাদ মিরাজে গমন করেন যেখানে বহু পথ পরিভ্রমণের পরেও পৃথিবীতে মাত্র কিছু সময় অতিক্রম হয়। যাহা আসলে আপেক্ষিক তত্ত্বেরই ধারণা, যা ইহুদী নাসারারা চুরি করিয়া নোবেল হস্তগত করিয়া নিয়াছে।

চার।জন ডালটন (১৭৫৫-১৮৪৪), প্রখ্যাত ইংরেজ রসায়নবিদ। তিনি পরমাণুর তত্ত্ব প্রস্তাব করেছিলেন (ডালটনের পরমাণুবাদ)। পবিত্র আল কুরআনের আয়াত ১০: ৬১, ৩৪: ৩, ৩৪: ২২, ৯৯: ৭-৮ এ পরমাণুর সম্বন্ধে স্পষ্ট বলা হয়েছে “একটি পরমাণুর ওজন সমপরিমানের ভাল কাজ”।
সুরাহ ইউনুস আয়াত ৬১:

And not absent from your Lord is any [part] of an atom’s weight within the earth or within the heaven or [anything] smaller than that or greater but that it is in a clear register.

এখন বলেন দেখি, ১৪০০ বছর পুর্বে পরমাণুর ভর সম্পর্কে নবী করিম মোস্তফা কীভাবে নিশ্চিত হইলেন? শোনা যায়, গোপনে এই রসায়নবিদ বিজ্ঞানী জন ডালটন কুরআন পাঠ করতেন এবং শেষ জীবনে তিনি ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন। বলেন সুবহানাল্লাহ।

পাঁচ। চার্লস ডারউইন বিবর্তনবাদের জন্য দুনিয়া বিখ্যাত। কিন্তু এই বিবর্তনবাদের চিন্তা তার মাথায় প্রথম আসিলো কোথা হইতে? হ্যাঁ, আল-কুরআন পড়িয়াই তিনি প্রথম বিবর্তনবাদের প্রাথমিক সুত্র বুঝিতে সক্ষম হন।

পাক কুরআনে আল্যাপাক বলেনঃ

Allah converted some Jews to monkeys and pigs…2:65, 5:60, 7:166

এই আয়াত হইতেই তো তিনি বুঝিতে পারিলেন যে এক প্রাণী হইতে অন্য প্রাণীর উদ্ভব সম্ভব। উহা ছাড়াও ব্যক্তিগত জীবনে তাহার দীর্ঘ দাড়ি ছিল, দশ সন্তানের জনক ডারউইনের যৌনজীবন পর্যালোচনা করিলেও নবী মোস্তফার জীবনের ছায়া দেখিতে পাওয়া যায়। ইহা হইতে কি এটাই প্রমাণ হয় না যে, তিনি মুসলিম ছিলেন? বলেন, হক মাওলা, তালগাছ আমার।

ছয়। জেমস ওয়াটসন (১৯২৮-) এবং ফ্রান্সিস ক্রিক (১৯১৬-২০০৪), মার্কিন বিজ্ঞানী। তাঁরা ডিএনএ কাঠামোর প্রথম নির্ভূল মডেল নির্মান করেছিলেন। পবিত্র আল কুরআনে ডিএনএ তত্ত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট বলা হয় ১৩: ৪ (আল্লাহ গাছপালা এবং শাকসব্জিতে তার তথ্যযুক্তচিহ্ন রেখে দিয়েছেন); ১৬: ৬৬ (গবাদি পশুতে তথ্যযুক্ত চিহ্ন আছে); ২৩: ২১ (গবাদি পশুতে তথ্যযুক্ত চিহ্ন আছে)।

And within the land are neighboring plots and gardens of grapevines and crops and palm trees, [growing] several from a root or otherwise, watered with one water; but We make some of them exceed others in [quality of] fruit. Indeed in that are signs for a people who reason.(১৩:৪)

সাত। গ্রেগর যোহান মেন্ডেল (১৮২২-১৮৮৪), বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়ান জীববিজ্ঞানী এবং জেনেটিক্স এর প্রতিষ্ঠাতা। পবিত্র আল কুরআনে আল্যাতালা পাখির ক্লোনিং উল্লেখ করেনঃ

when Abraham said, “My Lord, show me how You give life to the dead.” [ Allah ] said, “Have you not believed?” He said, “Yes, but [I ask] only that my heart may be satisfied.” [ Allah ] said, “Take four birds and commit them to yourself. Then [after slaughtering them] put on each hill a portion of them; then call them – they will come [flying] to you in haste. And know that Allah is Exalted in Might and Wise.”

(আব্রাহাম চার পাখি হত্যা করেছিল, কিন্তু তারা পুনরায় জীবন্ত হয়েছিল); এখন প্রশ্ন হইলো কীভাবে তাহারা পুনরায় জীবিত হইলো? ইহা কি আধুনিক কালের ক্লোনিং নহে? আল্লাহ পাক কী ক্লোনিং এর কথা আগেই কোরানে বলিয়া দেন নাই?

বলেন, আল্লাহো আকবর!

আট। আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল (১৮৪৭-১৯২২), মার্কিন আবিষ্কারক। তিনি টেলিফোন উদ্ভাবন করেছিলেন।

আসুন দেখি এই বিষয়ে কুরআন কি বলে:


সেই ২০০০ বছর আগে কি সেই প্রযুক্তি, যার দ্বারা আল্যাতালা সাত আসমানের উপর হইতে নবী ঈসার সাথে বাক্যবিনিময় করিতেন? ইহা আর কিছুই নয়, ইহাই আধুনিক সময়ের টেলিফোন। গ্রাহাম বেল যদিও কুরআন পাঠ করিয়াই টেলিফোন আবিষ্কারের মুল ব্যাপারটা অনুধাবন করিতে পারেন, কিন্তু তিনি কখনোই ব্যাপারটা প্রকাশ করেন নাই। প্রকাশ করিলে মার্কিন সরকার তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করিতো। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তিনি গোপনে ইসলাম কবুল করিয়াছিলেন বলিয়া শোনা যায়।

নয়। রেনে দে’কার্ত (১৫৯৬-১৬৫০), ফরাসী দার্শনিক এবং গণিতবিদ। সে কার্টেসিয়ান কো-অর্ডিনেট পদ্ধতির আবিষ্কারক।

আল্যাতালা পাক কুরআনে বলেন:

মুসলিমের কিবলা সম্মুখীন হওয়া উচিত;(২:২৪৯-৫০)

প্রতি জাতির একটি কিবলা রয়েছে।(২:১৪২)


The foolish among the people will say, “What has turned them away from their qiblah, which they used to face?” Say, “To Allah belongs the east and the west. He guides whom He wills to a straight path.”

আল্লাহ তালাহ মুসলিমদের কেবলার কো-অর্ডিনেট পরিবর্তন করে জেরুজালেম থেকে মক্কাকে কিবলা হিসেবে মনোনীত করেন।
রেনে দে’কার্তে যে এথেকেই কো-অর্ডিনেটের ধারনা পান, এটা দিবালোকের মতই সত্য। বলেন এচলাম জিন্দাবাদ!

দশ। রাইট ভাতৃদ্বয়, আমেরিকান, উড়োজাহাজ আবিষ্কারক। পবিত্র আল কুরআনে ঊড়ার প্রাথমিক ধারণা দেন আল্যাতালা:


Do they not see the birds controlled in the atmosphere of the sky? None holds them up except Allah. Indeed in that are signs for a people who believe.( ১৬:৭৯)

এখানে বলা হয়েছে একমাত্র আল্যাই পাখিকে আকাশে ধরিয়া রাখেন। এ থেকেই তিনি মানুষকে ইঙ্গিত দেন যে উড়োজাহাজ বানাইলেই তিনিই উড়োজাহাজকে আসমানে ধরিয়া রাখিবেন। বলেন আল্যা সর্বশক্তিমান!

এগারো। কয়েকদিন আগে কৃত্রিম প্রাণ আবিষ্কার লইয়া নাস্তিক কাফেরগন কি চিল্লাপাল্লাই না করিলেন। ক্রেইগ ভেন্টার নামক এই বিজ্ঞানীকে লইয়া কাফিরগন কি তাণ্ডবই না চালাইলেন! কিন্তু তারা কি জানেন যে পাক কুরআনে আল্যাতালা সেই চোদ্দশত বছর পূর্বেই এই ইঙ্গিত দিয়া রাখিয়াছেন?

You cause the night to enter the day, and You cause the day to enter the night; and You bring the living out of the dead, and You bring the dead out of the living. And You give provision to whom You will without account.” (৩:২৭)

“তিনিই তো জীবিতকে মৃত করেন এবং মৃতকে করেন জীবিত”, এখানে আল্যাতালা সেই কৃত্রিম প্রাণকেই ইঙ্গিত করিয়াছেন, যাহাকে বিজ্ঞানীগণ কুরআন পাঠ করিয়াই বুঝিতে সক্ষম হইয়াছেন। বলেন আল্যাই সর্বজ্ঞানী!

এই রকম আরও বহু সংখ্যক মোজেজা অনুধাবনের পরেই আসিফের মত কট্টর নাস্তিক দ্বীন এচলামের সুশীতল ছায়ায় ফিরিয়া আসিয়াছেন। এতো শুধু উদাহরণ মাত্র, আরও কত শত বিজ্ঞান যে পাক কুরআনে ছড়াইয়া ছিটাইয়া আছে, তাহা একমাত্র আল্যাতালাই জানেন এবং বোঝেন। মানুষের এখনও এত জ্ঞান হয় নাই তাহা অনুধাবন করিবার। তাই সকল আস্তিক-নাস্তিকগণের প্রতি অনুরোধ, অযথা যুক্তিতর্ক না করিয়া, প্রমাণ প্রমাণ করিয়া না চেঁচাইয়া আসুন আমরা বিশ্বাস স্থাপন করি, একবার বিশ্বাস স্থাপন করিলেই সকল কিছুই স্পষ্ট হইয়া উঠিবে, নিজ মস্তিষ্ক দৌড়াদৌড়ি কইয়া নিজ নিজ বিশ্বাসের সপক্ষে যুক্তি প্রমাণ হাজির করিতে থাকিবে।


সকলকে জিহাদী ছালাম। হক মাওলা!

সংযুক্তিঃ লেখাটি সম্ভবত ২০১০ সালের। এই স্যাটায়ার লেখাটি কালের কণ্ঠ পত্রিকার এক ইসলামপ্রেমি সাংবাদিক সিরিয়াস লেখা ভেবে ইসলামি পাতায় খুব সিরিয়াস ভাষায় কপি করে ছাপিয়ে দিয়েছিল নিজ নামে। সাংবাদিক ভদ্রলোক বুঝতেই পারে নি, লেখাটি স্যাটায়ার। কালের কণ্ঠের লেখাটি ইসলামপ্রেমি অসংখ্য পাঠক পছন্দও করেছিলেন। সেই পাঠকদের একজনই আবার আমাকেই লেখাটি পাঠিয়ে পড়তে অনুরোধ করেন, যা আসলে আমিই মজা করে লিখেছিলাম। এই নিয়ে অনলাইনে বহু হাসাহাসি হয়ে গিয়েছিল। 

Facebook Comments