মোহাম্মদ এবং ইসলামের শুরুর দিকের মুসলিমরা কি জানতো পৃথিবী গোল?

ভূমিকা

যখন কোরানের সমালোচকরা দেখিয়ে দেন যে কোরআনের সমতল পৃথিবী এবং এসব আয়াত যে প্রথম দিকের মুসলমানদেরকে বিশ্ব সম্পর্কে মিথ্যা বিশ্বাস বজায় রাখার জন্য উৎসাহিত করেছিল, তখন কিছু মানুষ উল্টো দাবি করে যে মোহাম্মদের সময় সবাই পৃথিবী গোল বলে জানত। এই আর্টিকেলটিতে এসব দাবি খন্ডন করা হবে এবং ইসলামে মহাবিশ্বের বিবরণ সম্পর্কে সম্পূরক আলোচনা করা হবে।

দেখা যায় যে, এপোলোজেটিক ওয়েবসাইটের সেরা প্রচেষ্টার সত্ত্বেও, প্রাচীনকালের মুসলমানদের মধ্যে গোলাকার পৃথিবীর বিশ্বাস থাকার কোনও প্রমাণ নেই বরং সমতল পৃথিবীতে বিশ্বাসের প্রচুর প্রমাণ রয়েছে।

সবসময় গোলাকার পৃথিবীর জন্য একটি মুসলিম ঐক্যমত্য ছিল দাবীটা একটা মিথ্যা দাবী

কিছু অঞ্চলে অনেক মানুষ শত শত বছর ধরে জানত যে পৃথিবী গোল এবং এটি সমতল নয়, কিন্তু প্রশ্নটি হচ্ছে মুহাম্মদ ও আরবের নিকটবর্তী সমসাময়িকরা এই জ্ঞানটি কি পেয়েছিল?

এক ইসলামী ফতোয়া ওয়েবসাইটে (অনুলিপি করা) মোহাম্মদের শত শত বছর পরে জন্ম নেয়া মুফতিদের উদ্ধৃতি উল্লেখ্য করে “সর্বদা একটি মুসলিম ঐক্যমত্য ছিল পৃথিবী গোলাকার” প্রমাণের ব্যর্থ প্রচেষ্টা দেখা যায়। তারা বলছে যে কোরআন পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে তখনকার মানুষের অজ্ঞতার প্রতিফলন করে না।

ইবনে তাইমিয়া

তারা প্রথমে ইবনে তাইমিয়াহ (৭২৮ হিজরি/ ১৩২৮ খ্রিস্টাব্দ) এর একটি বই থেকে উদ্ধৃত করে, যা আবার হযরত আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে জাফর ইবনে আল মুনাদীকে উদ্ধৃত করে বলে যে, ইমাম আহমদের দ্বিতীয় প্রজন্মের সাহাবারা (২৪১ হিজরি/ ৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ) – অর্থাৎ প্রথম দিকের হানিবালিরা  – ঐকমত্য ছিলেন যে আকাশ ও পৃথিবী উভয়ই গোলাকার ছিল, এবং এখানে পৃথিবীর ব্যাপারটা জ্যোতির্বিজ্ঞানের যুক্তির ভিত্তিতে প্রমাণিত। এই প্রমাণটি মূল্যহীন, কারণ অষ্টম শতাব্দী থেকে মুসলমানরা গ্রিক ও ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের জ্ঞানের নাগাল পেয়েছিলেন, তাই অবশ্যই মুসলিম স্কলারদের এই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। বিভিন্ন স্কলারদের দ্বারা ‘ইজমা’ শব্দটি বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা হতো, কিন্তু এটা দ্বারা মূলত মুসলিম স্কলারদের ‘ঐক্যমত্য’ বোঝান হত যা আদর্শগতভাবে ‘সালাফ’ (প্রথম তিনটি প্রজন্মের মুসলমান) এর ঐক্যমত্য। এই ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টভাবে মুফতিদের মতামত। আমরা যতই পড়তে থাকি ততই দেখতে থাকি যে গোলাকার পৃথিবীর জন্য এই “ঐক্যমত্য” ই বরং আরও অস্পষ্ট ছিল যা ইতিমধ্যেই উল্লেখিত হয়েছে। দেখা যাবে যারা গোলাকার পৃথিবীকে সমর্থন করেছিল তারা তা করেছিল কারণ তারা শিক্ষিত, সচেতন মানুষ ছিল যাদের জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত বাস্তব জ্ঞান ছিল।

সেই ওয়েবসাইটটি তখন আবার ইবনে তাইমিয়াহকে উদ্ধৃত করে, যিনি আকাশ ও পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে একটি প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন, [এবার আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে জাফর ইবনে আল মুনাই (আবার), আবু আল ফারাজ ইবনে আল-জাজি (হিজরি ৫৯৭/ খ্রিস্টাব্দ ১২০১) এবং ইবনে হাজম (৪৫৬ হিজরি/ ১০৬৪ খ্রিস্টাব্দ) কে উদ্ধৃত করে] যে ” আকাশ” গোলাকার হবার পক্ষে ঐক্যমত্য আছে। লক্ষ্য করুন, টপিকে থাকা সত্ত্বেও তিনি ‘আকাশ’ বললেন, কিন্তু ‘পৃথিবী’র কথা বললেন না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারা কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবাগণের দ্বিতীয় প্রজন্মের বর্ণনা থেকে প্রমাণ পেশ করেছে।

ইবনে তাইমিয়াহ নিবন্ধটিতে আরও বলেন কোরান, সুন্নাহ, এবং প্রাথমিক মুসলমানদের (ইসলামী ফতোয়া ওয়েবসাইট দ্বারা অন্তর্ভুক্ত নয়) থেকে বিবৃতি গোলাকার আকাশের পক্ষে প্রমাণ পেশ করে। এর মধ্যে তিনি যুক্তি দেন যে কুরআনের নির্দিষ্ট শব্দের ব্যাপারে তফসির ও ভাষাবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা একটি গোলাকার আকাশ ও পৃথিবী সমর্থন করেছেন।

এইসব হচ্ছে সেই হাদিস এবং সাহাবীদের বিবৃতি যা আমাদের এই নিবন্ধটিতে দরকার পড়বে (ইবনে তাইমিয়াহ দ্বারা উদ্ধৃত কোরান আয়াত) কুরআন ২১ঃ৩৩, কোরান ৩৬ঃ৪০ , কোরান ৩৯ঃ৫, এবং কুরআন ৬৭ঃ৫)।

সাহাবীদের বিবৃতি

ইবনে তাইমিয়া সাহাবীগণ থেকে একমাত্র প্রমাণ এটা এনেছেন যে, ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যরা কুরআন ৩৬ঃ৪০ সম্পর্কে বলেছিলেন আকাশের বস্তুসমুহ ফ্যালাক (চক্রাকার গতিপথ) এ সাঁতার কাটছে।

فِي فَلْكَة كَفَلْكَةِ الْمِغْزَل
fee falka, ka-falkati almighzal
in a whirl (whorl), like the whirl of a spindle

al-Tabari and ibn Kathir Tafsirs for 36:40

কিন্তু সূর্য ও চন্দ্র যে আকাশে বৃত্তাকারে ভ্রমণ করে তা আমরা স্বচক্ষেই দেখতে পাই। এমনকি যারা পৃথিবীকে সমতল এবং আকাশকে একটি গম্বুজ (অথবা একটি গোলক), হিসেবে কল্পনা করেছে তারাও সূর্য বা চন্দ্র অস্ত যাবার পর পৃথিবীর নিচে এসবের গতিপথের জন্য পথ অনুধাবন করে নিবে যাতে তারা যে পথে গিয়েছিল সে পথেই ফিরতে পারে। (আবু ধার থেকে পাওয়া হাদিসও এই নিবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে)। প্রকৃতপক্ষে, ইবনে আব্বাস কর্তৃক ইবনে কাসীরের বর্ণনায় কুরআনের ৩১ঃ২৯ আয়াতের তাফসীর থেকে আমরা এটাই জানতে পারি। দিনের বেলায় সূর্য ফালাক (فلكها) এ চলে, এবং যখন এটি রাত্রিতে চলে (بالليل – অনুবাদ থেকে বাদ দেওয়া হয়) তখন এটা ‘ফালাক’ এ ঘোরে পৃথিবীর নিচে।

Ibn Abi Hatim recorded that Ibn ’Abbas said, “The sun is like flowing water, running in its course in the sky during the day. When it sets, it travels in its course beneath the earth until it rises in the east.” He said, “The same is true in the case of the moon.” Its chain of narration is Sahih.

Tafsir ibn Kathir for 31:29

তাই ইবনে তাইমিয়াহ কর্তৃক উপস্থাপিত সাহাবীদের কাছ থেকে আসমানের আকৃতির বিষয়ে প্রমাণ উল্লেখযোগ্য নয়, এবং এটি  পৃথিবীর আকৃতির বিষয়েও কিছুই বলছে না।

হাদিস

ইবনে তাইমিয়া এরপর সুনান আবু দাউদ (যইফ) এর এই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন (সুনান আবু দাউদ ৪৭২৬ দারুসসালাম রেফারেন্স) যেখানে মুহাম্মদ তার মাথার উপরে তার আঙ্গুল দিয়ে একটি গম্বুজ গঠন করে বলেছেন যে আল্লাহর সিংহাসন আকাশের উপরে অবস্থিত। ইবনে তাইমিয়া এর ব্যাখ্যা হল সিংহাসন গম্বুজ আকৃতির হয়।

তিনি সহীহ বুখারীর অন্য একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন:

আবূ হুুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ইমান আনে, সালাত কায়িম করে, রমযান মাসের সওম পালন করে, আল্লাহ্ তাঁর সম্পর্কে এ দায়িত্ব নিয়েছেন যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সে আল্লাহর রাস্তায় হিজরাত করুক কিংবা তাঁর জন্মভূমিতে অবস্থান করুক। সহাবীগণ বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই বিষয়টি আমরা লোকদের জানিয়ে দেব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অবশ্যই, জান্নাতে একশ’টি (মর্যাদার) স্তর রয়েছে। এগুলো আল্লাহ্ তাঁর রাস্তায় জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। প্রতি দু’টি স্তরের মাঝে আসমান ও যমীনের দূরত্ব বিদ্যমান। কাজেই যখন তোমরা আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন ফিরদাওস জান্নাত চাইবে। কারণ, সেটি হচ্ছে সবচেয়ে প্রশস্ত ও সবচেয়ে উচ্চ জান্নাত। আর দয়ালু (আল্লাহর) আরশটি এরই ওপর অবস্থিত। এই ফিরদাওস থেকেই জান্নাতের ঝর্ণাগুলো প্রবাহিত।

If you ask Allah for anything, ask Him for the Firdaus, for it is the last part of Paradise and the highest part of Paradise, and at its top there is the Throne of Beneficent, and from it gush forth the rivers of Paradise.” [the word translated ‘last’ means middle].

সহীহ বুখারী ৯ঃ৯৩ঃ৫১৯

ইবনে তাইমিয়াহ তখন বলেন, মধ্যখান শুধুমাত্র একটি গোলাকার বস্তুতে থাকতে পারে। কিভাবে এই যুক্তির সাহায্য নিয়ে কেউ আকাশ গোলাকার হয় প্রদর্শন করতে পারে সেটা একটা রহস্য।

ইবনে হাজম

ইসলামিক ওয়েবসাইটটি তারপর ইবনে তাইমিয়াহর উদ্বৃত করা তিনটির একটি উদ্ধৃত করে বলে, ইবনে হাজম যিনি বলেছিলেন পৃথিবী যে গোলাকার তার অনেক প্রমাণ আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ এবং ননলিডিং মুসলিম স্কলাররা মতবিরোধ করেন। যদিও কোনো লিডিং মুসলিম স্কলার প্রত্যাখ্যান করেন নি, পৃথিবী গোলাকার।

এখানে প্রথমত, অশিক্ষিত মানুষ (যেমন মুহাম্মদ এবং সাহাবারা)  ইবনে হাজেমের দিনেও পৃথিবীকে সমতল ভেবেছিলেন। দ্বিতীয়ত, তার বিবৃতি কোন প্রমাণ দেয় না যে আগের আমলের মুফতি ও আলেমরা আসলেই পৃথিবী গোলাকার বলে বিবৃতি দিয়েছিলেন কিনা (যেমন করে নেতৃস্থানীয় পণ্ডিতরা তা সমতল বলে নি)। এটি স্পষ্ট যে ইবনে হাজম এবং ইমাম আহমদ বিন হানবলের অন্যান্য অনুসারী জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে জানার কারণেই গোলাকার পৃথিবীতে বিশ্বাসী ছিলেন, এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোরআন ও সুন্নাহ থেকে আরও বেশি ব্যাকআপ সন্ধান করার চেষ্টা করেছিলেন।

উল্লেখ্য যে, ইবনে তাইমিয়াহ গোলাকার আকাশের ধারনা প্রমাণ করতে এসব স্কলার এবং বিবৃতিসমূহ ব্যবহার করেন (যখন আসমান ও পৃথিবীর আকৃতি বিষয়ে জিজ্ঞাস করা হয়), যা হয়তো তাদের জন্য সর্বোচ্চ উপায় ছিলো! যদি মোহাম্মদ এবং তার সাহাবিরা জানতেন পৃথিবী গোল তাহলে আজকের মুসলিমদের এতো দূর্বল সনদের আশ্রয় খুঁজতে হতো না।

তাছাড়া, শুধুমাত্র ইজমা কিয়াসের মতানৈক্যে আরও হুমকির মুখে পরে যখন আমরা তাফসির ইবনে জালালাইন পড়ি, যা শত শত বছরপরে দুইজন মানুষ দ্বারা রচিত যাদের গোলাকার পৃথিবীর বাস্তবতা কোরআনে ফিট করার অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। কুরআন ৮৮ঃ২০ এর তাফসির। আমরা পড়ি:

As for His words sutihat ‘laid out flat’ this on a literal reading suggests that the earth is flat which is the opinion of most of the scholars of the revealed Law and not a sphere as astronomers (ahl al-hay’a) have it even if this latter does not contradict any of the pillars of the Law.

Tafsir al-Jalalayn for Qur’an 88:20

এই ওয়েবসাইটটি ২০ তম শতাব্দীর ফতয়া বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে চলেছে, যা দাবি করে যে পৃথিবী ডিমের আকৃতির এবং কুরান ৩৯ঃ৫  ব্যবহার করে একটি আর্গুমেন্ট তৈরি করে, যা উভয়েরই এই নিবন্ধ (সমতল পৃথিবী) এ খতম করা হয়েছে ।

সুতরাং, প্রথম দিকের মুসলিমরা পৃথিবী গোলাকার বিশ্বাস করে এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। পরিবর্তে, প্রচুর প্রমাণ রয়েছে যে তারা মনে করে পৃথিবী সমতল হতে পারে যা নীচে ব্যাখা দেয়া হবে। কিন্তু আমরা এখান থেকে যাবার আগে, আসুন দেখি ঐতিহাসিকরা আরব জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে কী বলতে চায়।

গ্রিক এবং ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যা জ্ঞান অধিগ্রহণ

কোরআন সংকলন শেষ হওয়ার পর ৮ম শতাব্দীতে টলেমির আলামেগস্টকে আরবি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল। ২য় শতকের মাঝামাঝিতে হিপ্পার্কস এবং তার আগে আরিষ্টার্খস আবিষ্কার করেছিলেন যে, সূর্য পৃথিবীর তুলনায় অনেক বড় এবং চাঁদের চেয়ে অনেক বেশি দূরবর্তী এবং আরিস্টলেসিয়ান ভিউতে পৃথিবী গোলাকার এবং আকাশ ছিল স্বর্গীয় গোলক।  টলেমী তার আলম্যাগস্টের পাঁচটির বইয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন [১]

অধ্যাপক কেভিন ভ্যান ব্ল্যাডেল বলেছেন:

আরব সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষিত মুসলমানদের বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি ভূকেন্দ্রিক, গোলাকার, আরিস্টলেসীয়-টলেমিক বিশ্বের ধারনা জ্যোতিষশাস্ত্রের মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করে ( বিশেষত ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে আব্বাসীয় বংশের আবির্ভাবের পর) এই অনুচ্ছেদগুলির অর্থ বাইবেল-কুরানীয় মহাজাগতিকতা, যা অপ্রচলিত হয়ে পড়ে, পরবর্তীতে ইসলামী ঐতিহ্যের মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কিন্তু টলেমিয়িক মডেল অনুযায়ী, কুরআন এককভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। [২]

আগে একই পত্রিকায়, ভ্যান ব্ল্যালেডেলে বর্ণিত করেছেন যে, ছয় শতকের সিরিয়ায় খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ববিদরা কীভাবে তাদের হিব্রু এবং নিউ টেস্টামেন্ট ধর্মগ্রন্থ পড়ে পৃথিবী সমতল এবং স্বর্গ অথবা আকাশের স্তর পৃথিবীর উপরে গম্বুজ বা তাঁবুর মতো ছিল, এই ধারণাকে মেনে নিয়েছে। এটি আলেকজান্দ্রিয়ার গির্জাগুলোর প্রতি একটি প্রতিদ্বন্দ্বী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যা এরিস্ট্রটেলিয়ান-টলেমীক দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে যেটা বলে গোলাকার পৃথিবীকে ঘিরে বাকি স্বর্গীয় বস্তুসমুহ রয়েছে। নীচের পাদটীকাটি দেখুন [৩] যে অধ্যায়ে উদ্ধৃতাংশের জন্য, সারসংক্ষেপ এই,

স্পষ্টতই ছয় শতাব্দীর এশিয়ায় আরামীয় অংশে টলেমীক কসমোলজি গ্রহণ করা হয়নি। এটা বরং বিতর্কিত ছিল। [৩]

ডেভিড এ কিং বলেছেন :

ইসলামের আগে আরব উপদ্বীপে একটি সরল কিন্তু বাস্তব প্রকৃতির উন্নত জ্যোতির্বিদ্যাগত লোককথার প্রচলন ছিল। সেইসবে তারার উদয় ও অস্তের কথাও ছিল, যাদের সাথে মহাজাগতিক নক্ষত্রপুঞ্জ ও একইসাথে সূর্য এর মত অন্যান্য গতিপথের বর্ণনা ছিল, যেগুলো “নাও” (বহুবচন নাওয়া) নামক কালের সূচনা মার্ক করে। […] টলেমির আলমাজেস্ট অষ্টম ও নবম শতাব্দীর শেষ দিকে অন্তত পাঁচবার অনুবাদ করা হয়েছে। প্রথমটি ছিল খলিফ আল-মওমূনের অধীনে সিরিয়াক এবং অন্যান্যদের মধ্যে আরবী ভাষায় অনুবাদ, বাকি দুটো (দ্বিতীয়টি প্রথমটি থেকে উন্নত) যা নবম শতাব্দীর প্রথমার্ধের মাঝামাঝি অনূদিত হয়। […] এইভাবে গ্রিক গ্রহপুঞ্জের মডেল, ইউরানোমেট্রি এবং গাণিতিক পদ্ধতি মুসলমানদের বাগে এসেছিল। [৪]

Hoskin এবং Gingerich বলেছেন:

৭২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে মুহাম্মদের উত্তরাধিকারীরা ইউফ্রেটিসের নিকটতম স্থানে এবং জুনন্দশিপুরের খ্রিস্টান চিকিৎসকদের নাগালের মধ্যে টাইগ্রিস নদীর তীরে অবস্থিত একটি নতুন রাজধানী হিসেবে বাগদাদ প্রতিষ্ঠা করেন। বাগদাদের আদালতের সদস্যরা তাদের পরামর্শের জন্য ডাকতেন এবং এইসব বহির্জগতের সাথে মেলামেশা গণ্যমান্য মুসলমানদের চোখ খুলে দিয়েছিল অমূল্য জ্ঞানভান্ডারের অস্তিত্বে – যার বেশিরভাগ বহুদূরবর্তী গ্রন্থাগারসমূহে বিদেশী ভাষায় সংরক্ষিত রয়েছিল। হারুন আল-রশিদ (786 খ্রিস্টাব্দ থেকে খলিফা) এবং তার উত্তরাধিকারীগণ গ্রিক পান্ডুলিপি কিনতে বাইজ্যান্টাইন সাম্রাজ্যে এজেন্ট প্রেরণ করেন এবং নবম শতাব্দীর মাথায় একটি অনুবাদ কেন্দ্র ‘হাউস অফ উইসডম’ খলিফা আল-মোমুন কর্তৃক বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত হয়। । […] অনুবাদ শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই, আরব উপদ্বীপে লোক জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ইতিমধ্যেই বিদ্যমান ছিল। কোন অন্তর্নিহিত তত্ত্ব দ্বারা অসমর্থিত উপর ভিত্তি করে এটি স্বর্গের প্রকৃত চেহারা এবং ইসলামিক ভাষ্য এবং সংকলনে স্বর্গ সম্পর্কে ধারনার সঙ্গে একীভূত একটি সহজ মহাজাগতমাণ তৈরি করতে ভূমিকা রাখে। [৫]

সমতল পৃথিবী সম্পর্কিত হাদিস

পরবর্তী কয়েকটি বিভাগ হল শুরুর দিকের মুসলমানদের মধ্যে একটি সমতল পৃথিবী বিশ্বাসের প্রমাণ।

ইসলামের প্রথম দিকের একটি বৃহৎ সংখ্যক মুসলিম পৃথিবীকে সমতল কল্পনা করেছেন যা প্রমাণের দুটি সহজ উপায় হল, হাদীস ও তাফসীর দেখা। এখানে হাদিস সহিহ না জাল বিষয় নয়। সেহেতু এসব শুরুর দিককার মুসলিমদের বিশ্বাসকেই উপস্থাপন করে।

…Then he said: ‘Do you know what is under you?’ They said: ‘Allah and His Messenger know better.’ He said: ‘Indeed it is the earth.’ Then he said: ‘Do you know what is under that?’ They said: ‘Allah and His Messenger know better.’ He said: ‘Verily, below it is another earth, between the two of which is a distance of five-hundred years.’ Until he enumerated seven earths: ‘Between every two earths is a distance of five-hundred years.’…

Jami` at-Tirmidhi 6:44:3298

নিম্নোক্ত হাদিস দার-উস-সালাম (হাফিজ জুবায়ের ‘আলী জায়েী) দ্বারা সহীহ হয়েছে এবং আল-আলবানী কর্তৃক বর্ণিত বর্ণনার একটি সহীহ (অথেনটিক) শৃঙ্খল রয়েছে ।

ইয়াহইয়া ইবনু আইউব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জানো, এ সূর্য কোথায় যায়? সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এ সূর্য চলতে থাকে এবং (আল্লাহ তা’আলার) আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও! অনন্তর সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল দিয়েই উদিত হয়। তা আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়লে হয়েই উদিত হয়।

সে আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল হয়েই সে উদিত হয়। এমনিভাবে চলতে থাকবে; মানুষ তার থেকে অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখবে না। শেষে একদিন সূর্য যথার্রীতি আরশের নিচে তার নিদৃষ্টস্থলে যাবে। তাকে বলা হবে, ওঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও। অনন্তর সেদিন সূর্য পশ্চিম গগনে উদিত হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন দিন সে অবস্থা হবে তোমরা জানো? সে দিন ঐ ব্যাক্তির ঈমান কোন কাজে আসবে না, যে ব্যাক্তি পুর্বে ঈমান আনে নাই কিংবা যে ব্যাক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করে নাই।

It is narrated on the authority of Abu Dharr that the Messenger of Allah (may peace be upon him) one day said: Do you know where the sun goes? They replied: Allah and His Apostle know best. He (the Holy Prophet) observed: Verily it (the sun) glides till it reaches its resting place under the Throne. Then it falls prostrate and remains there until it is asked: Rise up and go to the place whence you came, and it goes back and continues emerging out from its rising place and then glides till it reaches its place of rest under the Throne and falls prostrate and remains in that state until it is asked: Rise up and return to the place whence you came, and it returns and emerges out from it rising place and the it glides (in such a normal way) that the people do not discern anything ( unusual in it) till it reaches its resting place under the Throne. Then it would be said to it: Rise up and emerge out from the place of your setting, and it will rise from the place of its setting. The Messenger of Allah (may peace be upon him) said. Do you know when it would happen? It would happen at the time when faith will not benefit one who has not previously believed or has derived no good from the faith.

Sahih Muslim 1:297

লক্ষ্য করুন এটি বলে,  “তার উদয়ের স্থান থেকে” (মিন মতিলিহা مطلعها) এবং “তার অস্তের স্থান থেকে” (মিন মগিরিবিকী من مغربك)। সূর্যকে কোথাও যেতে দেওয়া হ’ল থেকে এটি দাবি করা যায় না যে এটিতে পৃথিবীকে ঘোরানোর জন্য আদেশ বোঝানো হয়েছে এবং এ শব্দটি পূর্ব ও পশ্চিমও (অনুরূপ হাদিসগুলির ভুল সংশোধনের সত্ত্বেও) বোঝায় নি,  আল মাশরিক এবং আল মাগরিব শব্দগুলো যে উদ্দেশ্যে এবং Possesive Prefix ছাড়া হয়েছে অন্তত তাও না। এই হাদিসে ব্যবহৃত শব্দ সূর্যের উদয় ও অস্তের জায়গার কথাই বলেছে, অন্য কিছু দাবী করা সম্পূর্ণ বোকামি হবে।

সাহল ইবনে সাদ আস- সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তিই তালবিয়া পাঠ করে, সাথে সাথে তার ডান ও বাঁ দিকের পাথর, গাছপালা অথবা মাটি, এমনকি দুনিয়ার সর্বশেষ প্রান্ত উভয় দিকের সবকিছু তালবিয়া পাঠ করে।

It was narrated from Sahl bin Sa’d As-Sa’idi that the Messenger of Allah said: “There is no (pilgrim) who recites the Talbiyah but that which is to his right and left also recites it, rocks and trees and hills, to the farthest ends of the earth in each direction, from here and from there.”

Sunan Ibn Majah 4:25:2921

তাফসিরে সমতল পৃথিবীঃ

সূর্য যে জলাশয়ে অস্ত যায়

কুরআনে ১৮ঃ৮৬ এর তাফসির আল-তাবারী (২২৪ হিজরি/ ৮৩৯ খ্রিস্টাব্দ) এর তাফসিরে, আমরা সূর্যের যে জলাশয়ে অস্ত যায় সেটা সম্পর্কে মন্তব্য দেখতে পাই। । অনুরূপ শব্দ হামিয়াহ (কর্দমাক্ত) এবং হামিইআহ (গরম) কিছুটা বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারে।

الْقَوْل فِي تَأْوِيل قَوْله تَعَالَى : { حَتَّى إِذَا بَلَغَ مَغْرِب الشَّمْس وَجَدَهَا تَغْرُب فِي عَيْن حَمِئَة }
يَقُول تَعَالَى ذِكْره : { حَتَّى إِذَا بَلَغَ } ذُو الْقَرْنَيْنِ { مَغْرِب الشَّمْس وَجَدَهَا تَغْرُب فِي عَيْن حَمِئَة } , فَاخْتَلَفَتْ الْقُرَّاء فِي قِرَاءَة ذَلِكَ , فَقَرَأَهُ بَعْض قُرَّاء الْمَدِينَة وَالْبَصْرَة : { فِي عَيْن حَمِئَة } بِمَعْنَى : أَنَّهَا تَغْرُب فِي عَيْن مَاء ذَات حَمْأَة , وَقَرَأَتْهُ جَمَاعَة مِنْ قُرَّاء الْمَدِينَة , وَعَامَّة قُرَّاء الْكُوفَة : ” فِي عَيْن حَامِيَة ” يَعْنِي أَنَّهَا تَغْرُب فِي عَيْن مَاء حَارَّة . وَاخْتَلَفَ أَهْل التَّأْوِيل فِي تَأْوِيلهمْ ذَلِكَ عَلَى نَحْو اِخْتِلَاف الْقُرَّاء فِي قِرَاءَته

The meaning of the Almighty’s saying, ‘Until he reached the place of the setting of the sun he found it set in a spring of murky water,’ is as follows:

When the Almighty says, ‘Until he reached,’ He is addressing Zul-Qarnain. Concerning the verse, ‘the place of the setting of the sun he found it set in a spring of murky water,’ the people differed on how to pronounce that verse. Some of the people of Madina and Basra read it as ‘Hami’a spring,’ meaning that the sun sets in a spring that contains mud. While a group of the people of Medina and the majority of the people of Kufa read it as, ‘Hamiya spring’ meaning that the sun sets in a spring of warm water. The people of commentary have differed on the meaning of this depending on the way they read the verse.

Tafsir al-Tabari for verse 18:86

তাই তিনি বাসরা সংস্করণ সম্পর্কে বলছেন:

“بمعنى: أنها تغرب في عين ماء ذات حمأة”

“Meaning: that it sets in a spring of muddy water.”

আর কুফার লোকেরা গরম প্রসবণ হিসেবে পড়ে।

“يعني أنها تغرب في عين ماء حارة”

“ And of the people of Kufa reading hot spring:”

তিনি ইবনে আব্বাসের মত বিভিন্ন মতামত উদ্ধৃত করেছেন, যে সূর্য কালো কাদায় অস্ত যায়:

حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن عَبْد الْأَعْلَى , قَالَ : ثنا مَرْوَان بْن مُعَاوِيَة , عَنْ وَرْقَاء , قَالَ : سَمِعْت سَعِيد بْن جُبَيْر ,

قَالَ : كَانَ اِبْن عَبَّاس يَقْرَأ هَذَا الْحَرْف { فِي عَيْن حَمِئَة }

Muhammad bin ‘Abd al-A’laa narrated and said: Marwan ibn Mu’awiya narrated from Warqa, he said: I heard Sa’id ibn Jubayr say: ibn ‘Abbas read this letter “in a muddy spring”

وَيَقُول : حَمْأَة سَوْدَاء تَغْرُب فِيهَا الشَّمْس

and he said: the sun sets in black mud.

وَقَالَ آخَرُونَ : بَلْ هِيَ تَغِيب فِي عَيْن حَارَّة

Others said: it disappears (تَغِيب) in a hot spring.

Tafsir al-Tabari for verse 18:86

আল-তাবারীর তাফসীরের এই সকল মন্তব্য ও বর্ণনা থেকে আমরা মোটামুটি নিখুঁতভাবে উপসংহারে পৌঁছতে পারি যে, প্রাচীনতম মুসলিমরা সম্ভবত ১৮ঃ৮৬ আয়াতটির এই অর্থ হিসেবে গ্রহণ করেছেন যে, সূর্য আসলে প্রসবণে অস্ত যায় এবং এইযুক্তিতে পৃথিবী সমতল।

যদি পাঠক এই সাব টপিকটি  আরও এক্সপ্লোর করতে চান, তারা দেখতে পারেন কিভাবে আল-তাবারী তাঁর “নবী ও রাজাদের ইতিহাস”, এবং আল বায়াদী তার তাফসিরের মধ্যে মতামত উল্লেখ করেন যে সূর্য ৩৬০ টি প্রসবণে অস্ত যায় , এবং এই বিষয়ের পূর্ব ইসলামিক আরব কবিতা পাবেন Dhu’l Qarnayn and the Sun Setting in a Muddy Spring এই আর্টিকেলটাতে।

আকাশ পৃথিবীর উপরে একটি গম্বুজ

কুরআনের ২ঃ২২ এর তাফসীরের মধ্যে, আল-তাবারি প্রথমদিককার মুসলিমদের কিছু বক্তব্য যাতে তারা আকাশকে একটি গম্বুজ বা সিলিং হিসেবে বর্ণনা করেছেন:

حَدَّثَنِي مُوسَى بْن هَارُونَ , قَالَ : حَدَّثَنَا عَمْرو بْن حَمَّاد , قَالَ : حَدَّثَنَا أَسْبَاط , عَنْ السُّدِّيّ فِي خَبَر ذَكَرَهُ , عَنْ أَبِي مَالِك , وَعَنْ أَبِي صَالِح , عَنْ ابْن عَبَّاس , وَعَنْ مُرَّة , عَنْ ابْن مَسْعُود وَعَنْ نَاس مِنْ أَصْحَاب النَّبِيّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : { وَالسَّمَاء بِنَاء } , فَبِنَاء السَّمَاء عَلَى الْأَرْض كَهَيْئَةِ الْقُبَّة , وَهِيَ سَقْف عَلَى الْأَرْض .وَحَدَّثَنَا بِشْر بْن مُعَاذ , قَالَ : حَدَّثَنَا يَزِيد , عَنْ سَعِيد , عَنْ قَتَادَةَ فِي قَوْل اللَّه { وَالسَّمَاء بِنَاء } قَالَ : جَعَلَ السَّمَاء سَقْفًا لَك .

Musa ibn Harun narrated and said that Amru ibn Hammad narrated and said that Asbath narrated from al-Suddi in the report mentioned, from Abu Malik, and from Abu Salih, from ibn ‘Abbas and from Murrah, from ibn Masud and from people of the companions of the prophet (peace and blessings be upon him):

“…and the sky a canopy…” The canopy of the sky over the earth is in the form of a dome, and it is a roof over the earth. And Bishr bin Mu’az narrated and said from Yazid from Sa’id from Qatada in the words of Allah “…and the sky a canopy…” He says he makes the sky your roof.

Tafsir al-Tabari for 2:22

See also the English translation from J. Cooper’s abridged translation of Tafsir al-Tabari [৬]

ইবনে কাসীর কুরআনের ১৩ঃ২ আয়াতের তাফসিরে এই বিষয়ে সাহাবা ও তাবেইন (২য় প্রজন্ম) এর আরও বর্ণনা করেছেন:

Allah said next, (..without any pillars that you can see.) meaning, `there are pillars, but you cannot see them,’ according to Ibn `Abbas, Mujahid, Al-Hasan, Qatadah, and several other scholars. Iyas bin Mu`awiyah said, “The heaven is like a dome over the earth,” meaning, without pillars. Similar was reported from Qatadah, and this meaning is better for this part of the Ayah, especially since Allah said in another Ayah, (He withholds the heaven from falling on the earth except by His permission.) 22:65 Therefore, Allah’s statement, (..that you can see), affirms that there are no pillars. Rather, the heaven is elevated (above the earth) without pillars, as you see. This meaning best affirms Allah’s ability and power.

Tafsir ibn Kathir for Qur’an 13:2

একটি তিমি উপরে পৃথিবী

আল তাবারি এর তাফসিরে সমতল পৃথিবীর আরও ইঙ্গিত রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কোরান 68: 1 সম্পর্কে, যা রহস্যজনকভাবে আরবি অক্ষর নুনের সাথে শুরু হয়, এটা (এবং অন্যান্য অনেক তফসীর) রেকর্ড করে যে সাহাবাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যাখ্যা ছিল, যেমন ইবনে আব্বাসের মত ছিল যে ‘নুন’ একটি তিমি যার পিছনে পৃথিবী চালিত হয় (অন্য ব্যাখ্যা ছিল যে এটি ছিল একটি inkwell অথবা আল্লাহর নাম)। এই দলিলটি অন্যান্য ওয়েবসাইটসমূহে ব্যাপকভাবে নথিভুক্ত করা হয় যা সাহবাদের সহিহ ইসনাদ থেকে আসে, তাই আগ্রহী পাঠকদের জন্য এসবের রেফারেন্স নিচে দেয়া হল। [৭] [৮] [৯]

উপসংহার

ইসলামী এপোলোজিস্টরা প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন যে মুহাম্মদ বা শুরুর দিকের মুসলমানরা নিশ্চিতভাবে জানতেন যে পৃথিবী গোলাকার ছিল।কিন্তু এর বিপরীতে, পূর্বের মুসলমানরা পৃথিবীকে সমতল বলে বিশ্বাস করে এমন দেখানোর মত প্রচুর প্রমাণ রয়েছে। উদ্ধৃত হাদিস ও তাফসিরগুলো ,সহিহ হোক বা যইফ যাইই হোক পূর্ববর্তী মুসলিম দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করে।

এই প্রমাণ কুরআনের সমতল পৃথিবীর আয়াত সম্পর্কিত অন্যান্য আর্গুমেন্টগুলির জন্য ভিত্তি হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে: যেগুলো কুরআনের লেখকের তৎকালীন পৃথিবীর সঠিক আকৃতি ধারনা সম্বন্ধে অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখানো যায়। এটি এমন একটি পয়েন্ট সমর্থন করে যে,  যদি আমরা ধরে নেই যে, কুরানের লেখক গোল পৃথিবী সম্পর্কে  ভাল করেই জানত , কিন্তু কোরআনের বিভ্রান্তিকর ভাষা ব্যবহার করার ফলে এটি একটি দ্বিতীয় প্রধান দুর্বলতা  যা ৭ম শতাব্দীর মুসলমানদের অনিবার্যভাবে তাদের মিথ্যা ধারণা বজায় রাখার জন্য উৎসাহিত করেছিল যে পৃথিবী সমতল এবং এমনকি কয়েক শতাব্দী ধরে বসবাসকারী কিছু মুসলমান যেমন, তার তফসির আল জালালিন এর আল-সুয়্যুতি এবং  ইবনে কাসীররাও এটাই বিশ্বাস করতেন।  [১০]

 

References:

১) Toomer, G. J., Ptolemy and his Greek predecessors, In Astronomy Before the Telescope, Ed. Christopher Walker, p.86, London: British Museum Press, 1996

২) Van Bladel, Kevin, “Heavenly cords and prophetic authority in the Qur’an and its Late Antique context”, Bulletin of the School of Oriental and African Studies, 70:223-246, p.241, Cambridge University Press, 2007

৩) ibid. pp.224-226. Here are some more excerpts:

Entering into the debate was John Philoponus, a Christian philosopher of sixth-century Alexandria, who wrote his commentary on Genesis to prove, against earlier, Antiochene, theologians like Theodore of Mopsuestia, that the scriptural account of creation described a spherical geocentric world in accord with the Ptolemaic cosmology. […]

On the other hand, Cosmas Indicopleustes wrote his contentious Christian Topography in the 540s and 550s to prove that the spherical, geocentric world-picture of the erroneous, pagan Hellenes contradicted that of the Hebrew prophets. Cosmas was an Alexandrian with sympathies towards the Church of the East, who had travelled through the Red Sea to east Africa, Iran, and India, and who received instruction from the East Syrian churchman Mār Abā on the latter’s visit to Egypt. His Christian topography has been shown to be aimed directly at John Philoponus and the Hellenic, spherical world-model he supported. […] However, it is clear that Cosmas was going against the opinions of his educated though, as he saw it, misguided contemporaries in Alexandria.

A number of Syrian churchmen, notably but not only the Easterners working in the tradition of Theodore of Mopsuestia, took the view of the sky as an edifice for granted. Narsai d. c. 503), the first head of the school of Nisibis, in his homilies on creation, described God’s fashioning of the firmament of heaven in these terms: “Like a roof upon the top of the house he stretched out the firmament / that the house below, the domain of earth, might be complete”. ayk taṭlîlâ l-baytâ da-l-tḥēt mtaḥ la-rqî῾â I d-nehwê mamlâ dûkkat ar῾â l-baytâ da-l῾el. Also “He finished building the heaven and earth as a spacious house” šaklel wa-bnâ šmayyâ w-ar῾â baytâ rwîḥâ. Jacob of Serugh (d. 521) wrote similarly on the shape of the world in his Hexaemeron homilies. A further witness to the discussion is a Syriac hymn, composed c. 543-554, describing a domed church in Edessa as a microcosm of the world, its dome being the counterpart of the sky. This is the earliest known text to make a church edifice to be a microcosm, and it shows that the debates over cosmology were meaningful to more than a small number of theologians.

 

৪)  King, David A., “Islamic Astronomy”, In Astronomy Before the Telescope, Ed. Christopher Walker, p.86, London: British Museum Press, 1996

 

৫) Hoskin, Michael and Gingerich, Owen, “Islamic Astronomy” in The Cambridge Concise History of Astronomy, Ed. M. Hoskin, p.50-52, Cambridge: Cambridge University Press, 1999

 

৬) The commentary on the Qur’an, by Abu Ja’far Muhammad b. Jarir al- Tabari ; being an abridged translation of Jami’ al-bayan ‘an ta’wil ay al-Qur’an, with an introduction and notes by J. Cooper, general editors, W.F. Madelung, A. Jones. Oxford University Press, 1987. p.164

৭) Youtube.com Islam & the whale that carries the Earth on its back – Video by TheMaskedArab

৮) AnsweringIslamBlog.wordpress.com – Muhammad’s Magical Mountain: One Whale of a Tail!

৯) Answering-Islam.com – The Quran and The Shape of the Earth

১০)  See also ibn Kathir’s tafsir for verses 2:229, 21:32, 36:38, and 41:9-12 in all of which he says the heavens are a dome or roof or like the floors of a building over the Earth.

Facebook Comments

Leave a Reply

%d bloggers like this: