নবী মোহাম্মদ (দঃ) এর দাসী মারিয়া আল কিবতিয়া ও অতঃপর

দাসী মারিয়াকে কেন্দ্র করে নবীর অন্য বিবিদের সাথে যে রাগ গোস্বা চলছিল যার পরিপ্রেক্ষিতে সুরা আত তাহারিম এর প্রথম কয়েকটি আয়াত নাজিল হয় তার চমৎকার দলিল ভিত্তিক একটি লেখা মেলিখ আজাদ ভাই নাস্তিক্য ডট কমে প্রকাশ করেছেন । এর সমালোচনায় কিছু অন্ধ গতানুগতিক মন্তব্য দেখে আর নিরব থাকতে পারলাম না। ভেবেছিলাম মুমিন ভাইরা এই বিষয়ের যাবতীয় মল-মুত্র মাটি চাপা দিয়ে রাখবেন, কিন্তু যেহেতু উনারাই এটি ঘাঁটাঘাঁটি করতে চান, কাজেই নিরুপায় হয়ে উনাদের জন্যই লেখা।

নবী মোহাম্মদ (দঃ) তার নবুয়তের জীবনে খুব অল্পই কঠিন  বিপদে পরেছিলেন। মক্কায় তিনি ছিলেন চাচা আবু তালিবের ও বনু হাশিম গোত্রের নিরাপত্তায়। একবার কাবায় ধর্ম প্রচারের সময়  তার গায়ে উটের নাড়ি ভুঁড়ি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল , এ ছাড়া কেও তাকে চাপাতি আক্রমন তো দুরের কথা, চড় থাপ্পর মেরেছে এমন বর্ণনা ও পাওয়া যায় না , তবে চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর পর জীবনের  আশঙ্কায় তিনি মদিনাতে পালিয়ে যান । উহুদের যুদ্ধে পরাজিত হলেও মক্কার কোরাইশরা নব্য মুসলিমদের তাড়া করেননি বরং মক্কায় ফিরে গেছেন। খন্দকের যুদ্ধে পূর্ণ পরাজয়ের আশঙ্কা ছিল, তবে সালমান ফারসির পরামর্শে পরিখা বা খন্দক খনন করে রক্ষ্যা পান । তবে পারিবারিক জীবনে একাধিক বিবি নিয়ে বেচারা মোহাম্মদ (দঃ) বড়ই বেচঈন অবস্থায় পড়েন যা যে কোন রণক্ষেত্রের চাইতেও কম বিপদ জনক ছিল না। বিবিদের শাসন করে আল্লাহতালা আয়াতের পর আয়াত নাজিল করেছেন , আর পুত্রবধু জয়নব এর সাথে নিকাহ জায়েজ করতে আল্লহর কতই না কষ্ট করতে হয়েছে, কত আয়াত, কত তফসির।

দাসী মারিয়া আল কিবতিয়ার ইতিহাসটি বেশ লম্বা, তাই অতি সংক্ষেপে কিছু গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় উল্লেখ করব, লেখাটি মেলিখ আজাদ ভাই এর লেখার সাথে মিলিয়ে পড়তে হবে । প্রথমত, এ কথা আপনাদের জানা যে মারিয়া আল কিবতিয়া বা Mary the Copt কে নবী মিশরের শাসন কর্তার থেকে উপহার হিসাবে পেয়েছিলেন । মারিয়া ছিলেন কপটিক খ্রিষ্টান , যারা প্রয়াত জাতি সংঘের জেনারেল সেক্রেটারি বুত্রস বুত্রস ঘালির নাম জানেন, তিনিও একজন কপটিক খ্রিষ্টান, এই সম্প্রদায় এখনও মিশরে বসবাস করে আর তাদের চার্চে আমাদের শান্তি প্রিয় মুমিন ভাইদের বোমাবাজির খবর নিয়মিতই পাওয়া যায়। নবীর যে সব বিবি ও যৌন দাসীদের রূপের বর্ণনা পাওয়া যায় , মারিয়া তাদের মধ্যে একজন, সাফিয়া, জয়নব ও রায়হানা ও রূপবতী ছিলেন বলে জানা যায় ।আপনারা এও জানেন যে, নবী তার বিবিদের সাথে পালাক্রমে রাত্রি যাপন করতেন, এটি তার বিবিদের ন্যায্য পাওনা ও আরবিয় প্রচলিত রীতি । নবীর দ্বিতীয় বিবি সাওদা ছিলেন বয়স্কা যাকে নবী বিবি খদিযার মৃত্যুর পর নিকাহ করেন, বলা হয়ে থাকে বিবি খদিযার ঘরে হওয়া সন্তানদের লালন পালনের জন্য নবী এই বিবাহটি করেন। নবী একদা বিবি সাওদাকে তালাক দিতে চাইলে তিনি নবীকে অনুনয় করেন এই বলে যে, বিবি হিসাবে উনি আর কিছু দাবি করেন না তবে নবীর বিবি হিসাবে মৃত্যু বরন করতে চান , এবং তার নিজের পালাটি তিনি বিবি আয়েশাকে দিয়ে দেন এবং এভাবে নিজের বিবাহ বজায়ে রাখেন। নবী পুত্রবধু  জয়নব বিনতে যাহাশকে নিকাহের পর গৃহ বিবাদের সূচনা হয়। জয়নব ছিলেন সুন্দরী ও এই বলে বড়াই করতেন যে, অন্য বিবিদের বিয়ের ঘটক তাদের পিতারা (ভিন্নমতে  ঘটক  পাখি ভাই) আর তার বিয়ের ঘটক স্বয়ং আল্লহতালা। নবীর বিবিরা ( মুমিন দের আম্মাজান – উম্মুল মুমেনিন)  দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েন ঃ আয়েশার দলে ছিলন ওমর কন্যা হাফসা, সাওদা ও সাফিয়া অপর পক্ষে জয়নবের দলে ছিলেন উম্মে সালামা , উম্মে  হাবিবা ও জুহাইরিয়া। মারিয়ার আগমনে এরা কেওই “ মারিয়া কিবতিয়ার আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম” বলে এগিয়ে আসেন নি, বরং, সুন্দরী মারিয়ার সাথে নবী মোহাম্মদ (দঃ) এর ঘন ঘন মেলামেশায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায় যখন মারিয়া গর্ভবতী হয়ে পড়েন । পরিস্থিতি সামাল দিতে, নবী শেষ পর্যন্ত মারিয়াকে আলিয়া নামক মদিনার উত্তরে এক স্থানে পাঠিয়ে দেন । মদিনার এই অংশটি নবী তথা মুসলমানরা বানু নাদির নামক ইয়াহুদি গোত্রকে ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করে দখল করেছিলেন । অতি সংক্ষেপে,  সুরা আত তাহারিম এর প্রথম কয়েকটি আয়াত বুঝতে এই পরিপ্রেক্ষিত মাথায় রাখতে হবে ।

এবার আসি মুল বিষয়ে, সুরা আত তাহারিম (৬৬)  এর প্রথম কয়েকটি আয়াত মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করুন, সব প্রশ্নের উত্তর এর মধ্যেই আছে। সুরার আয়াত গুলোকে পুনরায় উল্লেখ করতে হচ্ছে।

  1. হে নবী, আল্লাহ আপনার জন্যে যা হালাল করছেন, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে খুশী করার জন্যে তা নিজের জন্যে হারাম করেছেন কেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।
  2. আল্লাহ তোমাদের জন্যে কসম থেকে অব্যহতি লাভের উপায় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তোমাদের মালিক। তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
  3. যখন নবী তাঁর একজন স্ত্রীর কাছে একটি কথা গোপনে বললেন, অতঃপর স্ত্রী যখন তা বলে দিল এবং আল্লাহ নবীকে তা জানিয়ে দিলেন, তখন নবী সে বিষয়ে স্ত্রীকে কিছু বললেন এবং কিছু বললেন না। নবী যখন তা স্ত্রীকে বললেন, তখন স্ত্রী বললেনঃ কে আপনাকে এ সম্পর্কে অবহিত করল? নবী বললেন,ঃ যিনি সর্বজ্ঞ, ওয়াকিফহাল, তিনি আমাকে অবহিত করেছেন।
  4. তোমাদের অন্তর অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে যদি তোমরা উভয়ে তওবা কর, তবে ভাল কথা। আর যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর, তবে জেনে রেখ আল্লাহ জিবরাঈল এবং সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণ তাঁর সহায়। উপরন্তুত ফেরেশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী।
  5. যদি নবী তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন, তবে সম্ভবতঃ তাঁর পালনকর্তা তাঁকে পরিবর্তে দিবেন তোমাদের চাইতে উত্তম স্ত্রী, যারা হবে আজ্ঞাবহ, ঈমানদার, নামাযী তওবাকারিণী, এবাদতকারিণী, রোযাদার, অকুমারী ও কুমারী।

উল্লেখিত আয়াতের শানে নাজুল ও তাফসির মেলিখ আজাদ ভাই তার লেখায় বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন । এখানে উল্লেখ, বিবি হাফসার ঘরে তার বিছানায় নবী মোহাম্মদ (দঃ) দাসী মারিয়ার সাথে যৌন সঙ্গম করেন যখন বিবি হাফসা কোন কাজে পিতা ওমরের বাসায় গিয়েছিলেন । বিবি হাফসা নবীকে এ অবস্থায় দেখে স্বভাবতই বিশেষ প্রীত হন নি । ( পাদটীকা ঃ মুমিন পাঠকরা তাদের দাসী নিয়ে নিজের বিবির বিছানায় সুন্নত পালন করে দেখতে পারেন, তবে অক্ষত ইমান দণ্ডের দায়িত্ব লেখকের নয় ) । এই বিষয়টিকে , তৎকালীন আরব কালচারের ভিত্তিতে দেখতে হবে। নবীর জন্য দাসীর সাথে যৌন সঙ্গম করা সম্পূর্ণ জায়েজ, তবে, বিপত্তি ঘটে যখন এটি তিনি করেন বিবি হাফসার পালার দিনে, এটি তখনকার সামাজিক বিবেচনায় গর্হিত কাজ। দ্বিতীয়ত, ওমরের কন্যা হিসাবে ও আবু বকর কন্যা বিবি আয়েশার সখি হিসাবে, বিবি হাফসার সামাজিক অবস্থান যথেষ্ট উচ্চ। এই বিষয়গুলো কোন ভাবেই মোহাম্মদ (দঃ) এর পক্ষে উপেক্ষা করা সম্ভব ছিলনা। যার পরিপ্রেক্ষিতে দাসীর সাথে যৌন সঙ্গম করা সম্পূর্ণ জায়েজ হওয়া সত্ত্বেও নবী মারিয়াকে আর স্পর্শ করবেন না বলে শপথ করতে বাধ্য হন । বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে নবী এটিকে বিবি আয়েশার কাছ থেকে গোপন রাখতে বলেন । তবে হাফসা,  মারিয়াকে মাইনাস ওয়ান ফরমুলায় ফেলে দেওয়ার কৃতিত্ব বিবি আয়েশার কাছে আর গোপন রাখেন নি । এর পর নবী বিবি আয়েশার কাছ থেকে কি উত্তর পেয়েছিলেন , তার বর্ণনা আপাতত কোন সূত্রে আমি পাই নি। তবে সুরা আত তাহারিম এর ৪ ও ৫ নং আয়াতে নবী আল্লহর মাধ্যমে যে ভাবে শাসন , ভয় ভীতি  ও  তালাকের হুমকি-ধামকি দিয়েছেন, তাতে এটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না , নবী সত্যই আরবিয় মাইনকার চিপায় পড়ে ছিলেন, তাই ৪ নং আয়াতে লক্ষ্য করুন, মদিনার অধিপতি হওয়া সত্ত্বেও নবী,  আল্লাহ,  জিবরাঈল ,সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণ উপরন্তুত ফেরেশতাগণ কেও  তাঁর সাহায্যকারী হিসাবে বর্ণনা করে নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করে তার বিবিদের কাছে নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। পরিস্থিতি এতটাই নাগালের বাইরে চলে যায় যে , পুরা ১ মাস নবী বিবিদের থেকে আলাদা ছিলেন । বর্ণনা আছে , ওমর ও আবু বকর তাদের নিজ নিজ কন্যা দের শাসন করেন, একটি বর্ণনায় দেখলাম, আবু বকর বিবি আয়েশার চুল ধরে উত্তম মধ্যম দিয়েছিলেন, তবে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় নি। মারিয়াকে আর স্পর্শ করবেন না বলে কসম করার পর মারিয়ার সান্নিধ্য বঞ্চিত নবী মোহাম্মদ (দঃ) যে বিশেষ মন-দৈহিক কষ্টে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তা সহজেই অনুমান করা যায় সুরা আত তাহারিম এর বর্ণিত আয়াতগুলোতে ।

মারিয়ার গর্ভে পুত্র সন্তান ইব্রাহিমের জন্ম হলে, মারিয়ার সামাজিক অবস্থানের উন্নতি ঘটে আর নবীর বন্ধা বিবিদের মধ্যে ঈর্ষা ছড়িয়ে পড়ে । তবে মারিয়ার সতীত্ব নিয়েও রটনার বর্ণনা পাওয়া যায় , মারিয়ার বাসায় কাঠ সরবরাহকারী এক সগোত্রীয় কপটিক যুবককে নিয়ে, সেই বর্ণনা আপাতত বাদ রাখলাম। নবী তার পুত্রসন্তানটি এক বার বিবি আয়েশার নিকট গর্ব ভরে দেখান আর নিজের চেহারার সাথে সামঞ্জস্য ও দ্রুত বেড়ে উঠা উল্লেখ করেন। উত্তরে বিবি আয়েশা বলেন যে পুত্রটি মতেও নবীর চেহারার মত নয় , আর বেড়ে উঠার ব্যাপারে বলেন , যে পরিমান ছাগ দুগ্ধ পান করানো হচ্ছে তাতে যে কোন শিশুই এভাবেই বাড়ত । দুঃখজনক ভাবে ১৮ মাস বয়সে শিশু ইব্রাহিমের মৃত্যু হয় আর আরব সমাজে যেহেতু পুত্র সন্তানের গুরুত্ব অত্যধিক, এই মৃত্যু নবীর জীবনের একটি অন্যতম শোকের ঘটনা ।

এবার আসি মধুর বিষয়য়ে। সকল আদি তাফসির গ্রন্থে মারিয়ার এই বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে উল্লেখিত যা মেলিখ আজাদ ভাই তার লেখায় তথ্য সূত্র সহ উল্লেখ করেছেন । এই বিষয়টি , পরিবর্তিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে পরবর্তী মুস্লিম পণ্ডিতদের অসস্থির  কারন হয়ে দাড়ায়। যে নবী সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ঠ অনুকরণীয় মানব, তিনি কেন আর দশটা আম জনতার মত দাম্পত্য কলহে আর কেলেংকারিতে জড়াবেন । তাও যদি এটি হাদীস বা সিরাতে থাকলে অস্বীকার করা যেত, কোরানের আয়াত বলে কথা। এ থেকেই  শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত শুরু হয় মধু দিয়ে যৌন কর্ম ঢাকার অপচেষ্টা । বিষয়টি আরও পরিস্কার হয় যখন দেখি ইবনে কাথিরের তাফসিরের অন লাইন ভার্শন থেকে দাসী মারিয়ার সাথে যৌন সঙ্গম এর পুরা বর্ণনাই বাদ দেওয়া হয়েছে অথচ , মুল ইবনে কাথিরের তাফসিরে এই নিয়ে দুই পৃষ্ঠা ব্যাপী বর্ণনা আছে । পাঠকদের নিম্নে দেওয়া ইউটিউব ভিডিও দেখার পরামর্শ দিচ্ছি, উল্লেখ্য ডঃ ইয়াসির কাদি ,একাডেমিক  ইসলামে  সর্ব উচ্চ ডিগ্রি ধারী স্কলার।

Dr Yasir Qadhi: Muhammad (Pbuh) caught having sex with his Coptic slave Mariyah

জয়নব বিনতে যাহাশ এর ঘরে মধু খাওয়া নিয়ে ঘটনাটি এতই তুচ্ছ যে, এটিকে উল্লেখ করার মত নয় । মেলিখ আজাদ ভাই যথাযথই উল্লেখ করেছেন যে, এই তুচ্ছ মধুর জন্য নবী এক মাসের জন্য বিবিদের থেকে আলাদা ছিলেন না। আর আরব সমাজে কসম খাওয়া অনেক বড় গুরুত্ব বহন করে , মধুর জন্য নবী কসম কাটবেন আর সব বিবিকে তালাক দিবেন এই উদ্ভট চিন্তা জোকার নায়ক জাতীয় কপট apologist রা মানুষকে খাওয়াতে পারে। তবে সমস্যা এখানেই শেষ নয়, আরব সমাজে কোন বিষয়ে কসম কাটলে সেটা ভঙ্গ করা খুব কঠিন, এর কাফফারা হিসাবে উট করবানি , অর্থ , দাস মুক্তি ইত্যাদি পূর্বে নিরধারিত শর্ত মানতে হত । তবে আল্লাহ ২ নং আয়াতের মাধ্যমে এখান থেকেও নবীকে উদ্ধার করেন। (আল্লাহ তোমাদের জন্যে কসম থেকে অব্যহতি লাভের উপায় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তোমাদের মালিক। তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।)

মারিয়া আল কিবতিয়া নবীর দাসী না পত্নী ছিল এ নিয়ে বিতর্ক আছে এবং এটি ভিন্ন আলোচনা , তবে, বিবি হয়ে থাকলে যখন নবী হাফসার কাছে মারিয়াকে আর স্পর্শ করবেন না বলে শপথ করেন , এতে শরিয়া আইনে এটা বলার জন্য তার বিবি তালাক হয়ে যাবে এবং পুনরায় তার সাথে সম্পর্ক করার আগে হিল্লা বিয়ে এবং দ্বিতীয় স্বামী করতিক পূর্ণ যৌন মিলন হলেই বিবি প্রথম স্বামীর কাছে হালাল হবে । এই ক্ষেত্রে , নবীকে এ ভাবে অব্বহতি দেওয়া যায় যে, কোন নবীর বিবিকে অন্য কেও নিকাহ করতে পারবে না কারন সকল নবীর বিবিকে উম্মতের আম্মাজান বা উম্মুল মুমেনিন হিসাবে কোরানে নির্দেশিত আছে । সমস্যা এখানেই শেষ নয়, সুরা আহযাবের ৫২ নং আয়াতে বলা আছেঃ

এরপর আপনার জন্যে কোন নারী হালাল নয় এবং তাদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও হালাল নয় যদিও তাদের রূপলাবণ্য আপনাকে মুগ্ধ করে, তবে দাসীর ব্যাপার ভিন্নআল্লাহ সর্ব বিষয়ের উপর সজাগ নজর রাখেন

ঘটনা হল সুরা আহযাব নাজিল হয় মারিয়ার আগমনের পূর্বে , অর্থাৎ নবী যদি মারিয়াকে বিবাহ করেন এতে আল্লাহর আদেশের বরখেলাপ করবেন তবে দাসীর ব্যাপারে সম্ভোগ করতে কোন বাধা নেই, যে কারনে বহু মুফাসসিরগন মারিয়াকে নবীর অধিকার ভুক্ত দাসী হিসাবেই উল্লেখ করেছেন। তবে এ সকল বিষয় নিয়ে আলিম সমাজে বিতর্ক আছে ।

উপসংহারে , এত আরব রীতি কপচানর পর একটি খাঁটি বাংলা প্রবাদ দিয়ে শেষ করিঃ “দুই সতীনের ঘর খোদায় রক্ষা কর”। দশ এগারটি সতীন তার উপর উপপত্নি , এ থেকে রক্ষা করতে বাস্তবিকেই খোদার সরাসরি আয়াত নাজিল ছাড়া আর কেও রক্ষা করতে পারবে না । আমিন ।

তথ্যসূত্র

যদিও ইবনে কাথির এর তাফসিরের  সকল অন লাইন ভার্সন হতে চতুরতার সাথে মারিয়া কিবতিয়া সংক্রান্ত অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে তবে নিম্নে দেওয়া বাংলা অনুবাদের ক্ষেত্রে এই চৌর্য বৃত্তি না করায় অনুবাদককে সাধুবাদ জানানো যায়। নিম্নে শুধুমাত্র মারিয়া সংক্রান্ত অংশ দেওয়া হল । আগ্রহি পাঠকরা উপরের লিঙ্ক থেকে পূর্ণ তাফসীর পড়তে পারেন।

মুলঃ হাফেজ আল্লামা ইমাম্মুদিন ইবনু কাসীর (রহঃ)

আনুবাদঃ ডঃ মুহাম্মাদ মুজীবুর রহমান

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: Tafsir Ibn Kathir (তাফসীর ইবনে কাসীর ) is one of the Most Comprehensive and Complete Explanation of The Noble Quran. Translated in to the Bangla language for the First time in the History of Islam! You can find more information inside the book.

Facebook Comments

Leave a Reply