কোরআনে আলোর গতি?

মূল দাবি

Islami City তে পাবলিশ হওয়া একটি আর্টিকেলে [1] ড. মানসুর হাসাব দাবি করেছেন যে, কোরআনের আয়াত ৩২:৫ প্রকাশ করে যে, আলো একদিনে ১২০০০ চন্দ্র কক্ষপথ সমান দূরত্ব অতিক্রম করে এবং সেই দূরত্ব হিসাব করে আমরা একেবারে নির্ভুল আলোর গতি পাই।

32:5

يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَآءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِى يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُۥٓ أَلْفَ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّونَ

তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর সব কিছুই তাঁর সমীপে উত্থিত হবে এমন এক দিনে যার পরিমাণ হবে তোমাদের গণনা অনুসারে হাজার বছর।

ড. হাসাবের দাবি অনুযায়ী, আয়াতে ব্যবহৃত শব্দ “বিষয়” হলো আলো। সুতরাং আয়াতটি প্রকাশ করে, আলো একদিনে যতো দূরত্ব অতিক্রম করে চাঁদের ঐ দূরত্ব অতিক্রম করতে ১০০০ বছর সময় লাগবে।

বিশ্লেষণ

হিসাব

পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে চন্দ্রের কেন্দ্রের গড় দূরত্ব ৩৮৪, ৪০৩ কিলোমিটার। [2] [3]

চন্দ্রের কক্ষপথ প্রায় বৃত্তাকার ( যেজন্য আমরা চন্দ্রকে সবসময় একই আয়তনে পর্যবেক্ষণ করি)।

অর্থাৎ, চন্দ্রের পৃথিবীর চারদিকে পুরোপুরি বৃত্তাকার পথে পরিভ্রমণ করতে একে অবশ্যই ২,৪১৫,২৭৩ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে। (চন্দ্রের কক্ষপথের পরিধি = 2r π = 2 × 384,403 × 3.14159)

পৃথিবীর চারিদিকে ১২,০০০ বার পরিভ্রমণ করতে চন্দ্রকে অবশ্যই ২৮,৯৮৩,২৭৮,৮৯৮ কিলোমিটার (২,৪১৫,২৭৩ × ১২,০০০) দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে। চন্দ্র এ দূরত্ব ১০০০ চান্দ্র বছরে অতিক্রম করে।

আলো একটি ধ্রুব গতিতে প্রতি সেকেন্ডে ২৯৯,৭৯২.৪৫৮ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে।

একদিন হয়, ৮৬,৪০০ সেকেন্ডে (৬০ × ৬০ × ২৪)।

২৪ ঘন্টায় আলো ২৫,৯০২,০৬৮,৩৭১ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে (২৯৯,৭৯২.৪৫৮ × ৮৬,৪০০)।

এই অংক দুটি এক নয়। তারা খুব কাছাকাছিও নয়। ৩,০৮১,২১০,৫২৭ কিলোমিটার (২৮,৯৮৩,২৭৮,৮৯৮ – ২৫,৯০২,০৬৮,৩৭১) আর ১০০০ বছরে চন্দ্রের পরিভ্রমণ করা দূরত্ব এবং আলোর ভ্রমণ করা দূরত্বের মাঝে পার্থক্য রয়েছে।

পার্থক্যটি সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যকার দূরত্বের ২০ গুণ দূরত্বের চেয়েও বড়। সুতরাং, পরিষ্কারভাবেই ড. হাসাবের দাবি ভুল। অংক দুটি মিলে না।

কেবল তাই নয়, চান্দ্র মাস এবং চান্দ্র কক্ষপথের মধ্যে পার্থক্য আছে। চন্দ্র প্রতি ২৭.৩ দিনে পৃথিবীকে একবার পরিভ্রমণ করে, যখন পৃথিবী-চন্দ্র-সূর্যের জ্যামিতিতে সাময়িক পরিবর্তন আসে তখন চন্দ্র পৃথিবীকে প্রতি ২৯.৫ দিনে একবার পরিভ্রমণ করে। চন্দ্র মাস এবং চন্দ্র কক্ষপথের মধ্যে ২.২ দিনের ব্যবধান রয়েছে। [3]

এক চান্দ্র বছরে চন্দ্র পৃথিবীর চারিদিকে ১২.৯৬৭ বার (২৯.৫ × ১২ / ২৭.৩) প্রদক্ষিণ করে, ১২ বার নয়। সুতরাং ১০০০ চান্দ্র বছরে চন্দ্র প্রকৃতপক্ষে ৩২,০৪৫,০৭৮,৪৬১ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে।

এই দূরত্ব এবং আলোর একদিনে অতিক্রম করা দূরত্বের মধ্যে ব্যবধান ৬,১৪৩,০১০,০৯০ কিলোমিটার (৩২,০৪৫,০৭৮,৪৬১ – ২৫,৯০২,০৬৮,৩৭১)। এ অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে আলোর আরও ৫ ঘণ্টা ৪১ মিনিট সময় লাগবে।

বিকল্পভাবে আমরা বলতে পারি, ২৪ ঘন্টায় আলোর অতিক্রম করা দূরত্ব অতিক্রম করতে চন্দ্রের পৃথিবীর চারদিকে ১০,৭২৪ বার প্রদক্ষিণ করতে হবে। (আলোর একদিনে অতিক্রম করা দূরত্ব (২৫,৯০২,০৬৮,৩৭১ কিলোমিটার / চন্দ্রের কক্ষপথ ২,৪১৫,২৭৩ কিলোমিটার)

চন্দ্র এ দূরত্ব ১০০০ চান্দ্র বছরে নয়, ৮২৭ চান্দ্র বছরে অতিক্রম করে (চন্দ্রের পৃথিবীর চারিদিকে ১০,৭২৪ বার আবর্তন × প্রত্যেক আবর্তনের জন্য লাগে ২৭.৩ দিন / চান্দ্র বছরের ৩৫৪ দিন)

যেভাবেই দেখুন না কেন, ড. মানসুর হাসাবের হিসাব ভুল। ১০০০ বছরে চন্দ্রের পরিভ্রমণ করা দূরত্ব এবং আলোর অতিক্রম করা দূরত্ব এক নয়।

অনুবাদ

Thus we conclude that the cosmic affair, mentioned in the previous Quranic verse, is identical to LIGHT and all similar cosmic affairs travelling in vacuum with this maximum speed such as: all types of electro magnetic waves propagating between the heavens and the earth, the expected Gravitational waves spreading all over the universe, and all particles travelling in this cosmic greatest spead such as neutrinos.[1]

আয়াতের কোন অংশ আলো বা তার গতি নির্দেশ করে? পরিষ্কার ভাবেই, আলোর গতির সাথে এ আয়াতের কোনো যোগসূত্র নেই। আলোচ্য আয়াতে চন্দ্র, আলো এমনকি দূরত্বের ব্যাপারেও কিছু বলা হয়নি। ড. মানসুর হাসাবের ধারনা একেবারেই অমূলক। আয়াতটি কেবলমাত্র বলে, আল্লাহ্‌র একদিন মানুষের ১০০০ বছরের সমান। একি কথা কোরআনের আয়াত ২২:৪৭ এ উল্লেখ্য করা হয়েছে।

22:47

وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالْعَذَابِ وَلَن يُخْلِفَ اللَّهُ وَعْدَهُۥ ۚ وَإِنَّ يَوْمًا عِندَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّونَ

আর তারা তোমাকে আযাব তরান্বিত করতে বলে, অথচ আল্লাহ কখনো তাঁর ওয়াদা খেলাফ করেন না। আর তোমার রবের নিকট নিশ্চয় এক দিন তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান।

এ আয়াতে ঊর্ধ্বগামী ও নিম্নগামী কোনো বিষয়, ম্যাগনেটিক ওয়েভ, কণা এবং নিউট্রিনো কিছুই উল্লেখ্য করা হয়নি। একটি গ্রহ নিজের অক্ষের ওপর কতো তাড়াতাড়ি ঘুরে তার ওপর নির্ভর করে সেই গ্রহের দিনের দৈর্ঘ্য। আলোচ্য আয়াতে বিজ্ঞান হিসেবে যা পাওয়া যেতে পারে তা হলো, আল্লাহ্‌ এমন একটি গ্রহে বাস করেন যা নিজের অক্ষের ওপর খুবি ধীর গতিতে ঘুরে।

পরামিতি

আলোর গতি ধ্রুব, অন্যদিকে পৃথিবী ও চন্দ্রের মধ্যকার ঘূর্ণন সচারক বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি কমে যাচ্ছে। সেজন্য পৃথিবীতে দিনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবী-চন্দ্র ব্যবস্থায় কৌণিক গতিবেগ সংরক্ষিত আছে, তাই পৃথিবীর ঘূর্ণনগতি কমে যাচ্ছে, চন্দ্র অপেক্ষাকৃত দূরে এবং ধীর কক্ষপথে সরে যাচ্ছে। প্রত্যেকবারই পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে চন্দ্রের পূর্বের তুলনায় সামান্য বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। কেউ কিভাবেই বা একটি পরিবর্তনশীল ব্যাপার দ্বারা একটি ধ্রুব ব্যাপার পরিমাপ করতে পারেন?

মনে রাখতে হবে, যেহেতু পৃথিবীতে দিনের দৈর্ঘ্য এবং চন্দ্র কক্ষপথের দূরত্ব উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেহেতু তাদের মধ্যকার অনুপাত ধ্রুব নয়। গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের ৩য় সূত্র দিয়ে এটাকে সহজে ব্যাখ্যা করা যায়, আর যখন দুইটি ঘূর্ণায়মান বস্তু একে অন্যকে প্রদক্ষিণ করে তখন ছোট বস্তুটি এবং পরে বড়টি ঘূর্ণায়মানভাবে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। চন্দ্র ইতিমধ্যেই পৃথিবীর সাথে মুখোমুখি অবস্থানে আবদ্ধ তাই চন্দ্রের একই পাশ সবসময় আমাদের সাথে মুখোমুখি অবস্থানে থাকে।

প্রথমত, মনে রাখতে হবে, চান্দ্র কক্ষপথের ব্যাসার্ধ চান্দ্র কক্ষপথের দূরত্বের সমানুপাতিক (বৃত্তের ব্যাসার্ধ ও বৃত্তের পরিধির মতো)। সুতরাং এটা বলা যায় যে, মিরাকলটির জন্য পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য এবং চান্দ্র কক্ষপথের অনুপাত সময়ের সাথে ধ্রুব হতে হবে। কেপলারের তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী, চান্দ্র কাক্ষিক কাল ও তার ব্যাসার্ধের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে (কাল^২ থেকে ব্যাসার্ধ^৩ একটি বিশেষ ব্যবস্থার জন্য একটি ধ্রুবক)। তাই যেহেতু চান্দ্র কাক্ষিক ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পায়, সেহেতু চান্দ্র কাক্ষিক কাল আনুপাতিকভাবে বেশি বৃদ্ধি পায়। এখন যদি পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য চান্দ্র কক্ষপথ ব্যাসার্ধ বৃদ্ধির অনুপাতে বৃদ্ধি পায় তাহলে চান্দ্র কাক্ষিক কাল পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য অনেক অনেক ছাড়িয়ে যাবে। পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য এতো বেশি বৃদ্ধি পায়না যে চাঁদের প্রদক্ষিণ সময়ের সাথে মিলে যাবে তাই পৃথিবী পৃষ্ঠের একই পাশ চন্দ্রের সাথে মুখোমুখি অবস্থান করে। মিরাকলটির একটি আবশ্যিক শর্ত রয়েছে যা পদার্থ বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে যায়।

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, পৃথিবী যখন অল্পবয়স্ক একটি গ্রহ ছিলো তখন এটি বর্তমান সময়ের চেয়ে ১০ গুণ বেশি গতিতে ঘূর্ণনশীল ছিলো। যেহেতু আলোর গতি সর্বদা একি ছিলো, সেহেতু বর্তমান সময়ে একদিনে আলো যে দূরত্ব অতিক্রম করে ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে একদিনে তার এক দশমাংশ দূরত্ব অতিক্রম করতো।

চন্দ্র পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন হাজার বছর ধরে। যেহেতু প্রত্যেক সহস্র বছরে পৃথিবীতে দিনের দৈর্ঘ্য এবং চন্দ্রের কক্ষপথ একটি ক্রমবর্ধমান অনুপাতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেহেতু এই ৪.৫ মিলিয়ন সহস্র বছরের কোন সহস্র বছরে চন্দ্র সেই দূরত্ব অতিক্রম করেছে যা আলো একদিনে অতিক্রম করে? দাবিটি ভুল। তবে যদি সত্যি হয় তাহলে ৪.৫ সহস্র বছরের কেবল এক সময়ে সংখ্যা দুটি মিলতে পারে। একটি অচল ঘড়িও দিনে দুইবার সঠিক সময় দেয়।

চন্দ্রের কক্ষপথ এবং দিনের দৈর্ঘ্য দিয়ে আলোর গতি পরিমাপ করার অতিশয় ধারনা একটি হেত্বাভাস, কারণ মাপকাঠিটি সর্বদা বদলাচ্ছে। এমন একটি ভুল বিজ্ঞানের মৌলিক নীতিতে ড. হাসাবের জ্ঞানের অভাব প্রকাশ করে।

ব্যাখ্যা

আয়াতটি আল্লাহ্‌র বিষয়সমূহ সম্পর্কে বলে যা তিনি পৃথিবীতে প্রেরণ করেন এবং তার দিকে ঊর্ধ্বগামী করেন একদিনে যার দৈর্ঘ্য ১০০০ বছর। ড. হাসাব কিভাবে নিশ্চিত হলেন আয়াতে ব্যবহৃত ‘বিষয়’ দ্বারা আলো বুঝানো হয়েছে। শব্দটি আরবিতে ‘আমরা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যার অর্থ আদেশ, নির্দেশ, কার্য এবং বিষয়। আল্লাহ্‌র ধর্মে এটি একটি ইশারা, আলো নয়। আমরুল্লাহ মানে আল্লাহ্‌র কার্য। আলোচ্য আয়াতের আরও নির্ভুল অনুবাদ হতে পারে এরকম, আল্লাহ্‌ তার কার্য পৃথিবীতে পাঠান যা তার দিকে ফিরে আসবে, এটি একদিনে ফিরবে, যার দৈর্ঘ্য হবে ১০০০ বছরের সমান।

ঠিক এভাবেই শেখ আহমদ আহসাই (১৭৫৩-১৮২৬) Shi’ite Sheikhieh school এর প্রতিষ্ঠাতা এবং তার শিষ্য সায়েদ কাজিম-ই-রাশতি (১৭৯২-১৮৪৩) আয়াতটি ব্যাখ্যা করেছেন। তারা দাবী করেন ইসলাম সময়ের ঊর্ধে এবং যেহেতু ইসলাম কোনোরূপ সংস্কারের অনুমোদন দেয়না সেহেতু দাবিটি অবশ্যই বাতিল। যাইহোক, যেহেতু কেউ আল্লাহ্‌র বানী বাতিল করতে পারেনা, সেহেতু এই করণীয় কাজ প্রতীক্ষিত মাহাদির দায়িত্বে আছে। আহসাই এবং রাশতি বলেছেন, ইসলামের পরিসমাপ্তি ও মাহাদীর আগমন নিয়েকোরআন ও হাদিসে আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, আয়াত ৩২:৫ তার যথাযথ সময় উল্লেখ্য করে।

বিখ্যাত এ দুই স্কলারের ভাষ্যমতে, ‘আমরুল্লাহ’, আল্লাহ্‌র কার্য তখনি পূর্ণ হয়েছিলো যখন আল্লাহ্‌ ও মানব সভ্যতার মধ্যকার শেষ মধ্যস্থ ইমাম হাসান আসকারী মারা গিয়েছিলেন। ইমাম হাসান আসকারী চন্দ্র বছর ২৬০ হিজরী মৃত্যুবরণ করেন। আহসাই বিশ্বাস করতেন, আয়াত ৩২:৫ অনুযায়ী, আল্লাহ্‌ ও মানবসভ্যতার যোগাযোগ বিঘ্নিত থাকার ১০০০ বছর পর আল্লাহ্‌র কার্য (ইসলাম) বাতিল হবে এবং হিজরী ১২৬০ সনে (১৮৪৪ সালে) মাহাদী নিজেকে প্রকাশ করবেন।

সায়েদ কাজিম রাশতি মাহাদীর আগমনের প্রত্যাশিত বছরের আগের বছর মারা যান। তিনি এতো নিশ্চিত ছিলেন মাহাদী আগামী বছর নিজেকে প্রকাশ করবেন যে তিনি উত্তরাধিকারী নিয়োগ করেন নি। তিনি তাকে খুঁজে বের করতে তার শিষ্যদের পারস্যে ছড়িয়ে দিতে Sheikhieh school বিঘটিত করেন।

ধর্মীয় পরিপ্রেক্ষিতে, যেকেউ বিবেচনা করতে পারবেন যে, ড. হাসাবের দাবির চেয়ে আহসাই এবং রাশতির দেওয়া কোরআনের আয়াত ৩২:৫ এর ব্যাখ্যা বেশি ন্যায্য।

লেখা চুরি

কোরআনের আয়াত ৩২:৫ বাইবেল থেকে চুরি করা হয়েছে। আসল বাইবেল উল্লেখিত আয়াত তুলে ধরা হলো :

For a thousand years in your sight are like a day that has just gone by, or like a watch in the night.

Psalm 90:4 NIV

But do not forget this one thing, dear friends: With the Lord a day is like a thousand years, and a thousand years are like a day.

2 Peter 3:8 NIV

লেখক যখন বলেন, ঈশ্বরের জন্য এক হাজার বছর একদিনের মতো, তখন তিনি আসলে বুঝান, ঈশ্বর নিরবধি। এটি ঈশ্বরের জন্য সময়ের কোনো অস্তিত্ব নেই কথাটি বলার একটি কবিতাসুলভ উপায়। এই এক হাজার বছর রূপকার্থে নিতে হবে, সোজাসুজিভাবে নয়।

নিউ টেস্টামেন্টে, বিষয়টি পরিষ্কার করে বুঝানো হয়েছে এবং এখানে মূলত যে বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে তা হলো, ‘সময় ঈশ্বরের জন্য অবান্তর’।

Synodic এবং Siderial মাস

Quranic verse (10:5) discriminates between the synodic period for knowing the number of years and the real sidereal period for reckoning in scientific calculations.[1]

ড. হাসাবের নির্দেশ করা আয়াত :

10:5

هُوَ الَّذِى جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَآءً وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُۥ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ ۚ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذٰلِكَ إِلَّا بِالْحَقِّ ۚ يُفَصِّلُ الْءَايٰتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিময় এবং চাঁদকে আলোময় আর তার জন্য নির্ধারণ করেছেন বিভিন্ন মনযিল, যাতে তোমরা জানতে পার বছরের গণনা এবং (সময়ের) হিসাব। আল্লাহ এগুলো অবশ্যই যথার্থভাবে সৃষ্টি করেছেন। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য তিনি আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।

আয়াতটি কোনোভাবেই Synodic এবং siderial মাসের মধ্যে বৈষম্য করেনা। ড. হাসাব তার ইচ্ছামত চিন্তা প্রয়োগ করছেন। তাছাড়াও আয়াতটি ভুল যখন এটি দাবি করে, চন্দ্র একটি আলোর উৎস।

The verse begins with a reference to a certain “cosmic affair” which GOD creates and commands. This affair travels, permanently through the whole universe between the heavens and the Earth, so speedily that it crosses in ONE DAY a maximum distance in space equivalent to that which the moon passes during ONE THOUSAND LUNAR YEAR (i.e. during 12000 Sidereal months).[1]

ড. মানসুর হাসাব আবারও ভুল করেছেন। আরবরা Synodic মাস গণনা করেন যা ২৯.৫ দিনের, Siderial মাস নয় যা ২৭.৩ দিনের।

কেবল synodic মাস লক্ষ্য করা যায় এবং গণনা করা যায়। Siderial মাস প্রত্যক্ষ করা যায়না।

উপসংহার

  • কোরআনের আয়াত ৩২:৫ এর সাথে আলোর গতির কোনো যোগসূত্র নেই। আয়াতটিতে চন্দ্র, আলো এমনকি দূরত্বের কথাও বলা হয় নি। এধরনের পদ্ধতি যদি অন্যান্য লেখা যেমন, শেক্সপীয়ারের সাহিত্যে প্রয়োগ করা হয় তাহলে তাও ঐশ্বরিক বলে দাবি করা যাবে।
  • ড. হাসাবের হিসাব যেভাবেই দেখা হোক না কেন, তা ভুল। এমনকি চন্দ্রের কক্ষপথ ও পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য দিয়ে আলোর গতি পরিমাপ করার ধারনা একটি হেত্বাভাস।

References

1. Dr. Mansour Hassab-Elnaby, “A New Astronomical Quranic Method for The Determination Of The Greatest Speed C”, Islami City (archived).
2. ‎Calvin J. Hamilton, “The Moon”, Views of the Solar System (archived).
3. “Moon”, Wikipedia, accessed December 19, 2010‎.

Facebook Comments

Marufur Rahman Khan

Atheist, Feminist

One thought on “কোরআনে আলোর গতি?

  • September 17, 2018 at 5:32 am
    Permalink

    Long live

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: