যীশুর মা মেরি এবং হারুনের বোন মারিয়ামকে নিয়ে কোরআনের ইতিহাস বিকৃতি

কোরআনের বক্তা যীশুর মা মেরিকে এবং এরন ও মোসেসের বোন মারিয়ামকে একি মানুষ মনে করতেন। যা ছিলো কোরআনের বক্তার একটি ভুল ধারনা। কারণ মেরি এবং মারিয়াম আলাদা দুইজন মানুষ এবং মারিয়াম মেরির চেয়ে হাজার বছর আগে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ। বাস্তবতা হলো, মুহাম্মদ জানতেন না যে মারিয়াম এবং মেরি দুইজন এক নন। তবে আরবিতে দুজনের নামই ‘মরিয়ম’ (ﻣﺮﻳﻢ)।

উৎস

কোরআন

কোরআনের সূরা মারইয়ামে যীশুর মা মেরিকে এরনের বোন বলা হয়েছে :

19:27

فَأَتَتْ بِهِۦ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُۥ ۖ قَالُوا يٰمَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئًا فَرِيًّا

তারপর সে তাকে কোলে নিয়ে নিজ কওমের নিকট আসল। তারা বলল, ‘হে মারইয়াম! তুমি তো এক অদ্ভূত বিষয় নিয়ে এসেছ’!

19:28

يٰٓأُخْتَ هٰرُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا

‘হে হারূনের বোন! তোমার পিতা তো খারাপ লোক ছিল না। আর তোমার মা-ও ছিল না ব্যভিচারিণী’।

19:29

فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ ۖ قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَن كَانَ فِى الْمَهْدِ صَبِيًّا

তখন সে শিশুটির দিকে ইশারা করল। তারা বলল, ‘যে কোলের শিশু আমরা কিভাবে তার সাথে কথা বলব’?

19:30

قَالَ إِنِّى عَبْدُ اللَّهِ ءَاتٰىنِىَ الْكِتٰبَ وَجَعَلَنِى نَبِيًّا

শিশুটি বলল, ‘আমি তো আল্লাহর বান্দা; তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী বানিয়েছেন’।

19:31

وَجَعَلَنِى مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ وَأَوْصٰنِى بِالصَّلٰوةِ وَالزَّكٰوةِ مَا دُمْتُ حَيًّا

‘আর যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন এবং যতদিন আমি জীবিত থাকি তিনি আমাকে সালাত ও যাকাত আদায় করতে আদেশ করেছেন’।

19:32

وَبَرًّۢا بِوٰلِدَتِى وَلَمْ يَجْعَلْنِى جَبَّارًا شَقِيًّا

‘আর আমাকে মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে অহঙ্কারী, অবাধ্য করেননি’।

19:33

وَالسَّلٰمُ عَلَىَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا

‘আর আমার উপর শান্তি, যেদিন আমি জন্মেছি এবং যেদিন আমি মারা যাব আর যেদিন আমাকে জীবিত অবস্থায় উঠানো হবে’।

19:34

ذٰلِكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ ۚ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِى فِيهِ يَمْتَرُونَ

এই হচ্ছে মারইয়াম পুত্র ঈসা। এটাই সঠিক বক্তব্য, যে বিষয়ে লোকেরা সন্দেহ পোষণ করছে।

কোরআন বলে, ইমরানের স্ত্রী সতী মেরিকে জন্ম দিয়েছিলেন যিনি যীশুকে জন্ম দিয়েছিলেন :

3:35

إِذْ قَالَتِ امْرَأَتُ عِمْرٰنَ رَبِّ إِنِّى نَذَرْتُ لَكَ مَا فِى بَطْنِى مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّىٓ ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল, ‘হে আমার রব, আমার গর্ভে যা আছে, নিশ্চয় আমি তা খালেসভাবে আপনার জন্য মানত করলাম। অতএব, আপনি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ’।

3:36

فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّى وَضَعْتُهَآ أُنثٰى وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنثٰى ۖ وَإِنِّى سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّىٓ أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطٰنِ الرَّجِيمِ

অতঃপর সে যখন তা প্রসব করল, বলল, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমি তা প্রসব করেছি কন্যারূপে’। আর আল্লাহই ভাল জানেন সে যা প্রসব করেছে তা সম্পর্কে। ‘আর পুত্র সন্তান কন্যা সন্তানের মত নয় এবং নিশ্চয় আমি তার নাম রেখেছি মারইয়াম। আর নিশ্চয় আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয় দিচ্ছি’।

3:37

فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنۢبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا ۖ كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِندَهَا رِزْقًا ۖ قَالَ يٰمَرْيَمُ أَنّٰى لَكِ هٰذَا ۖ قَالَتْ هُوَ مِنْ عِندِ اللَّهِ ۖ إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ

অতঃপর তার রব তাকে উত্তমভাবে কবুল করলেন এবং তাকে উত্তমভাবে গড়ে তুললেন। আর তাকে যাকারিয়্যার দায়িত্বে দিলেন। যখনই যাকারিয়্যা তার কাছে তার কক্ষে প্রবেশ করত, তখনই তার নিকট খাদ্যসামগ্রী পেত। সে বলত, ‘হে মারইয়াম, কোথা থেকে তোমার জন্য এটি’? সে বলত, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে চান বিনা হিসাবে রিজিক দান করেন’।

3:38

هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُۥ ۖ قَالَ رَبِّ هَبْ لِى مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً ۖ إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَآءِ

সেখানে যাকারিয়্যা তার রবের কাছে প্রার্থনা করেছিল, সে বলল, ‘হে আমর রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী’।

3:39

فَنَادَتْهُ الْمَلٰٓئِكَةُ وَهُوَ قَآئِمٌ يُصَلِّى فِى الْمِحْرَابِ أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيٰى مُصَدِّقًۢا بِكَلِمَةٍ مِّنَ اللَّهِ وَسَيِّدًا وَحَصُورًا وَنَبِيًّا مِّنَ الصّٰلِحِينَ

অতঃপর ফেরেশতারা তাকে ডেকে বলল, সে যখন কক্ষে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিল, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে ইয়াহইয়া সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যে হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণীর সত্যায়নকারী, নেতা ও নারী সম্ভোগমুক্ত এবং নেককারদের মধ্য থেকে একজন নবী’।

3:40

قَالَ رَبِّ أَنّٰى يَكُونُ لِى غُلٰمٌ وَقَدْ بَلَغَنِىَ الْكِبَرُ وَامْرَأَتِى عَاقِرٌ ۖ قَالَ كَذٰلِكَ اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يَشَآءُ

সে বলল, ‘হে আমার রব, কীভাবে আমার পুত্র হবে? অথচ আমার তো বার্ধক্য এসে গিয়েছে, আর আমার স্ত্রী বন্ধা’। তিনি বললেন, ‘এভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন’।

3:41

قَالَ رَبِّ اجْعَل لِّىٓ ءَايَةً ۖ قَالَ ءَايَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلٰثَةَ أَيَّامٍ إِلَّا رَمْزًا ۗ وَاذْكُر رَّبَّكَ كَثِيرًا وَسَبِّحْ بِالْعَشِىِّ وَالْإِبْكٰرِ

সে বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে দেন একটি নিদর্শন’। তিনি বললেন, ‘তোমার নিদর্শন হল, তুমি তিন দিন পর্যন্ত মানুষের সাথে ইশারা ছাড়া কথা বলবে না। আর তোমার রবকে অধিক স্মরণ কর এবং সকাল-সন্ধ্যা তার তাসবীহ পাঠ কর’।

3:42

وَإِذْ قَالَتِ الْمَلٰٓئِكَةُ يٰمَرْيَمُ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفٰىكِ وَطَهَّرَكِ وَاصْطَفٰىكِ عَلٰى نِسَآءِ الْعٰلَمِينَ

আর স্মরণ কর, যখন ফেরেশতারা বলল, ‘হে মারইয়াম, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন ও পবিত্র করেছেন এবং নির্বাচিত করেছেন তোমাকে বিশ্বজগতের নারীদের উপর’ ।

3:43

يٰمَرْيَمُ اقْنُتِى لِرَبِّكِ وَاسْجُدِى وَارْكَعِى مَعَ الرّٰكِعِينَ

‘হে মারইয়াম, তোমার রবের জন্য অনুগত হও। আর সিজদা কর এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ কর’।

3:44

ذٰلِكَ مِنْ أَنۢبَآءِ الْغَيْبِ نُوحِيهِ إِلَيْكَ ۚ وَمَا كُنتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُونَ أَقْلٰمَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ وَمَا كُنتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يَخْتَصِمُونَ

এটি গায়েবের সংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা আমি তোমার প্রতি ওহী পাঠাচ্ছি। আর তুমি তাদের নিকট ছিলে না, যখন তারা তাদের কলম নিক্ষেপ করছিল, তাদের মধ্যে কে মারইয়ামের দায়িত্ব নেবে? আর তুমি তাদের নিকট ছিলে না, যখন তারা বিতর্ক করছিল ।

3:45

إِذْ قَالَتِ الْمَلٰٓئِكَةُ يٰمَرْيَمُ إِنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِّنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهًا فِى الدُّنْيَا وَالْءَاخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ

স্মরণ কর, যখন ফেরেশতারা বলল, ‘হে মারইয়াম, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালেমার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম, যে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত এবং নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত’

কোরআনের সূরা আত-তাহরিমে যীশুর মা মেরিকে ইমরানের কন্যা বলা হয়েছে :

66:12

وَمَرْيَمَ ابْنَتَ عِمْرٰنَ الَّتِىٓ أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهِ مِن رُّوحِنَا وَصَدَّقَتْ بِكَلِمٰتِ رَبِّهَا وَكُتُبِهِۦ وَكَانَتْ مِنَ الْقٰنِتِينَ

(আল্লাহ আরো উদাহরণ পেশ করেন) ইমরান কন্যা মারয়াম-এর, যে নিজের সতীত্ব রক্ষা করেছিল, ফলে আমি তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছিলাম। আর সে তার রবের বাণীসমূহ ও তাঁর কিতাবসমূহের সত্যতা স্বীকার করেছিল এবং সে ছিল অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত।

ইমরান নাম আরবিতে আমরাম। আমরাম ছিলেন মোসেস, এরন এবং মারিয়ামের পিতা। [1] অর্থাৎ, কোরআন মেরিকে এরন এবং মোসেসের বোন বলে উল্লেখ্য করেছে।

হাদিস

মুহাম্মদের সময়ে নাজরানের খ্রিষ্টানরা এই ভুল খুঁজে পেয়েছিলো। তারা মুহাম্মদের সাহাবীকে এব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলো এবং তার কাছে কোনো সমাধান ছিলো না। তিনি পরবর্তীতে মুহাম্মদকে এব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে মুহাম্মদ এই উত্তর দেন :

হারুন নাম হলো এরন নামের আরবি রূপ। মুহাম্মদের এ বিষয়ে উত্তর ছিলো, তাকে কেবল “এরনের বোন” বলে ডাকা হতো এবং তার কারণ ছিলো ইহুদী খ্রিষ্টানরা পূর্ববর্তী নাবী ও সালিহগণের নামে বাচ্চাদের নাম রাখতো।

তার এ উত্তরটি একটি অজুহাত ছাড়া কিছুই নয়। কেননা, খ্রিষ্টানরা, মুহাম্মদের সাহাবিরা এমনকি আয়েশা সবাই মনে করতেন কোরআন অনুযায়ী মেরি সরাসরি এরনের বোন। তাফসীর ইবনে কাসির তার সম্পূর্ণ আরবি বর্ণনায় বলে :

ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍِﺑْﻦ ﺟَﺮِﻳﺮ ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﻳَﻌْﻘُﻮﺏ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺍِﺑْﻦ ﻋُﻠَﻴَّﺔ ﻋَﻦْ ﺳَﻌِﻴﺪ ﺑْﻦ ﺃَﺑِﻲ ﺻَﺪَﻗَﺔ ﻋَﻦْ ﻣُﺤَﻤَّﺪ ﺑْﻦ ﺳِﻴﺮِﻳﻦَ ﻗَﺎﻝَ ﺃُﻧْﺒِﺌْﺖ ﺃَﻥَّ ﻛَﻌْﺒًﺎ ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻥَّ ﻗَﻮْﻟﻪ : ” ﻳَﺎ ﺃُﺧْﺖ ﻫَﺎﺭُﻭﻥ ” ﻟَﻴْﺲَ ﺑِﻬَﺎﺭُﻭﻥ ﺃَﺧِﻲ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ ﻟَﻪُ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔ ﻛَﺬَﺑْﺖ ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﺃُﻡّ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻟَﻪُ ﻓَﻬُﻮَ ﺃَﻋْﻠَﻢ ﻭَﺃَﺧْﺒَﺮ ﻭَﺇِﻟَّﺎ ﻓَﺈِﻧِّﻲ ﺃَﺟِﺪ ﺑَﻴْﻨﻬﻤَﺎ ﺳِﺘّﻤِﺎﺋَﺔِ ﺳَﻨَﺔ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺴَﻜَﺘَﺖْ ﻭَﻓِﻲ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟﺘَّﺎﺭِﻳﺦ ﻧَﻈَﺮ

ইবনে জারীর (রা), ইয়াকুব (র), … … … কা’ব (রা) হইতে বর্ণিত যে, তিনি ‘হে হারুনের বোন’ (আয়াত ১৯:২৮) এর তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, আয়াতে উল্লেখিত হারুন হযরত মূসা (আ) এর ভাই হযরত হারুন নহেন। ইহা শ্রবণ করিয়া হযরত আয়েশা (রা) বলিলেন, আপনি ভুল বলিয়াছেন। তখন তিনি বললেন, হে উম্মুল মু’মিনীন! যদি নবী করিম (সা) এই সম্পর্কে কিছু বলিয়া থাকেন, তবে তিনি অধিক জানেন এবং অধিক খবর রাখেন। অবশ্য আমি তো উভয়ের মাঝে ছয়শ বৎসরের পার্থক্য আছে বলে জানি। রাবী বলেন, অত:পর হযরত আয়েশা (রা) নীরব হইলেন।

Tafsir Ibn Kathir (non-abridged) on 19:28 [2]

অর্থাৎ, আয়েশাও মনে করতেন কোরআনের বানী অনুযায়ী, যীশুর মা মেরি এরনের এবং মোসেসের বোন ছিলেন।

যদি মানুষ আসলেই মানুষের নাম রাখতে পূর্ববর্তী নাবী কিংবা সালিহগণের নাম ব্যবহার করতেন এবং মেরিকে ‘এরনের বোন’ বলা হত তাহলে কেন আয়েশা কিংবা মুহাম্মদের সাহাবী এমনকি খ্রিষ্টানরাও তা জানতেন না?

খ্রিস্টান উৎস

মারইয়াম, এরন এবং মোসেস আমরামের (আরবিতে ইমরান) সন্তানসন্ততি ছিলেন :

আমরামের সন্তানসন্ততি : এরন, মোসেস এবং মারইয়াম।

1 Chronicles 6:3 [3]

যীশুর মা মেরি জোয়াকিমের কন্যা ছিলেন এবং তিনি ডেভিডের পরিবারের ছিলেন (এরনের নয়) :

রহমতপ্রাপ্ত ও চিরউজ্বল কুমারী মেরী ডেভিডের পরিবার ও রাজকীয় বংশে উত্তরসূরী হিসেবে জন্ম নিয়েছেন নাযারেস শহরে এবং শিক্ষাগ্রহণ করেছেন জেরুজালেমে ঈশ্বরের মন্দিরে। তার পিতার নাম ছিলো জোয়াকিম এবং মাতার নাম ছিলো আন্না। তার পিতার পরিবার ছিলো গালীল এবং নাযারেস শহরের। তার মাতার পরিবার ছিলো বেথলেহেমের।

The gospel of the birth of Mary, 1:1-2 [4]

এপোলোজেটিক যুক্তি

ইবনে কাসির তার তাফসিরে এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন :

আলী ইবনে তালহা ও সুদ্দী (রা) বলেন, যেহেতু হযরত মারইয়াম (আ) হযরত মূসা (আ) এর ভাই হযরত হারুন (আ) এর বংশধর ছিলেন এই কারণে তাকে হারুনের ভগ্নি বলা হইয়াছে। যেমন তামীম গোত্রীয় লোককে ‘হে তামীমের ভাই’ এবং মুযার বংশীয় লোককে ‘হে মুযারের ভাই’ বলা হয়। কেহ কেহ বলেন, হারুন নামক হযরত মারইয়াম (আ) এর বংশের এক নেক ব্যক্তির প্রতি তাহাকে সম্বন্ধিত করিয়া তাহাকে ‘হারুনের বোন’ বলা হইয়াছে।

Maryam with Al-Masih before the People, Their Rejection of Her and His Reply to Them

Tafsir Ibn Kathir

“এরনের বোন মানে এরনের বংশধর”

কোরআন সরাসরি বলে, ‘এরনের বোন’ এবং মানুষ বুঝেছিল আয়াতটি সরাসরিভাবে ‘এরনের বোন’ প্রকাশ করে। কেবল যখন মুহাম্মদ জানতে পারলেন বিষয়টি ভুল তখন ‘এরনের বোন’ এর অর্থ ‘হারুনের বংশধর’ অর্থে পরিবর্তিত হয়ে গেলো। খ্রিস্টান উৎস থেকে আমরা জানতে পারি, মেরি ছিলেন ডেভিডের পরিবারের। তাহলে কোরআন কেন বলছে মেরি ছিলেন এরনের পরিবারের? কিছু এপোলোজিস্ট দেখান যে লুক ১:৫ এ এলিজাবেথকে এরনের বংশধর বলা হয়েছে এবং আরও দেখান যে লুক ১:৩৬ এ এলিজাবেথকে মেরির রিলেটিভ বলা হয়েছে। [5] তবে মেরি কোনোভাবে এলিজাবেথের রিলেটিভ বলে এটি প্রমাণিত হয় না যে, তারা উভয় এরনের বংশধর।

যদি আসলেই মেরি এরনের বংশধর হয়ে থাকে তাহলে কেন মুহাম্মদের সময়ের খ্রিষ্টানরা এবং মুহাম্মদের সাহাবি ও আয়েশা তা জানতেন না?

এই দাবিটি এও ব্যাখ্যা করতে পারেনা যে কেন কোরআনের তৃতীয় সূরায় মেরিকে আমরামের কন্যা বলা হয়েছে।

“কাকতালীয়ভাবে মেরির একজন বাবা ছিলেন যার নাম ইমরান এবং একজন ভাই ছিলেন যার নাম হারুন”

খ্রিস্টান উৎসসমূহ বলে, মেরির বাবার নাম ছিলো জোয়াকিম। মেরির এরন নামে কোনো ভাই ছিলো বলে উল্লেখ্য নেই। তার যদি এরন নামে কোনো ভাই থেকেও থাকতো তাহলেও প্রশ্ন থেকে যায়, তাকে কেন ‘এরনের বোন’ বলা হলো? তার ভাই যদি এতোই গণ্যমান্য হয়ে থাকেন যে তাকে তার বোনের নামের সাথে উল্লেখ্য করতে হবে, তাহলে আমরা কেন তার ব্যাপারে তেমন কোনো তথ্য বা বর্ণনা পাই না?

উপসংহার

মারিয়াম ছিলেন আমরামের কন্যা এবং এরনের বোন। কোরআন যীশুর মা মেরিকে আমরামের কন্যা এবং এরনের বোন বলে বর্ণনা করেছে। আয়েশাসহ অনেক মানুষ কোরআনের ওপর নির্ভর করে মেরি এবং মারিয়ামকে একি মানুষ বলে ভেবেছিলেন।

খ্রিষ্টানরা মেরিকে ‘এরনের বোন’ বলা কোরআনের আয়াতের ভুল ধরলে মুহাম্মদ জবাব দেন এভাবে, “মানুষ পূর্ববর্তী নাবী ও সালিহগণের নাম ব্যবহার করে মানুষের নাম রাখতেন”। ইসলামী পন্ডিতগণ সমাধান দেন, হয়তো মেরিকে ‘এরনের বোন’ বলা হত এরনের বংশধর হওয়ার কারণে, নয়তো কাকতালীয়ভাবে ‘এরন’ নামে তার একজন ভাই থাকার কারণে। উভয় সমাধানই মিথ্যে এবং বানোয়াট, কেননা মেরি কোনো এরনের বংশধর বলে পরিচিত ছিলেন না এবং তিনি এরন নামে কোনো ভাই থাকার কারণে পরিচিত ছিলেন না।

যেহেতু মেরি এবং মারিয়াম উভয় নাম আরবিতে ‘মারিয়াম’ সেহেতু মুহাম্মদ হয়তো দুইজন মহিলাকে এক মানুষ ভেবে ভুল করেছিলেন যেই ভুল কোরআনে এসেছে।

References

1. 1 Chronicles 6:3
2. ‎Tafsir Ibn Kathir (non-abridged) on 19:28
3. ‎1 Chronicles 6:3
4. ‎The gospel of the birth of Mary, 1:1-2
5. ‎Luke

Facebook Comments

Marufur Rahman Khan

Atheist, Feminist

Leave a Reply

%d bloggers like this: