আল্লাহর আইন চাই ও একজন হাজী মোহাম্মাদ মহসিন

খুব শৈশব থেকেই তিন ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়ার অভ্যাস ছিল। আম পারার সুরা গুলো মুখস্ত ছিল , শুধুমাত্র সুরা ফীল এর আবাবিল পাখির গল্প ছাড়া অন্য কোন সুরার অর্থ বিশেষ জানতাম না । নবি মহাম্মাদ (দঃ) কে জানতাম সব চেয়ে মহৎ ও দয়ালু ব্যাক্তি হিসাবে যিনি তার পথে প্রতিদিন কাঁটা বিছানো ইয়াহুদি বুড়ীর অসুখে বিচলিত হয়ে তাকে দেখতে যান । এটা যে পুরোটাই একটা  বানানো গল্প সেটা জেনেছি কয়েক দশক পর । নামাজ , রোজা আর কোরান পড়া ছাড়া আর কোন বিশেষ ইসলামি জ্ঞান শৈশবে বাসায় কেও আমাকে দেয় নি । ছোটবেলায় সর্ব প্রথম যে শরিয়া আইন সম্পর্কে জানতে পারি সেটা হল চুরি করার অপরাধে চোরের হাত কেটে দেওয়ার আইন । মসজিদে কোন এক বয়স্ক লোক আমাকে এটা জানান । উনি এটাও বুঝান যে এক জনের হাত কেটে দিলে সারা দেশে আর কেও চুরি করবে না , ওই হাতকাটা লোককে দেখে সবাই সৎ হয়ে যাবে । উনি আরও বলেছিলেন যে দেশে ইসলামি আইন নেই বলেই যত সমস্যা । এরপর কালের পরিক্রমায় বিষয়টি ভুলেই গিয়েছিলাম। বড় হয়ে দুটি ঘটনায় ছোটবেলায় ঐ শরিয়া আইন আবার স্মরণে আসে, একটা আগে বলি পরেরটা লেখার মাঝে আসবে ।

একটা মন কাড়া শ্লোগান শুনতে পেলাম বাংলাদেশের জামাতে ইসলামি নামক একটি দলের মুখে ও দেওয়াল লিখনিতে ঃ

আল্লাহ্‌র আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই 

সময় কালটা স্মরণে নেই , তবে একবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে , বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিরোধী দলের নেতাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রচারের সুযোগ দেওয়া হয়, এতে বাংলাদেশের জামাতে ইসলামি দলের নেতার বক্তব্য আমার মনে পড়ে । নানা কথার মধ্যে দলের নেতা যে বক্তব্য সব চেয়ে জোর দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করছিলেন , সেটা হল উনারা ক্ষমতায় গেলে যে আমাদের এই চোর্য প্রবন দেশের সকলের হাত কেটে দেবেন, এই আশঙ্কাটি নিতান্তই অমুলক । উনি নানা যুক্তি দিয়ে ভোটারদের আশ্বস্ত করছিলেন ,উনার যুক্তি গুলো এখন স্মরণে নেই । ঘটনাটি সম্ভবও প্রয়াত রাষ্ট্র প্রধান জিয়াউর রহমানের সময় , আর তখন জামাতের স্বাধীনতা বিরোধী ভুমিকার খুব বেশি ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন  জামাত নেতার দরকার পড়েনি বরং বুঝলাম উনি এই পলিমাটির দেশের নরম মনের মানুষ  হাত কাটার আইন নিয়ে যাতে বেশি ভীত হয়ে না পড়ে আর তাতে জামাতের ভোট যেন না কমে , মজলিশে শুরার পরামর্শ মতাবেক সেই কৌশলই অবলম্বন করছিলেন। এর পর অনেক সময় পার হয়ে গেছে , বাংলাদেশে এখন অনেক ইসলামি দল শরিয়া আইনের জন্য রাজনীতি করে যাচ্ছে । মানব রচিত তাগুতী  আইন নিষিদ্ধ করে শরিয়া প্রতিষ্ঠার জন্য জে এম বির ৬৪ টি জেলায় বোমা বিস্ফোরণ আর বিচারক হত্যার কথা আপনাদের হয়ত স্মরণে আছে। তবে, এখন সৌদি ও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থায়নে  বাংলাদেশে ওহাবি সালাফি মতাদর্শের  ইসলামের   ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে , রাস্তা ঘাটে হিজাবি নারী আর মসজিদ মাদ্রাসা অনেক বেড়েছে তবে আমাদের নৈতিকতা আগের চেয়ে কত উন্নত হয়েছে তা আপনারারাই ভাল বলতে পারবেন। ইসলামি রাজনৈতিক দলের চাইতে বরং এখন অনেক সাধারন মুমিন মুসলমান দেশে শারিয়া আইন চান আর তারা বরং আরও জোর গলায় এর পক্ষে সাফাই গান। ইনাদের যুক্তি আর ইদানিং জাতীয় প্রচার মাধ্যমে এক হেফাজতি মওলানার যুক্তি শুনে সেই বহুকাল আগে শুনা জামাতি নেতার বক্তব্য মনে পড়ে গেল । সংক্ষেপে হাত কাটার পক্ষে যুক্তিটা  সকল মহলেই এরকম ঃ “ইসলাম অভাবী লোকের হাত কাটতে সমর্থন করে না , প্রথমে ইসলামি রাষ্ট্রের যুগান্তকারী অর্থনৈতিক ব্যাবস্থায়  সকল নাগরিকের সচ্ছলতা আসার পর হাত কাটা যাবে । আর এক জনের হাত কাটলে সব চুরি বন্ধ হয়ে যাবে “ । দল মত নির্বিশেষে সকল ইসলাম পন্থিদের এই অভিন্ন যুক্তি ছাড়া দ্বিতীয় যে ওহি বাণী উনারা বলেন সেটা হল ঃ আইনটি যেহেতু আল্লাহর তিনিই মানব কল্যাণের জন্য এই পঙ্গু করার বিধান দিয়েছেন উনার লীলা আমাদের বুঝার বাইরে , কাজেই এটা বিনা প্রশ্নে মেনে নেওয়া টাই উত্তম। হাদিস , কোরান ও হাত কাটার ঘটনা গুলো পর্যালোচনা করে দেখলাম, উনাদের এই যুক্তি পুরটাই বানোয়াট ও বিদাত, অর্থাৎ হাদিস, কোরানে এ রকম বলা নাই ,তার চেয়ে বড় বিষয় হল নবি বা তার পরবর্তী সাহাবি ও তাবে – তাবেইন  সকলেই এই হাত কাটার বিধান পালন করেছেন , কথিত চোরের অর্থনৈতিক অবস্থা এখানে মোটেও বিবেচ্য নয় আর চুরির পরিমান হিসাবে একটি দ্বীনারের এক-চতুর্থাংশ, একটি ডিম (বা ডিমের মূল্যের পরিমাণ বস্তু), একটি দড়ি (কিংবা দড়ির সমম্যূল্যর পরিমাণ বস্তু) বা তিন দিরহাম মূল্য মানের  ঢাল চুরির কথা বলা আছে । বর্তমানে পরিবর্তিত সামাজিক মূল্যবোধের কারনে সার্বজনীন মানবতার পক্ষে চেতনা বোধ সম্পন্ন মানুষও সমাজে বিদ্যমান , তাঁদের মনে এই ইসলামি মানবতার মলমটি  উনারা কৌশল বা তাকিয়া বা হেকমতের অংশ হিসাবে লাগিয়ে থাকেন । দেখা যাক চুরির ব্যাপারে শরিয়া – হাদিস কি বলে ।

মহিমান্বিত আল কোরান ঃ 

যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুশিয়ারী। আল্লাহ পরাক্রান্ত, জ্ঞানময়। কুরআন ৫ঃ৩৮

ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত সহীহ বুখারী (ইফাঃ) হতে কিছু শুধুমাত্র সহিহ হাদিসের তালিকা ঃ

৬৩৩২। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দ্বীনারের এক-চতূর্থাংশ বা ততোধিক চুরি করলে হাত কাটা যাবে। আবদুর রহমান ইবনু খালিদ (রহঃ) ইবনু খালিদ যুহরী (রহঃ) ও মা’মার (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকে ইবরাহীম ইবনু সা’দ (রহঃ) এর অনুসরণে বর্ণনা করেছেন।

Cut hand according to Islamic Law
শরিয়া মোতাবেক চুরির অপরাধে আইসিস এই পিতার হাত কেটে দেয়

২৮৩৩. আল্লাহর বাণীঃ পুরুষ কিংবা নারী চুরি করলে তাদের হস্তচ্ছেদন কর (৫ঃ ৩৮)। কি পরিমান মাল চুরি করলে হাত কাটা যাবে। আলী (রাঃ) কজি পর্যন্ত কর্তন করেছিলেন। আর কাতাদা (রাঃ) এক নারী সম্পর্কে বলেছেন যে চুরি করেছিল, এতে তার বাম হাত কর্তন করা হয়েছিল। (কাতাদা বলেন) এ ছাড়া আর অন্য কোন শাস্তি দেওয়া হয় নি ।

৬৩৩৩। ইসমাঈল ইবনু আবূ উওয়ায়স (রহঃ) … আয়িশা (রহঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একটি দ্বীনারের এক-চতুর্থাংশ চুরি করায় হাত কাটা হবে।

৬৩৪১। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঢাল চুরির ক্ষেত্রে হাত কর্তন করেছেন, যার মুল্য ছিল তিন দিরহাম।

 

ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)  হতে কিছু শুধুমাত্র সহিহ হাদিসের তালিকা ঃ

৪২৬১। আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা অভিসম্পাত করেন সে চোরের ওপর, যে একটি ডিম (বা ডিমের মূল্যের পরিমাণ বস্তু) চুরি করল। এতে তার হাত কাটা যাবে। আর যে ব্যক্তি একটি দড়ি (কিংবা দড়ির সমম্যূল্যর পরিমাণ বস্তু) চুরি করল, তারও হাত কাটা যাবে।

 

চুরির জন্য এই কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও এর কিছু বাতিক্রম আছে, যেমন মালে গনিমতের ক্ষেত্রে , তবে এটি চুরি নয় , ডাকাতি বা যুদ্ধ করে প্রাপ্ত , আর এই মালের এর পঞ্চমাংশ নবি মহাম্মাদ (দঃ) এর প্রাপ্য।  সিরিয়া থেকে ফেরা থেকে মক্কার কোরাইশদের বাণিজ্য কাফেলার উপর নবির নির্দেশে নও মুসলিমরা নিয়মিত লুটতরাজ ও হত্যাযজ্ঞ চালাত , তার জন্য কোন হাতকাটার বিধান হাদিস কোরান ঘেঁটে খুজে পাবেন না।

সহিহ মুসলিম শরিফের হাদিস ঃ

১০৫০। ইয়াহইয়া ইবনু আইউব, কুতায়বা ইবনু সাঈদ আলী হুজর (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে ছয়টি জিনিস দ্বারা অন্য নাবীদের (নবীদের) উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে ১. আমাকে ব্যাপক তথ্যপূর্ণ ও অর্থবহ বাণী দান করা হয়েছে; ২. আমাকে প্রবল প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে; ৩. আমার জন্য গনিমতের মাল হালাল করা হয়েছে; ৪. আমার জন্য মাটিকে পবিত্রকারী ও মসজিদ বানানো হয়েছে; ৫. আমাকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে; ৬. আমার দ্বারা নাবীদের সীল মোহর (নবূওয়াতের সমাণ্ডি) করা হয়েছে।

এবার আবার বাস্তবে ফিরে আসি , তখন স্কুলে পড়ি , জামাতে ইসলামের একটা শ্লোগান খুব মনে দাগ কেটেছিল ঃ

আমরা হব তালিবান বাংলা হবে আফগান

রাজনৈতিক দলদের শ্লোগান খুব গুরুত্বপূর্ণ , চামড়া তুলে নেওয়ার শ্লোগান বাদ দিলে অন্যান্য শ্লোগানে তারা তাদের দলের মূলনীতি এক দুই ব্যাককে প্রকাশ করার চেষ্টা করে। যেমন দল অনুযায়ি “আমরা সবাই মুজিব সেনা নেত্রী মোদের শেখ হাসিনা “ ; “দেশ গড়েছেন শহীদ জিয়া নেত্রী মোদের খালেদা জিয়া “অথবা বামপন্থি দলের , দুনিয়ার মজদুর এক হও , ইত্যাদি । ইসলামি দলগুলো কাফির মুরতাদের ফাঁসি দেওয়াই দেশের সকল সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হিসাবে মনে করেন ও সেই অনুযায়ী বহু মিটিং মিছিল করেছেন। সেই অর্থে জামাতের “আমরা হব তালিবান বাংলা হবে আফগান” সত্যই একটি গুরুত্ব পূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয় । এই শ্লোগানটি বিশ্লেষণের দাবি রাখে । এর অর্থ , তালিবানের আফগানিস্থান একটি আদর্শ রাষ্ট্রের মডেল এবং আমাদের উচিৎ বাংলাদেশ কে আফগানিস্থান বানিয়ে ফেলা আর এই ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে এক এক জন তালিবান হয়ে জিহাদ করতে হবে । আমার মত মোটা বুদ্ধির লোক এই শ্লোগানটি এভাবেই বুঝেছি । এর অন্য কোন তাফসির আপনাদের জানা থাকলে জানাবেন । একটি দেশের উন্নয়নের কত গুলো মাপকাঠি আছে , যেমন ঃ মাথা পিছু আয়, মাতৃ মৃত্যু – শিশু মৃত্যুর হার, শিক্ষার হার, যোগাযোগ বাবস্থা ,আইন শৃঙ্খলা ইত্যাদি অনেক মাপকাঠি । খুঁজে দেখলাম সর্ব বিচারে তালিবানের আফগানিস্থান সর্ব নিম্নে । যে পোলিও রোগ টীকা দেওয়ার ফলে বাংলাদেশে বিলুপ্ত,  আফগানিস্থানএ  শরিয়া অনুযায়ী আর কুসংস্কার বশত টীকা দান বন্ধ করায় সে দেশে এই রোগে শিশুরা পঙ্গুত্ব বরন করছে । আমার মাথায় কিছুতেই ঢুকছিল না কেন আমাদের দেশ টাকে জামাত আফগানিস্থান বানাতে চায় । অনেক চিন্তা করে বের করলাম , পৃথিবীর সব চেয়ে অনুন্নত ও বসবাসের অযোগ্য দেশে পরিনত হলেও , তালিবানের আফগানিস্থান একটি আদর্শ ইসলামি রাষ্ট্র , যার স্বপ্ন সকল ইসলামি দল , মুমিন মুসলমানেরা শয়নে স্বপনে কামনা করেন । বেহেস্তের পর এই শরিয়া ভিত্তিক ইসলামি রাষ্ট্রই আমাদের কাম্য আর এই ইস্লামি জোশেই আফগানিস্থানএর  অবস্থা যাই হোক শরিয়া ইসলাম চাইই চাই আর এজন্যই বাংলাদেশকে আফগান বানালেও কোন ক্ষতি নাই ।

ISIS slaves
আইসিস এর হাতে আটক যুদ্ধ বন্দিনী বা মালে গনিমত

তালিবানদের জারিকৃত কিছু মানব কল্যাণ মুলক আইনের তালিকা নিচে দেওয়া হল ঃ

  • পুরুষরা অবশ্যই দাঁড়ি রাখবে ও মোছ কর্তন করবে
  • বাহিরের কোন অনুষ্ঠানে হাসা , তালি দেওয়া বা উচ্চসোরে বাহবা দেওয়া বেআইনি
  • সকল অধার্মিক পুস্তক নিষিদ্ধ
  • সুট টাই নিষিদ্ধ
  • কোন পরিবার ছবি তোলা বা ভিডিও করতে পারবে না
  • জীবিত কোন বস্তুর ছবি (এমন কি পাঠ্য পুস্তকেও) রাখা যাবে না
  • ঘুড়ি উড়ান যাবে না
  • মিউজিক ও সঙ্গীত শোনা যাবে না
  • সকল শিশুর মুসলিম নাম রাখতে হবে
  • সকল অমুস্লিম (হিন্দু ও ইয়াহুদি) দের হলুদ কাপড় পরিধান করতে হবে
  • পুলিশ কাওকে শাস্তি প্রদান করলে কোন প্রশ্ন করা বেআইনি
  • চুরি , জিনা ও ধর্ম বিরুদ্ধ অপরাধের শাস্তি জনসমক্ষে হস্ত কর্তন ও মৃত্যুদণ্ড

তালিবান শরিয়া অনুযায়ী চুরির জন্য হাত কাটা , বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক বা জিনার জন্য পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা বা রজম সবই বাস্তবায়ন করেন , এমনকি নেল পালিশ লাগানোর অপরাধে এক মহিলার বৃদ্ধা আঙ্গুল কেটে নেওয়া হয় । কিছু স্বাস্থ্য কর্মী ছাড়া সকল নারির চাকুরী বাতিল করা হয় ও ৮ বছরের পর নারি শিক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয় । এগুলো সব শতকরা শতভাগ শরিয়ত সম্মত । যে সকল কপট তথাকথিত মোডারেট মুসলিম বা হালের ডিজিটাল ইসলামি apologist  এই ইসলামের ব্যাবহারিক প্রয়োগ দেখে বিব্রত হয়ে বলেন যে “ইসলামে এ সব নাই “ তারা জেনেশুনেই এই ভণ্ডামোটা করেন । তালিবানের পরাজয়ের পর, এই আদর্শ ইসলামি রাষ্ট্রের প্রোপাগান্ডা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে তবে ইসলামি এসটেট বা আইসিস এসে সব সমীকরণ বদলে দেয় । তারা আক্ষরিক অর্থেই একটি সহিহ আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করেন। বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা এই আদর্শ ইসলামি খিলাফতে যোগ দেন । Pew Reaseach Center এর এক গবেষণায় দেখা যায় পাকিস্তানের শতকরা ৬২ জন মুসলিম  ইসলামি এসটেট বা আইসিস কে সমর্থন করেন । এই সালাফি মুসলিম দলটি শুধু শরিয়া নয় , নবি রাসুলের সময়কার মতো যুদ্ধ বন্দী দাসিদের যৌন দাসী বানানো  ছাড়াও  ক্রয় বিক্রয় শুরু করে । সংখ্যা লঘু ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের যুদ্ধ বন্দীনিদের ব্যাপক ভাবে ধর্ষণ আর যৌন হয়রানি করেন এই শরিয়ত অনুসরণ করেই । আইসিস এর এই আদর্শ ইসলামি রাষ্ট্রএর বর্বরতার বর্ণনা দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। তবে কিছু ছবি বরং শব্দের চাইতে বেশি অর্থবহ হবে । বিপুল পরিমানে মুসলিম স্কলার এমনকি হয্রত জাকির নায়েক পর্যন্ত আইসিস এর সমর্থনে বলেছিলেন । এখন দাবার বোর্ড উল্টে যাওয়ায় , সেই অতি পরিচিত মোডারেট মুসলিম বা ডিজিটাল ইসলামি পণ্ডিতগণ আইসিস কে ইস্লামি নয় বলে ফতওয়া ঝাড়ছেন , কিন্তু তাদের কোন বিধানটি  ইসলামের আইনের পরিপন্থী বা নবি সাহাবিরা করেননি এই প্রশ্নের কোন জবাব উনাদের মুখে নাই ।

Sharia Law
যাদু বিদ্যার অপরাধে আইসিস এই শরিয়া কোর্টের রায় অনুযায়ি শিরচ্ছেদ

এই লেখাটি লেখার সময় চুরির অপরাধে আল্লাহর আইনে পঙ্গু হয়ে যাওয়া অনেক গুলো মানুষের মুখ দেখলাম , সদ্য কিশোর হওয়া বালক থেকে সন্তানের পিতা পর্যন্ত । আমি আমার লেখায় আবেগ বর্জন করি , তথ্য ছাড়া অন্য বিষয় আমি পাঠকের হাতে ছেড়ে দেই, তবে এই পঙ্গু হয়ে যাওয়া মানুষেদের মুখ গুলো দেখে আবেগ ধরে রাখা বাস্তবিকেই কঠিন । ছবির পিতাটি তার হাত দিয়ে তার সন্তানটাকে চাইলেও আদর করতে পারবে না । আমরা যারা মানুষ আর এক বিন্দু মনুষ্যত্ব যার মধ্যে আছে , শুধু ধর্মের বিষাক্ত ভাইরাস এই মনুষ্যত্বকে বিলিন না করলে ঠাণ্ডা মাথায় কারো পক্ষে আরেকজন মানুষের হাত কেটে ফেলা সম্ভব নয় । আর যারা একে আল্লাহর আইন বলে এর পক্ষে সাফাই গান তারা মনুষ্য প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিবেকহীন এক অদ্ভুত ধর্মীয় প্রাণী ।

Islamic wife beating
– তালিবান ধর্মীয় পুলিশ নারীদের বেত্রাঘাত করছে বুরখার মাথার কাপড় উন্মুক্ত করারা অপরাধে

তবে অনেক মুসলমানই  আল্লহর এই আইন জানার পরও মানবতাকে ধর্মের উপরে স্থান দিতে পেরেছে । হাজী মহাম্মদ মহসিন হুগলী জেলায় জন্ম গ্রহন কারি একজন জনহিতৈষী ও দানবীর। উনার অর্থায়নে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুই বাংলায় আছে । উনার একটি ঘটনা পাঠ্য পুস্তকে ঠাই পেয়েছিল । এক রাতে শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেলে উনি উনার রুমে একজন চোরকে দেখে ফেলেন। চোর ভয় পেয়ে কাঁপতে থাকলে উনি তাকে আশ্বস্ত করেন এবং জিজ্ঞাসা করেন কেন সে চুরি করতে এসেছে। এতে লোকটি তার দুঃখ দীনতার কথা বললে হাজী মহাম্মদ মহসিন তাকে কিছু টাকা দান করেন ও ভবিষ্যতে চুরি না করার পরামর্শ দেন । উনি ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানবতায় উঠতে পেরেছিলেন , পেয়ারা নবির মত একটি  দ্বীনারের চার ভাগের এক ভাগ চুরির দায়ে কারো হাত কেটে তাকে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু করতে চান নি আর এখানেই সাধারন মানবতাবোধ সম্পন্ন মানুষ আর হাজী মহাম্মদ মহসিন নবি আর আল্লাহর  আইন চাওয়া সেই সব ধরমবাজ লোকদের  চাইতে অনেক উন্নত।

Domestic violence
লামিয়া আলি বাশার, বয়স ১৮, আইসিস এর হাতে অত্যাচারিত যুদ্ধ বন্দিনী ও বহু ধর্ষণের শিকার। পরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন

ইসলামি আইনের সবচেয়ে জঘন্যতম শাস্তির নাম রজম বা যিনার অপরাধে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার বিধান । যদিও পারস্পরিক সম্মতি সাপেক্ষে পূর্ণ বয়স্ক নর নারীর শারীরিক সম্পর্ক কোন তৃতীয় পক্ষের আর্থিক বা অনুরূপ কোন ক্ষতি করে না , তারপরো এর শাস্তিই ইসলামে সবচেয়ে ভয়াবহ । আপনি, হত্যা করে ইসলামি আইন মতাবেক রক্তপন দিয়ে দায়মুক্তি পেতে পারেন কিন্তু যিনার শাস্তি থেকে নয় । শারিয়া কোর্ট এর রায় এর পর সাধারনত প্রত্যুষে রজম কার্যকর করা হয় । যিনাকারিকে তওবা পড়ান হয় ও তিন প্রস্থের কাফনের কাপড় দিয়ে মোড়া হয়, রজমের পূর্বে দণ্ডপ্রাপ্তকে পানি খাওয়ানোর বিধান আছে । পুরুষের ক্ষেত্রে কোমর ও নারীর ক্ষেত্রে পর্দার কথা বিবেচনা করে বুক পর্যন্ত মাটিতে গেড়ে দেওয়া হয় । মারার জন্য পাথর আগেই সংগ্রহ করে রাখা হয় এবং প্রথম পাথরটি সাধারণত কাযি সাহেব নিক্ষেপ করেন । পাথরের সাইজ শরিয়তে নির্দিষ্ট করা আছে। এটি খুব বড় হতে পারবে না যাতে এক আঘাতেই অপরাধির মৃত্যু না হয় আবার খুব ক্ষুদ্রও হতে পারবে না, সাইজ হবে একটি কমলার সমান যাতে আঘাতে সর্বাধিক কষ্ট পেয়ে মরা নিশ্চিত করা যায়। মৃত্যু নিশ্চিত না হলে পুনরায় পাথর নিক্ষেপ করা হয় । যদিও রজমের বিধানটি ইসলাম তথা নবি ইয়াহুদি ধর্মের থেকে গ্রহন করেছেন , তবে শুধু মাত্র শারিয়া আইন কার্যকরী মুসলিম রাষ্ট্র ছাড়া এই প্রথা অন্য রাষ্ট্রে বা ইয়াহুদিদের মধ্যে প্রচলিত নাই আর এর বাস্তবায়নের জন্য মুসলিম ছাড়া আর কোন ধর্মের লোক দাবি তুলেছে এরকম জানা নাই । একটা জলজ্যান্ত মানুষকে মাটিতে পুতে পাথরের পর পাথর ছুড়ে তার মাথা ক্ষতবিক্ষত করে, মগজ বের করে হত্যা করার এই বর্বর প্রথা শুধু ধর্মই দিতে পারে । রজমের গুনগান করে শাইখ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইয়ুসুফের ওয়ায ইউটিউব দেখতে পারেন । আমি নিশ্চিত আমাদের দেশের মানুষকে যদি একদিন আমাদের ইসলামি দল গুলো এই রজম পর্যন্ত নিয়ে যায় , সেই দিন এই আল্লাহর আইন আর ইসলামের ইতি ঘটবে ।

Stoning sharia law
ইসলামি বিধান মোতাবেক রজম বা পাথর নিক্ষেপ করে যিনাকারিকে হত্যা করছে মুমিন মুসলিমরা

আপনারা চাইতে পারেন , ধর্মের অনুভতিতে সুড়সুড়ি দিয়ে বলতে পারেন “আল্লহর আইন চাই “ আমি চাই না। মানুষের ভাল মানুষ বোঝে, সাত আসমানের উপরে আরশে বসা আল্লাহ বুঝেন না । মানুষের ভালবাসা মানুষের জন্য। মানুষকে বিচার করুন মানবতার নিরিখে , সংশোধনের জন্য।

দন্ডিতের সাথে
দন্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে
সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার | যার তরে প্রাণ
কোনো ব্যথা নাহি পায় তারে দন্ডদান
প্রবলের অত্যাচার |

(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

লিখেছেনঃ সুবচন নির্বাসনে

Facebook Comments

shubochon

A free thinking human being and humanist

One thought on “আল্লাহর আইন চাই ও একজন হাজী মোহাম্মাদ মহসিন

  • September 18, 2018 at 1:21 am
    Permalink

    সত্যি ,একটি যুগোপযোগী প্রবন্ধ ,অসংখ্য ধন্যবাদ লেখককে ।

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: