তুমি কি কেবলি ছবি?

ইসলামে কেন ছবি আঁকা নিষিদ্ধ?

কেন ছবি নিষিদ্ধ এবং কেন সৃষ্টিশীল কাজগুলোকে ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা নিয়ে কিছু আলোকপাত করতে চাই । এর আগে একটা লিখা লিখেছিলাম সংগীত নিয়ে।আর আজ আমার টপিক হল ছবি নিয়ে।

ইসলামে ছবি আঁকা নিষিদ্ধ। যে ছবি আঁকবে,তুলবে, সে জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে। স্পষ্ট হাদীস আছে। কিন্তু হুগুরেরা তাদের সুবিধামত সব ফতোয়া তৈরী করে নেয়। অবলীলায় ফেসবুকে ছবি দেয়, লাইভ ভিডিও বানায় । আর কিছু বললেই তাদের মুখচ্ছবি হয় দেখার মত।

আসুন ছবি নিয়ে আলোচনার আগে আমরা কয়টি হাদীসে (হুগুরেরা বলবে জয়ীফ হাদীস) চোখ বুলাই :

ছবি আঁকা সংক্রান্ত হাদীসের ঘটনাসমূহ

ঘটনা -১

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব (র)…সাঈদ ইবনে আবুল হাসান (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রা) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমন সময়ে তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আবু আব্বাস! আমি এমন ব্যক্তি যে, আমার জীবিকা হস্তশিল্পে। আমি এসব ছবি তৈরি করি। ইবনে আব্বাস (রা) তাঁকে বলেন, (এ বিষয়) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি যা বলতে শুনেছি, তাই তোমাকে শোনাব। তাঁকে আমি বলতে শুনেছি,

‘‘যে ব্যক্তি কোন ছবি তৈরি করে আল্লাহ্ তা’আলা তাকে শাস্তি দিবেন, যতক্ষণ না সে তাতে প্রাণ সঞ্চার করে। আর তাতে সে কখনো প্রাণ সঞ্চার করতে পারবে না।”

 

মুহাম্মদের প্রতিকৃতি
শিয়া মুসলিমদের আঁকা মুহাম্মদের প্রতিকৃতি

(এ কথা শুনে) লোকটি ভীষণভাবে ভয় পেয়ে গেল এবং তার চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। এতে ইবনে আব্বাস (রা) বললেন, আক্ষেপ তোমার জন্য, তুমি যদি এ কাজ না-ই ছাড়তে পার, তবে এ গাছপালা এবং যে সকল জিনিসে প্রাণ নেই, তা তৈরি করতে পার।শিয়া মুসলিমদের আঁকা মুহাম্মদের প্রতিকৃতি

ঘটনা -২

আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (র) বলেন, সাঈদ (রা) বলেছেন আমি নযর ইবনে আনাস (রা) থেকে শুনেছি তিনি বলেছেন, ইবনে আব্বাস (রা) হাদীস বর্ণনা করার সময় আমি তার কাছে ছিলাম। ইমাম বুখারী (র) আরও বলেন, সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ (র) একমাত্র এ হাদিসটি নযর ইবনে আনাস (র) থেকে শুনেছেন। [সহীহ বুখারী, চতুর্থ খণ্ড, হাদিস নং ২০৮৪ – ইফা]

ঘটনা-৩

মুহাম্মদ (র)…আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য প্রাণীর ছবিযুক্ত একটি বালিশ তৈরি করেছিলাম। যেন তা একটি ছোট গদী। এরপর তিনি আমার ঘরে এসে দু’দরজার মাঝখানে দাঁড়ালেন এবং তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ আমার কি অপরাধ হয়েছে? তিনি বললেন, এ বালিশটি কেন? আমি বললাম, এ বালিশটি আপনি এর উপর ঠেস দিয়ে বসতে পারেন আমি সে জন্য তৈরি করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

Sahih al-Bukhari 6109: Book 78, Hadith 136 USC-MSA web (English): Vol. 8, Book 73, Hadith 130

“(হে আয়িশা) (রা) তুমি কি জান না? যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে (রহমতের) ফিরিশতা প্রবেশ করেন না? আর যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে তাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে? তাকে (আল্লাহ্) বলবেন, ‘তুমি যে প্রাণীর ছবি বানিয়েছ, এখন তাকে প্রাণ দান কর।’ [সহীহ বুখারী, পঞ্চম খণ্ড, হাদিস নং ২৯৯৭ – ইফা]

ইবনে মুকাতিল (র)…আবূ তালহা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,

“যে ঘরে কুকুর থাকে আর প্রাণীর ছবি থাকে সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশতা প্রবেশ করেন না।” [সহীহ বুখারী, পঞ্চম খণ্ড, হাদিস নং ২৯৯৮ – ইফা]

ঘটনা-৪

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান (র)…সালিম (রা) তাঁর পিতার নিকট হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জিবরাঈল (আ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (সাক্ষাতের) ওয়াদা দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সময় মত আসেন নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেন আমরা ঐ ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে ছবি ও কুকুর থাকে। [সহীহ বুখারী, পঞ্চম খণ্ড, হাদিস নং ৩০০০ – ইফা]

আলী ইবনে আবদুল্লাহ (র)…আবু তালহা (রা) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

“যে ঘরে কুকুর এবং প্রাণীর ছবি থাকে সে ঘরে ফিরিশতাগণ প্রবেশ করেন না।” [সহীহ বুখারী, পঞ্চম খণ্ড, হাদিস নং ৩০৮৮ – ইফা]

ঘটনা -৫

হুমায়দী (র)…মুসলিম (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (একবার) মাসরুকের সাথে ইয়াসার ইবনে নুমায়রের ঘরে ছিলাম। মাসরুক ইয়াসারের ঘরের আঙ্গিনায় কতগুলো মূর্তি দেখতে পেয়ে বললেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে শুনেছি এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে,

“(কিয়ামতের দিন) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে তাদের, যারা ছবি বানায়।” [সহীহ বুখারী, নবম খণ্ড, হাদিস নং ৫৫২৬ – ইফা]

ঘটনা-৬

আলী ইবনে আবদুল্লাহ (র)…আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবূক যুদ্ধের) সফর থেকে প্রত্যাগমন করলেন। আমি আমার ঘরে পাতলা কাপড়ের পর্দা টাঙ্গিয়েছিলাম। তাতে ছিল (প্রানীর) অনেকগুলো ছবি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এটা দেখলেন, তখন তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেনঃ

“কিয়ামতের সে সব মানুষের সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির (প্রাণীর) অনুরূপ তৈরি করবে।”

আয়েশা (রা) বলেন, এরপর আমরা তা দিয়ে একটি বা দু’টি বসার আসন তৈরি করি। [সহীহ বুখারী, নবম খণ্ড, হাদিস নং ৫৫৩০ – ইফা]

দীনের নবী মুহাম্মদ কখনোই তার লেখা কিংবা তার প্রতিকৃতি আকতে নিষিদ্ধ করে গেছেন , তার কারণ (ব্যক্তিগত মতামত) হল তিনি চান নাই , তার দুস্কর্মগুলোর কোন রেকর্ড থাকুক। আর তার ছবিআঁকা থাকলে সবার মনে তা গেঁথে থাকবে ইতিহাসের জঘন্য মানুষের প্রতিকৃতি হিসেবে এবং তিনি চান নাই মানুষ কোন সৃষ্টশীল কাজে মগ্ন থাকুক , কারণ মানুষ সৃষ্টিশীল কাজ করলে তার মেধার বিকাশ হয় যেটা তিনি কখনোই চাননি। তিনি চেয়েছেন মানুষের মন বদ্ধ থাকুক এবং তারা কোন কিছুর চর্চা না করুক। একটা সমাজকে তখনই স্বৈরাচার বা একচ্ছত্রভাবে শাসন করা যায় যখন সে সমাজের মানুষেরা অশিক্ষিত ও অজ্ঞ থাকে। আরবের সেই সময়ের সমাজব্যবস্থা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়,সে সময়ে যথেষ্ট সুকুমারবৃত্তির চর্চা হত। এর উদাহরণ তখনকার কবিতা চর্চা, ছবি আঁকা, গান বাজনা ও মেয়েদের অগ্রগামী ভূমিকা। কিন্তু ইসলামের তথাকথিত আলেমরা তখনকার সময়কে আইয়ামে জাহেলিয়াতের নামে চিত্রায়িত করত কারণ এভাবে দেখালে মুহাম্মদকে মহামানব দেখাতে তাদের সুবিধা হয়।আসলে মহামানবতা নয়, মহা উন্মাদনা ঢাকতেই ছবি ও কবিতা লেখা নিষদ্ধ করা হয়।

মানবসভ্যতার ইতিহাস জানা যায় ছবি দিয়েই

একটি গুহা পেইন্টিং।  প্রাচীনতম তারিখ 35,400 বছরের কম বয়সী।স্থান ইন্দোনেশিয়া, Sulawesi মধ্যে Timpuseng গুহা সঙ্গে একটি পাওয়া যায়। প্রাচীনতম ইউরোপীয় রূপক গুহা চিত্রগুলি ফ্রান্সের চাউট গুহাগুলির মতো।


মানবসভ্যতা যে গুহা থেকে শুরু তা আমরা জানতেই পারি এইসব উপরোক্ত গুহাবাসীর চিত্র থেকে।মানুষের মুখে তখন ভাষা ছিল না , তাদের অনুভূতি প্রকাশের জন্য তারা এসব চিত্রাঙ্কনের সহায় হল। তারা চাইল তাদের এই ইতিহাস তাদের পরবর্তী মানুষেরা জানুক। এভাবে প্রথম রেকর্ডেড গুহাচিত্র পাওয়া যায় ফ্রান্সের লাসকক্সে। এরপর বিশ্বের অনেক জায়গায় উদ্ধার হল এরকম গুহাচিত্র।ভাষার বহি:প্রকাশ হল এই ছবি আঁকা থেকে।মানুষ ছবি এঁকে তার অস্তিত্বের চিন্হ রেখে গেল এই ধরাধামে।

এরপর মিশরের হায়ারোগ্লিফিক্স থেকে আমরা জানতে পারলাম, বিভিন্ন সাংকেতিক ছবি দ্বারা মানুষ তার ইতিহাস রচনা শুরু করল। ছবিগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখলে বোঝা যায়, তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনের ইতিহাস, তাদের সভ্যতা সংস্কৃতির ছাপ রাখতে চাইত এই লেখার মাধ্যমে। অন্য মানুষ বা তার পরবর্তী প্রজন্মকে জানানোর একটা পরিস্কার চিন্তা এই লেখনী বা চিত্রাঙ্কন থেকে অনুভূত হয়। অথচ এই সেদিনের দীনের নবী চাইতেন তার উল্টোটা যাতে তার অপকর্মের সাক্ষী না থাকুক।

ছবি থেকে ভাষা ও অক্ষরের উদ্ভব

উপরের ছবিগুলো দেখুন। কি মনে হচ্ছে। হ্যাঁ এভাবেই ছবি থেকে হাজার বছর ধরে অক্ষরের উৎপত্তি হয়েছে। মানুষের মুখে ভাষা এসেছে এবং মানুষ তার মনের ভাব ভাষা ও অক্ষরের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারছে।

এই সংগ্রাম একদিনে হয়নি। প্রতি ২০ কিমি পরপর ভাষার পরিবর্তন হয় । তাই পৃথিবীতে এত বৈচিত্রময় ভাষা। অথচ ইসলামের খোদা কিনা পাঠালেন আরবী ভাষা? উনি চাইলেই ত উনার বাণী ছবির মাধ্যমে পাঠাতে পারতেন। তাহলে ত পৃথিবীর সব মানুষ সেই ভাষা বুঝতে পারত। বুঝতে পারছেন কিছু?

আসলেই ডাল মে কুচ কালা হ্যা। ছবি থেকেই ভাষার উদ্ভব। সবখানেই বিবর্তনের প্রকট ছাপ। সেই ছবিই আবার হচ্ছে ভবিষ্যতের ভাষা। কিভাবে? জানতে হলে পরের অধ্যায় পড়তে হবে।

ছবি হবে ভবিষ্যতের ভাষা

২০১৫ সালে অক্ফোর্ড ডিকসনারীতে বছরের শ্রেষ্ঠ শব্দ কোনটি হয় জানেন?

“????”

জী। এই ইমোজীটিই হয় বছরের শ্রেষ্ঠ শব্দ। এটাও একটা ছবিই। তবে ছবি যেভাবে মনের ভাব প্রকাশ করে অন্য কোন লেখা তা পারে না। আজকাল নামকরা লেখকদের বই ইলাস্ট্রেটেড আকারে বের হচ্ছে যাতে ছোটবড় সবার জন্য বুঝতে সুবিধা হয়। এই ইমোজির প্রয়োজনীয়তাই আসে লেখার বিকল্প হিসেবে। আর এর উদ্ভাবক একজন জাপানী ।যার নাম সিগেতাকী কুরিতা। নিচের ছবি দেখুন

ঘুরেফিরে সেই চার হাজার বছর আগের ইতিহাস কিন্তু আবার ফিরে আসছে ।এখন ছবি আঁকা আলেম সমাজ কিভাবে হারাম করবে? বাংলাদেশে আগে ঘরে ঘরে বাচ্চারা প্রচুর ছবি আঁকত। কিন্তু নব্য মৌলবাদী ইসলামীস্টদের যন্ত্রণায় এখন সমস্ত সৃষ্টিশীল কাজকর্ম হারাম হয়ে যাচ্ছে। সবকিছুতেই বাধা। মানুষের স্বাধীনতায় তারা হস্তক্ষেপ করছে। আর কিছু বল্লেই গায়ের আর গলার জোরে আর শেষ ভরসা চাপাতির জোরে তাদের কন্ঠ ও কলম স্তব্ধ করে দিচ্ছে।


ছবি নিয়ে আমার পর্যালোচনা

পরিবার পরিজন থেকে যখন দুরে থাকি তখন তাদের ছবি গুলো দেখি। একেকটা ছবি যেন একেকটা মুহূর্ত। একেকটা স্মৃতি। সময়কে ধরে রাখার প্রচেষ্টা। যখন ক্যামেরার চল ছিল না তখন মানুষ গাছের পাতায়, ডালে, দেয়ালে ,মাটিতে, পাথরে খোদাই করে তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে । তারপর এল কাগজের ব্যবহার। ক্যানভাসে আর রংয়ের তুলিতে মানুষ সময়কে ,নিজের সৃজনশীলতাকে ধরে রাখতে শুরু করল।

যখন আমরা ছোট ছিলাম, তখন কারো কারো বাসায় ক্যামেরা ছিল । কারো বাসায় ছিল না। ক্যামেরার সে কি ডিমান্ড। আমাদের বাসায় আমার দাদীর হাতে আঁকা একটাই বড় ছবি ছিল। সেটাও টাঙ্গানো হত না কারণ মৃত মানুষের ছবি দেখা নাকি ভাল না। আমি জানি না এতে মৃত মানুষটার কি ক্ষতি হয়?

আগে ক্যামেরায় আমরা ফিল্ম দিয়ে ছবি তুলতাম। সেই ফিল্মে আবার ৩৫ টা কি ৩৬টা নেগেটিভ। তাই ছবি তোলা হত হিসেব করে। কারণ ছবি তোলাই শেষ না, একে নিয়ে স্টুডিও যাও , ছবি ওয়াশ করাও, নানান ঝক্কি ঝামেলা। প্রতিটা ছবি তোলার সময় যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করে ছবি তোলা হত। কারও চোখ বন্ধ আছে কিনা, কিংবা কেউ হাসি ছাড়া আছে কিনা ক্যামেরাম্যানকে যথেষ্ট নজর দিয়ে ছবি তুলতে হত।

ছবি যারা আঁকেন, সেসব মানুষকে আমার মনে হয় সর্বোচ্চ সৃষ্টিশীল মানুষ। সাধারণ মানুষ যা দেখে না সে তার মনের চোখ দিয়ে অনেক কিছু দেখতে পারে এবং তা প্রকাশ করতে পারে। যুগে যুগে যেসব রেঁনেসা হয়েছে তা এসব সৃষ্টিশীল মানুষের হাত ধরে এসেছে। কোন চিত্রশিল্পী যা আঁকেন তা থেকে বিজ্ঞানীরা সেটা থেকে প্রভাবিত হয়ে সেই কল্পিত জিনিসটাকে বাস্তবতার রুপ দেন।

আমাদের ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন দৃশ্যের ছবি আঁকতে বলা হত। গ্রামের দৃশ্য, শহরের দৃশ্য। কিন্তু যখনই কোন মানুষের বা কোন প্রাণীর অবয়ব আঁকার চেষ্টা করতাম, তখন মুরুব্বিরা মানা করতেন আর হুজুররা ত আরেক কাঠি এগিয়ে হারাম বলে দিতেন । যত সৃজনশীল কাজ তাদের চোখে হারাম।

selfie in kabba
হালাল ছবি

অথচ ছবি আবার যখন বিভিন্ন কাজে লাগে তখন আবার ঠিকই হালাল হয়ে যায়। পরিক্ষার প্রবেশপত্রে ছবি লাগে, ভোটার আইডিতে ছবি লাগে, পাসপোর্ট করতে ছবি লাগে,বিয়েতে ছবি লাগে, হজে যেতে ছবি লাগে,হালাল ছবি

 

জমির নামজারিতে ছবি লাগে, তখন আবার ছবি তোলা নিষেধ নয়। আমার দাদীর হাতে আঁকা সেই ছবিটা যদি না থাকত আমি জানতামও না আমার দাদী দেখতে কেমন ছিল।

ছবি এখন আবার দুরকম। স্থির ছবি আর চলমান ছবি । দুইটার দুই ধরণের আবেদন থাকে । স্থির ছবি যেন সময়টাকে স্তব্ধ করে দেয়। নিয়ে যায় সেই সময়টাকে সময় ভ্রমণ করায়। এক ধরণের নস্টালজিকতায় মন আনন্দিত আবার ভারাক্রান্ত হয়। আমাদের স্কুল জীবনে ক্যামেরার চল কম থাকায় এখনও আফসোস হয় যে কেন সে সময় খুব বেশি ছবি নাই।

আর এখন ছবি তোলা কত সহজ। সবার হাতের মুঠোয় ক্যামেরা। বিজ্ঞানের এই অগ্রগতি নি:সন্দেহে অনস্বীকার্য। যা কিছু নতুন তাকে সাদরে গ্রহণ করাই উচিত। এখন আবার আইফোনে এসে গেছে লাইভ ফটো যা অনেকটাই হ্যারি পটার মুভির দ্বারা প্রভাবিত। নতুনকে গ্রহণ ও পুরাতনকে বর্জন বা সংস্কার করতে হবে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়েই চলতে হবে। সেলফি তোলা কোন অন্যায় ত নয়। মানুষ কেন সেলফি তোলে? কারণ মানুষ নিজেকে ভালবাসে । জিনিসটা ততক্ষণ পর্যন্ত ভাল থাকে যতক্ষণ সেইসব ছবি সবার মোবাইলে মোবাইলে ছড়িয়ে না যায় সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আর ক্রমেই তা বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়ায়।এছাড়া ছবি তোলায় কোন অপরাধ নাই। তা কারও পোট্ট্রেট হোক কিংবা কোন জায়গার ল্যান্ডস্কেপ।

তাই ছবি আকুন মনের খুশিতে । ছবি তুলুন যত পারুন, ছবি তোলাকে আজকাল প্রফেশন হিসেবেও নেয়া যায়। অনেক টাকাও উপার্জন করা যায়।ছবি হচ্ছে মনের ভাষ প্রকাশ করার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

 

 

শেষকথা

আমার গ্রামের বাড়ীতে সমগ্র ঘর জুড়ে আমার মৃত বাবার ছবি টাঙ্গানো । আমি যখন বাড়ীতে থাকি তখন আমার অদ্ভুত ভাললাগা বোধ হয় । মনে হয় বাবা যেন সঙ্গেই আছেন। একদিন গ্রামের ইমাম সাহেব আসলেন । হুজুর বাড়ী দেখে খুবই খুশি হলেন কিন্তু বল্লেন, ভাই সবই সুন্দর , শুধু মৃত মানুষের ছবিগুলো সরিয়ে ফেল্লে ভাল হত । এতে ঘরে ফেরেশতা আসে না।আমি কিছু বলি নাই। দেয়ালের ছবি নাহয় লুকিতে রাখলাম কিন্তু মনের ভেতর যে ছবি গেঁথে আছে তা কিভাবে সরিয়ে ফেলবো? সেখানে কি ফেরেশতা আসবে ? না আসবে না?

রুমি কথন

জালালউদ্দীন রুমি

Facebook Comments

4 thoughts on “তুমি কি কেবলি ছবি?

  • September 23, 2018 at 3:26 pm
    Permalink

    I need to talk to you on a very serious issue.

    Reply
    • September 28, 2018 at 2:10 am
      Permalink

      Go ahead. Leave your comment here . Or you can inbox me in my facebook

      Reply
  • September 28, 2018 at 2:11 am
    Permalink

    Absolutely

    Reply
  • September 30, 2018 at 4:16 am
    Permalink

    how much you know about islam??? stopped man.. Tr sahos hoy ki kore Allar rasul somporke mitthachar korar..

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: