ধর্ম আর নবী রাসুলকে গালাগালি

কিছুদিন আগে একজন পরিচিত ধার্মিক ভদ্রলোক আমাকে মেসেজ করে জিজ্ঞেস করলেন, আমি ধর্মকে গালাগালি করছি কেন? ঈশ্বর এবং পয়গম্বরদেরকে, নবী রাসুলকে গালাগালি কেন করছি? তার কথা শুনে আমি রীতিমত আশ্চর্য হলাম। আমি কবে কোন স্ট্যাটাসে কাকে গালাগালি করেছি, ঠিক মনে করতে পারলাম না। তাই তাকে চ্যালেঞ্জ করে বসলাম, যেহেতু তিনি আমার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাই তার প্রমাণ দেখাতে হবে। আমি সাধারণত কাউকে গালাগালি করি না, খুব বেশি হলে ছাগু বলি, কিংবা ধর্মগাধা বলি। এটা খুব খারাপ গালি নয়। এছাড়া আমি কাউকে অন্য কোন গালি দিয়েছে, বা ধর্ম-পয়গম্বর-দেবতাদের গালাগালি করেছি, তার প্রমাণ আমাকে দেখাতে হবে। না দেখাতে পারলে আমি ছাড়বো না।

তিনি অনেকক্ষণ সময় নিয়ে কোন প্রমাণ দেখাতে পারলেন না। যেই প্রমাণ তিনি দেখালেন, তা হচ্ছে আমার সমালোচনামূলক লেখা। সেখানে আমি অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোন গালির সন্ধান পেলাম না। যেমন একটা লেখাতে আমি হাদিস সহকারে প্রমাণ দিলাম, কীভাবে মুহাম্মদের সময়ে ইসলাম ত্যাগকারীদের মুহাম্মদ কতলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। একদম সহি হাদিস থেকে। বানু কুরাইজা গোত্রের ওপর কীভাবে গণহত্যা চালিয়েছিলেন। সেই হিসেবে তাকে গণহত্যাকারী বলাতে ভুল কোথায়? আবার আরেকটি কোরানের আয়াত দিলাম, যেখানে স্বামীর অনুগত না থাকার জন্য স্ত্রীদের আল্লাহ প্রহারের অনুমতি দিলেন। হাদিসে আবার বলা হলো, স্ত্রী প্রহার বিষয়ে কিয়ামতের দিনে স্বামীদের কোন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। আমি মনে করি এই ধরণের হাদিস এবং আয়াত নারীর জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক, অমর্যাদাকর। আমি তাই তার সমালোচনা করলাম। কিন্তু সেখানে গালি কোথায় দিলাম? ভদ্রলোককে বারবার জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় সেই গালি? আমি কী মুহাম্মদ কিংবা আল্লাহকে চ বর্গীয়, বা শ বর্গীয় কোন গালি দিয়েছি? কোন পশুপাখির বাচ্চা বলেছি? কোথায় সেই গালিগুলো? তিনি দেখাতে পারলেন না। পরে দুঃখপ্রকাশ করে বললেন, ঐ সমালোচনাগুলোই তার কাছে গালি মনে হয়েছিল। একজন পেডোফাইল যুদ্ধবাজ বর্বর দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্ককারী, যুদ্ধবন্দীর স্বামী পিতাকে হত্যা করে তাকে বিছানায় তোলা এগুলো একটাও মিথ্যা নয়।

বা আমি যদি বলি, আল্লাহ নামক চরিত্রটি একটি বদমেজাজি, হিংসুটে, প্রতিহিংসা পরায়ণ, উগ্র স্বভাবের, সাম্প্রদায়িক, গণহত্যাকারী, তোষামোদ প্রিয়, নার্সিসিস্ট, উদ্ভট, প্রবল পুরুষতান্ত্রিক, ভয় দেখানো বাজে চরিত্র, তাহলে সেটা কী মিথ্যা? এগুলো বলার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ এবং একদম কোরান হাদিস থেকে সঠিক রেফারেন্স আমি দেখিয়েছি। আজ পর্যন্ত একটি রেফারেন্সও কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারে নি।

তখন আমি তাকে দেখালাম, আমার এক একটা স্ট্যাটাসের নিচে ধার্মিক ধর্মপ্রাণ মানুষগুলোর মন্তব্য। সেখানে তারা আমার মা বোন থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী কাউকেই বাকী রাখেন নি। তাদের মুখের ভাষা কতটা মধুর, এবং কতটা ভদ্র, তা থেকেই তাদের ধর্ম কতটা সভ্য সে সম্পর্কে ধারণা মেলে। তাদের ধর্ম তাদের আসলে কী শিক্ষা দিচ্ছে, তা পরিষ্কার বোঝা যায়। ন্যুনতম কোন যুক্তিতর্কের বালাই নেই, সামান্য পরিমাণ তথ্য প্রমাণ দিয়ে আমার বক্তব্য খণ্ডনের চেষ্টা নেই। যা আছে তা হচ্ছে মা বোন তুলে অশ্লীল গালি। তা গালি দিয়ে আসলে কী প্রমাণ হলো? ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম, মুসলমানরা একটি সভ্য ও শিক্ষিত সম্প্রদায়? নাকি তাদের পরাজয় এবং হতাশা? যুক্তির কাছে তাদের হাঁটু গেড়ে বসে পরা?

মত প্রকাশের স্বাধীনতা সব মানুষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। সে কারণে সবসময় আমার প্রোফাইল অন্যের মন্তব্যের জন্য উন্মুক্ত রাখি। যে কেউ আমার লেখা ভুল প্রমাণ করতে চাইলে যথোপযুক্ত তথ্য প্রমাণ সহকারে আমার লেখায় মন্তব্য করতে পারেন, সমালোচনা করতে পারেন। আলাপ আলোচনা, সমালোচনার জন্য আমার দরজা সব সময়ের জন্য খোলা। আমি দাবী করি না আমার প্রতিটি শব্দই নির্ভুল। আমি ভুল বলে থাকলে অবশ্যই আমি শুধরে নিতে আগ্রহী। তবে তার জন্য আমাকে উপযুক্ত যুক্তি প্রদর্শন করতে হবে। ইহা পবিত্র কেতাবে লেখা তাই ইহা সত্য, কিংবা ইহা সত্য তাই তাহা সত্য, অথবা আল্লাহ সত্য তাই কোরআন সত্য এবং কোরআন যেহেতু সত্য তাই আল্লাহ সত্য, এই ধরণের উদ্ভট যুক্তি দেখলে আমি ক্ষুব্ধ হই না। বরঞ্চ যুক্তি প্রমাণ সম্পর্কে আম ধার্মিকের চিন্তার সীমাবদ্ধতা আমাকে আতঙ্কিত করে। তাদের প্রতি আমার সহানুভূতি জন্মায়।

কিন্তু আমার প্রোফাইল উন্মুক্ত, এই সুযোগটি অনেকেই গ্রহণ করে আমার প্রোফাইলে রীতিমত পর্ণগ্রাফিক ছবি পোস্ট করে। অত্যন্ত অশালীন সেই ছবিগুলো আমাকে এক এক করে মুছে ফেলতে হয়। আজই আমি দেড়’শ অশ্লীল ছবি আমার প্রোফাইল থেকে ডিলিট করলাম। কিন্তু এরপরেও আমি মানুষের শুভ বুদ্ধির প্রতি আস্থা রাখতে চাই। তাদের কথা বলার অধিকার আমি হরণ করতে চাই না। তাই আমার প্রোফাইল সকলের জন্য উন্মুক্তই থাকবে। যদিও এক এক করে এত অশ্লীল ছবি মুছে ফেলা একটা বিরক্তিকর কাজ। কিন্তু মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা যখন বলি, সেটা নাস্তিকদের জন্য যেমন, ধার্মিকদের জন্যেও তেমনই। তাই এই কষ্টটুকু স্বীকার করতে হয়, বাধ্য হতে হয়।

গত এক মাসে আমার প্রোফাইলের প্রতিটি স্ট্যাটাস এবং ছবির বিরুদ্ধে কয়েক’শ করে রিপোর্ট করা হয়েছে। প্রায় সপ্তাহেই মুমিনগণ আমার প্রোফাইলে পর্ণ এট্যাক চালান। ডেইলি আমার প্রোফাইল হ্যাকের অনবরত চেষ্টা করা হয়। এগুলো দেখে আমার করুণা হয়। তাদের অসহায়ত্ব, যুক্তি প্রমাণ তথ্যের কাছে তাদের এভাবে আত্মসমর্পণ দেখে আসলে আমি বিজয়ীর হাসি হাসতে পারি না। আমার খারাপ লাগে। এই ভেবে যে, যুক্তিতর্কের মাধ্যমে ন্যুনতম প্রতিরোধ তারা আমার বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে পারে না। তাদের সর্বশক্তিমান আল্লাহ ভগবান ঈশ্বর এবং পবিত্র কেতাব সমূহ, নবী পয়গম্বর সমূহ, এত এত ক্ষমতাবান ফেরেশতা, এত এত কোটি কোটি দেবতা আমার সামান্য ফেসবুক স্ট্যাটাসের কাছে কত অসহায়। যে তাদের বাধ্য হয়ে পর্ণ এট্যাক এবং মিথ্যা রিপোর্ট করে ফেসবুক রিপোর্ট করতে হয়। একই ধরণের হাস্যকর যুক্তি বারবার বলা হয় যেগুলোর উত্তর অসংখ্যবার দিয়েছি। এই আধা ছটাক মগজ নিয়ে কী এই আধুনিক যুগে টিকে থাকা সম্ভব?

হায় ঈশ্বর!

Facebook Comments
%d bloggers like this: